মিশকাতুল মাসাবিহ > তৃতীয় অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ৯৩২
عن أبي هريرة قال قال رسول الله ﷺ من سرهٗ أن يكتال بالمكيال الأوفـى إذا صلـى علينا أهل البيت فليقل اللهم صل علـى محمد النبي الامـى وأزواجه أمهات المؤمنين وذريته وأهل بيته كما صليت على ال إبراهيم إنك حميد مجيد. رواه أبو داوٗد
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি পূর্ণ মাপে বেশী বেশী সাওয়াব লাভে আনন্দিত হতে চায়, সে যেন আমার উপর দরূদ পাঠ করে, আহলে বায়তের উপরও যেন দরূদ পাঠ করে। বলে, আল্লাহুম্মা সল্লি আলা- মুহাম্মাদীন্নাবীয়্যিল উম্মিয়্যি, ওয়া আযওয়াযিহী, ওয়া উম্মাহাতিল মুমিনীনা, ওয়া যুররিয়্যাতিহী ওয়া আহলে বায়তিহী, কামা- সল্লায়তা আলা- আ –লি ইবরাহীমা, ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ” । (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! নাবী মুহাম্মাদ, তাঁর স্ত্রীগণ, মুমিনদের মা, তাঁর বংশধর ও পরিবার-পরিজনের উপর রহমাত অবতীর্ণ কর। যেভাবে, তুমি রাহমাত অবতীর্ণ করেছ ইবরাহীম ও তাঁর পরিবার-পরিজনের উপর)। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৯৩৩
وعن علي بن أبي طالب قال قال رسول الله ﷺ البخيل الذي من ذكرت عندهٗ فلم يصل علـي . رواه الترمذي ورواه أحمد عن الحسين بن على رضي الله عنهما وقال الترمذي هذا حديث حسن صحيح غريب
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ প্রকৃত কৃপণ হল সে ব্যক্তি যার কাছে আমার নাম উচ্চারিত হবার পর আমার উপর দরূদ পাঠ করেনি। [৯৫৭] হাদীসটি ইমাম আহমাদ হুসায়ন ইবনু আলী হতে নকল করেছেন; আর ইমাম তিরমিযী বলেছেন, হাদীসটি হাসান, সহীহ ও গরীব। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৯৩৪
وعن أبي هريرة قال قال رسول الله ﷺ من صلـى علـى عند قبرى سمعتهٗ ومن صلـى علـى نائيا ابلغتهٗ. رواه البيهقى فى شعب الايمان
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আমার ক্ববরের কাছে দাঁড়িয়ে থেকে আমার উপর দরূদ পড়ে আমি তা সরাসরি শুনতে পাই। আর যে ব্যক্তি দূর থেকে আমার প্রতি দরূদ পড়ে তা আমার কাছে পৌছিয়ে দেয়া হয়। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৯৩৫
وعن عبد الله بن عمرو قال من صلى على النبي ﷺ واحدة صلى الله عليه وملائكته سبعين صلاة. رواه أحمد
তিনি বলেন, যে ব্যক্তি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর উপর একবার দরূদ পাঠ করবে আল্লাহ তা’আলা ও তাঁর মালায়িকাহ তার উপর সত্তরবার দরূদ পাঠ করেন। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৯৩৬
وعن رويفع أن رسول الله ﷺ قال من صلى على محمد وقال اللهم أنزله المقعد المقرب عندك يوم القيامة وجبت له شفاعتي. رواه أحمد
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর উপর দরূদ পড়বে এবং বলবে, “আল্লাহুম্মা আনজিলহু মাকআদাল মুকাররাবা ইনদাকা ইয়াওমাল ক্বিয়ামাতি”। (হে আল্লাহ! তাঁকে তুমি ক্বিয়ামাতের দিন তোমার কাছে মর্যাদাপূর্ণ স্থান দিও) আমার সুপারিশ তার জন্য অনিবার্য হয়ে যাবে। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৯৩৭
وعن عبد الرحمن بن عوف قال خرج رسول الله ﷺ حتى دخل نخلا فسجد فأطال السجود حتى خشيت أن يكون الله تعالى قد توفاه قال فجئت أنظر فرفع رأسه فقال ما لك فذكرت له ذلك قال فقال إن جبريل عليه السلام قال لي ألا أبشرك إن الله عز وجل يقول لك من صلى عليك صلوة صليت عليه ومن سلم عليك سلمت عليه. رواه أحمد
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঘর থেকে বের হয়ে একটি খেজুর বাগানে প্রবেশ করলেন। এখানে তিনি আল্লাহর দরবারে সাজদারত হলেন। সাজদাহ এত দীর্ঘ করলেন যে, আমি ভীত হয়ে পড়লাম। আল্লাহ না করুক তাঁকে তো আবার আল্লাহ মৃত্যুমুখে পতিত করেননি? আবদুর রহমান বলেন, তাই আমি তাঁর কাছে এলাম, পরখ করে দেখার জন্য। তিনি মাথা উঠালেন এবং বললেন, কি হয়েছে? আমি তাঁকে আমার আশংকার কথা বললাম। আবদুর রহমান বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তখন আমাকে বললেনঃ জিবরীল (আঃ) আমাকে বললেন, আমি কি আপনাকে এই শুভ সংবাদ দিবো না যা আল্লাহ তাআলা আপনার ব্যাপারে বলেন? যে ব্যক্তি আপনার উপর দরূদ পাঠ করবে আমি তার প্রতি রাহমাত বর্ষণ করব। যে ব্যক্তি আপনার প্রতি সালাম পাঠাবে আমি তার প্রতি শান্তি নাযিল করব। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৯৩৮
وعن عمر بن الخطاب قال إن الدعاء موقوف بين السماء والأرض لا يصعد منه شيء حتى تصلي على نبيك. رواه الترمذي
তিনি বলেন, দুআ আসমান ও জমিনের মধ্যে লটকিয়ে থাকে। এর থেকে কিছুই উপরে উঠে না যতক্ষণ পর্যন্ত তোমরা তোমাদের নাবীর উপর দরূদ না পাঠাও। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ > প্রথম অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ৯৩৯
عن عائشة قالت كان رسول الله ﷺ يدعو في الصلاة يقول اللهم إني أعوذ بك من عذاب القبر وأعوذ بك من فتنة المسيح الدجال وأعوذ بك من فتنة المحيا وفتنة الممات اللهم إني أعوذ بك من المأثم والمغرم فقال لهٗ قائل ما أكثر ما تستعيذ من المغرم فقال إن الرجل إذا غرم حدث فكذب ووعد فأخلف . متفق عليه
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সলাতের মধ্যে (সালাম ফিরাবার আগে) দুআ করতেন। বলতেন, “আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযুবিকা মিন আযাবিল ক্ববরি, ওয়া আউযু্বিকা মিন ফিতনাতিল মাসীহিদ দাজ্জালি। ওয়া আউযুবিকা মিন ফিতনাতিল মাহইয়া- ওয়া ফিতনাতিল মামাতি। আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযুবিকা মিনাল মাসামি ওয়াল মাগরামি”। (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট পানাহ চাচ্ছি ক্ববরের আযাব থেকে। আমি তোমার নিকট পানাহ চাচ্ছি দাজ্জালের পরীক্ষা হতে। আমি তোমার নিকট পানাহ চাচ্ছি জীবন ও মৃত্যুর পরীক্ষা হতে। হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে পানাহ চাচ্ছি গুনাহ ও দেনার বোঝা হতে)। এক ব্যক্তি বলল, নাবী! আপনি দেনার বোঝা হতে বড় বেশী পানাহ চেয়ে থাকেন। নাবী (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ কেউ যখন দেনাদার হয় তখন কথা বলে, মিথ্যা বলে এবং অঙ্গীকার করে তা ভঙ্গ করে। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৯৪০
وعن أبي هريرة قال قال رسول الله ﷺ إذا فرغ أحدكم من التشهد الاخر فليتعوذ بالله من أربع من عذاب جهنم ومن عذاب القبر ومن فتنة المحيا والممات ومن شر المسيح الدجال. رواه مسلم
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ সলাতের শেষে শেষ তাশাহহুদ পড়ে অবসর হয়ে যেন আল্লাহর কাছে চারটি জিনিস হতে পানাহ চায়। (১) জাহান্নামের আযাব। (২) কবরের আযাব। (৩) জীবন ও মৃত্যুর ফিতনাহ। (৪) মাসীহুদ দাজ্জালের অনিষ্ট। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৯৪১
وعن ابن عباس رضي الله عنهما أن النبي ﷺ كان يعلمهم هذا الدعاء كما يعلمهم السورة من القرآن يقول قولوا اللهم انـى اعوذ بك من عذاب جهنم وأعوذ بك من عذاب القبر وأعوذ بك من فتنة المسيح الدجال وأعوذ بك من فتنة المحيا والممات. رواه مسلم
তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদেরকে এই দুআ শিক্ষা দিতেন যেমন তাদেরকে কুরআনের সূরাহ শিক্ষা দিতেন। তিনি বলতেন, তোমরা বলো, “আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযুবিকা মিন আযাবি জাহান্নাম, ওয়া আউযুবিকা মিন আযাবিল ক্ববরি, ওয়া আউযুবিকা মিন ফিতনাতিল মাসীহিদ দাজ্জাল ওয়া আউযুবিকা মিন ফিতনাতিল মাহইয়া- ওয়াল মামাতি”। (অর্থাৎ হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই জাহান্নামের শাস্তি হতে। তোমার কাছে আশ্রয় চাই ক্ববরের শাস্তি হতে। তোমার নিকট আশ্রয় চাই দাজ্জালের পরীক্ষা হতে। তোমার কাছে আশ্রয় চাই জীবন ও মৃত্যুর পরীক্ষা হতে) ।[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৯৪২
وعن أبي بكر الصديق قال قلت يا رسول الله علمني دعاء أدعو به في صلاتي قال قل «اللهم إني ظلمت نفسي ظلما كثيرا ولا يغفر الذنوب الا أنت فاغفر لي مغفرة من عندك وارحمني إنك أنت الغفور الرحيم». متفق عليه
তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট নিবেদন জানালাম, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে এমন একটি দুআ বলে দিন যা আমি সলাতে (তাশাহহুদের পর) পড়ব। উত্তরে নাবী (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ এ দুআ পড়বে, “আল্লাহুম্মা ইন্নী যলামতু নাফসী যুলমান কাসীরা। ওয়ালা- ইয়াগফিরুয যুনূবা ইল্লা- আনতা। ফাগফিরলী মাগফিরাতম মিন ইনদিকা ওয়ারহামনী। ইন্নাকা আনতাল গাফূরুর রাহীম”। (অর্থাৎ হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আমি আমার নাফসের উপর অনেক যুলুম করেছি। তুমি ছাড়া গুনাহ মাফ করার কেউ নেই। অতএব আমাকে তোমার পক্ষ থেকে মাফ করে দাও। আমার উপর রহম কর। তুমিই ক্ষমাকারী ও রহমতকারী)। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৯৪৩
وعن عامر بن سعد عن أبيه قال كنت أرى رسول الله ﷺ يسلم عن يمينه وعن يساره حتى أرى بياض خده. رواه مسلم
তিনি তার পিতা সাদ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমি দেখেছি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর ডান দিকে ও বাম দিকে এভাবে সালাম ফিরাতেন যে, আমি তাঁর গালের শুভ্রতা দেখতে পেয়েছি। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৯৪৪
وعن سمرة بن جندب قال كان رسول الله ﷺ إذا صلـى صلاة أقبل علينا بوجهه. رواه البخاري
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সলাত পড়া শেষ করে আমাদের দিক মুখ ফিরিয়ে বসতেন। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৯৪৫
وعن أنس قال كان النبي ﷺ ينصرف عن يمينه. رواه مسلم
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সলাত আদায় শেষে ডান দিক মুখ ফিরিয়ে বসতেন। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৯৪৬
وعن عبد الله بن مسعود قال لا يجعل أحدكم للشيطان شيئا من صلاته يرى أن حقا عليه أن لا ينصرف الا عن يمينه لقد رأيت رسول الله ﷺ كثيرا ينصرف عن يساره. متفق عليه
তিনি বলেন, তোমাদের কেউ যেন শায়ত্বনের জন্য নিজেদের সলাতের কোন অংশ নির্দিষ্ট না করে একথা ভেবে যে, শুধু ডান দিকে ঘুরে বসাই তার জন্য নির্দিষ্ট। আমি নিশ্চয়ই রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে অনেকবার বাম দিকেও ঘুরে বসতে দেখেছি। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৯৪৭
وعن البراء قال كنا إذا صلينا خلف رسول الله ﷺ أحببنا أن نكون عن يمينه يقبل علينا بوجهه قال فسمعتهٗ يقول رب قني عذابك يوم تبعث أو تجمع عبادك . رواه مسلم
তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর পিছনে সলাত আদায় করার সময় তাঁর ডান পাশে থাকতে পছন্দ করতাম। তিনি যেন সালাম ফিরাবার পর সর্বপ্রথম আমাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বসেন। বারা (রাঃ) বলেন, একদিন আমি শুনলাম নাবী (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “রাব্বি কিনী আযা বাকা ইয়াও মা তাবআসু আও তাজমাউ ‘ইবাদাকা”। অর্থাৎ “হে আমার রব! তুমি আমাকে তোমার আযাব হতে বাঁচাও। যেদিন তুমি তোমার বান্দাদের হাশরের ময়দানে উঠাবে অথবা একত্র করবে”।[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৯৪৮
وعن أم سلمة قالت أن النساء في عهد رسول الله ﷺ كن إذا سلمن من المكتوبة قمن وثبت رسول الله ﷺ ومن صلـى من الرجال ما شاء الله فإذا قام رسول الله ﷺ قام الرجال. رواه البخاري وسنذكر حديث جابر بن سمرة فـى باب الضحك ان شاء الله تعالـى
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সময় মহিলারা জামাআতে সলাত আদায় করলে সালাম ফিরাবার সাথে সাথে উঠে নিজ নিজ গন্তব্যে চলে যেতেন। আর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর সাথে যে সকল পুরুষ সালাতে শারীক হতেন, যতটুকু সময় আল্লাহ তাআলা তাদের জন্য মঞ্জুর করতেন বসে থাকতেন। তারপর নাবী (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন দাঁড়াতেন সব পুরুষগণও দাঁড়িয়ে চলে যেতেন। [১]