তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মিশকাতুল মাসাবিহ | হাদীস | কুরআন ও সুন্নাহ

মিশকাতুল মাসাবিহ > তৃতীয় অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ৬৭৪

عن جابر قال سمعت النبي ﷺ يقول إن الشيطان إذا سمع النداء بالصلاة ذهب حتى يكون مكان الروحاء قال الروحاء من المدينة علىستة وثلاثين ميلا . رواه مسلم

তিনি বলেন, আমি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, শয়তান যখন সলাতের আযান শুনে তখন সে “রাওহা” না পৌঁছা পর্যন্ত ভাগতে থাকে (অর্থাৎ অনেক দূরে চলে যায়)। বর্ণনাকারী বলেন, “রাওহা” নামক স্থান মাদীনাহ্‌ থেকে ছত্রিশ মাইল দূরে অবস্থিত। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৬৭৫

وعن علقمة بن وقاص قال إني لعند معاوية إذ أذن مؤذنه فقال معاوية كما قال مؤذنه حتى إذا قال حي على الصلاة قال لا حول ولا قوة الا بالله فلما قال حي على الفلاح قال لا حول ولا قوة الا بالله العلي العظيم وقال بعد ذلك ما قال المؤذن ثم قال سمعت رسول الله ﷺ قال ذلك. رواه أحمد

তিনি বলেন, একবার আমি মু’আবিয়াহ্‌ (রাঃ)-এর নিকট ছিলাম। তাঁর মুয়ায্‌যিন আযান দিচ্ছিলেন। মুয়ায্‌যিন যেভাবে (আযানের বাক্যগুলো) বলছিলেন, মু’আবিয়াহ্‌ (রাঃ) ও ঠিক সেভাবে বাক্যগুলো বলতে থাকেন। মুয়ায্‌যিন “হাইয়্যা ‘আলাস্‌সলা-হ্‌” বললে মু’আবিয়াহ্‌ (রাঃ) বললেন, “লা-হাওলা ওয়ালা- কূওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হ”। মুয়ায্‌যিন “হাইয়্যা ‘আলাল ফালা-হ” বললে মু’আবিয়াহ্‌ (রাঃ) বললেন, “লা-হাওলা ওয়ালা- কূওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হিল ‘আলিয়্যিল ‘আযীম”। এরপর আর বাকীগুলো তিনি তা-ই বললেন যা মুয়ায্‌যিন বললেন। এরপর তিনি বললেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে (আযানের উত্তরে) এভাবে বলতে শুনেছি। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৬৭৬

وعن أبي هريرة قال قال رسول الله ﷺ فقام بلال ينادي فلما سكت قال رسول الله ﷺ من قال مثل هذا دخل الجنة. رواه النسآئى

তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে যাচ্ছিলাম, বিলাল দাঁড়িয়ে আযান দিতে লাগলেন। আযান শেষে বিলাল চুপ করলে রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, যে ব্যক্তি অন্তরের দৃঢ় প্রত্যয়ের সাথে এর মত বলবে, সে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৬৭৭

وعن عائشة قالت كان النبي ﷺ إذا سمع المؤذن يتشهد قال وأنا وأنا. رواه أبو داوٗد

তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন মুয়ায্যিনকে, “আশহাদু আল্লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ” ও “আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রসূলুল্লা-হ” বলতে শুনতেন তখন বলতেন, ‘আনা আনা’ (‘আর আমিও’ ‘আর আমিও’) অর্থাৎ আমিও সাক্ষ্য দিচ্ছি। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৬৭৮

وعن ابن عمر أن رسول الله ﷺ قال من أذن ثنتي عشرة سنة وجبت له الجنة وكتب له بتأذينه في كل يوم ستون حسنة ولكل إقامة ثلاثون حسنة. رواه ابن ماجة

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : যে ব্যক্তি বার বছর পর্যন্ত আযান দিবে তার আযানের বিনিময়ে প্রতিদিন তার ‘আমালনামায় ষাটটি নেকী ও প্রত্যেক ইক্বামাতের পরিবর্তে ত্রিশ নেকী লেখা হবে। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৬৭৯

وعنه قال كنا نؤمر بالدعاء عند اذان المغرب. رواه البيهقى فى الدعوات الكبير

তিনি বলেন, আমাদেরকে মাগরিবের আযানের সময় দু’আ করার জন্য হুকুম দেয়া হয়েছে। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ > প্রথম অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ৬৮০

عن ابن عمر قال قال رسول الله ﷺ إن بلالا يؤذن بليل فكلوا واشربوا حتى ينادى ابن أم مكتوم ثم قال وكان رجلا أعمى لا ينادى حتى يقال له أصبحت أصبحت. متفق عليه

তিনি বলেন, বিলাল রাত থাকতে আযান দেয়। তাই তোমরা উম্মু মাকতূমের আযান না দেয়া পর্যন্ত খাওয়া-দুওয়া করতে থাকবে। ইবনু ‘উমার (রাঃ) বলেন, ইবনু উম্মু মাকতূম (রাঃ) অন্ধ ছিলেন। ‘ভোর হয়ে গেছে, ভোর হয়ে গেছে’ তাকে না বলা পর্যন্ত তিনি আযান দিতেন না। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৬৮১

وعن سمرة بن جندب قال قال رسول الله ﷺ لا يمنعنكم من سحوركم أذان بلال ولا الفجر المستطيل ولكن الفجر المستطير في الأفق. رواه مسلم ولفظه للترمذى

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : বিলালের আযান ও সুবহে কাযিব তোমাদেরকে সাহরী খাওয়া হতে যেন বিরত না রাখে। কিন্তু সুবহে সাদিক যখন দিগন্তে প্রসারিত হয়। (তখন খাবার-দাবার ছেড়ে দেবে)। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৬৮২

وعن مالك بن الحويرث قال اتيت النبي ﷺ انا وابن عم لى فقال إذا سافرتما فاذنا واقيما وليؤمكما اكبركما. رواه البخارى

তিনি বলেন, আমি ও আমার চাচাতো ভাই, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট গেলাম। তিনি আমাদেরকে বললেন, তোমরা সফরে গেলে আযান দিবে ও ইক্বামাত বলবে এবং তোমাদের মধ্যে যে বড় সে ইমামতি করবে। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৬৮৩

وعنه قال قال لنا رسول الله ﷺ صلوا كما رأيتمونى أصلى فإذا حضرت الصلاة فليؤذن لكم أحدكم وليؤمكم أكبركم. متفق عليه

তিনি বেলন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে বলেছেন : তোমরা সলাত আদায় করবে যেভাবে আমাকে সলাত আদায় করতে দেখছ। সলাতের সময় হলে তোমাদের মধ্যে একজন আযান দিবে। এরপর তোমাদের মধ্যে যে বয়সে বড় সে তোমাদের সলাতের ইমামাত করবে। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৬৮৪

وعن أبي هريرة قال ان رسول الله ﷺ حين قفل من غزوة خيبر سار ليله حتى إذا أدركه الكرى عرس وقال لبلال اكلأ لنا الليل فصلى بلال ما قدر له ونام رسول الله ﷺ وأصحابه فلما تقارب الفجر استند بلال إلى راحلته مواجه الفجر فغلبت بلالا عيناه وهو مستند إلى راحلته فلم يستيقظ رسول الله ﷺ ولا بلال ولا أحد من أصحابه حتى ضربتهم الشمس فكان رسول الله ﷺ أولهم استيقاظا ففزع رسول الله ﷺ فقال أي بلال فقال بلال أخذ بنفسي الذي أخذ بنفسك قال اقتادوا فاقتادوا رواحلهم شيئا ثم توضأ رسول الله ﷺ وأمر بلالا فأقام الصلاة فصلى بهم الصبح فلما قضى الصلاة قال من نسي الصلاة فليصلها إذا ذكرها فإن الله قال أقم الصلاة لذكري قال يونس وكان ابن شهاب يقرؤها للذكرى. رواه مسلم

তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) খায়বার যুদ্ধ হতে ফেরার পথে রাতে পথ চলছেন। এক সময়ে তন্দ্রায় আচ্ছন্ন হলে তিনি শেষ রাতে বিশ্রাম গ্রহণ করলেন। বিলালকে বলে রাখলেন, সলাতের জন্য রাতে লক্ষ্য রাখতে। এরপর বিলাল, তার পক্ষে যা সম্ভব হয়েছে সলাত আদায় করলেন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর সাথীগণ ঘুমিয়ে রইলেন। ফাজ্‌রের সলাতের সময় কাছাকাছি হয়ে আসলে বিলাল সূর্যোদয়ের দিকে মুখ করে নিজের উটের গায়ে হেলান দিলেন। বিলালকে তার চোখ দু’টো পরাজিত করে ফেলল (অর্থাৎ- তিনি ঘুমিয়ে পড়লেন)। অথচ তখনো বিলাল উটের গায়ে হেলান দিয়েই আছেন। নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঘুম থেকে জাগলেন না। বিলাল জাগলেন না, না রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথীদের কেউ। যে পর্যন্ত না সূর্যের তাপ তাদের গায়ে লাগল। এরপর তাদের মধ্যে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-ই প্রথম ব্যক্তি, যিনি ঘুম থেকে জাগলেন। তিনি ব্যতিব্যস্ত হয়ে বললেন, হে বিলাল! (কী হল তোমার)। বিলাল উত্তরে বললেন, রসূল! আপনাকে যে পরাজিত করেছে সেই পরাজিত করেছে আমাকে। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, সওয়ারী আগে নিয়ে চল। উটগুলো নিয়ে কিছু সামনে এগিয়ে গেলেন। এরপর নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উযূ করলেন। বিলালকে তাক্ববীর দিতে বললেন। বিলাল তাকবীর দিলেন। তারপর তিনি তাদের ফাজ্‌রের সলাত আদায় করালেন। সলাত শেষে নাবী বললেন, সলাতের কথা ভুলে গেলে যখনই তা মনে পড়বে তখনই আদায় করে নিবে। কারণ আল্লাহ বলেছেন, “সলাত কাযিম কর আমার স্মরণে। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৬৮৫

وعن ابى قتادة قال قال رسول الله ﷺ إذا أقيمت الصلاة فلا تقوموا حتى تروني قد خرجت. متفق عليه

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : যখন সলাতের জন্য ইক্বামাত দেয়া হবে, তোমরা আমাকে বের হয়ে আসতে না দেখা পর্যন্ত দাঁড়াবে না। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৬৮৬

وعن أبي هريرة قال قال رسول الله ﷺ إذا أقيمت الصلاة فلا تأتوها تسعون وأتوها تمشون وعليكم السكينة فما أدركتم فصلوا وما فاتكم فأتموا. متفق عليه.- وفى رواية لمسلم فان أحدكم إذا كان يعمد الى الصلاة فهو فى الصلاة وهذا الباب خال عن الفصل الثاني

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : সলাতের ইক্বামাত দেয়া শুরু হলে তোমরা দৌড়িয়ে আসবে না, বরং শান্তভাবে হেঁটে আসবে। তারপর যা ইমামের সাথে পাবে তাই পড়বে। আর যা ছুটে যাবে তা পরে পড়ে নিবে। [১] তবে মুসলিমের এক বর্ণনায় আছে, “তোমাদের কেউ সলাতের জন্য বের হলে তখন সে সলাতেই থাকে”। [2]


🔄 লোড হচ্ছে...
ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية