প্রথম অনুচ্ছেদ - মিশকাতুল মাসাবিহ | হাদীস | কুরআন ও সুন্নাহ

মিশকাতুল মাসাবিহ > প্রথম অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ১১৩৩

وعن أبى هريرة ؓ قال: قال رسول الله ﷺ: «يصلون لكم فإن أصابوا فلكم وإن أخطئوا فلكم وعليهم» . رواه البخاري

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেনঃ তোমাদেরকে ইমাম সলাত আদায় করাবেন। বস্তুতঃ যদি সলাত ভালোভাবে পড়ায় তবে তোমাদের জন্যে সফলতা আছে (তার জন্যেও আছে)। আর সে যদি কোন ভুল করে ফেলে তাহলে তোমরা সাওয়াব পাবে। তার জন্যে সে পাপী হবে। (বুখারী) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১১৩৪

عن عثمان بن أبي العاص قال: اخر ما عهد إلى رسول الله ﷺ: إذا أممت قوما فأخف بهم الصلاة» . رواه مسلم وفى رواية له: أن رسول الله ﷺ قال له: «أم قومك» . قال: قلت يا رسول الله إنى أجد في نفسى شيئا. قال: ادنه . فأجلسنى بين يديه ثم وضع كفه فى صدرى بين ثديي ثم قال: تحول . فوضعها فى ظهرى بين كتفي ثم قال: أم قومك فمن أم قوما فليخفف فإن فيهم الكبير وإن فيهم المريض وإن فيهم الضعيف وإن فيهم ذاالحاجة فإذا صلى أحدكم وحده فليصل كيف شاء

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে যে শেষ ওয়াসিয়্যাত করেছেন তা ছিল, যখন তোমরা মানুষের (সলাতের) ইমামতি করবে, করে সলাত পড়াবে। (মুসলিম) সহীহ মুসলিমের আর এক সুত্রে পাওয়া যায়, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘উসমানকে বলেছেনঃ নিজ জাতির ইমামতি করো। ‘উসমান বললেন, আমি আবেদন করলাম, আল্লাহ্‌র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আমার মনে খটকা লাগে। এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বল্লেনঃ আমার নিকট আসো। আমি তাঁর নিকট আসলে তিনি আমাকে তাঁর সামনে বসালেন। আমার সিনার উপর দু‘ছাতির মাঝে তাঁর নিজের হাত রেখে বললেন। এদিকে পিঠ ফিরাও। আমি তাঁর দিকে আমার পিঠ ফিরালাম। তিনি আমার পিঠে দু‘কাধের উপর হাত রাখলেন এবং বললেনঃ যাও, নিজের জাতির সলাতে ইমামতি করো। (মনে রাখবে) যখন কোন লোক কোন জাতির ইমামতি করবে তার উচিত ছোট করে সলাত আদায় করানো। কারণ সলাতে বৃদ্ধ লোক থাকে। অসুস্থ মানুষ থাকে। দুর্বল ও প্রয়োজনের তাড়া থাকে এমন লোক উপস্থিত হয়। যখন কেউ একা একা সলাত আদায় করবে সে যেভাবে (যত দীর্ঘ) চায় আদায় করবে। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১১৩৫

وعن ابن عمر قال: كان رسول الله ﷺ يأمرنا بالتخفيف ويؤمنا بـ (الصافات). رواه النسائي

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে হালকা করে সলাত আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন। আর তিনি আমাদেরকে যখন সলাত আদায় করাতেন সাফফাত সূরাহ দিয়ে সলাত আদায় করাতেন। (নাসায়ী) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ > প্রথম অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ১১৩৬

عن البراء بن عازب قال: كنا نصلى خلف النبي ﷺ فإذا قال: «سمع الله لمن حمده» . لم يحن أحد منا ظهره حتى يضع النبي ﷺ جبهته على الأرض. (متفق عليه)

তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পেছনে সলাত আদায় করতাম। বস্তুতঃ তিনি যখন ‘সামি‘আল্ল-হু লিমান হামিদাহ’ পাঠ করতেন, তখন যে পর্যন্ত তিনি সাজদার জন্য তাঁর কপাল মাটিতে না লাগাতেন, আমাদের কেউ নিজ পিঠ ঝুকাতেন না। (বুখারী, মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১১৩৭

وعن أنس قال: صلى بنا رسول الله ﷺ ذات يوم فلما قضى صلاته أقبل علينا بوجهه فقال: «أيها الناس إني إمامكم فلا تسبقونى بالركوع ولا بالسجود ولا بالقيام ولا بالانصراف: فإنى أراكم أمامى ومن خلفى». رواه مسلم

তিনি বলেন, একদিন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে সালাত আদায় করালেন। সালাত শেষে তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বসলেন এবং বললেন, হে লোক সকল! আমি তোমাদের ইমাম। তাই তোমরা রুকু করার সময়, সাজদাহ্‌ করার সময়, দাঁড়াবার সময়, সালাম ফিরাবার সময় আমার আগে যাবে না, আমি নিশ্চয়ই তোমাদেরকে আমার সম্মুখ দিয়ে পেছন দিক দিয়ে দেখে থাকি। (মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১১৩৮

وعن أبي هريرة قال: قال رسول الله ﷺ: «لا تبادروا الإمام إذا كبر فكبروا وإذا قال: ﴿ولا الضالين﴾. فقولوا: امين وإذا ركع فاركعوا وإذا قال: سمع الله لمن حمده فقولوا: اللهم ربنا لك الحمد» إلا أن البخاري لم يذكر: «وإذا قال: ﴿ولا الضالين﴾». (متفق عليه)

তিনি বলেন, রাসুলুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, তোমরা ইমামের পূর্বে কোন ‘আমাল করো না। ইমাম তাকবির দিলে তোমরাও তাকবির দিবে। ইমাম যখন বলবেন ‘ওয়ালায যোল্লীন’, তোমরা বলবে ‘আমীন’। ইমাম রুকু করলে তোমরাও রুকু করবে। ইমাম যখন বলবে ‘সামি আল্ল-হু লিমান হামিদাহ্‌’, তোমরা বলবে ‘আল্লা- হুম্মা রব্বানা- লাকাল হাম্‌দু।“ বুখারী, মুসলিম; তবে ইমাম বুখারী “ওয়াইযা-ক্বা-লা ওয়ালায্‌ যোল্লীন” উল্লেখ করেননি। (মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১১৩৯

وعن أنس: أن رسول الله ﷺ ركب فرسا فصرع عنه فجحش شقه الأيمن فصلى صلاة من الصلوات وهو قاعد فصلينا وراءه قعودا فلما انصرف قال: «إنما جعل الإمام ليؤتم به فإذا صلى قائما فصلوا قياما فإذا ركع فاركعوا وإذا رفع فارفعوا وإذا قال سمع الله لمن حمده فقولوا ربنا ولك الحمد وإذا صلى قائما فصلوا قياما وإذا صلى جالسا فصلوا جلوسا أجمعون قال الحميدي: قوله: «إذا صلى جالسا فصلوا جلوسا» هو في مرضه القديم ثم صلى بعد ذلك النبي ﷺ جالسا والناس خلفه قيام لم يأمرهم بالقعود وإنما يؤخذ بالآخر فالاخر من فعل النبي ﷺ. هذا لفظ البخاري. واتفق مسلم إلى أجمعون. وزاد في رواية: «فلا تختلفوا عليه وإذا سجد فاسجدوا». (متفق عليه)

তিনি বলেন: একবার রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কোন এক ভ্রমণের সময় ঘোড়ার উপর আরোহী ছিলেন। ঘটনাক্রমে তিনি নীচে পড়ে গেলেন। ফলে তার ডান পাজরের চামড়া উঠে গিয়ে চরম ব্যথা পেলেন (দাড়িয়ে সলাত আদায় করতে পারছিলেন না)। তাই তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বসে বসে আমাদেরকে (পাচ বেলা সলাতের) কোন এক বেলা সলাত আদায় করালেন। আমরাও তার পেছনে বসে বসেই সলাত আদায় করলাম। সলাত শেষ করে তিনি আমাদেরকে লক্ষ্য করে বললেন, ইমাম এ জন্যেই নির্ধারিত করা হয়েছে যেন তোমরা তার অনুকরণ করো। তাই ইমাম দাড়িয়ে সলাত আদায় করালে তোমরাও দাড়িয়ে সলাত আদায় করবে। ইমাম যখন রুকু করবে, তোমরাও রুকু করবে। ইমাম রুকু হতে উঠলে তোমরাও রুকু হতে উঠবে। ইমাম সামি'আল্ল-হু লিমান হামিদাহ বললে, তোমরা রব্বানা- লাকাল হামদু’ বলবে। আর যখন ইমাম বসে সলাত আদায় করাবে, তোমরা সব মুক্তাদী বসে সলাত আদায় করবে। ইমাম হুমায়দী (রহঃ) বলেন, ‘ইমাম বসে সলাত আদায় করালে’ তোমরাও বসে সলাত আদায় করবে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এ নির্দেশ, তার প্রথম অসুস্থের সময়ের নির্দেশ ছিল। পরে মৃত্যুশয্যায় (ইস্তিকালের একদিন আগে) রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বসে বসে সলাত আদায় করিয়েছেন। মুক্তাদীগণ তার পেছনে দাড়িয়ে সলাত আদায় করেছেন। তিনি তাদেরকে বসে সলাত আদায়ের নির্দেশ দেননি। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এ শেষ আমালের ওপরই আমাল করা হয়। এগুলো হলো বুখারীর ভাষা। এর ওপর ইমাম মুসলিম একমত পোষণ করেছেন। মুসলিমে আরো একটু বেশী বর্ণনা করা হয়েছে। তিনি বলেছেন, ইমামের বিপরীত কোন আমাল করো না। ইমাম সাজদাহ করলে তোমরাও সাজদাহ করবে। (বুখারী)” [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১১৪০

وعن عائشة قالت: لما ثقل رسول الله ﷺ جاء بلال يوذنه بالصلاة فقال: «مروا أبا بكر أن يصلي بالناس» فصلى أبو بكر تلك الأيام ثم إن النبي ﷺ وجد في نفسه خفة فقام يهادى بين رجلين ورجلاه يخطان في الأرض حتى دخل المسجد فلما سمع أبو بكر حسه ذهب يتأخر فأومأ إليه رسول الله ﷺ أن لا يتأخر فجاء حتى يجلس عن يسار أبي بكر فكان أبو بكر يصلى قائما وكان رسول الله ﷺ يصلى قاعدا يقتدى أبو بكر بصلاة رسول الله ﷺ والناس يقتدون بصلاة أبي بكر. (متفق عليه) وفي رواية لهما: يسمع أبو بكر الناس التكبير

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) খুব অসুস্থ হয়ে পড়লেন। এমন সময় একদিন বিলাল (রাঃ) সলাত আদায়ের জন্যে রসূলুল্লাহকে (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ডাকতে আসলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: আবু বকরকে লোকদের সলাত আদায় করাতে বলো। ফলে আবু বাকর ও সে কয়দিনের (সতর বেলা) সলাত আদায় করালেন। অতঃপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একদিন একটু সুস্থতা মনে করলেন। তিনি দু’ সহাবীর কাধে ভর দিয়ে দু’পা মাটির সাথে হেঁচড়িয়ে সলাতের জন্যে মসজিদে আসলেন। মসজিদে প্রবেশ করলে আবু বকর (রাঃ) রসূলের (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আগমন টের পেলেন ও পিছু হটতে আরম্ভ করলেন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তা দেখে সেখান থেকে সরে না আসার জন্যে আবু বাকরকে ইঙ্গিত করলেন। এরপর তিনি আসলেন এবং আবু বাকরের বাম পাশে বসে গেলেন। আর আবু বাকর দাড়িয়ে সলাত আদায় করছিলেন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ৰসে বসে সলাত আদায় করলেন। আবু বাকর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সলাতের ইকতিদা করছেন। আর লোকেরা আবু বকরের সলাতের ইকতেদা করে চলছেন। (বুখারী, মুসলিম; উভয়ের আর এক বর্ণনা সূত্রে আছে, আবু বকর লোকদেরকে রসূলের তাকবীর স্বজোড়ে শুনাতে লাগলেন )” [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১১৪১

وعن أبى هريرة ؓ قال: قال رسول الله ﷺ: أما يخشى الذى يرفع رأسه قبل الإمام أن يحول الله رأسه رأس حمار. (متفق عليه)

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে লোক ইমামের পূর্বে (রুকু’ সাজদাহ্‌ হতে) মাথা উঠায় সে কি এ বিষয়ের ভয় করে না যে, আল্লাহ্‌ তা’আলা তার মাথাকে পরিবর্তন করে গাধার মাথায় পরিণত করবেন। (বুখারী, মুসলিম) [১]


🔄 লোড হচ্ছে...
ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية