দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মিশকাতুল মাসাবিহ | হাদীস | কুরআন ও সুন্নাহ

মিশকাতুল মাসাবিহ > দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ৯৮৯

عن عبد الله بن مسعود قال: كنا نسلم على النبي ﷺ وهو في الصلاة قبل أن نأتي أرض الحبشة فيرد علينا فلما رجعنا من أرض الحبشة أتيته فوجدته يصلي فسلمت عليه فلم يرد علي حتى إذا قضى صلاته قال: إن الله يحدث من أمره ما يشاء وإن مما أحدث أن لا تتكلموا في الصلاة . فرد علي السلام

তিনি বলেন, আমরা হাবশাহ্‌ যাওয়ার পূর্বে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে তাঁর সলাতরত অবস্থায় সালাম দিতাম। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-ও আমাদের সালামের উত্তর দিতেন। আমরা যখন হাবাশাহ্‌ হতে ফিরে (মাদীনায়) আসি আমি তখন তাকে সলাতরত অবস্থায় পাই। তারপর আমি তাকে সালাম দিলাম কিন্তু তিনি আমাকে সালামের জবাব দিলেন না সলাত শেষ না হওয়া পর্যন্ত, তরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আল্লাহ তা‘আলা যখন যে বিষয় ইচ্ছা করেন সে বিষয় আদেশ জারী করেন। আল্লাহ এখন সলাতে কথাবার্তা না বলার আদেশ জারী করেছেন। অতঃপর তিনি আমার সালামের উত্তর দিলেন। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৯৯০

وقال: «إنما الصلاة لقراءة القرآن وذكر الله فإذا كنت فيها ليكن ذلك شأنك» . رواه أبو داود

এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, সলাত শুধু কুরআন পড়া ও আল্লাহর যিক্‌র করার জন্য। অতএব তোমরা যখন সলাত আদায় করবে তখন এ অবস্থায়ই থাকবে। (আবূ দাঊদ) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৯৯১

وعن ابن عمر قال: قلت لبلال: كيف كان النبي ﷺ يرد عليهم حين كانوا يسلمون عليه وهو في الصلاة؟ قال: كان يشير بيده. رواه الترمذي وفي رواية النسائي نحوه وعوض بلال صهيب

তিনি বলেন, আমি বিলালকে প্রশ্ন করলাম, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সলাতরত থাকা অবস্থায় তারা রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সালাম দিলে তিনি সালামের জবাব কিভাবে দিতেন? বিলাল উত্তরে বললেন, তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাত দিয়ে (সালামের জবাবে) ইশারা করতেন। (তিরমিযী; নাসায়ীর বর্ণনাও এমনই। তবে তাতে বিলাল-এর স্থলে সুহায়ব (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে বলে উল্লেখ হয়েছে।) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৯৯২

وعن رفاعة بن رافع قال: صليت خلف رسول الله ﷺ فعطست فقلت الحمد لله حمدا كثيرا طيبا مباركا فيه مباركا عليه كما يحب ربنا ويرضى فلما صلى رسول الله ﷺ انصرف فقال: «من المتكلم في الصلاة؟» فلم يتكلم أحد ثم قالها الثانية فلم يتكلم أحد ثم قالها الثالثة فقال رفاعة: أنا يا رسول الله. فقال النبي ﷺ: والذي نفسي بيده لقد ابتدرها بضعة وثلاثون ملكا أيهم يصعد بها» . رواه الترمذي وأبو داود والنسائي

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পেছনে সলাত আদায় করলাম। (সলাতের মধ্যে) আমি হাঁচি দিলাম। আমি ক্বালিমায়ে হাম্‌দ অর্থাৎ “আলহাম্দু লিল্লা-হি হাম্‌দান কাসীরান ত্বইয়্যিবাম্‌ মুবা-রাকান ফীহি মুবা-রাকান ‘আলায়হি কামা- ইউহিব্বু রব্বুনা- ওয়া ইয়ার্‌যা-” পাঠ করলাম। সলাত শেষ করে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফিরে বললেন, সলাতের মাঝে কথা বলল কে? এতে কেউ কোন কথা বলেনি, তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পুনরায় প্রশ্ন করলেন। তবুও কেউ কোন কথা বলেনি। তৃতীয়বার তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আবার প্রশ্ন করলেন। এবার রিফা‘আহ্ (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমি। নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, ঐ জাতের শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ! ত্রিশের বেশি মালাক (ফেরেশ্‌তা) এ ক্বালিমায়ে হাম্‌দগুলো কার আগে কে উপরে নিয়ে যাবে এ নিয়ে প্রতিযোগিতা করছে। (তিরমিয়ী, আবু দাঊদ, ইবনু মাজাহ) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৯৯৩

