তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মিশকাতুল মাসাবিহ | হাদীস | কুরআন ও সুন্নাহ

মিশকাতুল মাসাবিহ > তৃতীয় অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৩৪

عن عبد الله بن عمرو بن العاص قال: قال لي رسول الله ﷺ: «يا عبد الله لا تكن مثل فلان كان يقوم من الليل فترك قيام الليل». (متفق عليه)

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে বললেন, হে ‘আবদুল্লাহ! তিমি অমুক লোকের মতো হয়ো না। সে রাত্রে (সজাগ হয়ে) তাহাজ্জুদের সলাত আদায় করত, পরে তা ছেড়ে দিয়েছে। (বুখারী, মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৩৫

وعن عثمان بن أبي العاص قال: سمعت رسول الله ﷺ يقول: «كان لداود عليه السلام من الليل ساعة يوقظ فيها أهله يقول: يا آل داود قوموا فصلوا فإن هذه ساعة يستجيب الله عز وجل فيها الدعاء إلا لساحر أو عشار». رواه أحمد

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি : দাঊদ (‘আলাইহিস সালাম)-এর জন্যে রাত্রের (শেষাংশের একটি) সময় নির্ধারিত ছিল। যে সময়ে তিনি নিজের পরিবারের সদস্যদেরকে উঠাতেন। তিনি বলতেন, হে দাউদের পরিবারের লোকেরা! (ঘুম থেকে) জাগো এবং সলাত আদায় কর। কারণ এটা এমন মুহূর্ত, যে সময় আল্লাহ তা’আলা দু’আ কবুল করেন। কিন্তু জাদুকর ও ছিনতাইকারীর দু’আ কবুল হয়না। (আহ্‌মদ) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৩৬

وعن أبى هريرة قال: سمعت رسول الله ﷺ يقول: «أفضل الصلاة بعد المفروضة صلاة فى جوف الليل» . رواه أحمد

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে বলতে শুনেছি : ফার্‌য সলাতের পর অধিক উত্তম সলাত হলো মাঝ রাত্রের সলাত। (আহ্‌মাদ) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৩৭

وعن أبي هريرة قال: جاء رجل إلى النبي ﷺ فقال: إن فلانا يصلى بالليل فإذا أصبح سرق فقال: إنه سينهاه ما تقول. رواه أحمد والبيهقي في شعب الإيمان

তিনি বলেন, একলোক রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর কাছে এলো এবং তাঁকে বলল, অমুক লোক রাত্রে সলাত আদায় করে কিন্তু ভোরে উঠে চুরি করে। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন : খুব তাড়াতাড়ি তার সলাত তাকে এ ‘আমাল থেকে বাধা দিবে, তার যে ‘আমালের কথা তুমি বলছ। (আহমাদ, বায়হাক্বী’র শু’আবুল ‘ঈমান) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৩৮

وعن أبي سعيد وأبي هريرة قالا: قال رسول الله ﷺ: «إذا أيقظ الرجل أهله من الليل فصليا أو صلى ركعتين جميعا كتبا في الذاكرين والذاكرات» . رواه أبو داود وابن ماجه

তারা বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন : যখন কোন তার স্ত্রীকে ঘুম থেকে উঠায় ও উভয়ে এক সাথে সলাত আদায় করে অথবা তিনি এ কথা বলেছেন, তাদের প্রত্যেকে দু’ রাক্‌’আত করে সলাত এক সাথে পড়ে, তাহলে এ দুই (স্বামী-স্ত্রী) লোকের নাম আল্লাহকে স্মরণকারী নর ও নারীদের দলের মাঝে লিপিবদ্ধ করা হয়। (আবূ দাঊদ, ইবনু মাজাহ) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৩৯

وعن ابن عباس قال: قال رسول الله ﷺ: «أشراف أمتي حملة القران وأصحاب الليل» . رواه البيهقي في شعب الإيمان

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন : আমার উম্মাতের মাঝে বেশী সম্ভ্রান্ত অর্থাৎ উন্নত মর্যাদার অধিকারী ব্যক্তি তারাই, যারা কুরআন বহনকারী ও সলাত আদায়ের মাধ্যমে রাত জাগরণকারী। (বায়হাকী-শু’আবুল ঈমান) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৪০

وعن ابن عمر أن أباه عمر بن الخطاب كان يصلى من الليل ما شاء الله حتى إذا كان من آخر الليل أيقظ أهله للصلاة يقول لهم: الصلاة ثم يتلو هذه الآية: ﴿وأمر أهلك بالصلاة واصطبر عليها لا نسألك رزقا نحن نرزقك والعاقبة للتقوى﴾ [طه 20 : 132] رواه مالك

তিনি বলেন, তাঁর পিতা ‘উমার ইবনুল খাত্ত্বাব (রাঃ) রাত্রে আল্লাহর ইচ্ছা মতো সলাত আদায় করতেন। রাত্রের শেষভাগে নিজ পরিবারকে সলাত আদায়ের জন্যে উঠিয়ে দিতেন। তিনি তাদের বলতেন, সলাত আদায় কর। তারপর এ আয়াত পাঠ করতেন : “ওয়া’মুর আহ্‌লাকা বিস্‌সলা-তি ওয়াস্‌ত্বাবির ‘আলায়হা- লা –নাস্‌আলুকা রিয্‌ক্বান। নাহনু নার্‌যুকুকা ওয়াল ‘আ-ক্বিবাতু লিত্ তাক্বওয়া-”। অর্থাৎ “তোমার পরিবারের লোকজনদেরকে সালাতের আদেশ করতে থাকো। নিজেও (এ কষ্টের) জন্যে ধৈর্য ধারণ করতে থাকো। আমি তোমার নিকট রিয্‌ক্ব চাইনা। রিয্‌ক্ব তো আমিই তোমাকে দান করি। আখিরাতের সফলতা তো মুত্তাক্বী লোকদের জন্য”- (সূরাহ্‌ ত্ব-হা- ২০ : ১৩২)। (মালিক) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ > প্রথম অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৪১

عن أنس قال: كان رسول الله ﷺ يفطر من الشهر حتى يظن أن لا يصوم منه ويصوم حتى يظن أن لا يفطر منه شيئا وكان لا تشاء أن تراه من الليل مصليا إلا رأيته ولا نائما إلا رأيته. رواه البخاري

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কোন কোন মাসে রোযাহীন কাটাতেন। এমনকি আমরা মনে করতাম, তিনি হয়ত এ মাসে সওম পালন করবেন না। আবার তিনি সওম পালন করতে থাকতেন। আমরা ধারণা করতাম, তিনি বুঝি এ মাসে সওম পালন করা ছাড়বেন না। তুমি যদি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে রাত্রে সলাত আদায়ে করা অবস্থায় দেখতে চাও, তাহলে দেখতে পাবে তিনি সলাত আদায়ে করছেন। আবার তুমি যদি ঘুম অবস্থায়ে দেখতে চাও তাহলে দেখতে পাবে তিনি ঘুমাছছেন। (বুখারী) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৪২

وعن عائشة قالت: قال رسول الله ﷺ: «أحب الأعمال إلى الله أدومها وإن قل». (متفق عليه)

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন : আল্লাহর নিকট বান্দার সবচেয়ে প্রিয় ‘আমাল হল সর্বদা তা করা যদি (পরিমাণে) কমও হয়। (বুখারী, মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৪৩

وعن عائشة رضي الله عنها قالت: قال رسول الله ﷺ: خذوا من الأعمال ما تطيقون فإن الله لا يمل حتى تملوا. (متفق عليه)

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন : যত পরিমাণ তোমরা সামর্থ্য রাখো তত পরিমাণ ‘আমাল করো। এ জন্য আল্লাহ্‌ তা’আলা সওয়াব দিতে ক্লান্ত হন না, যতক্ষণ তোমরা ক্লান্ত না হবে। (বুখারী, মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৪৪

وعن أنس قال: قال رسول الله ﷺ: «ليصل أحدكم نشاطه وإذا فتر فليقعد». (متفق عليه)

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন : তোমাদের কারো উচিত ততক্ষণ পর্যন্ত সলাত আদায় করা যতক্ষণ সে প্রফুল্ল বা সতেজ থাকে। ক্লান্ত হয়ে গেলে সে যেন বসে যায় (অর্থাৎ সলাত আদায় না করে)। (বুখারী, মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৪৫

وعن عائشة قالت: قال رسول الله ﷺ: «إذا نعس أحدكم وهو يصلى فليرقد حتى يذهب عنه النوم فإن أحدكم إذا صلى وهو ناعس لا يدرى لعله يستغفر فيسب نفسه». (متفق عليه)

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন : তোমাদের কেউ যদি সলাত আদায় করা অবস্থায় ঝিমাতে শুরু করে তবে সে যেন ঘুমিয়ে পড়ে, ঘুম দূর না হওয়া পর্যন্ত। কারণ তোমাদের কেউ যখন ঝিমিয়ে ঝিমিয়ে সলাত আদায় করে (ঘুমের কারণে) সে জানতে পারে না (সে কি পড়ছে)। হতে পারে সে আল্লাহর কাছে মাগফিরাত কামনা করতে গিয়ে (ঝিমানীর কারণে নিজে) নিজেকে গালি দিচ্ছে। (বুখারী, মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৪৬

وعن أبى هريرة قال: قال رسول الله ﷺ: «إن الدين يسر ولن يشاد الدين أحد إلا غلبه فسددوا وقاربوا وأبشروا واستعينوا بالغدوة والروحة وشيء من الدلجة» . رواه البخاري

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন : নিশ্চয়ই দ্বীন সহজ। কিন্তু যে লোক দীনকে কঠিন করে তুলে, দ্বীন তাকে পরাভূত করে দেয়। অতএব দ্বীনের ব্যাপারে মধ্যম পন্থা অবলম্বন ও সাধ্য অনুযায়ী ‘আমাল কর (নিজেকে ও অন্যকে) শুভ সংবাদ দাও, আর সকাল-সন্ধ্যা এবং রাতের শেষ ভাগে আল্লাহ তা‘আলার কাছে সাহায্য প্রার্থনা কর। (বুখারী) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৪৭

وعن عمر قال: قال رسول الله ﷺ: من نام عن حزبه أو عن شيء منه فقرأه فيما بين صلاة الفجر وصلاة الظهر كتب له كأنما قرأه من الليل . رواه مسلم

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন : কোন লোক রাতের বেলা তার নিয়মিত ‘ইবাদাত অথবা তার আংশিক না করে শুয়ে গেল। তারপর সে ফাজ্র ও যুহরের মধ্যবর্তী সময়ে তা করে নিলে যেন সে রাতেই তা পড়েছে বলে লিখে নেয়া হয়। (মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৪৮

وعن عمران بن حصين قال: قال رسول الله ﷺ: «صل قائما فإن لم تستطع فقاعدا فإن لم تستطع فعلى جنب» . رواه البخاري

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন : সলাত দাঁড়িয়ে আদায় করবে। যদি তাতে সক্ষম না হও তাহলে বসে আদায় করবে। যদি তাতেও সক্ষম না হও তাহলে (শুয়ে) কাত হয়ে আদায় করবে। (বুখারী) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৪৯

وعن عمران بن حصين: أنه سأل النبي ﷺ عن صلاة الرجل قاعدا. قال: «إن صلى قائما فهو أفضل ومن صلى قاعدا فله نصف أجر القائم ومن صلى نائما فله نصف أجر القاعد». رواه البخاري

তিনি কোন লোকের বসে বসে (নাফ্ল) সলাত আদায় করার ব্যাপারে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে প্রশ্ন করলেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, যদি দাঁড়িয়ে পড়ত ভাল হতো। যে লোক বসে বসে নাফ্ল সলাত আদায় করবে সে দাঁড়িয়ে পড়া লোকের অর্ধেক সাওয়াব পাবে। আর যে লোক শুয়ে সলাত আদায় করবে সে বসে পড়া ব্যক্তির অর্ধেক সাওয়াব পাবে। (বুখারী) [১]


🔄 লোড হচ্ছে...
ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية