মিশকাতুল মাসাবিহ > তৃতীয় অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ৯৭২
عن الأزرق بن قيس قال: صلى بنا إمام لنا يكنى أبا رمثة قال صليت هذه الصلاة أو مثل هذه الصلاة مع رسول الله ﷺ قال: وكان أبو بكر وعمر يقومان في الصف المقدم عن يمينه وكان رجل قد شهد التكبيرة الأولى من الصلاة فصلى نبي الله ﷺ ثم سلم عن يمينه وعن يساره حتى رأينا بياض خديه ثم انفتل كانفتال أبي رمثة يعني نفسه فقام الرجل الذي أدرك معه التكبيرة الأولى من الصلاة يشفع فوثب إليه عمر فأخذ بمنكبه فهزه ثم قال اجلس فإنه لم يهلك أهل الكتاب إلا أنه لم يكن بين صلواتهم فصل. فرفع النبي ﷺ بصره فقال: «أصاب الله بك يا ابن الخطاب» . رواه أبو داود
তিনি বলেন, আমাদের ইমাম, যার উপনাম ছিল আবূ রিমসাহ্ (রাঃ), তিনি আমাদেরকে সলাত আদায় করালেন। সলাতের শেষে তিনি বললেন, আমি এ সলাত অথবা এ সলাতের মতো সলাত রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)–এর সাথে আদায় করেছি। আবূ রিমসাহ্ বলেন, আবূ বাক্র ও ‘উমার (রাঃ) প্রথম কাতারে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ডানপাশে দাঁড়ালেন। এক লোক এসে সলাতের প্রথম তাকবীরে উপস্থিত হলো। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সলাত আদায় করালেন। অতঃপর তিনি তার ডানে ও বামে সালাম ফিরালেন এমনকি আমরা তাঁর দুই গালের শুভ্রতা দেখতে পেলাম। তারপর তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফিরলেন, যেভাবে রিমসাহ্ ফিরছেন। যে ব্যক্তি প্রথম তাকবীর পেয়েছিল, সে দাঁড়িয়ে সলাত আদায় করতে লাগল। ‘উমার তার দিকে চড়াও হলেন এবং তার দু’ কাঁধ ধরে ধাক্কা দিয়ে বললেন, বসে যাও। কারণ আহ্লে কিতাবরা ধ্বংস হয়েছে এজন্য যে, তারা দু’ সলাতের মাঝে কোন পার্থক্য করত না। ‘উমার-এর এ কথা শুনে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) চোখ তুলে তাকিয়ে বললেন, হে খাত্ত্বাবের ছেলে! আল্লাহ তোমাকে সঠিক পথে পৌঁছিয়ে দিয়েছেন। (আবু দাঊদ) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৯৭৩
وعن زيد بن ثابت قال: أمرنا أن نسبح في دبر كل صلاة ثلاثا وثلاثين ونحمد ثلاثا وثلاثين ونكبر أربعا وثلاثين فأتي رجل في المنام من الأنصار فقيل له أمركم رسول الله ﷺ أن تسبحوا فى دبر كل صلاة كذا وكذا قال الأنصاري في منامه نعم قال فاجعلوها خمسا وعشرين خمسا وعشرين واجعلوا فيها التهليل فلما أصبح غدا على النبي ﷺ فأخبره فقال رسول الله ﷺ: «فافعلوا» . رواه أحمد والنسائي والدارمي
তিনি বলেন, আমাদেরকে নির্দেশ করা হয়েছে, প্রতি সলাতের শেষে ‘সুব্হা-নাল্ল-হ’ তেত্রিশবার, ‘আলহাম্দু লিল্লা-হ’ তেত্রিশবার ও ‘আল্ল-হু আকবার’ চৌত্রিশবার পাঠ করতে। একজন আনসারী স্বপ্নে দেখতে পেল যে, তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কি তোমাদেরকে প্রতি সলাত শেষে এতো এতো বার তাসবীহ পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন? আনসারী স্বপ্নের মধ্যে বলল, হ্যাঁ। মালাক (ফেরেশ্তা) বললেন, এ তিনটি কালিমাকে পঁচিশবার করে পাঠ করার জন্য নির্ধারিত করবে। এবং এর সাথে ‘লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ’ পাঠ করে নিবে। সকালে ঐ আনসারী রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দরবারে উপস্থিত হয়ে তার স্বপ্ন সম্পর্কে তাঁকে অবহিত করলেন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, যা বলা হয়েছে তাই করো। (আহ্মাদ, নাসায়ী, দারিমী) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৯৭৪
