মিশকাতুল মাসাবিহ > তৃতীয় অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ৪৬৮
عن أم سلمة قالت كان رسول الله ﷺ يجنب ثم ينام ثم ينتبه ثم ينام. رواه احمد
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (আমার বিছানায়) নাপাক হয়ে যেতেন, অতঃপর ঘুমাতেন, আবার জাগতেন, আবার ঘুমাতেন। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৪৬৯
عن شعبة قال إن ابن عباس كان إذا اغتسل من الجنابة يفرغ بيده اليمنى على يده اليسرى سبع مرار ثم يغسل فرجه فنسي مرة كم أفرغ فسألني فقلت لا أدري فقال لا أم لك وما يمنعك أن تدري ثم يتوضأ وضوءه للصلاة ثم يفيض على جلده الماء ثم يقول هكذا كان رسول الله ﷺ يتطهر. رواه أبو داوٗد
তিনি বলেন, ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) নাপাক হলে যখন গোসল করতেন তখন প্রথমে ডান হাত দিয়ে বাম হাতের উপর সাতবার পানি ঢালতেন, তারপর স্বীয় লজ্জাস্থান ধুতেন। একবার তিনি কতবার পানি ঢেলেছেন ভুলে গেলে আমাকে জিজ্ঞেস করলেন। আমি বললাম, আমার স্মরণ নেই। তিনি বললেন, তোমার মায়ের মৃত্যু হোক। স্মরণ রাখতে কে তোমাকে বাধা দিয়েছিল? তারপর তিনি সালাতের উযুর মত উযু করে নিজের সারা শরীরে পানি ঢাললেন এবং বললেন, এভাবে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পবিত্রতা লাভ করতেন। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৪৭০
وعن ابي رافع قال إن رسول الله ﷺ طاف ذات يوم على نسائه يغتسل عند هذه وعند هذه قال قلت له يا رسول الله ألا تجعله غسلا واحدا اۤخرا قال هذا أزكى وأطيب وأطهر. رواه أحمد وأبو داوٗد
তিনি বলেন, একদা রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সকল স্ত্রীর নিকট ঘুরে বেড়ালেন। তিনি এর নিকট একবার, তার নিকট একবার গোসল করলেন। আবু রাফি’ (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রসুল! সবশেষে একবারই মাত্র কেন গোসল করলেন না? তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, প্রত্যেকবার গোসল করা হচ্ছে বেশী পবিত্রতা, বেশী আনন্দদায়ক ও বেশী পরিচ্ছন্নতা। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৪৭১
وعن الحكم بن عمرو قال نهى رسول الله ﷺ أن يتوضأ الرجل بفضل طهور المرأة. رواه أبو داوٗد وابن ماجة والترمذي وزاد أو قال بسؤرها وقال هذا حديث حسن صحيح
রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মহিলাদের উযুর (গোসলের পর) অবশিষ্ট পানি দিয়ে উযু করতে পুরুষদেরকে নিষেধ করেছেন। [১] তিরমিযী এ শব্দগুলো বেশি ব্যবহার করেছেন যে, “তিনি নিষেধ করেছেন যে, মহিলাদের উযুর অবশিষ্ট পানি দিয়ে”। তিরমিযী আরও বলেছেন যে, এ হাদীসটি হাসান ও সহীহ।
মিশকাতুল মাসাবিহ ৪৭২
وعن حميد الحميري قال لقيت رجلا صحب رسول الله ﷺ أربع سنين كما صحبه أبو هريرة قال نهى رسول الله ﷺ أن تغتسل المرأة بفضل الرجل أو يغتسل الرجل بفضل المرأة زاد مسدد وليغترفا جميعا. رواه أبو داوٗد والنسائـي وزاد أحمد في أوله نهى أن يمتشط أحدنا كل يوم أو يبول في مغتسل
তিনি বলেন, আমি এক ব্যক্তির সাক্ষাৎ পেলাম, যিনি চার বছর পর্যন্ত রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাহচর্য লাভ করেছিলেন, যেমন আবু হুরায়রাহ্ (রাঃ) তাঁর সাহচর্য লাভ করেছিলেন। তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিষেধ করেছেন পুরুষের অবশিষ্ট পানি দিয়ে স্ত্রীলোকদের গোসল করতে এবং স্ত্রীলোকদের অবশিষ্ট পানি দিয়ে পুরুষের গোসল করতে। পরবর্তী রাবী মুসাদ্দাদ এ কথা অতিরিক্ত বলেছেন, বরং উভয়েই যেন একই সাথে অঞ্জলি ভরে গোসল করে। [১] ইমাম আহমাদ প্রথম দিকে এ কথা বৃদ্ধি করেছেন, আমাদের প্রত্যেক দিন চুল আঁচড়াতে ও গোসলের জায়গায় প্রসাব করতে তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিষেধ করেছেন। [2]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৪৭৩
ورواه ابن ماجة عن عبد الله بن سرجس
ইবনু মাজাহ্ এ হাদীস বর্ণনা করেছেন ‘আব্দুল্লাহ ইবনু সারজিস (রাঃ) হতে।
মিশকাতুল মাসাবিহ > প্রথম অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ৪৭৪
عن أبي هريرة قال قال رسول الله ﷺ لا يبولن أحدكم فى الماء الدائم الذى لا يجرى ثم يغتسل فيه. متفق عليه - وفى رواية لمسلم قال لا يغتسل أحدكم فى الماء الدائم وهو جنب قالوا كيف يفعل يا ابا هريرة قال يتناوله تناولا
তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, তোমাদের কেউ যেন (বহমান নয় এমন) বদ্ধ পানিতে প্রসাব না করে। অতঃপর এতে গোসল করে। [১] মুসলিমের অপর বর্ণনায় আছে, রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, তোমাদের কেউ যেন বদ্ধ পানিতে নাপাক অবস্থায় গোসল না করে। লোকেরা জিজ্ঞেস করল, সে কিভাবে করবে, হে আবু হুরায়রাহ্? তিনি বললেন, সে তা থেকে পানি উঠিয়ে নিয়ে গোসল করবে। [2]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৪৭৫
وعن جابر قال نهى رسول ﷺ ان يبال في الماء الراكد. رواه مسلم
তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বদ্ধ পানিতে প্রসাব করতে নিষেধ করেছেন। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৪৭৬
وعن السائب ابن يزيد قال ذهبت بى خالتى الى النبى ﷺ فقالت يا رسول الله ان ابن اختى وجع فمسح راسى ودعا لى بالبركة ثم توضا فشربت من وضوئه ثم قمت خلف ظهره فنظرت الى خاتم النبوة بين كتفيه مثل زر الحجلة. متفق عليه
তিনি বলেন, আমার খালা আমাকে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কাছে নিয়ে গেলেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রসুল! আমার এ বোনপুত্র অসুস্থ। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার মাথায় হাত বুলালেন এবং আমার জন্য বারাকাতের দু’আ করলেন। তারপর তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উযু করলেন। আমি তাঁর উযুর পানি (কিছু) পান করলাম। অতঃপর আমি তাঁর (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর পিছনে দাড়িয়ে তাঁর দুই কাঁধের মধ্যে মশারীর বা পর্দার ঘণ্টির মতো ’মুহুরে নবুওয়াত’ দেখতে লাগলাম। [১]