মিশকাতুল মাসাবিহ > প্রথম অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ৯৭৮
عن معاوية ابن الحكم قال: بينا أنا أصلي مع رسول الله ﷺ إذ عطس رجل من القوم فقلت: يرحمك الله. فرماني القوم بأبصارهم. فقلت: وا ثكل أمياه ما شأنكم تنظرون إلي فجعلوا يضربون بأيديهم على افخاذهم فلما رأيتهم يصمتونني لكني سكت فلما صلى رسول الله ﷺ فبأبي هو وأمي ما رأيت معلما قبله ولا بعده أحسن تعليما منه فوالله ما كهرني ولا ضربني ولا شتمني قال: «إن هذه الصلاة لا يصلح فيها شيء من كلام الناس إنما هو التسبيح والتكبير وقراءة القران أو كما قال رسول الله ﷺ. قلت: يا رسول الله إنى حديث عهد بجاهلية وقد جاء الله بالإسلام وإن منا رجالا يأتون الكهان. قال: فلا تأتهم . قلت: ومنا رجال يتطيرون. قال: ذاك شيء يجدونه في صدورهم فلا يصدنهم . قال قلت ومنا رجال يخطون. قال: كان نبي من الأنبياء يخط فمن وافق خطه فذاك . رواه مسلم قوله: لكنى سكت هكذا وجدت في صحيح مسلم وكتاب الحميدي وصحح في جامع الأصول بلفظة كذا فوق: لكنى
তিনি বলেন, একদিন আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে সলাত আদায় করি। যখন মুসল্লীদের মাঝে থেকে একজন হাঁচি দিলো তখন আমি ‘ইয়ারহামুকাল্ল-হ’ বললাম। ফলে লোকজন আমার প্রতি দৃষ্টি ক্ষেপন করল। আমি বললাম, তোমাদের মা সন্তানহারা শোকাহত হোক। তোমাদের কি হলো যে, তোমরা আমার দিকে এমন করে তাকাচ্ছো? মুসল্লীরা আমাকে নীরব করানোর জন্য নিজ নিজ রানের উপর হাত দিয়ে মারতে লাগল। আমি যখন লক্ষ্য করলাম তারা আমাকে চুপ থাকতে বলছে, তখন আমি নীরব হয়ে গেলাম। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সলাত শেষ করলেন। আমার মাতা-পিতা তাঁর জন্যে উৎসর্গ হোক। তার চেয়ে এত চমৎকার শিক্ষাদানে কোন শিক্ষক তার পরবর্তীকালে বা তার পূর্ববর্তীকালে আমি দেখিনি। তিনি আমাকে না ধমকি দিলেন, না মারলেন, না বক্লেন। তিনি শুধু এতটুকু বললেন, এ সলাতে মানবীয় কথাবার্তা বলা উপযুক্ত নয়। সলাত হলো ‘তাসবীহ’ পড়া, ‘তাকবীর’ বলা ও কুরআন পড়ার নাম। অথবা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এমনটি বলেছেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমি জাহিলী যুগ ত্যাগকারী এক নতুন বান্দা। আল্লাহ আমাদেরকে ইসলামে নিয়ে আসছেন। আমাদের মধ্যে অনেকে গণকের কাছে আসে। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তুমি তাদের কাছে আসবে না। আমি আবেদন করলাম, আমাদের অনেকে শুভ-অশুভ লক্ষণ মানে। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, এটা এমন একটা বিষয় যা তারা নিজেদের মনের মধ্যে পেয়ে থাকে। তা যেন তাদেরকে কোন কাজ থেকে বিরত না রাখে। মু‘আবিয়াহ্ (রাঃ) বলেন, আমি আবার বললাম, আমাদের মধ্যে এমন কতগুলো লোক আছে যারা রেখা টানে (ভবিষ্যদ্বানী করে)। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, নাবীদের মধ্যে একজন নাবী রেখা টানতেন। অতএব কারো রেখা টানা এ নাবীর রেখা টানার সাথে মিল থাকলে ঠিক আছে। (মুসলিম; মিশকাত সংকলকের উক্তি- তিনি বলেন, আমি “ওয়ালাকিন্নী সাকাততু”-কে সহীহ মুসলিম ও হুমায়দীর পুস্তকে এভাবে পেয়েছি। তবে জামিউল উসূল-এর লেখক লাকিন্নী শব্দের উপর كزا শব্দের দ্বারা বিশুদ্ধতার প্রতি ইশারা করছে।) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৯৭৯
وعن عبد الله بن مسعود قال: كنا نسلم على النبي ﷺ وهو في الصلاة فيرد علينا فلما رجعنا من عند النجاشي سلمنا عليه فلم يرد علينا فقلنا: يا رسول الله كنا نسلم عليك في الصلاة فترد علينا فقال: «إن في الصلاة لشغلا (متفق عليه)
তিনি বলেন, আমরা নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সলাতরত অবস্থায় সালাম দিতাম। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের সালামের জবাব দিতেন। আমরা যখন নাজাশী বাদশাহর নিকট থেকে ফিরে এসে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সালাম দিলাম, তখন তিনি আমাদের সালামের জবাব দেননি। আমরা আরজ করলাম, হে আল্লাহর রসূল! আমরা আপনাকে সলাতের মধ্যে সালাম দিতাম, আপনি সালামের জবাব দিতেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, সলাতের মধ্যে অবশ্যই ব্যস্ততা আছে। (বুখারী, মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৯৮০
وعن معيقيب عن النبي ﷺ في الرجل يسوي التراب حيث يسجد؟ قال: إن كنت فاعلا فواحدة. (متفق عليه)
নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)–কে এক লোক সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলো যে ব্যক্তি সলাতে সাজদার স্থানের মাটি সমান করে। তিনি বললেন, যদি তা করতেই চাও তবে শুধু একবার তা করবে। (বুখারী, মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৯৮১
وعن أبي هريرة قال: نهى رسول الله ﷺ عن الخصر في الصلاة . (متفق عليه)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সলাতে কোমর বা কাঁধে হাত রেখে ক্বিয়াম করতে নিষেধ করেছেন। (বুখারী, মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৯৮২
وعن عائشة رضي الله عنها قالت: سألت رسول الله ﷺ عن الالتفات في الصلاة فقال: هو اختلاس يختلسه الشيطان من صلاة العبد. (متفق عليه)
তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সলাতে এদিক-সেদিক দৃষ্টি নিক্ষেপ করার ব্যাপারে প্রশ্ন করেছি। তিনি বলেছেন, এটা ছোঁ মারা। শয়তান বান্দাকে সলাত হতে ছোঁ মেরে নিয়ে যায়। (বুখারী, মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৯৮৩
وعن أبي هريرة ؓ قال: قال رسول الله ﷺ: لينتهين أقوام عن رفعهم أبصارهم عند الدعاء في الصلاة إلى السماء أو لتخطفن أبصارهم . رواه مسلم
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেনঃ লোকেরা যেন সলাতে দু‘আ করার সময় নযরকে আসমানের দিকে ক্ষেপন না করে। অন্যথায় তাদের দৃষ্টিকে ছোঁ মেরে নেয়া হবে। (মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৯৮৪
وعن أبى قتادة قالت: رأيت النبي ﷺ يؤم الناس وأمامة بنت أبي العاص على عاتقه فإذا ركع وضعها وإذا رفع من السجود أعادها . (متفق عليه)
তিনি বলেন, আমি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে লোকজন নিয়ে সলাত পড়াতে দেখেছি। এমতাবস্থায় নাতনি উমামাহ্ বিনতু আবুল ‘আস তখন তাঁর কাঁধে থাকত। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন রুকূ‘তে যেতেন উমামাকে নিচে নামিয়ে রাখতেন। আবার যখন তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাজদাহ্ হতে মাথা উঠাতেন, তাকে আবার কাঁধে উঠিয়ে দিতেন। (বুখারী, মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৯৮৫
وعن أبى سعيد الخدري قال: قال رسول الله ﷺ: «إذا تثاءب أحدكم فليكظم ما استطاع فإن الشيطان يدخل» . رواه مسلم
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ সলাতে তোমাদের কারো ‘হাই’ আসলে যথাসাধ্য তা আটকে রাখবে। কারণ (‘হাই’ দেয়ার সময়) শয়তান (মুখে) ঢুকে যায়। (মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৯৮৬
وفي رواية البخاري عن أبي هريرة قال: إذا تثاءب أحدكم في الصلاة فليكظم ما استطاع ولا يقل: ها فإنما ذلكم من الشيطان يضحك منه
তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যখন তোমাদের কারও সলাতের মধ্যে ‘হাই’ আসে, তখন সে যেন স্বীয়শক্তি অনুযায়ী তা প্রতিরোধ করতে চেষ্টা করে এবং ‘হা’ করে মুখ খুলে না দেয়। নিশ্চয়, এটা শায়ত্বনের পক্ষ হতেই হয়ে থাকে, শয়তান তাতে হাসে। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৯৮৭
وعن أبي هريرة ؓ قال: قال رسول الله ﷺ: «إن عفريتا من الجن تفلت البارحة ليقطع علي صلاتى فأمكنني الله منه فأخذته فأردت أن أربطه على سارية من سواري المسجد حتى تنظروا إليه كلكم فذكرت دعوة أخي سليمان: ﴿رب هب لي ملكا لا ينبغي لأحد من ۢبعدي﴾ [ص 38 : 35]، فرددته خاسئا. (متفق عليه)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেনঃ গত রাতে একটি ‘দুষ্ট জিন্’ আমার নিকট ছুটে এসেছে, আমার সলাত বিনষ্ট করার জন্য। আল্লাহ তা‘আলা আমাকে ক্ষমতা দিলেন। ফলে আমি তাকে ধরে ফেললাম। আমি ইচ্ছা করলাম মাসজিদে নাবাবীর কোন একটি খুঁটির সাথে একে বেঁধে ফেলতে, যাতে তোমরা সকলে একে দেখতে পারো। সে মুহূর্তে আমার ভাই সুলায়মান (আঃ)-এর এ দু‘'আটি স্মরণ করলাম, “রাব্বি হাব্লী মুলকান লা- ইয়াম্বাগী লিআহাদীম মিম্ বা’দী” (অর্থাৎ হে আল্লাহ! আমাকে এমন একটি বাদশাহী দান করো, যা আমার পর আর কারো জন্যে সমীচীন হবে না)। তারপর আমি একে অপদস্ত করে ফেরত দিয়েছি। (বুখারী, মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৯৮৮
وعن سهل بن سعد قال: قال رسول الله ﷺ من نابه شيء في صلاته فليسبح فإنما التصفيق للنساء وفي رواية: قال: التسبيح للرجال والتصفيق للنساء. (متفق عليه)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেনঃ সলাতের মধ্যে যে ব্যক্তির কাছে কোন কিছু আপতিত হয় সে ব্যক্তি যেন ‘সুব্হা-নাল্ল-হ' পড়ে নেয়। আর হাত তালি একমাত্র মহিলাদের জন্য নির্দিষ্ট। আরো এক বর্ণনায় আছে, তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, তাসবীহ পড়া পুরুষদের বেলায়, আর হাত তালি দেয়া নারীদের বেলায় প্রযোজ্য। (বুখারী, মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ > দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ৯৮৯
عن عبد الله بن مسعود قال: كنا نسلم على النبي ﷺ وهو في الصلاة قبل أن نأتي أرض الحبشة فيرد علينا فلما رجعنا من أرض الحبشة أتيته فوجدته يصلي فسلمت عليه فلم يرد علي حتى إذا قضى صلاته قال: إن الله يحدث من أمره ما يشاء وإن مما أحدث أن لا تتكلموا في الصلاة . فرد علي السلام
তিনি বলেন, আমরা হাবশাহ্ যাওয়ার পূর্বে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে তাঁর সলাতরত অবস্থায় সালাম দিতাম। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-ও আমাদের সালামের উত্তর দিতেন। আমরা যখন হাবাশাহ্ হতে ফিরে (মাদীনায়) আসি আমি তখন তাকে সলাতরত অবস্থায় পাই। তারপর আমি তাকে সালাম দিলাম কিন্তু তিনি আমাকে সালামের জবাব দিলেন না সলাত শেষ না হওয়া পর্যন্ত, তরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আল্লাহ তা‘আলা যখন যে বিষয় ইচ্ছা করেন সে বিষয় আদেশ জারী করেন। আল্লাহ এখন সলাতে কথাবার্তা না বলার আদেশ জারী করেছেন। অতঃপর তিনি আমার সালামের উত্তর দিলেন। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৯৯০
وقال: «إنما الصلاة لقراءة القرآن وذكر الله فإذا كنت فيها ليكن ذلك شأنك» . رواه أبو داود
এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, সলাত শুধু কুরআন পড়া ও আল্লাহর যিক্র করার জন্য। অতএব তোমরা যখন সলাত আদায় করবে তখন এ অবস্থায়ই থাকবে। (আবূ দাঊদ) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৯৯১
وعن ابن عمر قال: قلت لبلال: كيف كان النبي ﷺ يرد عليهم حين كانوا يسلمون عليه وهو في الصلاة؟ قال: كان يشير بيده. رواه الترمذي وفي رواية النسائي نحوه وعوض بلال صهيب
তিনি বলেন, আমি বিলালকে প্রশ্ন করলাম, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সলাতরত থাকা অবস্থায় তারা রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সালাম দিলে তিনি সালামের জবাব কিভাবে দিতেন? বিলাল উত্তরে বললেন, তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাত দিয়ে (সালামের জবাবে) ইশারা করতেন। (তিরমিযী; নাসায়ীর বর্ণনাও এমনই। তবে তাতে বিলাল-এর স্থলে সুহায়ব (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে বলে উল্লেখ হয়েছে।) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৯৯২
وعن رفاعة بن رافع قال: صليت خلف رسول الله ﷺ فعطست فقلت الحمد لله حمدا كثيرا طيبا مباركا فيه مباركا عليه كما يحب ربنا ويرضى فلما صلى رسول الله ﷺ انصرف فقال: «من المتكلم في الصلاة؟» فلم يتكلم أحد ثم قالها الثانية فلم يتكلم أحد ثم قالها الثالثة فقال رفاعة: أنا يا رسول الله. فقال النبي ﷺ: والذي نفسي بيده لقد ابتدرها بضعة وثلاثون ملكا أيهم يصعد بها» . رواه الترمذي وأبو داود والنسائي
তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পেছনে সলাত আদায় করলাম। (সলাতের মধ্যে) আমি হাঁচি দিলাম। আমি ক্বালিমায়ে হাম্দ অর্থাৎ “আলহাম্দু লিল্লা-হি হাম্দান কাসীরান ত্বইয়্যিবাম্ মুবা-রাকান ফীহি মুবা-রাকান ‘আলায়হি কামা- ইউহিব্বু রব্বুনা- ওয়া ইয়ার্যা-” পাঠ করলাম। সলাত শেষ করে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফিরে বললেন, সলাতের মাঝে কথা বলল কে? এতে কেউ কোন কথা বলেনি, তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পুনরায় প্রশ্ন করলেন। তবুও কেউ কোন কথা বলেনি। তৃতীয়বার তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আবার প্রশ্ন করলেন। এবার রিফা‘আহ্ (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমি। নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, ঐ জাতের শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ! ত্রিশের বেশি মালাক (ফেরেশ্তা) এ ক্বালিমায়ে হাম্দগুলো কার আগে কে উপরে নিয়ে যাবে এ নিয়ে প্রতিযোগিতা করছে। (তিরমিয়ী, আবু দাঊদ, ইবনু মাজাহ) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৯৯৩
وعن أبي هريرة قال: قال رسول الله ﷺ: «التثاؤب في الصلاة من الشيطان فإذا تثاءب أحدكم فليكظم ما استطاع» . رواه الترمذي وفي أخرى له ولابن ماجه: فليضع يده على فيه
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেনঃ সলাতে ‘হাই’ তোলা শায়ত্বনের কর্ম। অতএব সলাতে তোমাদের কেউ হাই তুললে তা যথাসম্ভব বারণ করার চেষ্টা করবে। (তিরমিযী; তাঁর অন্য বর্ণনা ও ইবনু মাজাহ-এর বর্ণনায় এ শব্দগুলো আছেঃ অর্থাৎ রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, সলাতে ‘হাই’ আসলে সে যেন নিজের হাত মুখের উপর রাখে।) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৯৯৪
وعن كعب بن عجرة قال: قال رسول الله ﷺ: «إذا توضأ أحدكم فأحسن وضوءه ثم خرج عامدا إلى المسجد فلا يشبكن بين أصابعه فإنه في الصلاة» . رواه أحمد وأبو داود والترمذي والنسائي والدارمي
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন উযূ করে তখন সে সুন্দর করে উযূ করবে। তারপর সলাতের উদ্দেশ্য করে মাসজিদে যাবে। আর তখন এক হাতের আঙ্গুলকে অন্য হাতের আঙ্গুলের মধ্যে ঢুকিয়ে মটকাবে না। কেননা সে সলাতে আছে। (আহ্মাদ, তিরমিযী, আবূ দাঊদ, নাসায়ী, দারিমী) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৯৯৫
وعن أبي ذر قال: قال رسول الله ﷺ: «لا يزال الله عز وجل مقبلا على العبد وهو في صلاته ما لم يلتفت فإذا التفت انصرف عنه». رواه أحمد وأبو داود والنسائي والدارمي
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যখন কোন বান্দা সলাতের মধ্যে থাকে, আল্লাহ তা’আলা তার সঙ্গে থাকেন, যতক্ষন না সে এদিক সেদিক দৃষ্টি ফেরায়। আর সে এদিক সেদিক নযর করলে তিনি তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন। (আহমাদ, আবূ দাঊদ, নাসায়ী, দারিমী) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৯৯৬
وعن أنس أن النبي ﷺ قال: «يا أنس اجعل بصرك حيث تسجد» . رواه البيهقي في سننه الكبير من طريق الحسن عن أنس يرفعه
তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বললেন, হে আনাস! সলাতে তুমি তোমার দৃষ্টিকে সাজদার স্থানে রাখবে। (এ হাদীসটিকে ইমাম বায়হাক্বী ‘সুনানে কাবীরের আনাস (রাঃ) থেকে হাসান এর সূত্রে হাদীসটি মারফূ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন)। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৯৯৭
وعنه قال: قال رسول الله ﷺ: يا بني إياك والالتفات في الصلاة فإن الالتفات في الصلاة هلكة. فإن كان لابد ففي التطوع لا في الفرضية . رواه الترمذي
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বললেন, হে আমার বৎস! সলাতে এদিক-সেদিক তাকানো থেকে সাবধান থাকো। কারণ সলাতে (ঘাড় ফিরিয়ে) এদিক-সেদিক লক্ষ্য করা ধ্বংসাত্নক কান্ড। যদি নিরুপায় হয়ে পড় তবে নাফ্ল সলাতের ক্ষেত্রে (অনুমতি থাকবে) ফার্জ সলাতের ক্ষেত্রে নয়। (তিরমিযী) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৯৯৮
وعن ابن عباس رضي الله عنهما قال: إن رسول الله ﷺ كان يلحظ في الصلاة يمينا وشمالا ولا يلوي عنقه خلف ظهره. رواه الترمذي والنسائي
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সলাতের মাঝে ডানদিকে বামদিকে লক্ষ্য করতেন, পেছনের দিকে গর্দান ঘুরাতেন না। (তিরমিযী, নাসায়ী) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৯৯৯
وعن عدي بن ثابت عن أبيه عن جده رفعه قال: العطاس والنعاس والتثاؤب في الصلاة والحيض والقيء والرعاف من الشيطان . رواه الترمذي
তিনি বলেন যে, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ সলাতের মাঝে হাঁচি আসা, তন্দ্রা আসা, হাই তোলা, মাসিক হওয়া, বমি হওয়া, নাক দিয়ে রক্ত নির্গত হওয়া শয়তান কর্তৃক আয়োজিত হয়। (তিরমিযী) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১০০০
وعن مطرف بن عبد الله بن الشخير عن أبيه قال: أتيت النبي ﷺ وهو يصلى ولجوفه أزيز كأزيز المرجل يعنى: يبكى وعن مطرف بن عبد الله بن الشخير عن أبيه قال: أتيت النبي ﷺ وهو يصلى ولجوفه أزيز كأزيز المرجل يعنى: يبكى. وفي رواية قال: رأيت النبي ﷺ يصلى وفى صدره أزيز كأزيز الرحا من البكاء. رواه أحمد وروى النسائي الرواية الأولى وأبو داود الثانية
তিনি বলেন, আমি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর নিকট আসলাম এমতাবস্থায় যে, তিনি সলাত আদায় করতেছিলেন এবং তাঁর ভিতর থেকে টগবগে আওয়াজ হচ্ছিল যেমন ডেগের ফুটন্ত পানির টগবগ আওয়াজ হয়। অর্থাৎ তিনি কান্নাকাটি করছিলেন। আর এক বর্ণনায় আছে, তিনি বলেছেন, আমি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সলাত আদায় করতে দেখেছি। এমতাবস্থায় তাঁর সিনার মধ্যে চাক্কির আওয়াজের ন্যায় কান্নার আওয়াজ থাকত। (আহমাদ, নাসায়ী প্রথমাংশটুকু, আবূ দাঊদ দ্বিতীয়াংশটুকু বর্ণনা করেছেন) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১০০১
وعن أبي ذر قال: قال رسول الله ﷺ: إذا قام أحدكم إلى الصلاة فلا يمسح الحصى فإن الرحمة تواجهه . رواه أحمد والترمذي وأبو داود والنسائي وابن ماجه
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন সলাতে দাঁড়াবে সে যেন হাত দিয়ে পাথর ঘষে না উঠায়। কেননা রহ্মাত তার সম্মুখ দিয়ে আগমন করে। (আহমাদ, তিরমিযী, আবূ দাঊদ, নাসায়ী, ইবনু মাজাহ) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১০০২
وعن أم سلمة قالت: رأى النبي ﷺ غلاما لنا يقال له: أفلح إذا سجد نفخ فقال: «يا أفلح ترب وجهك . رواه الترمذي
তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমদের ‘আফলাহ’ নামক গোলামকে দেখলেন যে, সে যখন সাজদায় যায় (তখন সাজদার স্থান সাফ করার জন্য) ফুঁ দেয়। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, হে আফ্লাহ! তুমি তোমার চেহারাকে ধূলিময় করো। (তিরমিযী) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১০০৩
وعن ابن عمر رضي الله عنهما قال: قال رسول الله ﷺ: الاختصار في الصلاة راحة أهل النار . رواه فى شرح السنة
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেনঃ সলাতে কোমরে হাত বেঁধে দাঁড়ানো জাহান্নামীদের বিশ্রাম স্বরূপ। (শারহুস সুন্নাহ) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১০০৪
وعن أبي هريرة ؓ قال: قال رسول الله ﷺ: اقتلوا الأسودين في الصلاة الحية والعقرب . رواه أحمد وأبو داود والترمذي وللنسائي معناه
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ সলাতরত অবস্থায়ও দু’ ‘কালোকে’ হত্যা করো অর্থাৎ সাপ ও বিচ্ছুকে। (আহমাদ, আবূ দাঊদ, আবূ দাঊদ, তিরমিযী, নাসায়ী অর্থের দিক দিয়ে) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১০০৫
وعن عائشة رضي الله عنها قالت: كان رسول الله ﷺ يصلي تطوعا والباب عليه مغلق فجئت فاستفتحت فمشى ففتح لي ثم رجع إلى مصلاه وذكرت أن الباب كان في القبلة. رواه أحمد وأبو داود والترمذي وروى النسائي نحوه
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নাফ্ল সলাত আদায় করতেন এমতাবস্থায় দরজা বন্ধ থাকত। আমি এসে দরজা খুলতে বলতাম। তিনি হেঁটে এসে দরজা খুলে দিয়ে আবার মুসাল্লায় চলে যেতেন। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, দরজা ছিল ক্বিবলামুখী। (আহমাদ, আবূ দাঊদ, তিরমিযী, নাসায়ীতে অনুরূপ) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১০০৬
وعن طلق بن علي قال: قال رسول الله ﷺ: إذا فسا أحدكم في الصلاة فلينصرف فليتوضأ وليعد الصلاة . رواه أبو داود وروى الترمذي مع زيادة ونقصان
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেনঃ সলাতরত অবস্থায় তোমাদের কেউ যখন নিঃশব্দে বাতাস বের করে, সে যেন ফিরে গিয়ে উযূ করে এসে পুনরায় সলাত আদায় করে নেয়। (আবূ দাঊদ; এ বর্ণনাটিকে ইমাম তিরমিযীও কিছু বেশ কম করে বর্ণনা করেছেন।) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১০০৭
وعن عائشة رضي الله عنها أنها قالت: قال النبي ﷺ: إذا أحدث أحدكم في صلاته فليأخذ بأنفه ثم لينصرف . رواه أبو داود
তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন সলাতে উযূ ভঙ্গ করে ফেলে সে যেন তার নাক চেপে ধরে তারপর সলাত ছেড়ে চলে আসে। (আবূ দাঊদ) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১০০৮
وعن عبد الله بن عمرو قال: قال رسول الله ﷺ: إذا أحدث أحدكم وقد جلس في آخر صلاته قبل أن يسلم فقد جازت صلاته . رواه الترمذي وقال: هذا حديث إسناده ليس بالقوي وقد اضطربوا في إسناده
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন শেষ বৈঠকের শেষ পর্যায় উপনীত হয়, আর সালাম ফিরানোর আগে উযূ ভঙ্গ হয়ে যায়, তবুও তার সলাত বৈধ হবে। (তিরমিযী; তিনি বলেছেন, এ হাদীসটির সূত্র শক্তিশালী নয় এবং তার সূত্রের মাঝে গণ্ডগোল মনে করছেন হাদীস বিশারদগণ।) [১]