وعن علي ؓ قال: سمعت رسول الله ﷺ على اعواد هذا المنبر يقول: «من قرأ آية الكرسي فى دبر كل صلاة لم يمنعه من دخول الجنة إلا الموت ومن قرأها حين يأخذ مضجعه امنه الله على داره ودار جاره وأهل دويرات حوله» . رواه البيهقي فى شعب الإيمان وقال إسناده ضعيف
তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে এ মিম্বারের কাঠের উপর বসে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি প্রতি সলাত শেষে আয়াতুল কুরসী পড়বে তাকে মৃত্যু ব্যতীত আর কোন বিষয় জান্নাতে প্রবেশে বাধা দিতে পারে না। আর যে ব্যক্তি ঘুমাবার সময় আয়াতুল কুরসী পড়বে, আল্লাহ তা‘আলা তার ঘর, প্রতিবেশীদের ঘর ও তার চারপাশের ঘর-বাড়ীর নিরাপত্তা দিবেন। এ হাদীসটি বায়হাক্বী শু‘আবুল ঈমান গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, এর সূত্র দুর্বল। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৯৭৫
وعن عبد الرحمن بن غنم عن النبي ﷺ أنه قال: من قال قبل أن ينصرف ويثني رجليه من صلاة المغرب والصبح لا إله إلا الله وحده لا شريك له له الملك وله الحمد بيده الخير يحيى ويميت وهو على كل شيء قدير عشر مرات كتب له بكل واحدة عشر حسنات ومحيت عنه عشر سيئات ورفع له عشر درجات وكانت حرزا من كل مكروه وحرزا من الشيطان الرجيم ولم يحل لذنب أن يدركه إلا الشرك وكان من أفضل الناس عملا إلا رجلا يفضله يقول أفضل مما قال . رواه أحمد
তিনি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যে ব্যক্তি ফাজ্র ও মাগরিবের সলাতের শেষে জায়গা হতে উঠার ও পা ঘুরানোর আগে এ দু‘আ দশবার পড়েঃ “লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াহ্দাহু লা- শারীকা লাহ্ লাহুল মুল্কু ওয়ালাহুল হাম্দু বিয়াদিহিল খায়রু, ইউহ্য়ী ওয়া ইউমীতু, ওয়াওহুয়া ‘আলা- কুল্লি শাইয়্যিন ক্বদীর” (অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন ইলাহ নেই, তাঁর কোন শরীক নেই, রাজত্ব একমাত্র তাঁরই, সমস্ত প্রশংসা তাঁরই, তাঁর হাতেই সমস্ত কল্যাণ রয়েছে, তিনি জীবন ও মৃত্যু দান করেন, তিনি সমস্ত কিছুর উপর ক্ষমতাবান।)। তাহলে প্রতিবারের বিনিময়ে তার জন্য দশ নেকী লিখা হয়। তার দশটি গুনাহ মিটিয়ে দেয়া হয়। তাকে দশটি মর্যাদার স্তরে উন্নীত করা হয়। আর এ দু‘আ তাকে সমস্ত অপছন্দনীয় ও বিতাড়িত শয়তান থেকে দূরে সরিয়ে রাখে। শির্ক ছাড়া অন্য কোন গুনাহের কারণে তাকে ধর-পাকড় করা হালাল হবে না। ‘আমালের দিক দিয়ে এ লোক হবে অন্য লোকের চেয়ে উত্তম, তবে সে ব্যক্তি ব্যাতীত যে এর চেয়েও অতি উত্তম ‘আমাল করবে। (আহ্মাদ) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৯৭৬
وروى الترمذي نحوه عن أبي ذر إلى قوله: «إلا الشرك» ولم يذكر: «صلاة المغرب» ولا «بيده الخير» وقال: هذا حديث حسن صحيح غريب
এ বর্ণনাটি ইমাম তিরমিযী আবূ যার (রাঃ)-এর সূত্রে .... “ইল্লাশ্ শির্কা” পর্যন্ত হুবহু বর্ণনা করেছেন। সে তার বর্ণনায় <<صَلَاةَ الْمَغْرِبِ>> “সালা-তাল মাগরিব” ও <<بِيَدِهِ الْخَيْرُ>> “বিয়াদিহিল খয়র” শব্দ উল্লেখ করেনি। (তিনি [তিরমিযী] বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গরীব।) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৯৭৭
وعن عمر بن الخطاب ؓ أن النبي ﷺ بعث بعثا قبل نجد فغنموا غنائم كثيرة وأسرعوا الرجعة فقال رجل منا لم يخرج ما رأينا بعثا أسرع رجعة ولا أفضل غنيمة من هذا البعث فقال النبي ﷺ: ألا أدلكم على قوم أفضل غنيمة وأفضل رجعة؟ قوما شهدوا صلاة الصبح ثم جلسوا يذكرون الله حتى طلعت عليهم الشمس أولئك أسرع رجعة وأفضل غنيمة . رواه الترمذي وقال هذا حديث غريب لا نعرفه إلا من هذا الوجه وحماد بن أبى حميد هو الضعيف في الحديث
নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক সৈন্য বাহিনী নাজ্দ-এর দিকে প্রেরণ করলেন। তারা অনেক গানীমাতের মাল প্রাপ্ত হলেন এবং দ্রুত মাদীনায় ফিরে এলেন। আমাদের মাঝে এক লোক যে ঐ বাহিনীর সাথে বের হয়নি, সে বলল, আমরা এমন কোন বাহিনী দেখিনি এত স্বল্প সময়ের মধ্যে এত উত্তম গানীমাতের মাল নিয়ে ফেরত আসতে। এটা শুনে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আমি কি তোমাদেরকে এমন একটি দলের নির্দেশনা দেব না যারা গানীমাতের মালেও দ্রুত ফিরে আসার ব্যাপারে এদের চেয়েও উত্তম? তিনি বললেন, যারা ফাজ্রের সলাতে হাজির হয়, তারপর সূর্য উঠা পর্যন্ত বসে বসে আল্লাহর যিক্র করে। এরাই দ্রুত ফিরে আসা ও উত্তম গানীমাতের মাল আনার লোকদের চেয়েও বেশী উত্তম। (তিরমিযী; তিনি বলেন, হাদীসটি গরীব। আর এর একজন বর্ণনাকারী হাম্মাদ ইবনু আবূ হুমায়দ হাদীস শাস্ত্রে দুর্বল।) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ > প্রথম অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ৯৭৮
عن معاوية ابن الحكم قال: بينا أنا أصلي مع رسول الله ﷺ إذ عطس رجل من القوم فقلت: يرحمك الله. فرماني القوم بأبصارهم. فقلت: وا ثكل أمياه ما شأنكم تنظرون إلي فجعلوا يضربون بأيديهم على افخاذهم فلما رأيتهم يصمتونني لكني سكت فلما صلى رسول الله ﷺ فبأبي هو وأمي ما رأيت معلما قبله ولا بعده أحسن تعليما منه فوالله ما كهرني ولا ضربني ولا شتمني قال: «إن هذه الصلاة لا يصلح فيها شيء من كلام الناس إنما هو التسبيح والتكبير وقراءة القران أو كما قال رسول الله ﷺ. قلت: يا رسول الله إنى حديث عهد بجاهلية وقد جاء الله بالإسلام وإن منا رجالا يأتون الكهان. قال: فلا تأتهم . قلت: ومنا رجال يتطيرون. قال: ذاك شيء يجدونه في صدورهم فلا يصدنهم . قال قلت ومنا رجال يخطون. قال: كان نبي من الأنبياء يخط فمن وافق خطه فذاك . رواه مسلم قوله: لكنى سكت هكذا وجدت في صحيح مسلم وكتاب الحميدي وصحح في جامع الأصول بلفظة كذا فوق: لكنى
তিনি বলেন, একদিন আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে সলাত আদায় করি। যখন মুসল্লীদের মাঝে থেকে একজন হাঁচি দিলো তখন আমি ‘ইয়ারহামুকাল্ল-হ’ বললাম। ফলে লোকজন আমার প্রতি দৃষ্টি ক্ষেপন করল। আমি বললাম, তোমাদের মা সন্তানহারা শোকাহত হোক। তোমাদের কি হলো যে, তোমরা আমার দিকে এমন করে তাকাচ্ছো? মুসল্লীরা আমাকে নীরব করানোর জন্য নিজ নিজ রানের উপর হাত দিয়ে মারতে লাগল। আমি যখন লক্ষ্য করলাম তারা আমাকে চুপ থাকতে বলছে, তখন আমি নীরব হয়ে গেলাম। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সলাত শেষ করলেন। আমার মাতা-পিতা তাঁর জন্যে উৎসর্গ হোক। তার চেয়ে এত চমৎকার শিক্ষাদানে কোন শিক্ষক তার পরবর্তীকালে বা তার পূর্ববর্তীকালে আমি দেখিনি। তিনি আমাকে না ধমকি দিলেন, না মারলেন, না বক্লেন। তিনি শুধু এতটুকু বললেন, এ সলাতে মানবীয় কথাবার্তা বলা উপযুক্ত নয়। সলাত হলো ‘তাসবীহ’ পড়া, ‘তাকবীর’ বলা ও কুরআন পড়ার নাম। অথবা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এমনটি বলেছেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমি জাহিলী যুগ ত্যাগকারী এক নতুন বান্দা। আল্লাহ আমাদেরকে ইসলামে নিয়ে আসছেন। আমাদের মধ্যে অনেকে গণকের কাছে আসে। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তুমি তাদের কাছে আসবে না। আমি আবেদন করলাম, আমাদের অনেকে শুভ-অশুভ লক্ষণ মানে। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, এটা এমন একটা বিষয় যা তারা নিজেদের মনের মধ্যে পেয়ে থাকে। তা যেন তাদেরকে কোন কাজ থেকে বিরত না রাখে। মু‘আবিয়াহ্ (রাঃ) বলেন, আমি আবার বললাম, আমাদের মধ্যে এমন কতগুলো লোক আছে যারা রেখা টানে (ভবিষ্যদ্বানী করে)। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, নাবীদের মধ্যে একজন নাবী রেখা টানতেন। অতএব কারো রেখা টানা এ নাবীর রেখা টানার সাথে মিল থাকলে ঠিক আছে। (মুসলিম; মিশকাত সংকলকের উক্তি- তিনি বলেন, আমি “ওয়ালাকিন্নী সাকাততু”-কে সহীহ মুসলিম ও হুমায়দীর পুস্তকে এভাবে পেয়েছি। তবে জামিউল উসূল-এর লেখক লাকিন্নী শব্দের উপর كزا শব্দের দ্বারা বিশুদ্ধতার প্রতি ইশারা করছে।) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৯৭৯
وعن عبد الله بن مسعود قال: كنا نسلم على النبي ﷺ وهو في الصلاة فيرد علينا فلما رجعنا من عند النجاشي سلمنا عليه فلم يرد علينا فقلنا: يا رسول الله كنا نسلم عليك في الصلاة فترد علينا فقال: «إن في الصلاة لشغلا (متفق عليه)
তিনি বলেন, আমরা নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সলাতরত অবস্থায় সালাম দিতাম। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের সালামের জবাব দিতেন। আমরা যখন নাজাশী বাদশাহর নিকট থেকে ফিরে এসে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সালাম দিলাম, তখন তিনি আমাদের সালামের জবাব দেননি। আমরা আরজ করলাম, হে আল্লাহর রসূল! আমরা আপনাকে সলাতের মধ্যে সালাম দিতাম, আপনি সালামের জবাব দিতেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, সলাতের মধ্যে অবশ্যই ব্যস্ততা আছে। (বুখারী, মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৯৮০
وعن معيقيب عن النبي ﷺ في الرجل يسوي التراب حيث يسجد؟ قال: إن كنت فاعلا فواحدة. (متفق عليه)
নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)–কে এক লোক সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলো যে ব্যক্তি সলাতে সাজদার স্থানের মাটি সমান করে। তিনি বললেন, যদি তা করতেই চাও তবে শুধু একবার তা করবে। (বুখারী, মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৯৮১
وعن أبي هريرة قال: نهى رسول الله ﷺ عن الخصر في الصلاة . (متفق عليه)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সলাতে কোমর বা কাঁধে হাত রেখে ক্বিয়াম করতে নিষেধ করেছেন। (বুখারী, মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৯৮২
وعن عائشة رضي الله عنها قالت: سألت رسول الله ﷺ عن الالتفات في الصلاة فقال: هو اختلاس يختلسه الشيطان من صلاة العبد. (متفق عليه)
তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সলাতে এদিক-সেদিক দৃষ্টি নিক্ষেপ করার ব্যাপারে প্রশ্ন করেছি। তিনি বলেছেন, এটা ছোঁ মারা। শয়তান বান্দাকে সলাত হতে ছোঁ মেরে নিয়ে যায়। (বুখারী, মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৯৮৩
وعن أبي هريرة ؓ قال: قال رسول الله ﷺ: لينتهين أقوام عن رفعهم أبصارهم عند الدعاء في الصلاة إلى السماء أو لتخطفن أبصارهم . رواه مسلم
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেনঃ লোকেরা যেন সলাতে দু‘আ করার সময় নযরকে আসমানের দিকে ক্ষেপন না করে। অন্যথায় তাদের দৃষ্টিকে ছোঁ মেরে নেয়া হবে। (মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৯৮৪
وعن أبى قتادة قالت: رأيت النبي ﷺ يؤم الناس وأمامة بنت أبي العاص على عاتقه فإذا ركع وضعها وإذا رفع من السجود أعادها . (متفق عليه)
তিনি বলেন, আমি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে লোকজন নিয়ে সলাত পড়াতে দেখেছি। এমতাবস্থায় নাতনি উমামাহ্ বিনতু আবুল ‘আস তখন তাঁর কাঁধে থাকত। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন রুকূ‘তে যেতেন উমামাকে নিচে নামিয়ে রাখতেন। আবার যখন তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাজদাহ্ হতে মাথা উঠাতেন, তাকে আবার কাঁধে উঠিয়ে দিতেন। (বুখারী, মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৯৮৫
وعن أبى سعيد الخدري قال: قال رسول الله ﷺ: «إذا تثاءب أحدكم فليكظم ما استطاع فإن الشيطان يدخل» . رواه مسلم
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ সলাতে তোমাদের কারো ‘হাই’ আসলে যথাসাধ্য তা আটকে রাখবে। কারণ (‘হাই’ দেয়ার সময়) শয়তান (মুখে) ঢুকে যায়। (মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৯৮৬
وفي رواية البخاري عن أبي هريرة قال: إذا تثاءب أحدكم في الصلاة فليكظم ما استطاع ولا يقل: ها فإنما ذلكم من الشيطان يضحك منه
তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যখন তোমাদের কারও সলাতের মধ্যে ‘হাই’ আসে, তখন সে যেন স্বীয়শক্তি অনুযায়ী তা প্রতিরোধ করতে চেষ্টা করে এবং ‘হা’ করে মুখ খুলে না দেয়। নিশ্চয়, এটা শায়ত্বনের পক্ষ হতেই হয়ে থাকে, শয়তান তাতে হাসে। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৯৮৭
وعن أبي هريرة ؓ قال: قال رسول الله ﷺ: «إن عفريتا من الجن تفلت البارحة ليقطع علي صلاتى فأمكنني الله منه فأخذته فأردت أن أربطه على سارية من سواري المسجد حتى تنظروا إليه كلكم فذكرت دعوة أخي سليمان: ﴿رب هب لي ملكا لا ينبغي لأحد من ۢبعدي﴾ [ص 38 : 35]، فرددته خاسئا. (متفق عليه)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেনঃ গত রাতে একটি ‘দুষ্ট জিন্’ আমার নিকট ছুটে এসেছে, আমার সলাত বিনষ্ট করার জন্য। আল্লাহ তা‘আলা আমাকে ক্ষমতা দিলেন। ফলে আমি তাকে ধরে ফেললাম। আমি ইচ্ছা করলাম মাসজিদে নাবাবীর কোন একটি খুঁটির সাথে একে বেঁধে ফেলতে, যাতে তোমরা সকলে একে দেখতে পারো। সে মুহূর্তে আমার ভাই সুলায়মান (আঃ)-এর এ দু‘'আটি স্মরণ করলাম, “রাব্বি হাব্লী মুলকান লা- ইয়াম্বাগী লিআহাদীম মিম্ বা’দী” (অর্থাৎ হে আল্লাহ! আমাকে এমন একটি বাদশাহী দান করো, যা আমার পর আর কারো জন্যে সমীচীন হবে না)। তারপর আমি একে অপদস্ত করে ফেরত দিয়েছি। (বুখারী, মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৯৮৮
وعن سهل بن سعد قال: قال رسول الله ﷺ من نابه شيء في صلاته فليسبح فإنما التصفيق للنساء وفي رواية: قال: التسبيح للرجال والتصفيق للنساء. (متفق عليه)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেনঃ সলাতের মধ্যে যে ব্যক্তির কাছে কোন কিছু আপতিত হয় সে ব্যক্তি যেন ‘সুব্হা-নাল্ল-হ' পড়ে নেয়। আর হাত তালি একমাত্র মহিলাদের জন্য নির্দিষ্ট। আরো এক বর্ণনায় আছে, তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, তাসবীহ পড়া পুরুষদের বেলায়, আর হাত তালি দেয়া নারীদের বেলায় প্রযোজ্য। (বুখারী, মুসলিম) [১]