মিশকাতুল মাসাবিহ > প্রথম অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ১১২৯
عن أنس قال: ما صليت وراء إمام قط أخف صلاة ولا أتم صلاة من النبي ﷺ وإن كان ليسمع بكاء الصبي فيخفف مخافة أن تفتن أمه. (متفق عليه)
তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর চেয়ে আর কোন ইমামের পেছনে এতো হালকা ও পরিপূর্ণ সলাত আদায় করিনি। তিনি যদি (সলাতের সময়) কোন শিশুর কান্নার শব্দ পেতেন, মা চিন্তিত হয়ে পড়বে মনে করে সলাত হালকা করে ফেলতেন। (বুখারী, মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১১৩০
وعن أبي قتادة قال: قال رسول الله ﷺ: «إني لأدخل في الصلاة وأنا أريد إطالتها فأسمع بكاء الصبي فأتجوز في صلاتى مما أعلم من شدة وجد أمه من بكائه» . رواه البخاري
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেনঃ আমি সলাত আরম্ভ করলে তা লম্বা করার ইচ্ছা করি। কিন্তু যখনই (পেছন থেকে) শিশুদের কান্নার শব্দ শুনি, তখন আমার সলাতকে আমি সংক্ষেপ করি। কারণ তার কান্নায় তার মায়ের মনের উদ্বিগ্নতা বেড়ে যাওয়ার আশংকায়। (বুখারী) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১১৩১
وعن أبى هريرة قال: قال رسول الله ﷺ: إذا صلى أحدكم الناس فليخفف فإن فيهم السقيم والضعيف والكبير. وإذا صلى أحدكم لنفسه فليطول ما شاء. (متفق عليه)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেনঃ তোমাদের যারা মানুষের সলাত আদায় করায় সে যেন সলাত সংক্ষেপ করে। কারণ (তার পেছনে) মুক্তাদীদের মধ্যে রোগী, দুর্বল, বুড়ো থাকে (তাদের প্রতি খেয়াল রাখাও দরকার)। আর তোমাদের কী যখন একা সলাত আদায় করবে সে যত ইচ্ছা সলাত দীর্ঘ করতে পারে। (বুখারী, মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১১৩২
وعن قيس بن أبى حازم قال: أخبرنى أبو مسعود أن رجلا قال: والله يا رسول الله إنى لأتأخر عن صلاة الغداة من أجل فلان مما يطيل بنا فما رأيت رسول الله ﷺ فى موعظة أشد غضبا منه يومئذ ثم قال: «إن منكم منفرين فأيكم ما صلى بالناس فليتجوز: فإن فيهم الضعيف والكبير وذا الحاجة». (متفق عليه)
তিনি বলেন, আবূ মাস‘ঊদ (রাঃ) আমাকে বলেছেন, একদিন এক লোক রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে আবেদন করল, হে আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আল্লাহ্র শপথ, অমুক লোক খুব দীর্ঘ সলাত পড়াবার জন্যে আমি ফাজরের সলাতে দেরী করে আসি। আবূ মাস’ঊদ বলেন, সেদিন অপেক্ষা উপদেশ করার সময় আর কোন দিন তাঁকে (রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে) আজকের মতো এত রাগ করতে দেখিনি। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-বলেনঃ তোমাদের কেউ কেউ (দীর্ঘ করে সলাত আদায় করে) মানুষকে বিরক্ত করে তোলে। (সাবধান!) তোমাদের যে লোক মানুষকে (জামা‘আতে) সলাতে ইমামতি করবে। সে যেন সংক্ষেপে সলাত আদায় করায়। কারণ মুক্তাকীদের মাঝে দুর্বল, বুড়ো, প্রয়োজনের তাড়ার লোকজন থাকে। (বুখারী, মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ > প্রথম অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ১১৩৩
وعن أبى هريرة ؓ قال: قال رسول الله ﷺ: «يصلون لكم فإن أصابوا فلكم وإن أخطئوا فلكم وعليهم» . رواه البخاري
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেনঃ তোমাদেরকে ইমাম সলাত আদায় করাবেন। বস্তুতঃ যদি সলাত ভালোভাবে পড়ায় তবে তোমাদের জন্যে সফলতা আছে (তার জন্যেও আছে)। আর সে যদি কোন ভুল করে ফেলে তাহলে তোমরা সাওয়াব পাবে। তার জন্যে সে পাপী হবে। (বুখারী) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১১৩৪
عن عثمان بن أبي العاص قال: اخر ما عهد إلى رسول الله ﷺ: إذا أممت قوما فأخف بهم الصلاة» . رواه مسلم وفى رواية له: أن رسول الله ﷺ قال له: «أم قومك» . قال: قلت يا رسول الله إنى أجد في نفسى شيئا. قال: ادنه . فأجلسنى بين يديه ثم وضع كفه فى صدرى بين ثديي ثم قال: تحول . فوضعها فى ظهرى بين كتفي ثم قال: أم قومك فمن أم قوما فليخفف فإن فيهم الكبير وإن فيهم المريض وإن فيهم الضعيف وإن فيهم ذاالحاجة فإذا صلى أحدكم وحده فليصل كيف شاء
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে যে শেষ ওয়াসিয়্যাত করেছেন তা ছিল, যখন তোমরা মানুষের (সলাতের) ইমামতি করবে, করে সলাত পড়াবে। (মুসলিম) সহীহ মুসলিমের আর এক সুত্রে পাওয়া যায়, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘উসমানকে বলেছেনঃ নিজ জাতির ইমামতি করো। ‘উসমান বললেন, আমি আবেদন করলাম, আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আমার মনে খটকা লাগে। এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বল্লেনঃ আমার নিকট আসো। আমি তাঁর নিকট আসলে তিনি আমাকে তাঁর সামনে বসালেন। আমার সিনার উপর দু‘ছাতির মাঝে তাঁর নিজের হাত রেখে বললেন। এদিকে পিঠ ফিরাও। আমি তাঁর দিকে আমার পিঠ ফিরালাম। তিনি আমার পিঠে দু‘কাধের উপর হাত রাখলেন এবং বললেনঃ যাও, নিজের জাতির সলাতে ইমামতি করো। (মনে রাখবে) যখন কোন লোক কোন জাতির ইমামতি করবে তার উচিত ছোট করে সলাত আদায় করানো। কারণ সলাতে বৃদ্ধ লোক থাকে। অসুস্থ মানুষ থাকে। দুর্বল ও প্রয়োজনের তাড়া থাকে এমন লোক উপস্থিত হয়। যখন কেউ একা একা সলাত আদায় করবে সে যেভাবে (যত দীর্ঘ) চায় আদায় করবে। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১১৩৫
وعن ابن عمر قال: كان رسول الله ﷺ يأمرنا بالتخفيف ويؤمنا بـ (الصافات). رواه النسائي
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে হালকা করে সলাত আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন। আর তিনি আমাদেরকে যখন সলাত আদায় করাতেন সাফফাত সূরাহ দিয়ে সলাত আদায় করাতেন। (নাসায়ী) [১]