দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মিশকাতুল মাসাবিহ | হাদীস | কুরআন ও সুন্নাহ

মিশকাতুল মাসাবিহ > দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ৬৪৩

وعن ابن عمر قال كان الأذان على عهد رسول الله ﷺ مرتين مرتين والإقامة مرة مرة أنه يقول قد قامت الصلاة قد قامت الصلاة. رواه أبو داوٗد والنسآئى والدارمي

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সময় আযানের বাক্য দু’ দু’বার ও ইক্বামাতের বাক্য এক একবার ছিল। কিন্ত ‘‘ক্বদ ক্ব-মাতিস্‌ সলা-হ্‌” কে মুয়ায্‌যিন দু’বার করে বলতেন। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৬৪৪

عن أبي محذورة أن النبي ﷺ علمه الأذان تسع عشرة كلمة والإقامة سبع عشرة كلمة. رواه أحمد والترمذى وأبو داوٗد والنسآئى والدارمي وابن ماجة

তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে উনিশ বাক্যে আযান আর সতের বাক্যে ইক্বামাত শিক্ষা দিয়েছেন। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৬৪৫

وعنه قال قلت يا رسول الله علمنى سنة الأذان قال فمسح مقدم رأسه قال تقول الله أكبر الله أكبر الله أكبر الله أكبر ترفع بها صوتك ثم تقول أشهد أن لا إله إلا الله أشهد أن لا إله إلا الله أشهد أن محمدا رسول الله أشهد أن محمدا رسول الله تخفض بها صوتك ثم ترفع صوتك بالشهادة أشهد أن لا إله إلا الله أشهد أن لا إله إلا الله أشهد أن محمدا رسول الله أشهد أن محمدا رسول الله حي على الصلاة حي على الصلاة حي على الفلاح حي على الفلاح فإن كان صلاة الصبح قلت الصلاة خير من النوم الصلاة خير من النوم الله أكبر الله أكبر لا إله إلا الله. رواه أبو داوٗد

তিনি বলেন, আমি (রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে) বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে আযানের নিয়ম শিখিয়ে দিন। তিনি [আবূ মাহযূরাহ্‌ রাঃ] বলেন, (আমার কথা শুনে) তিনি আমার অথবা এবং বললেন, বল : আল্ল-হু আকবার, আল্ল-হু আকবার,আল্ল-হু আকবার, আল্ল-হু আকবার। এ বাক্যগুলো তুমি খুব উচ্চৈঃস্বরে বলবে। এরপর তুমি নিম্নস্বরে বলবে,আশ্‌হাদু আল্লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ, আশ্‌হাদু আল্লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ এবং আশ্‌হাদু আন্না মুহাম্মাদার রসূলুল্ল-হ, আশ্‌হাদু আন্না মুহাম্মাদার রসূলুল্ল-হ। তুমি পুনরায় উচ্চৈঃস্বরে শাহাদাত বাক্য বলবে : আশ্‌হাদু আল্লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ, আশ্‌হাদু আল্লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ, আশ্‌হাদু আন্না মুহাম্মাদার রসূলুল্ল-হ, আশ্‌হাদু আন্না মুহাম্মাদার রসূলুল্ল-হ, হাইয়্যা ‘আলাস্‌ সলা-হ্‌, হাইয়্যা ‘আলাস্‌ সলা-হ্‌; হাইয়্যা ‘আলাল ফালাহ, হাইয়্যা ‘আলাল ফালাহ। এ আযান ফাজ্‌রের সলাতের জন্য হলে বলবে,আস্‌সলা-তু খয়রুম মিনান্‌ নাওম, আস্‌সলা-তু খয়রুম মিনান্‌ নাওম। আল্ল-হু আকবর, আল্ল-হু আকবার। লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৬৪৬

وعن بلال قال قال لي رسول الله ﷺ لا تثوبن في شيء من الصلوات إلافي صلاة الفجر. رواه الترمذى وابن ماجة وقال الترمذى أبو إسرائيل الراوى ليس بذاك القوي عند أهل الحديث

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বললেন : ফাজ্‌রের সলাত ব্যতীত কোন সলাতেই তাসবীব করবে না। [১] কিন্ত তিরমিযী এ হাদীসের সমালোচনা করে বলেন, এ হাদীসের এক বর্ণনাকারী আবূ ইসরাঈল মুহাদ্দিসদের মতে নির্ভরযোগ্য নন।


মিশকাতুল মাসাবিহ ৬৪৭

و عن جابر أن رسول الله ﷺ قال لبلال إذا أذنت فترسل وإذا أقمت فاحدر واجعل بين أذانك وإقامتك قدر ما يفرغ الآكل من أكله والشارب من شربه والمعتصر إذا دخل القضاء حاجته ولا تقوموا حتى تروني. رواه الترمذى وقال لا نعرفه الا من حديث عبد المنعم وهو اسناد مجهول

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিলালকে বললেন, যখন আযান দিবে ধীর গতিতে (উচ্চকণ্ঠে) দিবে এবং যখন ইক্বামাত দিবে দ্রুতগতিতে (নিচু স্বরে) দিবে। তোমরা আযান ও ইক্বামাতের মধ্যে এ পরিমাণ বিরতি রাখবে যাতে খাদ্য গ্রহণকারী খাওয়া, পানরত লোক পান করা, পায়খানা প্রস্রাবে রত লোক হাজাত পূর্ণ করতে পারে। আর আমাকে না দেখা পর্যন্ত তোমরা সলাতে কাতারবদ্ধ হবে না। [১] তিরমিযী বলেন, এ হাদীসকে আমরা ‘আবদুল মুন্‌’ইম ছাড়া আর কারও থেকে শুনিনি আর এর সানাদ মাজহূল-অজানা।


মিশকাতুল মাসাবিহ ৬৪৮

وعن زياد بن الحارث الصدائىـى قال أمرني رسول الله ﷺ أن أؤذن في صلاة الفجر فأذنت فأراد بلال أن يقيم فقال رسول الله ﷺ إن أخا صداء قد أذن ومن أذن فهو يقيم. رواه الترمذى أبو داوٗد وابن ماجة

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে নির্দেশ দিলেন ফাজ্‌রের সলাতের আযান দিতে। আমি আযান দিলাম। তারপর (সলাতের সময়) বিলাল ইক্বামাত দিতে চাইলেন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কথন বললেন, সুদায়ীর ভাই আযান দিয়েছে। আর যে আযান দিবে সে ইক্বামাতও দিবে। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ > তৃতীয় অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ৬৪৯

عن ابن عمر قال كان المسلمون حين قدموا المدينة يجتمعون فيتحينون للصلاة ليس ينادى بها احد فتكلموا يوما في ذلك فقال بعضهم اتخذوا مثل ناقوس النصارى وقال بعضهم قرنامثل قرن اليهود فقال عمر أولا تبعثون رجلا ينادي بالصلاة فقال رسول الله ﷺ يا بلال قم فناد بالصلاة. متفق عليه

তিনি বলেন, মুসলিমরা মাদীনায় হিজরত করে আসার পর সলাতের জন্য অনুমান করে একটা সময় ঠিক করে নিতেন। সে সময় সকলে একত্রিত হতেন। কারণ তখনও সলাতের জন্য কেউ আহ্বান করত না। একদিন এ বিষয় নিয়ে তারা আলোচনায় বসতেন। কেউ বললেন, নাসারাদের মতো ঘণ্টা বাজানো হোক। আবার কেউ বললেন, ‘ইয়াহূদীদের মতো শিঙ্গার ব্যাবস্থ করা হোক। তখন ‘উমার (রাঃ) বলেন, তোমরা কি একজন লোক পাঠিয়ে দিয়ে মানুষকে সলাতের জন্য আহ্বান করতে পারবে? তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, বিলাল! উঠ, সলাতের জন্য আহ্বান কর (আযান দাও)। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৬৫০

وعن عبد الله بن زيد بن عبد ربه قال لما أمر رسول الله ﷺ بالناقوس يعمل ليضرب به للناس لجمع الصلاة طاف بي وأنا نائم رجل يحمل ناقوسا في يده فقلت يا عبد الله أتبيع الناقوس قال وما تصنع به فقلت ندعو به إلى الصلاة فقال أفلا أدلك على ما هو خير من ذلك فقلت له بلى قال فقال تقول الله أكبر إلى آخره وكذا الإقامة فلما أصبحت أتيت رسول الله ﷺ فأخبرته بما رأيت فقال إنها لرؤيا حق إن شاء الله تعالى فقم مع بلال فألق عليه ما رأيت فليؤذن به فإنه أندى صوتا منك فقمت مع بلال فجعلت ألقيه عليه ويؤذن به قال فسمع بذلك عمر بن الخطاب وهو فى بيته فخرج يجر رداءه يقول يا رسول الله والذى بعثك بالحق لقد رأيت مثل ما أوري فقال رسول الله ﷺ فلله الحمد. رواه أبو داوٗد والدارمي وابن ماجة الا أنه لم يذكر الإقامة وقال الترمذى هذا حديث صحيح لكنه لم يصرح قصة الناقوس

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সলাতের জন্য একত্রিত হওয়ার জন্য ঘণ্টা বাজানোর নির্দেশ দিলেন। (সেদিন) আমি স্বপ্নে দেখলাম : এক লোক একটি ঘণ্টা নিয়ে যাচ্ছে। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর বান্দা! তুমি কি এ ঘণ্টাটা বিক্রি করবে? সে বলল, তুমি এ ঘণ্টা দিয়ে কী করবে? আমি বললাম, আমরা এ ঘণ্টা বাজিয়ে মানুষকে সলাতের জামা’আতে ডাকব। সে ব্যক্তি বলল, আমি কি তোমাকে এর চেয়ে উত্তম পন্থা বলে দিব না? আমি বললাম, হ্যাঁ অবশ্যই। সে বলল, তুমি বল, ‘আল্ল-হু আকবার’ আযানের শেষ বাক্য পর্যন্ত আমাকে বলে শুনাল। এভাবে ইক্বামাতও বলে দিল। ভোরে উঠে আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট স্বপ্নে যা দেখলাম সব তাঁকে তা বললাম। তিনি বললেন, ইনশাআল্লাহ এ স্বপ্ন সত্য। এখন তুমি স্বপ্নে যা দেখেছে বিলালের সাথে দাঁড়িয়ে তাকে বলতে থাক। আর সে আযান দিতে থাকুক। কারণ তার কণ্ঠস্বর তোমার চেয়ে জোরালো। অতএব আমি বিলালের সাথে দাঁড়িয়ে গিয়ে তাকে বলতে লাগলাম। আর তিনি আযান দিতে থাকলেন। বর্ণনাকারী বলেন, ‘উমার (রাঃ) নিজ বাড়ী থেকে আযানের শব্দ শুনে তাড়াতাড়ি নিজ চাদর টানতে টানতে বেরিয়ে এসে (নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দরবারে) বলতে লাগলেন, হে আল্লাহর রসূল! সেই সত্তার শপথ, যিনি আপনাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন, আমিও একই স্বপ্ন দেখেছি। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আলহাম্‌দু লিল্লাহ, অর্থাৎ আল্লাহর জন্যই সমস্ত প্রশংসা। [১] কিন্তু ইবনু মাজাহ ইক্বামাতের কথা উল্লেখ করেননি। ইমাম তিরমিযী বলেছেন- হাদীস সহীহ। তবে তিনি ঘণ্টার কথা উল্লেখ করেননি।


মিশকাতুল মাসাবিহ ৬৫১

وعن أبي بكرة قال خرجت مع النبي ﷺ لصلاة الصبح فكان لا يمر برجل الا ناداه بالصلاة أو حركه برجله. رواه أبو داوٗد

তিনি বলেন, আমি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে ফাজ্‌রের সলাতের জন্য বের হলাম। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যার নিকট দিয়েই যেতেন, তাকে সলাতের জন্য আহ্বান করতেন অথবা নিজের পা দিয়ে তাকে নেড়ে দিয়ে যেতেন। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৬৫২

وعن مالك بلغه أن المؤذن جاء عمر يؤذنه لصلاة الصبح فوجده نائما فقال الصلاة خير من النوم فأمره عمر أن يجعلها في نداء الصبح. رواه فى المؤطا

একজন মুয়ায্‌যিন ‘উমারকে ফাজ্‌রের সলাতের জন্য জাগাতে এলে তাকে নিদ্রিত পেলেন। তখন মুয়ায্‌যিন বললেন, “আস্‌সলা-তু খয়রুম মিনান্‌ নাওম” (সলাত ঘুম থেকে উত্তম)। ‘উমার (রাঃ) তাকে এ বাক্যটি ফাজ্‌রের সলাতের আযানে যোগ করার নির্দেশ দিলেন। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৬৫৩

وعن عبد الرحمن بن سعد بن عمار بن سعد مؤذن رسول الله ﷺ قال حدثنى أبى عن أبيه عن جده أن رسول الله ﷺ أمر بلالا أن يجعل إصبعيه في أذنيه وقال إنه أرفع لصوتك. رواه ابن ماجة

তিনি (দাদা) ছিলেন মাসজিদে কুবায় রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মুয়ায্‌যিন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিলালকে (আযানের সময়) তার দুই আঙ্গুল দুই কানের মধ্যে ঢুকিয়ে রাখার হুকুম দিলেন এবং বললেন, এভাবে (আঙ্গুল) রাখলে তোমার কণ্ঠষ্বর উঁচু হবে। [১]


🔄 লোড হচ্ছে...
ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية