দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মিশকাতুল মাসাবিহ | হাদীস | কুরআন ও সুন্নাহ

মিশকাতুল মাসাবিহ > দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ১২২৭

عن أبي أمامة قال: قال رسول الله ﷺ: «عليكم بقيام الليل فإنه دأب الصالحين قبلكم وهو قربة لكم إلى ربكم ومكفرة للسيئات ومنهاة عن الإثم» . رواه الترمذي

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন : তোমাদের জন্যে ক্বিয়ামুল লায়ল (তাহাজ্জুদের সলাত) আদায় করা আবশ্যক। কারণ এটা তোমাদের পূর্বের নেক লোকদের অভ্যাস। (তাছাড়াও এ) ক্বিয়ামূল লায়ল আল্লাহর নৈকট্য লাভ আর পাপের কাফ্‌ফারাহ্‌। তোমাদেরকে পাপ থেকেও (এ ক্বিয়ামুল লায়ল) ফিরিয়ে রাখে। (তিরমিযী) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১২২৮

وعن أبي سعيد الخدري قال: قال رسول الله ﷺ: «ثلاثة يضحك الله إليهم الرجل إذا قام بالليل يصلى والقوم إذا صفوا في الصلاة والقوم إذا صفوا فى قتال العدو». رواه في شرح السنة

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন : তিন প্রকার লোকদের প্রতি নজর করে আল্লাহ তা’আলা হাসেন (অর্থাৎ তাদের ওপর খুশি হন)। ঐ লোক, যে রাতে উঠে (তাহাজ্জুদের) সলাত আদায় করে। (দ্বিতীয়) ঐ লোক, যারা সলাতে কাতারবন্ধি হয়ে দাঁড়ায়। (তৃতীয়) ঐ লোকজন, যারা (দ্বীনের) দুশমনদের সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য কাতারবদ্ধ হয়ে দাঁড়ায়। (শারহুস্‌ সুন্নাহ্‌) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১২২৯

وعن عمرو بن عبسة قال: قال رسول الله ﷺ: أقرب ما يكون الرب من العبد في جوف الليل الاخر فإن استطعت أن تكون ممن يذكر الله فى تلك الساعة فكن . رواه الترمذي وقال: هذا حديث حسن صحيح غريب إسنادا

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেন : আল্লাহ তা’আলা শেষ রাতেই বান্দার বেশী নিকটতম হন। তাই সে সময় তোমরা আল্লাহর যিক্‌রকারীদের মাঝে শামীল হওয়ার চেষ্টা করতে যদি পারো অবশ্যই করো। (তিরমিযী; তিনি বলেছেন, এ হাদীসটি হিসেবে হাসান সহীহ, সানাদগত দিক থেকে গরীব) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৩০

وعن أبي هريرة قال: قال رسول الله ﷺ: «رحم الله رجلا قام من الليل فصلى وأيقظ امرأته فصلت فإن أبت نضح في وجهها الماء. رحم الله امرأة قامت من الليل فصلت وأيقظت زوجها فصلى فإن أبى نضحت في وجهه الماء» . رواه أبو داود والنسائي

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন : আল্লাহ তা’আলা ঐ লোকের ওপর রহমাত নাযিল করুন যে রাতে উঠে তাহাজ্জুদের সলাত আদায় করে। আবার নিজের স্ত্রীকেও সলাতের জন্যে জাগায়। যদি স্ত্রী না উঠে তাহলে তাঁর মুখে পানি ছিটিয়ে দেয়। আল্লাহ ঐ মহিলার প্রতিও রহমাত করেন যে রাত্রে উঠে তাহাজ্জদের সলাত আদায় করে। আবার তাঁর স্বামীকেও তাহাজ্জুদের সলাত আদায়ের জন্য উঠায়। যদি স্বামী ঘুম থেকে না উঠে তাহলে সে তাঁর মুখে পানি ছিটে দেয়। (আবূ দাঊদ, নাসায়ী) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৩১

وعن أبي أمامة قال: قيل: يا رسول الله أي الدعاء أسمع؟ قال: «جوف الليل الاخر ودبر الصلوات المكتوبات» . رواه الترمذي

তিনি বলেন, প্রশ্ন করা হলো, হে আল্লাহর রসূল! কোন সময়ের দু’আ আল্লাহর নিকট বেশি কবূল হয়। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, মাঝরাতের শেষ ভাগের দু’আ। আর ফার্‌য সলাতের পরের দু’আ। (তিরমিযী) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৩২

وعن أبي مالك الأشعري قال: قال رسول الله ﷺ: «إن في الجنة غرفا يرى ظاهرها من باطنها وباطنها من ظاهرها أعدها الله لمن ألان الكلام وأطعم الطعام وتابع الصيام وصلى بالليل والناس نيام» . رواه البيهقي في شعب الإيمان

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন : জান্নাতে এমন সব কক্ষ আছে যার বাইরের জিনিস ভেতর থেকে আর ভেতরের জিনিস বাইরে থেকে দেখা যায়। আর এ বালাখানা আল্লাহ তা’আলা ঐসব ব্যক্তির জন্যে তৈরি করে রেখেছেন, যারা অন্য ব্যক্তির সঙ্গে নরম কথা বলে। (গরীব-মিসকীনকে) খাবার দেয়। প্রায়ই (নাফ্‌ল) সওম পালন করে। রাত্রে এমন সময় (তাহাজ্জুদের) সলাত আদায় করে যখন অনেক মানুষ ঘুমিয়ে থাকে। (বায়হাক্বীর শু’আবুল ঈমান) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৩৩

وروى الترمذي عن علي نحوه وفي روايته: «لمن أطاب الكلام

ইমাম তিরমিযীও এ ধরনের বর্ণনা ‘আলী (রাঃ) হতে নকল করেছেন। কিন্তু এদের সূত্রে ‘কোমল কথা বলে’-এর স্থানে ‘মধুর কথা বলে’ উদ্ধুত হয়েছে। উভয় বাক্যের অর্থ একই।।[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ > তৃতীয় অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৩৪

عن عبد الله بن عمرو بن العاص قال: قال لي رسول الله ﷺ: «يا عبد الله لا تكن مثل فلان كان يقوم من الليل فترك قيام الليل». (متفق عليه)

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে বললেন, হে ‘আবদুল্লাহ! তিমি অমুক লোকের মতো হয়ো না। সে রাত্রে (সজাগ হয়ে) তাহাজ্জুদের সলাত আদায় করত, পরে তা ছেড়ে দিয়েছে। (বুখারী, মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৩৫

وعن عثمان بن أبي العاص قال: سمعت رسول الله ﷺ يقول: «كان لداود عليه السلام من الليل ساعة يوقظ فيها أهله يقول: يا آل داود قوموا فصلوا فإن هذه ساعة يستجيب الله عز وجل فيها الدعاء إلا لساحر أو عشار». رواه أحمد

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি : দাঊদ (‘আলাইহিস সালাম)-এর জন্যে রাত্রের (শেষাংশের একটি) সময় নির্ধারিত ছিল। যে সময়ে তিনি নিজের পরিবারের সদস্যদেরকে উঠাতেন। তিনি বলতেন, হে দাউদের পরিবারের লোকেরা! (ঘুম থেকে) জাগো এবং সলাত আদায় কর। কারণ এটা এমন মুহূর্ত, যে সময় আল্লাহ তা’আলা দু’আ কবুল করেন। কিন্তু জাদুকর ও ছিনতাইকারীর দু’আ কবুল হয়না। (আহ্‌মদ) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৩৬

وعن أبى هريرة قال: سمعت رسول الله ﷺ يقول: «أفضل الصلاة بعد المفروضة صلاة فى جوف الليل» . رواه أحمد

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে বলতে শুনেছি : ফার্‌য সলাতের পর অধিক উত্তম সলাত হলো মাঝ রাত্রের সলাত। (আহ্‌মাদ) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৩৭

وعن أبي هريرة قال: جاء رجل إلى النبي ﷺ فقال: إن فلانا يصلى بالليل فإذا أصبح سرق فقال: إنه سينهاه ما تقول. رواه أحمد والبيهقي في شعب الإيمان

তিনি বলেন, একলোক রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর কাছে এলো এবং তাঁকে বলল, অমুক লোক রাত্রে সলাত আদায় করে কিন্তু ভোরে উঠে চুরি করে। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন : খুব তাড়াতাড়ি তার সলাত তাকে এ ‘আমাল থেকে বাধা দিবে, তার যে ‘আমালের কথা তুমি বলছ। (আহমাদ, বায়হাক্বী’র শু’আবুল ‘ঈমান) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৩৮

وعن أبي سعيد وأبي هريرة قالا: قال رسول الله ﷺ: «إذا أيقظ الرجل أهله من الليل فصليا أو صلى ركعتين جميعا كتبا في الذاكرين والذاكرات» . رواه أبو داود وابن ماجه

তারা বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন : যখন কোন তার স্ত্রীকে ঘুম থেকে উঠায় ও উভয়ে এক সাথে সলাত আদায় করে অথবা তিনি এ কথা বলেছেন, তাদের প্রত্যেকে দু’ রাক্‌’আত করে সলাত এক সাথে পড়ে, তাহলে এ দুই (স্বামী-স্ত্রী) লোকের নাম আল্লাহকে স্মরণকারী নর ও নারীদের দলের মাঝে লিপিবদ্ধ করা হয়। (আবূ দাঊদ, ইবনু মাজাহ) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৩৯

وعن ابن عباس قال: قال رسول الله ﷺ: «أشراف أمتي حملة القران وأصحاب الليل» . رواه البيهقي في شعب الإيمان

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন : আমার উম্মাতের মাঝে বেশী সম্ভ্রান্ত অর্থাৎ উন্নত মর্যাদার অধিকারী ব্যক্তি তারাই, যারা কুরআন বহনকারী ও সলাত আদায়ের মাধ্যমে রাত জাগরণকারী। (বায়হাকী-শু’আবুল ঈমান) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৪০

وعن ابن عمر أن أباه عمر بن الخطاب كان يصلى من الليل ما شاء الله حتى إذا كان من آخر الليل أيقظ أهله للصلاة يقول لهم: الصلاة ثم يتلو هذه الآية: ﴿وأمر أهلك بالصلاة واصطبر عليها لا نسألك رزقا نحن نرزقك والعاقبة للتقوى﴾ [طه 20 : 132] رواه مالك

তিনি বলেন, তাঁর পিতা ‘উমার ইবনুল খাত্ত্বাব (রাঃ) রাত্রে আল্লাহর ইচ্ছা মতো সলাত আদায় করতেন। রাত্রের শেষভাগে নিজ পরিবারকে সলাত আদায়ের জন্যে উঠিয়ে দিতেন। তিনি তাদের বলতেন, সলাত আদায় কর। তারপর এ আয়াত পাঠ করতেন : “ওয়া’মুর আহ্‌লাকা বিস্‌সলা-তি ওয়াস্‌ত্বাবির ‘আলায়হা- লা –নাস্‌আলুকা রিয্‌ক্বান। নাহনু নার্‌যুকুকা ওয়াল ‘আ-ক্বিবাতু লিত্ তাক্বওয়া-”। অর্থাৎ “তোমার পরিবারের লোকজনদেরকে সালাতের আদেশ করতে থাকো। নিজেও (এ কষ্টের) জন্যে ধৈর্য ধারণ করতে থাকো। আমি তোমার নিকট রিয্‌ক্ব চাইনা। রিয্‌ক্ব তো আমিই তোমাকে দান করি। আখিরাতের সফলতা তো মুত্তাক্বী লোকদের জন্য”- (সূরাহ্‌ ত্ব-হা- ২০ : ১৩২)। (মালিক) [১]


🔄 লোড হচ্ছে...
ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية