মিশকাতুল মাসাবিহ > দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ৬৮৭
عن زيد بن أسلم أنه قال عرس رسول الله ﷺ ليلة بطريق مكة ووكل بلالا أن يوقظهم للصلاة فرقد بلال ورقدوا حتى استيقظوا وقد طلعت عليهم الشمس فاستيقظ القوم وقد فزعوا فأمرهم رسول الله ﷺ أن يركبوا حتى يخرجوا من ذلك الوادي وقال إن هذا واد به شيطان فركبوا حتى خرجوا من ذلك الوادي ثم أمرهم رسول الله ﷺ أن ينزلوا وأن يتوضئوا وأمر بلالا أن ينادي بالصلاة أو يقيم فصلى رسول الله ﷺ بالناس ثم انصرف إليهم وقد رأى من فزعهم فقال يا أيها الناس إن الله قبض أرواحنا ولو شاء لردها إلينا في حين غير هذا فإذا رقد أحدكم عن الصلاة أو نسيها ثم فزع إليها فليصلها كما كان يصليها في وقتها ثم التفت رسول الله ﷺ إلى أبي بكر فقال إن الشيطان أتى بلالا وهو قائم يصلى فأضجعه فلم يزل يهدئه كما يهدأ الصبي حتى نام ثم دعا رسول الله ﷺ بلالا فأخبر بلال رسول الله ﷺ مثل الذي أخبر رسول الله ﷺ أبا بكر فقال أبو بكر أشهد أنك رسول الله. رواه مالك مرسلا
তিনি বলেন, একবার মাক্কার পথে এক রাতে শেষের দিকে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বাহন হতে নেমে বিশ্রাম গ্রহণ করলেন। বিলালকে নিযুক্ত করলেন তাদেরকে সলাতের জন্য জাগিয়ে দিতে। বিলালও পরিশেষে ঘুমিয়ে পড়লেন। তারা ঘুমিয়েই রইলেন। অবশেষে তারা যখন জাগলেন; সূর্য উপরে উঠে গেছে। জেগে উঠার পর তারা সকলে ব্যতিব্যস্ত হয়ে উঠলেন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নির্দেশ দিলেন বাহনে উঠতে ও ময়দান পার হয়ে যাওয়া পর্যন্ত চলতে থাকতে। নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, এ ময়দানে শাইত্বন বিদ্যমান। তারা আরোহীতে সওয়ার হয়ে চলতেই থাকলেন। অবশেষে ময়দান পার হয়ে গেলেন। এরপর নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদেরকে অবতরণ করতে ও উযূ করতে নির্দেশ দিলেন। বিলালকে নির্ধেশ দিলের আযান দিতে অথবা ইক্বামাত দিতে। তারপর তিনি লোকজনদের নিয়ে সলাত আদায় করলেন। সলাত হতে অবসর হওয়ার পর তাদের উপর ভীতি বিহবলতা পরিলক্ষিত হল। নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, হে লোকেরা! আল্লাহ আমাদের প্রাণসমূহকে ক্ববয করে নিয়েছিলেন। যদি তিনি ইচ্ছা করতেন এ সময়ের আরো পরেও আমাদের প্রাণসমূহ ফেরত দিতেন। তাই যখনই তোমাদের কেউ সলাত আদায় না করে ঘুমিয়ে পড়ে অথবা সলাত ভুলে যায়, জেগে উঠেই সে যেন এ সলাত সেভাবেই আদায় করে যেভাবে সময়মত আদায় করত। এরপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আবূ বাক্রকে লক্ষ্য করে বলেন, শয়তান বিলালের নিকট আসে। সে তখন দাঁড়িয়ে সলাত আদায় করছিল। তাকে সে শুইয়ে দিল। (এরপর শয়তান ঘুম পাড়াবার জন্য) চাপড়াতে লাগল শিশুদেরকে চাপড়ানের মতো, যতক্ষণ সে ঘুমিয়ে না পড়ে। তারপর তিনি বিলালকে ডাকলেন। বিলালও ঠিক সে কথাই বললেন, যা নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আবূ বাক্রকে বলছিলেন। তখন আবূ বাক্র (রাঃ) ঘোষণা দিলেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি নিশ্চয়ই আপনি আল্লাহর রসূল। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৬৮৮
وعن ابن عمر قال قال رسول الله ﷺ خصلتان معلقتان في أعناق المؤذنين للمسلمين صيامهم وصلاتهم. رواه ابن ماجة
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : মুসলিমদের দু’টি ব্যাপার মুয়ায্যিনদের ঘাড়ে ঝুলে থাকে। সিয়াম (রোযা) ও সলাত। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৬৮৯
عن ابن عباس قال لما دخل النبي ﷺ البيت دعا في نواحيه كلها ولم يصل حتى خرج منه فلما خرج ركع ركعتين في قبل الكعبة وقال هذه القبلة. رواه البخاري
তিনি বলেন, মাক্কাহ্ বিজয়ের দিন নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কা’বাহ্ ঘরে প্রবেশ করে প্রত্যেক কোণে দু’আ করলেন, কিন্তু সলাত আদায় করলেন না। পরে বের হয়ে এলেন। কা’বার সামনে দুই রাক্’আত সলাত আদায় করলেন এবং বললেন, এটিই ক্বিবলাহ্। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ > প্রথম অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ৬৯০
ورواه مسلم عنه وعن اسامة بن زيد
মুসলিম এ হাদীসটিকে উসামাহ্ ইবনু যায়দ হতেও বর্ণনা করেছেন। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৬৯১
وعن عبد الله بن عمر أن رسول الله ﷺ دخل الكعبة هو وأسامة بن زيد وعثمان بن طلحة الحجبي وبلال بن رباح فأغلقها عليه ومكث فيها فسألت بلالا حين خرج ماذا صنع رسول الله ﷺ فقال جعل عمودا عن يساره وعمودين عن يمينه وثلاثة أعمدة وراءه وكان البيت يومئذ على ستة أعمدة ثم صلى . متفق عليه
তিনি বলেন, মাক্কাহ্ বিজয়ের দিন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজে ও উসামাহ্ ইবনু যায়দ, ‘উসমান ইবনু ত্বালহাহ্ আল হাজাবী ও বিলাল ইবনু রাবাহ্ (রাঃ) কা’বায় প্রবেশ করলেন। এরপর বিলাল অথবা ‘উসমান (রাঃ) ভিতর থেকে (ভীড় হবার ভয়ে) দরজা বন্ধ করে দিলেন। তারা কিছুক্ষণ ভিতরে রইলেন। ভিতর থেকে বের হয়ে এলে আমি বিলালকে জিজ্ঞেস করলাম, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কা’বার ভিতরে কি করলেন? উত্তরে বিলাল বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ভিতরে প্রবেশ করে একটি স্তম্ভ বামে, দু’টি ডানে, আর তিনটি পিছনে রেখে সলাত আদায় করেছেন। সে সময় খানায়ে কা’বা ছয়টি স্তম্ভ বা খিলানের উপর প্রতিষ্ঠিত ছিল (এখন তিনটি স্তম্ভের উপর। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৬৯২
وعن أبي هريرة قال قال رسول الله ﷺ صلاة في مسجدي هذا خير من ألف صلاة فيما سواه الا المسجد الحرام. متفق عليه
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : মাসজিদে হারাম ছাড়া, আমার এই মাসজিদে সলাত আদায় করা অন্য জায়গায় এক হাজার রাক’আত সলাত আদায় করার চেয়ে উত্তম। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৬৯৩
وعن ابى سعيد الخدرى قال قال رسول الله ﷺ ولا تشد الرحال الا إلى ثلاثة مساجد مسجد الحرام ومسجد الأقصى ومسجدى هذا. متفق عليه
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : তিন মাসজিদ ছাড়া অন্য কোন মাসজিদে সফর করা যায় না : (১) মাসজিদে হারাম, (২) মাসজিদে আক্বসা ও (৩) আমার এই মাসজিদ (মাসজিদে নাবাবী)। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৬৯৪
وعن أبي هريرة قال قال رسول الله ﷺ ما بين بيتي ومنبري روضة من رياض الجنة ومنبري على حوضي. متفق عليه
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : আমার ঘর ও আমার মিম্বারের মধ্যখানে আছে জান্নাতের বাগানসমূহের মধ্যকার একটি বাগান। আর আমার মিম্বার হচ্ছে আমার হাওজে কাওসারের উপর। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৬৯৫
وعن ابن عمر قال كان النبي ﷺ يأتي مسجد قباء كل سبت ماشيا وراكبا فيصلى فيه ركعتين. متفق عليه
তিনি বলেন, প্রতি শনিবার নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পায়ে হেঁটে অথবা সওয়ারীতে আরোহণ করে ‘মাসজিদে কুবায়’ গমন করতেন। আর সেখানে দুই রাক্’আত সলাত আদায় করতেন। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৬৯৬
وعن أبي هريرة قال قال رسول الله ﷺ أحب البلاد إلى الله مساجدها وأبغض البلاد إلى الله أسواقها. رواه مسلم
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : আল্লাহর নিকট সকল জায়গা হতে মাসজিদই হল সবচেয়ে প্রিয়, আর বাজার সবচেয়ে ঘৃণ্য স্থান। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৬৯৭
وعن عثمان قال قال رسول الله ﷺ من بنى لله مسجدا بنى الله له بيتا في الجنة. متفق عليه
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : যে ব্যাক্তি আল্লাহার উদ্দেশ্য একটি মাসজিদ নির্মাণ করবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করবেন । [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৬৯৮
وعن أبي هريرة قال قال رسول الله ﷺ من غدا إلى المسجد اوراح أعد الله له نزله من الجنة كلما غدا أو راح. متفق عليه
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : যে ব্যাক্তি সকাল-বিকাল মাসজিদে যাবে, আল্লাহ তা’আলা তার প্রত্যেক বারে যাতায়াতের জন্য জান্নাতে একটি মেহমানদারীর ব্যবস্হা করে রাখবেন । চাই সে সকালে যাক কী সন্ধ্যায় । [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৬৯৯
وعن أبي موسى الأشعري قال قال رسول الله ﷺ أعظم الناس أجرا في الصلاة أبعدهم فأبعدهم ممشى والذي ينتظر الصلاة حتى يصليها مع الإمام أعظم أجرا من الذي يصلي ثم ينام. متفق عليه
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : সালাতে সব চেয়ে বেশী সাওয়াব পাবে ঐ ব্যক্তি দূরত্বের দিক দিয়ে যার বাড়ী সব চেয়ে বেশী দূরে । আর যে ব্যক্তি ইমামের সাথে জামা’আতে সালাত আদায় করার জন্য মাসজিদে গিয়ে অপেক্ষা করে, তার সাওয়াবও ঐ ব্যক্তির চেয়ে বেশী হবে যে মাদজিদের নিকটে থাকে এবং তাড়াতাড়ি সালায় আদায় করেই ঘুমিয়ে থাকে । [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৭০০
وعن جابر قال خلت البقاع حول المسجد فأراد بنو سلمة أن ينتقلوا قرب المسجد فبلغ ذلك النبى ﷺ فقال لهم إنه بلغني أنكم تريدون أن تنتقلوا قرب المسجد قالوا نعم يا رسول الله قد أردنا ذلك فقال يا بني سلمة دياركم تكتب آثاركم دياركم تكتب آثاركم. رواه مسلم
তিনি বলেন : মাসজিদে নাবাবীর পাশে কিছু জায়গা খালি হল। এতে বানূ সালিমাহ্ গোত্র মাসজিদের কাছে স্হানান্তরিত হয়ে আসতে চাইল । এ খবর নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট পোঁছল । তিনি বানূ সালিমাহ্ কে বললেন, খবর পেলাম, তোমরা নাকি জায়গা পরিবর্তন করে মাসজিদের কাছে আসতে চাইছ ? তারা বলল, হ্যাঁ, হে আল্লাহর রসুল! আমরা এ ইচ্ছা করেছি । তখন নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন : হে বানূ সালিমাহ্ ! তোমাদের জায়গাতেই তোমরা অবস্হান কর । তোমাদের ‘আমালনামায় তোমাদের পায়ের চিহ্ন গুলো লেখা হয়– এ কথাটি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দু’বার বললেন । [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৭০১
وعن أبي هريرة عن النبي ﷺ قال سبعة يظلهم الله في ظله يوم لا ظل الا ظله الإمام العادل وشاب نشأ في عبادة ربه ورجل قلبه معلق في المساجد إذا خرج منه حتى يعود إليه ورجلان تحابا في الله اجتمعا عليه وتفرقا عليه ورجل ذكر الله خاليا ففاضت عيناه ورجل دعته امراة ذات حسب وجمال فقال إنى أخاف الله ورجل تصدق بصدقة فأخفى حتى لا تعلم شماله ما تنفق يمينه. متفق عليه
তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : সাত ধরনের মানুষকে আল্লাহ তা’আলা সেই দিন (ক্বিয়ামাতের দিন) তাঁর ছায়ার নীচে আশ্রয় দিবেন যেদিন আল্লাহর ছায়া ছাড়া আর কারো ছায়া থাকবে না : (১) ন্যায়পরায়ণ শাসক, (২) সেই যুবক যে যৌবন বয়স আল্লাহর ‘ইবাদাতে কাটিয়েছে, (৩) যে ব্যাক্তি মাসজিদ থেকে বের হয়ে এসে আবার সেখানে ফিরে যাওয়া পর্যন্ত মাসজিদেই তার মন পড়ে থাকে, (৪) সেই দুই ব্যাক্তি যারা পরস্পরকে আল্লাহর জন্য ভালবাসে। যদি তারা একত্রিত হয় আল্লাহর জন্য হয়, আর যদি পৃথক হয় তাও আল্লাহর জন্যই হয়, (৫) সে ব্যাক্তি যে একাকী অবস্হায় আল্লাহর স্মরণ করে আর আল্লাহর ভয়ে তার দু’চোখ দিয়ে আশ্রু ঝরে, (৬) যে ব্যাক্তি যাকে কোন ঊচ্চ বংশীয় সুন্দরী যুবতী কু-কাজ করার জন্য আহবান জানায়। এর উত্তরে সে বলে, আমি আল্লাহকে ভয় করি, (৭) সেই ব্যাক্তি যে আল্লাহর পথে গোপনে দান করে । যার বাম হাতও বলতে পারে না যে, তার ডান কী খরচ করেছে । [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৭০২
وعنه قال قال رسول الله ﷺ صلاة الرجل فى الجماعة تضعف على صلاته فى بيته وفى سوقه خمسا وعشرين ضعفا وذلك انه إذا توضا فاحسن الوضوء ثم خرج الى المسجد لا يخرجه الا الصلاة لم يخط خطوة الا رفعت له بها درجة وحط عنه بها خطيئة فاذا صلى لم تزل الملائكة تصلى عليه ما دام فى مصلاه اللهم صل عليه اللهم ارحمه ولا يزال أحدكم فى صلاة ما انتظر الصلاة وفى رواية قال إذا دخل المسجد كانت الصلاة تحبسه وزاد فى دعاء الملائكة اللهم اغفر له اللهم تب عليه ما لم يؤذ فيه ما لم يحدث فيه. متفق عليه
তিনি বলেন, আল্লাহর প্রিয় রসূল বলেছেন : ঘরে অথবা (ব্যস্ততার কারণে) কারো বাজারে সালাত আদায় করার চেয়ে মাসজিদে জামা’আতের সাথে সালাত আদয় করার সওয়াব পঁচিশ গুণ বেশি । কারণ কোন ব্যাক্তি ভাল করে (সকল আদাবের প্রতি লক্ষ্য রেখে) উযূ করে নিঃস্বার্থভাবে সলাত আদায় করার জন্যই মাসজিদে আসে। তার প্রতি ক্বদমের বদলা একটি সাওয়াবে তার মর্যাদা বেড়ে যায়, আর একটি গুনাহ কমে যায়। এভাবে মাসজিদে পোঁছা পর্যন্ত (চলতে থাকে)। সলাত আদায় শেষ করে যখন সে মুসাল্লায় বসে থাকে, মালায়িকাহ অনবরত এই দু’আ করতে থাকে : ‘হে আল্লাহ! তুমি তাকে মাফ করে দাও । সে আল্লাহ! তুমি তার উপর রহমাত বর্ষন কর।’’ আর যতক্ষণ পর্যন্ত তোমাদের কেউ সলাতের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে, সে সময়টা তার সলাতের সময়ের মধ্যেই পরিগণিত হবে । আর এক বর্ণনার শব্দ হল, ‘যখন কেউ মাসজিদে গেল। আর সলাতের জন্য অবস্হান করল সেখানে, তাহলে সে যেন সলাতেই রইল। আর মালায়িকার দু’আর শব্দাবলী আরো বেশী : “হে আল্লাহ! এই বান্দাকে ক্ষমা করে দাও। তার তাওবাহ্ কবুল কর ।” এভাবে চলতে থাকবে যতক্ষণ পর্যন্ত সে অন্য কোন মুসলিমকে কষ্ট না দেয় বা তার উযূ ছুটে না যায় । [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৭০৩
وعن أبي أسيد قال قال رسول الله ﷺ إذا دخل أحدكم المسجد فليقل اللهم افتح لي أبواب رحمتك وإذا خرج فليقل اللهم إني أسألك من فضلك. رواه مسلم
তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন মাসজিদে প্রবেশ করবে সে যেন এই দু’আ পড়েঃ ‘হে আল্লাহ! তুমি আমার উপর তোমার রহমাতের দরজাগুলো খুলে দাও’। যখন মাসজিদ হতে বের হয়ে তখন বলবেঃ “হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে তোমার ফাযল বা অনুগ্রহ কামনা করি”। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৭০৪
وعن أبي قتادة أن رسول الله ﷺ قال إذا دخل أحدكم المسجد فليركع ركعتين قبل أن يجلس. متفق عليه
তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ মাসজিদে প্রবেশ করলে সে যেন বসার আগে দু’ রাক্’আত সলাত আদায় করে নেয়। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৭০৫
وعن كعب بن مالك قال كان النبي ﷺ لا يقدم من سفر الا نهارا في الضحى فإذا قدم بدأ بالمسجد فصلى فيه ركعتين ثم جلس فيه. متفق عليه
তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সফর হতে দিনের সকালের দিক ছাড়া আগমন করতেন না। আগমন করেই তিনি প্রথমে মাসজিদে প্রবেশ করতেন। দু’ রাক’আত সলাত আদায় করতেন, তারপর সেখানে বসতেন। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৭০৬
وعن أبي هريرة قال قال رسول الله ﷺ من سمع رجلا ينشد ضالة في المسجد فليقل لا ردها الله عليك فإن المساجد لم تبن هذا . رواه مسلم
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি শুনে অথবা দেখে মাসজিদে এসে কেউ তার হারানো জিনিস খুঁজছে, সে যেন তার উত্তরে বলে, ‘আল্লাহ করুন তোমার হারানো জিনিস তুমি না পাও। কারণ হারানো জিনিস খুঁজবার জন্য এ ঘর তৈরি করা হয়নি। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৭০৭
وعن جابر قال قال رسول الله ﷺ من أكل من هذه الشجرة المنتنة فلا يقربن مسجدنا فإن الملائكة تتأذى مما يتأذى منه الإنس. متفق عليه
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি এই দুর্গন্ধময় গাছের (পেঁয়াজ বা রসূনের) কিছু খাবে সে যেন আমাদের মাসজিদের নিকটবর্তী না হয়। কারণ মালায়িকাহ কষ্ট পান যেসব জিনিসে মানুষ কষ্ট পায়।[১] (মুত্তাফাকুন ‘আলায়হি ৫৬৪)
মিশকাতুল মাসাবিহ ৭০৮
وعن أنس قال قال رسول الله ﷺ البزاق في المسجد خطيئة وكفارتها دفنها. متفق عليه
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ মাসজিদে থুথু ফেলা গুনাহ। (যদি কেউ ফেলে) তার ক্ষতিপূরণ হল ঐ থুথু মাটিতে পুঁতে ফেলা। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৭০৯
وعن أبي ذر قال قال رسول الله ﷺ عرضت أعمال أمتي حسنتها وسيئها فوجدت في محاسن أعمالها الأذى يماط عن الطريق ووجدت في مساوي أعمالها النخاعة تكون في المسجد لا تدفن. رواه مسلم
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমার উম্মাতের ভালমন্দ সকল ‘আমাল আমার কাছে উপস্থিত করা হলো। তখন আমি তাদের ভাল কাজগুলোর মধ্যে দেখতে পেলাম-রাস্তা হতে কষ্টদায়ক জিনিস ফেলে দেয়া। আর মন্দ কাজগুলোর মধ্যে দেখতে পেলাম, কফ পুঁতে না ফেলে মাসজিদে ফেলে রাখা। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৭১০
وعن أبي هريرة قال قال رسول الله ﷺ إذا قام أحدكم إلى الصلاة فلا يبصق أمامه فإنما يناجي الله ما دام في مصلاه ولا عن يمينه فإن عن يمينه ملكا وليبصق عن يساره أو تحت قدمه فيدفنها
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন সলাতে দাঁড়ায় তখন সে যেন তার সামনের দিকে থুথু না ফেলে। কারণ যতক্ষণ সে তার জায়নামাযে থাকে ততক্ষণ আল্লাহর সাথে একান্ত আলাপে রত থাকে। সে তার ডান দিকেও ফেলবে না, কারণ সেদিকে মালাক আছে। (নিবারণ করতে না পারলে) সে যেন থুথু ফেলে তার বাম দিকে অথবা তার পায়ের নীচে, তারপর মাটি দিয়ে ঢেকে দেয়। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৭১১
وفى رواية ابى سعيد تحت قدمه اليسرى. متفق عليه
এর বর্ণনায় আছেঃ তার বাম পায়ের নীচে। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৭১২
وعن عائشة ان رسول الله ﷺ قال في مرضه الذي لم يقم منه لعن الله اليهود والنصارى اتخذوا قبور أنبيائهم مساجد. متفق عليه
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার মৃত্যুশয্যায় বলেছেনঃ আল্লাহর অভিশাপ ইয়াহূদী ও খৃষ্টানদের প্রতি। তারা তাদের নবীদের ক্ববরকে মাসজিদে পরিনত করেছে। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৭১৩
وعن جندب قال سمعت النبي ﷺ يقول ألا وإن من كان قبلكم كانوا يتخذون قبور أنبيائهم وصالحيهم مساجد ألا فلا تتخذوا القبور مساجد إني أنهاكم عن ذلك. رواه مسلم
তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, সাবধান! তোমাদের আগে যারা ছিল তারা তাদের নবী ও বুজুর্গ লোকদের ক্ববরকে মাসজিদে পরিণত করেছে। সাবধান! তোমরা ক্ববরসমূহকে মাসজিদে পরিণত কর না। আমি তোমাদেরকে একাজ হতে নিশ্চিতভাবে নিষেধ করছি। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৭১৪
وعن ابن عمر قال قال رسول الله ﷺ اجعلوا في بيوتكم من صلاتكم ولا تتخذوها قبورا. متفق عليه
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা তোমাদের ঘরেও কিছু কিছু সলাত আদায় করবে এবং ঘরকে ক্ববরে পরিণত করবে না। [১]