দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মিশকাতুল মাসাবিহ | হাদীস | কুরআন ও সুন্নাহ

মিশকাতুল মাসাবিহ > দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ৭১৫

عن أبي هريرة قال قال رسول الله ﷺ ما بين المشرق والمغرب قبلة. رواه الترمذى

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ পূর্ব ও পশ্চিমের মাঝখানেই ‘ক্বিবলাহ্’।[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৭১৬

وعن طلق بن علي قال خرجنا وفدا إلى رسول الله ﷺ فبايعناه وصلينا معه وأخبرناه أن بأرضنا بيعة لنا فاستوهبناه من فضل طهوره فدعا بماء فتوضأ وتمضمض ثم صبه لنا في إداوة وأمرنا فقال اخرجوا فإذا أتيتم أرضكم فاكسروا بيعتكم وانضحوا مكانها بهذا الماء واتخذوها مسجدا قلنا إن البلد بعيد والحر شديد والماء ينشف فقال مدوه من الماء فإنه لا يزيده الا طيبا. رواه النسآئى

তিনি বলেন, আমরা আমাদের গোত্রের প্রতিনিধি হিসেবে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এলাম। তাঁর হাতে বাই’আত গ্রহণ করলাম। তাঁর সাথে সলাত আদায় করলাম। এরপর আমরা তাঁর কাছে আবেদন করলাম, আমাদের এলাকায় আমাদের একটি গির্জা আছে। এটাকে আমরা এখন কী করব? আমরা তাঁর নিকট তাঁর উযূ করা কিছু পানি তাবাররুক হিসেবে চাইলাম। তিনি পানি আনালেন, উযূ করলেন, কুলি করলেন এবং তা আমাদের জন্য একটি পাত্রে ঢাললেন। আমাদেরকে নির্দেশ দিয়ে বললেন, তোমরা রওনা হয়ে যাও। তোমরা যখন তোমাদের এলাকায় পৌঁছবে, তোমাদের গির্জাটিকে ভেঙ্গে ফেলবে। গির্জার জায়গায় পানি ছিটিয়ে দিবে। এরপর একে মাসজিদ বানিয়ে নিবে। আমরা আবেদন করলাম, আমাদের এলাকা অনেক দূরে। ভীষণ খরা। পানি তো শুকিয়ে যাবে। রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আরও পানি মিশিয়ে এ পানি বাড়িয়ে নিবে। এ পানি তার পবিত্রতা ও বারাকাত বৃদ্ধি হওয়া ছাড়া কমাবে না। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৭১৭

وعن عائشة قالت أمر رسول الله ﷺ ببناء المساجد في الدور وأن ينظف ويطيب. رواه أبو داوٗد والترمذى وابن ماجة

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মহল্লায় মাসজিদ গড়ে তোলার, তা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ও এতে সুগন্ধি ছড়াবার হুকুম দিয়েছেন। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৭১৮

وعن ابن عباس قال قال رسول الله ﷺ ما أمرت بتشييد المساجد قال ابن عباس لتزخرفنها كما زخرفت اليهود والنصارى. رواه أبو داوٗد

তিনি বলেন, আমাকে মাসজিদ বানিয়ে তা চাকচিক্যময় করে রাখার হুকুম দেয়া হয়নি। ইবনু ‘আব্বাস বলেন, কিন্তু দুঃখের বিষয় যেভাবে ইয়াহূদী-খ্রিষ্টানরা তাদের ‘ইবাদাতখানাকে (স্বর্ণ-রূপা দিয়ে) চাকচিক্যময় করে রাখত তোমরাও একইভাবে তোমাদের মাসজিদ-এর শ্রীবৃদ্ধি ও সৌন্দর্য বর্ধন করবে। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৭১৯

وعن أنس قال قال رسول الله ﷺ ان من أشراط الساعة أن يتباهى الناس في المساجد. رواه أبو داوٗد والنسآئى والدارمي وابن ماجة

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ক্বিয়ামাতের আলামতসমূহের একটি হচ্ছে মানুষেরা মাসজিদ নিয়ে পরস্পর গর্ব করবে। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৭২০

وعنه قال قال رسول الله ﷺ عرضت علي أجور أمتى حتى القذاة يخرجها الرجل من المسجد وعرضت علي ذنوب أمتى فلم أر ذنبا أعظم من سورة من القران أو اية أوتيها رجل ثم نسيها. رواه الترمذى وابو داؤد

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমার সামনে আমার উম্মাতের সাওয়াবগুলো পেশ করা হয়, এমনকি খড়-কুটার সাওয়াবও পেশ করা হয় যা একজন মানুষ মাসজিদ হতে বাইরে ফেলে দেয়। ঠিক একইভাবে আমার সামনে পেশ করা হয় আমার উম্মাতের গুনাহসমূহ। তখন আমি কারও কুরআনের একটি সূরাহ্‌ বা একটি আয়াত যা তাকে দেয়া হয়েছে (তারপর ভুলে গেছে, মুখস্ত করার পর তা ভুলে যাওয়া) এর চেয়ে আর কোন বড় গুনাহ আমি দেখিনি। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৭২১

وعن بريدة قال قال رسول الله ﷺ بشر المشائين في الظلم إلى المساجد بالنور التام يوم القيامة. رواه الترمذى وأبو داوٗد

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ক্বিয়ামাতের দিন পূর্ণ জ্যোতির সুসংবাদ দাও তাদেরকে যারা অন্ধকারে মাসজিদে যায়। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৭২২

ورواه ابن ماجة عن سهل بن سعد وانس

ইবনু মাজাহ-সাহ্‌ল ইবনু সা’দ ও আনাস (রাঃ) হতে। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৭২৩

وعن أبي سعيد الخدرى قال قال رسول الله ﷺ إذا رأيتم الرجل يتعاهد المسجد فاشهدوا له بالإيمان فإن الله تعالى يقول إنما يعمر مساجد الله من اۤمن بالله واليوم الاۤخر. رواه الترمذي وابن ماجة والدارمي

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কাউকে তোমরা যখন নিয়মিত মাসজিদে যাতায়াত করতে দেখবে তখন তার ঈমান আছে বলে সাক্ষ্য দেবে। কারণ আল্লাহ তা‘আলা বলেছেনঃ “আল্লাহর ঘর মাসজিদসমূহের রক্ষণাবেক্ষণ করে সেই ব্যক্তি যে আল্লাহর উপর ও পরকালের উপর ঈমান এনেছে”- (সূরাহ্‌ আত্‌ তাওবাহ্‌ ৯:১৮)। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৭২৪

وعن عثمان بن مظعون قال يا رسول الله ائذن لنا فى الاختصاء فقال رسول الله ﷺ ليس منا من خصى ولا اختصى ان خصاء امتى الصيام فقال ائذن لنا فى السياحة فقال ان سياحة امتى الجهاد فى سبيل الله فقال ائذن لنا فى الترهب فقال ان ترهب امتى الجلوس فى المساجد انتظار الصلاة. رواه فى شرح السنة

তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট আবেদন করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে খাসি হয়ে যাবার অনুমতি দিন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উত্তরে বললেন, সেই লোক আমাদের মধ্যে নেই, যে কাউকে খাসি করে অথবা নিজে খাসি হয়। বরং আমার উম্মাতের খাসি হওয়া হল সিয়াম পালন করা। ‘উসমান (রাঃ) আবেদন করলেন, তাহলে আমাকে ভ্রমণ করার অনুমতি দিন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উত্তরে বললেন, আমার উম্মাতের ভ্রমন হল আল্লাহর পথে জিহাদে যাওয়া। তারপর ‘উসমান (রাঃ) বললেন, তাহলে আমাকে বৈরাগ্য অবলম্বন করার অনুমতি দিন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আমার উম্মাতের বৈরাগ্য হচ্ছে সলাতের অপেক্ষায় মাসজিদে বসে থাকা। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৭২৫

وعن عبد الرحمن بن عائش قال قال رسول الله ﷺ رايت ربى عز وجل فى احسن صورة قال فيم يختصم الملا الاعلى قلت انت اعلم قال فوضع كفه بين كتفى فوجدت بردها بين ثديى فعلمت ما فى السموت والارض وتلا «وكذلك نرى ابراهيم ملكوت السموت والارض وليكون من الموقنين». رواه الدارمي مرسلا وللترمذي نحوه عنه

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমি আমার ‘রবকে’ অতি উত্তম অবস্থায় স্বপ্নে দেখলাম। তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘মালা-উল আ‘লা-’ তথা শীর্ষস্থানীয় মালায়িকাহ্‌ কী ব্যাপারে ঝগড়া করছে? আমি বললাম, তা তো আপনিই ভাল জানেন। তখন আল্লাহ্‌ তা‘আলা তাঁর হাত আমার দুই কাধের মাঝখানে রাখলেন। হাতের শীতলতা আমি আমার বুকের মধ্যে অনুভব করলাম। আমি তখন আসমানসমূহ ও জমিনে যা কিছু আছে সবকিছুই জানতে পারলাম। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এই আয়াত তিলাওয়াত করলেনঃ “এভাবে আমি ইব্‌রহীমকে দেখালাম আকাশমন্ডলী ও জমিনের রাজ্যসমূহ যাতে সে বিশ্বাসীদের অন্তর্ভুক্ত হয়”- (সূরাহ্‌ আল আন্‌‘আম ৭৫)। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৭২৬

وعن ابن عباس ومعاذ بن جبل وزاد فيه قال يا محمد هل تدرى فيم يختصم الملا الاعلى قلت نعم فى الكفارات والكفارات المكث فى المساجد بعد الصلوات والمشى على الاقدام الى الجماعات وابلاغ الوضوء فى المكاره ومن فعل ذلك عاش بخير ومات بخير وكان من خطيئته كيوم ولدته امه وقال يا محمد إذا صليت فقل اللهم انى اسالك فعل الخيرات وترك المنكرات وحب المساكين فاذا اردت بعبادك فتنة فاقبضنى اليك غير مفتون قال والدرجات افشاء السلام واطعام الطعام والصلاة بالليل والناس نيام ولفظ هذا الحديث كما فى المصابيح لم اجده من عبد الرحمن الا فى شرح السنة

তিরমিযীতে এ হাদীসটি কিছু শব্দগত পার্থক্যসহ ‘আবদুর রহমান ইবনু ‘আয়িশ, ইবন ‘আব্বাস ও মু‘আয ইবনু জাবাল (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে। আর এতে আরো আছেঃ আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন (অর্থাৎ নবীকে আসমান ও জমিনের জ্ঞান দেয়ার পর জিজ্ঞেস করলেন), হে মুহাম্মাদ! আপনি কি জানেন “মালা-উল আ‘লা-” কী বিষয়ে তর্ক করছে? আমি বললাম, হ্যাঁ! জানি, ‘কাফফারাহ্‌’ নিয়ে তর্কবিতর্ক করছে। আর এই কাফ্‌ফারাহ্‌ হল, সলাতের পর মাসজিদে আর এক সলাতের ওয়াক্ত আসা পর্যন্ত অপেক্ষা বা যিক্‌র আযকার করার জন্য বসে থাকা। জামা’আতে সলাত আদায় করার জন্য পায়ে হেঁটে চলে যাওয়া। কঠিন সময়ে (যেমন অসুস্থ বা শীতের মৌসুমে) উযুর স্থানে ভাল করে পানি পৌঁছানো। যারা এভাবে উল্লিখিত ‘আমালগুলো করল কল্যাণের উপর বেঁচে থাকবে, কল্যাণের উপর মৃত্যুবরণ করবে। আর তার গুনাহসমূহ হতে এমনভাবে পাক-পবিত্র হয়ে যাবে যেমন আজই তার মা তাকে প্রসব করেছে। আর আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, হে মুহাম্মাদ! সলাত আদায় শেষ করার পর এ দু’আটি পড়ে নিবেঃ “আল্ল-হুম্মা ইন্নী আস্‌আলুকা ফি’লাল খয়রা-তি ওয়াতার্‌কাল মুন্‌কারা-তি ওয়া হুব্বাল মাসা-কীনা ফায়িযা- আরাত্তা বি’ইবা-দিকা ফিত্‌নাতান্‌ ফাক্ববিয্‌নী ইলায়কা গয়রা মাফতূন”- (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে ‘নেক কাজ’ করার, ‘বদ কাজ’ ছাড়ার, গরীব-মিসক্বীনদের বন্ধুত্বের আবেদন করছি। যখন তুমি বান্দাদের মধ্যে পথভ্রষ্ঠতা ফিত্‌নাহ্‌-ফ্যাসাদ সৃষ্টি করার ইচ্ছা করবে তখন আমাকে ফিত্‌নামুক্ত রেখে তোমার কাছে উঠিয়ে নিবে।) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরও বললেন, ‘দারাজাত’ হল সালামের প্রসার করা, গরীবকে খাবার দেয়া, রাতে মানুষ যখন ঘুমিয়ে থাকে তখন সলাত আদায় করা। [১] মিশকাতের সংকলক বলেন, যে হাদীস ‘আবদুর রহমান হতে মাসাবীহ-তে বর্ণিত হয়েছে তা আমি শারহে সুন্নাহ ছাড়া আর কোন কিতাবে দেখিনি।


মিশকাতুল মাসাবিহ ৭২৭

وعن أبي أمامة قال قال رسول الله ﷺ ثلاثة كلهم ضامن على الله رجل خرج غازيا في سبيل الله فهو ضامن على الله حتى يتوفاه فيدخله الجنة أو يرده بما نال من أجر وغنيمة ورجل راح إلى المسجد فهو ضامن على الله ورجل دخل بيته بسلام فهو ضامن على الله. رواه أبو داوٗد

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তিন ব্যক্তি আল্লাহর জিম্মাদারীতে রয়েছে। (১) যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে যুদ্ধে বের হয়েছে সে আল্লাহর জিম্মাদারিতে রয়েছে, যে পর্যন্ত আল্লাহ তাকে উঠিয়ে না নেন এবং জান্নাতে প্রবেশ না করান। অথবা তাকে ফিরিয়ে আনেন, যে সাওয়াব বা যে গনীমাতের মাল সে যুদ্ধে লাভ করেছে তার সাথে। (২) যে ব্যক্তি মাসজিদে গমন করেছে সে আল্লাহর দায়িত্বে রয়েছে এবং (৩) যে ব্যক্তি সালাম দিয়ে নিজের ঘরে প্রবেশ করেছে, সে আল্লাহর জিম্মাদারীতে রয়েছে। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৭২৮

وعنه قال قال رسول الله ﷺ من خرج من بيته متطهرا إلى صلاة مكتوبة فأجره كأجر الحاج المحرم ومن خرج إلى تسبيح الضحى لا ينصبه الا إياه فأجره كأجر المعتمر وصلاة على أثر صلاة لا لغو بينهما كتاب في عليين. رواه أحمد أبو داوٗد

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যে ব্যক্তি নিজের ঘর হতে উযূ করে ফার্‌য সলাত আদায় করার জন্য বের হয়েছে তার সাওয়াব একজন ইহরাম বাঁধা হাজির সাওয়াবের সমান। আর যে ব্যক্তি সলাতুয্ যুহার জন্য বের হয়েছে আর এই সলাত ব্যতীত অন্য কোন জিনিস তাকে এদিকে ধাবিত করে না সে সাওয়াব পাবে একজন 'উমরাহকারীর সমান। এক সলাতের পর অন্য সলাত আদায় করা, যার মাঝখানে কোন বেহুদা কথা বলেনি তা "ইল্লীয়ীন"-এ লেখা হয়ে থাকে। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৭২৯

وعن أبي هريرة قال قال رسول الله ﷺ إذا مررتم برياض الجنة فارتعوا قيل يا رسول الله وما رياض الجنة قال المساجد قيل وما الرتع يا رسول الله قال سبحان الله والحمد لله ولا إله الا الله والله أكبر. رواه الترمذي

তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা যখন জান্নাতের বাগানের কাছ দিয়ে যাবে, এর ফল খাবে। জিজ্ঞেস করা হল, হে আল্লাহর রাসূল! জান্নাতের বাগান কী? উত্তরে তিনি বললেনঃ মাসজিদ। আবার জিজ্ঞেস করা হল এর ফল খাওয়া কী? তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, "সুব্‌হা-নাল্ল-হি ওয়াল হাম্‌দু লিল্লা-হি ওয়ালা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াল্ল-হু আকবার" - এ বাক্য বলা। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৭৩০

وعنه قال قال رسول الله ﷺ من أتى المسجد لشيء فهو حظه. رواه أبو داوٗد

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি মাসজিদে যে কাজের নিয়্যাত করে আসবে, সে সেই কাজেরই অংশ পাবে। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৭৩১

وعن فاطمة بنت الحسين عن جدتها فاطمة الكبرى قالت كان النبي ﷺ إذا دخل المسجد صلى على محمد وسلم وقال رب اغفر لي ذنوبي وافتح لي أبواب رحمتك وإذا خرج صلى على محمد وسلم وقال رب اغفر لي ذنوبي وافتح لي أبواب فضلك. رواه الترمذي وأحمد وابن ماجة وفي روايتهما قالت إذا دخل المسجد وكذا إذا خرج قال بسم الله والسلام على رسول الله بدل صلى على محمد وسلم وقال الترمذي ليس اسناده بمتصل وفاطمة بنت الحسين لم تدرك فاطمة الكبرى

তিনি তার দাদী ফাত্বিমাতুল কুবরা (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন যে, ফাত্বিমাতুল কুবরা (রাঃ) বলেছেন, (আমার পিতা) রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন মাসজিদে প্রবেশ করতেন, মুহাম্মাদের (অর্থাৎ নিজের) উপর সালাম ও দরূদ পাঠ করতেন। বলতেন, "রব্বিগ্‌ফির্ লী যুনূবী ওয়াফ্‌তাহ লী আব্‌ওয়াবা রহমাতিকা" (অর্থাৎ- হে পরওয়ারদিগার! আমার গুনাহসমূহ মাফ কর। তোমার রহমাতের দুয়ার আমার জন্য খুলে দাও।)। তিনি যখন মাসজিদ হতে বের হতেন, তখন মুহাম্মাদের উপর দরূদ ও সালাম পাঠ করতেন। আর বলতেন, "রব্বিগ্‌ফির্ লী যুনূবী ওয়াফ্‌তাহ লী আব্‌ওয়াবা ফাযলিকা" (অর্থাৎ- হে পরওয়ারদিগার! আমার গুনাহসমূহ মাফ করে দাও। আমার জন্য দয়ার দুয়ার খুলে দাও।)। [১] কিন্তু আহমাদ ও ইবনু মাজার বর্ণনায় রয়েছে, ফাত্বিমাতুল কুবরা (রাঃ) বলেছেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন মাসজিদে প্রবেশ করতেন এবং এভাবে মাসজিদ থেকে বের হতেন, তখন মুহাম্মাদের উপর দরূদের পরিবর্তে বলতেনঃ আল্লাহর নামে এবং শান্তি বর্ষিত হোক আল্লাহ তা'আলার রাসূলের উপর। [2] তিরমিযী বলেন, হাদীসটির সানাদ মুত্তাসিল নয়। কেননা নাতনী ফাত্বিমাহ্ তার দাদী ফাত্বিমাহ (রাঃ)-এর সাক্ষাৎ পাননি।


মিশকাতুল মাসাবিহ ৭৩২

وعن عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده قال نهى رسول الله ﷺ عن تناشد الأشعار في المسجد وعن البيع والاشتراء فيه وأن يتحلق الناس يوم الجمعة قبل الصلاة المسجد. رواه أبو داوٗد والترمذي

তার পিতা তার দাদা হতে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাসজিদে কবিতা আবৃত্তি করতে, ক্রয়-বিক্রয় করতে এবং জুমু'আর দিন জুমু'আর সলাতের পূর্বে গোল হয়ে বৃত্তাকারে বসতে নিষেধ করেছেন। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৭৩৩

وعن أبي هريرة قال قال رسول الله ﷺ إذا رأيتم من يبيع أو يبتاع في المسجد فقولوا لا أربح الله تجارتك وإذا رأيتم من ينشد فيه الضالة فقولوا لا ردها الله عليك. رواه الترمذي والدارمي

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা কাউকে মাসজিদে বেচা-কেনা করতে দেখলে বলবে, আল্লাহ তোমার এ ব্যবসায়ে তোমাকে লাভবান না করুন। এভাবে কাউকে মাসজিদে হারানো জিনিস অনুসন্ধান করতে দেখলে বলবে, আল্লাহ তা তোমাকে ফেরত না দিন। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৭৩৪

وعن حكيم بن حزام قال نهى رسول الله ﷺ أن يستقاد في المسجد وأن ينشد فيه الأشعار وأن تقام فيه الحدود. رواه أبو داوٗد فى سننه وصاحب جامع الاصول فيه عن حكيم

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাসজিদে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে ও তথায় কবিতা পাঠ ও হাদ্দ-এর শাস্তি কার্যকর করতে নিষেধ করেছেন। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৭৩৫

وفي المصابيح عن جابر

আর মাসাবীহ-তে সহাবী জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত।


মিশকাতুল মাসাবিহ ৭৩৬

وعن معاوية بن قرة عن أبيه أن رسول الله ﷺ نهى عن هاتين الشجرتين قال يعني البصل والثوم وقال من أكلهما فلا يقربن مسجدنا وقال إن كنتم لا بد آكليهما فأميتوهما طبخا. رواه أبو داوٗد

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দু'টি গাছ অর্থাৎ পিঁয়াজ ও রসূন খেতে নিষেধ করেছে। যে তা খাবে সে যেন আমাদের মাসজিদের কাছে না আসে। তিনি আরো বলেছেন, যদি তোমাদের একান্তই খেতে হয় তবে পাকিয়ে দুর্গন্ধ দূর করে খাও। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৭৩৭

وعن أبي سعيد قال قال رسول الله ﷺ الارض كلها مسجد الا المقبرة والحمام. رواه بوداؤد والترمذي والدارمي

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ক্ববরস্থান ও গোসলখানা ছাড়া দুনিয়ার আর সব জায়গায়ই মাসজিদ। কাজেই সব জায়গায়ই সলাত আদায় করা যায়। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৭৩৮

وعن ابن عمر قال نهى رسول الله ﷺ أن يصلى في سبعة مواطن في المزبلة والمجزرة والمقبرة وقارعة الطريق وفي الحمام وفي معاطن الإبل وفوق ظهر بيت الله. رواه الترمذي وابن ماجة

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাতটি জায়গায় সলাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন। (১)আবর্জনা ফেলার জায়গায়, (২)জানোয়ার যবাহ করার জায়গায় (কসাইখানায়), (৩)ক্ববরস্থানে, (৪)রাস্তার মাঝখানে, (৫)গোসলখানায়, (৬)উট বাঁধার জায়গায় এবং (৭)খানায়ে কা'বার ছাদে। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৭৩৯

وعن أبي هريرة قال قال رسول الله ﷺ صلوا في مرابض الغنم ولا تصلوا في أعطان الإبل. رواه الترمذي

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা ছাগল বাঁধার স্থানে সলাত আদায় করতে পার, উট বাঁধার স্থানে সলাত আদায় করবে না। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৭৪০

وعن ابن عباس رضي الله عنهما قال لعن رسول الله ﷺ زائرات القبور والمتخذين عليها المساجد والسرج. رواه أبو داوٗد والترمذي والنسائـي

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অভিসম্পাত করেছেন ঐ সকল স্ত্রী লোককে যারা (ঘন ঘন) ক্ববর যিয়ারত করতে যায় এবং ঐ সকল লোককেও অভিশাপ দিয়েছেন যারা কবরের উপর মাসজিদ নির্মাণ করে বা তাতে বাতি জ্বালায়। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৭৪১

وعن أبي أمامة قال ان حبرا من اليهود سال النبي ﷺ اى البقاع خير فسكت عنه وقال اسكت حتى يجئ جبريل فسكت وجاء جبريل عليه السلام فسال فقال ما المسئول عنها باعلم من السائل ولكن اسال ربى تبارك وتعالى ثم قال جبريل يا محمد انى دنوت من الله دنوا ما دنوت منه قط قال وكيف كان يا جبريل قال كان بينى وبينه سبعون الف حجاب من نور فقال شر البقاع اسواقها وخير البقاع مساجدها. رواه ابن حبان فى صحيحه عن ابن عمر

তিনি বলেন, ইয়াহূদীদের একজন ‘আলিম রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে জিজ্ঞেস করলেন, কোন জায়গা সবচেয়ে উত্তম ? নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নীরব রইলেন। তিনি বললেন, যতক্ষণ জিবরীল আমীন না আসবেন আমি নীরব থাকবো। তিনি নীরব থাকলেন। এর মধ্যে জিবরীল (‘আলাইহিস সালাম) আসলেন। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জিবরীলকে ঐ প্রশ্নটি জিজ্ঞেস করলেন। জিবরীল (‘আলাইহিস সালাম) উত্তর দিলেন, এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাকারীর চেয়ে জিজ্ঞাসিত ব্যক্তি বেশি কিছু জানে না। তবে আমি আমার রবকে জিজ্ঞেস করব। এরপর জিবরীল (‘আলাইহিস সালাম) বললেন, হে মুহাম্মাদ! আমি আল্লাহর এত নিকটে গিয়েছিলাম যা কোন দিন আর যাইনি। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জিজ্ঞেস করলেন, কিভাবে হে জিবরীল? তিনি বললেন, তখন আমার আর তাঁর মধ্যে মাত্র সত্তর হাজার নূরের পর্দা ছিল। আল্লাহ তা’আলা বলেছেন, দুনিয়ার সবচেয়ে নিকৃষ্ট স্থান হল বাজার, আর সবচেয়ে উত্তম স্থান হল মাসজিদ। ইবনু হিব্বান; তাঁর সহীহ গ্রন্থে ইবনু ‘উমার থেকে বর্ণনা করেছেন। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ > তৃতীয় অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ৭৪২

وعن أبي هريرة قال سمعت رسول الله ﷺ يقول من جاء مسجدي هذا لم يأت الا لخير يتعلمه أو يعلمه فهو بمنزلة المجاهد في سبيل الله ومن جاء لغير ذلك فهو بمنزلة الرجل ينظر إلى متاع غيره. رواه ابن ماجة والبيهقى فى شعب الايمان

তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছিঃ যে আমার এই মাসজিদে আসে এবং শুধু ভাল কাজের উদ্দেশ্যেই আসে, হয় সে ‘ইল্‌ম শিক্ষা দেয় অথবা নিজে শিখে, সে আল্লাহর পথে জিহাদের অংশগ্রহণকারীর সমতুল্য। আর যে ব্যক্তি এ ছাড়া অন্য কোন উদ্দেশ্যে আসে সে হল ঐ ব্যক্তির মত যে অন্যের জিনিসকে হিংসার চোখে দেখে (কিন্তু ভোগ করতে পারে না)। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৭৪৩

وعن الحسن مرسلا قال قال رسول الله ﷺ ياتى على الناس زمان يكون حديثهم فى مساجدهم فى امر دنياهم فلا تجالسوهم فليس لله فيهم حاجة. رواه البيهقى فى شعب الإيمان

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ অচিরেই এমন এক সময় আসবে যখন মানুষ মাসজিদে বসে নিজেদের দুনিয়াদারীর কথাবার্তা বলবে। অতএব তোমরা এসব লোকেদের গল্প- গুজবে বসবে না। আল্লাহ তা’আলার এমন লোকের প্রয়োজন নেই। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৭৪৪

وعن السائب بن يزيد قال كنت نائما في المسجد فحصبني رجل فنظرت فإذا هوعمر بن الخطاب فقال اذهب فأتني بهذين فجئته بهما فقال ممن أنتما أو من أين أنتما قالا من أهل الطائف قال لو كنتما من أهل المدينة لأوجعتكما ترفعان أصواتكما في مسجد رسول الله ﷺ. رواه البخاري

তিনি বলেন, একদা আমি মাসজিদে শুয়ে আছি, এমন সময় আমাকে একজন লোক কংকর মারল। আমি জেগে উঠে দেখি তিনি ‘উমার ইবনুল খাত্ত্বাব (রাঃ)। তিনি আমাকে বললেন, যাও- ঐ দু ব্যক্তিকে আমার নিকট নিয়ে আস। আমি তাদেরকে নিয়ে আসলাম। তিনি তাদের জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা কোন গোত্রের বা কোথাকার লোক? তারা বলল, আমরা তায়িফের লোক। ‘উমার (রাঃ) বললেন, যদি তোমরা মাদীনার লোক হতে তাহলে আমি তোমাদেরকে নিশ্চয় কঠিন শাস্তি দিতাম। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মাসজিদে তোমরা উচ্চৈঃস্বরে কথা বলছ। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৭৪৫

وعن مالك قال بنى عمر رحبة في ناحية المسجد تسمى البطيحاء وقال من كان يريد أن يلغط أو ينشد شعرا أو يرفع صوته فليخرج إلى هذه الرحبة. رواه فى الموطأ

তিনি বলেন, ‘উমার (রাঃ) মাসজিদে নাবাবীর পাশে একটি বড় চত্বর বানিয়েছিলেন, এর নাম রাখা হয়েছিল ‘বুত্বায়হা’। তিনি লোকদেরকে বলে রেখেছিলেন, যে ব্যক্তি বাজে কথা বলবে অথবা কবিতা আবৃত্তি করবে অথবা উঁচু কন্ঠে কথা বলতে চায় সে যেন সেই চত্বরে চলে যায়। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৭৪৬

وعن أنس قال رأى النبي ﷺ نخامة في القبلة فشق ذلك عليه حتى رئي في وجهه فقام فحكه بيده فقال إن أحدكم إذا قام في صلاته فإنه يناجي ربه أو إن ربه بينه وبين القبلة فلا يبزقن أحدكم قبل قبلته ولكن عن يساره أو تحت قدميه ثم أخذ طرف ردائه فبصق فيه ثم رد بعضه على بعض فقال أو يفعل هكذا. رواه البخاري

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ক্বিবলার দিকে থুথু পতিত হতে দেখলেন। এতে তিনি ভীষণ রাগ করলেন। তার চেহারায় এ রাগ প্রকাশ পেল। তিনি উঠে গিয়ে নিজের হাতে তা খুঁচিয়ে তুলে ফেলে দিলেন। তারপর বললেন, তোমাদের কেউ যখন সলাতে দঁড়ায় তার ‘রবের’ সাথে একান্ত আলাপে রত থাকে। আর তখন তার ‘রব’ থাকেন তার ও ক্বিবলার মাঝে। অতএব কেউ যেন তার ক্বিবলার দিকে থুথু না ফেলে, বরং বাম দিকে অথবা পায়ের নিচে ফেলে। এরপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজের চাদরের এক পাশ ধরলেন, এতে থুথু ফেললেন, তারপর চাদরের একাংশকে অপরাংশ দ্বারা মলে দিলেন এবং বললেনঃ সে যেন এভাবে থুথু নিঃশেষ করে দেয়। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৭৪৭

وعن السائب بن خلاد و هو رجل من أصحاب النبي ﷺ قال إن رجلا أم قوما فبصق في القبلة ورسول الله ﷺ ينظر فقال رسول الله ﷺ لقومه حين فرغ لا يصلي لكم فأراد بعد ذلك أن يصلي لهم فمنعوه فأخبروه بقول رسول الله ﷺ فذكر لرسول الله ﷺ فقال نعم وحسبت أنه قال إنك آذيت الله ورسوله. رواه أبو داوٗد

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সহাবীগনের মধ্যে একজন বলেন, এক লোক কিছু লোকের ইমামাত করছিল। সে ক্বিবলার দিকে থুথু ফেলল। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তা দেখলেন এবং ঐ লোকগুলোকে বললেন, এ ব্যক্তি যেন আর তোমাদের সলাত আদায় না করায়। পরে এই লোক তাদের সলাত আদায় করাতে চাইলে লোকেরা তাকে সলাত আদায় করতে নিষেধ করল এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নির্দেশ তাকে জানিয়ে দিল। সে বিষয়টি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে জানালে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, হ্যাঁ (ঘটনা ঠিক)। রাবী (বর্ণনাকারী) বলেন, আমার মনে হয় নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে এ কথাও বলেছেন, তুমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে কষ্ট দিয়েছ। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৭৪৮

عن معاذ بن جبل قال احتبس عنا رسول الله ﷺ ذات غداة عن صلاة الصبح حتى كدنا نتراءى عين الشمس فخرج سريعا فثوب بالصلاة فصلى رسول الله ﷺ وتجوز في صلاته فلما سلم دعا بصوته فقال لنا على مصافكم كما أنتم ثم انفتل إلينا ثم قال أما إني سأحدثكم ما حبسني عنكم الغداة أني قمت من الليل فتوضأت وصليت ما قدر لي فنعست في صلاتي فاستثقلت فإذا أنا بربي تبارك وتعالى في أحسن صورة فقال يا محمد قلت لبيك رب قال فيم يختصم الملأ الأعلى قلت لا أدري رب قالها ثلاثا قال فرأيته وضع كفه بين كتفي حتى وجدت برد أنامله بين ثديي فتجلى لي كل شيء وعرفت فقال يا محمد قلت لبيك رب قال فيم يختصم الملأ الأعلى قلت في الكفارات قال ما هن قلت مشي الأقدام إلى الجماعات والجلوس في المساجد بعد الصلوات وإسباغ الوضوء في المكروهات قال ثم فيم قلت إطعام الطعام ولين الكلام والصلاة بالليل والناس نيام قال سل قل اللهم إني أسألك فعل الخيرات وترك المنكرات وحب المساكين وأن تغفر لي وترحمني وإذا أردت فتنة قوم فتوفني غير مفتون أسألك حبك وحب من يحبك وحب عمل يقرب إلى حبك قال رسول الله ﷺ إنها حق فادرسوها ثم تعلموها. رواه أحمد والترمذي وقال هذا حديث حسن صحيح وسالت محمد بن اسماعيل عن هذا الحديث فقال هذا حديث صحيح

তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (নিত্য দিনের অভ্যাসের বিপরীত) ফাজ্‌রের সলাতে আসতে এতটা দেরী করলেন যে, সূর্য প্রায় উঠে উঠে। এর মধ্যে তাড়াহুড়া করে তিনি আসলেন। সাথে সাথে সলাতের ইক্বামাত দেয়া হল। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সংক্ষিপ্ত করে সলাত আদায় করলেন। সালাম দেয়ার পর তিনি উচ্চ কণ্ঠে আমাদের উদ্দেশ্য করে বললেন, তোমরা সলাতের কাতারে যে যেভাবে আছ সেভাবে থাক। এরপর তিনি আমাদের দিকে ফিরলেন ও বললেন, শুন! আজ ভোরে তোমাদের কাছে আসতে যে কারণ আমার কাছে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল তা হল, আমি রাতে ঘুম থেকে উঠলাম। উযূ করলাম। পরে আমার পক্ষে যা সম্ভব হল সলাত আদায় করলাম। সলাতে আমার তন্দ্রা ধরল, ঘুমে অসাড় হয়ে পড়লাম। এ সময় দেখি, আমি আমার ‘প্রতিপালক’ তাবারাকা ওয়া তা’আলার কাছে উপস্থিত। তিনি খুবই উত্তম অবস্থায় আছেন। তিনি আমাকে ডাকলেন, হে মুহাম্মদ! আমি উত্তর দিলাম, হে আমার ‘রব’, আমি উপস্থিত। তিনি বললেন, “মালা-উল আ’লা-” অর্থাৎ শীর্ষস্থানীয় মালায়িকাহ্‌ কী নিয়ে বিতর্ক করছে? আমি উত্তরে বললাম, আমি তো কিছু জানি না, হে আমার ‘রব’! এভাবে তিনি আমাকে তিনবার জিজ্ঞেস করলেন। তারপর দেখি, তিনি আমার দু’কাঁধের মাঝখানে তাঁর হাত রেখে দিয়েছেন। এতে আমি আমার সিনায় তাঁর আঙ্গুলের শীতলতা অনুভব করতে লাগলাম। আমার নিকট তখন সব জিনিস প্রকাশ হয়ে পড়ল। আমি সকল ব্যাপার বুঝে গেলাম। তারপর তিনি আবার আমাকে ডাকলেন, হে মুহাম্মাদ! আমি বললাম, আমি উপস্থিত হে পরওয়ারদিগার। এখন বল দেখি “মালা-উল আ’লা-” কী নিয়ে তর্ক-বিতর্ক করছে? আমি বললাম, গুনাহ মিটিয়ে দেবার ব্যাপারসমূহ নিয়ে। আল্লাহ তা’আলা বললেন, সে সব জিনিস কী? আমি বললাম, সলাতের জন্য মাসজিদে যাওয়া, সলাতের পরে দু’আ ইত্যাদির জন্য মাসজিদে বসা এবং শীতের বা অন্য কারণে উযূ করা কষ্টকর হলেও তা উপেক্ষা করে উযূ করা। আবার আল্লাহ তা’আলা জিজ্ঞেস করলেন, আর কী ব্যাপারে তারা বিতর্ক করছে? আমি বললাম, দারাজাত অর্থাৎ মর্যাদার ব্যাপারে। তিনি বললেন, সে সব কী? আমি বললাম, গরীব-মিসকীনদের খাবার দেয়া, ভদ্রভাবে কথা বলা, রাতে মানুষ যখন ঘুমায় সে সময় উঠে (তাহাজ্জুদের) সলাত আদায় করা। তারপর আবার আল্লাহ তা’আলা বললেন, আচ্ছা ঠিক আছে। এখন তোমার যা চাওয়ার তা নিবেদন কর। তাই আমি দু’আ করলামঃ “হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে নেক কাজ করার, খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকার, মিসকীনের বন্ধুত্ব, তোমার ক্ষমা ও রহমাত চাই। আর যখন তুমি কোন জাতির মধ্যে গুমরাহী ছড়াতে চাও, তার আগে আমাকে গুমরাহী ছাড়া উঠিয়ে নিও। আমি তোমার কাছে তোমার ভালোবাসা আর ঐ ব্যক্তির ভালোবাসা চাই, যে তোমাকে ভালোবাসে, আর আমি এমন ‘আমালকে ভালবাসতে চাই যে ‘আমাল আমাকে তোমার ভালোবাসার নিকটবর্তী করবে”। তারপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, এ স্বপ্ন ষোলআনা সত্য। তাই তোমরা এ কথা স্মরণ রাখবে, আর লোকদেরকে শিখাবে। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৭৪৯

وعن عبد الله بن عمرو بن العاص قال كان رسول الله ﷺ يقول إذا دخل المسجد أعوذ بالله العظيم وبوجهه الكريم وسلطانه القديم من الشيطان الرجيم قال فإذا قال ذلك قال الشيطان حفظ مني سائر اليوم. رواه أبو داوٗد

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাসজিদে প্রবেশ করার সময় বলতেন, আমি আশ্রয় চাচ্ছি মহান আল্লাহর মর্যাদাপূর্ণ চেহারার ও তাঁর অফুরন্ত ক্ষমতায় বিতাড়িত শয়তান হতে। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, কেউ এ দু’আ পাঠ করলে শয়তান বলে, আমার নিকট হতে সে সারা দিনের জন্য রক্ষা পেয়ে গেল। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৭৫০

وعن عطاء بن يسار قال قال رسول الله ﷺ اللهم لا تجعل قبرى وثنا يعبد اشتد غضب الله على قوم اتخذوا قبور أنبيائهم مساجد. رواه مالك مرسلا

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ দু’আ করলেনঃ “হে আল্লাহ! তুমি আমার ক্ববরকে ভূঁত বানিও না যা লোকেরা পূজা করবে। আল্লাহ্‌র কঠিন রোষাণলে পতিত হবে সেই জাতি যারা তাদের নবীর ক্ববরকে মাসজিদে পরিণত করেছে।” ইমাম মালিক মুরসাল হিসেবে। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৭৫১

وعن معاذ بن جبل قال كان النبي ﷺ يستحب الصلاة في الحيطان قال بعض رواته يعني البساتين. رواه الترمذي وقال هذا حديث غريب لا نعرفه الا من حديث الحسن بن أبي جعفر قد ضعفه يحيى بن سعيد وغيره

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘হিত্বান’-এ সলাত আদায় করতে ভালোবাসতেন। বর্ণনাকারীদের কেউ কেউ বলেছেন, ‘হিত্বান’ অর্থ বাগান। [৭৬৫] ইমাম তিরমিযী বলেছেন, হাদীসটি গরীব। তিনি আরো বলেছেন, আমরা এ হাদীসটি হাসান ইবনু আবূ জাফর ছাড়া অন্য কারো নিকট হতে অবগত নই। আর হাসানকে ইয়াহ্‌ইয়া ইবনু সা’দ প্রমুখ য’ইফ বলেছেন।[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৭৫২

وعن أنس بن مالك قال قال رسول الله ﷺ صلاة الرجل في بيته بصلاة وصلاته في مسجد القبائل بخمس وعشرين صلاة وصلاته في المسجد الذى يجمع فيه بخمس مائة صلاة وصلاته في المسجد الأقصى بخمسين ألف صلاة وصلاته في مسجدي بخمسين ألف صلاة وصلاة في المسجد الحرام بمائة ألف صلاة. رواه ابن ماجة

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কেউ যদি তার ঘরে সলাত আদায় করে, তাহলে তার এ সলাত এক সলাতের সমান। আর যদি সে এলাকার পাঞ্জেগানা মাসজিদে সলাত আদায় করে তাহলে তার এই সলাত পঁচিশ সলাতের সমান। আর যদি জুমু’আহ মাসজিদে সলাত আদায় করে তাহলে তার সলাত পাঁচশত সলাতের সমান। সে যদি মাসজিদে আক্বসা অর্থাৎ বায়তুল মাকদিসে সলাত আদায় করে, তার এ সলাত পঞ্চাশ হাজার সলাতের সমান। আর যদি আমার মাসজিদে (মাসজিদে নাবাবী) সলাত আদায় করে তার এ সলাত পঞ্চাশ হাজার সলাতের সমান। আর সে যদি মাসজিদুল হারামে সলাত আদায় করে তবে তার সলাত এক লাখ সলাতের সমান। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৭৫৩

وعن أبي ذر قلت يا رسول الله ﷺ اى مسجد وضع في الأرض اول قال المسجد الحرام قلت ثم أي قال المسجد الأقصى قلت كم بينهما قال أربعون عاما ثم الأرض لك مسجد فحيثما أدركتك الصلاة فصل. متفق عليه

তিনি বলেন, একবার আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! দুনিয়াতে সর্বপ্রথম কোন মাসজিদ নির্মিত হয়েছে? তিনি বললেন, ‘মাসজিদুল হারাম’। আমি বললাম, তারপর কোন্‌টি? তিনি বললেন, ‘মাসজিদুল আক্বসা’। আমি বললাম, এ উভয় মাসজিদ তৈরির মধ্যে সময়ের পার্থক্য কত? তিনি বললেন, চল্লিশ বছরের পার্থক্য। তারপর দুনিয়ার সব জায়গায়ই তোমার জন্য মাসজিদ, সলাতের সময় যেখানেই হবে সেখানেই সলাত আদায় করে নেবে। [১]


🔄 লোড হচ্ছে...
ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية