মিশকাতুল মাসাবিহ > তৃতীয় অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ৮৮২
عن عوف بن مالك قال قمت مع رسول الله ﷺ فلما ركع مكث قدر سورة البقرة ويقول في ركوعه سبحان ذي الجبروت والملكوت والكبرياء والعظمة. رواه النسآئى
তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সাথে সলাত আদায় করতে দাঁড়ালাম । তিনি রুকূ’তে গিয়ে সূরাহ বাক্বারাহ্ তিলাওয়াত করতে যত সময় লাগত তত সময় রুকূ‘তে থাকলেন । রুকূ‘তে বলতে থাকলেন, “সুবহা-না যিল জাবারূতি ওয়াল মালাকূতি ওয়াল কিব্রিয়া-য়ি ওয়াল ‘আযামাতি” (অর্থাৎ - ক্ষমতা, রাজ্য, বড়ত্ব, মহত্ব ও বিরাটত্বের মালিকের পবিত্রতা ঘোষনা করছি) । [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৮৮৩
وعن بن جبير قال سمعت أنس بن مالك يقول ما صليت وراء أحد بعد رسول الله ﷺ أشبه صلاة بصلاة رسول الله ﷺ من هذا الفتى يعني عمر بن عبد العزيز قال فحزرنا في ركوعه عشر تسبيحات وسجوده عشر تسبيحات . رواه أبو داوٗد والنسائـي
তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-কে বলতে শুনেছিঃ আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - এর ইন্তিকালের পর এই যুবক অর্থাৎ ‘উমার ইবনু ‘আবদুল ‘আযীয ছাড়া আর কারো পেছনে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) – এর সলাতের মত সলাত পড়িনি । বর্ণনাকারী বলেন, আনাস বলেছেন, আমরা তার রুকূ’র সময় অনুমান করেছি দশ তাসবীহ্র পরিমাণ এবং সাজদার সময়ও অনুমান করেছি দশ তাসবীহ পরিমাণ ।[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৮৮৪
وعن شقيق قال ان حذيفة رأى رجلا لا يتم الركوع والسجود فلما قضى صلاته دعاه فقال لهٗ حذيفة ما صليت قال واحسبه قال ولو مت مت علـى غير الفطرة التي فطر الله محمدا ﷺ . رواه البخاري
তিনি বলেন, হুযায়ফাহ্ (রাঃ) এক ব্যক্তিকে দেখলেন , সে তার রুকূ সাজদাহ্ পূর্ণ করছে না । সে সলাত শেষ করলে তিনি তাকে ডেকে বললেন, তুমি সলাত আদায় করনি । শাক্বীক্ব বলেন, আমার মনে হয় হুযায়ফাহ্ এ কথাও বলেছেন, যদি তুমি এ অবস্থায় মৃত্যুবরণ কর, তাহলে নাবী (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - কে যে প্রকৃতির উপর আল্লাহ তা’আলা সৃষ্টি করেছেন, তুমি তার বাইরে মৃত্যুবরণ করবে । [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৮৮৫
وعن ابى قتادة قال قال رسول الله ﷺ أسوأ الناس سرقة الذي يسرق من صلاته قالوا يا رسول الله وكيف يسرق من صلاته قال لا يتم ركوعها ولا سجودها. رواه أحمد
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ চুরি হিসেবে সবচেয়ে বড় চোর হল ঐ ব্যক্তি যে সলাতে (আরকানের) চুরি করল। সহাবীগণ আরয করলেন, হে আল্লাহর রসূল! সলাতের চুরি কিভাবে হয়? নাবী (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, সলাতের চুরি হল রুকূ’-সাজদাহ্ পূর্ণ না করা। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৮৮৬
وعن النعمان بن مرة أن رسول الله ﷺ قال ما ترون في الشارب والزاني والسارق وذلك قبل أن تنزل فيهم الحدود قالوا الله ورسولهٗ أعلم قال هن فواحش وفيهن عقوبة وأسوأ السرقة الذي يسرق من صلاته قالوا وكيف يسرق صلاته يا رسول الله قال لا يتم ركوعها ولا سجودها. رواه مالك وأحمد وروى الدارمي نحوه
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সহাবায়ে কিরামকে উদ্দেশ্য করে বললেন, মদ্যপায়ী, ব্যভিচারী ও চোরের ব্যাপারে তোমাদের কি ধারণা? নাবী (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) – এর এ প্রশ্নটি এসব অপরাধের শাস্তি বিধানের আয়াত নাযিল হবার আগের। সহাবীগণ আরয করলেন, এ ব্যাপারে আল্লাহ ও আল্লাহর রসূলই ভাল জানেন। নাবী (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উত্তর দিলেন, গুনাহ কাবীরাহ, এর সাজাও আছে। আর নিকৃষ্টতম চুরি হল যা মানুষ তার সলাতে করে থাকে। সহাবীগণ আরয করলেন, হে আল্লাহর রসূল! মানুষ তার সলাতে কিভাবে চুরি করে থাকে? রসূল (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, মানুষ রুকূ’- সাজদাহ্ পূর্ণভাবে আদায় না করে (এ চুরি করে থাকে)। [৯০৬] আহমাদ ও দারিমীতে হাদীসটি পাওয়া যায়নি ।[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ > প্রথম অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ৮৮৭
عن ابن عباس قال قال رسول الله ﷺ أمرت أن أسجد علـى سبعة أعظم علـى الجبهة واليدين والركبتين وأطراف القدمين ولا نكفت الثياب ولا الشعر. متفق عليه
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : আমাকে শরীরের সাতটি হাড় ; যথা কপাল, দু’ হাত, দু’ হাঁটু, দু’ পায়ের পাতার অগ্রভাগের সাগায্যে সাজদাহ্ করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আর কাপড়, দাড়ি ও চুল একত্রিত করে বেঁধে রাখতে নিষেধ করা হয়েছে। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৮৮৮
وعن أنس قال قال رسول الله ﷺ اعتدلوا في السجود ولا يبسط أحدكم ذراعيه انبساط الكلب . متفق عليه
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন সাজদাহ্ ঠিক মত করবে। তোমাদের কেউ যেন সাজদায় কুকুরের মতো জমিনে হাত বিছিযে না দেয়। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৮৮৯
وعن البراء بن عازب قال قال رسول الله ﷺ إذا سجدت فضع كفيك وارفع مرفقيك. رواه مسلم
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, সাজদাহ্ করার সময় তোমরা দু’ হাতের তালু জমিনে রাখবে। উভয় হতের কনুই উপরে উঠিয়ে রাখবে।[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৮৯০
وعن ميمونة قالت كان النبي ﷺ إذا سجد جافى بين يديه حتى لو أن بهمة أرادت أن تمر تحت يديه مرت هذا لفظ أبي داؤد كما صرح في السنة بإسناده ولمسلم بمعناه قالت كان النبي ﷺ إذا سجد لو شاءت بهمة أن تمر بين يديه لمرت
তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাজদায় নিজের দু’ হাত জমিন ও পেট হতে পৃথক করে রাখতেন, এমনকি যদি একটি ছাগলের বাচ্চা তাঁর হাতের নিচ দিয়ে চলে যেতে চাইলে যেতে পারত। এগুলো হলো আবূ দাউদের শব্দ। [১] যেমন ইমাম বাগাবী শারহে সুন্নায় সানাদসহ ব্যক্ত করেছেন। সহীহ মুসলিমে প্রায় অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। মায়মূনাহ্ (রাঃ) বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন সাজদাহ্ করতেন তখন ছাগলের বাচ্চা তাঁর দু’ হাতের মাঝ দিয়ে (পেট ও হাতের ভিতর দিয়ে) চলে যেতে চাইলে যেতে পারত। [2]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৮৯১
وعن عبد الله بن مالك ابن بحينة قال كان النبي ﷺ إذا سجد فرج بين يديه حتى يبدو بياض إبطيه . متفق عليه
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন সাজদাহ্ দিতেন তার হাত দু’টিকে এমন প্রশস্ত রাখতেন যে তার বগলের নিচের শুভ্রতাও দেখা যেত। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৮৯২
وعن أبي هريرة قال كان النبي ﷺ يقول فى سجوده اللهم اغفر لى ذنبى كـلهٗ دقهٗ وجلهٗ وأولهٗ واخرهٗ وعلانيتهٗ وسرهٗ. رواه مسلم
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাজদায় গিয়ে বলতেন, “ আল্ল-হুম্মাগফিরলী জাম্বি কুল্লাহ্ দিক্কাহু ওয়া জিল্লাহু ওয়া আও-ওয়ালাহু ওয়া আ-খিরাহু ওয়া আলা-নিয়্যাতাহু ওয়া সির্রাহু” (অর্থাৎ হে আল্লাহ! তুমি আমার সকল ছোট-বড়, আগের-পরের, গোপনীয় ও প্রকাশ্য গুনাহ মাফ করে দাও। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৮৯৩
وعن عائشة قالت فقدت رسول الله ﷺ ليلة من الفراش فالتمستهٗ فوقعت يدى على بطن قدميه وهو في المسجد وهما منصوبتان وهو يقول اللهم أعوذ برضاك من سخطك وبمعافاتك من عقوبتك وأعوذ بك منك لا أحصى ثناء عليك أنت كما أثنيت على نفسك. رواه مسلم
তিনি বলেন, এক রাতে আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে আমার বিছানায় পেলাম না। আমি তাঁকে খুঁজতে লাগলাম। খুঁজতে খুঁজতে আমার হাত রসূলের পায়ের উপর গিয়ে পড়ল। আমি দেখলাম, তিনি সলাতরত। তাঁর পা দু’টি খাড়া হয়ে আছে। তিনি বলছেন : আল্লা-হুম্মা ইন্নী আ’উযু বিরিযা-কা মিন সাখাত্বিকা ওয়া বিমু’আ-ফা-তিকা মিন উকূবাতিকা, ওয়া আঊযুবিকা মিন্কা লা-উহ্সী সানা-য়ান আলায়কা, আনতা কামা-আসনায়তা আলা নাফ্সিকা। (অর্থাৎ-হে আল্লাহ! আমি তোমার সন্তষ্টি অর্জনের মাধ্যমে তোমার অসন্তোষ ও গযব থেকে পানাহ চাই। তোমার ক্ষমার দ্বারা তোমার আযাব হতে মুক্তি চাই। তোমার কাছে তোমার রহমাতের ওয়াসীলায় আশ্রয় চাই। আমি তোমার প্রশংসা করে শেষ করতে পারব না। তুমি তেমন, যেমন তুমি নিজে তোমার প্রশংসা করেছ। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৮৯৪
وعن أبي هريرة قال قال رسول الله ﷺ أقرب ما يكون العبد من ربه وهو ساجد فأكثروا الدعاء. رواه مسلم
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : আল্লাহর বান্দারা তাদের রবের বেশী নিকটে যায় সাজদারত অবস্থায়। তাই তখন বেশী বেশী করে আল্লাহর কাছে দু’আ করবে। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৮৯৫
وعنه قال قال رسول الله ﷺ إذا قرأ ابن اۤدم السجدة فسجد اعتزل الشيطان يبكي يقول يا ويلتي أمر ابن اۤدم بالسجود فسجد فله الجنة وأمرت بالسجود فأبيت فلي النار . رواه مسلم
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, আদাম সন্তানরা যখন সাজদার আয়াত পড়ে ও সাজদাহ্ করে, শয়তান তখন কাঁদতে কাঁদতে একদিকে চলে যায় ও বলে হায় আমার কপাল মন্দ। আদাম সন্তান সাজদার আদেশ পেয়ে সাজদাহ্ করল তাই তার জন্য জান্নাত। আর আমাকে সাজদার আদেশ দেয়া হয়েছিল আমি তা অমান্য করলাম। আমার জন্য তাই জাহান্নাম। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৮৯৬
وعن ربيعة بن كعب قال كنت مع رسول الله ﷺ فأتيتهٗ بوضوئه وحاجته فقال لي سل فقلت أسألك مرافقتك في الجنة قال أو غير ذلك قلت هو ذاك قال فأعني على نفسك بكثرة السجود. رواه مسلم
তিনি বলেন, আমি রাতের বেলা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাথে থাকতাম। উযূর পানিসহ অন্যান প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র যেমন মিসওয়াক, জায়নামাজ ইত্যাদি এগিয়ে দিতাম। একদিন তিনি আমাকে বললেন (দীন-দুনিয়ার কল্যাণের জন্য যা কিছু চাও) চেয়ে নাও। আমি নিবেদন করলাম আমার তো শুধু জান্নাতে আপনার সাহচর্য লাভই একমাত্র কাম্য। তিনি (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, (যে মর্যাদায় তুমি পৌছতে চাও এটা বড় কথা) এছাড়া আর কিছু চাও? আমি বললাম এটাই আমার একমাত্র আবেদন। তিনি (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তুমি বেশী বেশী সাজদাহ্ করে (এ মর্যদা লাভের জন্য) আমাকে সাহায্য কর। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৮৯৭
وعن معدان بن طلحة قال لقيت ثوبان مولى رسول الله ﷺ فقلت أخبرني بعمل أعمله يدخلني الله به الجنة فسكت ثم سألته فسكت ثم سألته الثالثة فقال سألت عن ذلك رسول الله ﷺ فقال عليك بكثرة السجود لله فإنك لا تسجد لله سجدة الا رفعك الله بها درجة وحط عنك بها خطيئة قال معدان ثم لقيت أبا الدرداء فسألته فقال لى مثل ما قال لي ثوبان. رواه مسلم
তিনি বলেন, আমি রসূল (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর মুক্তদাস সাওবান (রাঃ) এর সাথে সাক্ষাৎ করে বললাম, আমাকে এমন একটি কাজের সন্ধান দিন যে কাজ আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে। তিনি খামুশ থাকলেন। আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম। তিনি খামুশ রইলেন। তৃতীয়বার তাকে আবার একই প্রশ্ন করলাম। উত্তরে তিনি বললেন, আমি নিজেও এ বিষয়ে রসূল (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে জিজ্ঞেস করেছিলাম। তিনি আমাকে বলেছিলেন, আল্লাহকে বেশী বেশী সাজদাহ করতে থাকবে। কেননা আল্লাহকে তুমি যত বেশী সাজদাহ করতে থাকবে, আল্লাহ তোমার মর্যাদা বাড়াতে থাকবেন। তোমার অতটা গুনাহ উক্ত সাজদাহ দিয়ে কমাতে থাকবেন। মা’দান বলেন, এরপর আবুদ দারদার সাথে দেখা করে তাকেও আমি একই প্রশ্ন করি। তিনিও আমাকে সাওবান (রাঃ) যা বলেছিলেন তাই বললেন। [১]