মিশকাতুল মাসাবিহ > দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ৮৪৪
وعن ابن عباس قال كان رسول الله ﷺ يفتتح صلاته بسم الله الرحمن الرحيم. رواه الترمذي وقال هذا حديث ليس اسناده بذاك
তিনি বলেছেন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) “বিসমিল্লা-হ” –এর সাথে সলাত শুরু করতেন। (ইমাম তিরমিযী এ হাদিস বর্ণনা করেন এবং বলেন, এ হাদিসের সানাদ শক্তিশালী নয়)। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৮৪৫
وعن وائل بن حجر قال سمعت رسول الله ﷺ قرأ ﴿غير المغضوب عليهم ولا الضالين﴾ فقال آمين ومد بها صوته. رواه الترمذي وأبو داوٗد والدارمي وابن ماجة
তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, তিনি সলাতে “গয়রিল মাগযূবি ‘আলাইহিম ওয়ালায্ যোয়াল্লীন” পড়ার পর সশব্দে ‘আমীন’ বলেছেন। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৮৪৬
وعن أبي زهير النميري قال خرجنا مع رسول الله ﷺ ذات ليلة فأتينا على رجل قد ألح في المسألة فقال النبي ﷺ أوجب إن ختم فقال رجل من القوم بأي شيء يختم قال بآمين. رواه أبو داوٗد
তিনি বলেন, আমরা এক রাতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে বের হলাম। আমরা এমন এক ব্যক্তির নিকট এলাম যিনি (সলাতের মধ্যে) আল্লাহর কাছে আকুতি- মিনতির সাথে দু’আ করছিলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, লোকটি তার জন্য জান্নাত ঠিক করে নিল, যদি সে এতে মোহর লাগায়। এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রাসূল! কি দিয়ে মোহর লাগাবে ? নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, ‘আমীন’ দিয়ে। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৮৪৭
وعن عائشة قالت إن رسول الله ﷺ صلى المغرب بسورة ا﴿لأعراف﴾ فرقها في ركعتين. رواه النسآئى
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সূরাহ্ আ’রাফ দু’ভাগে ভাগ করে মাগরিবের সলাতের দু’ রাক্’আতে তিলাওয়াত করলেন। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৮৪৮
وعن عقبة بن عامر قال كنت أقود لرسول الله ناقته في السفر فقال لي يا عقبة ألا أعلمك خير سورتين قرئتا فعلمني ﴿قل أعوذ برب الفلق﴾ و ﴿قل أعوذ برب الناس﴾ قال فلم يرني سررت بهما جدا فلما نزل لصلاة الصبح صلى بهما صلاة الصبح للناس فلما فرغ التفت إلي فقال يا عقبة كيف رأيت. رواه أحمد وأبو داوٗد والنسائـي
তিনি বলেন, আমি সফরে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)–এর উটের নাকশী ধরে ধরে সামনের দিকে চলতাম। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বললেন, হে ‘উক্ববাহ্! আমি কি তোমাকে পাঠ করার মত দু’টি উত্তম সূরাহ্ শিক্ষা দেব? তারপর তিনি আমাকে “কুল আ’ঊযু বিরব্বিল ফালাক্ব” (সূরাহ্ ফালাক্ব) ও “কুল আ’ঊযু বিরব্বিন্না-স” (সূরাহ্ আন্ না-স) শিখালেন। কিন্তু এতে আমি খুব খুশী হয়েছি বলে মনে করলেন না। পরে তিনি ফাজ্রের সলাতের জন্য উট হতে নামলেন। এ দু’টি সূরাহ্ দিয়েই আমাদেরকে সলাত আদায় করালেন। সলাত শেষ করে তিনি আমার প্রতি লক্ষ্য করে বললেন, কি দেখলে হে ‘উক্ববাহ্। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৮৪৯
وعن جابر بن سمرة قال كان النبي ﷺ يقرا فى صلاة المغرب ليلة الجمعة ﴿قل يايها الكافرون﴾ و ﴿قل هو الله احد﴾. رواه فى شرح السنة
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জুমু’আর দিন রাতে (অর্থাৎ বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে) মাগরিবের সলাতে “কুল ইয়া-আইউহাল কা-ফিরুন” (সূরাহ্ আল কা-ফিরুন) ও “কুল হুওয়াল্ল-হু আহাদ” (সূরাহ্ ইখলাস) পাঠ করতেন। এ হাদিসটি শারহে সুন্নায় বর্ণিত হয়েছে। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৮৫০
ورواه ابن ماجة عن ابن عمر الا انه لم يذكر ليلة الجمعة
ইবনু মাজাহ্ এ হাদীসটি ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে নকল করেছেন। কিন্তু এতে “লায়লাতুল জুমু’আহ্” (অর্থাৎ- জুমু’আর রাত) উল্লেখ নেই। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৮৫১
وعن عبد الله بن مسعود قال ما أحصي ما سمعت رسول الله ﷺ يقرأ في الركعتين بعد المغرب وفي الركعتين قبل صلاة الفجر بـ ﴿قل يا أيها الكافرون﴾ و ﴿قل هو الله أحد﴾. رواه الترمذي
তিনি বলেন, আমি গুনে শেষ করতে পারবো না যে, আমি কত বার রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে মাগরিবের সলাতের পরের ও ফাজ্রের সলাতের আগের দু’ (রাক’আতে) সুন্নাতে “কুল ইয়া-আইউহাল কা-ফিরুন” (সূরাহ্ আল কা-ফিরূন) ও “কুল হুওয়াল্ল-হু আহাদ” (সূরাহ্ ইখলাস) তিলাওয়াত করতে শুনেছি। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৮৫২
ورواه ابن ماجة عن أبي هريرة الا انه لم يذكر بعد المغرب
এ হাদীসটি ইবনু মাজাহ্ আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন, কিন্তু তার বর্ণনায় “মাগরিবের পর” শব্দ নেই। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৮৫৩
وعن سليمان بن يسار عن أبي هريرة قال ما صليت وراء أحد أشبه صلاة برسول الله ﷺ من فلان قال سليمان صليت خلفه فكان يطيل الركعتين الأوليين من الظهر ويخفف الأخريين ويخفف العصر ويقرأ في المغرب بقصار المفصل ويقرأ في العشاء بوسط المفصل ويقرأ في الصبح بطوال المفصل. رواه النسآئى وروى ابن ماجة الى ويخفف العصر
তিনি বলেন, আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) বলেছেন, আমি অমুক লোক ছাড়া আর কোন লোকের পিছনে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সলাতের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ সলাত আদায় করিনি। সুলায়মান বলেন, আমিও ওই লোকের পিছনে সলাত আদায় করেছি। তিনি যুহরের প্রথম দু’ রাক্’আত অনেক লম্বা করে পড়তেন। আর শেষ দু’ রাক্’আতকে ছোট করে পড়তেন। ‘আসরের সলাত ছোট করতেন। মাগরিবের সলাতে কিসারে মুফাস্সাল সূরাহ্ পাঠ করতেন। ‘ইশার সলাতে আওসাতে মুফাস্সাল পাঠ করতেন আর ফাজ্রের সলাতে তিওয়ালে মুফাস্সাল সূরাহ্ পাঠ করতেন। [৮৭২] নাসায়ী ও ইবনু মাজাহ্ও এ বর্ণনাটি নকল করেছেন। কিন্তু তার বর্ণনা ‘আসরের সলাত ছোট করতেন পর্যন্ত। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৮৫৪
وعن عبادة بن الصامت قال كنا خلف النبي ﷺ في صلاة الفجر فقرأ فثقلت عليه القراءة فلما فرغ قال لعلكم تقرءون خلف إمامكم قلنا نعم يا رسول الله قال لا تفعلوا الا بفاتحة الكتاب فإنه لا صلاة لمن لم يقرأ بها. رواه أبو داوٗد والترمذي والنسائي معناه وفي رواية لأبي داؤد قال وأنا أقول مالي ينازعني القرآن فلا تقرءوا بشيء من القرآن إذا جهرت الا بأم القرآن
তিনি বলেন, আমরা রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)–এর পিছনে ফাজ্রের সলাতে ছিলাম। তিনি যখন ক্বিরাআত শুরু করলেন, তখন তাঁর তিলাওয়াত করা কষ্টকর ঠেকল। তিনি সলাত শেষ করে বললেন, তোমরা মনে হয় ইমামের পিছনে ক্বিরাআত পড়। আমরা আরজ করলাম, হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা ক্বিরাআত পাঠ করি। তিনি বললেন, সূরাহ্ ফাতিহা ছাড়া আর কিছু পাঠ করবে না। কারণ যে ব্যক্তি এ সূরাহ্ পাঠ করবে না তার সলাত হবে না। [১]নাসায়ী এ অর্থে বর্ণনা করেছেন, কিন্তু আবূ দাঊদের আর এক বর্ণনায় আছেঃ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, কি হল কুরআন আমার সাথে এভাবে টানাটানি করছে কেন? আমি যখন সশব্দে ক্বিরাআত পাঠ করি তখন তোমরা সূরাহ্ ফাতিহাহ্ ছাড়া আর কিছু পাঠ করবে না। [2]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৮৫৫
وعن أبي هريرة أن رسول الله ﷺ انصرف من صلاة جهر فيها بالقراءة فقال هل قرأ معي أحد منكم آنفا فقال رجل نعم يا رسول الله قال إني أقول مالي أنازع القرآن قال فانتهى الناس عن القراءة مع رسول الله ﷺ فيما جهر فيه بالقراءة من الصلوات حين سمعوا ذلك من رسول الله ﷺ. رواه مالك وأحمد وابو داؤد والترمذي والنسائـي وروى ابن ماجة نحوه
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জেহরী সলাত অর্থাৎ শব্দ করে ক্বিরাআত পড়া সলাত শেষ করে সলাত আদায়কারীদের দিকে ফিরে বললেন, তোমাদের কেউ কি এখন আমার সাথে ক্বিরাআত তিলাওয়াত করেছ? এক ব্যক্তি বলল, হাঁ, হে আল্লাহর রাসূল (আমি পড়েছি)। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তাই তো, আমি সলাতে মনে মনে বলছিলাম, কি হল, আমি ক্বিরাআত পাঠ করতে আটকিয়ে যাচ্ছি কেন? আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) বলেন, রসূলের এ কথা শুনার পর লোকেরা রসূলের পেছনে জেহরী সলাতে ক্বিরাআত পাঠ বন্ধ করে দিয়েছিল। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৮৫৬
وعن ابن عمر والبياضي قالا : قال رسول الله ﷺ إن المصلي يناجي ربه فلينظر ما يناجيه ولا يجهر بعضكم على بعض بالقرآن. رواه أحمد
তারা বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ সলাত আদায়কারী সলাতরত অবস্থায় তার পরওয়ারদিগারের সাথে একান্তে আলাপ করে। তাই তার উচিত সে কি আলাপ করে তার প্রতি লক্ষ্য রাখা। অতএব একজনের কুরআন তিলাওয়াতের শব্দ অন্যজনের কানে যেন না পৌঁছে। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৮৫৭
وعن أبي هريرة قال قال رسول الله ﷺ إنما جعل الإمام ليؤتم به فإذا كبر فكبروا وإذا قرأ فأنصتوا. رواه أبو داوٗد والنسائـي وابن ماجة
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ইমাম এজন্য নিয়োগ করা হয় যে, তাকে অনুসরণ করা হবে। তাই ইমাম ‘আল্লা-হু আকবার’ বললে তোমরাও ‘আল্লা-হু আকবার’ বলবে। ইমাম যখন ক্বিরাআত তিলাওয়াত করবে, তোমরা চুপ থাকবে। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৮৫৮
وعن عبد الله ابن أبي أوفى قال جاء رجل إلى النبي ﷺ فقال إني لا أستطيع أن آخذ من القرآن فعلمني ما يجزئني قال قل سبحان الله والحمد لله ولا إله الا الله الله أكبر ولا حول ولا قوة الا بالله قال يا رسول الله هذا لله فماذا لى قال قال اللهم ارحمنى وعافنى واهدنى وارزقنى فقال هكذا بيديه وقبضهما فقال رسول الله ﷺ اما هذا فقد ملا يديه من الخير. رواه أبو داوٗد وانتهت رواه النسآئى عند قوله : الا بالله
তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দরবারে হাজির হয়ে আরয করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি কুরআনের কোন অংশ শিখে নিতে সক্ষম নই। তাই আপনি আমাকে এমন কিছু শিখিয়ে দিন যা আমার জন্য যথেষ্ট হবে। উত্তরে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তুমি এই (দু’আ) পড়ে নিবেঃ “আল্লাহ্ তা’আলা পবিত্র। সব প্রশংসা তাঁর। আল্লাহ্ ছাড়া প্রকৃত কোন মা’বুদ নেই। আল্লাহ্ অতি বড় ও মহান। গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার শক্তি ও ‘ইবাদাত করার তাওফীক আল্লাহরই কাছে”। ঐ ব্যক্তি আরয করল, হে আল্লাহর রাসূল! এসব তো আল্লাহর জন্য। আমার জন্য কি? উত্তরে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তোমার জন্য পড়বেঃ “হে আল্লাহ্! আমার উপর রহম কর। আমাকে নিরাপদে রাখ। আমাকে হিদায়াত দান কর। আমাকে রিয্ক দাও”। তারপর লোকটি নিজের দু’হাত দিয়ে এভাবে ইশারা করল আবার বন্ধ করল যেন সে পেয়েছে বলে বুঝাল। এটা দেখে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ এ ব্যক্তি তার দু’হাত কল্যান দিয়ে ভরে নিল। [১] কিন্তু নাসায়ীর রাবীগন এই বর্ণনা শেষ করেছেন “ইল্লা-বিল্লা-হ” পর্যন্ত।
মিশকাতুল মাসাবিহ ৮৫৯
وعن ابن عباس أن النبي ﷺ كان إذا قرأ ﴿سبح اسم ربك الأعلى﴾ قال سبحان ربي الأعلى. رواه أحمد وأبو داوٗد
তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন “সাব্বিহিস্মা রব্বিকাল আ’লা (সুরাহ আ’লা)পড়তেন তখন বলতেন, “সুবহানা রাব্বিয়াল আ’লা” (আমি আমার উচ্চ মর্যাদাবান রব্বুল ‘আলামীনের পবিত্রতা বর্ণনা করছি)।[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৮৬০
وعن أبي هريرة قال قال رسول الله ﷺ من قرأ منكم بـ ﴿والتين والزيتون﴾ فانتهى إلى ﴿أليس الله بأحكم الحاكمين﴾ فليقل بلى وأنا على ذلك من الشاهدين ومن قرأ ﴿لا أقسم بيوم القيامة﴾ فانتهى إلى ﴿أليس ذلك بقدر على أن يحىيي الموتى﴾ فليقل بلى ومن قرأ والمرسلات فبلغ ﴿فبأي حديث بعده‘ يؤمنون﴾ فليقل آمنا بالله. رواه أبو داوٗد والترمذي إلى قوله: (وأنا على ذلك من الشاهدين)
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের যে ব্যক্তি সুরাহ ওয়াত তীনি ওয়াযযাইতুন পড়তে পড়তে “আলায়সাল্ল-হু বিআহকামিল হা-কিমীন” (আল্লাহ্ কি সবচেয়ে বড় হাকীম নন?) পর্যন্ত পৌছবে সে যেন বলে, “বালা- ওয়াআনা- ‘আলা- যা-লিকা মিনাশ শাহিদীন” [সুরাহ আততীন] (হাঁ, আমি এ কথার সাক্ষ্যদানকারীদের একজন)। আর যে ব্যক্তি সুরাহ ক্বিয়ামাহ পড়তে “আলায়সা যা-লিকা বিক্বা-দিরীন ‘আলা- আন্ ইউহয়িয়াল মাওতা-” (সে আল্লাহর কি এ শক্তি নেই যে, তিনি মৃতদেরকে জীবিত করে উঠাবেন), তখন সে যেন বলে, “বালা” (হাঁ, তিনি তা করতে সমর্থ)। আর যে ব্যক্তি সুরাহ ওয়াল মুরসালা-ত পড়তে পড়তে “ফাবি আইয়ী হাদিসিন বা’দাহু ইউমিনুন” (এরপর এরা কোন কথার উপর ঈমান আনবে?”) এ পর্যন্ত পৌঁছে সে যেন বলে, “আ-মান্না বিল্লাহ” (আমরা আল্লাহর উপর ঈমান এনেছি) । আবু দাউদ, তিরমিযী এ হাদিসটিকে “শাহিদীন” পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন।[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৮৬১
وعن جابر قال خرج رسول الله ﷺ على أصحابه فقرأ عليهم سورة الرحمن من أولها إلى اۤخرها فسكتوا فقال لقد قرأتها على الجن ليلة الجن فكانوا أحسن مردودا منكم كنت كلما أتيت على قوله ﴿فبأي الاء ربكما تكذبان﴾ قالوا لا بشيء من نعمك ربنا نكذب فلك الحمد. رواه الترمذي وقال هذا حديث غريب
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর কিছু সাহাবীগনের কাছে এলেন। তাদেরকে তিনি সুরাহ আর রাহমানের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তিলাওয়াত করে শুনালেন। সাহাবীগন চুপ হয়ে শুনলেন। তারপর রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, এই সুরাটি আমি ‘লায়লাতুল জিন্নি’ (জিনদের সাথে দেখা হবার রাতে) জিনদের পড়ে শুনিয়েছি। জিনেরা তোমাদের চেয়ে এর উত্তর ভালো দিয়েছে। আমি যখনই “তোমাদের রবের কোন নিয়ামাতকে তোমরা অস্বীকার করতে পারবে” পর্যন্ত পৌঁছেছি তখনই তারা বলে উঠেছে, “হে আমাদের রব! আমরা তোমার কোন নি’আমাতকে অস্বীকার করিনা। তোমারই সব প্রশংসা। তিরমিযী বলেছেন, এ হাদিসটি গরীব। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ > তৃতীয় অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ৮৬২
عن معاذ بن عبد الله الجهني قال إن رجلا من جهينة أخبره أنه سمع رسول الله ﷺ قرا في الصبح ﴿إذا زلزلت﴾ في الركعتين كلتيهما فلا أدري أنسي أم قرأ ذلك عمدا. رواه أبو داوٗد
তিনি বলেন, জুহাইনা বংশের এক ব্যক্তি তাকে বলেছেন, তিনি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে ফাজরের সলাতের দু’রাকাতেই সুরাহ ‘ইযা যুলযিলাত’ তিলাওয়াত করতে শুনেছেন। আমি বলতে পারি না, রসুল (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ভুলে গিয়েছিলেন না ইচ্ছা করেই পড়েছিলেন। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৮৬৩
وعن عروة قال إن أبا بكر الصديق صلى الصبح فقرأ فيهما بسورة البقرة في الركعتين كلتيهما. رواه مالك
তিনি বলেন, আবুবকর (রাঃ) ফাজরের সলাত আদায় করলেন। উভয় রাকাতেই সুরাহ বাকারাহ তিলাওয়াত করলেন।[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৮৬৪
وعن الفرافصة بن عمير الحنفى قال ما أخذت سورة يوسف الا من قراءة عثمان بن عفان إياها في الصبح من كثرة ما كان يرددها. رواه مالك
আমি সুরাহ ইউসুফ উসমান ইবনু আফফান (রাঃ) থেকে শুনে শুনে মুখস্ত করেছি। কেননা তিনি এ সূরাকে বিশেষ করে ফাজরের সালাতে প্রায়ই তিলাওয়াত করতেন। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৮৬৫
و عن عامر بن ربيعة قال صلينا وراء عمر بن الخطاب الصبح فقرأ فيهما بسورة يوسف وسورة الحج قراءة بطيئة قيل إذا لقد كان يقوم حين يطلع الفجر قال أجل. رواه مالك
তিনি বলেন, আমরা আমীরুল মু’মিনীন খলীফা উমার ফারুক (রাঃ) এর পিছনে ফাজরের সলাত আদায় করলাম। তিনি এর দু’রাকাতেই সুরাহ ইউসুফ ও সুরাহ হাজ্জকে থেমে থেমে তিলাওয়াত করেছেন। কেউ আমিরকে জিজ্ঞেস করল যে, খলীফাহ ‘উমার (রাঃ) ফাজরের ওয়াক্ত শুরু হবার সাথে সাথেই কি সলাত আদায়ে দাঁড়িয়ে যেতেন? উত্তরে আমির বলেন, হাঁ। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৮৬৬
وعن عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده قال ما من المفصل سورة صغيرة ولا كبيرة الا قد سمعت رسول الله ﷺ يؤم بها الناس فى الصلاة المكتوبة. رواه مالك
তিনি তাঁর পিতার মাধ্যমে তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে মুফাসসাল সুরার (হুজুরাত থেকে নাস পর্যন্ত) ছোট-বড় সকল সুরাহ দিয়েই ফারয সলাতের ইমামতি করতে শুনেছি। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৮৬৭
وعن عبد الله بن عتبة بن مسعود قال قرا رسول الله ﷺ في صلاة المغرب بحم الدخان. رواه النسآئى مرسلا
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাগরিবের সালাতে সূরাহ ‘হা-মীম আদ দুখান’ তিলাওয়াত করলেন। [১]