মিশকাতুল মাসাবিহ > প্রথম অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ৪৭৪
عن أبي هريرة قال قال رسول الله ﷺ لا يبولن أحدكم فى الماء الدائم الذى لا يجرى ثم يغتسل فيه. متفق عليه - وفى رواية لمسلم قال لا يغتسل أحدكم فى الماء الدائم وهو جنب قالوا كيف يفعل يا ابا هريرة قال يتناوله تناولا
তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, তোমাদের কেউ যেন (বহমান নয় এমন) বদ্ধ পানিতে প্রসাব না করে। অতঃপর এতে গোসল করে। [১] মুসলিমের অপর বর্ণনায় আছে, রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, তোমাদের কেউ যেন বদ্ধ পানিতে নাপাক অবস্থায় গোসল না করে। লোকেরা জিজ্ঞেস করল, সে কিভাবে করবে, হে আবু হুরায়রাহ্? তিনি বললেন, সে তা থেকে পানি উঠিয়ে নিয়ে গোসল করবে। [2]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৪৭৫
وعن جابر قال نهى رسول ﷺ ان يبال في الماء الراكد. رواه مسلم
তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বদ্ধ পানিতে প্রসাব করতে নিষেধ করেছেন। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৪৭৬
وعن السائب ابن يزيد قال ذهبت بى خالتى الى النبى ﷺ فقالت يا رسول الله ان ابن اختى وجع فمسح راسى ودعا لى بالبركة ثم توضا فشربت من وضوئه ثم قمت خلف ظهره فنظرت الى خاتم النبوة بين كتفيه مثل زر الحجلة. متفق عليه
তিনি বলেন, আমার খালা আমাকে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কাছে নিয়ে গেলেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রসুল! আমার এ বোনপুত্র অসুস্থ। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার মাথায় হাত বুলালেন এবং আমার জন্য বারাকাতের দু’আ করলেন। তারপর তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উযু করলেন। আমি তাঁর উযুর পানি (কিছু) পান করলাম। অতঃপর আমি তাঁর (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর পিছনে দাড়িয়ে তাঁর দুই কাঁধের মধ্যে মশারীর বা পর্দার ঘণ্টির মতো ’মুহুরে নবুওয়াত’ দেখতে লাগলাম। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ > দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ৪৭৭
عن ابن عمر قال سئل رسول الله ﷺ عن الماء يكون فى الفلاة من الارض وما ينوبه من الدواب والسباع فقال إذا كان الماء قلتين لم يحمل الخبث. رواه أحمد وأبو داوٗد والترمذي والنسائـي والدارمي وابن ماجة وفى اخرى لابى داؤد فانه لا ينجس
তিনি বলেন, রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে মাঠে-ময়দানের (জমে থাকা) পানি সম্পর্কে জিজ্ঞাস করা হল। সেখানে বিভিন্ন জাতের জীব - জন্তু ও হিংস্র প্রানী এসে পানি পান করে থাকে (এসব পানি কি পাক-পবিত্র?) তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, দুই কুল্লা পরিমান পানি হলে তা নাপাক হয় না। [১] আবূ দাউদ -এর এর এক বর্ণনার শব্দ হল, ''এ পানি নাপাক হয় না।''
মিশকাতুল মাসাবিহ ৪৭৮
وعن ابى سعيد الخدرى قال قيل يا رسول الله انتوضا من بئر بضاعة وهي بئر يلقى فيها الحيض ولحوم الكلاب والنتن فقال رسول الله ﷺ ان الماء طهور لا ينجسه شىء. رواه أحمد والترمذي وأبو داوٗد والنساۤئى
তিনি বলেন, (রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে একদিন) জিজ্ঞেস করা হলঃ হে আল্লাহ্র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আমরা কি ''বুযা - আহ্'' কূপের পানি দিয়ে উযূ করতে পারি? কেননা এ কূপটিতে হায়যের নেকড়া, মরা কুকুর ও বিভিন্ন ধরনের দুর্গন্ধময় আবর্জনা ফেলা হয়। উত্তরে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, পানি পবিত্র। কোন জিনিসই সেটাকে নাপাক করতে পারে না। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৪৭৯
وعن أبي هريرة قال سال رجل رسول الله ﷺ فقال يا رسول الله انا نركب البحر ونحمل معنا القليل من الماء فان توضانا به عطشنا افنتوضا بماء البحر فقال رسول الله ﷺ هو الطهور ماؤه والحل ميتته. رواه مالك والترمذي وأبو داوٗد والنسائـي وابن ماجة والدارمي
তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আমরা সমুদ্র ভ্রমণে যাই এবং সাথে কিছু মিঠা পানি নিয়ে যাই। তাই এই পানি দিয়ে ওযু করলে খাবার পানির অভাবে আমরা তৃষ্ণার্ত হয়ে পরি। এ অবস্থায় আমরা কি সমুদ্রের (লবানাক্ত) পানী দিয়ে ওজু করতে পারি? তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উত্তর দিলেন সমুদ্রের পানি পবিত্র এবং এর মৃত জীবও হালাল। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৪৮০
وعن ابى زيد عن عبد الله بن مسعود ان النبى ﷺ قال له ليلة الجن ما فى اداوتك قال قلت نبيذ قال تمرة طيبة وماء طهور. رواه أبو داوٗد وزاد أحمد والترمذي فتوضا منه وقال الترمذي أبو زيد مجهول
নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘জিনের রাতে’ তাকে জিঞ্জেস করলেন, তোমার ‘মশকে’ কি আছে? আমি বললাম, ‘নাবীয’। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, খেজুর পাক পানিও পবিত্রকারী। আহমাদ ও তিরমিযী শেষের দিকে বৃদ্ধি করে বলেছেন, এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তা দিয়ে উযু করলেন। [১] তিরমিযী বলেন, আবূ যায়দ একজন মাজহুল (অপরিচিত) লোক।
মিশকাতুল মাসাবিহ ৪৮১
عن علقمة عن عبد الله بن مسعود قال لم أكن ليلة الجن مع رسول الله ﷺ. رواه مسلم
‘আবদুল্লাহ ইব্নু মাস্’উদ (রাঃ) বর্ণনা করেন, ‘আমি জিনের রাতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)–এর সাথে ছিলাম না। [৫০৩] [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৪৮২
وعن كبشة بنت كعب بن مالك وكانت تحت ابن ابى قتادة ان ابا قتادة دخل عليها فسكبت له وضوء فجاءت هرة تشرب منه فاصغى لها الاناء حتى شربت قالت كبشة فرانى انظر إليه فقال اتعجبين با ابنة اخى قالت فقلت نعم فقال ان رسول الله ﷺ قال انها ليست بنجس انها من الطوافين عليكم او الطوافات. رواه مالك وأحمد والترمذي أبو داوٗد والنسائـي وابن ماجة والدارمي
তিনি ছিলেন আবূ ক্বাতাদাহ্ (রাঃ) এর পুত্রবধূ। আবূ ক্বাতাদাহ্ (রাঃ) তার নিকট ছিলেন। তিনি তাঁর জন্য উযুর পানি ঢাললেন। একটি বিড়াল এলো এবং উযূর পাত্র হতে পানি পান করতে লাগল। আর তিনি পাত্রটি তার জন্য কাত করে ধরলেন যে পর্যন্ত পান করা শেষ না হল। কাবশাহ বলেন, তিনি আমার দিকে তাকিয়ে দেখলেন, আমি তাঁর দিকে চেয়ে আছি। তিনি আমাকে বললেন, আমার ভাতিজী! তোমার কাছে আশ্চর্য লাগছে? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, বিড়াল নাপাক নয়। এটা তোমাদের আশে পাশে ঘন ঘন বিচরণকারী বা বিচরণকারিণী। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৪৮৩
وعن داؤد بن صالح بن دينار عن امه ان مولاتها ارسلتها بهريسة الى عائشة قالت فوجدتها تصلى فاشارت الى ان ضعيها فجاءت هرة فاكلت منها فلما انصرفت عائشة من صلاتها اكلت من حيث اكلت الهرة فقالت ان رسول الله ﷺ قال انها ليست بنجس انها من الطوافين عليكم وانى رايت رسول الله صلى الله عليه يتوضا بفضلها. رواه أبو داوٗد
তার (মায়ের) মুক্তিদানকারিণী মুনীব একবার তার মাকে কিছু ‘হারিসাহ্’ নিয়ে ‘আয়িশাহ্’ (রাঃ)-এর নিকট পাঠালেন। তার মা বলেন, আমি গিয়ে তাকে সালাতরত পেলাম। তিনি তখন আমাকে (হাত নিয়ে) ইশারা করলেন, ‘তা রেখে দাও’। তখন একটি বিড়াল এলো এবং তা হতে কিছু খেল। এরপর ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সালাত শেষ করে বিড়ালের খাওয়া স্থান থেকেই খেলেন এবং বললেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ বিড়াল নাপাক নয়। ওটা তোমাদের আশেপাশে ঘন ঘন বিচরণকারী জীব। তিনি [আয়িশাহ্ (রাঃ)] আরো বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)–কে বিড়ালের উচ্ছিষ্ট (পানি) দিয়ে উযু করতে দেখেছি। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৪৮৪
وعن جابر قال سئل رسول الله ﷺ انتوضا بما افضلت الحمر قال نعم وبما افضلت السباع كلها. رواه فى شرح السنة
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)–কে জিঞ্জেস করা হল, আমরা কি গাধার উচ্ছিষ্ট পানি দিয়ে উযূ করতে পারি? তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, হ্যাঁ, বরং সকল হিংস্র জানোয়ারের উচ্ছিষ্ট পানি দিয়েও। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৪৮৫
وعن ام هانىء قالت اغتسل رسول الله ﷺ هو وميمونة فى قصعة فيها اثر العجين. رواه النسآئى وابن ماجة
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও উম্মুল মু’মিনীন মায়মূনাহ্ (রাঃ) একটি গামলার পানি দিয়ে গোসল করেছেন, যাতে আটার খামীরের অবশিষ্ট ছিল। [১]