মিশকাতুল মাসাবিহ > দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ১১১১
عن سمرة بن جندب قال: أمرنا رسول الله ﷺ إذا كنا ثلاثة أن يتقدمنا أحدنا. رواه الترمذي
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে আদেশ করেছেন। যখন আমাদের তিন লোক সলাত আদায় করবে তখন আমাদের একজন (উত্তম ব্যক্তি) সামনে চলে যাবে অর্থাৎ ইমামতি করবে। (তিরমিযী) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১১১২
وعن عمار بن ياسر: أنه أم الناس بالمدائن وقام على دكان يصلى والناس أسفل منه فتقدم حذيفة فأخذ على يديه فاتبعه عمار حتى أنزله حذيفة فلما فرغ عمار من صلاته قال له حذيفة: ألم تسمع رسول الله ﷺ يقول: «إذا أم الرجل القوم فلا يقم في مقام أرفع من مقامهم أو نحو ذلك؟» فقال عمار: لذلك اتبعتك حين أخذت على يدى. رواه أبو داود
তিনি (একদিন) মাঠে (সলাতে) মানুষের ইমামতি করছিলেন। সলাত আদায় করার জন্যে তিনি একটি চত্বরের উপর দাঁড়িয়ে গেলেন। মুক্তাদীগণ ছিলেন তার নীচে দাঁড়িয়ে। এ অবস্থা দেখে হুযায়ফাহ্ কাতার থেকে বেরিয়ে এসে সামনের দিকে গেলেন এবং ‘আম্মারের হাত ধরলেন। ‘আম্মার তাঁকে অনুকরণ করলেন। হুযায়ফাহ্ তাঁকে নীচে নামিয়ে দিলেন। ‘আম্মারের সলাত শেষ হওয়ার পর হুযায়ফাহ্ তাঁকে বললেন। আপনি কি জানেননি, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেন : কোন লোক জামা‘আতে সলাতের ইমাম হলে তার দাঁড়াবার স্থান যেন মুক্তাদীদের দাঁড়াবার স্থান হতে উঁচু না হয়। অথবা এ রকমের কোন শব্দ উচ্চারণ করেছেন। ‘আম্মার উত্তর দিলেন, এ জন্যেই তো আপনি যখন আামার হাত ধরেছেন আমি আপনার অনুসরণ করেছি। (আবূ দাঊদ)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১১১৩
وعن سهل بن سعد الساعدي أنه سئل: من أي شيء المنبر؟ فقال: هو من أثل الغابة عمله فلان مولى فلانة لرسول الله ﷺ وقام عليه رسول الله ﷺ حين عمل ووضع فاستقبل القبلة وكبر وقام الناس خلفه فقرأ وركع وركع الناس خلفه ثم رفع رأسه ثم رجع القهقرى فسجد على الأرض ثم عاد إلى المنبر ثم قرأ ثم ركع ثم رفع رأسه ثم رجع القهقرى حتى سجد بالأرض. هذا لفظ البخاري وفي المتفق عليه نحوه وقال في اخره: فلما فرغ أقبل على الناس فقال: أيها الناس إنما صنعت هذا لتأتموا بي ولتعلموا صلاتي
একদিন তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মিম্বার কিসের তৈরি ছিল? তিনি বললেন, জঙ্গলের ঝাউ কাঠের তৈরি ছিল। সেটাকে অমুক মহিলার স্বাধীন করা গোলাম অমুকে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্যে তৈরি করেছিলেন। সেটা তৈরি হয়ে গেলে, মাসজিদে রাখা হলো। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর দাঁড়ালেন। ক্বিবলামুখী হয়ে সলাতের জন্য তাকবীর তাহ্রীমা বাঁধলেন। সকলে তার পেছনে দাঁড়িয়ে গেলেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মিম্বারের উপর হতেই ক্বিরাআত পাঠ করলেন। রুকূ‘ করলেন। অন্যান্য লোকও তাঁর পেছনে রুকূ‘ করলেন। অতঃপর তিনি রুকূ‘ হতে মাথা উত্তোলন করলেন। এরপরে মিম্বার থেকে পা নামিয়ে জমিনে সাজদাহ্ করলেন। এরপর পুনরায় তিনি মিম্বারে উঠলেন। কুরআন পড়লেন। রুকূ‘ করলেন রুকূ‘ থেকে মাথা উত্তোলন করলেন, তারপর পেছনে সরে আসলেন এমনকি জমিনে সাজদাহ্ করলেন। [এ ভাষা বুখারী (রহঃ)-এর একক; আবার বুখারী মুসলিমের মিলিত বিবরণটা এরূপ। এ হাদীসের বর্ণনাকারী হাদীসের শেষে এ উক্তি পেশ করলেন। যখন তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সলাত হতে অবসর হলেন, তখন বললেন, “আমি এজন্যে এ ‘আমাল করেছি, তোমরা যেন আমার অনুকরণ করো। আমার সলাতের পরিস্থিতি, এর বিধানাবলী জানতে পার।] [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১১১৪
وعن عائشة رضى الله عنها قالت: صلى رسول الله ﷺ فى حجرته والناس يأتمون به من وراء الحجرة. رواه أبو داود
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজের কামরায় সলাত আদায় করলেন। আর লোকেরা কামরার বাইরে হতে তাঁর সাথে সলাতের ইকতেদা করলেন। (আবূ দাঊদ) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ > তৃতীয় অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ১১১৫
عن أبي مالك الأشعري قال: ألا أحدثكم بصلاة رسول الله ﷺ؟ قال: أقام الصلاة وصف الرجال وصف خلفهم الغلمان ثم صلى بهم فذكر صلاته ثم قال: «هكذا صلاة» قال عبد العلى: لا أحسبه إلا قال: أمتى. رواه أبو داود
তিনি বলেন, আমি কি তোমাদেরকে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সলাতের ব্যাপারে কিছু বলব না? (তাহলে) শুনো! তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) লোকদেরকে সলাত আদায় করার জন্য (প্রথমে) পুরুষদের কাতার করালেন, এরপর তাদের পেছনে শিশুদের কাতার দাঁড় করালেন। তারপর তাদের নিয়ে সলাত আদায় করালেন। (আবূ মালিক) তাঁর (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সলাতের বিবরণ দেয়ার পর বললেন, অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শেষে বললেন, এভাবে সলাত আদায় করতে হবে। ‘আবদুল ‘আলা যিনি আবূ মালিক থেকে বর্ণনা করে বলেন, আমার মনে হয়, আবূ মালিক ‘আমার উম্মাতের’- এ কথাটিও বলেছেন। (আবূ দাঊদ) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১১১৬
وعن قيس بن عباد قال: بينا أنا في المسجد في الصف المقدم فجبذني رجل من خلفى جبذة فنحاني وقام مقامى فوالله ما عقلت صلاتى. فلما انصرف إذا هو أبي بن كعب فقال: يا فتى لا يسوءك الله إن هذا عهد من النبي ﷺ إلينا أن نليه ثم استقبل القبلة فقال: هلك أهل العقد ورب الكعبة ثلاثا ثم قال: والله ما عليهم آسى ولكن آسى على من أضلوا. قلت يا أبا يعقوب ما تعنى بأهل العقد؟ قال: الأمراء. رواه النسائي
তিনি বলেন, একদিন আমি মাসজিদে প্রথম কাতারে দাঁড়িয়ে সলাত আদায় করছিলাম। এ সময় এক লোক আমাকে পেছন থেকে টেনে একপাশে নিয়ে নিজে আমার স্থানে দাঁড়ালেন। আল্লাহর শপথ! এ রাগে আমার সলাতে হুঁশ ছিল না। সলাত শেষ করার পর আমি তাকিয়ে দেখলাম তিনি উবাই ইবনু কা‘ব। আমাকে রাগান্বিত দেখে তিনি বললেন, হে যুবক! (আমার এর জন্যে) আল্লাহ তোমাকে যেন কষ্ট না দেয়! আমার জন্যে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওয়াসিয়াত ছিল, আমি যেন তাঁর নিকট দাঁড়াই। তারপর ক্বিবলাব দিকে মুখ ফিরিয়ে তিনবার এ কথা বললেন, রবের কা‘বার কসম! ধ্বংস হয়ে গেছে আহলুল ‘আক্বদ। আরো বললেন, আল্লাহর কসম! তাদের ওপর (জনগণের সম্পর্কে) আমার কোন চিন্তা নেই। চিন্তা তো হলো তাদের জন্যে যাদের নেতারা গোমরাহ করছে। ক্বায়স ইবনু ‘উবাদ বলেন, আমি উবাই ইবনু কা‘বকে বললাম। হে আবূ ইয়া‘কূব! ‘আহলুল আক্বদ’ বলতে আপনি কি বুঝাচ্ছেন। তিনি বললেন, ‘উমারাহ্’ (নেতা ও শাসকবর্গ) । (নাসায়ী) [১]