. প্রথম অনুচ্ছেদ - মিশকাতুল মাসাবিহ | হাদীস | কুরআন ও সুন্নাহ

মিশকাতুল মাসাবিহ > . প্রথম অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ১১১৭

عن أبي مسعود قال: قال رسول الله ﷺ: «يؤم القوم أقرؤهم لكتب الله فإن كانوا في القراءة سواء فأعلمهم بالسنة فإن كانوا في السنة سواء فأقدمهم هجرة فإن كانوا في الهجرة سواء فأقدمهم سنا ولا يؤمن الرجل الرجل في سلطانه ولا يقعد في بيته على تكرمته إلا بإذنه». رواه مسلم. وفى رواية له: «ولا يؤمن الرجل الرجل فى أهله

তিনি বলেছেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেন : জাতির ইমামতি এমন লোক করবেন, যিনি আল্লাহর কিতাব সবচেয়ে উত্তম পড়তে পারেন। উপস্থিতদের মাঝে যদি সকলেই উত্তম ক্বারী হন তাহলে ইমামতি করবেন ঐ লোক যিনি সুন্নাতের ব্যাপারে সবচেয়ে বেশী জানেন। যদি সুন্নাতের ব্যাপারে সকলে সমপর্যায়ের জ্ঞানী হন তবে যে সবার আগে হিজরত করেছেন। হিজরত করায়ও যদি সবাই এক সমান হন। তাহলে ইমামাত করবেন যিনি বয়সে সকলের চেয়ে বড়। আর কোন লোক অন্য লোকের ক্ষমতাসীন এলাকায় গিয়ে ইমামতি করবে না এবং কেউ কোন বাড়ী গিয়ে যেন অনুমতি ছাড়া বাড়ীওয়ালার আসনে না বসে। (মুসলিম; তাঁর অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে, ‘‘আর কোন লোক অন্য লোকের গৃহে গিয়ে [অনুমতি ব্যতীত] ইমামতি করবে না।”)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১১১৮

وعن أبي سعيد قال: قال رسول الله ﷺ: «إذا كانوا ثلاثة فليؤمهم أحدهم وأحقهم بالإمام أقرؤهم» . رواه مسلم وذكر حديث مالك بن الحويرث في باب بعد باب فضل الأذان

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেন : তোমরা যখন তিনজন হবে; সলাত আদায় করার জন্যে একজনকে ইমাম বানাবে এবং ইমামতির জন্যে সবচেয়ে উপযুক্ত যে কুরআন সবচেয়ে ভাল পড়তে পারেন। (মুসলিম; মালিক ইবনু হুওয়াইরিস-এর হাদীসটি উল্লেখ করা হয়েছে “আযানের মর্যাদা অধ্যায়”-এর পর কোন এক অধ্যায়ের মধ্যে।) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ > দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ১১১৯

عن ابن عباس قال: قال رسول الله ﷺ: «ليؤذن لكم خياركم وليؤمكم قراؤكم» . رواه أبو داود

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেন : তোমদের যে লোক সবচেয়ে উত্তম তাঁরই আযান দেয়া উচিত। আর তোমাদের যে ব্যক্তি সবচেয়ে ভাল ক্বারী তাকেই তোমাদের ইমামতি করা উচিত। (আবূ দাঊদ) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১১২০

وعن أبي عطية العقيلي قال: كان مالك بن الحويرث يأتينا إلى مصلانا يتحدث فحضرت الصلاة يوما قال أبو عطية: فقلنا له: تقدم فصله. قال لنا قدموا رجلا منكم يصلى بكم وسأحدثكم لم لا أصلى بكم؟ سمعت رسول الله ﷺ يقول: «من زار قوما فلا يؤمهم وليؤمهم رجل منهم» . رواه أبو داود والترمذي والنسائي إلا أنه اقتصر على لفظ النبي ﷺ

তিনি বলেন, মালিক ইবনু হুওয়াইরিস (সহাবী) আমাদের মাসজিদে আগমন করতেন। আমাদেরকে হাদীস বর্ণনা করে শুনাতেন। একদা তিনি এভাবে আমাদের মাঝে আছেন সলাতের সময় হয়ে গেল। আবূ ‘আত্বিয়্যাহ বলেন, আমরা মালিক-এর নিকট আবেদন করলাম, সামনে বেড়ে আমাদের সলাতের ইমামতি করার জন্যে। মালিক বললেন, তোমরা তোমাদের কাউকে সামনে বাড়িয়ে দাও। সে-ই তোমাদের সলাত আদায় করাবে। আর আমি কেন সলাত আদায় করাব না। কারণ তোমাদেরকে বলছি, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, যে লোক কোন জাতির সঙ্গে দেখা সাক্ষাত করতে যায় সে যেন তাদের ইমামতি না করে। বরং তাদের মধ্যে কেউ ইমামতি করবে। (আবূ দাউদ, তিরমিযী; নাসায়ীও এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তিনি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)…… শব্দগুলো পর্যন্ত উল্লেখ করেছেন) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১১২১

وعن أنس قال: استخلف رسول الله ﷺ ابن أم مكتوم يؤم الناس وهو أعمى. رواه أبو داود

তিনি বলেছেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একদা ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাক্‌তুমকে সলাত আদায়ের জন্যে নিজের স্থলাভিষিক্ত করে দিলেন। অথচ তিনি ছিলেন জন্মান্ধ। (আবূ দাঊদ) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১১২২

وعن أبي أمامة قال: قال رسول الله ﷺ: «ثلاثة لا تجاوز صلاتهم اذانهم: العبد الابق حتى يرجع وامرأة باتت وزوجها عليها ساخط وإمام قوم وهم له كارهون». رواه الترمذي وقال: هذا حديث غريب

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : তিন লোকের সলাত কান হতে উপরের দিকে উঠে না (অর্থাৎ কবূল হয় না)। প্রথম হলো কোন মালিক-এর নিকট থেকে পলায়ন করা গোলাম যতক্ষণ তার মালিক-এর নিকট ফিরে না আসে। দ্বিতীয় ঐ মহিলা, যে তার স্বামীকে অসন্তুষ্ট রেখে রাত কাটাল। তৃতীয় হলো ঐ ইমাম, যাকে তার জাতি অপছন্দ করে। (তিরমিযী; তিনি বলেছেন, এ হাদীসটি গরীব) (আবূ দাঊদ) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১১২৩

وعن ابن عمر قال: قال رسول الله ﷺ: «ثلاثة لا تقبل منهم صلاتهم: من تقدم قوما وهم له كارهون ورجل أتى الصلاة دبارا والدبار: أن يأتيها بعد أن تفوته ورجل اعتبد محررة». رواه أبو داود وابن ماجه

তিনি বলেন, রসূলাল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেন : তিন লোকের সলাত কবূল হয় না। ঐ লোক যে কোন জাতির ইমাম অথচ সে জাতি তার ওপর অসন্তুষ্ট। দ্বিতীয় ঐ লোক যে সলাতে বিলম্ব করে উত্তম সময় চলে যাওয়ার পর আসে। আদায় করে আসা মর্ম হলো সলাতের মুস্তাহাব সময় চলে যাওয়ার শেষে আসে। তৃতীয় ঐ লোক যে স্বাধীন লোককে দাস বা দাসীতে পরিণত করে মনে করে। (আবূ দাঊদ, ইবনু মাজাহ) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১১২৪

وعن سلامة بنت الحر قالت: قال رسول الله ﷺ: «إن من أشراط الساعة أن يتدافع أهل المسجد لا يجدون إماما يصلى بهم» . رواه أحمد وأبو داود وابن ماجه

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেন : ক্বিয়ামাতের নিদর্শনসমূহের একটি নিদর্শন হলো মাসজিদে হাযির সলাত আদায়কারীরা একে অন্যকে ঠেলিবে। তাদের সলাত আদায় করিয়ে দিতে পারবে এমন যোগ্য ইমাম তারা পাবে না। (আহমাদ, আবূ দাঊদ, ইবনু মাজাহ্) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১১২৫

وعن أبى هريرة قال: قال رسول الله ﷺ: «الجهاد واجب عليكم مع كل أمير برا كان أو فاجرا وإن عمل الكبائر. والصلاة واجبة عليكم خلف كل مسلم برا كان أو فاجرا وإن عمل الكبائر. والصلاة واجبة على كل مسلم برا كان أو فاجرا وإن عمل الكبائر» . رواه أبو داود

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেন : তোমাদের ওপর প্রত্যেক নেতার সঙ্গে চাই সে সৎ ‘আমালদার হোক কি বদকার, জিহাদ করা ফার্‌য। যদি সে কাবীরাহ্ গুনাহও করে। প্রত্যেক মুসলিমের পেছনে সলাত আদায় করা তোমাদের জন্যে আবশ্যক। (সে সলাত আদায়কারী) সৎ ‘আমালদার হোক কি বদকার। যদি সে কাবীরাহ্ গুনাহও করে থাকে। সলাতে জানাযাও প্রত্যেক মুসলিমদের ওপর ফার্‌য। চাই সে সৎ কর্মশীল হোক কি বদকার। সে গুনাহ কাবীরাহ্ করে থাকলেও। (আবূ দাঊদ) [১]


🔄 লোড হচ্ছে...
ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية