মিশকাতুল মাসাবিহ > প্রথম অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ৯০৬
عن ابن عمر قال كان رسول الله ﷺ إذا قعد في التشهد وضع يده اليسرى على ركبته اليسرى ووضع يده اليمنى على ركبته اليمنى وعقد ثلاثة وخمسين وأشار بالسبابة . رواه مسلم
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাশাহহুদ পড়ার জন্য বসলে তাঁর বাম হাত বাম পায়ের হাঁটুর উপর এবং ডান হাত ডান হাঁটুর উপর রাখতেন। এ সময় তিনি তিপ্পান্নের মত করার জন্য আঙ্গুল বন্ধ করে রাখতেন, তর্জনী দিয়ে (শাহাদাত) ইশারা করতেন। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৯০৭
وفى رواية كان إذا جلس في الصلاة وضع يديه على ركبتيه ورفع إصبعه اليمنى التي تلـي الإبهام فدعا بها ويده اليسرى على ركبته اليسرى باسطها عليها
যখন সলাতের মধ্যে বসতেন দু’হাত দু’হাটুর উপর রাখতেন এবং ডান হাতের বৃদ্ধার নিকট যে আঙ্গুল রয়েছে (তর্জনী) তা উঠাতেন। তা দিয়ে দু’আ (ইশারা) করতেন। আর তাঁর বাম হাত বাম হাটুর উপর বিছানো থাকত। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৯০৮
وعن عبد الله بن الزبير قال كان رسول الله ﷺ إذا قعد يدعو وضع يده اليمنى على فخذه اليمنى ويده اليسرى على فخذه اليسرى وأشار بإصبعه السبابة ووضع إبهامهٗ على إصبعه الوسطى ويلقم كفه اليسرى ركبته. رواه مسلم
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাশাহহুদ অর্থাৎ আত্তাহিয়্যাতু পড়ার জন্য বসলে নিজের ডান হাত ডান রানের উপর এবং বাম হাত বাম রানের উপর রাখতেন। শাহাদাত আঙ্গুল উঠিয়ে ইশারা করতেন। এ সময় তিনি বৃদ্ধা আঙ্গুল মধ্যমা আঙ্গুলের নিকটে রাখতেন। বাম হাতের তালু দিয়ে বাম হাঁটু জড়িয়ে ধরতেন। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৯০৯
الله وبركاته السلام علينا وعلى عباد الله الصالحين فإنهٗ إذا قال ذلك أصاب كل عبد صالح في السماء والأرض أشهد أن لا إله الا الله وأشهد أن محمدا عبدهٗ ورسولهٗ ثم ليتخير من الدعاء اعجبهٗ إليه فيدعوه. متفق عليه
তিনি বলেন, আমরা যখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাথে সলাত আদায় করতাম তখন এ দুআ পাঠ করতাম, “আসসালা-মু আলাল্ল-হি ক্বাবলা ইবাদিহী, আসসালা-মু আলা-জিবরীলা, আসসালা-মু আলা- মীকায়ীলা, আসসালা-মু আলা- ফুলা-নিন” – (অর্থাৎ- আল্লাহর উপর সালাম তাঁর বান্দাদের উপর পাঠাবার আগে, জিবরাঈলের উপর সালাম, মীকায়ীল-এর উপর সালাম। সালাম অমুকের উপর)। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন সলাত শেষ করলেন, আমাদের দিকে ফিরে বললেন, “আল্লাহর উপর সালাম” বল না। কারণ আল্লাহ তো নিজেই সালাম (শান্তিদাতা)। অতএব তোমাদের কেউ সলাতে বসে বলবে, “আত্তাহিয়্যাতু লিল্লা-হি ওয়াসসালাওয়া-তু ওয়াততায়্যিবা-তু আসসালা-মু আলায়কা আইয়্যুহান নাবিইয়্যু ওয়ারাহমাতুল্ল-হি ওয়াবারাকা-তুহু আসসালা-মু আলায়না ওয়াআলা- ইবা-দিল্লা-হিস স-লিহীন” (অর্থাৎ সব সম্মান, ইবাদাত, উপসানা ও পবিত্রতা আল্লাহর জন্য। হে নাবী! আপনার উপর আল্লাহর সব নেক বান্দাদের উপর সালাম)। নাবী (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, কোন ব্যক্তি এ কথাগুলো বললে এর বারাকাত আকাশ ও মাটির প্রত্যেক নেক বান্দার কাছে পৌছবে। এরপর নাবী (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, “আশহাদু আল্লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রসূলুহু”- (অর্থাৎ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া কোন মাবূদ নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রসূল)। নাবী (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, এরপর আল্লাহর বান্দার কাছে যে দু’আ ভাল লাগে সে দু’আ পাঠ করে আল্লাহর মহান দরবারে আকুতি মিনতি জানাবে। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৯১০
وعن عبد الله ابن عباس قال كان رسول الله ﷺ يعلمنا التشهد كما يعلمنا السورة من القرآن فكان يقول التحيات المباركات الصلوات الطيبات لله السلام عليك أيها النبي ورحمة الله وبركاته السلام علينا وعلى عباد الله الصالحين أشهد أن لا إله الا الله وأشهد أن محمدا عبدهٗ ورسولهٗ. رواه مسلم ولم اجد فى الصحيحين ولا فى الجمع بين الصحيحين سلام عليك وسلام علينا بغير الف ولام ولكن رواه صاحب الجامع عن الترمذي
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে আত্তাহিয়্যাতু শিক্ষা দিতেন, যেভাবে তিনি আমাদেরকে কুরআন মাজীদের সূরাহ শিক্ষা দিতেন। তিনি বলতেন, “আত্তাহিয়্যাতুল মুবা-রাকা-তুস সলাওয়া-তু ওয়াত্তাইয়্যিবা-তু লিল্লা-হি। আসসালা-মু আলায়কা আইয়্যুহান নাবিয়্যু ওয়া রাহমাতুল্ল-হি ওয়া বারাকা-তুহু। আসসালা-মু আলায়না- ওয়া আলা- ইবা-দিল্লা-হিস স-লিহীন। আশহাদু আল্লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদন আবদুহু ওয়ারসূলুহু”। [১] মিশকাত সংকলক বলেন, সালা-মুন আলায়কা ও সালা-মুন আলায়না আলিফ, লাম ছাড়া বুখারী, মুসলিম ও এদের সংকলন হুমায়দীর কিতাবে কোথাও নেই। কিন্তু জামিঊল উসূল প্রণেতা তিরমিযী হতে এভাবে বর্ণনা করেছেন। [2]
মিশকাতুল মাসাবিহ > দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ৯১১
عن وائل بن حجر عن رسول الله ﷺ قال ثم جلس فافترش رجله اليسرى ووضع يده اليسرى على فخذه اليسرى وحد مرفقه الأيمن على فخذه اليمنى وقبض ثنتين وحلق حلقة ثم رفع إصبعهٗ فرأيتهٗ يحركها يدعو بها. رواه أبو داوٗد والدارمي
তিনি (তাশাহহুদের বৈঠক সম্পর্কে) নাবী (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে বর্ণনা করেন। অতঃপর তিনি বাম পা বিছিয়ে দিলেন। বাম হাতকে বাম রানের উপর রাখলেন। এভাবে তিনি ডান কনুইকে ডান রানের উপর বিছিয়ে রাখলেন। এরপর (নব্বইয়ের বন্ধনের ন্যায়) ডান হাতের কনিষ্ঠা ও অনামিকা বন্ধ করলেন। (মধ্যমা ও বৃদ্ধার দ্বারা) একটি বৃত্ত বানালেন এবং শাহাদাত আঙ্গুল উঠালেন। এ সময় আমি তাঁকে খলাম, তিনি তাশাহহুদ পাঠ করতে করতে ইশারা করার জন্য শাহাদাত আঙ্গুল নাড়ছেন। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৯১২
عن عبد الله بن الزبير قال كان رسول الله ﷺ يشير بإصبعه إذا دعا ولا يحركها. رواه أبو داوٗد والنسائـي وزاد أبو داوٗد ولا يجاوز بصره إشارته
তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন সলাতে বসা অবস্থায় “কালিমায়ে শাহাদাত” দুআ পাঠ করতেন, নিজের শাহাদাত আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করতেন, কিন্তু তা নাড়াচড়া করতেন না। [১] আবূ দাঊদ এ শব্দগুলোও নকল করেছেন যে, তাঁর দৃষ্টি ইশারা করার বাইরে অতিক্রম করত না।[2]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৯১৩
وعن أبي هريرة قال إن رجلا كان يدعو بإصبعيه وقال رسول الله ﷺ أحد أحد. رواه الترمذي والنسائـي والبيهقى فى الدعوات الكبير
তিনি বলেন, এক ব্যক্তি সলাতে তাশাহহুদ পড়ার সময় শাহাদাতের দু আঙ্গুল উঠিয়ে ইশারা করতে লাগল। নাবী (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বললেন, এক আঙ্গুল দিয়েই ইশারা কর, এক আঙ্গুল দিয়েই ইশারা কর। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৯১৪
وعن ابن عمر قال نهى رسول الله ﷺ أن يجلس الرجل في الصلاة وهو معتمد على يده . رواه أبو داوٗد وفى رواية له نهى أن يعتمد الرجل على يديه إذا نهض في الصلاة
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কোন লোক যেন সলাতে হাতের উপর ঠেস দিয়ে না বসে। [১] আবূ দাঊদের এক বর্ণনায় এ শব্দগুলোও আছে যে, নাবী (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিষেধ করেছেনঃ সলাতে উঠার সময় কোন ব্যক্তি যেন তার দু’হাতের উপর ভর দিয়ে না উঠে। [2]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৯১৫
وعن عبد الله بن مسعود قال كان النبي ﷺ في الركعتين الأوليين كأنه على الرضف حتى يقوم. رواه الترمذي وأبو داوٗد والنسائـي
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রথম দু রাকআতের পরের বৈঠক হতে এত তাড়াতাড়ি উঠে দাঁড়াতেন, মনে হত যেন কোন উত্তপ্ত পাথরের উপর বসেছেন। [১]