তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মিশকাতুল মাসাবিহ | হাদীস | কুরআন ও সুন্নাহ

মিশকাতুল মাসাবিহ > তৃতীয় অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ৫৪৪

عن عكرمة قال ان اناسا من اهل العراق جاؤا فقالوا يا ابن عباس اترى الغسل يوم الجمعة واجبا قال لا ولكنه اطهر وخير لمن اغتسل ومن لم يغتسل فليس عليه بواجب وساخبركم كيف بدء الغسل كان الناس مجهودين يلبسون الصوف ويعملون على ظهورهم كان مسجدهم ضيقا مقارب السقف انما هو عريش فخرج رسول الله ﷺ فى يوم حار وعرق الناس فى ذلك الصوف حتى ثارت منهم رياح اذى بذلك بعضهم بعضا فلما وجد رسول الله ﷺ تلك الرياح قال ايها الناس إذا كان هذا اليوم فاغتسلوا وليمس أحدكم افضل ما يجد من دهنه وطيبه قال ابن عباس ثم جاء الله بالخير ولبسوا غير الصوف وكفوا العمل ووسع مسجدهم وذهب بعض الذى كان يوذى بعضهم بعضا من العرق. رواه أبو داوٗد

তিনি বলেন, ‘ইরাকের কিছু লোক এসে জিজ্ঞেস করল, হে ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস! জুমু‘আর দিনের গোসলকে আপনি কি ওয়াজিব মনে করেন? তিনি বললেন, না। কিন্তু যে ব্যক্তি তা করবে তার জন্য খুবই উত্তম ও পবিত্রতম। আর যে ব্যক্তি তা করল না তার জন্য ফার্‌য নয়। কিভাবে জুমু‘আর গোসল শুরু হল তা আমি তোমাদেরকে বলছি। লোকেরা গরীব ছিল। পশমের মোটা কাপড় পরত। পিঠে ভারবাহীর মতো কঠিন পরিশ্রম করতো। তাদের মাসজিদ ছিল ছোট ও নীচু চালার খেজুর ডালের চাপরা। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এমনি এক গরমের দিনে মাসজিদের দিকে গেলেন। মানুষ পশমের কাপড় পড়ে ঘামে ভিজেছিল। তাদের শরীর থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল। এতে একে অপরের দুর্গন্ধে কষ্ট পাচ্ছিল। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-ও গন্ধ পাচ্ছিলেন। তিনি বললেন, হে লোক সকল! তোমরা এ দিনে গোসল করে মাসজিদে আসবে। তোমাদের প্রত্যেকেই যেন আপন আপন সামর্থ্যনুযায়ী ভাল ভাল তৈল ও সুগন্ধী ব্যবহার করে। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা তাদের সম্পদ দান করলেন। তারা পশম ছাড়া অন্য কাপড়-চোপড় পরতে থাকেন। তাদের পরিশ্রম ও দিন মজুরীর অবসান ঘটে। তাদের মাসজিদও প্রশস্ত হল। তাদের একে অপরকে কষ্ট দেবার মতো দুর্গন্ধ ঘামও দূর হয়ে গেল। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৫৪৫

عن أنس بن مالك قال ان اليهود كانوا إذا حاضت المراة فيهم لم يؤاكلوها ولم يجامعوهن فى البيوت فسال اصحاب النبى ﷺ فانزل الله تعالى ﴿ويسالونك عن المحيض...﴾ الاية فقال رسول الله ﷺ اصنعوا كل شىء الا النكاح فبلغ ذلك اليهود فقالوا ما يريد هذا لرجل ان يدع من امرنا شيئا الا خالفنا فيه فجاء اسيد بن حضير وعباد بن بشر فقال يا رسول الله ﷺ ان اليهود تقول كذا وكذا افلا نجامعهن فتغير وجه رسول الله حتى ظننا ان قد وجد عليهما فخرجا فاستقبلتهما هدية من لبن الى النبى ﷺ فارسل فى اثارهما فسقاهما فعرفا انه لم يجد عليهما. رواه مسلم

তিনি বলেন, ইয়াহূদীদের কোন স্ত্রীলোকের হায়য হলে তারা শুধু তাদের সাথে একত্রে খাওয়াই বন্ধ করে দিত না, বরং তাদেরকে একত্রে এক ঘরেও রাখত না। নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সহাবীগণ তাঁকে (এ বিষয়ে) জিজ্ঞেস করলেন। আল্লাহ তা‘আলা তখন এ আয়াত অবতীর্ণ করলেন, “আর তারা আপনাকে হায়য সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে........”- (সূরাহ্‌ আল বাক্বারাহ ২:২২২) আয়াতের শেষ পর্যন্ত। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তাদের সাথে যৌনসঙ্গম ব্যতীত আর সব কিছু করতে পার। এ সংবাদ ইয়াহূদীদের কাছে পৌঁছালে তারা বলল, এ ব্যক্তি আমাদের সব কিছুতেই বিরোধীতা না করে ছাড়তে চায় না। অতঃপর উসায়দ ইবনু হুযায়র এবং ‘আব্বাদ ইবনু বিশ্‌র (রাঃ) আসলেন। তারা বললেন, হে আল্লাহর রসূল! ইয়াহূদীরা এসব কথা বলে বেড়ায়। আমরা কি আমাদের স্ত্রীদের সাথে যৌনসঙ্গম করার অনুমতি পেতে পারি? এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর চেহারা বিবর্ণ হয়ে গেল। তাতে আমাদের ধারণা হল, তিনি তাদের উপর রাগ করেছেন। তারপর তারা বের হয়ে গেলেন। এমন সময় তাদের সামনেই নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্য কিছু দুধ হাদিয়া আসল। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পেছনে পেছনে লোক পাঠিয়ে তাদেরকে ডেকে এনে দুধ খেতে দিলেন। এতে তারা বুঝলেন যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের সাথে রাগ করেননি। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৫৪৬

وعن عائشة قالت كنت اغتسل انا والنبى ﷺ من اناء واحد وكلانا جنب وكان يامرنى فاتزر فيباشرنى وانا حائض وكان يخرج راسه الى وهو معتكف فاغسله وانا حائض. متفق عليه

তিনি বলেন, নাপাক অবস্থায় আমি ও নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একই পাত্রে হতে গোসল করতাম। তিনি আমাকে হুকুম করতেন, আমি শক্ত করে লুঙ্গি বেধে দিতাম, আর তিনি আমার গায়ে গা লাগাতেন অথচ তখন আমি হায়য অবস্থায় ছিলাম। তিনি ই‘তিক্বাফ অবস্থায় তাঁর মাথা মাসজিদ থেকে বের করে দিতেন, আমি ঋতুবতী অবস্থায় পানি দিয়ে তাঁর মাথা ধুয়ে দিতাম। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৫৪৭

وعنها قالت كنت اشرب وانا حائض ثم انوله النبى ﷺ فيضع فاه على موضع فى فيشرب واتعرق العرق وانا حائض ثم اناوله النبى ﷺ فيضع فاه على موضع فى. رواه مسلم

তিনি বলেন, আমি হায়য অবস্থায় পানি পান করতাম। এরপর নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে তা দিতাম। তিনি আমার মুখের জায়গায় মুখ রেখেই পানি পান করতেন। আমি কখনও হায়য অবস্থায় হাড়ের গোশ্ত খেতাম। অতঃপর আমি এ হাড় নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে দিতাম। আর তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার মুখের জায়গায় মুখ রেখে তা খেতেন। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৫৪৮

وعنها قالت كان النبي ﷺ يتكئ في حجري وأنا حائض ثم يقرأ القرآن. متفق عليه

তিনি বলেন, আমি হায়য অবস্থায় থাকতে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার কোলে হেলান দিয়ে কুরআন মাজীদ তিলাওয়াত করতেন। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৫৪৯

وعنها قالت قال لي النبي ﷺ ناوليني الخمرة من المسجد فقلت إني حائض فقال إن حيضتك ليست في يدك. رواه مسلم

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বললেন, মাসজিদ হতে আমাকে চাটাই এনে দাও। আমি বললাম, আমি তো ঋতুবতী। তিনি বললেন, তোমার হায়য তো তোমার হাতে নয়। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৫৫০

عن ميمونة قالت كان رسول الله ﷺ يصلي فى مرط بعضه علي وبعضه عليه وأنا حائض. متفق عليه

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একটি চাদরে সালাত আদায় করতেন। যার একটি অংশ আমার শরীরের উপর থাকত আর অন্য অংশ তার শরীরের উপর থাকত। অথচ তখন আমি ঋতুবতী। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ > দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ৫৫১

عن أبي هريرة قال قال رسول الله ﷺ من أتى حائضا أو امرأة فى دبرها أو كاهنا فقد كفر بما أنزل على محمدﷺ . رواه الترمذي وابن ماجة والدارمي وفى روايتهما فصدقه بما يقول فقد كفر وقال الترمذي لا نعرف هذا الحديث إلامن حديث حكيم الأثرم عن أبي تميمة عن أبي هريرة

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে লোক ঋতুবতী অবস্থায় যৌনসঙ্গম করেছে অথবা কোন স্ত্রীলোকের মলদ্বার দিয়ে যৌনসঙ্গম করেছে আথবা কোন গণকের কাছে গিয়েছে, সে লোক মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উপর যা অবতীর্ণ হয়েছে তার প্রতি অবিশ্বাস করেছে। কিন্তু শেষের দু'জন ইবনু মাজাহ ও দারিমীর বর্ণনায় রয়েছে, যে ব্যক্তি গণকের কাছে গিয়েছে, সে যা বলেছে তা সত্য বলে বিশ্বাস করেছে, সে কুফ্‌রী করেছে (অর্থাৎ-কাফির হয়ে গেছে)। তিরমিযী এ সানাদের সমালোচনা করে বলেছেনঃ হাদীসটি আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে আবূ তামীমাহ্, তাঁর থেকে হাকীম আস্‌রাম ব্যতীত অন্য কোন সূত্রে বর্ণিত হয়েছে বলে আমি জানি না। (তবে আবূ তামীমার বিশ্বস্ততা সম্পর্কে কোন কোন মুহাদ্দিস সন্দেহ প্রকাশ করেছেন)। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৫৫২

وعن معاذ بن جبل قال قلت يا رسول الله ما يحل لي من إمرأتي وهي حائض قال ما فوق الإزار والتعفف عن ذلك أفضل. رواه رزين وقال محيي السنة : إسناده ليس بقوي

তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! হায়য অবস্থায় আমার স্ত্রীর সাথে আমার কী কী করা হালাল? তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, সালোয়ারের উপরিভাগে (নাভীর উপরের অংশে যা করতে চাও কর, তা হালাল)। তবে এটুকু থেকে বিরত থাকাই উত্তম। [১] ইমাম মুহ্‌য়িয়ুস্ সুন্নাহ বলেন, এ হাদীসের সানাদ তেমন শক্তিশালী নয়।


মিশকাতুল মাসাবিহ ৫৫৩

وعن ابن عباس قال قال رسول الله ﷺ إذا وقع الرجل بأهله وهي حائض فليتصدق بنصف دينار. رواه الترمذي أبو داوٗد النسائى والدارمي وابن ماجة

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কেউ যদি তার স্ত্রীর সাথে ঋতুবতী অবস্থায় যৌনসঙ্গম করে, তাহলে সে যেন অর্ধেক দীনার দান করে দেয়। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৫৫৪

وعنه عن النبي ﷺ قال إذا كان دما أحمر فدينار وإذا كان دما أصفر فنصف دينار. رواه الترمذي

নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ (যৌনসঙ্গমকালে হায়যের রক্ত) লাল থাকলে এক দীনার ও পীতবর্ণ দেখা দিলে অর্ধেক দীনার সদাক্বাহ আদায় করতে হবে। [১]


🔄 লোড হচ্ছে...
ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية