প্রথম অনুচ্ছেদ - মিশকাতুল মাসাবিহ | হাদীস | কুরআন ও সুন্নাহ

মিশকাতুল মাসাবিহ > প্রথম অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৫৪

عن ابن عمر قال: قال رسول الله ﷺ: صلاة الليل مثنى مثنى فإذا خشي أحدكم الصبح صلى ركعة واحدة توتر له ما قد صلى. (متفق عليه)

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন : রাত্রের (নাফ্ল) সলাত দু’ রাক্’আত দু’ রাক্’আত করে (আদায় করতে হয়)। কারো ভোর হয়ে যাওয়ার আশংকাবোধ হলে সে যেন (দু’রাক্’আতের) সাথে সাথে আরো এক রাক্’আত আদায় করে নেয়। তাহলে এ রাক্’আত পূর্বে আদায় করা সলাতকে বেজোড় করে দেবে। (বুখারী, মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৫৫

وعن ابن عمر قال: قال رسول الله ﷺ: «الوتر ركعة من اخر الليل» . رواه مسلم

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন, আর বিত্র এক রাক্’আত শেষ রাতে। (মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৫৬

وعن عائشة رضي الله عنها قالت: كان رسول الله ﷺ يصلى من الليل ثلاث عشرة ركعة يوتر من ذلك بخمس لا يجلس في شيء إلا في اخرها. (متفق عليه)

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রাত্রে (তাহাজ্জুদের সময়) তের রাক্’আত সলাত আদায় করতেন। তের রাক্’আতের মাঝে পাঁচ রাক্আত বিত্র। আর এর মাঝে (পাঁচ রাক্’আতের) শেষ রাক্’আত ব্যতীত কোন রাক্’আতে ‘তাশাহ্হুদ’ পড়ার জন্যে বসতেন না। (বুখারী, মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৫৭

وعن سعد بن هشام قال انطلقت إلى عائشة فقلت يا أم المؤمنين أنبئينى عن خلق رسول الله ﷺ قالت: ألست تقرأ القران؟ قلت: بلى. قالت: فإن خلق نبي الله ﷺ كان القران. قلت: يا أم المؤمنين أنبئينى عن وتر رسول الله ﷺ فقالت: كنا نعد له سواكه وطهوره فيبعثه الله ما شاء أن يبعثه من الليل فيتسوك ويتوضأ ويصلى تسع ركعات لا يجلس فيها إلا في الثامنة فيذكر الله ويحمده ويدعوه ثم ينهض ولا يسلم فيصلي التاسعة ثم يقعد فيذكر الله ويحمده ويدعوه ثم يسلم تسليما يسمعنا ثم يصلى ركعتين بعدما يسلم وهو قاعد فتلك إحدى عشرة ركعة يابني فلما أسن ﷺ وأخذ اللحم أوتر بسبع وصنع في الركعتين مثل صنيعه في الأولى فتلك تسع يا بني وكان نبي الله ﷺ إذا صلى صلاة أحب أن يداوم عليها وكان إذا غلبه نوم أو وجع عن قيام الليل صلى من النهار ثنتي عشرة ركعة ولا أعلم نبي الله ﷺ قرأ القران كله في ليلة ولا صلى ليلة إلى الصبح ولا صام شهرا كاملا غير رمضان. رواه مسلم

তিনি বলেন, আমি উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশাহ (রাঃ) -এর কাছে গেলাম। তাঁর কাছে বললাম, উম্মুল মু’মিনীন! আমাকে রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর ‘খুলুক’ (স্বভাব-চরিত্র) ব্যাপারে কিছু বলুন। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বললেন, তুমি কি কুরআন পড়ো না? আমি বললাম, হ্যাঁ পড়ি। এবার তিনি বললেন, রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর নৈতিকতা ছিল আল-কুরআন। আমি বললাম, হে উম্মুল মু’মিনীন! আমাকে রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর বিতর ব্যাপারে বলুন। তিনি বললেন, (রাতের বিতর সলাতের জন্যে) আমি পূর্বে থেকেই রসূলুল্লাহর মিসওয়াক ও উযূর পানির ব্যবস্থা করে রাখতাম। আল্লাহ তা‘আলা যখন তাঁকে ঘুম হতে সজাগ করতে চাইতেন, উঠাতেন। তিনি (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রথমে মিসওয়াক করতেন, তারপর উযূ করতেন ও নয় রাক‘আত সলাত আদায় করতেন। অষ্টম রাক‘আত ব্যতীত কোন রাক‘আতে তিনি বসতেন না। আট রাক‘আত পড়া শেষ হলে (‘তাশাহহুদে’) বসতেন। আল্লাহর যিকর করতেন। তাঁর প্রশংসা করতেন। তাঁর নিকট দু‘আ করতেন অর্থাৎ আত্তাহিয়্যাতু পাঠ করতেন। তারপর সালাম ফিরানো ব্যতীত নবম রাক‘আতের জন্যে দাঁড়িয়ে যেতেন। নবম রাক‘আত শেষ করে তাশাহহুদ পাঠ করার জন্যে বসতেন। আল্লাহর যিকর করতেন। তার প্রশংসা করতেন। তাঁর নিকট দু‘আ করতেন (অর্থাৎ তাশাহহুদ পড়তেন)। এরপর আমাদেরকে শুনিয়ে সশব্দে সালাম ফিরাতেন। তারপর বসে বসে দু’ রাক‘আত আদায় করতেন। হে বৎস! এ মোট এগার রাক‘আত হলো। এরপর যখন তিনি বার্ধক্যে পৌছে গেলেন এবং তাঁর শরীর ভারী হয়ে গেল, তখন বিতরসহ সাত রাক‘আত সলাত আদায় করতেন। আর পূর্বের মতোই দু’ রাক‘আত বসে বসে আদায় করতেন। প্রিয় বৎস! এ মোট নয় রাক‘আত হলো। আল্লাহর নাবী (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কোন সলাত আদায় করলে, তা নিয়মিত আদায় করতে পছন্দ করতেন। কোন দিন যদি ঘুম বেশী হয়ে যেত অথবা অন্য কোন সমস্যা দেখা দিত, যাতে তাঁর জন্যে রাত্রে দাঁড়ানো সম্ভব হত না, তখন তিনি দুপুরে বারো রাক‘আত সলাত আদায় করে নিতেন। আমার জানা মতে, আল্লাহর নাবী (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কখনো এক রাতে সম্পুর্ণ কুর‘আন পড়েননি। অথবা ভোর পর্যন্ত সারা রাত্র ধরে সলাত আদায় করেননি এবং রমাযান মাস ব্যতীত অন্য কোন মাসে গোটা মাস সওম পালন করেননি। (মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৫৮

وعن ابن عمر عن النبي ﷺ قال: «اجعلوا اخر صلاتكم بالليل وترا» . رواه مسلم

নাবী (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেন : তোমরা বিতরকে তোমাদের রাতের শেষ সলাত করো। (মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৫৯

وعن ابن عمر عن النبي ﷺ قال: «بادروا الصبح بالوتر» . وراه مسلم

নাবী (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেন : তোমরা (ভোরের লক্ষণ ফুটে উঠার আগে) বিতরের সলাত আদায় করতে দ্রুত করো। (মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৬০

وعن جابر قال: قال رسول الله ﷺ: «من خاف أن لا يقوم من اخر الليل فليوتر أوله ومن طمع أن يقوم اخره فليوتر اخر الليل فإن صلاة اخر الليل مشهودة وذلك أفضل». رواه مسلم

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেন : যে লোক আশংকা করে যে, শেষ রাতে উঠতে পারবে না সে যেন প্রথম রাতেই বিতরের সলাত আদায় করে নেয়। আর যে লোক শেষ রাত্রে উঠতে পারবে বলে মনে করে, সে যেন শেষ রাতেই বিতরের সলাত আদায় করে। এজন্য যে, শেষ রাতের সলাতে ফেরেশতাগণ উপস্থিত হন। আর এটা অনেক ভাল। (মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৬১

وعن عائشة رضي الله عنها قالت: من كل الليل أوتر رسول الله ﷺ من أول الليل وأوسطه واخره وانتهى وتره إلى السحر. (متفق عليه)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রাত্রের প্রতি অংশেই বিতরের সলাত আদায় করেছেন- প্রথম রাতেও (ইশার সলাতের পরপর), মধ্যরাতেও এবং শেষ রাতেও। কিন্তু শেষ জীবনে তিনি (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিতরের সলাতের জন্যে রাতের সাহরীর সময় (শেষভাগ) নির্ধারিত করে নিয়েছিলেন। (বুখারী, মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৬২

وعن أبى هريرة قال: أوصانى خليلى بثلاث: صيام ثلاثة أيام من كل شهر وركعتي الضحى وأن أوتر قبل أن أنام. (متفق عليه)

তিনি বলেন, আমার বন্ধু (রসূলুল্লাহ) আমাকে তিনটি বিষয়ে ওয়াসিয়্যাত করেছেন : প্রতি মাসে তিনটি সওম পালন করতে, যুহা’র দু’ রাক‘আত সলাত (ইশরাক অথবা চাশত) পড়তে এবং ঘুমাবার পূর্বে বিতরের সলাত আদায় করতে। (বুখারী, মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ > দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৬৩

عن غضيف بن الحارث قال: قلت لعائشة: أرأيت رسول الله ﷺ كان يغتسل من الجنابة في أول الليل أم في اخره؟ قالت: ربما اغتسل فى أول الليل وربما اغتسل فى اخره قلت: الله أكبر الحمد لله الذى جعل في الأمر سعة قلت: كان يوتر أول الليل أم فى اخره؟ قالت: ربما أوتر فى أول الليل وربما أوتر في اخره قلت: الله أكبر الحمد لله الذى جعل في الأمر سعة قلت: كان يجهر بالقراءة أم يخفت؟ قالت: ربما جهر به وربما خفت قلت: الله أكبر الحمد لله الذى جعل في الأمر سعة. رواه أبو داود وروى ابن ماجه الفصل الأخير

তিনি বলেন, আমি ‘আয়িশাহ (রাঃ) -কে প্রশ্ন করলাম। রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফারয গোসল রাতে প্রথম অংশে না শেষ অংশে করতেন? ‘আয়িশাহ (রাঃ) বললেন, কোন কোন সময় রাতের প্রথম প্রহরে কোন কোন সময় রাতের শেষ প্রহরে গোসল করতেন। আমি বললাম, আল্লাহ তা‘আলা অনেক বড়। সব প্রশংসা আল্লাহ তা‘আলার জন্যে। যিনি দ্বীনের ‘আমালের ব্যাপারে সহজ (ব্যবস্থা) করে দিয়েছেন। আবার তিনি জিজ্ঞেস করলেন, রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কি বিতরের সলাত রাতের প্রথম ভাগে আদায় করে নিতেন না রাতের শেষ ভাগে আদায় করতেন? ‘আয়িশাহ (রাঃ) বললেন, তিনি কখনো রাতের প্রথম ভাগেই আদায় করতেন, আবার কখনো শেষ রাতে আদায় করতেন। আমি বললাম, আল্লাহ তা‘আলা অনেক বড়। সব প্রশংসা তাঁর যিনি দ্বীনের কাজ সহজ (ব্যবস্থা) করে দিয়েছেন। তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন, তিনি (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কি তাহাজ্জুদের সলাতে অথবা অন্য কোন সলাতে শব্দ করে ক্বিরাআত পড়তেন, না আস্তে আস্তে? তিনি বললেন, কখনো তো শব্দ করে ক্বিরাআত পড়তেন, আবার কখনো নিচু স্বরে। আমি বললাম, আল্লাহ তা‘আলা অনেক বড় ও সব প্রশংসা তাঁরই প্রাপ্য, যিনি দ্বীনের কাজ সহজ ও প্রশস্ত করে দিয়েছেন। (আবূ দাঊদ, ইবনু মাজাহ! ইবনু মাজাহ এ সূত্রে শুধু শেষ অংশ [যাতে ক্বিরাআতের উল্লেখ হয়েছে] নকল করেছেন) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৬৪

وعن عبد الله بن أبي قيس قال: سألت عائشة: بكم كان رسول الله ﷺ يوتر؟ قالت: كان يوتر بأربع وثلاث وست وثلاث وثمان وثلاث وعشر وثلاث ولم يكن يوتر بأنقص من سبع ولا بأكثر من ثلاث عشرة. رواه أبو داود

তিনি বলেন, আমি ‘আয়িশাহ (রাঃ) -কে প্রশ্ন করলাম, রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কত রাক‘আত বিতরের সলাত আদায় করতেন। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বললেন, রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কখনো চার ও তিন (অর্থাৎ সাত), আবার কখনো ছয় ও তিন (অর্থাৎ নয়), কখনো আট ও তিন (অর্থাৎ এগার) আবার কখনো দশ ও তিন (অর্থাৎ তের) রাক‘আত বিতরের সলাত আদায় করতেন। তিনি সাত-এর কম ও তের-এর বেশী বিতরের সলাত আদায় করতেন না। (আবূ দাঊদ) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৬৫

وعن أبى أيوب قال: قال رسول الله ﷺ: الوتر حق على كل مسلم فمن أحب أن يوتر بخمس فليفعل ومن أحب أن يوتر بثلاث فليفعل ومن أحب أن يوتر بواحدة فليفعل . رواه أبو داود والنسائي وابن ماجه

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেন : বিতরের সলাত প্রত্যেক মুসলিমের আদায় করা কর্তব্য। তাই যে লোক বিতরের সলাত পাঁচ রাক‘আত আদায় করতে চায় সে যেন পাঁচ রাক‘আত আদায় করে। যে লোক তিন রাক‘আত আদায় করতে চায় সে যেন তিন রাক‘আত আদায় করে। যে লোক এক রাক‘আত আদায় করতে চায় সে যেন এক রাক‘আত আদায় করে। (আবূ দাঊদ, নাসায়ী, ইবনু মাজাহ) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৬৬

وعن علي قال: قال رسول الله ﷺ: «إن الله وتر يحب الوتر فأوتروا يا أهل القران» . رواه الترمذي وأبو داود والنسائي

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেন : আল্লাহ তা‘আলা বিতর (বিজোড়)। তিনি বিজোড়কে ভালোবাসেন। অতএব হে কুরআনের বাহকগণ! তোমরা বিতর সলাত আদায় কর। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ, নাসায়ী) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৬৭

وعن خارجة بن حذافة قال: خرج علينا رسول الله ﷺ وقال: إن الله أمدكم بصلاة هي خير لكم من حمر النعم: الوتر جعله الله لكم فيما بين صلاة العشاء إلى أن يطلع الفجر. رواه الترمذي وأبو داود

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেন : আল্লাহ তা'আলা এমন এক সলাত দিয়ে তোমাদের সহযোগিতা করেছেন (পাঞ্জেগানা সলাত ছাড়া) যা তোমাদের জন্যে লাল উটের চেয়েও অনেক উত্তম। তা হলো বিতরের সলাত। আল্লাহ তা'আলা এ সলাত তোমাদের জন্য ইশার সলাতের পর থেকে ফাজরের সলাতের পূর্ব পর্যন্ত সময়ের মাঝে আদায়ের জন্যে নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন। (তিরমিয়ী, আবূ দাঊদ) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৬৮

وعن زيد بن أسلم قال: قال رسول الله ﷺ: «من نام عن وتره فليصل إذا أصبح» . رواه الترمذي مرسلا

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেন : যে লোক বিতরের সলাত আদায় না করে শুয়ে পড়েছে (আর উঠতে পারেনি), সে যেন (ফাজরের সলাতের পূর্বে) ভোর হয়ে গেলেও তা পড়ে নেয়। (তিরমিয়ী মুরসাল হাদীস হিসেবে বর্ণনা করেছেন) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৬৯

وعن عبد العزيز بن جريج قال: سألنا عائشة رضي الله عنها بأي شيء كان يوتر رسول الله ﷺ؟ قالت: كان يقرأ في الأولى بــ ﴿سبح اسم ربك الأعلى﴾ [الأعلى 87 : 1] وفي الثانية بــ ﴿قل يا أيها الكافرون﴾ [الكافرون 109 : 1]، وفى الثالثة بــ ﴿قل هو الله أحد﴾ [الإخلاص 112 : 1] والمعوذتين» ورواه الترمذي وأبو داود

তিনি বলেন, আমরা আয়িশাহ (রাঃ) -কে প্রশ্ন করেছিলাম, রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিতরের সলাতে কোন কোন সূরাহ পড়তেন? আয়িশাহ (রাঃ) বললেন, তিনি প্রথম রাকাআতে সাবিহিস্মা রব্বিকাল আ'লা- দ্বিতীয় রাকাআতে কুল ইয়া- আইয়াহাল কা-ফিরুন এবং তৃতীয় রাকাআতে ‘কুল হুওয়াল্ল-হু আহাদ’, ‘কুল আ‘উয়ু বিরব্বিল ফালাক্ব’ ও ‘কুল আ‘উয়ু বিরব্বিন না-স’ পড়তেন। (তিরমিয়ী, আবূ দাঊদ) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৭০

ورواه النسائي عن عبد الرحمن بن أبزى

এ বর্ণনাটিকে ইমাম নাসায়ী আবদুর রহমান ইবনু আবযা হতে বর্ণনা করেছেন। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৭১

ورواه ألأحمد عن أبي بن كعب

আর ইমাম আহমাদ উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন।


মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৭২

والدارمي عن ابن عباس ولم يذكروا والمعوذتين

আর দারিমী ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে নকল করেছেন। কিন্তু ইমাম আহমাদ ও দারিমী নিজেদের বর্ণনায় “মু‘আব্বিযাতায়ন” উল্লেখ করেননি)। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৭৩

وعن الحسن بن علي رضي الله عنهما قال: علمنى رسول الله ﷺ كلمات أقولهن في قنوت الوتر: «اللهم اهدنى فيمن هديت وعافنى فيمن عافيت وتولنى فيمن توليت وبارك لى فيما أعطيت وقنى شر ما قضيت فإنك تقضى ولا يقضى عليك وإنه لا يذل من واليت تباركت ربنا وتعاليت» . رواه الترمذي وأبو داود والنسائي وابن ماجه والدارمي

