মিশকাতুল মাসাবিহ > দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ৮১৫
عن عائشة قالت كان رسول الله ﷺ إذا افتتح الصلاة قال سبحانك اللهم وبحمدك وتبارك اسمك وتعالى جدك ولا إله غيرك. رواه الترمذي وابو داؤد
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সলাত শুরু করার (তাকবীর তাহরীমার) পর এ দু’আ পাঠ করতেন, “সুবহা-নাকা আল্ল-হুমা ওয়া বিহাম্দিকা ওয়া তাবা-রাকাস্মুকা ওয়া তা’আলা- যাদ্দুকা ওয়ালা- ইলা-হা গায়রুকা” – (অর্থাৎ- হে আল্লাহ্! তুমি পূত পবিত্র। তোমার পূত পবিত্রতা ও প্রশংসা বর্ণনা করার সাথে সাথে আমরা আরও বলছি, তুমি খুবই বারাকাতপূর্ণ। তোমার শান অনেক ঊর্ধ্বে। তুমি ছাড়া কোন মা’বূদ নেই।) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৮১৬
ورواه ابن ماجة عن ابى سعيد وقال الترمذي هذا حديث لا نعرفه الا من حارثة وقد تكلم فيه من قبل حفظه
আর ইবনু মাজাহও এ হাদীসটি আবূ সা’ঈদ (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। ইমাম তিরমিযী বলেছেন, এ হাদীসটি আমি হারিসাহ্ ছাড়া অন্য কারও সূত্রে শুনিনি। তার স্মরণশক্তি সমালোচিত। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৮১৭
عن ابن جبير بن مطعم أنه رأى رسول الله ﷺ يصلى صلاة قال الله أكبر كبيرا الله أكبر كبيرا الله أكبر كبيرا والحمد لله كثيرا والحمد لله كثيرا والحمد لله كثيرا وسبحان الله بكرة وأصيلا ثلاثا، اعوذ بالله من الشيطان، من نفخه ونفثه وهمزه.- رواه أبو داوٗد وابن ماجة الا انه لم يذكر والحمد لله كثيرا وذكر فى اخره من الشيطان الرجيم وقال عمر ونفخه الكبر ونفثه الشعر وهمزه المؤتة
তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সলাত আদায় করতে দেখেছেন। তিনি তাকবীর তাহরীমার পর বললেনঃ “আল্ল-হু আকবার কাবীরা-, আল্ল-হু আকবার কাবীরা-, আল্ল-হু আকবার কাবীরা-, ওয়ালহাম্দু লিল্লা-হি কাসীরা-, ওয়ালহাম্দু লিল্লা-হি কাসীরা-, ওয়ালহাম্দু লিল্লা-হি কাসীরা-, ওয়া সুবহা-নাল্ল-হি বুক্রাতাওঁ ওয়াআসীলা-” তিনবার বললেন। তারপর বলেছেন, “আ‘ঊযু বিল্লা-হি মিনাশ্ শাইত্ব-নির রজীম মিন নাফ্খিহী ওয়া নাফ্সিহী ওয়া হাম্যিহী”। [৮৩৪] কিন্তু তিনি “ওয়ালহাম্দু লিল্লা-হি কাসীরা-” উল্লেখ করেননি। তাছাড়া তিনি শেষ দিকে শুধু “মিনাশ্ শাইত্ব-নির রজীম” বর্ণনা করেছেন। ‘উমার (রাঃ) বলেছেন, (আরবি) (নাফ্খ) অর্থ অহমিকা, (আরবি) (নাফ্স) অর্থ কবিতা, আর (আরবি) (হাম্য) অর্থ পাগলামী। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৮১৮
وعن سمرة بن جندب أنه حفظ عن رسول الله ﷺ سكتتين سكتة إذا كبر وسكتة إذا فرغ من قراءة غير المغضوب عليهم ولا الضالين فصدقه ابى بن كعب. رواه أبو داوٗد وروى الترمذي وابن ماجة والدارمي نحوه
তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে দু’টি নীরবতার স্থান স্মরণ রেখেছেন। একটি নীরবতা তাঁর তাকবীরে তাহরীমা বাঁধার পর, আর একটি নীরবতা হল, “গয়রিল মাগ্যূবি ‘আলায়হিম ওয়ালায্ যোয়াল্লীন” পাঠ করার পর। উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ)-ও তার বক্তব্য সমর্থন করেন। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৮১৯
وعن أبي هريرة قال كان رسول الله ﷺ إذا نهض من الركعة الثانية استفتح القراءة بالحمد لله رب العالمين ولم يسكت هكذا فى صحيح مسلم وذكره الحميدى فى افراده وكذا صاحب الجامع عن مسلم وحده
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দ্বিতীয় রাক্‘আত আদায় করার পর উঠে সাথে সাথে সূরাহ্ ফাতিহাহ্ দ্বারা ক্বিরাআত শুরু করে দিতেন এবং চুপ করে থাকতেন না। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ > তৃতীয় অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ৮২০
عن جابر قال كان النبي ﷺ إذا استفتح الصلاة كبر ثم قال إن صلاتي ونسكي ومحياي ومماتي لله رب العالمين لا شريك له وبذلك أمرت وأنا اول المسلمين اللهم اهدني لأحسن الأعمال وأحسن الأخلاق لا يهدي لأحسنها الا أنت وقني سيئ الأعمال وسيئ الأخلاق لا يقي سيئها الا أنت. رواه النسآئى
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকবীর তাহরীমা (আল্ল-হু আকবার) দ্বারা সলাত শুরু করতেন। তারপর পাঠ করতেন, “ইন্না সলা-তী ওয়ানুসুকী ওয়া মাহ্ইয়া-ইয়া ওয়ামামা-তী লিল্লা-হি রব্বিল ‘আ-লামীন, লা- শারীকা লাহূ ওয়াবিযা-লিকা উমিরতু ওয়াআনা- আও্ওয়ালুল মুসলিমীন, আল্ল-হুম্মাহ্দিনী লিআহ্সানিল আ‘মা-লি এবং আহ্সানিল আখলা-ক্বি লা- ইয়াহ্দী লিআহ্সানিহা- ইল্লা- আন্তা ওয়াক্বিনী সায়য়্যিয়াল আ‘মা-লি ওয়া সায়য়্যিয়াল আখলা-ক্বি লা- ইয়াক্বী সায়য়্যিয়াহা- ইল্লা- আন্তা”- (অর্থাৎ- আমার সলাত, আমার কুরবানী, আমার জীবন, আমার মৃত্যু আল্লাহ তা‘আলার জন্য। তাঁর কোন শারীক নেই। আর এর জন্যই আমি আদিষ্ট হয়েছি। আমিই হলাম এর প্রতি প্রথম আনুগত্যশীল। হে আল্লাহ! তুমি আমাকে পরিচালিত কর উত্তম কাজ ও উত্তম চরিত্রের পথে। তুমি ছাড়া উত্তম পথে আর কেউ পরিচালিত করতে পারবে না। আমাকে খারাপ কাজ ও বদ চরিত্র হতে রক্ষা কর। তুমি ছাড়া এর খারাবি থেকে কেউ আমাকে বাঁচাতে পারবে না।)। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৮২১
وعن محمد بن مسلمة قال إن رسول الله ﷺ إذا قام يصلي تطوعا قال الله أكبر وجهت وجهي للذي فطر السموت والأرض حنيفا وما أنا من المشركين وذكر الحديث مثل حديث جابر الا أنه قال وأنا من المسلمين ثم قال اللهم أنت الملك لا إله الا أنت سبحانك وبحمدك ثم يقرأ. رواه النسآئى
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নাফল সলাত আদায় করতে দাঁড়ালে বলতেন, “আল্ল-হু আকবার, ওয়াজ্জাহ্তু ওয়াজ্হিয়া লিল্লাযী ফাত্বারাস্ সামা-ওয়া-তি ওয়াল আর্যা হানীফাওঁ ওয়ামা আনা- মিনাল মুশ্রিকীন”- (অর্থাৎ- আল্লাহ বড় মহামহিম। আমি সে সত্তার দিকেই আমার মুখ ফিরিয়েছি যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন। আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই”। ইমাম নাসায়ী বলেন, অবশিষ্ট হাদীস তিনি (উল্লেখিত) জাবির-এর হাদীসের মতই বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি পরিবর্তে বলেছেন, “আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত”। এরপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলতেন, “আল্ল-হুম্মা আনতাল মালিকু, লা-ইলা-হা ইল্লা- আন্তা সুবহা-নাকা ওয়া বিহাম্দিকা”- (অর্থাৎ হে আল্লাহ! তুমিই বাদশাহ। তুমি ছাড়া সত্যিকার কোন মা‘বূদ নেই। তুমি পবিত্র। সব প্রশংসা তোমার জন্য।)। এরপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ক্বিরাআত শুরু করতেন। [১]