দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মিশকাতুল মাসাবিহ | হাদীস | কুরআন ও সুন্নাহ

মিশকাতুল মাসাবিহ > দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ৬৬৩

عن أبي هريرة قال قال رسول الله ﷺ الإمام ضامن والمؤذن مؤتمن اللهم أرشد الأئمة واغفر للمؤذنين. رواه أحمد وأبو داوٗد والترمذى والشافعي وفي اخرى له بلفظ المصابيح

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : ইমাম যিম্মাদার আর মুয়ায্‌যিন আমানতদার। তারপর তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এই দু’আ করলেন, “হে আল্লাহ! তুমি ইমামদেরকে হিদায়াত দান কর। আর মুয়ায্‌যিনদেরকে মাফ করে দাও”। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৬৬৪

وعن ابن عباس قال قال رسول الله ﷺ من أذن سبع سنين محتسبا كتبت له براءة من النار. رواه الترمذى وأبو داؤد وابن ماجة

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : যে ব্যক্তি (পারিশ্রমিক ও বিনিময়ের লোভ বাদ দিয়ে) শুধু সাওয়াব লাভের আশায় সাত বছর পর্যন্ত আযান দেয় তার জন্য জাহান্নামের মুক্তি লিখে দেয়া হয়। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৬৬৫

وعن عقبة بن عامر قال قال رسول الله ﷺ يعجب ربك من راعي غنم في رأس شظية الجبل يؤذن بالصلاة ويصلي فيقول الله عز وجل انظروا إلى عبدي هذا يؤذن ويقيم الصلاة يخاف مني قد غفرت لعبدي وأدخلته الجنة. رواه أبو داوٗد والنسآئى

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : তোমার রব সেই মেষপালক রাখালের উপর খুশী হন, যে একা পর্বত চূড়ায় দাঁড়িয়ে সলাতের জন্য আযান দেয় ও সলাত আদায় করে। আল্লাহ তা’আলা সে সময় তার মালাকগণকে বলেন, তোমরা আমার এই বান্দার দিকে তাকাও। সে আমাকে ভয় করে (এই পর্বত চূড়ায়) আযান দেয় ও সলাত আদায় করে। তোমরা সাক্ষী থাক আমি আমার বান্দাকে মাফ করে দিলাম এবং জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে দিলাম। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৬৬৬

وعن ابن عمر قال قال رسول الله ﷺ ثلاثة على كثبان المسك يوم القيامة عبد أدى حق الله وحق موالاه ورجل أم قوما وهم به راضون ورجل ينادي بالصلوات الخمس كل يوم وليلة. رواه الترمذى وقال هذا حديث غريب

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : ক্বিয়ামাতের দিন তিন ধরনের ব্যক্তি ‘মিস্‌কের’ টিলায় থাকবে। প্রথম সেই গোলাম যে আল্লাহর হাক্ব আদায় করে নিজ মুনীবের হাক্বও আদায় করেছে। দ্বিতীয় সেই ব্যক্তি যে মানুষের সলাত আদায় করায়, আর মানুষরা তার উপর খুশী। আর তৃতীয় হল সেই ব্যক্তি যে দিনরাত সব সময় পাঁচ ওয়াক্ত সলাতের জন্য আযান দিয়েছে। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৬৬৭

وعن أبي هريرة قال قال رسول الله ﷺ المؤذن يغفر له مدى صوته ويشهد له كل رطب ويابس وشاهد الصلاة يكتب له خمس وعشرون صلاة ويكفر عنه ما بينهما. رواه أحمد وأبو داوٗد وابن ماجة وروى النسائى الى قوله رطب ويابس وقال وله مثل اجر من صلى

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : মুয়ায্‌যিন, তাকে মাফ করে দেয়া হবে। তার আযানের আওয়াজের শেষ সীমা পর্যন্ত তার জন্য সাক্ষ্য দেবে প্রতিটা সজীব এ নির্জীব জিনিস। যে সলাতে উপস্থিত হবে, তার জন্য প্রতি সলাতে পঁচিশ সলাতের সাওয়াব লিখা হবে। মাফ করে দেয়া হবে তার দুই সলাতের মধ্যবর্তি সময়ের গুনাহগুলো। [১] কিন্তু নাসায়ী, প্রত্যেক সজীব নির্জীব পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন। তারপর তিনি আরও বলেছেন, তার জন্য সাওয়াব রয়েছে যারা সলাত আদায় করেছে তাদের সমান। [2]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৬৬৮

وعن عثمان بن أبي العاص قال قلت يا رسول الله اجعلني إمام قومي قال أنت إمامهم واقتد بأضعفهم واتخذ مؤذنا لا يأخذ على أذانه أجرا. رواه أحمد وأبو داوٗد والنسآئى

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে আবেদন করলাম, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে আমার জাতির ইমাম নিযুক্ত করে দিন। নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আচ্ছা ঠিক আছে। তুমি তাদের ইমাম। তবে ইমামতির সময় তাদের সবচেয়ে দুর্বল ব্যক্তির প্রতি লক্ষ্য রেখ। একজন মুয়ায্‌যিন নিযুক্ত করে নিও, যে আযান দেবার বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণ করবে না। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৬৬৯

وعن أم سلمة قالت علمني رسول الله ﷺ أن أقول عند أذان المغرب : اللهم إن هذا إقبال ليلك وإدبار نهارك وأصوات دعاتك فاغفر لي. رواه أبو داوٗد والبيهقى في الدعوات الكبير

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে মাগরিবের আযানের সময় এ দু’আটি পড়ার জন্য শিখিয়ে দিয়েছেন : “আল্ল-হুম্মা ইন্না হা-যা- ইক্ববা-লু লায়লিকা ওয়া ইদ্‌বা-রু নাহা-রিকা ওয়া আস্‌ওয়া-তু দু’আ-তিকা ফাগফির লী” (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! এ আযানের ধ্বনি তোমার দিনের বিদায় ধ্বনি এবং তোমার মুয়ায্‌যিনের আযানের সময়। তুমি আমাকে ক্ষমা কর।) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৬৭০

وعن أبي أمامة أو بعض أصحاب رسول الله ﷺ قال إن بلالا أخذ في الإقامة فلما أن قال قد قامت الصلاة قال رسول الله ﷺ أقامها الله وأدامها وقال في سائر الإقامة كنحو حديث عمر في الأذان. رواه أبو داوٗد

একবার বিলাল ইক্বামাত দিতে শুরু করলেন। তিনি যখন “ক্বদ ক্বা-মাতিস সলা-হ্‌” বললেন, তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, “আক্বা-মাহাল্ল-হু ওয়া আদা-মাহা-“ (আল্লাহ সলাতকে ক্বায়িম করুন এ একে চিরস্থায়ী করুন)। বাকী সব ইক্বামাতে ‘উমার (রাঃ) বর্ণিত হাদিসে আযানের উত্তরে যেরূপ উল্লেখ রয়েছে সেরূপই বললেন। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৬৭১

وعن أنس قال قال رسول الله ﷺ لا يرد الدعاء بين الاذان والاقامة. رواه أبو داوٗد والترمذى

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : আযান ও ইক্বামাতের মধ্যবর্তী সময়ের দু’আ আল্লাহ তা’আলার দরবার হতে ফেরত দেয়া হয় না। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৬৭২

وعن سهل بن سعد قال قال رسول الله ﷺ «ثنتان لا تردان أو قلما تردان الدعاء عند النداء وعند البأس حين يلحم بعضهم بعضا» وفى رواية «وتحت المطر». رواه أبو داوٗد والدارمي الا انه لم يذكر «وتحت المطر

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : দু’সময়ের দু’আ ফিরিয়ে দেয়া হয় না অথবা (তিনি বলেছেন) কমই ফিরিয়ে দেয়া হয়। আযানের সময়ের দু’আ ও যুদ্ধের সময়ের দু’আ, যখন পরস্পর কাটাকাটি, মারামারি আরম্ভ হয়ে যায়। আর এক বর্ণনায় আছে বৃষ্টি বর্ষণের সময়ে দু’আ। [১] তবে দারিমীর বর্ণনায় “বৃষ্টির বর্ষণের” কথাটুকু উল্লেখ হয়নি।


মিশকাতুল মাসাবিহ ৬৭৩

وعن عبد الله بن عمرو قال رجل يا رسول الله إن المؤذنين يفضلوننا فقال رسول الله ﷺ قل كما يقولون فإذا انتهيت فسل تعط. رواه أبو داوٗد

তিনি বলেন, এক ব্যক্তি আবেদন করল, হে আল্লাহর রসূল! আযানদান তা’ তো আমাদের চেয়ে মর্যাদায় বেড়ে যায়। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তারা যেভাবে বলে তোমরাও তোদের সাথে সাথে সেভাবে বলে যাও। আর আযানের উত্তরে শেষে যা খুশী তাই আল্লাহর কাছে চাও, তোমাদেরকে দেয়া হবে। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ > তৃতীয় অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ৬৭৪

عن جابر قال سمعت النبي ﷺ يقول إن الشيطان إذا سمع النداء بالصلاة ذهب حتى يكون مكان الروحاء قال الروحاء من المدينة علىستة وثلاثين ميلا . رواه مسلم

তিনি বলেন, আমি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, শয়তান যখন সলাতের আযান শুনে তখন সে “রাওহা” না পৌঁছা পর্যন্ত ভাগতে থাকে (অর্থাৎ অনেক দূরে চলে যায়)। বর্ণনাকারী বলেন, “রাওহা” নামক স্থান মাদীনাহ্‌ থেকে ছত্রিশ মাইল দূরে অবস্থিত। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৬৭৫

وعن علقمة بن وقاص قال إني لعند معاوية إذ أذن مؤذنه فقال معاوية كما قال مؤذنه حتى إذا قال حي على الصلاة قال لا حول ولا قوة الا بالله فلما قال حي على الفلاح قال لا حول ولا قوة الا بالله العلي العظيم وقال بعد ذلك ما قال المؤذن ثم قال سمعت رسول الله ﷺ قال ذلك. رواه أحمد

তিনি বলেন, একবার আমি মু’আবিয়াহ্‌ (রাঃ)-এর নিকট ছিলাম। তাঁর মুয়ায্‌যিন আযান দিচ্ছিলেন। মুয়ায্‌যিন যেভাবে (আযানের বাক্যগুলো) বলছিলেন, মু’আবিয়াহ্‌ (রাঃ) ও ঠিক সেভাবে বাক্যগুলো বলতে থাকেন। মুয়ায্‌যিন “হাইয়্যা ‘আলাস্‌সলা-হ্‌” বললে মু’আবিয়াহ্‌ (রাঃ) বললেন, “লা-হাওলা ওয়ালা- কূওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হ”। মুয়ায্‌যিন “হাইয়্যা ‘আলাল ফালা-হ” বললে মু’আবিয়াহ্‌ (রাঃ) বললেন, “লা-হাওলা ওয়ালা- কূওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হিল ‘আলিয়্যিল ‘আযীম”। এরপর আর বাকীগুলো তিনি তা-ই বললেন যা মুয়ায্‌যিন বললেন। এরপর তিনি বললেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে (আযানের উত্তরে) এভাবে বলতে শুনেছি। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৬৭৬

وعن أبي هريرة قال قال رسول الله ﷺ فقام بلال ينادي فلما سكت قال رسول الله ﷺ من قال مثل هذا دخل الجنة. رواه النسآئى

তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে যাচ্ছিলাম, বিলাল দাঁড়িয়ে আযান দিতে লাগলেন। আযান শেষে বিলাল চুপ করলে রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, যে ব্যক্তি অন্তরের দৃঢ় প্রত্যয়ের সাথে এর মত বলবে, সে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৬৭৭

وعن عائشة قالت كان النبي ﷺ إذا سمع المؤذن يتشهد قال وأنا وأنا. رواه أبو داوٗد

তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন মুয়ায্যিনকে, “আশহাদু আল্লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ” ও “আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রসূলুল্লা-হ” বলতে শুনতেন তখন বলতেন, ‘আনা আনা’ (‘আর আমিও’ ‘আর আমিও’) অর্থাৎ আমিও সাক্ষ্য দিচ্ছি। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৬৭৮

وعن ابن عمر أن رسول الله ﷺ قال من أذن ثنتي عشرة سنة وجبت له الجنة وكتب له بتأذينه في كل يوم ستون حسنة ولكل إقامة ثلاثون حسنة. رواه ابن ماجة

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : যে ব্যক্তি বার বছর পর্যন্ত আযান দিবে তার আযানের বিনিময়ে প্রতিদিন তার ‘আমালনামায় ষাটটি নেকী ও প্রত্যেক ইক্বামাতের পরিবর্তে ত্রিশ নেকী লেখা হবে। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৬৭৯

وعنه قال كنا نؤمر بالدعاء عند اذان المغرب. رواه البيهقى فى الدعوات الكبير

তিনি বলেন, আমাদেরকে মাগরিবের আযানের সময় দু’আ করার জন্য হুকুম দেয়া হয়েছে। [১]


🔄 লোড হচ্ছে...
ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية