মিশকাতুল মাসাবিহ > দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ৮৭৮
عن أبي مسعود الانصارى قال قال رسول الله ﷺ لا تجزئ صلاة الرجل حتى يقيم ظهره في الركوع والسجود. رواه أبو داوٗد والترمذي وابن ماجة والدارمي وقال الترمذي هذا حديث حسن صحيح
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি যে পর্যন্ত রুকূ ও সাজদাতে তার পিঠ স্থিরভাবে সোজা না করে তার সলাত হবে না। [৮৯৮] ইমাম তিরমিযী বলেছেন, এ হাদীসটি হাসান ও সহীহ l [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৮৭৯
وعن عقبة بن عامر قال لما نزلت ﴿فسبح باسم ربك العظيم﴾ قال رسول الله ﷺ اجعلوها في ركوعكم فلما نزلت سبح اسم ربك الأعلى قال رسول الله ﷺ اجعلوها في سجودكم . رواه أبو داوٗد وابن ماجة والدارمي
তিনি বলেন, যখন “ফাসাব্বিহ বিইস্মি রব্বিকাল আযীম” তোমর মহান রবের নামের পবিত্রতা বর্ণনা কর এ আয়াত নাযিল হল রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, এই আয়াতটিকে তোমরা তোমাদের রুকূতে তাসবীহরূপে পড়। এভাবে যখন “সাব্বিহিসমা রব্বিকাল আলা” (তোমরা উচ্চ মর্যাদাশীল রবের নামের পবিত্রতা ঘোষণা কর) আয়াত নাযিল হল তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, তোমরা এটিকে তোমাদের সাজদার তাসবীহতে পরিণত কর। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৮৮০
وعن عون بن عبد الله عن ابن مسعود قال قال رسول الله ﷺ إذا ركع أحدكم فقال في ركوعه سبحان ربي العظيم ثلاث مرات فقد تم ركوعه وذلك أدناه وإذا سجد فقال في سجوده سبحان ربي الأعلى ثلاث مرات فقد تم سجوده وذلك أدناه . رواه الترمذي وأبو داوٗد وابن ماجة وقال الترمذي ليس اسناده بمتصل لأن عونا لم يلق ابن مسعود
তিনি ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন রুকূ’ করবে সে যেন রুকূ’তে তিনবার “সুবহা-না রব্বিয়াল ‘আযীম” পড়ে । তাহলে তার রুকূ’ পূর্ণ হবে । আর এটা হল সর্বনিম্ন সংখ্যা । এভাবে যখন সাজদাহ্ করবে, সাজদায়ও যেন তিনবার “সুবহা-না রব্বিয়াল আ’লা-” পড়ে । তাহলে তার সাজদাহ্ পূর্ণ হবে । আর তিনবার হল কমপক্ষে পড়া । [১] ইমাম তিরমিযী বলেন, এর সানাদ মুত্তাসিল নয় । কেননা ‘আওন (রহঃ)-এর ইবনু মাস’ঊদ (রাঃ)-এর সাথে সাক্ষাৎ হয়নি ।
মিশকাতুল মাসাবিহ ৮৮১
وعن حذيفة أنه صلى مع النبي ﷺ وكان يقول في ركوعه سبحان ربي العظيم وسجوده سبحان ربي الأعلى وما أتى على اية رحمة الا وقف وسأل وما أتى على اية عذاب الا وقف وتعوذ. رواه الترمذي وأبو داوٗد والدارمي وروى النسائى وابن ماجة إلى قوله إلا على وقال الترمذي هذا حديث حسن صحيح
তিনি নাবী (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সাথে সলাত আদায় করলেন । তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রুকূতে “সুবহা-না রব্বিয়াল ‘আযীম” ও সাজদায় “সুবহা-না রব্বিয়াল আ‘লা-” পড়তেন । আর যখনই তিনি ক্বিরাআতের সময় রহমতের আয়াতে পৌঁছতেন, ওখানে থেমে যেতেন, রাহমাত তলবের দু’আ পাঠ করতেন । আবার যখন আযাবের আয়াত পৌঁছতেন, সেখানে থেমে গিয়ে ‘আযাব থেকে বাঁচার জন্য দু‘আ করতেন। [১] এ হাদীসটিকে “সুবহা-না রব্বিয়াল আ‘লা-” পর্যন্ত নকল করেছেন । ইমাম তিরমিযী বলেছেন, এ হাদীসটি হাসান ও সহীহ।
মিশকাতুল মাসাবিহ > তৃতীয় অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ৮৮২
عن عوف بن مالك قال قمت مع رسول الله ﷺ فلما ركع مكث قدر سورة البقرة ويقول في ركوعه سبحان ذي الجبروت والملكوت والكبرياء والعظمة. رواه النسآئى
তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সাথে সলাত আদায় করতে দাঁড়ালাম । তিনি রুকূ’তে গিয়ে সূরাহ বাক্বারাহ্ তিলাওয়াত করতে যত সময় লাগত তত সময় রুকূ‘তে থাকলেন । রুকূ‘তে বলতে থাকলেন, “সুবহা-না যিল জাবারূতি ওয়াল মালাকূতি ওয়াল কিব্রিয়া-য়ি ওয়াল ‘আযামাতি” (অর্থাৎ - ক্ষমতা, রাজ্য, বড়ত্ব, মহত্ব ও বিরাটত্বের মালিকের পবিত্রতা ঘোষনা করছি) । [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৮৮৩
وعن بن جبير قال سمعت أنس بن مالك يقول ما صليت وراء أحد بعد رسول الله ﷺ أشبه صلاة بصلاة رسول الله ﷺ من هذا الفتى يعني عمر بن عبد العزيز قال فحزرنا في ركوعه عشر تسبيحات وسجوده عشر تسبيحات . رواه أبو داوٗد والنسائـي
তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-কে বলতে শুনেছিঃ আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - এর ইন্তিকালের পর এই যুবক অর্থাৎ ‘উমার ইবনু ‘আবদুল ‘আযীয ছাড়া আর কারো পেছনে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) – এর সলাতের মত সলাত পড়িনি । বর্ণনাকারী বলেন, আনাস বলেছেন, আমরা তার রুকূ’র সময় অনুমান করেছি দশ তাসবীহ্র পরিমাণ এবং সাজদার সময়ও অনুমান করেছি দশ তাসবীহ পরিমাণ ।[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৮৮৪
وعن شقيق قال ان حذيفة رأى رجلا لا يتم الركوع والسجود فلما قضى صلاته دعاه فقال لهٗ حذيفة ما صليت قال واحسبه قال ولو مت مت علـى غير الفطرة التي فطر الله محمدا ﷺ . رواه البخاري
তিনি বলেন, হুযায়ফাহ্ (রাঃ) এক ব্যক্তিকে দেখলেন , সে তার রুকূ সাজদাহ্ পূর্ণ করছে না । সে সলাত শেষ করলে তিনি তাকে ডেকে বললেন, তুমি সলাত আদায় করনি । শাক্বীক্ব বলেন, আমার মনে হয় হুযায়ফাহ্ এ কথাও বলেছেন, যদি তুমি এ অবস্থায় মৃত্যুবরণ কর, তাহলে নাবী (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - কে যে প্রকৃতির উপর আল্লাহ তা’আলা সৃষ্টি করেছেন, তুমি তার বাইরে মৃত্যুবরণ করবে । [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৮৮৫
وعن ابى قتادة قال قال رسول الله ﷺ أسوأ الناس سرقة الذي يسرق من صلاته قالوا يا رسول الله وكيف يسرق من صلاته قال لا يتم ركوعها ولا سجودها. رواه أحمد
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ চুরি হিসেবে সবচেয়ে বড় চোর হল ঐ ব্যক্তি যে সলাতে (আরকানের) চুরি করল। সহাবীগণ আরয করলেন, হে আল্লাহর রসূল! সলাতের চুরি কিভাবে হয়? নাবী (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, সলাতের চুরি হল রুকূ’-সাজদাহ্ পূর্ণ না করা। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৮৮৬
وعن النعمان بن مرة أن رسول الله ﷺ قال ما ترون في الشارب والزاني والسارق وذلك قبل أن تنزل فيهم الحدود قالوا الله ورسولهٗ أعلم قال هن فواحش وفيهن عقوبة وأسوأ السرقة الذي يسرق من صلاته قالوا وكيف يسرق صلاته يا رسول الله قال لا يتم ركوعها ولا سجودها. رواه مالك وأحمد وروى الدارمي نحوه
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সহাবায়ে কিরামকে উদ্দেশ্য করে বললেন, মদ্যপায়ী, ব্যভিচারী ও চোরের ব্যাপারে তোমাদের কি ধারণা? নাবী (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) – এর এ প্রশ্নটি এসব অপরাধের শাস্তি বিধানের আয়াত নাযিল হবার আগের। সহাবীগণ আরয করলেন, এ ব্যাপারে আল্লাহ ও আল্লাহর রসূলই ভাল জানেন। নাবী (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উত্তর দিলেন, গুনাহ কাবীরাহ, এর সাজাও আছে। আর নিকৃষ্টতম চুরি হল যা মানুষ তার সলাতে করে থাকে। সহাবীগণ আরয করলেন, হে আল্লাহর রসূল! মানুষ তার সলাতে কিভাবে চুরি করে থাকে? রসূল (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, মানুষ রুকূ’- সাজদাহ্ পূর্ণভাবে আদায় না করে (এ চুরি করে থাকে)। [৯০৬] আহমাদ ও দারিমীতে হাদীসটি পাওয়া যায়নি ।[১]