প্রথম অনুচ্ছেদ - মিশকাতুল মাসাবিহ | হাদীস | কুরআন ও সুন্নাহ

মিশকাতুল মাসাবিহ > প্রথম অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ১২১৯

عن أبى هريرة أن رسول الله ﷺ قال: «يعقد الشيطان على قافية رأس أحدكم إذا هو نام ثلاث عقد يضرب على كل عقدة: عليك ليل طويل فارقد. فإن استيقظ فذكر الله انحلت عقدة فإن توضأ انحلت عقدة فإن صلى انحلت عقدة فأصبح نشيطا طيب النفس وإلا أصبح خبيث النفس كسلانا» . (متفق عليه)

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ তোমাদের কোন লোক যখন (রাতে) ঘুমিয়ে যায়, শয়তান (শয়তান) তার মাথার পেছনের দিকে তিনটি গিরা লাগায়। প্রত্যেক গিরায় শয়তান (শয়তান) তার মনে এ কথার উদ্রেক করে দেয় যে, এখনো অনেক রাত বাকী, কাজেই ঘুমিয়ে থাকো। সে যদি রাতে জেগে উঠে এবং আল্লাহর নাম স্মরণ করে তাহলে তার (গাফলতির) একটি গিরা খুলে যায়। তারপর সে যদি উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করে, (গাফলতির) আর একটি গিরা খুলে যায়। যদি সে সলাত (সালাত/নামায/নামাজ) আরম্ভ করে তখন তার তৃতীয় গিরাটিও খুলে যায়। বস্ত্ততঃ এ লোক পাক-পবিত্র হয়ে ভোরের মুখ দেখে, নতুবা অপবিত্র হয়ে ভোরের দিকে কলূষ অন্তর ও অলস মন নিয়ে উঠে। (বুখারী, মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১২২০

وعن المغيرة قال: قام النبي ﷺ حتى تورمت قدماه فقيل له: لم تصنع هذا وقد غفر لك ما تقدم من ذنبك وما تأخر؟ قال: «أفلا أكون عبدا شكورا». (متفق عليه)

তিনি বলেন, রাত্রে সলাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করতে পড়তে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পা ফুলে যেত। তাঁকে বলা হলো, আপনি কেন এত কষ্ট করছেন। অথচ আপনার পূর্বের ও পরের সকল পাপ ক্ষমা করে দেয়া হয়েছে? (এ কথা শুনে) তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করলেন, আমি কী কৃতজ্ঞতা স্বীকারকারী বান্দা হবো না? (বুখারী, মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১২২১

وعن ابن مسعود قال: ذكر عند النبي ﷺ رجل فقيل له مازال نائما حتى أصبح ما قام إلى الصلاة قال: «ذلك رجل بال الشيطان في أذنه» أو قال: «في أذنيه». (متفق عليه)

তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সম্মুখে এক লোক সম্পর্কে আলোচনা করা হলো। তাঁকে বলা হলো, লোকটি সকাল পর্যন্ত একটানা ঘুমিয়ে থাকে, সলাতের জন্যে উঠে না। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেন, এ লোকের কানে অথবা তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, তার দু’কানে শয়তান (শয়তান) পেশাব করে দিয়েছে। (বুখারী, মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১২২২

وعن أم سلمة قالت: استيقظ رسول الله ﷺ ليلة فزعا يقول: «سبحان الله ماذا أنزل الليلة من الخزائن؟ وماذا أنزل من الفتن؟ من يوقظ صواحب الحجرات» يريد أزواجه «لكي يصلين؟ رب كاسية في الدنيا عارية في الاخرة» أخرجه البخاري

তিনি বলেন, এক রাত্রে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘাবড়িয়ে গিয়ে এ কথা বলতে বলতে ঘুম থেকে জেগে উঠলেন, ‘সুবহা-নাল্ল-হ’ আজ রাত্রে কত ধন-সম্পদ অবতরণ করা হয়েছে। আর কত ফিতনাহ্ অবতরণ করা হয়েছে। হুজরাবাসিনীদেরকে ঘুম থেকে উঠিয়ে দিবে কে? তিনি এর দ্বারা তাঁর স্ত্রীদেরকেই বুঝিয়েছেন। যেন তারা সলাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করে। কত মহিলা দুনিয়ায় কাপড় পরিধান করে আছে, কিন্তু আখিরাতে তারা উলঙ্গ থাকবে। (বুখারী)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১২২৩

وعن أبى هريرة قال: قال رسول الله ﷺ: «ينزل ربنا تبارك وتعالى كل ليلة إلى السماء الدنيا حين يبقى ثلث الليل الاخر يقول: من يدعونى فأستجيب له؟ من يسألنى فأعطيه؟ من يستغفرني فأغفر له؟». (متفق عليه) وفي رواية لمسلم: ثم يبسط يديه ويقول: «من يقرض غير عدوم ولا ظلوم؟ حتى ينفجر الفجر

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ প্রতি রাত্রে শেষ তৃতীয়াংশে আমাদের মর্যাদাবান বারাকাতপূর্ণ রব দুনিয়ার আকাশে নেমে আসেন এবং বলেন, ‘যে আমাকে ডাকবে আমি তার ডাকে সাড়া দেব। যে আমার নিকট কিছু প্রার্থনা করবে আমি তাকে তা দান করব। যে আমার নিকট মাফ চাইবে আমি তাকে মাফ করে দেব।’ (বুখারী, মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১২২৪

وعن جابر قال: سمعت النبي ﷺ يقول: «إن في الليل لساعة لا يوافقها رجل مسلم يسأل الله فيها خيرا من أمر الدنيا والآخرة إلا أعطاه إياه وذلك كل ليلة» رواه مسلم

তিনি বলেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, রাত্রে এমন একটা সময় অবশ্যই আছে, কোন মুসলিম যদি এ সময়টা প্রাপ্ত হয় এবং আল্লাহ তা‘আলার নিকট দুনিয়া ও আখিরাতের কোন কল্যাণ করে তাহলে আল্লাহ তা‘আলা তাকে তা অবশ্যই দান করেন। এ সময়টা প্রতি রাত্রেই আসে। (মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১২২৫

وعن عبد الله بن عمرو قال: قال رسول الله ﷺ: «أحب الصلاة إلى الله صلاة داود وأحب الصيام إلى الله صيام داود كان ينام نصف الليل ويقوم ثلثه وينام سدسه ويصوم يوما ويفطر يوما». (متفق عليه)

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলার নিকট সকল সলাতের মাঝে দাঊদ (আঃ)-এর সলাত (সালাত/নামায/নামাজ) এবং সকল সওমের মাঝে দাঊদ (আঃ)-এর সওম সবচেয়ে বেশী প্রিয়। তিনি অর্ধেক রাত্র ঘুমাতেন। এক-তৃতীয়াংশ সলাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করতেন। তারপর রাতের ষষ্ঠাংশে আবার ঘুমাতেন। আর তিনি একদিন সওম পালন করতেন এবং একদিন সওম ছেড়ে দিতেন। (বুখারী, মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১২২৬

وعن عائشة رضي الله عنها قالت: كان تعني رسول الله ﷺ ينام أول الليل ويحيى اخره ثم إن كانت له حاجة إلى أهله قضى حاجته ثم ينام فإن كان عند النداء الأول جنبا وثب فأفاض عليه الماء وإن لم يكن جنبا توضأ للصلاة ثم صلى ركعتين. (متفق عليه)

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাত্রের প্রথমাংশে ঘুমাতেন, আর শেষাংশে জেগে থাকতেন। এরপর তিনি যদি তাঁর কোন স্ত্রীর নিকট যাওয়া দরকার মনে করতেন যেতেন। এরপর আবার ঘুমিয়ে যেতেন। তিনি যদি ফজরের (ফজরের) পূর্বে আযানের সময় অপবিত্র অবস্থায় থাকতেন, উঠে যেতেন। নিজের শরীরে পানি ঢেলে নিতেন। আর অপবিত্র অবস্থায় না থাকলে ফাজ্‌রের (ফজরের) সলাতের জন্যে উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করতেন। (ফজরের) দু’ রাক্‘আত (সলাত) আদায় করে নিতেন। (বুখারী, মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ > দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ১২২৭

عن أبي أمامة قال: قال رسول الله ﷺ: «عليكم بقيام الليل فإنه دأب الصالحين قبلكم وهو قربة لكم إلى ربكم ومكفرة للسيئات ومنهاة عن الإثم» . رواه الترمذي

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন : তোমাদের জন্যে ক্বিয়ামুল লায়ল (তাহাজ্জুদের সলাত) আদায় করা আবশ্যক। কারণ এটা তোমাদের পূর্বের নেক লোকদের অভ্যাস। (তাছাড়াও এ) ক্বিয়ামূল লায়ল আল্লাহর নৈকট্য লাভ আর পাপের কাফ্‌ফারাহ্‌। তোমাদেরকে পাপ থেকেও (এ ক্বিয়ামুল লায়ল) ফিরিয়ে রাখে। (তিরমিযী) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১২২৮

وعن أبي سعيد الخدري قال: قال رسول الله ﷺ: «ثلاثة يضحك الله إليهم الرجل إذا قام بالليل يصلى والقوم إذا صفوا في الصلاة والقوم إذا صفوا فى قتال العدو». رواه في شرح السنة

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন : তিন প্রকার লোকদের প্রতি নজর করে আল্লাহ তা’আলা হাসেন (অর্থাৎ তাদের ওপর খুশি হন)। ঐ লোক, যে রাতে উঠে (তাহাজ্জুদের) সলাত আদায় করে। (দ্বিতীয়) ঐ লোক, যারা সলাতে কাতারবন্ধি হয়ে দাঁড়ায়। (তৃতীয়) ঐ লোকজন, যারা (দ্বীনের) দুশমনদের সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য কাতারবদ্ধ হয়ে দাঁড়ায়। (শারহুস্‌ সুন্নাহ্‌) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১২২৯

وعن عمرو بن عبسة قال: قال رسول الله ﷺ: أقرب ما يكون الرب من العبد في جوف الليل الاخر فإن استطعت أن تكون ممن يذكر الله فى تلك الساعة فكن . رواه الترمذي وقال: هذا حديث حسن صحيح غريب إسنادا

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেন : আল্লাহ তা’আলা শেষ রাতেই বান্দার বেশী নিকটতম হন। তাই সে সময় তোমরা আল্লাহর যিক্‌রকারীদের মাঝে শামীল হওয়ার চেষ্টা করতে যদি পারো অবশ্যই করো। (তিরমিযী; তিনি বলেছেন, এ হাদীসটি হিসেবে হাসান সহীহ, সানাদগত দিক থেকে গরীব) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৩০

وعن أبي هريرة قال: قال رسول الله ﷺ: «رحم الله رجلا قام من الليل فصلى وأيقظ امرأته فصلت فإن أبت نضح في وجهها الماء. رحم الله امرأة قامت من الليل فصلت وأيقظت زوجها فصلى فإن أبى نضحت في وجهه الماء» . رواه أبو داود والنسائي

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন : আল্লাহ তা’আলা ঐ লোকের ওপর রহমাত নাযিল করুন যে রাতে উঠে তাহাজ্জুদের সলাত আদায় করে। আবার নিজের স্ত্রীকেও সলাতের জন্যে জাগায়। যদি স্ত্রী না উঠে তাহলে তাঁর মুখে পানি ছিটিয়ে দেয়। আল্লাহ ঐ মহিলার প্রতিও রহমাত করেন যে রাত্রে উঠে তাহাজ্জদের সলাত আদায় করে। আবার তাঁর স্বামীকেও তাহাজ্জুদের সলাত আদায়ের জন্য উঠায়। যদি স্বামী ঘুম থেকে না উঠে তাহলে সে তাঁর মুখে পানি ছিটে দেয়। (আবূ দাঊদ, নাসায়ী) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৩১

وعن أبي أمامة قال: قيل: يا رسول الله أي الدعاء أسمع؟ قال: «جوف الليل الاخر ودبر الصلوات المكتوبات» . رواه الترمذي

তিনি বলেন, প্রশ্ন করা হলো, হে আল্লাহর রসূল! কোন সময়ের দু’আ আল্লাহর নিকট বেশি কবূল হয়। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, মাঝরাতের শেষ ভাগের দু’আ। আর ফার্‌য সলাতের পরের দু’আ। (তিরমিযী) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৩২

وعن أبي مالك الأشعري قال: قال رسول الله ﷺ: «إن في الجنة غرفا يرى ظاهرها من باطنها وباطنها من ظاهرها أعدها الله لمن ألان الكلام وأطعم الطعام وتابع الصيام وصلى بالليل والناس نيام» . رواه البيهقي في شعب الإيمان

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন : জান্নাতে এমন সব কক্ষ আছে যার বাইরের জিনিস ভেতর থেকে আর ভেতরের জিনিস বাইরে থেকে দেখা যায়। আর এ বালাখানা আল্লাহ তা’আলা ঐসব ব্যক্তির জন্যে তৈরি করে রেখেছেন, যারা অন্য ব্যক্তির সঙ্গে নরম কথা বলে। (গরীব-মিসকীনকে) খাবার দেয়। প্রায়ই (নাফ্‌ল) সওম পালন করে। রাত্রে এমন সময় (তাহাজ্জুদের) সলাত আদায় করে যখন অনেক মানুষ ঘুমিয়ে থাকে। (বায়হাক্বীর শু’আবুল ঈমান) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৩৩

وروى الترمذي عن علي نحوه وفي روايته: «لمن أطاب الكلام

ইমাম তিরমিযীও এ ধরনের বর্ণনা ‘আলী (রাঃ) হতে নকল করেছেন। কিন্তু এদের সূত্রে ‘কোমল কথা বলে’-এর স্থানে ‘মধুর কথা বলে’ উদ্ধুত হয়েছে। উভয় বাক্যের অর্থ একই।।[১]


🔄 লোড হচ্ছে...
ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية