তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মিশকাতুল মাসাবিহ | হাদীস | কুরআন ও সুন্নাহ

মিশকাতুল মাসাবিহ > তৃতীয় অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ৫১২

عن امراة من بني عبد الاشهل قالت قلت يا رسول الله ﷺ ان لنا طريقا الى المسجد منتنة فكيف نفعل إذا مطرنا قالت فقال اليس بعدها طريق هى اطيب منها قلت بلى قال فهذه بهذه. رواه أبو داوٗد

তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! মাসজিদের দিকে আমাদের (চলাচলের পথে) একটি অতি গন্ধময় রাস্তা আছে। সেখানে বৃষ্টি হবার পর আমরা কীভাবে সতর্কতা অবলম্বন করব? তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: মাসজিদের দিকে যাওয়ার জন্য পূর্বের চেয়ে আর কোন ভাল পবিত্র পথ পড়বে না? আমি বললাম, হ্যাঁ আছে। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, এটাই হল ওটার বদলা (অর্থাৎ-পরবর্তী রাস্তার পবিত্র মাটি দিয়ে লেগে থাকা নাপাকী পবিত্র হয়ে যাবে)। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৫১৩

وعن عبد الله بن مسعود قال كنا نصلي مع رسول الله ﷺ ولا نتوضا من الموطئ. رواه الترمذي

তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে সলাত আদায় করতাম। অথচ (পবিত্র মাটির) রাস্তায় চলার কারণে উযূ করতাম না। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৫১৪

وعن ابن عمر قال كانت الكلاب تقبل وتدبر فى المسجد في زمان رسول الله ﷺ فلم يكونوا يرشون شيئا من ذلك. رواه البخاري

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুগে মাসজিদে (নাবাবীতে) কুকুর চলাচল করত। অথচ সাহাবীগণ (কুকুর হাঁটার জায়গায়) কোন পানি ছিটাতেন না (ধুইতেন না)। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৫১৫

وعن البراء قال قال رسول الله ﷺ لا بأس ببول ما يؤكل لحمه

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: যার গোশত খাওয়া হয় তার প্রস্রাব গায়ে লাগলে ক্ষতি নেই। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৫১৬

وفي رواية جابر قال ما اكل لحمه فلا باس ببوله. رواه أحمد والدارقطني

তিনি বলেন, যে জীব-জন্তুর গোশত খাওয়া হয় তার প্রস্রাবে দোষ নেই। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ > প্রথম অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ৫১৭

عن شريح بن هانىء قال سالت علي بن ابى طالب عن المسح على الخفين فقال جعل رسول الله ﷺ ثلاثة ايام ولياليهن للمسافر ويوما وليلة للمقيم. رواه مسلم

তিনি বলেন, ‘আলী ইবনু আবু তালিব (রাঃ) কে মোজার উপর মাসাহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি ‘আলী (রাঃ) উত্তরে বললেন, রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মুসাফিরের জন্য তিনদিন তিনরাত এবং মুকিমের জন্য একদিন একরাত নির্ধারণ করে দিয়েছেন। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৫১৮

وعن المغيرة بن شعبة انه غزا مع رسول الله ﷺ غزوة تبوك قال المغيرة فتبرز رسول الله ﷺ قبل الغائط فحملت معه ادواة قبل الفجر فلما رجع اخذت اهريق على يديه من الاداوة فغسل يديه ووجهه وعليه جبة من صوف ذهب يحسر عن ذراعيه فضاق كم الجبة فاخرج يديه من تحت الجبة والقى الجبة على منكبيه فغسل ذراعيه ثم مسح بناصيته وعلى العمامة ثم اهويت لانزع خفيه فقال دعهما فانى ادخلتهما طاهرتين فمسح عليهما ثم ركب وركبت فانتهينا الى القوم وقد قاموا الى الصلاة ويصلى بهم عبد الرحمن بن عوف وقد ركع بهم ركعة فلما احس بالنبى ﷺ ذهب يتاخر فاوما إليه فادرك النبى ﷺ احدى الركعتين معه فلما سلم قام النبى ﷺ وقمت معه فركعنا الركعة التى سبقتنا. رواه مسلم

তিনি রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাথে তাবুক যুদ্ধে শরীক হয়েছিলেন। মুগিরাহ্ বলেন, একদিন ফজরের সলাতের আগে রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পায়খানার উদ্দেশ্যে বের হলেন। আর আমি তাঁর পিছনে একটি পানির পাত্র বহন করে গেলাম। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বেরিয়ে আসার পর আমি তাঁর দুই হাতের কব্জির উপর পানি ঢালতে লাগলাম। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর দুই হাত ও চেহারা ধুলেন। তখন তাঁর গায়ে একটি পশমের জুব্বাহ্ ছিল। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর (জুব্বার আস্তিন গুটিয়ে) হাত দুটি খুলতে চাইলেন। কিন্তু জুব্বার আস্তিন খুব চিকন ছিল। তাই জুব্বার ভিতর দিক দিয়েই তাঁর হাত দুটি বের করে নিজের দুই কাঁধের উপর রেখে দিলেন এবং হাত দুটি (কনুই পর্যন্ত) ধুলেন। অতঃপর মাথার সামনের দিক (কপাল) ও পাগড়ীর উপর মাসাহ করলেন। তারপর আমি তাঁর মোজাগুলো খুলতে চাইলাম। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, এগুলো এভাবে থাকতে দাও, আমি এগুলো পবিত্রাবস্থায় (অর্থাৎ উযু করে) পরেছি। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এগুলোর উপর মাসাহ্ করলেন। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সওয়ারীর উপর আরোহণ করলেন, আমিও আরোহণ করলাম এবং আমরা একটা দলের কাছে পৌঁছে গেলাম। তখন তারা সলাতে দাড়িয়ে গিয়েছিলেন, আর আব্দুর রহমান ইবন আওফ (রাঃ) তাদের সলাতের ইমামতি করছিলেন এবং তাদের নিয়ে এক রাক’আত সলাত আদায়ও করে ফেলেছিলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর আগমন বুঝতে পেরে তিনি পিছনে সরে আসতে চাইলেন। কিন্তু নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে তার স্থানে (স্থির থাকতে) ইশারা করলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার সাথে দুই রাক’আতের মধ্যে এক রাক’আত সলাত পেলেন। তিনি সালাম ফিরালে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দাঁড়িয়ে গেলেন এবং আমিও তাঁর সাথে দাঁড়িয়ে গেলাম। আর এক রাক’আত ছুটে যাওয়া সলাত আমরা আদায় করলাম। [১]


🔄 লোড হচ্ছে...
ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية