তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মিশকাতুল মাসাবিহ | হাদীস | কুরআন ও সুন্নাহ

মিশকাতুল মাসাবিহ > তৃতীয় অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ৭৬৮

عن ابى سعيد الخدري قال دخلت على النبي ﷺ فرأيته يصلي على حصير يسجد عليه قال ورأيته يصلي في ثوب واحد متوشحا به. رواه مسلم

তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর খিদমতে উপস্থিত হলাম। দেখলাম, তিনি একটি মাদুরের উপর সলাত আদায় করছেন, তার উপরই সাজদাহ্‌ দিচ্ছেন। আবূ সা’ঈদ আল খুদরী (রাঃ) বলেন, আমি দেখলাম তিনি এক প্রস্থ কাপড় বিপরীত দিক হতে কাঁধের উপর পেঁচিয়ে সলাত আদায় করছেন। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৭৬৯

وعن عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده قال رأيت رسول الله ﷺ يصلي حافيا ومنتعلا. رواه أبو داوٗد

তিনি তার পিতার মাধ্যমে দাদা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি (‘আবদুল্লাহ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে খালি পায়ে ও জুতা সহকারে উভয় অবস্থায় সলাত আদায় করতে দেখেছি। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৭৭০

وعن محمد بن المنكدر قال صلى بنا جابر في إزار قد عقده من قبل قفاه وثيابه موضوعة على المشجب فقال له قائل تصلي في إزار واحد فقال إنما صنعت ذلك ليراني أحمق مثلك وأينا كان له ثوبان على عهد النبي ﷺ. رواه البخاري

তিনি বলেন, একদা জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) আমাদের সাথে এক কাপড়ে সলাত আদায় করলেন। তিনি তা গিরা লাগিয়ে পিছনে ঘাড়ের উপর বেঁধে রেখেছিলেন। তখন তার অন্যান্য কাপড় খুঁটির উপর রাখা ছিল। একজন তাকে জিজ্ঞেস করল, আপনি এক লুঙ্গিতেই সলাত আদায় করলেন (অথচ আপনার আরও কাপড় ছিল)? উত্তরে তিনি বললেন, তোমার মত আহাম্মককে দেখাবার জন্য আমি এ কাজ করেছি। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কালে আমাদের কার কাছেই বা দু’টি কাপড় ছিল? [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৭৭১

وعن أبي بن كعب قال الصلاة في الثوب الواحد سنة كنا نفعله مع رسول الله ﷺ ولا يعاب علينا فقال ابن مسعود إنما كان ذاك إذ كان في الثياب قلة فأما إذ وسع الله فالصلاة في الثوبين أزكى. رواه أحمد

তিনি বলেন, এক কাপড়ে সলাত আদায় করা সুন্নাত। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে আমরা এভাবে এক কাপড়েই সলাত আদায় করেছি। তাতে আমাদেরকে দোষারোপ করা হয়নি। এ কথার উপর ইবনু মাস্‌’ঊদ (রাঃ) বললেন, যখন আমাদের কাপড়ের অভাব ছিল তখন এক কাপড়ে সলাত পড়া হত। আল্লাহ তা’আলা এখন আমাদেরকে প্রাচূর্য ও স্বাচ্ছন্দ্য দিয়েছেন। তাই এখন দুই কাপড়েই সলাত আদায় করা উত্তম। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ > প্রথম অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ৭৭২

عن ابن عمر قال كان النبي ﷺ يغدو إلى المصلى والعنزة بين يديه تحمل وتنصب بالمصلى بين يديه فيصلي إليها. رواه البخاري

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সকালে ঈদগাহে চলে যেতেন। যাবার সময় তাঁর সাথে একটি বর্শা নিয়ে যাওয়া হত। এ বর্শা সামনে রেখে তিনি সলাত আদায় করতেন। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৭৭৩

وعن أبي جحيفة قال رأيت رسول الله ﷺ بمكة وهو بالابطح في قبة حمراء من أدم ورأيت بلالا أخذ وضوء رسول الله ﷺ ورأيت الناس يبتدرون ذاك الوضوء فمن أصاب منه شيئا تمسح به ومن لم يصب منه أخذ من بلل يد صاحبه ثم رأيت بلالا أخذ عنزة فركزها وخرج رسول الله ﷺ في حلة حمراء مشمرا صلى إلى العنزة بالناس ركعتين ورأيت الناس والدواب يمرون من بين يدي العنزة. متفق عليه

তিনি বলেন, আমি একবার মাক্কার ‘আবতাহ্‌’ নামক স্থানে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে একটি চামড়ার লাল তাঁবুতে দেখতে পেলাম। বিলালকে দেখলাম রাসূলু্ল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উযূর পানি হাতে তুলে নিতে। আর (অন্যান্য) লোকদেরকে দেখলাম উযূর অবশিষ্ট পানি নিবার জন্য কাড়াকাড়ি করছে। যারা তাঁর ব্যবহারের অবশিষ্ট উযূর পানি আনতে পেরেছে তারাই তা’ বারাকাতের জন্যে সারা শরীর ও মুখমণ্ডলে মাখছে। আর যারা উযূর পানি আনতে পারেনি তারা সঙ্গী সাথীদের (যারা পানি পেয়েছে) ভিজা হাত স্পর্শ করছে। এরপর আমি বিলালকে দেখলাম, হাতে একটি বর্শা নিল ও তা মাটিতে পুঁতে দিল। এ সময় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বের হয়ে এলেন। কাপড়ের কিনারা সামলে লোকদেরকে নিয়ে দুই রাক’আত সলাত আদায় করলেন। সে বর্শাটি তখন তাঁর সামনে ছিল। এ সময় মানুষ ও জন্তু-জানোয়ারকে দেখলাম বর্শার বাইরে দিয়ে যাতায়াত করছে। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৭৭৪

وعن نافع عن ابن عمر عن النبي ﷺ أنه كان يعرض راحلته فيصلي إليها. متفق عليه - وزاد البخاري قلت أفرأيت إذا هبت الركاب قال كان يأخذ الرحل فيعدله فيصلي إلى آخرته

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (খোলা জায়গায় সলাত আদায় করলে) নিজের উটকে সামনে আড়াআড়িভাবে বসিয়ে উটের দিকে মুখ করে সলাত আদায় করতেন। বুখারীর বর্ণনায় এ কথাও রয়েছে যে, নাফি’ বলেন, আমি ইবনু ‘উমারকে জিজ্ঞেস করলাম, উট মাঠে চরাতে গেলে তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তখন কি করতেন? উত্তরে ইবনু ‘উমার (রাঃ) বলেন, তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উটের ‘হাওদা’ নিতেন এবং হাওদার পিছনের ডাণ্ডাকে সামনে রেখে সলাত আদায় করতেন। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৭৭৫

وعن طلحة بن عبيد الله قال قال رسول الله ﷺ إذا وضع أحدكم بين يديه مثل مؤخرة الرحل فليصل ولا يبال من مر وراء ذلك. رواه مسلم

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: সলাত আদায় করার সময় হাওদার পিছনের দিকে লাঠির মত কোন কিছু সুতরাহ্‌ বানিয়ে সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়ে সলাত আদায় করবে। এরপর তার সামনে দিয়ে কে এলো আর গেল তার কোন পরোয়া করবে না। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৭৭৬

وعن أبي جهيم قال رسول الله ﷺ لو يعلم المار بين يدي المصلـي ماذا عليه لكان أن يقف أربعين خيرا لهٗ من أن يمر بين يديه قال أبو النضر لا أدري أقال أربعين يوما أو شهرا أو سنة. متفق عليه

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: সলাত আদায়কারী ব্যক্তির সামনে দিয়ে যাতায়াতকারী এতে কি গুনাহ হয়, যদি জানত তাহলে সে সলাত আদায়কারীর সামনে দিয়ে যাতায়াত অপেক্ষা চল্লিশ... পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকা উত্তম মনে করত। এ হাদীসের বর্ণনাকারী আবূ নাযর বলেন, ঊর্ধ্বতন রাবী চল্লিশ দিন অথবা চল্লিশ মাস অথবা চল্লিশ বছর বলেছেন আমার তা মনে নেই। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৭৭৭

وعن ابى سعيد قال قال رسول الله ﷺ إذا صلى أحدكم إلى شيء يستره من الناس فأراد أحد أن يجتاز بين يديه فليدفعه فإن أبى فليقاتله فإنما هو شيطان. هذا لفظ البخاري ولمسلم معناه

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যখন কেউ কিছুর আড়াল দিয়ে সলাত শুরু করে, আর কেউ আড়ালের ভিতর দিয়ে চলাচল করতে চায় তাকে বাধা দিবে। সে বাধা অমান্য করলে তার সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হবে। কারণ চলাচলকারী (মানুষের আকৃতিতে) শায়ত্বান। এ বর্ণনাটি বুখারীর। মুসলিমেও এ মর্মে বর্ণনা আছে। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৭৭৮

وعن أبي هريرة قال قال رسول الله ﷺ تقطع الصلاة المرأة والحمار والكـلب ويقي ذلك مثل مؤخرة الرحل. رواه مسلم

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : নারী, গাধা ও কুকুর সলাত (সামনে দিয়ে অতিক্রম করে) নষ্ট করে। আর এর থেকে রক্ষা করে হাওদার (পেছনে দন্ডায়মান) ডান্ডার ন্যায় কিছু বস্তু। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৭৭৯

وعن عائشة قالت كان النبي ﷺ يصلـي من الليل وأنا معترضة بينه وبين القبلة كاعتراض الجنازة. متفق عليه

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রাতে সলাত আদায় করতেন। আমি তাঁর ও ক্বিবলার মাঝখানে শুয়ে থাকতাম আড়াঅড়িভাবে লাশ পড়ে থাকার মতো। [১] (হাদীসটি সহীহ: বুখারী ৫১৫, মুসলিম ৫১২।)


মিশকাতুল মাসাবিহ ৭৮০

وعن ابن عباس قال أقبلت راكبا على أتان وأنا يومئذ قد ناهزت الاحتلام ورسول الله ﷺ يصلي بالناس بمنا إلى غير جدار فمررت بين يدي بعض الصف فنزلت وأرسلت الأتان ترتع ودخلت فلم ينكر ذلك علي أحد. متفق عليه

তিনি বলেন একবার আমি একটি মাদি গাধার উপর আরোহণ করে এলাম। তখন আমি প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার উপক্রম হয়ে গেছি। এ সময় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মিনায় অন্যান্য লোকজনসহ কোন দেয়ালের আড়াল ছাড়া সলাত আদায় করছিলেন। আমি কাতারের এক পাশের সামনে দিয়ে চলে গেলাম। এরপর গাধাটাকে চরাবার জন্য ছেড়ে দিয়ে আমি কাতারে দাঁড়িয়ে গেলাম। আমার এই কাজে কেউই কোন আপত্তি জানাল না। [১]


🔄 লোড হচ্ছে...
ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية