মিশকাতুল মাসাবিহ > তৃতীয় অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ৪৮৬
عن يحى بن عبد الرحمن قال ان عمر خرج فى ركب فيهم عمرو بن العاص حتى وردوا حوضا فقال عمرو يا صاحب الحوض هل ترد حوضك السباع فقال عمر بن الخطاب يا صاحب الحوض لا تخبرنا فانا نرد على السباع وترد علينا. رواه مالك
তিনি বলেন, ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) এক কাফিলার সাথে বের হলেন। এদের মধ্যে ‘আমর ইবনুল ‘আস (রাঃ)–ও ছিলেন। পথ চলতে চলতে তাঁরা একটি হাওযের কাছে পৌঁছলেন। তখন ‘আমর ইবনুল আস (রাঃ) বললেন, হে হাওযের মালিক! তোমার হাওযে হিংস্র জন্তরা ও কি পানি পান করতে আসে? ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) বলেন, হে হাওযের মালিক! আমাদেরকে এ সংবাদ দিও না। এ পানির ঘাটে কখনো আমরা আসি আর কখনো আসে জন্তু জানোয়ার। (তাতে অসুবিধা কী?) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৪৮৭
وزاد رزين قال زاد بعض الرواة فى قول عمر وانى سمعت رسول الله ﷺ يقول لها ما اخذت فى بطونها وما بقى فهو لنا طهور وشراب
এ হাদীসটিকে আরো বৃদ্ধি করে বর্ণনা করে বলেছেনঃ কোন কোন বর্ণনাকারী ‘উমারের কথার মধ্যে এ কথাও উল্লেখ করেছেন, ‘‘আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ তা থেকে জন্তু জানোয়ার পেটে যা নিয়েছে তা তাদের জন্য, আর যা অবশিষ্ট আছে তা আমাদের জন্য পাক-পবিত্র ও পানীয়।
মিশকাতুল মাসাবিহ ৪৮৮
وعن ابى سعيد الخدرى ان رسول الله ﷺ سئل عن الحياض التى بين مكة والمدينة تردها السباع والكلاب والحمر عن الطهور منها فقال لها ما حملت فى بطونها ولنا ما غبر طهور. رواه ابن ماجة
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মক্কা ও মাদীনার মধ্যে অবস্থিত কূপগুলো সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো যে, এসব কূপে জন্তু-জানোয়ার, কুকুর ও গাধা পানি পান করতে আসে। এগুলোর পানি কি পবিত্র? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, জন্তু-জানোয়াররা পেটে যা গ্রহণ করেছে তা তাদের জন্য, আর যা অবশিষ্ট আছে তা আমাদের জন্য পবিত্র। (ইবনু মাজাহ্)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৪৮৯
عن عمر بن الخطاب قال لا تغتسلوا بالماء المشمس فانه يورث البرص. رواه الدار قطنى
তিনি বলেন, রোদে গরম করা পানি দিয়ে গোসল করো না। কারণ এ পানি শ্বেত ও কুষ্ঠ রোগ সৃষ্টি করে। (দারাকুত্বনী)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ > প্রথম অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ৪৯০
عن أبي هريرة قال قال رسول الله ﷺ إذا شرب الكلب في اناء أحدكم فليغتسله سبع مرات. متفق عليه - وفي رواية لمسلم قال طهور اناء أحدكم إذا ولغ فيه الكلب ان يغسله سبع مرات اولاهن بالتراب
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের কারো পাত্রে যখন কুকুর পানি পান করে, তখন সে যেন তা সাতবার ধুয়ে নেয়। [১] মুসলিমের অপর বর্ণনায় আছে, তিনি বলেছেন, তোমাদের কারো পাত্রে কুকুর মুখ দিলে সে যেন তা সাতবার ধুয়ে নেয় এবং এর প্রথমবার মাটি দিয়ে। [2]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৪৯১
وعنه قال قام اعرابى فبال فى المسجد فتناوله الناس فقال لهم النبى ﷺ دعوه وهريقوا على بوله سجلا من ماء او ذنوبا من ماء فانما بعثتم ميسرين ولم تبعثوا معسرين. رواه البخاري
তিনি বলেন, একদিন জনৈক বেদুইন মাসজিদে দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করে দিল। লোকেরা তাকে ঘিরে ধরল। নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদেরকে বললেন, তাকে ছেড়ে দাও এবং প্রস্রাবের উপর এক বালতি পানি ঢেলে দাও। তোমাদের (মানুষের জন্য) সহজ পন্থা অবলম্বনকারী হিসেবে পাঠানো হয়েছে, কঠোরতা সৃষ্টিকারীরূপে নয়। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৪৯২
وعن أنس قال بينما نحن فى المسجد مع رسول الله ﷺ إذ جاء أعرابى فقام يبول فى المسجد فقال اصحاب رسول الله ﷺ مه مه فقال رسول الله ﷺ لا تزرموه دعوه فتركوه حتى بال ثم ان رسول الله ﷺ دعاه فقال له إن هذه المساجد لا تصلح لشيئ من هذا البول والقذر إنما هى لذكر الله والصلاة وقراة القراۤن كما قال رسول الله ﷺ قال وأمر رجلا من القوم فجاء بدلو من ماء فسنه عليه. متفق عليه
তিনি বলেন, একদিন আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে মাসজিদে (নাবাবীতে) ছিলাম। এমন সময় জনৈক বেদুইন এসে মাসজিদে দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করতে লাগল। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সহাবীগণ বলে উঠলেন, থাম, থাম। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, তাকে প্রস্রাব করতে বাধা দিও না, তাকে তার অবস্থায় ছেড়ে দাও। তাই সহাবীগণ তাকে ছেড়ে দিলেন। সে প্রস্রাব করা শেষ করলে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে ডেকে বললেন, এ মাসজিদসমূহে প্রস্রাব ও অপবিত্রকরণের কোন কাজ করা জায়িয নয়। বরং এটা শুধু আল্লাহর যিক্র, সলাত ও কুরআন পাঠের জন্য। (রাবী বলেন) তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঠিক এ বাক্য বা অনুরূপ কিছু বলেছেন। অতঃপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাসজিদে উপস্থিত একজনকে নির্দেশ দিলেন সে এক বালতি পানি এনে (প্রস্রাবের উপর) ঢেলে দিল। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৪৯৩
وعن أسماء بنت أبى بكر قالت سالت إمرأة رسول الله ﷺ فقالت يا رسول الله أرأيت إحدانا إذا أصاب ثوبها الدم من الحيضة كيف تصنع فقال رسول الله ﷺ إذا اصاب ثوب احدكن الدم من الحيضة فلتقرصه ثم لتنضحه بماء ثم لتصل فيه. متفق عليه
তিনি বলেন, একদিন জনৈক মহিলা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রসূল! আমাদের মধ্যে কারও যদি কাপড়ে হায়যের রক্ত লাগে, তখন সে কি করবে? রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তোমাদের কারো কাপড়ে হায়যের রক্ত লেগে গেলে, সে আঙ্গুল দিয়ে তা খুঁটে ফেলবে। অতঃপর পানি ঢেলে ধুয়ে নিবে। তারপর তাতে সলাত আদায় করবে। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৪৯৪
وعن سليمان بن يسار قال سالت عائشة عن المنى يصيب الثوب فقالت كنت اغسله من ثوب رسول الله ﷺ فيخرج الى الصلاة واثر الغسل في ثوبه. متفق عليه
তিনি বলেন, আমি ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-কে কাপড়ে লেগে থাকা মানী (বীর্য) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি [আয়িশাহ্ (রাঃ)] বললেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাপড় থেকে মানী ধুয়ে দিতাম। তারপর তিনি সলাত আদায়ের উদ্দেশে বের হতেন, অথচ তাঁর (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর) কাপড়ে বীর্যের ‘আলামাত দেখা যেত। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৪৯৫
وعن الاسود وهمام عن عائشة قالت كنت افرك المنى من ثوب رسول الله ﷺ. رواه مسلم
উভয়ে বলেন, ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাঃ-এর কাপড় হতে বীর্য খুঁটে তুলে ফেলতাম। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৪৯৬
وبرواية علقمة والاسود عن عائشة نحوه وفيه ثم يصلي فيه
তবে তাতে আরো আছে, “অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সে কাপড় পড়ে সলাত আদায় করতেন। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৪৯৭
وعن ام قيس بنت محصن انها اتت بابن لها صغير لم ياكل الطعام الى رسول الله ﷺ فاجلسه رسول الله ﷺ فى حجره فبال على ثوبه فدعا بماء فنضحه ولم يغسله. متفق عليه
একদিন তিনি তার একটি শিশু নিয়ে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর খিদমাতে উপস্থিত হলেন। (পুত্র শিশুটি মায়ের দুধের বিকল্প খাদ্য গ্রহণে অনুপযুক্ত ছিল)। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে আপন কোলে বসালেন। শিশুটি তাঁর (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কোলে প্রস্রাব করে দিল। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পানি আনালেন, প্রস্রাবের উপর পানি ঢেলে দিলেন, ধুলেন না। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৪৯৮
وعن عبد الله بن عباس قال سمعت رسول الله ﷺ يقول إذا دبغ الاهاب فقد طهر. رواه مسلم
তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ (কাঁচা) চামড়া যখন পাকা (প্রক্রিয়াজাত) করা হয়, তখন তা পাক হয়ে যায়। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৪৯৯
وعنه قال تصدق على مولاة لميمونة بشاة فماتت فمر بها رسول الله ﷺ فقال هلا اخذتم اهابها فدبغتموه فانتفعتم به فقالوا انها ميتة فقال انما حرم اكلها. متفق عليه
তিনি বলেন, (আমার খালা) মায়মূনাহ্ (রাঃ)-এর এক মুক্তদাসীকে একটি বকরী দান করা হল। পরে সেটি মারা গেল। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার নিকট দিয়ে যাবার সময় বললেন, তোমারা বকরীর চামড়াটা খুলে নিয়ে পাকা করলে না, অথচ এটা কাজে লাগাতে পারতে। তারা বলল, এটা যে মৃত! তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, এটা শুধু খাওয়াই হারাম করা হয়েছে। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৫০০
وعن سودة زوج النبي ﷺ قالت ماتت لنا شاة فدبغنا مسكها ثم مازلنا ننبذ فيه حتى صار شنا. رواه البخاري
তিনি বলেন, আমাদের একটি বকরী মারা গেলে আমরা এর চামড়াটা পাকা করলাম। অতঃপর আমরা সব সময় এতে ‘নাবীয’ বানাতে থাকি, যা পরবর্তীতে একটা পুরান মশকে পরিণত হল। [১]