তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মিশকাতুল মাসাবিহ | হাদীস | কুরআন ও সুন্নাহ

মিশকাতুল মাসাবিহ > তৃতীয় অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ৮৬২

عن معاذ بن عبد الله الجهني قال إن رجلا من جهينة أخبره أنه سمع رسول الله ﷺ قرا في الصبح ﴿إذا زلزلت﴾ في الركعتين كلتيهما فلا أدري أنسي أم قرأ ذلك عمدا. رواه أبو داوٗد

তিনি বলেন, জুহাইনা বংশের এক ব্যক্তি তাকে বলেছেন, তিনি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে ফাজরের সলাতের দু’রাকাতেই সুরাহ ‘ইযা যুলযিলাত’ তিলাওয়াত করতে শুনেছেন। আমি বলতে পারি না, রসুল (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ভুলে গিয়েছিলেন না ইচ্ছা করেই পড়েছিলেন। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৮৬৩

وعن عروة قال إن أبا بكر الصديق صلى الصبح فقرأ فيهما بسورة البقرة في الركعتين كلتيهما. رواه مالك

তিনি বলেন, আবুবকর (রাঃ) ফাজরের সলাত আদায় করলেন। উভয় রাকাতেই সুরাহ বাকারাহ তিলাওয়াত করলেন।[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৮৬৪

وعن الفرافصة بن عمير الحنفى قال ما أخذت سورة يوسف الا من قراءة عثمان بن عفان إياها في الصبح من كثرة ما كان يرددها. رواه مالك

আমি সুরাহ ইউসুফ উসমান ইবনু আফফান (রাঃ) থেকে শুনে শুনে মুখস্ত করেছি। কেননা তিনি এ সূরাকে বিশেষ করে ফাজরের সালাতে প্রায়ই তিলাওয়াত করতেন। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৮৬৫

و عن عامر بن ربيعة قال صلينا وراء عمر بن الخطاب الصبح فقرأ فيهما بسورة يوسف وسورة الحج قراءة بطيئة قيل إذا لقد كان يقوم حين يطلع الفجر قال أجل. رواه مالك

তিনি বলেন, আমরা আমীরুল মু’মিনীন খলীফা উমার ফারুক (রাঃ) এর পিছনে ফাজরের সলাত আদায় করলাম। তিনি এর দু’রাকাতেই সুরাহ ইউসুফ ও সুরাহ হাজ্জকে থেমে থেমে তিলাওয়াত করেছেন। কেউ আমিরকে জিজ্ঞেস করল যে, খলীফাহ ‘উমার (রাঃ) ফাজরের ওয়াক্ত শুরু হবার সাথে সাথেই কি সলাত আদায়ে দাঁড়িয়ে যেতেন? উত্তরে আমির বলেন, হাঁ। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৮৬৬

وعن عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده قال ما من المفصل سورة صغيرة ولا كبيرة الا قد سمعت رسول الله ﷺ يؤم بها الناس فى الصلاة المكتوبة. رواه مالك

তিনি তাঁর পিতার মাধ্যমে তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে মুফাসসাল সুরার (হুজুরাত থেকে নাস পর্যন্ত) ছোট-বড় সকল সুরাহ দিয়েই ফারয সলাতের ইমামতি করতে শুনেছি। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৮৬৭

وعن عبد الله بن عتبة بن مسعود قال قرا رسول الله ﷺ في صلاة المغرب بحم الدخان. رواه النسآئى مرسلا

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাগরিবের সালাতে সূরাহ ‘হা-মীম আদ দুখান’ তিলাওয়াত করলেন। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ > প্রথম অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ৮৬৮

عن أنس قال قال رسول الله ﷺ أقيموا الركوع والسجود فوالله إني لاراكم من بعدي. متفق عليه

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা রুকূ ও সাজদাহ ঠিকভাবে আদায় করবে। আল্লাহ্‌র কসম! আমি নিশ্চই তোমাদেরকে আমার পিছন দিক হতেও দেখি। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৮৬৯

وعن البراء قال كان ركوع النبي ﷺ وسجوده وبين السجدتين وإذا رفع من الركوع ما خلا القيام والقعود قريبا من السواء. متفق عليه

তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - এর রুকূ’, সাজদাহ, দু সাজদার মধ্যে বসা, রুকু’র পর সোজা হয়ে দাঁড়ানোর সময়ের পরিমাণ (ক্বিরাআতের জন্য) দাঁড়ানোর সময় ছাড়া প্রায় সমান সমান ছিল। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৮৭০

وعن أنس قال كان النبي ﷺ إذا قال سمع الله لمن حمده قام حتى تقول قد أوهم ثم يسجد ويقعد بين السجدتين حتى تقول قد أوهم. رواه مسلم

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন “সামি’আল্লা-হু লিমান হামিদাহ” বলতেন, সোজা হয়ে এত দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতেন, আমরা মনে করতাম নিশ্চয়ই তিনি (সাজদার কথা) ভুলে গেছেন। এরপর তিনি সাজদাহ করতেন ও দু’সাজদার মধ্যে এত লম্বা সময় বসে থাকতেন, আমরা মনে করতাম, তিনি (নিশ্চয় দ্বিতীয় সাজদার কথা) ভুলে গেছেন। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৮৭১

وعن عائشة رضي الله عنها قالت كان النبي ﷺ يكثر أن يقول في ركوعه وسجوده سبحانك اللهم ربنا وبحمدك اللهم اغفر لي يتأول القرآن. متفق عليه

তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কুরআনের উপর আমাল করে নিজের রুকূ ও সাজদায় এই দু’আ বেশী বেশী পাঠ করতেনঃ “সুবহা-নাকা আল্ল-হুম্মা রব্বানা-ওয়াবিহামদিকা আল্ল-হুম্মাগ ফিরলী” - (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! তুমি পুত পবিত্র। তুমি আমাদের রব। আমি তোমার গুণগান করছি। হে আল্লাহ! তুমি আমার গুনাহ মাফ করে দাও )। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৮৭২

وعنها أن النبي ﷺ كان يقول في ركوعه وسجوده سبوح قدوس رب الملائكة والروح . رواه مسلم

নাবী (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রুকূ ও সাজদায় বলতেন, “সুবহুন কুদ্দুসুন রব্বুল মালা-য়িকাতি ওয়াররূহ” মালাক ও রূহ জিবরীলের রব অত্যন্ত পবিত্র, খুবই পবিত্র । [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৮৭৩

وعن ابن عباس قال قال رسول الله ﷺ ألا إني نهيت أن أقرأ القرآن راكعا أو ساجدا فإما الركوع فعظموا فيه الرب وأما السجود فاجتهدوا في الدعاء فقمن أن يستجاب لكم. رواه مسلم

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, সাবধান! আমাকে রুকু-সিজদায় কুরআন তিলাওয়াত করতে নিষেধ করা হয়েছে। তাই তোমরা রুকু’তে তোমাদের ‘রবের’ মহিমা বর্ণনা কর। আর সিজদায় অতি মনোযোগের সাথে দুয়া করবে। আশা করা যায়, তোমাদের দু’আ কবুল করা হবে। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৮৭৪

وعن أبي هريرة قال قال رسول الله ﷺ إذا قال الإمام سمع الله لمن حمدهٗ فقولوا اللهم ربنا لك الحمد فإنهٗ من وافق قولهٗ قول الملائكة غفر لهٗ ما تقدم من ذنبه. متفق عليه

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ইমাম যখন “সামি’আলাহু লিমান হামিদাহ” বলবে তখন তোমরা “আল্লাহুম্মা রব্বানা–লাকাল হামদ” বলবে। কেননা যার কথা মালায়িকার কথার সাথে মিলে যাবে, তার পূর্বের (ছোট) গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৮৭৫

وعن ابن أبي أوفى قال كان رسول الله ﷺ إذا رفع ظهره من الركوع قال سمع الله لمن حمده اللهم ربنا لك الحمد ملء السموت وملء الأرض وملء ما شئت من شيء بعد. رواه مسلم

