মিশকাতুল মাসাবিহ > দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ৪৫৭
عن ابن عباس قال اغتسل بعض أزواج النبي ﷺ في جفنة فأراد رسول الله ﷺ أن يتوضأ منه فقالت يا رسول الله إني كنت جنبا فقال إن الماء لا يجنب. رواه الترمذي وأبو داوٗد وابن ماجة وروى الدارمي نحوه
তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কোন এক স্ত্রী (মায়মূনাহ্) একটি গামলাতে পানি নিয়ে গোসল করলেন। এ গামলার পানি দিয়ে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উযূ করতে চাইলে পবিত্র স্ত্রী বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমি তো নাপাক ছিলাম (আমি তো এর থেকে পানি উঠিয়ে গোসল করেছি)। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, পানি তো নাপাক হয় না। দারিমীও এরূপই বর্ণনা করেছেন। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৪৫৮
وفى شرح السنة عنه عن ميمونة بلفظ المصابيح
আর শারহে সুন্নাহতেও ইবনু ‘আব্বাস থেকে মায়মূনাহ্-এর সূত্রে মাসাবীহ-এর শব্দে বর্ণনা করেছেন।
মিশকাতুল মাসাবিহ ৪৫৯
وعن عائشة قالت كان رسول الله ﷺ يغتسل من الجنابة ثم يستدفئ بي قبل أن أغتسل. رواه ابن ماجة وروى الترمذي نحوه وفى شرح السنة بلفظ المصابيح
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নাপাকীর পর গোসল করতেন। অতঃপর আমার গোসল করার পূর্বে আমাকে জড়িয়ে ধরে শরীরের গরম অনুভব করতেন। [১] ইমাম তিরমিযীও এরূপই বর্ণনা করেছেন, আর শারহু সুন্নাহতেও মাসাবীহর শব্দে বর্ণনা করা হয়েছে।
মিশকাতুল মাসাবিহ ৪৬০
وعن علي قال كان النبي ﷺ يخرج من الخلاء فيقرئنا القرآن ويأكل معنا اللحم ولم يكن يحجبه أو يحجزه عن القرآن شيء ليس الجنابة. رواه أبو داوٗد والنسائـي وروى ابن ماجة نحوه
তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পায়খানা হতে বেরিয়ে (উযূ করার আগে) আমাদেরকে কুরআন মাজীদ পড়াতেন এবং আমাদের সাথে গোশ্ত খেতেন। নাপাকী ব্যতীত কোন কিছু তাঁকে কুরআন তিলাওয়াত হতে ফিরিয়ে রাখতে পারত না। [১] ইবনু মাজাহ অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
মিশকাতুল মাসাবিহ ৪৬১
وعن ابن عمر قال قال رسول الله ﷺ لا تقرأ الحائض ولا الجنب شيئا من القرآن. رواه الترمذي
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ঋতুবতী স্ত্রীলোক ও নাপাক ব্যক্তি কুরআন মাজীদের কিয়দংশও পড়তে পারবে না। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৪৬২
عن عائشة قالت قال النبي ﷺ وجهوا هذه البيوت عن المسجد فإني لا أحل المسجد لحائض ولا جنب. رواه أبو داوٗد
তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ এসব ঘরের দরজা মাসজিদে নাবাবীর দিক হতে ফিরিয়ে দাও। আমি মাসজিদকে ঋতুবতী মহিলা ও নাপাক ব্যক্তির জন্য জায়িয মনে করি না। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৪৬৩
وعن علي قال قال رسول الله ﷺ لا تدخل الملائكة بيتا فيه صورة ولا كلب ولا جنب. رواه أبو داوٗد والنسائـي
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ঘরে কোন ছবি বা কুকুর বা নাপাক ব্যক্তি থাকে সে ঘরে (রহমাতের) মালাক প্রবেশ করেন না। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৪৬৪
وعن عمار بن ياسر قال قال رسول الله ﷺ ثلاثة لا تقربهم الملائكة جيفة الكافر والمتضمخ بالخلوق والجنب الا أن يتوضأ. رواه أبو داوٗد
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ এমন তিন ব্যক্তি আছে, মালায়িকাহ্ যাদের ধারে কাছেও যান না-(১) কাফিরের মৃতদেহ (২) খালূক্ব ব্যবহারকারী ও (৩) নাপাক ব্যক্তি, উযূ না করা পর্যন্ত। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৪৬৫
وعن عبد الله بن أبي بكر بن محمد بن عمرو بن حزم أن في الكتاب الذي كتبه رسول الله ﷺ لعمرو بن حزم أن لا يمس القرآن الا طاهر. رواه مالك الدار قطني
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘আম্র ইবনু হায্ম-এর কাছে যে চিঠি লিখেছেন তাতে এ কথাও লেখা ছিল যে, পবিত্র লোক ছাড়া যেন কোন ব্যক্তি কুরআন স্পর্শ না করে। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৪৬৬
وعن نافع قال انطلقت مع ابن عمر في حاجة فقضى ابن عمر حاجته وكان من حديثه يومئذ أن قال مر رجل في سكة من السكك فلقي رسول ﷺ وقد خرج من غائط أو بول فسلم عليه فلم يرد عليه حتى إذا كاد الرجل أن يتوارى في السكة ضرب رسول ﷺ بيديه على الحائط ومسح بهما وجهه ثم ضرب ضربة فمسح ذراعيه ثم رد على الرجل السلام وقال إنه لم يمنعني أن أرد عليك السلام الا أني لم أكن على طهر. رواه أبو داوٗد
তিনি বলেন, ইবনু ‘উমার কোন কাজে গেলে আমিও তার সাথে গেলাম। তিনি তাঁর কাজ শেষ করলেন। সেদিন তাঁর কথার মধ্যে এ কথাটি ছিল, তিনি বললেন, এক ব্যক্তি কোন একটি গলি দিয়ে যাচ্ছিল। এ সময় রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রস্রাব বা পায়খানা সেরে বের হলেন। ঐ লোকটির সাথে তাঁর (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দেখা হলে সে সালাম দিল। কিন্তু তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার সালামের উত্তর দিলেন না। লোকটি যখন অন্য গলির দিকে মোড় নিচ্ছিল, তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (তায়াম্মুম করার জন্য) দেওয়ালে দুই হাত মেরে মুখমণ্ডলে মাসেহ করলেন। অতঃপর আবার দেওয়ালে হাত মেরে কনুইসহ দু’হাত মাসাহ করলেন (অর্থাৎ তায়াম্মুম করলেন)। এরপর লোকটির সালামের উত্তর দিলেন এবং বললেন, তোমাকে সালামের উত্তর দিতে পারিনি। কারণ আমি বে-উযূ ছিলাম, এটাই ছিল (তোমার সালামের উত্তর দিতে আমার) বাধা। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৪৬৭
وعن المهاجر بن قنفذ أنه أتى النبي ﷺ وهو يبول فسلم عليه فلم يرد عليه حتى توضأ ثم اعتذر إليه وقال إني كرهت أن أذكر الله الا على طهر. رواه أبو داوٗد وروى النسائي إلى قوله حتى توضأ وقال فلما توضأ رد عليه
তিনি বলেন, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট এলেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তখন প্রস্রাব করছিলেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে সালাম দিলেন। কিন্তু তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (প্রস্রাবের পর) যে পর্যন্ত না উযু করলেন তার সালামের কোন উত্তর দিলেন না। এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ওজর পেশ করে বললেন, উযু না করে আমি আল্লাহর নাম নেয়া পছন্দ করিনি (এ কারনেই তোমার সালামের উত্তর দেইনি)। [১] ইমাম নাসায়ীও এ হাদিসটি বর্ণনা করেছেন, “যে পর্যন্ত উযু না করলেন” বাক্য পর্যন্ত। ওজর পেশ করার কথা তিনি বলেননি। তার স্থানে বর্ণনা করেছেন, যখন উযু করলেন, তার সালামের উত্তর দিলেন। [2]
মিশকাতুল মাসাবিহ > তৃতীয় অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ৪৬৮
عن أم سلمة قالت كان رسول الله ﷺ يجنب ثم ينام ثم ينتبه ثم ينام. رواه احمد
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (আমার বিছানায়) নাপাক হয়ে যেতেন, অতঃপর ঘুমাতেন, আবার জাগতেন, আবার ঘুমাতেন। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৪৬৯
عن شعبة قال إن ابن عباس كان إذا اغتسل من الجنابة يفرغ بيده اليمنى على يده اليسرى سبع مرار ثم يغسل فرجه فنسي مرة كم أفرغ فسألني فقلت لا أدري فقال لا أم لك وما يمنعك أن تدري ثم يتوضأ وضوءه للصلاة ثم يفيض على جلده الماء ثم يقول هكذا كان رسول الله ﷺ يتطهر. رواه أبو داوٗد
তিনি বলেন, ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) নাপাক হলে যখন গোসল করতেন তখন প্রথমে ডান হাত দিয়ে বাম হাতের উপর সাতবার পানি ঢালতেন, তারপর স্বীয় লজ্জাস্থান ধুতেন। একবার তিনি কতবার পানি ঢেলেছেন ভুলে গেলে আমাকে জিজ্ঞেস করলেন। আমি বললাম, আমার স্মরণ নেই। তিনি বললেন, তোমার মায়ের মৃত্যু হোক। স্মরণ রাখতে কে তোমাকে বাধা দিয়েছিল? তারপর তিনি সালাতের উযুর মত উযু করে নিজের সারা শরীরে পানি ঢাললেন এবং বললেন, এভাবে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পবিত্রতা লাভ করতেন। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৪৭০
وعن ابي رافع قال إن رسول الله ﷺ طاف ذات يوم على نسائه يغتسل عند هذه وعند هذه قال قلت له يا رسول الله ألا تجعله غسلا واحدا اۤخرا قال هذا أزكى وأطيب وأطهر. رواه أحمد وأبو داوٗد
তিনি বলেন, একদা রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সকল স্ত্রীর নিকট ঘুরে বেড়ালেন। তিনি এর নিকট একবার, তার নিকট একবার গোসল করলেন। আবু রাফি’ (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রসুল! সবশেষে একবারই মাত্র কেন গোসল করলেন না? তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, প্রত্যেকবার গোসল করা হচ্ছে বেশী পবিত্রতা, বেশী আনন্দদায়ক ও বেশী পরিচ্ছন্নতা। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৪৭১
وعن الحكم بن عمرو قال نهى رسول الله ﷺ أن يتوضأ الرجل بفضل طهور المرأة. رواه أبو داوٗد وابن ماجة والترمذي وزاد أو قال بسؤرها وقال هذا حديث حسن صحيح
রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মহিলাদের উযুর (গোসলের পর) অবশিষ্ট পানি দিয়ে উযু করতে পুরুষদেরকে নিষেধ করেছেন। [১] তিরমিযী এ শব্দগুলো বেশি ব্যবহার করেছেন যে, “তিনি নিষেধ করেছেন যে, মহিলাদের উযুর অবশিষ্ট পানি দিয়ে”। তিরমিযী আরও বলেছেন যে, এ হাদীসটি হাসান ও সহীহ।
মিশকাতুল মাসাবিহ ৪৭২
وعن حميد الحميري قال لقيت رجلا صحب رسول الله ﷺ أربع سنين كما صحبه أبو هريرة قال نهى رسول الله ﷺ أن تغتسل المرأة بفضل الرجل أو يغتسل الرجل بفضل المرأة زاد مسدد وليغترفا جميعا. رواه أبو داوٗد والنسائـي وزاد أحمد في أوله نهى أن يمتشط أحدنا كل يوم أو يبول في مغتسل
তিনি বলেন, আমি এক ব্যক্তির সাক্ষাৎ পেলাম, যিনি চার বছর পর্যন্ত রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাহচর্য লাভ করেছিলেন, যেমন আবু হুরায়রাহ্ (রাঃ) তাঁর সাহচর্য লাভ করেছিলেন। তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিষেধ করেছেন পুরুষের অবশিষ্ট পানি দিয়ে স্ত্রীলোকদের গোসল করতে এবং স্ত্রীলোকদের অবশিষ্ট পানি দিয়ে পুরুষের গোসল করতে। পরবর্তী রাবী মুসাদ্দাদ এ কথা অতিরিক্ত বলেছেন, বরং উভয়েই যেন একই সাথে অঞ্জলি ভরে গোসল করে। [১] ইমাম আহমাদ প্রথম দিকে এ কথা বৃদ্ধি করেছেন, আমাদের প্রত্যেক দিন চুল আঁচড়াতে ও গোসলের জায়গায় প্রসাব করতে তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিষেধ করেছেন। [2]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৪৭৩
ورواه ابن ماجة عن عبد الله بن سرجس
ইবনু মাজাহ্ এ হাদীস বর্ণনা করেছেন ‘আব্দুল্লাহ ইবনু সারজিস (রাঃ) হতে।