মিশকাতুল মাসাবিহ > তৃতীয় অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ১১৭৭
عن عمر قال: سمعت رسول الله ﷺ يقول: أربع ركعات قبل الظهر بعد الزوال تحسب بمثلهن في صلاة السحر. وما من شيء إلا وهو يسبح الله تلك الساعة ثم قرأ: ﴿يتفيأ ظلالهٗ عن اليمين والشمائل سجدا لله وهم داخرون﴾ [النحل 16 : 48]. رواه الترمذي والبيهقي في شعب الإيمان
তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে ইরশাদ করতে শুনেছি, তিনি বলেছেন : যুহরের পূর্বে সূর্য ঢলে যাওয়ার পর চার রাক্‘আত সলাত, তাহাজ্জুদের চার রাক্‘আত সলাত আদয় করার সমান। আর এ সময় সকল জিনিস আল্লাহ তা‘আলার পবিত্রতার ঘোষণা করে। তারপর তিনি (কুরআনের আয়াত) পড়লেন, “সকল জিনিসের ছায়া ডান দিক ও বাম দিক হতে আল্লাহ তা‘আলার জন্যে সাজদাহ্ করে ঝুঁকে থাকে। আর এর সবই বিনয়ী”- (সূরাহ্ আন্ নাহ্ল ১৬ : ৪৮)। (তিরমিযী, বায়হাক্বী ফী শু‘আবুল ঈমান) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১১৭৮
وعن عائشة قالت: ما ترك رسول الله ﷺ ركعتين بعد العصر عندى قط. (متفق عليه) وفي رواية للبخاري قالت: والذي ذهب به ما تركهما حتى لقي الله
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার নিকট (অর্থাৎ হুজরায়) কোন দিন ‘আস্রের পরে দু’ রাক্‘আত সলাত আদায় করা ছেড়ে দেননি। (বুখারী, মুসলিম)। বুখারীর এক সানাদের ভাষা হলো, তিনি [‘আয়িশাহ্ (রাঃ)] বলেছেন : ঐ আল্লাহর শপথ! যিনি রসূলের রূহপাক কবজ করেছেন। তিনি তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত এ দু’ রাক্‘আত সলাত ছেড়ে দেননি। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১১৭৯
وعن المختار بن فلفل قال: سألت أنس بن مالك عن التطوع بعد العصر فقال: كان عمر يضرب الأيدي على صلاة بعد العصر وكنا نصلى على عهد رسول الله ﷺ ركعتين بعد غروب الشمس قبل صلاة المغرب فقلت له: أكان رسول الله ﷺ يصليهما؟ قال: كان يرانا نصليهما فلم يأمرنا ولم ينهنا. رواه مسلم
তিনি বলেন। আমি আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-কে প্রশ্ন করেছিলাম, ‘আস্রের পর নাফ্ল সলাতের ব্যাপারে। তিনি (উত্তরে) বললেন। ‘উমার (রাঃ) ‘আস্রের পর নাফ্ল সলাত আদায়কারীদের হাতের উপর প্রহার করতেন। আমারা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগে সূর্য ডুবে যাওয়ার পর মাগরিবের সলাতের (ফার্যের) পূর্বে দু’ রাক্‘আত সলাত আদায় করতাম। (এ কথা শুনে) আমি আনাসকে প্রশ্ন করলাম। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-ও কি এ দু’ রাক্‘আত সলাত আদায় করতেন? তিনি বললেন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদেরক আদায় করতে দেখতেন। কিন্তু আদায় করতে বলতেন না। আবার বাধাও দিতেন না। (মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১১৮০
وعن أنس قال: كنا بالمدينة فإذا أذن المؤذن لصلاة المغرب ابتدروا السواري فركعوا ركعتين حتى إن الرجل الغريب ليدخل المسجد فيحسب أن الصلاة قد صليت من كثرة من يصليهما. رواه مسلم
তিনি বলেন, আমরা মাদীনায় ছিলাম। (এ সময়ে অবস্থা এমন ছিল যে, মুয়ায্যিন মাগরিবের আযান দিলে (কোন কোন সহাবা ও তাবি‘ঈ) মাসজিদের খূঁটির দিকে দৌঁড়াতেন আর দু’ রাক্‘আত সলাত আদায় করতে আরম্ভ করতেন। এমনকি কোন মুসাফির লোক মাসজিদে এসে অনেক লোককে একা একা সলাত আদায় করতে দেখে মনে করতেন (ফার্য) সলাত বুঝি সমাপ্ত হয়ে গেছে। আর লোকেরা এখন সুন্নাত পড়ছে। (মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১১৮১
وعن مرثد بن عبد الله قال: أتيت عقبة الجهني فقلت: ألا أعجبك من أبي تميم يركع ركعتين قبل صلاة المغرب؟ فقال عقبة: إنا كنا نفعله على عهد رسول الله ﷺ. قلت: فما يمنعك الآن؟ قال: الشغل. رواه البخاري
তিনি বলেন, আমি একবার ‘উক্ববাহ্ আল জুহানী (রাঃ) এর নিকট হাযির হয়ে বললাম। আমি কি আপনাকে আবূ তামীম আদ্ দারীর (তাবি‘ঈ) একটি বিষ্ময়কর ঘটনা শুনাব না? তিনি (আবূ তামীম আদ্ দারী) মাগরিবের সলাতের পূর্বে দু’ রাক্‘আত নাফ্ল সলাত আদায় করেন। তখন ‘উক্ববাহ্ বললেন, এ সলাত তো আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যামানায় আদায করতাম। তখন তিনি বললেন, তাহলে এ সলাত এখন আদায় করতে আপনাদেরকে বাধা দিচ্ছে কে? জবাবে তিনি বললেন (দুনিয়ার) কর্মব্যস্ততায়। (বুখারী) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১১৮২
وعن كعب بن عجرة قال: إن النبي ﷺ أتى مسجد بني عبد الأشهل فصلى فيه المغرب فلما قضوا صلاتهم رآهم يسبحون بعدها فقال: «هذه صلاة البيوت» . رواه أبو داود وفي رواية الترمذي والنسائي قام ناس يتنفلون فقال النبي ﷺ: «عليكم بهذه الصلاة في البيوت
তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (আনসার গোত্র) বানী ‘আবদুল আশহাল-এর মাসজিদে আসলেন এবং এখানে মাগরিবের সলাত আদায় করেছেন। সলাত সমাপ্ত করার পর তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কিছু মানুষকে নাফ্ল সলাত আদায় করতে দেখলেন। তিনি বললেন এসব (নাফ্ল) সলাত বাড়িতে পরার জন্য। (আবূ দাঊদ, তিরমিযী ও নাসায়ীর এক সূত্রে পাওয়া যায়, লোকেরা ফারয সলাত আদার করার পর নাফ্ল সলাত আদায়ের জন্যে দাঁড়ালে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ‘এসব সলাত তোমাদের বাড়ীতে আদায় করা উচিত’।) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১১৮৩
وعن ابن عباس قال: كان رسول الله ﷺ يطيل القراءة في الركعتين بعد المغرب حتى يتفرق أهل المسجد. رواه أبو داود
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মাগরিবের সলাতের শেষে (সুন্নাতের) দু’ রাক্‘আত সলাতে এত বড় ক্বিরাআত পড়তেন যে, লোকেরা তাদের সলাত শেষ করে (বাড়ী) চলে যেতেন। (আবূ দাঊদ) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১১৮৪
وعن مكحول يبلغ به أن رسول الله ﷺ قال: «من صلى بعد المغرب قبل أن يتكلم ركعتين وفي رواية أربع ركعات رفعت صلاته في عليين» . مرسلا
মাকহূল (রহঃ) এ হাদীসটির বর্ণনা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পর্যন্ত পৌঁছিয়েছেন। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন : যে লোক মাগরিবের সলাত আদায় করার পর কথাবার্তা বলার আগে দু’ রাক্‘আত। আর এক বর্ণনায় আছে, চার রাক্‘আত সলাত আদায় করবে, তার সলাত ‘ইল্লীয়্যিনে পৌঁছে দেয়া হয়। (হাদীসটি মুরসাল) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১১৮৫
وعن حذيفة نحوه وزاد فكان يقول: «عجلوا الركعتين بعد المغرب فإنهما ترفعان مع المكتوبة» رواهما رزين وروى البيهقي الزيادة عنه نحوها في شعب الإيمان
কিন্তু তাঁর বিবরণে এ শব্দগুলোও আছে যে, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করতেন : তোমরা মাগরিবের পরে দু’ রাক্‘আত (সুন্নাত) দ্রুত পড়ে নাও। এজন্য যে, এ দু’ রাক্‘আত সলাতও ফার্য সলাতের সঙ্গে উপরে (অর্থাৎ ‘ইল্লীয়্যিনে) পৌঁছে দেয়া হয়। এ উভয় হাদীসই রযীন বর্ণনা করেছেন, বায়হাক্বীর শু‘আবুল ঈমানেও এমনই বর্ণিত আছে। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১১৮৬
وعن عمرو بن عطاء قال: إن نافع بن جبير أرسله إلى السائب يسأله عن شيء رآه منه معاوية في الصلاة فقال: نعم صليت معه الجمعة في المقصورة فلما سلم الإمام قمت في مقامي فصليت فلما دخل أرسل إلي فقال: لا تعد لما فعلت إذا صليت الجمعة فلا تصلها بصلاة حتى تكلم أوتخرج فإن رسول الله ﷺ أمرنا بذلك أن لا نوصل بصلاة حتى نتكلم أو نخرج. رواه مسلم
তিনি বলেছেন, নাফি‘ ইবনু যুবায়র (রহঃ) তাঁকে সায়িব (রাঃ) এর নিকট পাঠিয়েছিলেন। তিনি যেন ঐসব জিনিস তাঁকে প্রশ্ন করেন যেসব জিনিস তাকে সলাতে আদায় করতে দেখে মু‘আবিয়াহ্ তা করতে বারণ করেছেন। [তাই আম্র (রহঃ) সায়িব (রাঃ)-এর নিকট গেলেন এবং তার থেকে এসব সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাইলেন।] তিনি বললেন, হ্যাঁ, একবার আমি ‘আমীরে মু‘আবিয়ার সঙ্গে মাক্সূরায় জুমু‘আর সলাত আদায় করেছি। ইমাম সালাম ফিরাবার পর আমি (ফার্য পড়ার স্থানেই) দাঁড়িয়ে গেলাম ও সুন্নাত সলাত আদায় করতে শুরু করলাম। (‘আমীরে মু‘আবিয়াহ্ সলাত শেষ করে নিজের বাড়ীতে চলে গেলেন)। যাওয়ার সময় তিনি এক লোককে, আমাকে বলার জন্যে বলে পাঠালেন যে, ঐ সময় (জুমু‘আহ্ আদায়ের সময়) তুমি যা করেছ ভবিষ্যতে তুমি যেন তা না করো। যখন তুমি জুমু‘আর সলাত আদায় করবে তখন ফার্য সলাতকে আর কোন সলাতর সঙ্গে মিশিয়ে ফেলবে না, যে পর্যন্ত না তুমি কোন কথাবার্তা বলো অথবা (মাসজিদ থেকে) বের হয়ে যাও। কারণ রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদেরকে আদেশ করেছেন, আমরা যেন এক সলাতকে আর সলাতের সঙ্গে মিশিয়ে না ফেলি, যতক্ষণ পর্যন্ত না কথাবার্তা বলি অথবা মাসজিদ থেকে বের হয়ে না যাই। (মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১১৮৭
وعن عطاء قال: كان ابن عمر إذا صلى الجمعة بمكة تقدم فصلى ركعتين ثم يتقدم فيصلى أربعا وإذا كان بالمدينة صلى الجمعة ثم رجع إلى بيتهفصلى ركعتين ولم يصل في المسجد فقيل له. فقال: كان رسول الله ﷺ يفعله. رواه أبو داود وفي رواية الترمذي قال: رأيت ابن عمر صلى بعد الجمعة ركعتين ثم صلى بعد ذلك أربعا
তিনি বলেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) যখন মাক্কায় জুমু’আর সলাত আদায় করতেন (তখন জুমু’আর ফার্য সলাত শেষ হবার পর) একটু সামনে এগিয়ে যেতেন এবং দু’ রাক্’আত সলাত আদায় করতেন। এরপর আবার সামনে এগিয়ে যেতেন ও চার রাক্’আত সলাত আদায় করতেন। আর তিনি যখন মাদীনাতে ছিলেন, জুমু’আর সলাতের ফার্য আদায় করে নিজের বাড়ীতে চলে যেতেন। ঘরে দু’ রাক্’আত সলাত আদায় করতেন, মাসজিদে (ফার্জ সলাত ব্যতীত কোন) সলাত আদায় করতেন না। এর কারণ সম্পর্কে তাঁকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এমনই করতেন। আবূ দাঊদ, আর তিরমিযীর বর্ণনার ভাষা হলো, ‘আত্বা বললেন, আমি ইবনু ‘উমারকে দেখেছি যে, তিনি জুমু’আর পরে দু’ রাক্’আত সলাত আদায় করে আবার চার রাক্’আত আদায় করতেন। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ > প্রথম অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ১১৮৮
عن عائشة رضي الله عنها قالت: كان النبي ﷺ يصلى فيما بين أن يفرغ من صلاة العشاء إلى الفجر إحدى عشرة ركعة يسلم من كل ركعتين ويوتر بواحدة فيسجد السجدة من ذلك قدر ما يقرأ أحدكم خمسين اية قبل أن يرفع رأسه فإذا سكت المؤذن من صلاة الفجر وتبين له الفجر قام فركع ركعتين خفيفتين ثم اضطجع على شقه الأيمن حتى يأتيه المؤذن للإقامة فيخرج. (متفق عليه)
তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ‘ইশার সলাতের পর ফাজ্র পর্যন্ত প্রায়ই এগার রাক্’আত সলাত আদায় করতেন। প্রতি দু’ রাক্’আত সলাতের পর সলাম ফিরাতেন। শেষের দিকে এক রাক্’আত দ্বারা বিত্র আদায় করে নিতেন। আর এক রাক্’আতে এত লম্বা সাজদাহ্ করতেন যে, একজন লোক সাজদাহ্ হতে মাথা উঠাবার পূর্বে পঞ্চাশ আয়াত পড়ে ফেলতে পারত। এরপর মুয়ায্যিনের ফাজ্রের আযানের আওয়াজ শেষে ফাজ্রের সময় স্পষ্ট হলে তিনি দাঁড়াতেন। দু’ রাক্’আত হালকা সলাত আদায় করতেন। এরপর খুব স্বল্প সময়ের জন্যে ডান পাশে ফিরে শুয়ে যেতেন। এরপর মুয়ায্যিন ইক্বামাতের অনুমতির জন্যে তাঁর কাছে এলে তিনি মাসজিদের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে যেতেন। (বুখারী, মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১১৮৯
وعنها قالت: كان النبي ﷺ إذا صلى ركعتي الفجر فإن كنت مستيقظة حدثنى وإلا اضطجع. رواه مسلم
তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ফাজ্রের সুন্নাত সলাত (ঘরে) আদায়ের পর যদি আমি সজাগ হয়ে উঠতাম তাহলে আমার সঙ্গে কথাবার্তা বলতেন। আর আমি ঘুমে থাকলে তিনি শয়ন করতেন। (মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১১৯০
وعنها قالت: كان النبي ﷺ إذا صلى ركعتي الفجر اضطجع على شقه الأيمن. (متفق عليه)
তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ফাজ্রের দু’ রাক্’আত সুন্নাত সলাত আদায় করে নিজের ডান পাঁজরের উপর শুয়ে যেতেন। (বুখারী, মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১১৯১
وعنها قالت: كان النبي ﷺ يصلى من الليل ثلاث عشرة ركعة منها الوتر وركعتا الفجر. رواه مسلم
তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রাত্রে তের রাক্’আত সলাত আদায় করতেন। এর মাঝে বিত্র ও ফাজ্রের সুন্নাত দু’ রাক্’আতের অন্তর্ভুক্ত ছিল। (মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১১৯২
وعن مسروق قال: سألت عائشة عن صلاة رسول الله ﷺ بالليل. فقالت: سبع وتسع وإحدى عشر ركعة سوى ركعتي الفجر. رواه البخاري
তিনি বলেন, আমি ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-কে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর রাত্রের সলাতের ব্যাপারে প্রশ্ন করলাম। উত্তরে তিনি বললেন, ফাজ্রের সুন্নাত ব্যতীত কোন কোন সময় তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাত রাক্’আত, কোন কোন সময় নয় রাক্’আত, কোন কোন সময় এগার রাক্’আত আদায় করতেন। (বুখারী) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১১৯৩
وعن عائشة قالت: كان النبي ﷺ إذا قام من الليل ليصلي افتتح صلاته بركعتين خفيفتين. رواه مسلم
তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন রাত্রে (তাহাজ্জুদের) সলাত আদায়ের জন্য দাঁড়াতেন তখন তিনি তাঁর সলাতের আরম্ভ করতেন দু’ রাক্’আত সংক্ষিপ্ত সলাত দিয়ে। (মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১১৯৪
وعن أبي هريرة قال: قال رسول الله ﷺ: «إذا قام أحدكم من الليل فليفتح الصلاة بركعتين خفيفتين». رواه مسلم
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন : তোমাদের কেউ যখন রাত্রে সলাত আদায় করার জন্য ঘুম থেকে উঠে, সে যেন দু’ রাক্’আত সংক্ষিপ্ত সলাত দ্বারা (তার সলাত) আরম্ভ করে। (মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১১৯৫
وعن ابن عباس قال: بت عند خالتي ميمونة ليلة والنبي ﷺ عندها فتحدث رسول الله ﷺ مع أهله ساعة ثم رقد فلما كان ثلث الليل الاخر أو بعضه قعد فنظر إلى السماء فقرأ: ﴿إن في خلق السموت والأرض واختلاف الليل والنهار لأۤيات لأولي الألباب﴾ [آل عمران 3 : 190] حتى ختم السورة ثم قام إلى القربة فأطلق شناقها ثم صب في الجفنة ثم توضأ وضوءا حسنا بين الوضوءين لم يكثر وقد أبلغ فقام فصلى فقمت وتوضأت فقمت عن يساره فأخذ بأذني فأدارني عن يمينه فتتامت صلاته ثلاث عشرة ركعة ثم اضطجع فنام حتى نفخ وكان إذا نام نفخ فآذنه بلال بالصلاة فصلى ولم يتوضأ وكان في دعائه: «اللهم اجعل في قلبي نورا وفي بصرى نورا وفي سمعي نورا وعن يمينى نورا وعن يسارى نورا وفوقي نورا وتحتى نورا وأمامى نورا وخلفى نورا واجعل لى نورا» وزاد بعضهم: «وفي لساني نورا» وذكر: «وعصبى ولحمى ودمى وشعرى وبشرى). (متفق عليه) وفي رواية لهما: «واجعل في نفسي نورا وأعظم لي نورا» وفي أخرى لمسلم: «اللهم أعطنى نورا
তিনি বলেন, একবার আমি আমার খালা উম্মুল মু’মিনীন মায়মূনাহ্ (রাঃ)-এর বাড়ীতে রাত কাটালাম। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সে রাত্রে তাঁর বাড়ীতে ছিলেন। ‘ইশার পর কিছু সময় তিনি তাঁর স্ত্রী মায়মূনার সঙ্গে কথাবার্তা বলেন। তারপর শুয়ে পড়েন। রাত্রের শেষ তৃতীয়াংশে অথবা রাতের কিছু সময় অবশিষ্ট থাকতে তিনি সজাগ হলেন। আকাশের দিকে লক্ষ করে এ আয়াত পাঠ করলেন : [আরবি] অর্থাৎ “আকাশ ও জমিন সৃষ্টি করা, রাত ও দিনের ভিন্নতার (কখনো অন্ধকার কখনো আলোকিত, কখনো গরম কখনো শীত, কখনো বড়ো কখনো ছোট) মাঝে রয়েছে জ্ঞানীদের জন্যে আল্লাহর নিদর্শন”-(সূরাহ্ আলি ‘ইমরান ৩ : ১৯০) তিনি সূরাটি শেষ পর্যন্ত পাঠ করেন। তারপর উঠে তিনি পাত্রের কাছে গেলেন। এর বাঁধন খুললেন। পাত্রে পানি ঢাললেন। তারপর দু’ উযূর মাঝে মধ্যম ধরনের ভাল উযূ করলেন। হাদীস বর্ণনাকারী বলেন, (মধ্যম ধরনের উযূর অর্থ) খুব অল্প পানি খরচ করলেন। তবে শরীরে দরকারী পানি পৌঁছিয়েছেন। তারপর তিনি দাঁড়িয়ে সলাত আদায় করতে লাগলেন। (এসব দেখে) আমি নিজেও উঠলাম। অতঃপর উযূ করে তাঁর বাম পাশে দাঁড়িয়ে গেলাম। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার কান ধরে তাঁর বাম পাশ থেকে ঘুরিয়ে এনে আমাকে তাঁর ডান পাশে দাঁড় করালেন। তার তের রাক্’আত সলাত আদায় করা শেষ হলে তিনি ঘুমিয়ে পড়লেন। শুয়ে পড়লে তিনি নাক ডাকতেন। তাই তাঁর নাক ডাকা শুরু হলো। ইতোমধ্যে বেলাল এসে সলাত প্রস্তুতির ঘোষণা দিলেন। তিনি সলাত আদায় করালেন। কোন উযূ করলেন না। তার দু’আর মাঝে ছিল, “আল্ল-হুম্মাজ্’আল ফী ক্বলবী নূরাওঁ ওয়াফী বাসারী নূরাওঁ ওয়াফী সাম্’ঈ নূরাওঁ ওয়া’আই ইয়ামীনী নূরাওঁ ওয়া’আই ইয়াসা-রী নূরাওঁ ওয়া ফাওক্বী নূরাওঁ ওয়া তাহ্তী নূরাওঁ ওয়া আমা-মী নূরাওঁ ওয়া খলফী নূরাওঁ ওয়াজ্’আল্ লী নূরা-” (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমার হৃদয়ে, আমার চোখে, আমার কানে, আমার ডানে, আমার বামে, আমার উপরে, আমার নিচে, আমার সম্মুখে, আমার পেছনে নূর দিয়ে ভরে দাও। আমার জন্যে কেবল নূরই নূর সৃষ্টি করে দাও।) কোন কোন বর্ণনাকারী এ শব্দগুলোও নকল করেছেন, “ওয়াফী লিসা-নী নূরা-” (অর্থাৎ- আমার জিহবায় নূর পয়দা করে দাও)। (অন্য বর্ণনায় এ শব্দগুলোও) উল্লেখ করেছেন, “ওয়া ‘আসাবী ওয়া লাহ্মী ওয়াদামী ওয়া শা’রী ওয়া বাশারী” (অর্থাৎ- আমার শিরা উপশিরায়, আমার গোশতে, আমার রক্তে, আমার পশমে, আমার চামড়ায় নূর তৈরী করে দাও)। (বুখারী, মুসলিম) বুখারী ও মুসলিমেরই আর এক বিবরণে এ শব্দগুলোও আছে, “ওয়াজ্’আল ফী নাফ্সী নূরাওঁ ওয়া আ’যিম লী নূরা-” (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমার মনের মধ্যে নূর সৃষ্টি করে দাও এবং আমার মাঝে নূর বাড়িয়ে দাও)। মুসলিমের এক বিবরণে আছে, “আল্ল-হুম্মা আ’ত্বিনী নূরা-” (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! তুমি আমাকে নূর দান করো)। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১১৯৬
وعنه: أنه رقد عند رسول الله ﷺ فاستيقظ فتسوك وتوضأ وهو يقول: ﴿إن في خلق السموت والأرض واختلاف الليل والنهار لأۤيات لأولي الألباب﴾ [آل عمران 3 : 190]. حتى ختم السورة ثم قام فصلى ركعتين أطال فيهما القيام والركوع والسجود ثم انصرف فنام حتى نفخ ثم فعل ذلك ثلاث مرات ست ركعات كل ذلك يستاك ويتوضأ ويقرأ هؤلاء الايات ثم أوتر بثلاث. رواه مسلم
তিনি এক রাতে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট শুইলেন। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রাত্রে জাগলেন। মিসওয়াক করলেন ও উযূ করলেন। তারপর এ আয়াত পাঠ করলেন, ইন্না ফী খালকিস সামা-ওয়া-তি ওয়াল আরযি..... সূরার শেষ পর্যন্ত। এরপর তিনি দাঁড়ালেন, অতঃপর দু’ রাক্’আত সলাত আদায় করলেন। সলাতে তিনি বেশ লম্বা ক্বিয়াম, রুকূ’ ও সাজদাহ্ করলেন। সলাত শেষে তিনি ঘুমিয়ে গেলেন ও নাক ডাকতে শুরু করলেন। এ রকম তিনি তিনবার করলেন। তিনবারে তিনি ছয় রাক্’আত সলাত আদায় করলেন। প্রত্যেকবার তিনি মিসওয়াক করলেন, উযূ করলেন। ঐ আয়াতগুলোও পাঠ করলেন। সর্বশেষ বিত্রের তিন রাক্’আত সলাত আদায় করলেন। (মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১১৯৭
وعن زيد بن خالد الجهني أنه قال: لأرمقن صلاة رسول الله ﷺ الليلة فصلى ركعتين خفيفتين ثم صلى ركعتين طويلتين طويلتين طويلتين ثم صلى ركعتين وهما دون اللتين قبلهما ثم صلى ركعتين وهما دون اللتين قبلهما ثم صلى ركعتين وهما دون اللتين قبلهما [ثم صلى ركعتين وهما دون اللتين قبلهما] ثم أوتر فذلك ثلاث عشرة ركعة. رواه مسلم قوله: ثم صلى ركعتين وهما دون اللتين قبلهما أربع مرات هكذا في صحيح مسلم وإفراده من كتاب الحميدى وموطأ مالك وسنن أبى داود وجامع الأصول
তিনি বলেন, আমি একবার ইচ্ছা করলাম, আজ রাত্রে আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সলাত দেখব। প্রথমে তিনি হালকা দু’ রাক্‘আত সলাত আদায় করলেন। তারপর দীর্ঘ দু’ রাক্‘আত সলাত আদায় করলেন দীর্ঘ দীর্ঘ দীর্ঘ করে। তারপর তিনি আরো দু’ রাক্‘আত সলাত আদায় করলেন যা পূর্বের দু’ রাক্‘আত থেকে কম লম্বা ছিল। তারপর আরো দু’ রাক্‘আত আদায় করলেন যা পূর্বের আদায় করা দু’ রাক্‘আত হতে কম দীর্ঘ ছিল। তারপর তিনি আরো দু’ রাক্‘আত যা আগে আদায় করা দু’ রাক্‘আত হতে কম লম্বা ছিল। তারপর আরো দু’ রাক্‘আত আদায় করলেন যা আগের আদায় করা দু’ ‘রাক্‘আত থেকে কম দীর্ঘ ছিল। এরপর তিনি বিত্র আদায় করলেন। এ মোট তের রাক্‘আত (সলাত) তিনি আদায় করলেন। (মুসলিম) আর যায়দ-এর কথা, অতঃপর তিনি দু’ রাক্‘আত আদায় করলেন যা প্রথমে আদায় করা দু’ রাক্‘আত থেকে কম লম্বা ছিল। সহীহ মুসলিমে ইমাম হুমায়দীর কিতাবে, মুয়াত্তা ইমাম মালিক, সুনানে আবূ দাঊদ এমনকি জামি‘উল উসূলসহ সব স্থানে চারবার উল্লেখ করা হয়েছে। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১১৯৮
وعن عائشة رضي الله عنها قالت: لما بدن رسول الله ﷺ وثقل كان أكثر صلاته جالسا. (متفق عليه)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জীবনের শেষ প্রান্তে পৌঁছলে বার্ধক্যের কারণে তিনি ভারী হয়ে গেলেন। তখন তিনি অনেক সময়ে নাফ্ল সলাতগুলো বসে বসে আদায় করতেন। (বুখারী, মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১১৯৯
وعن عبد الله بن مسعود قال: لقد عرفت النظائر التي كان النبي ﷺ يقرن بينهن فذكر عشرين سورة من أول المفصل على تأليف ابن مسعود سورتين في ركعة اخرهن ﴿حم الدخان﴾ و ﴿عم يتساءلون﴾. (متفق عليه)
তিনি বলেন, যেসব সূরাহ্ পরস্পর একই রকমের ও যেসব সূরাকে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একসাথে করতেন আমি এগুলোকে জানি। তাই ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ তাঁর ক্রমিক অনুযায়ী বিশটি সূরাহ্ যা (তিওয়ালে) মুফাস্সালের প্রথমদিকে তা গুণে গুণে বলে দিয়েছেন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এ সূরাগুলোকে এভাবে একত্র করতেন যে, এক এক রাক্‘আতে দু’ দু’টি সূরাহ্ পাঠ করতেন। আর বিশটি সূরার শেষের দু’টি হলো, (৪৪ নং সূরাহ্) হা-মীম আদ্ দুখা-ন ও (৭৮ নং সূরাহ্) ‘আম্মা ইয়াতাসা-আলূন। (বুখারী, মুসলিম) [১]