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রুকু হতে তার পিঠ সোজা করে উঠে বলতেন, “সামি’আলাহু লিমান হামিদাহ, আল্লাহুম্মা রব্বানা–লাকাল হামদ মিলআস সামা-ওয়া-তি ওয়া মিলআল আরযি ওয়া মিলআ মা-শি’তা মিন শাইয়িম বা’দ” – (অর্থাৎ আল্লাহ শুনেন যে তার প্রশংসা করে। হে আমার রব! আকাশ ও পৃথিবীপূর্ণ তোমার প্রশংসা, এরপর তুমি যা সৃষ্টি করতে চাও তাও পরিপূর্ণ)। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৮৭৬

وعن أبي سعيد الخدري قال كان رسول الله ﷺ إذا رفع رأسه من الركوع اللهم ربنا لك الحمد ملء السموت والأرض وملء ما شئت من شيء بعد أهل الثناء والمجد أحق ما قال العبد وكـلنا لك عبد اللهم لا مانع لما أعطيت ولا معطي لما منعت ولا ينفع ذا الجد منك الجد. رواه مسلم

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রুকু হতে মাথা উঠিয়ে বলতেনঃ “আল্লাহুম্মা রব্বানা লাকাল হামদু মিলআস সামাওয়াতি ওয়াল আরযি ওয়া মিলআ মা-শি’তা মিন শাইয়িম বা’দু আহলুস সানা-য়ি ওয়াল মাজদি আহাক্কু মা ক্বা-লাল ‘আবদু ওয়া কুল্লুনা লাকা ‘আব্দুন, আল্লাহুম্মা লা- মা-নি’আ লিমা- আ’ত্বাইতা ওয়ালা- মু’তিয়া লিমা- মানা’তা। ওয়ালা ইয়ানফা’উ যাল জাদ্দি মিনকাল জাদ্দ” – (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! হে আমাদের রব! তোমারই সব প্রশংসা। আকাশ পরিপূর্ণ ও পৃথিবী পরিপূর্ণ, এরপর তুমি যা চাও তাও পরিপূর্ণ। হে প্রশংসা ও মর্যাদার মালিক! মানুষ তোমার প্রশংসায় যা বলে তুমি তার চেয়েও অধিক প্রশংসা ও মর্যাদার অধিকারী। আমরা সকলেই তোমার গোলাম। হে আল্লাহ! তুমি যা দিবে তাতে বাধা দেবার কেউ নেই। আর তুমি যাতে বাধা দিবে তা দিতেও কেউ সমর্থ নয়। কোন সম্পদশালীর সম্পদই তোমার শাস্তি হতে তাকে রক্ষা করতে পারবে না। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৮৭৭

وعن رفاعة بن رافع قال كنا نصلـي وراء النبي ﷺ فلما رفع رأسهٗ من الركعة قال سمع الله لمن حمدهٗ فقال رجل وراءهٗ ربنا ولك الحمد حمدا كثيرا طيبا مباركا فيه فلما انصرف قال من المتكـلم انفا قال أنا قال رأيت بضعة وثلاثين ملكا يبتدرونها أيهم يكتبها أول. رواه البخاري

তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - এর পিছনে সলাত আদায় করছিলাম । তিনি যখন রুকূ’ হতে মাথা তুলে, “সামি’আল্ল-হু লিমান হামিদাহ” বললেন (যে ব্যক্তি আল্লাহর হাম্‌দ ও সানা পাঠ করল আল্লাহ তা শুনলেন), তখন এক ব্যক্তি ‘বলল’ “রব্বানা- লাকাল হাম্‌দু হামদান কাসীরান ত্বইইয়্যিবাম মুবারকান্‌ ফীহ” – (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! তোমার জন্য প্রশংসা, অনেক প্রশংশা, যে প্রশংসা শির্‌ক ও রিয়া হতে পবিত্র ও মুবারক) । সলাত শেষে নাবী (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জিজ্ঞেস করলেন, এখন এ বাক্যগুলো কে পড়ল? সেই ব্যক্তি উত্তরে বলল, আমি, হে আল্লাহর রসূল! তখন নাবী (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আমি ত্রিশজনেরও অধিক মালাক দেখেছি এ কালিমার সাওয়াব কার আগে কে লিখবে এ নিয়ে তাড়াহুড়া করছেন । [১]


🔄 লোড হচ্ছে...
ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية