প্রথম অনুচ্ছেদ - মিশকাতুল মাসাবিহ | হাদীস | কুরআন ও সুন্নাহ

মিশকাতুল মাসাবিহ > প্রথম অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ১০২৩

عن ابن عباس قال: سجد النبي ﷺ بالنجم وسجد معه المسلمون والمشركون والجن والإنس. رواه البخاري

তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সূরাহ্ আন্ নাজ্‌ম- এ সাজদাহ্‌ করেছেন। তার সাথে মুসলিম, মুশরিক, জিন্ ও মানুষ সাজদাহ্ করেছে। (বুখারী) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১০২৪

وعن أبي هريرة ؓ قال: سجدنا مع النبي ﷺ في: ﴿إذا السماء انشقت﴾ و ﴿اقرأ باسم ربك﴾. رواه مسلم

তিনি বলেন, আমরা নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে সূরাহ্‌ ইনশিক্বাক্ব ও সূরাহ্‌ আল ‘আলাক্ব-এ সাজদাহ্‌ করেছি। (মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১০২৫

وعن ابن عمر قال: كان رسول الله ﷺ يقرأ ﴿السجدة﴾ ونحن عنده فيسجد ونسجد معه فنزدحم حتى ما يجد أحدنا لجبهته موضعا يسجد عليه. (متفق عليه)

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন কোন সাজদার আয়াত তিলাওয়াত করতেন, আর আমরা তাঁর নিকটে থাকতাম, তখন তিনি সাজদায় গেলে আমরাও তাঁর সঙ্গে সঙ্গে সাজদাহ্‌ করতাম। এ সময় এত ভিড় হত যে, আমাদের কেউ কেউ কপাল মাটিতে রাখার জায়গা পেতো না যার উপর সে সাজদাহ্‌ করবে। (বুখারী, মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১০২৬

وعن زيد بن ثابت قال: قرأت على رسول الله ﷺ ﴿والنجم﴾ فلم يسجد فيها. (متفق عليه)

তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সম্মুখে সূরাহ্‌ নাজম পাঠ করেছি। তিনি এতে সাজদাহ্‌ করেননি। (বুখারী, মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১০২৭

وعن ابن عباس قال: سجدة (ص) ليس من عزائم السجود وقد رأيت النبي ﷺ يسجد فيها.

তিনি বলেন, সূরাহ্ সাদ-এর সাজদাহ্ বাধ্যতামূলক নয়। অবশ্য আমি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে এ সূরায় সাজদাহ্ করতে দেখেছি। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১০২৮

وفي رواية: قال مجاهد: قلت لابن عباس: أأسجد في (ص)؟ فقرأ: ﴿ومن ذريته داوٗد وسليمن﴾ [الأنعام 6 : 84] حتى أتى ﴿فبهدهم اقتده﴾ [سورة الأنعام 6 : 90] ، فقال: نبيكم ﷺ ممن أمر أن يقتدي بهم. رواه البخاري

আমি 'আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম যে, সূরাহ্ সাদ-এ সাজদাহ্ করবো কি-না? উত্তরে তিনি (ইবনু ‘আব্বাস) “তাঁর বংশধরের মধ্যে থেকে দাঊদ ও সুলায়মান” পাঠ করতে করতে এই বাক্য পৌঁছলেন- “সুতারাং তুমি তাদের পথ অনুসরণ কর”- (সূরাহ্ আল আন্‘আম ৮৪-৯০)। অতঃপর বললেন, তোমাদের নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঐ লোকদের মধ্যে গণ্য যাদের প্রতি আগের নাবীর আনুগত্য করার নির্দেশ ছিল। (বুখারী) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ > দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ১০২৯

عن عمرو بن العاص قال: أقرأنى رسول الله ﷺ خمس عشرة سجدة في القران منها ثلاث في المفصل وفي سورة الحج سجدتين. رواه أبو داود وابن ماجه

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে কুরআনে ১৫টি সাজদাহ্ শিখিয়েছেন। এর মাঝে তিনটি সাজদাহ্ মুফাসসাল সূরায় এবং দু’ সাজদাহ্ সূরাহ্ আল হাজ্জ-এর মধ্যে। (আবূ দাঊদ, ইবনু মাজাহ) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১০৩০

وعن عقبة بن عامر قال: قلت يا رسول الله فضلت سورة الحج بأن فيها سجدتين؟ قال: «نعم ومن لم يسجدهما فلا يقرأهما». رواه أبو داود والترمذي وقال: هذا حديث ليس إسناده بالقوي. وفي «المصابيح» : «فلا يقرأها» كما في شرح السنة

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট আবেদন করলাম, হে আল্লাহর রসূল! সূরাহ্ আল হাজ্জ-এর কি দু’টি সাজদাহ্ করার কারণে এমন মর্যাদা? জবাবে তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, হ্যাঁ। যে ব্যক্তি এ দু’টি সাজদাহ্ করবে না সে যেন এ দু’টি আয়াত তিলাওয়াত না করে। (আবূ দাঊদ, তিরমিযী; ইমাম তিরমিযী বলেন, এ হাদীসের সূত্র মজবুত নয়। আর মাসাবীহ হতে শারহুস্ সুন্নাহ্‌র মতো “সে দু'’টো সাজদার আয়াত যেন না পড়ে”-এর স্থলে “'তাহলে সে যেন এ সূরাকে না পড়ে” এসেছে।) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১০৩১

وعن ابن عمر: أن النبي ﷺ سجد فى صلاة الظهر ثم قام فركع فرأوا أنه قرأ تنزيل السجدة. رواه أبو داود

তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যুহরের সলাতে সাজদাহ্ করলেন, তারপর কিয়াম করলেন। তারপর রুকূ’ করলেন। মানুষেরা মনে করলেন, তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তানযীল আস্ সাজদাহ্ সূরাহ পড়েছেন। (আবূ দাঊদ) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১০৩২

وعنه: أنه كان رسول الله ﷺ يقرأ علينا القران فإذا مر بالسجدة كبر وسجد وسجدنا معه. رواه أبو داود

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের সামনে কুরআন মাজীদ পাঠ করতেন। যখন সাজদার আয়াতে পৌছতেন তাকবীর বলে সাজদাহ্ দিতেন। আমরাও তাঁর সাথে সাজদাহ্ করতাম। (আবূ দাঊদ) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১০৩৩

وعن ابن عمر أنه قال: إن رسول الله ﷺ قرأ عام الفتح سجدة فسجد الناس كلهم منهم الراكب والساجد على الأرض حتى إن الراكب ليسجد على يده. رواه أبو داود

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাক্কাহ্ বিজয়ের দিন সাজদার আয়াত পাঠ করলেন। তাই (উপস্থিত) সকল সহাবায়ে কিরাম রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে সঙ্গে সাজদাহ্ করলেন। সাজদাকারীদের কেউ তো সওয়ারীর উপর ছিলেন, আর কেউ জমিনে সাজদাকারী। আরোহীরা তাদের হাতের ওপরই সাজদাহ্ করলেন। (আবু দাঊদ) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১০৩৪

وعن ابن عباس: أن النبي ﷺ لم يسجد فى شيء من المفصل منذ تحول إلى المدينة. رواه أبو داود

তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাদীনায় যাওয়ার পর মুফাস্‌সাল সূরার কোন সূরায় সাজদাহ্‌ করেননি। (আবূ দাঊদ) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১০৩৫

وعن عائشة رضي الله عنها قالت: كان رسول الله ﷺ يقول في سجود القرآن بالليل: «سجد وجهي للذي خلقه وشق سمعه وبصره بحوله وقوته» . رواه أبو داود والترمذي والنسائي وقال الترمذي: هذا حديث حسن صحيح

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রাতে তিলাওয়াতের সাজদায় এ দু‘আ পড়তেনঃ “সাজাদা ওয়াজ্‌হিয়া লিল্লাযী খলাক্বাহূ ওয়া শাক্বা সাম্‌‘আহু ওয়া বাসারাহূ বিহাওলিহী ওয়া ক্যুওয়াতিহী” (অর্থাৎ আমার চেহারা ওই জাতে পাককে সাজদাহ্ করল যিনি একে সৃষ্টি করেছে। নিজের শক্তি ও কুদরতের দ্বারা তাতে কান ও চোখ দিয়েছেন)। (আবূ দাঊদ, তিরমিযী, নাসায়ী; ইমাম তিরমিযী বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১০৩৬

وعن ابن عباس رضي الله عنهما قال: جاء رجل إلى رسول الله ﷺ فقال: يا رسول الله رأيتني الليلة وأنا نائم كأنى أصلى خلف شجرة فسجدت فسجدت الشجرة لسجودى فسمعتها تقول: اللهم اكتب لى بها عندك أجرا وضع عنى بها وزرا واجعلها لى عندك ذخرا وتقبلها منى كما تقبلتها من عبدك داود. قال ابن عباس: فقرأ النبي ﷺ سجدة ثم سجد فسمعته وهو يقول مثل ما أخبره الرجل عن قول الشجرة. رواه الترمذي وابن ماجه إلا أنه لم يذكر وتقبلها منى كما تقبلتها من عبدك داود. وقال الترمذي: هذا حديث غريب

তিনি বলেন, এক লোক রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকটে এস আবেদন করল, হে আল্লাহর রসূল! আজ রাত্রে আমি আমার নিজকে স্বপ্নে দেখেছি যে, আমি একটি গাছের নিচে সলাত আদায় করছি। আমি যখন সাজদায়ে তিলাওয়াত করলাম তখন এ গাছটিও আমার সাথে সাজদায়ে তিলাওয়াত করল। আমি শুনলাম গাছটি এ দু‘আ পড়ছেঃ “আল্ল-হুম্মাক্‌তুব্ লী বিহা-‘ইনদাকা আজ্‌রান ওয়াযা‘ ‘আন্নী বিহা- বেযরান, ওয়াজ্‘আল্‌হা-লী ‘ইন্দাকা যুখরান ওয়াতা ক্বব্বালহা- মিন্নী কামা- তাক্বব্বালতাহা- মিন ‘আব্‌দিকা দাঊদা” (অর্থাৎ হে আল্লাহ! এ সাজদার জন্যে তোমার কাছে আমার জন্যে সাওয়াব নির্দিষ্ট করো। এর মাধ্যমে আমার গুনাহ মাফ করে দাও। এ সাজদাকে তোমার নিকট সঞ্চিত সম্পদ বানিয়ে দাও। এ সাজদাহ্‌কে এমনভাবে কবূল করো যেভাবে তুমি তোমার বান্দা দাঊদ (আঃ) থেকে কবূল করেছ।” ইবনু ‘আব্বাস বলেন, এরপর নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাজদার আয়াত পাঠ করলেন, সাজদাহ্ দিলেন। আমি তাকে ঐ বাক্যগুলো বলতে শুনেছি যা ঐ লোকটি গাছটিকে বলেছে বলে বর্ণনা করেছেন। (তিরমিযী; ইবনু মাজাহও এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন কিন্তু তার বর্ণনায় “ওয়াতাক্বব্বালহা- মিন্নী কামা- তাক্বব্বালতাহা- মিন ‘আব্‌দিকা, দাঊদ” উল্লেখ হয়নি। আর তিরমিযী বলেন, এ হাদীসটি গরীব পর্যায়ের।) [১]


🔄 লোড হচ্ছে...
ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية