মিশকাতুল মাসাবিহ > তৃতীয় অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ৯১৬
عن جابر قال كان رسول الله ﷺ يعلمنا التشهد كما يعلمنا السورة من القرآن بسم الله وبالله التحيات لله والصلوات والطيبات السلام عليك أيها النبي ورحمة الله وبركاته السلام علينا وعلى عباد الله الصالحين أشهد أن لا إله إلا الله وأشهد أن محمدا عبده ورسوله أسأل الله الجنة وأعوذ بالله من النار. رواه النسآئى
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যেভাবে আমাদেরকে কুরআনের কোন সূরাহ শিক্ষা দিতেন, ঠিক সেভাবে তিনি আমাদেরকে তাশাহহুদও শিখাতেন। তিনি বলতেন, “বিসমিল্লা-হি ওয়া বিল্লা-হি, আততাহিয়্যাতু লিল্লা-হি ওয়াসসালাওয়া-তু ওয়াত ত্বইয়্যিবা-তু আসসালা-মু আলাইকা আইয়্যুহান্নাবীয়্যু, ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওবারাকা-তুহু, আসসালা-ম আলাইনা- ওয়াআলা- ইবা-দিল্লা-হিস সলিহীন। আশহাদু আল্লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহূ ওয়া রসূলুহু। আসআলুল্লা-হাল জান্নাতা ওয়া আউযু বিল্লা-হি মিনান্না-র”। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৯১৭
وعن نافع قال كان عبد الله بن عمر إذا جلس في الصلاة وضع يديه على ركبتيه وأشار بإصبعه وأتبعها بصرهٗ ثم قال قال رسول الله ﷺ لهي أشد على الشيطان من الحديد يعني السبابة. رواه أحمد
তিনি বলেন, ইবনু উমার (রাঃ) যখন সলাতে বসতেন, নিজের দু হাত নিজের দু রানের উপর রাখতেন। আর শাহাদাত আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করতেন এবং তার চোখের দৃষ্টি থাকত আঙ্গুলের প্রতি।। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লা, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ এ শাহাদাত আঙ্গুল শায়ত্বনের কাছে লোহার চেয়ে বেশী শক্ত। অর্থাৎ শাহাদাত আঙ্গুল দিয়ে তাওহীদের ইশারা করা শায়ত্বনের উপর নেযা নিক্ষেপ করার চেয়েও কঠিন। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৯১৮
وعن ابن مسعود كان يقول من السنة اخفاء التشهد- رواه أبو داوٗد والترمذي وقال هذا حديث غريب
তিনি বলতেন, সলাতে তাশাহহুদ চুপে চুপে পড়াই সুন্নাত। আবূ দাঊদ ও তিরমিযী, ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান গারীব বলেছেন। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ > প্রথম অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ৯১৯
عن عبد الرحمن بن أبي ليلى قال لقيني كعب بن عجرة فقال ألا أهدى لك هدية سمعتها من النبي ﷺ فقلت بلى فأهدها لي فقال سألنا رسول الله ﷺ فقلنا يا رسول الله كيف الصلاة عليكم أهل البيت فإن الله قد علمنا كيف نسلم عليك قال قولوا اللهم صل على محمد وعلى آل محمد كما صليت على إبراهيم وعلى آل إبراهيم إنك حميد مجيد اللهم بارك على محمد وعلى آل محمد كما باركت على إبراهيم وعلى آل إبراهيم إنك حميد مجيد. متفق عليه إلا أن مسلما لم يذكر على إبراهيم في الموضعين
তিনি বলেন, কাব ইবনু উজরাহ (রাঃ) এর সাথে আমার দেখা হলে তিনি বললেন, হে আবদুর রহমান! আমি কি তোমাকে একটি কথা উপহার দিব যা আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে শুনেছি? উত্তরে আমি বললাম, হ্যাঁ আমাকে তা উপহার দিন। তিনি বললেন, আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে জিজ্ঞেস করে বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনার প্রতি আমরা ‘সালাম’ কিভাবে পাঠ করব তা আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে শিক্ষা দিয়েছেন। আমরা আপনার ও আপনার পরিবারের প্রতি ‘সলাত’ কিভাবে পাঠ করব? রসূল (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তোমরা বল, “আল্লা-হুম্মা সাল্লি আলা- মুহাম্মাদিও ওয়া ‘আলা- আ –লি মুহাম্মাদিন কামা- সল্লায়তা আলা- ইবরা-হীমা ওয়া আল – আ –লি ইবরা-হীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ। আল্লা-হুম্মা বা-রিক আলা- মুহাম্মাদিন ওয়া আলা- আ –লি মুহাম্মাদিন কামা-বা-রাকতা আলা- ইবরা-হীমা ওয়া আলা- আ –লি ইবরা-হীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ” – (অর্থাৎ হে আল্লাহ! তুমি মুহাম্মদ ও মুহাম্মদের পরিবার-পরিজনের প্রতি রাহমাত বর্ষণ কর, যেভাবে তুমি রাহমাত বর্ষণ করেছ ইবরাহীম ও ইবরাহীমের পরিবার-পরিজনের প্রতি। নিশ্চয় তুমি প্রশংসিত ও সম্মানিত। হে আল্লাহ! তুমি বারাকাত নাযিল কর মুহাম্মাদ ও মুহাম্মাদের পরিবার-পরিজনের প্রতি, যেভাবে তুমি বারাকাত নাযিল করেছ ইবরাহীম ও ইবরাহীমের পরিবার-পরিজনের প্রতি। তুমি বড় প্রশংসিত ও সম্মানিত)। [১] কিন্তু ইমাম মুসলিম-এর বর্ণনায় ‘আলা-ইবরা-হীম’ শব্দ দু স্থানে উল্লিখিত হয়নি।
মিশকাতুল মাসাবিহ ৯২০
وعن ابى حميد الساعدي قال قالوا يا رسول الله كيف نصلـي عليك فقال رسول الله ﷺ قولوا اللهم صل على محمد وأزواجه وذريته كما صليت على ال إبراهيم وبارك على محمد وأزواجه وذريته كما باركت على ال إبراهيم إنك حميد مجيد. متفق عليه
তিনি বলেন, সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমরা আপনার প্রতি কিভাবে দরূদ পাঠ করব? রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তোমরা বল, “আল্লাহুম্মা…..” শেষ পর্যন্ত। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৯২১
وعن أبي هريرة قال قال رسول الله ﷺ من صلى علي واحدة صلى الله عليه عشرا. رواه مسلم
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আমার প্রতি একবার দরূদ শরীফ পাঠ করে আল্লাহ তা’আলা তার প্রতি দশবার রহমাত বর্ষণ করেন। [১]