মিশকাতুল মাসাবিহ > তৃতীয় অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ১০২১
عن عمران بن حصين: أن رسول الله ﷺ صلى العصر وسلم في ثلاث ركعات ثم دخل منزله فقام إليه رجل يقال له الخرباق وكان في يديه طول فقال: يا رسول الله فذكر له صنيعه فخرج غضبان يجر رداءه حتى انتهى إلى الناس فقال: «أصدق هذا؟» . قالوا: نعم. فصلى ركعة ثم سلم ثم سجد سجدتين ثم سلم. رواه مسلم
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘আস্রের সলাত আদায় করালেন। তিনি তিন রাক্‘আত পড়ে সালাম ফিরালেন তারপর ঘরে প্রবেশ করলেন। খিরবাক্ব নামক এক লম্বা হাতওায়ালা লোক দাঁড়িয়ে গেলেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রসূল! অতঃপর তাঁর নিকট ঘটনাটি আলোচনা করলেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রাগান্বিত অবস্থায় নিজ চাদর টানতে টানতে মানুষের কাছে পৌঁছলেন অতঃপর জিজ্ঞেস করলেন, সে যা বলেছে তা-কি সত্য? সহাবীগন বললেন, হ্যাঁ। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আর এক রাক্‘আত সলাত আদায় করলেন তারপর সালাম ফিরালেন, তারপর দু’টি সাহ্উ সাজদাহ্ দিলেন তারপর সালাম ফিরালেন। (মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১০২২
وعن عبد الرحمن بن عوف قال: سمعت رسول الله ﷺ يقول: «من صلى صلاة يشك في النقصان فليصل حتى يشك في الزيادة» . رواه أحمد
তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, সলাত আদায় করতে যে ব্যক্তি কম (রাক্‘আত) পড়ার সন্দেহ করে, সে যেন সলাত আদায় করে যতক্ষণ পর্যন্ত বেশী আদায়ের সন্দেহ না করে। (আহ্মাদ) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ > প্রথম অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ১০২৩
عن ابن عباس قال: سجد النبي ﷺ بالنجم وسجد معه المسلمون والمشركون والجن والإنس. رواه البخاري
তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সূরাহ্ আন্ নাজ্ম- এ সাজদাহ্ করেছেন। তার সাথে মুসলিম, মুশরিক, জিন্ ও মানুষ সাজদাহ্ করেছে। (বুখারী) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১০২৪
وعن أبي هريرة ؓ قال: سجدنا مع النبي ﷺ في: ﴿إذا السماء انشقت﴾ و ﴿اقرأ باسم ربك﴾. رواه مسلم
তিনি বলেন, আমরা নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে সূরাহ্ ইনশিক্বাক্ব ও সূরাহ্ আল ‘আলাক্ব-এ সাজদাহ্ করেছি। (মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১০২৫
وعن ابن عمر قال: كان رسول الله ﷺ يقرأ ﴿السجدة﴾ ونحن عنده فيسجد ونسجد معه فنزدحم حتى ما يجد أحدنا لجبهته موضعا يسجد عليه. (متفق عليه)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন কোন সাজদার আয়াত তিলাওয়াত করতেন, আর আমরা তাঁর নিকটে থাকতাম, তখন তিনি সাজদায় গেলে আমরাও তাঁর সঙ্গে সঙ্গে সাজদাহ্ করতাম। এ সময় এত ভিড় হত যে, আমাদের কেউ কেউ কপাল মাটিতে রাখার জায়গা পেতো না যার উপর সে সাজদাহ্ করবে। (বুখারী, মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১০২৬
وعن زيد بن ثابت قال: قرأت على رسول الله ﷺ ﴿والنجم﴾ فلم يسجد فيها. (متفق عليه)
তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সম্মুখে সূরাহ্ নাজম পাঠ করেছি। তিনি এতে সাজদাহ্ করেননি। (বুখারী, মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১০২৭
وعن ابن عباس قال: سجدة (ص) ليس من عزائم السجود وقد رأيت النبي ﷺ يسجد فيها.
তিনি বলেন, সূরাহ্ সাদ-এর সাজদাহ্ বাধ্যতামূলক নয়। অবশ্য আমি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে এ সূরায় সাজদাহ্ করতে দেখেছি। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১০২৮
وفي رواية: قال مجاهد: قلت لابن عباس: أأسجد في (ص)؟ فقرأ: ﴿ومن ذريته داوٗد وسليمن﴾ [الأنعام 6 : 84] حتى أتى ﴿فبهدهم اقتده﴾ [سورة الأنعام 6 : 90] ، فقال: نبيكم ﷺ ممن أمر أن يقتدي بهم. رواه البخاري
আমি 'আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম যে, সূরাহ্ সাদ-এ সাজদাহ্ করবো কি-না? উত্তরে তিনি (ইবনু ‘আব্বাস) “তাঁর বংশধরের মধ্যে থেকে দাঊদ ও সুলায়মান” পাঠ করতে করতে এই বাক্য পৌঁছলেন- “সুতারাং তুমি তাদের পথ অনুসরণ কর”- (সূরাহ্ আল আন্‘আম ৮৪-৯০)। অতঃপর বললেন, তোমাদের নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঐ লোকদের মধ্যে গণ্য যাদের প্রতি আগের নাবীর আনুগত্য করার নির্দেশ ছিল। (বুখারী) [১]