দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মিশকাতুল মাসাবিহ | হাদীস | কুরআন ও সুন্নাহ

মিশকাতুল মাসাবিহ > দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ৬০৫

عن علي أن النبي ﷺ قال يا علي ثلاث لا تؤخرها الصلاة إذا آنت والجنازة إذا حضرت والأيم إذا وجدت لها كفوا. رواه الترمذى

নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ হে ‘আলী! তিনটি বিষয়ে দেরী করবে নাঃ (১) সলাতের সময় হয়ে গেলে আদায় করতে দেরী করবে না। (২) জানাযাহ্‌ উপস্থিত হয়ে গেলে তাতেও দেরী করবে না। (৩) স্বামীবিহীন নারীর উপযুক্ত বর পাওয়া গেলে তাকে বিয়ে দিতেও দেরী করবে না। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৬০৬

وعن ابن عمر قال قال رسول الله ﷺ الوقت الأول من الصلاة رضوان الله والوقت الآخر عفو الله. رواه الترمذى

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ সলাত প্রথম সময়ে আদায় করা আল্লাহকে খুশি করা এবং শেষ সময়ে আদায় করা আল্লাহর কাছে ক্ষমা পাওয়ার শামিল। (অর্থাৎ গুনাহ হতে বেঁচে থাকা) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৬০৭

وعن ام فروة قالت سئل النبي ﷺ أي الأعمال أفضل قال الصلاة لأول وقتها. رواه أحمد والترمذى وأبو داوٗد وقال الترمذى لا يروى الحديث الا من حديث عبد الله بن عمر العمرى وهو ليس بالقوى عند اهل الحديث

তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, কোন কাজ (‘আমাল) বেশী উত্তম? তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, সলাতকে তার প্রথম ওয়াক্তে আদায় করা। [১] ইমাম তিরমিযী বলেন, এ হাদীস ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার আল ‘উমারী ছাড়া আর কারো নিকট হতে বর্ণিত হয়নি। তিনিও মুহাদ্দিসগণের নিকট সবল নন।


মিশকাতুল মাসাবিহ ৬০৮

وعن عائشة قالت ما صلى رسول الله ﷺ صلاة لوقتها الآخر مرتين حتى قبضه الله تعالى. رواه الترمذى

তিনি বলেন, আল্লাহ্‌ তা‘আলা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে দুনিয়া হতে উঠিয়ে নেয়ার আগ পর্যন্ত তিনি কোন সলাতকে এর শেষ ওয়াক্তে দু’বারও আদায় করেননি। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৬০৯

وعن ايوب قال قال رسول الله ﷺ لا يزال أمتي بخير أو قال على الفطرة ما لم يؤخروا المغرب إلى أن تشتبك النجوم

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমার উম্মাত সর্বদাই কল্যাণ লাভ করবে, অথবা তিনি বলেছেন, ফিতরাত-এর উপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে, যদি তারা তারকারাজি উজ্জ্বল হয়ে উঠা পর্যন্ত মাগরিবের সলাতকে বিলম্বিত না করে। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৬১০

رواه أبو داوٗد ورواه الدارمي عن العباس

দারিমী এ হাদীস ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন।


মিশকাতুল মাসাবিহ ৬১১

وعن أبي هريرة قال قال رسول الله ﷺ لولا أن أشق على أمتي لامرتهم أن يؤخروا العشاء إلى ثلث الليل أو نصفه. رواه أحمد والترمذى وابن ماجة

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমার উম্মাতের জন্য কষ্টকর হবে মনে না করলে তাদেরকে ‘ইশার সলাত রাতের এক-তৃতীয়াংশ অথবা অর্ধরাত পর্যন্ত দেরী করে আদায়ের নির্দেশ দিতাম। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৬১২

وعن معاذ بن جبل قال قال رسول الله ﷺ أعتموا بهذه الصلاة فإنكم قد فضلتم بها على الأمم ولم تصلها أمة قبلكم. رواه أبو داوٗد

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা এ সলাত (অর্থাৎ ‘ইশার সলাত) দেরী করে আদায় করবে। কারণ এ সলাতের মাধ্যমে অন্যসব উম্মাতের উপর তোমাদের বেশী মর্যাদা দেয়া হয়েছে। তোমাদের আগের কোন উম্মাত এ সলাত আদায় করেনি। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৬১৩

وعن النعمان بن بشير قال أنا أعلم بوقت هذه الصلاة صلاة العشاء الاخرة كان رسول الله ﷺ يصليها لسقوط القمر لثالثة. رواه أبو داوٗد والدارمي

তিনি বলেন, আমি খুব ভালভাবে জানি তোমাদের এ সলাতের, অর্থাৎ শেষ সলাত ‘ইশার ওয়াক্ত সম্পর্কে। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তৃতীয়বার (তৃতীয় রাতের) চাঁদ অস্ত যাবার পর এ সলাত আদায় করতেন। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৬১৪

وعن رافع بن خديج قال قال رسول الله ﷺ أسفروا بالفجر فإنه أعظم للأجر. رواه الترمذى وأبو داوٗد والدارمي

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা ফাজরের সলাত ফর্সা আলোতে আদায় কর। কারণ ফর্সা আলোতে সলাত আদায় করলে অনেক বেশী সাওয়াব পাওয়া যায়। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ > তৃতীয় অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ৬১৫

رافع بن خديج قال كنا نصلي العصر مع رسول الله ﷺ ثم تنحر الجزور فتقسم عشر قسم ثم تطبخ فنأكل لحما نضيجا قبل مغيب الشمس. متفق عليه

তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে ‘আসরের সলাত আদায় করার পর উট যাবাহ করতাম। এ উট ছাড়িয়ে দশ ভাগ করা হত, তারপর রান্না করা হত। আর আমরা রান্না করা এ গোশত সূর্যাস্তের আগে খেতাম। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৬১৬

وعن عبد الله بن عمر قال مكثنا ذات ليلة ننتظر رسول الله ﷺ صلاة العشاء الآخرة فخرج إلينا حين ذهب ثلث الليل أو بعده فلا ندري أشيء شغله في أهله أو غير ذلك فقال حين خرج إنكم لتنتظرون صلاة ما ينتظرها أهل دين غيركم ولولا أن يثقل على أمتي لصليت بهم هذه الساعة ثم أمر المؤذن فأقام الصلاة وصلى. رواه مسلم

তিনি বলেন, আমরা এক রাতে শেষ ‘ইশার সলাতের জন্য রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অপেক্ষা করছিলাম। তিনি এমন সময় বের হলেন, যখন রাতের এক-তৃতীয়াংশ অতিক্রান্ত অথবা এরও কিছু পর। আমরা জানি না, পরিবারের কোন কাজে তিনি ব্যতিব্যস্ত ছিলেন, নাকি অন্য কিছু। তিনি বের হয়ে বললেন, তোমরা এমন একটি সলাতের অপেক্ষা করছ, যার জন্য অন্য ধর্মের লোকেরা অপেক্ষা করে না। আমরা উম্মাতের জন্য কঠিন হবে মনে না করলে তাদের নিয়ে এ সলাত আমি এ সময়েই আদায় করতাম। এরপর তিনি মুয়াযযিনকে নির্দেশ দিলে সে ইক্বামাত দিল। আর তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সলাত আদায় করালেন। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৬১৭

وعن جابر بن سمرة قال كان رسول الله ﷺ يصلي الصلوات نحوا من صلاتكم وكان يؤخر العتمة بعد صلاتكم شيئا وكان يخف الصلاة. رواه مسلم

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তোমাদের সলাতের মতই সলাত আদায় করতেন। কিন্তু তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) 'ইশার সলাত তোমাদের চাইতে কিছু দেরীতে আদায় করতেন এবং সংক্ষেপ করতেন। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৬১৮

وعن أبي سعيد قال صلينا مع رسول الله ﷺ صلاة العتمة فلم يخرج حتى مضى نحو من شطر الليل فقال خذوا مقاعدكم فاخذنا مقاعدنا فقال ان الناس قد صلوا واخذوا مضاجعهم وانكم لن تزالوا في صلاة ما انتظرتم الصلاة ولولا ضعف الضعيف وسقم السقيم لامرت بهذه الصلاة إلى شطر الليل. رواه أبو داوٗد والنسآئى

তিনি বলেন, আমরা একরাতে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে সলাত আদায় করলাম। (সেদিন) তিনি অর্ধেক রাত পর্যন্ত মাসজিদে এলেন না। [তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এসে] আমাদের বললেন, তোমরা তোমাদের নিজ নিজ জায়গায় বসে থাক। তাই আমরা বসে রইলাম। এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, অন্যান্য লোক সলাত আদায় করেছে। বিছানায় চলে গেছে। আর জেনে রেখো, তোমরা যতক্ষণ সলাতের অপেক্ষা করবে, সময় সলাত(রত থাকা) গণ্য হবে। আমি যদি বুড়ো, দুর্বল ও অসুস্থদের দিকে লক্ষ্য না রাখতাম তাহলে সর্বদা এ সলাত অর্ধেক রাত পর্যন্ত দেরী করে আদায় করতাম। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৬১৯

وعن أم سلمة قالت كان رسول الله ﷺ أشد تعجيلا للظهر منكم وأنتم أشد تعجيلا للعصر منه. رواه أحمد والترمذى

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যুহরের সলাতকে তোমাদের চেয়ে বেশী আগে ভাগে আদায় করতেন। আর তোমারা 'আসরের সলাত তাঁর চেয়ে বেশী আগে আদায় কর। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৬২০

وعن انس قال كان رسول الله ﷺ اذ كان الحر ابرد بالصلاة واذ كان البرد عجل. رواه النسآئى

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (যুহরের সলাত) গরমকালে ঠান্ডা করে (গরম কমলে) আদায় করতেন আর শীতকালে আগে আগে আদায় করতেন। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৬২১

وعن عبادة بن الصامت قال قال لي رسول الله ﷺ إنها ستكون عليكم بعدي أمراء يشغلهم أشياء عن الصلاة لوقتها حتى يذهب وقتها فصلوا الصلاة لوقتها فقال رجل يا رسول الله أصلي معهم قال نعم. رواه أبو داوٗد

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বলেছেন: আমার পর শীঘ্রই তোমাদের উপর এমন সব প্রশাসক নিযুক্ত হবে যাদেরকে নানা কাজ ওয়াক্তমত সলাত আদায়ে বিরত রাখবে, এমনকি তার ওয়াক্ত চলে যাবে। অতএব (সে সময়) তোমরা তোমাদের সলাত ওয়াক্তমত আদায় করতে থাকবে। এক ব্যক্তি বলে উঠল, হে আল্লাহর রসূল! তারপর আমি কি তাদের সাথে এ সলাত আবার আদায় করব? উত্তরে তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, হ্যাঁ। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৬২২

وعن قبيصة بن وقاص قال قال رسول الله ﷺ يكون عليكم أمراء من بعدي يؤخرون الصلاة فهي لكم وهي عليهم فصلوا معهم ما صلوا القبلة. رواه أبو داوٗد

তিনি বলেন,রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: আমার পর তোমাদের উপর এমন সব শাসক নিযুক্ত হবে, যারা সলাতকে পিছিয়ে ফেলবে। যা তোমাদের জন্য কল্যাণ হলেও তাদের জন্য অকল্যাণ ডেকে আনবে। তাই যতদিন তারা ক্বিবলাহ্ হিসাবে (ক্বা'বা-কে)মেনে নিবে ততদিন তাদের পিছনে তোমরা সলাত আদায় করতে থাকবে। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৬২৩

وعبيد الله بن عدي بن الخيار أنه دخل على عثمان وهو محصور فقال إنك إمام عامة ونزل بك ما ترى ويصلي لنا إمام فتنة ونتحرج فقال الصلاة أحسن ما يعمل الناس فإذا أحسن الناس فأحسن معهم وإذا أساءوا فاجتنب إساءتهم. رواه البخارى

তিনি খলীফা 'উসমান (রাঃ) -এর নিকট উপস্থিত হলেন। তখন তিনি নিজ ঘরে অবরুদ্ধ ছিলেন। তাকে তিনি বললেন, আপনিই জনগনের ইমাম। কিন্তু আপনার উপর এ বিপদ আপতিত যা আপনি দেখছেন। এ সময় বিদ্রোহী নেতা (ইবনু বিশর) আমাদের সলাতে ইমামাত করছে। এতে আমরা গুনাহ মনে করছি। তখন তিনি ['উসমান (রাঃ)] বললেন, মানুষ যেসব কাজ করে, এসবের মধ্যে সলাত হচ্ছে সর্বোত্তম। অতএব মানুষ যখন ভাল কাজ করবে, তাদের সাথে শারীক হবে। যখন মন্দ কাজ করবে, তাদের এ মন্দ কাজ হতে দূরে সরে থাকবে। [১]


🔄 লোড হচ্ছে...
ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية