মিশকাতুল মাসাবিহ > দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ১২১৪
وعن عائشة رضي الله عنها قالت: كان رسول الله ﷺ إذا استيقظ من الليل قال: «لا إله إلا أنت سبحانك اللهم وبحمدك أستغفرك لذنبى وأسألك رحمتك اللهم زدني علما ولا تزغ قلبى بعد إذ هديتنى وهب لي من لدنك رحمة إنك أنت الوهاب» . رواه أبو داود
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রাত্রে ঘুম থেকে জেগে হয়ে উঠলে বলতেন, “লা- ইলা-হা ইল্লা- আন্তা সুব্হা-নাকা, আল্ল-হুম্মা ওয়াবি হাম্দিকা আসতাগ্ফিরুকা লিযাম্বি, ওয়া আস্আলুকা রহমাতাকা, আল্ল-হুম্মা যিদ্নী ‘ইলমা-, ওয়ালা- তুযিগ ক্বল্বি বা’দা ইয হাদায়তানী, ওয়া হাব্লী মিল্লাদুন্কা রহমাতান, ইন্নাকা আন্তাল ওয়াহ্হা-ব। ” (আবূ দাঊদ) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১২১৫
وعن معاذ بن جبل قال: قال رسول الله ﷺ: «ما من مسلم يبيت على ذكر طاهرا فيتعار من الليل فيسأل الله خيرا إلا أعطاه إياه» . رواه أحمد وأبو داود
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন : যে মুসলিম রাত্রে পাক-পবিত্র অবস্থায় আল্লাহর যিক্র করে ঘুমিয়ে যায়, তারপর রাত্রে জেগে উঠে আল্লাহর নিকট কল্যাণ কামনা করে, আল্লাহ তাকে (দুনিয়া ও আখিরাতে) অবশ্যই কল্যাণ দান করেন। (আহ্মাদ, আবূ দাঊদ) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১২১৬
وعن شريق الهوزني قال: دخلت على عائشة فسألتها: بم كان رسول الله ﷺ يفتتح إذا هب من الليل فقالت: سألتنى عن شيء ما سألني عنه أحد قبلك كان إذا هب من الليل كبر عشرا وحمد الله عشرا وقال: «سبحان الله وبحمده عشرا» وقال: «سبحان الملك القدوس» عشرا واستغفر عشرا وهلل عشرا ثم قال: «اللهم إنى أعوذ بك من ضيق الدنيا وضيق يوم القيامة» عشرا ثم يفتتح الصلاة. رواه أبو داود
তিনি বলেন, আমি ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর নিকট গিয়ে প্রশ্ন করেছি, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রাত্রে ঘুম থেকে সজাগ হওয়ার পর কোন জিনিস দিয়ে ‘ইবাদত আরম্ভ করতেন? ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বললেন, তুমি আমাকে এমন বিষয়ে জিজ্ঞেস করেছ যা তোমার পূর্বে আমাকে কোন লোক জিজ্ঞেস করেনি। তিনি রাত্রে ঘুম থেকে জেগে উঠার পর প্রথম দশবার ‘আল্ল-হু আকবার’ পাঠ করতেন। ‘আলহাম্দু লিল্লা-হ’ বলতেন দশবার। “সুব্হা-নাল্ল-হি ওয়া বিহাম্দিহী” পাঠ করতেন দশবার। “সুব্হা-নাল মালিকিল কুদ্দূস” পাঠ করতেন দশবার। ‘আস্তাগ্ফিরুল্ল-হ’ পাঠ করতেন দশবার। ‘লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ’ পাঠ করতেন দশবার। আর দশবার পড়তেন এ দু’আ, “আল্ল-হুম্মা ইন্নী আ’ঊযুবিকা মিন যীক্বিদ্ দুন্ইয়া ওয়া যীক্বি ইয়াওমিল ক্বিয়া-মাহ্”। এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (তাহাজ্জুদের) সলাত আরম্ভ করতেন। (আবূ দাঊদ) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ > তৃতীয় অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ১২১৭
عن أبي سعيد قال: كان رسول الله ﷺ إذا قام من الليل كبر ثم يقول: «سبحانك اللهم وبحمدك وتبارك اسمك وتعالى جدك ولا إله غيرك» ثم يقول: «الله أكبر كبيرا» ثم يقول: «أعوذ بالله السميع العليم من الشيطان الرجيم من همزه ونفخه ونفثه» . رواه الترمذي وأبو داود والنسائي وزاد أبو داود بعد قوله: «غيرك» ثم يقول: «لا إله إلا الله» ثلاثا وفي اخر الحديث: ثم يقرأ
রাত্রে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সলাতের জন্যে দাঁড়ালে প্রথমে আল্ল-হু আকবার বলে এ দু‘আ পড়তেন, ‘‘সুবহা-নাকা আল্ল-হুম্মা ওয়াবি হামদিকা, ওয়াতাবা- রকাসমুকা ওয়াতা‘আলা- জাদ্দুকা, ওয়ালা- ইলা-হা গয়রুকা’’। অর্থাৎ ‘‘হে আল্লাহ! তোমার পবিত্রতা ঘোষণা করছি। আমরা তোমার প্রশংসা করছি। তোমার নাম বারাকাতপূর্ণ। তোমার মর্যাদা অনেক উপরে। তুমি ব্যতীত কোন মা‘বূদ নেই।’’ তারপর তিনি বলতেন, ‘‘আল্ল-হু আকবার কাবীরা-’’। এরপর বলতেন, ‘‘আ‘ঊযু বিল্লা-হিস্ সামী‘উল ‘আলীম, মিনাশ্ শায়ত্ব-নির রজীম, মিন হামযিহী, ওয়া নাফখিহী ওয়া নাফসিহ’’। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ, নাসায়ী; ইমাম আবূ দাঊদের বর্ণনায় ‘‘গয়রুকা’’র পর এ কথাটুকু আছে, তারপর তিনি বলতেন, ‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ’ তিনবার। আর হাদীসের শেষের দিকের শব্দগুলো হলোঃ তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)‘‘আ‘ঊযু বিল্লা-হিস সামী‘ইল ‘আলীম’’ পড়ে) তারপর ক্বিরাআত (কিরআত) পড়া আরম্ভ করতেন।)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১২১৮
وعن ربيعة بن كعب الأسلمي قال: كنت أبيت عند حجرة النبي ﷺ فكنت أسمعه إذا قام من الليل يقول: «سبحان رب العلمين» الهوي ثم يقول: «سبحان الله وبحمده» الهوي. رواه النسائي وللترمذي نحوه وقال: هذا حديث حسن صحيح
তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কামরার নিকট রাত্র কাটিয়েছি। আমি তাঁর কণ্ঠস্বর শুনতে পেতাম। তিনি রাতে তাহাজ্জুদের সলাতের জন্যে সজাগ হলে বেশ লম্বা সময় পর্যন্ত ‘‘সুবহা-না রব্বিল ‘আ-লামীন’’ পাঠ করতেন। তারপর আবার লম্বা সময় ‘‘সুবহা-নাল্ল-হি ওয়াবি হামদিহী’’ পড়তেন। (নাসায়ী; তিরমিযী অনুরূপ বর্ণনা করে বলেছেন, হাসান সহীহ)[1