وعن أبي هريرة قال: قال رسول الله ﷺ: «التثاؤب في الصلاة من الشيطان فإذا تثاءب أحدكم فليكظم ما استطاع» . رواه الترمذي وفي أخرى له ولابن ماجه: فليضع يده على فيه

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেনঃ সলাতে ‘হাই’ তোলা শায়ত্বনের কর্ম। অতএব সলাতে তোমাদের কেউ হাই তুললে তা যথাসম্ভব বারণ করার চেষ্টা করবে। (তিরমিযী; তাঁর অন্য বর্ণনা ও ইবনু মাজাহ-এর বর্ণনায় এ শব্দগুলো আছেঃ অর্থাৎ রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, সলাতে ‘হাই’ আসলে সে যেন নিজের হাত মুখের উপর রাখে।) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৯৯৪

وعن كعب بن عجرة قال: قال رسول الله ﷺ: «إذا توضأ أحدكم فأحسن وضوءه ثم خرج عامدا إلى المسجد فلا يشبكن بين أصابعه فإنه في الصلاة» . رواه أحمد وأبو داود والترمذي والنسائي والدارمي

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন উযূ করে তখন সে সুন্দর করে উযূ করবে। তারপর সলাতের উদ্দেশ্য করে মাসজিদে যাবে। আর তখন এক হাতের আঙ্গুলকে অন্য হাতের আঙ্গুলের মধ্যে ঢুকিয়ে মটকাবে না। কেননা সে সলাতে আছে। (আহ্মাদ, তিরমিযী, আবূ দাঊদ, নাসায়ী, দারিমী) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৯৯৫

وعن أبي ذر قال: قال رسول الله ﷺ: «لا يزال الله عز وجل مقبلا على العبد وهو في صلاته ما لم يلتفت فإذا التفت انصرف عنه». رواه أحمد وأبو داود والنسائي والدارمي

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যখন কোন বান্দা সলাতের মধ্যে থাকে, আল্লাহ তা’আলা তার সঙ্গে থাকেন, যতক্ষন না সে এদিক সেদিক দৃষ্টি ফেরায়। আর সে এদিক সেদিক নযর করলে তিনি তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন। (আহমাদ, আবূ দাঊদ, নাসায়ী, দারিমী) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৯৯৬

وعن أنس أن النبي ﷺ قال: «يا أنس اجعل بصرك حيث تسجد» . رواه البيهقي في سننه الكبير من طريق الحسن عن أنس يرفعه

তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বললেন, হে আনাস! সলাতে তুমি তোমার দৃষ্টিকে সাজদার স্থানে রাখবে। (এ হাদীসটিকে ইমাম বায়হাক্বী ‘সুনানে কাবীরের আনাস (রাঃ) থেকে হাসান এর সূত্রে হাদীসটি মারফূ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন)। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৯৯৭

وعنه قال: قال رسول الله ﷺ: يا بني إياك والالتفات في الصلاة فإن الالتفات في الصلاة هلكة. فإن كان لابد ففي التطوع لا في الفرضية . رواه الترمذي

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বললেন, হে আমার বৎস! সলাতে এদিক-সেদিক তাকানো থেকে সাবধান থাকো। কারণ সলাতে (ঘাড় ফিরিয়ে) এদিক-সেদিক লক্ষ্য করা ধ্বংসাত্নক কান্ড। যদি নিরুপায় হয়ে পড় তবে নাফ্‌ল সলাতের ক্ষেত্রে (অনুমতি থাকবে) ফার্‌জ সলাতের ক্ষেত্রে নয়। (তিরমিযী) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৯৯৮

وعن ابن عباس رضي الله عنهما قال: إن رسول الله ﷺ كان يلحظ في الصلاة يمينا وشمالا ولا يلوي عنقه خلف ظهره. رواه الترمذي والنسائي

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সলাতের মাঝে ডানদিকে বামদিকে লক্ষ্য করতেন, পেছনের দিকে গর্দান ঘুরাতেন না। (তিরমিযী, নাসায়ী) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৯৯৯

وعن عدي بن ثابت عن أبيه عن جده رفعه قال: العطاس والنعاس والتثاؤب في الصلاة والحيض والقيء والرعاف من الشيطان . رواه الترمذي

তিনি বলেন যে, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ সলাতের মাঝে হাঁচি আসা, তন্দ্রা আসা, হাই তোলা, মাসিক হওয়া, বমি হওয়া, নাক দিয়ে রক্ত নির্গত হওয়া শয়তান কর্তৃক আয়োজিত হয়। (তিরমিযী) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১০০০

وعن مطرف بن عبد الله بن الشخير عن أبيه قال: أتيت النبي ﷺ وهو يصلى ولجوفه أزيز كأزيز المرجل يعنى: يبكى وعن مطرف بن عبد الله بن الشخير عن أبيه قال: أتيت النبي ﷺ وهو يصلى ولجوفه أزيز كأزيز المرجل يعنى: يبكى. وفي رواية قال: رأيت النبي ﷺ يصلى وفى صدره أزيز كأزيز الرحا من البكاء. رواه أحمد وروى النسائي الرواية الأولى وأبو داود الثانية

তিনি বলেন, আমি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর নিকট আসলাম এমতাবস্থায় যে, তিনি সলাত আদায় করতেছিলেন এবং তাঁর ভিতর থেকে টগবগে আওয়াজ হচ্ছিল যেমন ডেগের ফুটন্ত পানির টগবগ আওয়াজ হয়। অর্থাৎ তিনি কান্নাকাটি করছিলেন। আর এক বর্ণনায় আছে, তিনি বলেছেন, আমি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সলাত আদায় করতে দেখেছি। এমতাবস্থায় তাঁর সিনার মধ্যে চাক্কির আওয়াজের ন্যায় কান্নার আওয়াজ থাকত। (আহমাদ, নাসায়ী প্রথমাংশটুকু, আবূ দাঊদ দ্বিতীয়াংশটুকু বর্ণনা করেছেন) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১০০১

وعن أبي ذر قال: قال رسول الله ﷺ: إذا قام أحدكم إلى الصلاة فلا يمسح الحصى فإن الرحمة تواجهه . رواه أحمد والترمذي وأبو داود والنسائي وابن ماجه

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন সলাতে দাঁড়াবে সে যেন হাত দিয়ে পাথর ঘষে না উঠায়। কেননা রহ্‌মাত তার সম্মুখ দিয়ে আগমন করে। (আহমাদ, তিরমিযী, আবূ দাঊদ, নাসায়ী, ইবনু মাজাহ) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১০০২

وعن أم سلمة قالت: رأى النبي ﷺ غلاما لنا يقال له: أفلح إذا سجد نفخ فقال: «يا أفلح ترب وجهك . رواه الترمذي

তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমদের ‘আফলাহ’ নামক গোলামকে দেখলেন যে, সে যখন সাজদায় যায় (তখন সাজদার স্থান সাফ করার জন্য) ফুঁ দেয়। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, হে আফ্লাহ! তুমি তোমার চেহারাকে ধূলিময় করো। (তিরমিযী) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১০০৩

وعن ابن عمر رضي الله عنهما قال: قال رسول الله ﷺ: الاختصار في الصلاة راحة أهل النار . رواه فى شرح السنة

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেনঃ সলাতে কোমরে হাত বেঁধে দাঁড়ানো জাহান্নামীদের বিশ্রাম স্বরূপ। (শারহুস সুন্নাহ) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১০০৪

وعن أبي هريرة ؓ قال: قال رسول الله ﷺ: اقتلوا الأسودين في الصلاة الحية والعقرب . رواه أحمد وأبو داود والترمذي وللنسائي معناه

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ সলাতরত অবস্থায়ও দু’ ‘কালোকে’ হত্যা করো অর্থাৎ সাপ ও বিচ্ছুকে। (আহমাদ, আবূ দাঊদ, আবূ দাঊদ, তিরমিযী, নাসায়ী অর্থের দিক দিয়ে) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১০০৫

وعن عائشة رضي الله عنها قالت: كان رسول الله ﷺ يصلي تطوعا والباب عليه مغلق فجئت فاستفتحت فمشى ففتح لي ثم رجع إلى مصلاه وذكرت أن الباب كان في القبلة. رواه أحمد وأبو داود والترمذي وروى النسائي نحوه

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নাফ্‌ল সলাত আদায় করতেন এমতাবস্থায় দরজা বন্ধ থাকত। আমি এসে দরজা খুলতে বলতাম। তিনি হেঁটে এসে দরজা খুলে দিয়ে আবার মুসাল্লায় চলে যেতেন। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, দরজা ছিল ক্বিবলামুখী। (আহমাদ, আবূ দাঊদ, তিরমিযী, নাসায়ীতে অনুরূপ) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১০০৬

وعن طلق بن علي قال: قال رسول الله ﷺ: إذا فسا أحدكم في الصلاة فلينصرف فليتوضأ وليعد الصلاة . رواه أبو داود وروى الترمذي مع زيادة ونقصان

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেনঃ সলাতরত অবস্থায় তোমাদের কেউ যখন নিঃশব্দে বাতাস বের করে, সে যেন ফিরে গিয়ে উযূ করে এসে পুনরায় সলাত আদায় করে নেয়। (আবূ দাঊদ; এ বর্ণনাটিকে ইমাম তিরমিযীও কিছু বেশ কম করে বর্ণনা করেছেন।) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১০০৭

وعن عائشة رضي الله عنها أنها قالت: قال النبي ﷺ: إذا أحدث أحدكم في صلاته فليأخذ بأنفه ثم لينصرف . رواه أبو داود

তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন সলাতে উযূ ভঙ্গ করে ফেলে সে যেন তার নাক চেপে ধরে তারপর সলাত ছেড়ে চলে আসে। (আবূ দাঊদ) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১০০৮

وعن عبد الله بن عمرو قال: قال رسول الله ﷺ: إذا أحدث أحدكم وقد جلس في آخر صلاته قبل أن يسلم فقد جازت صلاته . رواه الترمذي وقال: هذا حديث إسناده ليس بالقوي وقد اضطربوا في إسناده

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন শেষ বৈঠকের শেষ পর্যায় উপনীত হয়, আর সালাম ফিরানোর আগে উযূ ভঙ্গ হয়ে যায়, তবুও তার সলাত বৈধ হবে। (তিরমিযী; তিনি বলেছেন, এ হাদীসটির সূত্র শক্তিশালী নয় এবং তার সূত্রের মাঝে গণ্ডগোল মনে করছেন হাদীস বিশারদগণ।) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ > তৃতীয় অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ১০০৯

عن أبي هريرة أن النبي ﷺ خرج إلى الصلاة فلما كبر انصرف وأومأ إليهم أن كما كنتم. ثم خرج فاغتسل ثم جاء ورأسه يقطر فصلى بهم. فلما صلى قال: إني كنت جنبا فنسيت أن أغتسل . رواه أحمد

তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সলাত আদায়ের জন্যে বের হলেন। যখন তাকবীর দিলেন তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পেছনের দিকে ফিরলেন এবং সাহাবীদেরকে ইশারা করে বললেন, তোমরা যেভাবে আছো সেভাবে থাকো। তারপর তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বের হয়ে গেলেন। গোসল করলেন। তারপর আসলেন। এমতাবস্থায় তার চুল থেকে পানির ফোঁটা গড়িয়ে পড়ছিল। তিনি সহাবীদের নিয়ে সলাত আদায় করলেন। তারপর যখন সলাত শেষ করলেন তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সহাবীদেরকে লক্ষ্য করে বললেন, আমি অপবিত্র ছিলাম। গোসল করতে ভুলে গিয়েছিলাম। (আহ্‌মা্দ) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১০১০

وروى مالك عن عطاء بن يسار نحوه مرسلا

হাদীসটি ইমাম মালিক ‘আত্বা ইবনু ইয়াসার (রহঃ) হতে মুরসালরুপে বর্ণনা করেছেন। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১০১১

وعن جابر قال: كنت أصلي الظهر مع رسول الله ﷺ فآخذ قبضة من الحصى لتبرد فى كفى أضعها لجبهتي أسجد عليها لشدة الحر. رواه أبو داود وروى النسائي نحوه

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে যুহরের সলাত আদায় করতাম। আমি এক মুষ্টি পাথর হাতে নিতাম আমার হাতের তালুতে শীতল করারা জন্যে। প্রচণ্ড গরম থেকে বাঁচার জন্যে এ পাথরগুলোকে সাজদার স্থানে রাখতাম। (আবূ দাঊদ, নাসায়ীতে অনুরূপ) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১০১২

وعن أبي الدرداء قال: قام رسول الله ﷺ فسمعناه يقول: «أعوذ بالله منك» ثم قال: «ألعنك بلعنة الله» ثلاثا وبسط يده كأنه يتناول شيئا فلما فرغ من الصلاة قلنا يا رسول الله قد سمعناك تقول في الصلاة شيئا لم نسمعك تقوله قبل ذلك ورأيناك بسطت يدك قال: «إن عدو الله إبليس جاء بشهاب من نار ليجعله في وجهي فقلت أعوذ بالله منك ثلاث مرات. ثم قلت: ألعنك بلعنة الله التامة فلم يستأخر ثلاث مرات ثم أردت أخذه والله لولا دعوة أخينا سليمان لأصبح موثقا يلعب به ولدان أهل المدينة». رواه مسلم

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সলাত আদায় করতে দাঁড়ালেন। আমরা তাঁকে সলাতে “আ‘ঊযুবিল্লাহ-হি মিনকা” পরতে শুনলাম। এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তিনবার বললেন, “আমি তোমাদের ওপর অভিশাপ করছি, আল্লাহর অভিশাপ দ্বারা”। এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর হাত প্রশস্ত করলেন, যেন তিনি কোন জিনিস নিচ্ছেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন সলাত শেষ করলেন তখন আমরা বললাম, হে আল্লাহর রসূল। আজ আমরা আপনাকে সলাতে এমন কথা বলতে শুনলাম যা এর পূর্বে আর কখনো বলতে শুনিনি। আর আজ আমরা আপনাকে হাত বিস্তার করতেও দেখেছি। জবাবে তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আল্লাহর শত্রু ইবলীস আমার চেহারায় নিক্ষেপ করার জন্যে আগুনের টুকরা হাতে করে নিয়ে এসেছিল। তখন আমি তিনবার বলেছিলাম, “আ‘ঊযুবিল্লাহ-হি মিনকা” (আমি আল্লাহর কাছে তোমার শত্রুতা হতে আশ্রয় চাই)। এরপর আমি বলেছি, আমি তোমার ওপর অভিশাপ বর্ষণ করছি, আল্লাহর সম্পূর্ণ লা’নত দ্বারা। এতে সে দূরে সরেনি। তারপর আমি তাকে ধরতে ইচ্ছা করলাম। আল্লাহর শপথ! যদি আমার ভাই সুলায়মান (আঃ)-এর দু‘আ না থাকত তাহলে (সে মাসজিদের খাম্বায়) ভোর পর্যন্ত বাঁধা থাকত। আর মাদীনার শিশু-বাচ্চারা একে নিয়ে খেলতো। (মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১০১৩

وعن نافع قال: إن عبد الله بن عمر مر على رجل وهو يصلي فسلم عليه فرد الرجل كلاما فرجع إليه عبد الله بن عمر فقال له: إذا سلم على أحدكم وهو يصلي فلا يتكلم وليشر بيده. رواه مالك

তিনি বলেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে গমন করলেন, তখন সে সলাত আদায় করছিল। ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) তাকে সালাম প্রদান করলেন। সে ব্যক্তি ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)-এর সালামের উত্তর স্বশব্দে দিলো। ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) তার নিকট ফিরে গেলেন এবং বললেন, তোমাদের কোন লোককে সলাতরত অবস্থায় সালাম দেয়া হলে তার উত্তর স্বশব্দে দিতে নেই, বরং নিজের হাত দিয়ে ইশারা করবে। (মালিক) [১]


🔄 লোড হচ্ছে...
ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية