দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মিশকাতুল মাসাবিহ | হাদীস | কুরআন ও সুন্নাহ

মিশকাতুল মাসাবিহ > দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ১১৬৭

عن أم حبيبة قالت: سمعت رسول الله ﷺ يقول: «من حافظ على اربع ركعات قبل الظهر وأربع بعدها حرمه الله على النار» . رواه أحمد والترمذي وأبو داود والنسائي وابن ماجه

তিনি বলেন। আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, যে লোক যুহরের (ফার্‌য সলাতের) পূর্বে চার রাক্‘আত, এরপর চার রাক্‘আত সলাত আদায় করে। আল্লাহ তার ওপর জাহান্নামের আগুন হারাম করে দেন। (আহ্‌মাদ, তিরমিযী, আবূ দাঊদ, নাসায়ী, ইবনু মাজাহ) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১১৬৮

وعن أبي أيوب الأنصاري قال: قال رسول الله ﷺ: «أربع قبل الظهر ليس فيهن تسليم تفتح لهن أبواب السماء» . رواه أبو داود وابن ماجه

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন : যুহরের (ফার্‌য) সলাতের পূর্বের চার রাক্‘আত সলাত, যার মাঝে সালাম ফিরানো হয় না, সলাতের জন্যে (তা আদায়কারীর জন্যে) আসমানের দরজা খুলে দেয়া হয়। (আবূ দাঊদ, ইবনু মাজাহ) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১১৬৯

وعن عبد الله بن السائب قال: كان رسول الله ﷺ يصلى أربعا بعد أن تزول الشمس قبل الظهر وقال: «إنها ساعة تفتح فيها أبواب السماء فأحب أن يصعد لى فيها عمل صالح» . رواه الترمذي

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সূর্য হেলে যাওয়ার পর যুহরের সলাতের পূর্বে চার রাক্‘আত সলাত আদায় করতেন। তিনি বলতেন, এটা এমন এক সময় যখন (নেক ‘আমাল উপরের দিয়ে যাওয়ার জন্যে) আকাশের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয়। তাই এ মুহূর্তে আমার নেক ‘আমালগুলো উপরের দিকে যাক এটা আমি চাই। (তিরমিযী) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১১৭০

وعن ابن عمر قال: قال رسول الله ﷺ: «رحم الله امرءا صلى قبل العصر أربعا» . رواه أحمد والترمذي

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন : আল্লাহ তা‘আলা ঐ লোকের ওপর রহ্‌মাত বর্ষণ করেন, যে লোক ‘আস্‌রের (ফার্‌য সলাতের) পূর্বে চার রাক্‘আত সলাত আদায় করে। (আহ্‌মাদ, তিরমিযী) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১১৭১

وعن علي قال: كان رسول الله ﷺ يصلى قبل العصر أربع ركعات يفصل بينهن بالتسليم على الملائكة المقربين ومن تبعهم من المسلمين والمؤمنين. رواه الترمذي

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ‘আস্‌রের সলাতের (ফার্‌যের) পূর্বে চার রাক্‘আত সলাত আদায় করতেন। এ চার রাক্‘আতের মধ্যখানে সালাম ফিরানোর দ্বারা নিকটবর্তী মালাক (ফেরেশ্‌তা) এবং তাদের অনুসারী মুসলিম ও মু’মিনীনদের মাঝে পার্থক্য করতেন। (তিরমিযী) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১১৭২

وعن علي قال: كان رسول الله ﷺ يصلى قبل العصر ركعتين. رواه أبو داود

তিনি বলেছেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ‘আসরের পূর্বে দু’ রাক্‘আত সলাত আদায় করতেন। (আবূ দাঊদ) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১১৭৩

وعن أبي هريرة قال: قال رسول الله ﷺ: «من صلى بعد المغرب ست ركعات لم يتكلم فيما بينهن بسوء عدلن له بعبادة ثنتي عشرة سنة» . رواه الترمذي وقال: هذا حديث غريب لا نعرفه إلا من حديث عمر بن أبي خثعم وسمعت محمد بن إسماعيل يقول: هو منكر الحديث وضعفه جدا

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ যে লোক মাগরিবের সলাতের পর ছয় রাক্’আত সলাত আদায় করবে এবং এর মধ্যখানে কেন অশালীন কথাবার্তা বলবে না। তাহলে এ (ছয়) রাক্‘আতের সাওয়াব তার জন্যে বারো বছরের ‘ইবাদাতের সাওয়াবের পরিমাণ হয়ে যাবে। (তিরমিযী; ইমাম তিরমিযী এ হাদীসটিকে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, এ হাদীসটি গরীব। কারণ এ হাদীস ‘উমার ইবনু খাস্‘আম-এর সূত্র ছাড়া আর কোন সূত্রে জানা যায়নি। আর আমি মুহাম্মাদ ইবনু ইসমা‘ঈল বুখারীকে বলতে শুনেছি যে, ‘উমার ইবনু খাস‘আম মুনকারুল হাদীস। তাছাড়াও তিনি হাদীসটিকে যথেষ্ট য‘ঈফ বলেছেন।) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১১৭৪

وعن عائشة قالت: قال رسول الله ﷺ: «من صلى بعد المغرب عشرين ركعة بنى الله له بيتا في الجنة» . رواه الترمذي

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন : যে লোক মাগরিবের সলাত শেষের পর বিশ রাক্‘আত সলাত আদায় করবে। আল্লাহ তা‘আলা তার জন্যে জান্নাতে একটি বাড়ী বানাবেন। (তিরমিযী) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১১৭৫

وعنها قالت: ما صلى رسول الله ﷺ العشاء قط فدخل علي إلا صلى أربع ركعات أو ست ركعات. رواه أبو داود

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যে সময়ই ‘ইশার সলাত আদায় করে আমার নিকট আসতেন, চার অথবা ছয় রাক্‘আত সুন্নাত সলাত অবশ্যই আদায় করতেন। (আবূ দাঊদ) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১১৭৬

وعن ابن عباس قال: قال رسول الله ﷺ: «إدبار النجوم الركعتان قبل الفجر وأدبار السجود الركعتان بعد المغرب» . رواه الترمذي

তিনি বলেন, রসূলূল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন : ‘ইদবা-রুন নুজূম’, দ্বারা ফাজ্‌রের পূর্বে দু’ রাক্‘আত সলাত ও ‘ইদ্‌বারুস সুজূদ’ দ্বারা মাগরিবের ফার্‌য সলাতের পরের দু’ রাক্‘আত সলাত বুঝানো হয়েছে। (তিরমিযী) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ > তৃতীয় অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ১১৭৭

عن عمر قال: سمعت رسول الله ﷺ يقول: أربع ركعات قبل الظهر بعد الزوال تحسب بمثلهن في صلاة السحر. وما من شيء إلا وهو يسبح الله تلك الساعة ثم قرأ: ﴿يتفيأ ظلالهٗ عن اليمين والشمائل سجدا لله وهم داخرون﴾ [النحل 16 : 48]. رواه الترمذي والبيهقي في شعب الإيمان

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে ইরশাদ করতে শুনেছি, তিনি বলেছেন : যুহরের পূর্বে সূর্য ঢলে যাওয়ার পর চার রাক্‘আত সলাত, তাহাজ্জুদের চার রাক্‘আত সলাত আদয় করার সমান। আর এ সময় সকল জিনিস আল্লাহ তা‘আলার পবিত্রতার ঘোষণা করে। তারপর তিনি (কুরআনের আয়াত) পড়লেন, “সকল জিনিসের ছায়া ডান দিক ও বাম দিক হতে আল্লাহ তা‘আলার জন্যে সাজদাহ্ করে ঝুঁকে থাকে। আর এর সবই বিনয়ী”- (সূরাহ্‌ আন্ নাহ্‌ল ১৬ : ৪৮)। (তিরমিযী, বায়হাক্বী ফী শু‘আবুল ঈমান) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১১৭৮

وعن عائشة قالت: ما ترك رسول الله ﷺ ركعتين بعد العصر عندى قط. (متفق عليه) وفي رواية للبخاري قالت: والذي ذهب به ما تركهما حتى لقي الله

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার নিকট (অর্থাৎ হুজরায়) কোন দিন ‘আস্‌রের পরে দু’ রাক্‘আত সলাত আদায় করা ছেড়ে দেননি। (বুখারী, মুসলিম)। বুখারীর এক সানাদের ভাষা হলো, তিনি [‘আয়িশাহ্ (রাঃ)] বলেছেন : ঐ আল্লাহর শপথ! যিনি রসূলের রূহপাক কবজ করেছেন। তিনি তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত এ দু’ রাক্‘আত সলাত ছেড়ে দেননি। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১১৭৯

وعن المختار بن فلفل قال: سألت أنس بن مالك عن التطوع بعد العصر فقال: كان عمر يضرب الأيدي على صلاة بعد العصر وكنا نصلى على عهد رسول الله ﷺ ركعتين بعد غروب الشمس قبل صلاة المغرب فقلت له: أكان رسول الله ﷺ يصليهما؟ قال: كان يرانا نصليهما فلم يأمرنا ولم ينهنا. رواه مسلم

তিনি বলেন। আমি আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-কে প্রশ্ন করেছিলাম, ‘আস্‌রের পর নাফ্‌ল সলাতের ব্যাপারে। তিনি (উত্তরে) বললেন। ‘উমার (রাঃ) ‘আস্‌রের পর নাফ্‌ল সলাত আদায়কারীদের হাতের উপর প্রহার করতেন। আমারা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগে সূর্য ডুবে যাওয়ার পর মাগরিবের সলাতের (ফার্‌যের) পূর্বে দু’ রাক্‘আত সলাত আদায় করতাম। (এ কথা শুনে) আমি আনাসকে প্রশ্ন করলাম। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-ও কি এ দু’ রাক্‘আত সলাত আদায় করতেন? তিনি বললেন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদেরক আদায় করতে দেখতেন। কিন্তু আদায় করতে বলতেন না। আবার বাধাও দিতেন না। (মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১১৮০

وعن أنس قال: كنا بالمدينة فإذا أذن المؤذن لصلاة المغرب ابتدروا السواري فركعوا ركعتين حتى إن الرجل الغريب ليدخل المسجد فيحسب أن الصلاة قد صليت من كثرة من يصليهما. رواه مسلم

তিনি বলেন, আমরা মাদীনায় ছিলাম। (এ সময়ে অবস্থা এমন ছিল যে, মুয়ায্‌যিন মাগরিবের আযান দিলে (কোন কোন সহাবা ও তাবি‘ঈ) মাসজিদের খূঁটির দিকে দৌঁড়াতেন আর দু’ রাক্‘আত সলাত আদায় করতে আরম্ভ করতেন। এমনকি কোন মুসাফির লোক মাসজিদে এসে অনেক লোককে একা একা সলাত আদায় করতে দেখে মনে করতেন (ফার্‌য) সলাত বুঝি সমাপ্ত হয়ে গেছে। আর লোকেরা এখন সুন্নাত পড়ছে। (মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১১৮১

وعن مرثد بن عبد الله قال: أتيت عقبة الجهني فقلت: ألا أعجبك من أبي تميم يركع ركعتين قبل صلاة المغرب؟ فقال عقبة: إنا كنا نفعله على عهد رسول الله ﷺ. قلت: فما يمنعك الآن؟ قال: الشغل. رواه البخاري

তিনি বলেন, আমি একবার ‘উক্ববাহ্ আল জুহানী (রাঃ) এর নিকট হাযির হয়ে বললাম। আমি কি আপনাকে আবূ তামীম আদ্ দারীর (তাবি‘ঈ) একটি বিষ্ময়কর ঘটনা শুনাব না? তিনি (আবূ তামীম আদ্ দারী) মাগরিবের সলাতের পূর্বে দু’ রাক্‘আত নাফ্‌ল সলাত আদায় করেন। তখন ‘উক্ববাহ্ বললেন, এ সলাত তো আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যামানায় আদায করতাম। তখন তিনি বললেন, তাহলে এ সলাত এখন আদায় করতে আপনাদেরকে বাধা দিচ্ছে কে? জবাবে তিনি বললেন (দুনিয়ার) কর্মব্যস্ততায়। (বুখারী) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১১৮২

وعن كعب بن عجرة قال: إن النبي ﷺ أتى مسجد بني عبد الأشهل فصلى فيه المغرب فلما قضوا صلاتهم رآهم يسبحون بعدها فقال: «هذه صلاة البيوت» . رواه أبو داود وفي رواية الترمذي والنسائي قام ناس يتنفلون فقال النبي ﷺ: «عليكم بهذه الصلاة في البيوت

তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (আনসার গোত্র) বানী ‘আবদুল আশহাল-এর মাসজিদে আসলেন এবং এখানে মাগরিবের সলাত আদায় করেছেন। সলাত সমাপ্ত করার পর তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কিছু মানুষকে নাফ্‌ল সলাত আদায় করতে দেখলেন। তিনি বললেন এসব (নাফ্‌ল) সলাত বাড়িতে পরার জন্য। (আবূ দাঊদ, তিরমিযী ও নাসায়ীর এক সূত্রে পাওয়া যায়, লোকেরা ফারয সলাত আদার করার পর নাফ্‌ল সলাত আদায়ের জন্যে দাঁড়ালে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ‘এসব সলাত তোমাদের বাড়ীতে আদায় করা উচিত’।) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১১৮৩

وعن ابن عباس قال: كان رسول الله ﷺ يطيل القراءة في الركعتين بعد المغرب حتى يتفرق أهل المسجد. رواه أبو داود

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মাগরিবের সলাতের শেষে (সুন্নাতের) দু’ রাক্‘আত সলাতে এত বড় ক্বিরাআত পড়তেন যে, লোকেরা তাদের সলাত শেষ করে (বাড়ী) চলে যেতেন। (আবূ দাঊদ) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১১৮৪

وعن مكحول يبلغ به أن رسول الله ﷺ قال: «من صلى بعد المغرب قبل أن يتكلم ركعتين وفي رواية أربع ركعات رفعت صلاته في عليين» . مرسلا

মাকহূল (রহঃ) এ হাদীসটির বর্ণনা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পর্যন্ত পৌঁছিয়েছেন। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন : যে লোক মাগরিবের সলাত আদায় করার পর কথাবার্তা বলার আগে দু’ রাক্‘আত। আর এক বর্ণনায় আছে, চার রাক্‘আত সলাত আদায় করবে, তার সলাত ‘ইল্লীয়্যিনে পৌঁছে দেয়া হয়। (হাদীসটি মুরসাল) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১১৮৫

وعن حذيفة نحوه وزاد فكان يقول: «عجلوا الركعتين بعد المغرب فإنهما ترفعان مع المكتوبة» رواهما رزين وروى البيهقي الزيادة عنه نحوها في شعب الإيمان

কিন্তু তাঁর বিবরণে এ শব্দগুলোও আছে যে, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করতেন : তোমরা মাগরিবের পরে দু’ রাক্‘আত (সুন্নাত) দ্রুত পড়ে নাও। এজন্য যে, এ দু’ রাক্‘আত সলাতও ফার্‌য সলাতের সঙ্গে উপরে (অর্থাৎ ‘ইল্লীয়্যিনে) পৌঁছে দেয়া হয়। এ উভয় হাদীসই রযীন বর্ণনা করেছেন, বায়হাক্বীর শু‘আবুল ঈমানেও এমনই বর্ণিত আছে। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১১৮৬

وعن عمرو بن عطاء قال: إن نافع بن جبير أرسله إلى السائب يسأله عن شيء رآه منه معاوية في الصلاة فقال: نعم صليت معه الجمعة في المقصورة فلما سلم الإمام قمت في مقامي فصليت فلما دخل أرسل إلي فقال: لا تعد لما فعلت إذا صليت الجمعة فلا تصلها بصلاة حتى تكلم أوتخرج فإن رسول الله ﷺ أمرنا بذلك أن لا نوصل بصلاة حتى نتكلم أو نخرج. رواه مسلم

তিনি বলেছেন, নাফি‘ ইবনু যুবায়র (রহঃ) তাঁকে সায়িব (রাঃ) এর নিকট পাঠিয়েছিলেন। তিনি যেন ঐসব জিনিস তাঁকে প্রশ্ন করেন যেসব জিনিস তাকে সলাতে আদায় করতে দেখে মু‘আবিয়াহ্ তা করতে বারণ করেছেন। [তাই আম্‌র (রহঃ) সায়িব (রাঃ)-এর নিকট গেলেন এবং তার থেকে এসব সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাইলেন।] তিনি বললেন, হ্যাঁ, একবার আমি ‘আমীরে মু‘আবিয়ার সঙ্গে মাক্‌সূরায় জুমু‘আর সলাত আদায় করেছি। ইমাম সালাম ফিরাবার পর আমি (ফার্‌য পড়ার স্থানেই) দাঁড়িয়ে গেলাম ও সুন্নাত সলাত আদায় করতে শুরু করলাম। (‘আমীরে মু‘আবিয়াহ্ সলাত শেষ করে নিজের বাড়ীতে চলে গেলেন)। যাওয়ার সময় তিনি এক লোককে, আমাকে বলার জন্যে বলে পাঠালেন যে, ঐ সময় (জুমু‘আহ্ আদায়ের সময়) তুমি যা করেছ ভবিষ্যতে তুমি যেন তা না করো। যখন তুমি জুমু‘আর সলাত আদায় করবে তখন ফার্‌য সলাতকে আর কোন সলাতর সঙ্গে মিশিয়ে ফেলবে না, যে পর্যন্ত না তুমি কোন কথাবার্তা বলো অথবা (মাসজিদ থেকে) বের হয়ে যাও। কারণ রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদেরকে আদেশ করেছেন, আমরা যেন এক সলাতকে আর সলাতের সঙ্গে মিশিয়ে না ফেলি, যতক্ষণ পর্যন্ত না কথাবার্তা বলি অথবা মাসজিদ থেকে বের হয়ে না যাই। (মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১১৮৭

وعن عطاء قال: كان ابن عمر إذا صلى الجمعة بمكة تقدم فصلى ركعتين ثم يتقدم فيصلى أربعا وإذا كان بالمدينة صلى الجمعة ثم رجع إلى بيتهفصلى ركعتين ولم يصل في المسجد فقيل له. فقال: كان رسول الله ﷺ يفعله. رواه أبو داود وفي رواية الترمذي قال: رأيت ابن عمر صلى بعد الجمعة ركعتين ثم صلى بعد ذلك أربعا

তিনি বলেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) যখন মাক্কায় জুমু’আর সলাত আদায় করতেন (তখন জুমু’আর ফার্‌য সলাত শেষ হবার পর) একটু সামনে এগিয়ে যেতেন এবং দু’ রাক্‌’আত সলাত আদায় করতেন। এরপর আবার সামনে এগিয়ে যেতেন ও চার রাক্‌’আত সলাত আদায় করতেন। আর তিনি যখন মাদীনাতে ছিলেন, জুমু’আর সলাতের ফার্‌য আদায় করে নিজের বাড়ীতে চলে যেতেন। ঘরে দু’ রাক্’আত সলাত আদায় করতেন, মাসজিদে (ফার্‌জ সলাত ব্যতীত কোন) সলাত আদায় করতেন না। এর কারণ সম্পর্কে তাঁকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এমনই করতেন। আবূ দাঊদ, আর তিরমিযীর বর্ণনার ভাষা হলো, ‘আত্বা বললেন, আমি ইবনু ‘উমারকে দেখেছি যে, তিনি জুমু’আর পরে দু’ রাক্‌’আত সলাত আদায় করে আবার চার রাক্‌’আত আদায় করতেন। [১]


🔄 লোড হচ্ছে...
ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية