মিশকাতুল মাসাবিহ > তৃতীয় অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ৮২০
عن جابر قال كان النبي ﷺ إذا استفتح الصلاة كبر ثم قال إن صلاتي ونسكي ومحياي ومماتي لله رب العالمين لا شريك له وبذلك أمرت وأنا اول المسلمين اللهم اهدني لأحسن الأعمال وأحسن الأخلاق لا يهدي لأحسنها الا أنت وقني سيئ الأعمال وسيئ الأخلاق لا يقي سيئها الا أنت. رواه النسآئى
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকবীর তাহরীমা (আল্ল-হু আকবার) দ্বারা সলাত শুরু করতেন। তারপর পাঠ করতেন, “ইন্না সলা-তী ওয়ানুসুকী ওয়া মাহ্ইয়া-ইয়া ওয়ামামা-তী লিল্লা-হি রব্বিল ‘আ-লামীন, লা- শারীকা লাহূ ওয়াবিযা-লিকা উমিরতু ওয়াআনা- আও্ওয়ালুল মুসলিমীন, আল্ল-হুম্মাহ্দিনী লিআহ্সানিল আ‘মা-লি এবং আহ্সানিল আখলা-ক্বি লা- ইয়াহ্দী লিআহ্সানিহা- ইল্লা- আন্তা ওয়াক্বিনী সায়য়্যিয়াল আ‘মা-লি ওয়া সায়য়্যিয়াল আখলা-ক্বি লা- ইয়াক্বী সায়য়্যিয়াহা- ইল্লা- আন্তা”- (অর্থাৎ- আমার সলাত, আমার কুরবানী, আমার জীবন, আমার মৃত্যু আল্লাহ তা‘আলার জন্য। তাঁর কোন শারীক নেই। আর এর জন্যই আমি আদিষ্ট হয়েছি। আমিই হলাম এর প্রতি প্রথম আনুগত্যশীল। হে আল্লাহ! তুমি আমাকে পরিচালিত কর উত্তম কাজ ও উত্তম চরিত্রের পথে। তুমি ছাড়া উত্তম পথে আর কেউ পরিচালিত করতে পারবে না। আমাকে খারাপ কাজ ও বদ চরিত্র হতে রক্ষা কর। তুমি ছাড়া এর খারাবি থেকে কেউ আমাকে বাঁচাতে পারবে না।)। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৮২১
وعن محمد بن مسلمة قال إن رسول الله ﷺ إذا قام يصلي تطوعا قال الله أكبر وجهت وجهي للذي فطر السموت والأرض حنيفا وما أنا من المشركين وذكر الحديث مثل حديث جابر الا أنه قال وأنا من المسلمين ثم قال اللهم أنت الملك لا إله الا أنت سبحانك وبحمدك ثم يقرأ. رواه النسآئى
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নাফল সলাত আদায় করতে দাঁড়ালে বলতেন, “আল্ল-হু আকবার, ওয়াজ্জাহ্তু ওয়াজ্হিয়া লিল্লাযী ফাত্বারাস্ সামা-ওয়া-তি ওয়াল আর্যা হানীফাওঁ ওয়ামা আনা- মিনাল মুশ্রিকীন”- (অর্থাৎ- আল্লাহ বড় মহামহিম। আমি সে সত্তার দিকেই আমার মুখ ফিরিয়েছি যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন। আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই”। ইমাম নাসায়ী বলেন, অবশিষ্ট হাদীস তিনি (উল্লেখিত) জাবির-এর হাদীসের মতই বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি পরিবর্তে বলেছেন, “আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত”। এরপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলতেন, “আল্ল-হুম্মা আনতাল মালিকু, লা-ইলা-হা ইল্লা- আন্তা সুবহা-নাকা ওয়া বিহাম্দিকা”- (অর্থাৎ হে আল্লাহ! তুমিই বাদশাহ। তুমি ছাড়া সত্যিকার কোন মা‘বূদ নেই। তুমি পবিত্র। সব প্রশংসা তোমার জন্য।)। এরপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ক্বিরাআত শুরু করতেন। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ > প্রথম অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ৮২২
عن عبادة بن الصامت قال قال رسول الله ﷺ لا صلاة لمن لم يقرأ بفاتحة الكتاب. متفق عليه - وفي رواية لمسلم لمن لم يقرأ بأم القراۤن فصاعدا
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সলাতে সূরাহ্ ফাতিহা পাঠ করেনি তার সলাত হল না। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৮২৩
وعن أبي هريرة قال قال رسول الله ﷺ من صلى صلاة لم يقرأ فيها بأم القرآن فهي خداج ثلاثا غير تمام فقيل لأبي هريرة إنا نكون وراء الإمام فقال اقرأ بها في نفسك فإني سمعت رسول الله ﷺ يقول قال الله تعالى قسمت الصلاة بيني وبين عبدي نصفين ولعبدي ما سأل فإذا قال العبد ﴿الحمد لله رب العالمين﴾ قال الله تعالى حمدني عبدي وإذا قال ﴿الرحمن الرحيم﴾ قال الله تعالى أثنى علي عبدي وإذا قال ﴿مالك يوم الدين﴾ قال مجدني عبدي واذا قال ﴿إياك نعبد وإياك نستعين﴾ قال هذا بيني وبين عبدي ولعبدي ما سأل فإذا قال ﴿اهدنا الصراط المستقيم صراط الذين أنعمت عليهم غير المغضوب عليهم ولا الضالين﴾ قال هذا لعبدي ولعبدي ما سأل. رواه مسلم
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সলাত আদায় করল কিন্তু এতে উম্মুল কুরআন অর্থাৎ সুরাহ্ ফাতিহাহ্ পাঠ করল না তাতে তার সলাত “অসম্পূর্ণ” রয়ে গেল। এ কথা তিনি তিনবার বললেন। এ কথা শুনে কেউ আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলেন, আমরা যখন ইমামের পিছনে সলাত আদায় করব তখনও কি তা পাঠ করব? উত্তরে তিনি বললেন, হাঁ তখনও তা পাঠ করবে নিজের মনে মনে। কারণ আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, “আল্লাহ বলেছেন, আমি ‘সলাত’ অর্থাৎ, সূরাহ্ ফাতিহাকে আমার ও আমার বান্দার মধ্যে অর্ধেক অর্ধেক ভাগ করেছি, (এভাবে যে, হামদ ও ছানা আমার জন্য আর দু‘আ বান্দার জন্য)। আর বান্দা যা চায় তা তাকে দেয়া হয়। বান্দা বলে, সব প্রশংসা আল্লাহর যিনি সমস্ত জাহানের প্রতিপালক। তখন আল্লাহ তা‘আলা বলেন, আমার বান্দা আমার প্রশংসা করল। যখন বান্দা বলে, আল্লাহ বড় মেহেরবান ও পরম দয়ালু, আল্লাহ তখন বলেন, আমার বান্দা আমার গুণগান করল। বান্দা যখন বলে, আল্লাহ ক্বিয়ামাতের দিনের হাকীম, তখন আল্লাহ বলেন, আমার বান্দা আমাকে সম্মান প্রদর্শন করল। বান্দা যখন বলে, (হে আল্লাহ!) আমরা একমাত্র তোমারই ‘ইবাদাত করি এবং তোমার কাছেই সাহায্য কামনা করি, তখন আল্লাহ বলেন, এটা আমার ও আমার বান্দার মধ্যকার ব্যাপার (‘ইবাদাত আল্লাহর জন্য আর দু‘আ বান্দার জন্য)। আর আমার বান্দা যা চাইবে তা সে পাবে। বান্দা যখন বলে, (হে আল্লাহ)! তুমি আমাদেরকে সহজ ও সরল পথে পরিচালিত কর। সে সমস্ত লোকের পথে, যাদেরকে তুমি নি‘আমাত দান করেছ। তাদের পথে নয়, যাদের প্রতি তোমার গযব নাযিল হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে। তখন আল্লাহ তা‘আলা বলেন, এটা আমার বান্দার জন্য, আর বান্দা যা চাইবে, সে তাই পাবে। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৮২৪
وعن أنس أن النبي ﷺ وابا بكر عمر رضي الله عنهما كانوا يفتتحون الصلاة بـ﴿الحمد لله رب العالمين﴾. رواه مسلم
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং আবূ বাক্র ও ‘উমার (রাঃ) সলাত “আলহাম্দু লিল্লা-হি রব্বিল ‘আ-লামীন” দিয়ে শুরু করতেন। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৮২৫
وعن أبي هريرة قال قال رسول الله ﷺ إذا أمن الإمام فأمنوا فإنه من وافق تأمينه تأمين الملائكة غفر له ما تقدم من ذنبه. متفق عليه - وفى رواية قال إذا قال الإمام ﴿غير المغضوب عليهم ولا الضالين﴾ فقولوا آمين فإنه من وافق قوله قول الملائكة غفر له ما تقدم من ذنبه هذا لفظ البخاري ولمسلم نحوه وفى اخرى للبخارى قال إذا أمن القارئ فأمنوا فإن الملائكة تؤمن فمن وافق تأمينه تأمين الملائكة غفر له ما تقدم من ذنبه
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ইমাম যখন ‘আমীন’ বলবে, তোমরাও ‘আমীন’ বলবে। কারণ যে ব্যক্তির ‘আমীন’ মালাকগণের আমীনের সাথে মিলে যায়, আল্লাহ তার অতীতের সব গুনাহগুলো মাফ করে দেন। [১] আর এক বর্ণনায় আছে, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যখন ইমাম বলে, “গয়রিল মাগযূবি ‘আলায়হিম ওয়ালায্ যোয়াল্লীন”, তখন তোমরা ‘আমীন’ বলবে। কারণ যার ‘আমীন’ শব্দ মালাকগণের ‘আমীন’ শব্দের সাথে মিলে যায় তার আগের গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়। এ শব্দগুলো সহীহুল বুখারীর। [2] সহীহ মুসলিমের হাদীসের শব্দগুলোও এর মতই। আর সহীহুল বুখারীর অন্য একটি বর্ণনার শব্দ হল, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যখন কুরআন তিলাওয়াতকারী অর্থাৎ ইমাম বা অন্য কেউ ‘আমীন’ বলবে, তোমরাও সাথে সাথে ‘আমীন’ বল। আর যে ব্যক্তির ‘আমীন’ শব্দ মালাকগণের আমীন শব্দের সাথে মিলে যাবে, তার আগের সব গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়। [3]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৮২৬
وعن أبي موسى الأشعري قال قال رسول الله ﷺ إذا صليتم فأقيموا صفوفكم ثم ليؤمكم أحدكم فإذا كبر فكبروا وإذا قال غير المغضوب عليهم ولا الضالين فقولوا آمين يجبكم الله فإذا كبر وركع فكبروا واركعوا فإن الإمام يركع قبلكم ويرفع قبلكم فقال رسول الله ﷺ فتلك بتلك وإذا قال سمع الله لمن حمده فقولوا اللهم ربنا لك الحمد يسمع الله لكم. رواه مسلم
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা যখন জামা‘আতে সলাত আদায় করবে, তোমাদের কাতারগুলোকে সোজা করবে। এরপর তোমাদের কেউ তোমাদের ইমাম হবে। ইমাম তাকবীর তাহরীমা ‘আল্ল-হু আকবার’ বললে, তোমরাও ‘আল্ল-হু আকবার’ বলবে। ইমাম “গাইরিল মাগযূবি ‘আলায়হিম ওয়ালায্ যোয়াল্লীন” বললে, তোমরা আমীন বলবে। আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের দু‘আ ক্ববুল করবেন। ইমাম রুকূতে যাবার সময় ‘আল্ল-হু আকবার’ বলবে ও রুকূ‘তে যাবে। তখন তোমরাও ‘আল্ল-হু আকবার’ বলে রুকূতে যাবে। ইমাম তোমাদের আগে রুকু‘ করবে। তোমাদের আগে রুকূ‘ হতে মাথা উঠাবে। এরপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, এটা ওটার পরিবর্তে (অর্থাৎ তোমরা পরে রুকূ‘তে গেলে, আর পরে মাথা উঠালে ও ইমাম আগে রুকূ‘তে গেলে আর আগে মাথা উঠালে, উভয়ের সময় এক সমান হয়ে গেল)। এরপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, ইমাম “সামি‘আল্ল-হু লিমান হামিদাহ” বলবে, তোমরা বলবে “আল্ল-হুম্মা রব্বানা- লাকাল হাম্দ” আল্লাহ তোমাদের প্রশংসা শুনেন। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৮২৭
وفى رواية له عن أبي هريرة وقتادة واذا قرأ فانصتوا
মুসলিমের আর এক বর্ননায় এ শব্দগুলো আছে, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ইমামের ক্বিরাআত তিলাওয়াত করার সময় তোমরা চুপ থাকবে। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৮২৮
وعن أبي قتادة قال كان النبي ﷺ يقرأ في الظهر في الأوليين بأم الكتاب وسورتين وفي الركعتين الأخريين بأم الكتاب ويسمعنا الآية احيانا ويطول في الركعة الأولى ما لا يطول في الركعة الثانية وهكذا في العصر وهكذا في الصبح. متفق عليه
তিনি বলেন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যুহরের সলাতে প্রথম দু’রাকা’আতে সুরা ফাতেহা এবং আরও দুটি সুরাহ্ পাঠ করতেন। পরের দু’রাকা’আতে শুধু সুরাহ্ ফাতিহা পাঠ করতেন। আর কখনও কখনও তিনি আমাদেরকে আয়াত শুনিয়ে পাঠ করতেন। তিনি প্রথম রাক্’আতকে দ্বিতীয় রাক্’আত অপেক্ষা লম্বা করে পাঠ করতেন। এভাবে তিনি আসরের সলাতও আদায় করতেন। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৮২৯
وعن أبي سعيد الخدري قال كنا نحزر قيام رسول الله ﷺ في الظهر والعصر فحزرنا قيامه في الركعتين الأوليين من الظهر قدر قراءة آلم تنزيل السجدة وفى رواية فى كل ركعة قدر ثلاثين آية وحزرنا قيامه في الأخريين قدر النصف من ذلك وحزرنا قيامه في الركعتين الأوليين من العصر على قدر قيامه في الأخريين من الظهر وفي الأخريين من العصر على النصف من ذلك ولم يذكر أبو بكر. رواه مسلم
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যুহর ও ‘আসরের সলাতে কত সময় দাঁড়ান তা আমরা অনুমান করতাম। আমরা অনুমান করলাম যে, তিনি যুহরের প্রথম দু’ রাক’আতে সুরাহ্ আলিফ লাম মীম তানযিলুস সাজদাহ্ পাঠ করতে যত সময় লাগে তত সময় দাঁড়াতেন। অন্য এক বর্ণনায়, প্রত্যেক রাক’আতে ত্রিশ আয়াত পড়ার সমপরিমাণ সময় দাঁড়াতেন। আর পরবর্তী দু’ রাক’আতে অর্ধেক সময় দাঁড়াতেন বলে অনুমান করেছিলাম। ‘আসরের সলাতের প্রথম দু’ রাক’আতে, যুহরের সলাতের শেষ দু’ রাক’আতের সমপরিমাণ এবং ‘আস্রে সলাতের শেষ দু’ রাক’আতে যুহরের শেষ দু’ রাক’আতের অর্ধেক সময় বলে অনুমান করেছিলাম। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৮৩০
وعن جابر بن سمرة قال كان النبي ﷺ يقرأ في الظهر بالليل إذا يغشى وفى رواية بسبح اسم ربك الاعلى وفي العصر نحو ذلك وفي الصبح أطول من ذلك. رواه مسلم
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যুহরের সলাতে সূরাহ্ “ওয়াল্লায়লি ইযা-ইয়াগ্শা-” এবং অপর বর্ণনা মতে “সাব্বিহিসমা রব্বিকাল আ’লা” পাঠ করতেন। আস্রের সলাতও একইভাবে আদায় করতেন। কিন্তু ফাজ্রের সলাতে এর চেয়ে লম্বা সূরাহ্ তিলওয়াত করতেন। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৮৩১
وعن جبير بن مطعم قال سمعت رسول الله ﷺ يقرأ في المغرب بالطور. متفق عليه
তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে মাগরিবের সলাতে সূরাহ্ “তূর” পাঠ করতে শুনেছি। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৮৩২
وعن أم الفضل بنت الحارث قالت سمعت رسول الله ﷺ يقرأ في المغرب بالمرسلات عرفا. متفق عليه
তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে মাগরিবের সলাতে সূরাহ্ মুরসলাত পাঠ করতে শুনেছি। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৮৩৩
وعن جابر قال كان معاذ يصلي مع النبي ﷺ ثم يأتي فيؤم قومه فصلى ليلة مع النبي ﷺ العشاء ثم أتى قومه فأمهم فافتتح بسورة البقرة فانحرف رجل فسلم ثم صلى وحده وانصرف فقالوا له أنافقت يا فلان قال لا والله ولاۤتين رسول الله ﷺ فلاخبرنه فأتى رسول الله ﷺ فقال يا رسول الله إنا أصحاب نواضح نعمل بالنهار وإن معاذا صلى معك العشاء ثم أتى قومه فافتتح بسورة البقرة فأقبل رسول الله ﷺ على معاذ فقال يا معاذ أفتان أنت اقرأ والشمس وضحاها والضحى والليل إذا يغشى وسبح اسم ربك الأعلى. متفق عليه
তিনি বলেন, মু’আয ইবনু জাবাল (রাঃ) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে জামায়াতে সলাত আদায় করতেন, তারপর নিজ এলাকায় যেতেন ও এলাকাবাসীর ইমামতি করতেন। এক রাতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে ‘ইশার সলাত আদায় করলেন, তারপর নিজ এলাকায় গিয়ে ইমামতি করলেন। তিনি সলাতে সূরাহ্ বাক্বারাহ্ পাঠ করতে লাগলেন। এতে বিরক্ত হয়ে এক লোক সালাম ফিরিয়ে সলাত থেকে পৃথক হয়ে গেল। একা একা সলাত আদায় করে চলে গেল। তার এ অবস্থা দেখে লোকজন বিস্মিত হয়ে বলল। হে অমুক! তুমি কি মুনাফিক্ব হয়ে গেলে? উত্তরে সে বলল, আল্লাহর কসম! আমি কখনো মুনাফ্বিক হয়নি। নিশ্চয়ই আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট যাব। এ বিষয়টি সম্পর্কে তাঁকে জানাব। এর পর সে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এলো। বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি পানি সেচকারী (শ্রমিক), সারাদিন সেচের কাজ করি। মু’আয আপানার সাথে ‘ইশার সলাত আদায় করে নিজের গোত্রের ইমামতি করতে এসে সূরাহ্ বাক্বারাহ্ দিয়ে সলাত শুরু করে দিলেন। এ কথা শুনে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মু’আয-এর দিকে তাকালেন এবং বললেন, হে মু’য়ায! তুমি কি ফিতনা সৃষ্টিকারী? তুমি ‘ইশার সলাতে সূরাহ্ ওয়াশ্ শাম্সি ওয়ায যুহা-হা-, সূরাহ্ ওয়ায্ যুহা-, সূরাহ্ ওয়াল লায়লী ইযা-ইয়াগ্শা-, সূরাহ্ সাব্বিহিসমা রব্বিকাল ‘আলা-তিলওয়াত করবে। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৮৩৪
وعن البراء قال سمعت النبي ﷺ يقرأ في العشاء والتين والزيتون وما سمعت أحدا أحسن صوتا منه. متفق عليه
তিনি বলেন, আমি রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে ‘ইশার সলাতে সূরাহ্ “ওয়াত্তীন ওয়ায যায়তূন” পাঠ করতে শুনেছি। তার চেয়ে মধুর স্বর আমি আর কারো শুনিনি। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৮৩৫
وعن جابر بن سمرة قال كان النبي ﷺ يقرأ في الفجر بق والقران المجيد ونحوها وكان صلاته بعد تخفيفا. رواه مسلم
তিনি বলেন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফাজ্রের সলাতে সূরাহ্ ‘কাফ ওয়াল কুরআনিল মাজীদ’ ও এরূপ সূরাগুলো তিলাওয়াত করতেন। অন্যান্য সলাত ফাজ্রের চেয়ে কম দীর্ঘ হত। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৮৩৬
وعن عمرو بن حريث أنه سمع النبي ﷺ يقرأ في الفجر والليل إذا عسعس. رواه مسلم
তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে ফাজ্রের সলাতে “ওয়াল লায়লি ইযা- ‘আস্আস্” সূরাহ্ তিলওয়াত করতে শুনেছেন। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৮৩৭
وعن عبد الله بن السائب قال صلى بنا رسول الله ﷺ الصبح بمكة فاستفتح سورة المؤمنين حتى جاء ذكر موسى وهارون أو ذكر عيسى أخذت النبي ﷺ سعلة فركع. رواه مسلم
তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাক্কায় আমাদের ফাজ্রের সলাত আদায় করিয়েছেন। তিনি সূরাহ্ মু’মিন তিলাওয়াত করা শুরু করলেন। তিনি যখন মূসা ও হারুন অথবা ঈসা (‘আলাইহিস সালাম)-এর আলোচনা পর্যন্ত এসে পৌঁছলেন তাঁর কাশি এসে গেলে (সূরাহ্ শেষ না করেই) তিনি রুকূতে চলে গেলেন। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৮৩৮
عن أبي هريرة قال كان النبي ﷺ يقرأ في الفجر يوم الجمعة بالم تنزيل في الركعة الأولى وفي الثانية هل أتى على الإنسان. متفق عليه
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জুমু’আর দিন ফাজ্রের সলাতের প্রথম রাক’আতে “আলিফ লা-ম মীম তানযীল” ( সূরাহ্ আস্ সাজদাহ্) ও দ্বিতীয় রাক’আতে “হাল আতা-আলাল ইনসা-নি”(অর্থাৎ সূরাহ্ আদ দাহ্র) তিলাওয়াত করতেন। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৮৩৯
وعن ابن أبي رافع قال استخلف مروان أبا هريرة على المدينة وخرج إلى مكة فصلى لنا أبو هريرة الجمعة فقرأ سورة الجمعة في السجدة الأولى وفي الآخرة إذا جاءك المنافقون فقال سمعت رسول الله ﷺ يقرأ بهما . رواه مسلم
তিনি বলেন, মারওয়ান আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)-কে মাদীনায় তাঁর স্থলাভিষিক্ত করে মাক্কায় গেলেন। এ সময় আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) জুমু’আর সলাতে আমাদের ইমামতি করলেন। তিনি সলাতে সূরাহ্ আল জুমু’আহ প্রথম রাক্’আতে ও সূরাহ্ “ইযা জা-আকাল মুনাফিকূন (সূরাহ্ আল মুনা-ফিকূন) দ্বিতীয় রাক্’আতে তিলাওয়াত করলেন। তিনি বলেন আমি রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জুমু’আর সলাতে এ দুটি সূরাহ্ তিলাওয়াত করতে শুনেছি। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৮৪০
وعن النعمان بن بشير قال كان رسول الله ﷺ يقرأ في العيدين وفي الجمعة بسبح اسم ربك الأعلى وهل أتاك حديث الغاشية قال وإذا اجتمع العيد والجمعة في يوم واحد يقرأ بهما أيضا في الصلاتين. رواه مسلم
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দু’ঈদে ও জুমু’আর সলাতে সূরাহ্ “সাব্বিহিস্মা রব্বিকাল আ’লা” (সূরাহ্ আ’লা) ও “হাল আতাকা হাদীসুল গা-শিয়াহ্” (সূরাহ্ গা-শীয়াহ্) তিলাওয়াত করতেন। আর ঈদ ও জুমু’আহ একদিনে হলে এ দুটি সূরাহ্ তিনি দু সলাতেই পড়তেন। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৮৪১
وعن عبيد الله أن عمر بن الخطاب سأل أبا واقد الليثي ما كان يقرأ به رسول الله ﷺ في الأضحى والفطر فقال كان يقرأ فيهما بق والقرآن المجيد واقتربت الساعة. رواه مسلم
‘উমার ইবনুল খাত্ত্বাব (রাঃ) আবূ ওয়াকিদ আল্ লায়সীকে জিজ্ঞেস করলেন যে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দু’ঈদেরর সলাতে কি পাঠ করতেন? রাবী বলেন, তিনি উভয় ঈদের সলাতে “ক্বাফ ওয়াল কুরা-আনিল মাজীদ” (সূরাহ্ ক্বাফ) ও “ইক্বতারাবাতিস সা-‘আহ” (সূরাহ্ আল ক্বামার) তিলাওয়াত করতেন। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৮৪২
وعن أبي هريرة قال إن رسول الله ﷺ قرأ في ركعتي الفجر ﴿قل يا أيها الكافرون﴾ و ﴿قل هو الله أحد﴾. رواه مسلم
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফাজ্রের দু’ রাক্’আত সলাতে “কুল ইয়া –আয়্যুহাল কা-ফিরুন” ও “ কুল হুওয়াল্লা-হু আহাদ” তিলাওায়াত করেছেন। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৮৪৩
وعن ابن عباس قال كان رسول الله ﷺ يقرأ في ركعتي الفجر ﴿قولوا امنا بالله وما أنزل إلينا﴾ والتي في ال عمران ﴿قل يا اهل الكتب تعالوا إلى كلمة سواء بيننا وبينكم﴾. رواه مسلم
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফাজ্রের দু’ রাক্’আত সলাতে যথাক্রমে সূরাহ্ বাক্বারার এ আয়াত “কূলূ আ-মান্না বিল্লা-হি ওয়ামা-উনযিলা ইলায়না-“ এবং সূরাহ্ আ-লি ‘ইমরান-এর এ আয়াত ‘কুল ইয়া –আহলাল’ কিতাবে “তা’আলাও ইলা- কালিমাতিন সাওয়া-য়িন বায়নানা- ওয়া বায়নাকুম” পাঠ করতেন। [১]