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিতরের দুআ কুনুত পাঠ করার জন্য আমাকে কিছু কালিমাহ্ শিক্ষা দিয়েছেন। সে কালিমাগুলো হলো, “আল্ল-হুম্মাহদিনী ফীমান হাদায়তা ওয়া ‘আ-ফিনী ফীমান ‘আ-ফায়তা, ওয়াতা ওয়াল্লানী ফীমান তাওয়াল্লায়তা, ওয়াবা-রিক লী ফীমা- আ-‘ত্বায়তা, ওয়াক্বিনী শাররা মা- ক্বযায়তা, ফাইন্নাকা তাক্বযী ওয়ালা- ইউক্বযা- ‘আলায়কা, ওয়া ইন্নাহূ লা- ইয়াযিল্লু মাওঁ ওয়ালায়তা, তাবা-রাক্তা রব্বানা- ওয়াতা‘আ-লায়তা” অর্থাৎ “হে আল্লাহ! তুমি আমাকে হিদায়াত দান করে সে সব মানুষের সঙ্গে যাদের তুমি হিদায়াত দান করেছ (নবী রসূলগণ)। তুমি আমাকে দুনিয়ার বিপদাপদ থেকে হিফাযাত করো ওসব লোকের সঙ্গে যাদেরকে তুমি হিফাযাত করেছ। যাদের তুমি অভিভাবক হয়েছো, তাদের মাঝে আমারও অভিভাবক হও। তুমি আমাকে যা দান করেছ (জীবন, জ্ঞান সম্পদ, ধন, নেক ‘আমাল), এতে বারাকাত দান করো। আর আমাকে তুমি রক্ষা করো ওসব অনিষ্ট হতে যা আমার তাকদীরে লিখা হয়ে গেছে। নিশ্চয় তুমি যা চাও তাই আদেশ করো। তোমাকে কেউ আদেশ করতে পারে না। তুমি যাকে ভালোবাসো তাকে কেউ অপমানিত করতে পারে না। হে আমার রব! তুমি বারাকাতে পরিপূর্ণ। তুমি খুব উচ্চমর্যাদা সম্পন্ন"। (তিরমিয়ী, আবূ দাঊদ, নাসায়ী, ইবনু মাজাহ, দারিমী) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৭৪

وعن أبي بن كعب قال: كان رسول الله ﷺ إذا سلم في الوتر قال: «سبحانك الملك القدوس» رواه أبو داود والنسائي وزاد: ثلاث مرات يطيل في آخرهن

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিতরের সলাতের সালাম ফিরাবার পর বলতেন, “সুবহা-নাল মালিকিল কুদূস” অর্থাৎ পাক-পবিত্র বাদশাহ খুবই পবিত্র। (আৰু দাঊদ, নাসায়ী; তিনি [নাসায়ী] বৃদ্ধি করেছেন যে, তিনবার দু'আটি পড়তেন, শেষের বারে দীর্ঘায়িত করতেন) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৭৫

وفي رواية للنسائي عن عبد الرحمن بن أبزى عن أبيه قال: كان يقول إذا سلم: «سبحان الملك القدوس» ثلاثا ويرفع صوته بالثالثة

নাসায়ীর একটি বর্ণনা ‘আবদুর রহমান ইবনু আবৃযা তার পিতা হতে নকল করেছেন : তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন সালাম ফিরাতেন, তিনবার বলতেন "সুবহা-নাল মালিকিল কুদ্দূস", তৃতীয়বার উচ্চৈঃস্বরে বলতেন। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৭৬

وعن علي قال: إن النبي ﷺ كان يقول في اخر وتره: «اللهم إني أعوذ برضاك من سخطك وبمعافاتك من عقوبتك وأعوذ بك منك لا أحصى ثناء عليك أنت كما أثنيت على نفسك» . رواه أبو داود والترمذي والنسائي وابن ماجه

তিনি বলেন, নাবী (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার বিতরের সলাত শেষে এ দুআ পড়তেন : “আল্ল-হুম্মা ইনী আ‘ঊযু বিরিযা-কা মিন সাখাতিকা ওয়া বিমু‘আ-ফা-তিকা মিন উকুবাতিকা ওয়া আ‘ঊযু বিকা মিনকা, লা- উহসী সানা-য়ান ‘আলায়কা, আনতা কামা- আস্নায়তা ‘আলা- নাফসিকা” (অর্থাৎ ‘হে আল্লাহ! আমি পানাহ চাই তোমার সন্তুষ্টির মাধ্যমে তোমার গজব থেকে, তোমার নিরাপত্তার মাধ্যমে তোমার আযাব থেকে। আমি পানাহ চাই তোমার নিকট তোমার অসন্তোষ থেকে। তোমার প্রশংসা বর্ণনা করে আমি শেষ করতে পারবো না। তুমি তেমন, যেমন তুমি তোমার বিবরণ দিয়েছ )। (আবূ দাঊদ, তিরমিয়ী, নাসায়ী, ইবনু মাজাহ) [১]


🔄 লোড হচ্ছে...
ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية