প্রথম অনুচ্ছেদ - মিশকাতুল মাসাবিহ | হাদীস | কুরআন ও সুন্নাহ

মিশকাতুল মাসাবিহ > প্রথম অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ১১৮৮

عن عائشة رضي الله عنها قالت: كان النبي ﷺ يصلى فيما بين أن يفرغ من صلاة العشاء إلى الفجر إحدى عشرة ركعة يسلم من كل ركعتين ويوتر بواحدة فيسجد السجدة من ذلك قدر ما يقرأ أحدكم خمسين اية قبل أن يرفع رأسه فإذا سكت المؤذن من صلاة الفجر وتبين له الفجر قام فركع ركعتين خفيفتين ثم اضطجع على شقه الأيمن حتى يأتيه المؤذن للإقامة فيخرج. (متفق عليه)

তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ‘ইশার সলাতের পর ফাজ্‌র পর্যন্ত প্রায়ই এগার রাক্‌’আত সলাত আদায় করতেন। প্রতি দু’ রাক্‌’আত সলাতের পর সলাম ফিরাতেন। শেষের দিকে এক রাক্‌’আত দ্বারা বিত্‌র আদায় করে নিতেন। আর এক রাক্‌’আতে এত লম্বা সাজদাহ্‌ করতেন যে, একজন লোক সাজদাহ্‌ হতে মাথা উঠাবার পূর্বে পঞ্চাশ আয়াত পড়ে ফেলতে পারত। এরপর মুয়ায্‌যিনের ফাজ্‌রের আযানের আওয়াজ শেষে ফাজ্‌রের সময় স্পষ্ট হলে তিনি দাঁড়াতেন। দু’ রাক্‌’আত হালকা সলাত আদায় করতেন। এরপর খুব স্বল্প সময়ের জন্যে ডান পাশে ফিরে শুয়ে যেতেন। এরপর মুয়ায্‌যিন ইক্বামাতের অনুমতির জন্যে তাঁর কাছে এলে তিনি মাসজিদের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে যেতেন। (বুখারী, মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১১৮৯

وعنها قالت: كان النبي ﷺ إذا صلى ركعتي الفجر فإن كنت مستيقظة حدثنى وإلا اضطجع. رواه مسلم

তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ফাজ্‌রের সুন্নাত সলাত (ঘরে) আদায়ের পর যদি আমি সজাগ হয়ে উঠতাম তাহলে আমার সঙ্গে কথাবার্তা বলতেন। আর আমি ঘুমে থাকলে তিনি শয়ন করতেন। (মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১১৯০

وعنها قالت: كان النبي ﷺ إذا صلى ركعتي الفجر اضطجع على شقه الأيمن. (متفق عليه)

তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ফাজ্‌রের দু’ রাক্‌’আত সুন্নাত সলাত আদায় করে নিজের ডান পাঁজরের উপর শুয়ে যেতেন। (বুখারী, মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১১৯১

وعنها قالت: كان النبي ﷺ يصلى من الليل ثلاث عشرة ركعة منها الوتر وركعتا الفجر. رواه مسلم

তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রাত্রে তের রাক্‌’আত সলাত আদায় করতেন। এর মাঝে বিত্‌র ও ফাজ্‌রের সুন্নাত দু’ রাক্‌’আতের অন্তর্ভুক্ত ছিল। (মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১১৯২

وعن مسروق قال: سألت عائشة عن صلاة رسول الله ﷺ بالليل. فقالت: سبع وتسع وإحدى عشر ركعة سوى ركعتي الفجر. رواه البخاري

তিনি বলেন, আমি ‘আয়িশাহ্‌ (রাঃ)-কে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর রাত্রের সলাতের ব্যাপারে প্রশ্ন করলাম। উত্তরে তিনি বললেন, ফাজ্‌রের সুন্নাত ব্যতীত কোন কোন সময় তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাত রাক্‌’আত, কোন কোন সময় নয় রাক্‌’আত, কোন কোন সময় এগার রাক্‌’আত আদায় করতেন। (বুখারী) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১১৯৩

وعن عائشة قالت: كان النبي ﷺ إذا قام من الليل ليصلي افتتح صلاته بركعتين خفيفتين. رواه مسلم

তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন রাত্রে (তাহাজ্জুদের) সলাত আদায়ের জন্য দাঁড়াতেন তখন তিনি তাঁর সলাতের আরম্ভ করতেন দু’ রাক্’আত সংক্ষিপ্ত সলাত দিয়ে। (মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১১৯৪

وعن أبي هريرة قال: قال رسول الله ﷺ: «إذا قام أحدكم من الليل فليفتح الصلاة بركعتين خفيفتين». رواه مسلم

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন : তোমাদের কেউ যখন রাত্রে সলাত আদায় করার জন্য ঘুম থেকে উঠে, সে যেন দু’ রাক্’আত সংক্ষিপ্ত সলাত দ্বারা (তার সলাত) আরম্ভ করে। (মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১১৯৫

وعن ابن عباس قال: بت عند خالتي ميمونة ليلة والنبي ﷺ عندها فتحدث رسول الله ﷺ مع أهله ساعة ثم رقد فلما كان ثلث الليل الاخر أو بعضه قعد فنظر إلى السماء فقرأ: ﴿إن في خلق السموت والأرض واختلاف الليل والنهار لأۤيات لأولي الألباب﴾ [آل عمران 3 : 190] حتى ختم السورة ثم قام إلى القربة فأطلق شناقها ثم صب في الجفنة ثم توضأ وضوءا حسنا بين الوضوءين لم يكثر وقد أبلغ فقام فصلى فقمت وتوضأت فقمت عن يساره فأخذ بأذني فأدارني عن يمينه فتتامت صلاته ثلاث عشرة ركعة ثم اضطجع فنام حتى نفخ وكان إذا نام نفخ فآذنه بلال بالصلاة فصلى ولم يتوضأ وكان في دعائه: «اللهم اجعل في قلبي نورا وفي بصرى نورا وفي سمعي نورا وعن يمينى نورا وعن يسارى نورا وفوقي نورا وتحتى نورا وأمامى نورا وخلفى نورا واجعل لى نورا» وزاد بعضهم: «وفي لساني نورا» وذكر: «وعصبى ولحمى ودمى وشعرى وبشرى). (متفق عليه) وفي رواية لهما: «واجعل في نفسي نورا وأعظم لي نورا» وفي أخرى لمسلم: «اللهم أعطنى نورا

তিনি বলেন, একবার আমি আমার খালা উম্মুল মু’মিনীন মায়মূনাহ্‌ (রাঃ)-এর বাড়ীতে রাত কাটালাম। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সে রাত্রে তাঁর বাড়ীতে ছিলেন। ‘ইশার পর কিছু সময় তিনি তাঁর স্ত্রী মায়মূনার সঙ্গে কথাবার্তা বলেন। তারপর শুয়ে পড়েন। রাত্রের শেষ তৃতীয়াংশে অথবা রাতের কিছু সময় অবশিষ্ট থাকতে তিনি সজাগ হলেন। আকাশের দিকে লক্ষ করে এ আয়াত পাঠ করলেন : [আরবি] অর্থাৎ “আকাশ ও জমিন সৃষ্টি করা, রাত ও দিনের ভিন্নতার (কখনো অন্ধকার কখনো আলোকিত, কখনো গরম কখনো শীত, কখনো বড়ো কখনো ছোট) মাঝে রয়েছে জ্ঞানীদের জন্যে আল্লাহর নিদর্শন”-(সূরাহ্‌ আলি ‘ইমরান ৩ : ১৯০) তিনি সূরাটি শেষ পর্যন্ত পাঠ করেন। তারপর উঠে তিনি পাত্রের কাছে গেলেন। এর বাঁধন খুললেন। পাত্রে পানি ঢাললেন। তারপর দু’ উযূর মাঝে মধ্যম ধরনের ভাল উযূ করলেন। হাদীস বর্ণনাকারী বলেন, (মধ্যম ধরনের উযূর অর্থ) খুব অল্প পানি খরচ করলেন। তবে শরীরে দরকারী পানি পৌঁছিয়েছেন। তারপর তিনি দাঁড়িয়ে সলাত আদায় করতে লাগলেন। (এসব দেখে) আমি নিজেও উঠলাম। অতঃপর উযূ করে তাঁর বাম পাশে দাঁড়িয়ে গেলাম। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার কান ধরে তাঁর বাম পাশ থেকে ঘুরিয়ে এনে আমাকে তাঁর ডান পাশে দাঁড় করালেন। তার তের রাক্’আত সলাত আদায় করা শেষ হলে তিনি ঘুমিয়ে পড়লেন। শুয়ে পড়লে তিনি নাক ডাকতেন। তাই তাঁর নাক ডাকা শুরু হলো। ইতোমধ্যে বেলাল এসে সলাত প্রস্তুতির ঘোষণা দিলেন। তিনি সলাত আদায় করালেন। কোন উযূ করলেন না। তার দু’আর মাঝে ছিল, “আল্ল-হুম্মাজ্‌’আল ফী ক্বলবী নূরাওঁ ওয়াফী বাসারী নূরাওঁ ওয়াফী সাম্‌’ঈ নূরাওঁ ওয়া’আই ইয়ামীনী নূরাওঁ ওয়া’আই ইয়াসা-রী নূরাওঁ ওয়া ফাওক্বী নূরাওঁ ওয়া তাহ্‌তী নূরাওঁ ওয়া আমা-মী নূরাওঁ ওয়া খলফী নূরাওঁ ওয়াজ্‌’আল্‌ লী নূরা-” (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমার হৃদয়ে, আমার চোখে, আমার কানে, আমার ডানে, আমার বামে, আমার উপরে, আমার নিচে, আমার সম্মুখে, আমার পেছনে নূর দিয়ে ভরে দাও। আমার জন্যে কেবল নূরই নূর সৃষ্টি করে দাও।) কোন কোন বর্ণনাকারী এ শব্দগুলোও নকল করেছেন, “ওয়াফী লিসা-নী নূরা-” (অর্থাৎ- আমার জিহবায় নূর পয়দা করে দাও)। (অন্য বর্ণনায় এ শব্দগুলোও) উল্লেখ করেছেন, “ওয়া ‘আসাবী ওয়া লাহ্‌মী ওয়াদামী ওয়া শা’রী ওয়া বাশারী” (অর্থাৎ- আমার শিরা উপশিরায়, আমার গোশতে, আমার রক্তে, আমার পশমে, আমার চামড়ায় নূর তৈরী করে দাও)। (বুখারী, মুসলিম) বুখারী ও মুসলিমেরই আর এক বিবরণে এ শব্দগুলোও আছে, “ওয়াজ্‌’আল ফী নাফ্‌সী নূরাওঁ ওয়া আ’যিম লী নূরা-” (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমার মনের মধ্যে নূর সৃষ্টি করে দাও এবং আমার মাঝে নূর বাড়িয়ে দাও)। মুসলিমের এক বিবরণে আছে, “আল্ল-হুম্মা আ’ত্বিনী নূরা-” (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! তুমি আমাকে নূর দান করো)। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১১৯৬

وعنه: أنه رقد عند رسول الله ﷺ فاستيقظ فتسوك وتوضأ وهو يقول: ﴿إن في خلق السموت والأرض واختلاف الليل والنهار لأۤيات لأولي الألباب﴾ [آل عمران 3 : 190]. حتى ختم السورة ثم قام فصلى ركعتين أطال فيهما القيام والركوع والسجود ثم انصرف فنام حتى نفخ ثم فعل ذلك ثلاث مرات ست ركعات كل ذلك يستاك ويتوضأ ويقرأ هؤلاء الايات ثم أوتر بثلاث. رواه مسلم

তিনি এক রাতে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট শুইলেন। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রাত্রে জাগলেন। মিসওয়াক করলেন ও উযূ করলেন। তারপর এ আয়াত পাঠ করলেন, ইন্না ফী খালকিস সামা-ওয়া-তি ওয়াল আরযি..... সূরার শেষ পর্যন্ত। এরপর তিনি দাঁড়ালেন, অতঃপর দু’ রাক্’আত সলাত আদায় করলেন। সলাতে তিনি বেশ লম্বা ক্বিয়াম, রুকূ’ ও সাজদাহ্‌ করলেন। সলাত শেষে তিনি ঘুমিয়ে গেলেন ও নাক ডাকতে শুরু করলেন। এ রকম তিনি তিনবার করলেন। তিনবারে তিনি ছয় রাক্’আত সলাত আদায় করলেন। প্রত্যেকবার তিনি মিসওয়াক করলেন, উযূ করলেন। ঐ আয়াতগুলোও পাঠ করলেন। সর্বশেষ বিত্‌রের তিন রাক্‌’আত সলাত আদায় করলেন। (মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১১৯৭

وعن زيد بن خالد الجهني أنه قال: لأرمقن صلاة رسول الله ﷺ الليلة فصلى ركعتين خفيفتين ثم صلى ركعتين طويلتين طويلتين طويلتين ثم صلى ركعتين وهما دون اللتين قبلهما ثم صلى ركعتين وهما دون اللتين قبلهما ثم صلى ركعتين وهما دون اللتين قبلهما [ثم صلى ركعتين وهما دون اللتين قبلهما] ثم أوتر فذلك ثلاث عشرة ركعة. رواه مسلم قوله: ثم صلى ركعتين وهما دون اللتين قبلهما أربع مرات هكذا في صحيح مسلم وإفراده من كتاب الحميدى وموطأ مالك وسنن أبى داود وجامع الأصول

তিনি বলেন, আমি একবার ইচ্ছা করলাম, আজ রাত্রে আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সলাত দেখব। প্রথমে তিনি হালকা দু’ রাক্‌‘আত সলাত আদায় করলেন। তারপর দীর্ঘ দু’ রাক্‌‘আত সলাত আদায় করলেন দীর্ঘ দীর্ঘ দীর্ঘ করে। তারপর তিনি আরো দু’ রাক্‌‘আত সলাত আদায় করলেন যা পূর্বের দু’ রাক্‌‘আত থেকে কম লম্বা ছিল। তারপর আরো দু’ রাক্‌‘আত আদায় করলেন যা পূর্বের আদায় করা দু’ রাক্‌‘আত হতে কম দীর্ঘ ছিল। তারপর তিনি আরো দু’ রাক্‌‘আত যা আগে আদায় করা দু’ রাক্‌‘আত হতে কম লম্বা ছিল। তারপর আরো দু’ রাক্‌‘আত আদায় করলেন যা আগের আদায় করা দু’ ‘রাক্‌‘আত থেকে কম দীর্ঘ ছিল। এরপর তিনি বিত্‌র আদায় করলেন। এ মোট তের রাক্‌‘আত (সলাত) তিনি আদায় করলেন। (মুসলিম) আর যায়দ-এর কথা, অতঃপর তিনি দু’ রাক্‌‘আত আদায় করলেন যা প্রথমে আদায় করা দু’ রাক্‌‘আত থেকে কম লম্বা ছিল। সহীহ মুসলিমে ইমাম হুমায়দীর কিতাবে, মুয়াত্তা ইমাম মালিক, সুনানে আবূ দাঊদ এমনকি জামি‘উল উসূলসহ সব স্থানে চারবার উল্লেখ করা হয়েছে। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১১৯৮

وعن عائشة رضي الله عنها قالت: لما بدن رسول الله ﷺ وثقل كان أكثر صلاته جالسا. (متفق عليه)

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জীবনের শেষ প্রান্তে পৌঁছলে বার্ধক্যের কারণে তিনি ভারী হয়ে গেলেন। তখন তিনি অনেক সময়ে নাফ্‌ল সলাতগুলো বসে বসে আদায় করতেন। (বুখারী, মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১১৯৯

وعن عبد الله بن مسعود قال: لقد عرفت النظائر التي كان النبي ﷺ يقرن بينهن فذكر عشرين سورة من أول المفصل على تأليف ابن مسعود سورتين في ركعة اخرهن ﴿حم الدخان﴾ و ﴿عم يتساءلون﴾. (متفق عليه)

তিনি বলেন, যেসব সূরাহ্‌ পরস্পর একই রকমের ও যেসব সূরাকে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একসাথে করতেন আমি এগুলোকে জানি। তাই ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ তাঁর ক্রমিক অনুযায়ী বিশটি সূরাহ্‌ যা (তিওয়ালে) মুফাস্‌সালের প্রথমদিকে তা গুণে গুণে বলে দিয়েছেন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এ সূরাগুলোকে এভাবে একত্র করতেন যে, এক এক রাক্‌‘আতে দু’ দু’টি সূরাহ্‌ পাঠ করতেন। আর বিশটি সূরার শেষের দু’টি হলো, (৪৪ নং সূরাহ্‌) হা-মীম আদ্‌ দুখা-ন ও (৭৮ নং সূরাহ্‌) ‘আম্মা ইয়াতাসা-আলূন। (বুখারী, মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ > দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ১২০০

عن حذيفة: أنه رأى النبي ﷺ يصلى من الليل وكان يقول: «الله أكبر» ثلاثا «ذو الملكوت والجبروت والكبرياء والعظمة» ثم استفتح فقرأ البقرة ثم ركع فكان ركوعه نحوا من قيامه فكان يقول في ركوعه: «سبحان ربي العظيم» ثم رفع رأسه من الركوع فكان قيامه نحوا من ركوعه يقول: «لربي الحمد» ثم سجد فكان سجوده نحوا من قيامه فكان يقول في سجوده: «سبحان ربي الأعلى» ثم رفع رأسه من السجود وكان يقعد فيما بين السجدتين نحوا من سجوده وكان يقول: «رب اغفر لي رب اغفر لي» فصلى أربع ركعات قرأ فيهن (البقرة وآل عمران والنساء والمائدة أو الأنعام). شك شعبة) رواه أبو داود

তিনি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে রাত্রে (তাহাজ্জুদের) সলাত আদায় করতে দেখেছেন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তিনবার “আল্ল-হু আকবার” বলে এ কথা বলেছেন : “যুল মালাকূতি ওয়াল জাবারূতি ওয়াল কিবরিয়া-য়ি ওয়াল ‘আযামাতি’। তারপর তিনি সুব্‌হা-নাকা আল্ল-হুম্মা ওয়া বিহামদিকা পড়ে সূরাহ্‌ আল বাক্বারাহ্‌ পড়তেন। এরপর রুকূ‘ করতেন। তাঁর রুকূ‘ প্রায় ক্বিয়ামের মতো (দীর্ঘ) ছিল। রুকূ‘তে তিনি সুব্‌হা-না রব্বিআল ‘আযীম বলেছেন। তারপর রুকূ‘ থেকে মাথা উঠিয়ে প্রায় রুকূ‘ সমপরিমাণ সময় দাঁড়িয়েছেন। (এ সময়) তিনি বলতেন, ‘লিরব্বিয়াল হাম্‌দু’ অর্থাৎ সব প্রশংসা আমার রবের জন্যে। তারপর তিনি সাজদাহ্‌ করেছেন। তাঁর সাজদার সময়ও তাঁর ‘ক্বাওমার’ বরাবর ছিল। সাজদায় তিনি বলতেন, ‘সুব্‌হা-না রব্বিয়াল আ‘লা-। তারপর তিনি সাজদাহ্‌ হতে মাথা উঠালেন। তিনি উভয় সাজদার মাঝে সাজদার পরিমাণ সময় বসতেন। তিনি বলতেন, ‘রব্বিগ্‌ফির লী, ‘রব্বিগ্‌ফির লী’ হে আল্লাহ! আমাকে মাফ করো। হে আল্লাহ আমাকে মাফ করো। এভাবে তিনি চার রাক্‌‘আত (সলাত) আদায় করলেন। (এ চার রাক্‌‘আত সলাতে) সূরাহ্‌ আল বাক্বারাহ্‌, আ-লি ‘ইমরান, আন্‌-নিসা, আল মায়িদাহ্‌ অথবা আল আন্‌‘আম পড়তেন। এ হাদীসের একজন বর্ণনাকারী শু‘বার সন্দেহ তৈরি হয়েছে যে, হাদীসে শেষ সূরাহ্‌ আল মায়িদাহ্‌ উল্লেখ করা হয়েছে না সূরাহ্‌ আল আন্‌‘আম। (আবূ দাঊদ) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১২০১

وعن عبد الله بن عمرو بن العاص قال: قال رسول الله ﷺ: «من قام بعشر ايات لم يكتب من الغافلين ومن قام بمائة اية كتب من القانتين ومن قام بألف اية كتب من المقنطرين» . رواه أبو داود

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন : যে লোক দশটি আয়াত পাঠ করার সময় পর্যন্ত (সলাতে) ক্বিয়াম করবে তাকে ‘গাফিলীনের’ (আনুগত্যশীলের) মাঝে গণ্য করা হবে না। আর যে লোক একশত আয়াত পাঠ করার সময় পর্যন্ত ক্বিয়াম করে তার নাম ‘গাফিলীনের’ মাঝে লিখা হবে। আর যে লোক এক হাজার আয়াত পাঠ করার সময় পর্যন্ত দাঁড়াবে তার নাম ‘অধিক সওয়াব পাওয়ার লোকেদের’ মাঝে লিখা হবে। (আবূ দাঊদ) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১২০২

وعن أبي هريرة قال: كان قراءة النبي ﷺ بالليل يرفع طورا ويخفض طورا. رواه أبو داود

তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর রাত্রের সলাতের ক্বিরাআত বিভিন্ন রকমের হতো। কোন সময় তিনি শব্দ করে ক্বিরাআত পাঠ করতেন, আবার কোন সময় নিচু স্বরে। (আবূ দাঊদ)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১২০৩

وعن ابن عباس رضي الله عنهما قال: كانت قراءة النبي ﷺ على قدر ما يسمعه من في الحجرة وهو في البيت. رواه أبو داود

তিনি বলেন, স্বীয় বাড়ীতে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এমন আওয়াজে (সলাতে) ক্বিরাআত পাঠ করতেন যে, কামরার লোকেরা তা শুনতে পেত। (আবূ দাঊদ) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১২০৪

وعن أبي قتادة قال: إن رسول الله ﷺ خرج ليلة فإذا هو بأبي بكر يصلى يخفض من صوته ومر بعمر وهو يصلى رافعا صوته قال: فلما اجتمعا عند النبي ﷺ قال: «يا أبا بكر مررت بك وأنت تصلى تخفض صوتك» قال: قد أسمعت من ناجيت يا رسول الله وقال لعمر: «مررت بك وأنت تصلى رافعا صوتك» فقال: يا رسول الله أوقظ الوسنان وأطرد الشيطان فقال النبي ﷺ: «يا أبا بكر ارفع من صوتك شيئا» وقال لعمر: «اخفض من صوتك شيئا» . رواه أبو داود وروى الترمذي نحوه

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক রাত্রে বাইরে এসে আবূ বাক্‌রকে সলাতরত অবস্থায় পেলেন। তিনি নীচু শব্দে কুরআন পাঠ করছিলেন। এরপর তিনি ‘উমারের নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। ‘উমার (রাঃ) উচ্চ শব্দ করে কুরআন মাজীদ পাঠ করছিলেন। আবূ ক্বাতাদাহ্‌ বলেন, (সকালে) যখন আবূ বাক্‌র ও ‘উমার দু’জনে রসূলের খিদমাতে একত্র হলেন; তিনি বললেন, আবূ বাক্‌র! আজ রাত্রে আমি তোমার নিকট দিয়ে যাচ্ছিলাম। তুমি নীচুস্বরে কুরআন কারীম পড়ছিলে। আবূ বাক্‌র আবেদন করলেন, হে আল্লাহর রসূল! আমি যাঁর নিকট মুনাজাত করছিলাম, তাঁকেই জানাচ্ছিলাম। তারপর তিনি ‘উমারকে বললেন, হে ‘উমার! (আজ রাত্রে) আমি তোমার নিকট দিয়েও যাচ্ছিলাম। তুমি সলাতে উঁচু শব্দে কুরআন মাজীদ পাঠ করছিলে। ‘উমার আবেদন করলেন, হে আল্লাহর রসূল! আমি উঁচু শব্দে সলাত আদায় করে ঘুমে থাকা লোকগুলোকে সজাগ করছিলাম আর শায়ত্বনকে তাড়াচ্ছিলাম। রসূলুল্লাহ (দু’জনের কথা শুনে আবূ বাক্‌রকে) বললেন, আবূ বাক্‌র! তুমি তোমার শব্দকে আরো একটু উঁচু করবে। (‘উমারকে বললেন) ‘উমার! তুমি তোমার আওয়াজকে আরো একটু নীচু করবে। (আবূ দাঊদ, তিরমিযী) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১২০৫

وعن أبى ذر قال: قام رسول الله ﷺ حتى أصبح باية والاية: ﴿إن تعذبهم فإنهم عبادك وإن تغفر لهم فإنك أنت العزيز الحكيم﴾ [المائدة 5 : 118] رواه النسائي وابن ماجه

তিনি বলেন, (এক রাত্রে) রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাহাজ্জুদের সলাতে ভোর পর্যন্ত দাঁড়িয়ে একটি মাত্র আয়াত পড়তে থাকলেন, আয়াতটি এই “ইন তু‘আয্‌যিব হুম ফায়িন্নাহুম ‘ইবা-দুকা ওয়া ইন তাগ্‌ফির লাহুম ফায়িন্নাকা আন্‌তাল ‘আযীযুল হাকীম” অর্থাৎ “হে আল্লাহ! যদি তুমি তাদেরকে আযাব দাও তাহলে তারা তোমার বান্দা। আর যদি তুমি তাদেরকে মাফ করো, তাহলে তুমি সবচেয়ে শক্তিশালী ও প্রজ্ঞাময়”- (সূরাহ্‌ আল মায়িদাহ্‌ ৫ : ১১৮)। (নাসায়ী, ইবনু মাজাহ) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১২০৬

وعن أبي هريرة قال: قال رسول الله ﷺ: «إذا صلى أحدكم ركعتي الفجر فليضطجع على يمينه» . رواه الترمذي وأبو داود

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন : তোমাদের কেউ যখন ফাজ্‌রের দু’ রাক্‌‘আত (সুন্নাত) সলাত আদায় করবে। সে যেন (জামা‘আত আরম্ভ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত) ডান পাশে শুয়ে থাকে। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ) [১]


🔄 লোড হচ্ছে...
ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية