মিশকাতুল মাসাবিহ > প্রথম অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ৫১৭
عن شريح بن هانىء قال سالت علي بن ابى طالب عن المسح على الخفين فقال جعل رسول الله ﷺ ثلاثة ايام ولياليهن للمسافر ويوما وليلة للمقيم. رواه مسلم
তিনি বলেন, ‘আলী ইবনু আবু তালিব (রাঃ) কে মোজার উপর মাসাহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি ‘আলী (রাঃ) উত্তরে বললেন, রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মুসাফিরের জন্য তিনদিন তিনরাত এবং মুকিমের জন্য একদিন একরাত নির্ধারণ করে দিয়েছেন। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৫১৮
وعن المغيرة بن شعبة انه غزا مع رسول الله ﷺ غزوة تبوك قال المغيرة فتبرز رسول الله ﷺ قبل الغائط فحملت معه ادواة قبل الفجر فلما رجع اخذت اهريق على يديه من الاداوة فغسل يديه ووجهه وعليه جبة من صوف ذهب يحسر عن ذراعيه فضاق كم الجبة فاخرج يديه من تحت الجبة والقى الجبة على منكبيه فغسل ذراعيه ثم مسح بناصيته وعلى العمامة ثم اهويت لانزع خفيه فقال دعهما فانى ادخلتهما طاهرتين فمسح عليهما ثم ركب وركبت فانتهينا الى القوم وقد قاموا الى الصلاة ويصلى بهم عبد الرحمن بن عوف وقد ركع بهم ركعة فلما احس بالنبى ﷺ ذهب يتاخر فاوما إليه فادرك النبى ﷺ احدى الركعتين معه فلما سلم قام النبى ﷺ وقمت معه فركعنا الركعة التى سبقتنا. رواه مسلم
তিনি রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাথে তাবুক যুদ্ধে শরীক হয়েছিলেন। মুগিরাহ্ বলেন, একদিন ফজরের সলাতের আগে রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পায়খানার উদ্দেশ্যে বের হলেন। আর আমি তাঁর পিছনে একটি পানির পাত্র বহন করে গেলাম। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বেরিয়ে আসার পর আমি তাঁর দুই হাতের কব্জির উপর পানি ঢালতে লাগলাম। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর দুই হাত ও চেহারা ধুলেন। তখন তাঁর গায়ে একটি পশমের জুব্বাহ্ ছিল। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর (জুব্বার আস্তিন গুটিয়ে) হাত দুটি খুলতে চাইলেন। কিন্তু জুব্বার আস্তিন খুব চিকন ছিল। তাই জুব্বার ভিতর দিক দিয়েই তাঁর হাত দুটি বের করে নিজের দুই কাঁধের উপর রেখে দিলেন এবং হাত দুটি (কনুই পর্যন্ত) ধুলেন। অতঃপর মাথার সামনের দিক (কপাল) ও পাগড়ীর উপর মাসাহ করলেন। তারপর আমি তাঁর মোজাগুলো খুলতে চাইলাম। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, এগুলো এভাবে থাকতে দাও, আমি এগুলো পবিত্রাবস্থায় (অর্থাৎ উযু করে) পরেছি। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এগুলোর উপর মাসাহ্ করলেন। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সওয়ারীর উপর আরোহণ করলেন, আমিও আরোহণ করলাম এবং আমরা একটা দলের কাছে পৌঁছে গেলাম। তখন তারা সলাতে দাড়িয়ে গিয়েছিলেন, আর আব্দুর রহমান ইবন আওফ (রাঃ) তাদের সলাতের ইমামতি করছিলেন এবং তাদের নিয়ে এক রাক’আত সলাত আদায়ও করে ফেলেছিলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর আগমন বুঝতে পেরে তিনি পিছনে সরে আসতে চাইলেন। কিন্তু নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে তার স্থানে (স্থির থাকতে) ইশারা করলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার সাথে দুই রাক’আতের মধ্যে এক রাক’আত সলাত পেলেন। তিনি সালাম ফিরালে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দাঁড়িয়ে গেলেন এবং আমিও তাঁর সাথে দাঁড়িয়ে গেলাম। আর এক রাক’আত ছুটে যাওয়া সলাত আমরা আদায় করলাম। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ > দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ৫১৯
عن ابى بكرة عن النبى ﷺ انه رخص للمسافر ثلاثة ايام ولياليهن وللمقيم يوما وليلة إذا تطهر فلبس خفيه ان يمسح عليهما. رواه الاثرم في سننه وابن خزيمة والدارقطني، وقال الخطابى هو صحيح الاسناد هكذا فى المنتقى
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মুসাফিরের জন্য তিনদিন তিনরাত এবং মুকীমের জন্য এক দিন ও এক রাত উযু করে মোজা পরার পর এর উপর মাসাহ করার অনুমতি দিয়েছেন। আসরাম তার সুনানে এবং ইবনু খুজায়মাহ্ ও দারাকুত্বনী এ হাদীস টি বর্ণনা করেছেন। [১] ইমাম খাত্তাবি বলেছেন, হাদিসটির সনদ সহীহ। আল মুনতাকা কিতাবেও এরূপ উল্লেখ রয়েছে।
মিশকাতুল মাসাবিহ ৫২০
وعن صفوان بن عسال قال كان رسول الله ﷺ يامرنا إذا كنا سفرا ان لا ننزع خفافنا ثلاثة ايام ولياليهن الا من جنابة ولكن من غائط وبول ونوم. رواه الترمذي والنسائـي
তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাথে সফর অবস্থায় কোথাও রওয়ানা হলে আমাদেরকে তিনদিন তিনরাত পর্যন্ত পবিত্রতার গোসল ছাড়া, এমনকি প্রসাব–পায়খানা ও ঘুমানোর পর মোজা না খুলে উযুর করার আদেশ করতেন। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৫২১
وعن المغيرة بن شعبة قال وضات النبى ﷺ فى غزوة تبوك فمسح اعلى الخف واسفله. رواه أبو داوٗد والترمذي وابن ماجة وقال الترمذي هذا حديث معلول وسالت ابا زرعة ومحمدا يعنى البخاري عن هذا الحديث فقال ليس بصحيح وكذا ضعفه أبو داوٗد
তিনি বলেন, আমি তাবুক যুদ্ধে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর উযুর পানির ব্যবস্থা করলাম। তিনি মোজার উপর দিক ও তার নীচের দিক মাসাহ করেছিলেন।৫৩৬ ইমাম তিরমিযী বলেছেন, এ হাদীসটি ত্রুতিযুক্ত। আমি আবু যুর’আহ ও ইমাম বুখারীকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তারা বলেছেন, হাদীসটির সনদ সহীহ নয়। এভাবে ইমাম আবু দাউদও হাদীসটিকে য’ঈফ বলেছেন (অর্থাৎ এর সনদ মুগিরাহ পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে নেই, মধ্যখানে রাবী ছুটে গেছে।[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৫২২
وعنه انه قال رايت النبي ﷺ يمسح على الخفين على ظاهرهما. رواه الترمذي وأبو داوٗد
তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে দেখেছি তিনি তাঁর দুটো মোজার উপর দিকে মাসাহ করেছেন। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৫২৩
وعنه قال توضا النبى ﷺ ومسح على الجوربين والنعلين. رواه أحمد والترمذي وأبو داوٗد وابن ماجة
তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উযু করলেন এবং জুতার সাথে ‘জাওয়াব’ ও ‘পা’ দুটোর উপরের দিকও মাসাহ করেলেন। [১]