মিশকাতুল মাসাবিহ > দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ৪৪১
عن عائشة قالت سئل رسول الله ﷺ عن الرجل يجد البلل ولا يذكر احتلاما قال يغتسل وعن الرجل الذى يرى أنه قد احتلم ولا يجد بللا قال لا غسل عليه قالت أم سليم هل على المرأة ترى ذلك غسل؟ قال نعم إن النساء شقائق الرجال. رواه الترمذي وأبو داوٗد وروى الدارمي وابن ماجة الى قوله لا غسل عليه
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –কে জিজ্ঞেস করা হল, কোন পুরুষ লোক (ঘুম থেকে জেগে শুক্রের) আদ্রতা পেল, অথচ স্বপ্নদোষের কথা তার মনে পড়ছে না। তখন সে কী করবে? তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, সে (ফারয) গোসল করবে। অপরদিকে কোন পুরুষের স্মরণ আছে তার স্বপ্নদোষ হয়েছে অথচ (কাপড়ে শুক্রের) কোন আদ্রতা সে খুঁজে পাচ্ছে না, (তখন সে কী করবে?) তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জবাবে বললেন, তাকে (ফারয) গোসল করতে হবে না। উম্মু সুলায়ম (রাঃ) জিজ্ঞেস করলেন, কোন স্ত্রীলোক যদি এরূপ দেখে তার উপরও কি গোসল ফারয হবে? তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, স্ত্রীলোকরাও পুরুষের মতো। [১] দারিমী ও ইবনু মাজাহ “তাকে গোসল করতে হবে না” পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন।
মিশকাতুল মাসাবিহ ৪৪২
وعنها قالت قال رسول الله ﷺ إذا جاوز الختان الختان فقد وجب الغسل فعلته أنا ورسول الله ﷺ فاغتسلنا. رواه الترمذي وابن ماجة
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ পুরুষের খাতনার জায়গা মহিলার খাতনার জায়গা অতিক্রম করলেই গোসল করা ফারয হয়ে যাবে। তিনি [‘আয়িশাহ্ (রাঃ)] বলেন, আমি ও রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তা করেছি, তারপর দু’জনেই গোসল করেছি। [৪৬৩] [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৪৪৩
وعن أبي هريرة قال قال رسول الله ﷺ تحت كل شعرة جنابة فاغسلوا الشعر وأنقوا البشرة. رواه أبو داوٗد والترمذي وابن ماجة وقال الترمذي هذا حديث غريب والحارث بن وجيه الراوي وهو شيخ ليس بذاك
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ শরীরের প্রত্যেক পশমীর গোড়ায় নাপাকী থাকে। সুতরাং শরীরের পশমগুলোকে ভালভাবে ধুবে এবং চামড়াকে উত্তমভাবে পরিষ্কার করবে। [৪৬৪] ইমাম তিরমিযী বলেছেন এ হাদীসটি গরীব। এর রাবী হারিস ইবনু ওয়াজীহ তেমন গ্রহনযোগ্য নন। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৪৪৪
وعن علي قال قال رسول الله ﷺ من ترك موضع شعرة من جنابة لم يغسلها فعل بها كذا وكذا من النار قال علي فمن ثم عاديت رأسي فمن ثم عاديت رأسي فمن ثم عاديت رأسي ثلاثا. رواه أبو داوٗد وأحمد والدارمي الا أنهما لم يكررا فمن ثم عاديت رأسي
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে লোক নাপাকীর এক চুল পরিমাণও ছেড়ে দিবে এবং তা ধুবে না তাকে এভাবে এভাবে জাহান্নামে ‘আযাব দেয়া হবে। ‘আলী (রাঃ) বললেন, সেদিন হতে আমি আমার মাথার সাথে শত্রুতা করছি। সেদিন হতে আমি আমার মাথার সাথে শত্রুতা করেছি। সেদিন হতে আমি আমার মাথার সাথে শত্রুতা করে আসছি- এরূপ তিনবার বললেন। [৪৬৫] কিন্তু আহমাদ ও দারিমী “সে হতেই আমি আমার মাথার সাথে শত্রুতা করছি” বাক্যটি তিনবার বলেননি। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৪৪৫
عن عائشة قالت كان النبي ﷺ لا يتوضأ بعد الغسل. رواه الترمذي وأبو داوٗد والنسائـي وابن ماجة
তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) গোসলের পর (সলাত বা অন্যান্য ইবাদাতের জন্য নতুন করে) উযূ করতেন না। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৪৪৬
وعنها قالت كان النبي ﷺ يغسل رأسه بالخطمي وهو جنب يجتزئ بذلك ولا يصب عليه الماء. رواه أبو داوٗد
তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফারয গোসলের সময় খিত্বমী দিয়ে নিজের মাথা ধুতেন, অথচ তিনি নাপাক ছিলেন। খিতমী দিয়ে ধৌত করাকেই যথেষ্ট মনে করতেন। মাথায় পানি ঢালতেন না। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৪৪৭
وعن يعلى قال إن رسول الله ﷺ رأى رجلا يغتسل بالبراز فصعد المنبر فحمد الله وأثنى عليه ثم قال إن الله حيي ستير يحب الحياء والتستر فإذا اغتسل أحدكم فليستتر. رواه أبو داوٗد والنسائـي وفى روايته قال ان الله ستير فاذا اراد أحدكم ان يغتسل فليتوار بشيئ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক ব্যক্তিকে উলঙ্গ উন্মুক্ত জায়গায় গোসল করতে দেখলেন এবং (রাগভরে) তিনি মিম্বরে দাঁড়ালেন । প্রথমে আল্লাহর প্রসংশা করলেন, এরপর বলেনঃ আল্লাহ তা’আলা বড় লজ্জাশীল ও পর্দাশীল । তিনি লজ্জাশীলতা ও পর্দা করাকে বেশী পছন্দ করেন । তাই তোমাদের কেউ গোসল করতে গেলে যেন পর্দা অবলম্বন করে। [১] নাসায়ীর এক বর্ণনায় আছে, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলা বড় পর্দাশীল । অতএব তোমাদের কেউ গোসল করতে ইচ্ছে করলে সে যেন কোন কিছু দিয়ে পর্দা করে নেয় ।
মিশকাতুল মাসাবিহ > তৃতীয় অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ৪৪৮
وعن ابى بن كعب قال انما كان الماء من الماء رخصة في اول الاسلام ثم نهى عنها. رواه الترمذي وأبو داوٗد والدارمي
তিনি বলেন, “বীর্যখলন হলেই গোসল ফরয হয়”-এ হুকুম ইসলামের প্রাথমিক অবস্থায় ছিল। এরপর তা বাতিল করে দেয়া হয়েছে। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৪৪৯
وعن علي قال جاء رجل الى النبي ﷺ فقال اني اغتسلت من الجنابة وصليت الفجر فرايت قدر موضع الظفرلم يصبه الماء فقال رسول الله ﷺ لوكنت مسحت عليه بيدك اجزاءك. رواه ابن ماجة
তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর নিকট এসে বলল, আমি ফরয গোসল করেছি এবং ফজরের সলাত আদায় করেছি, এরপর আমি দেখলাম শরীরে নখ পরিমাণ পানি জায়গায় পানি পৌঁছনি। রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, তুমি যদি এ শুকনা জায়গাটা হাত দিয়ে মুছে নিতে তাহলে তোমার জন্য সেটাই যথেষ্ট হত। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৪৫০
وعن ابن عمر قال كانت الصلاة خمسين والغسل من الجنابة سبع مرات وغسل البول من الثوب سبع مرات فلم يزل رسول الله ﷺ يسال حتى جعلت الصلاة خمسا وغسل الجنابة مرة وغسل الثوب من البول مرة. رواه أبو داوٗد
তিনি বলেন, প্রথমে সলাত ফরয ছিল পঞ্চাশ ওয়াক্ত। পবিত্রতার গোসল ছিল সাতবার এবং প্রসাবের কাপড় ধোয়া ছিল সাতবার। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর দরবারে আবেদন করতে থাকেন, অবশেষে সলাত ফরয করা হয় পাঁচ ওয়াক্ত, পবিত্রতার গোসল ফরয করা হয় একবার। এবং প্রসাব হতে কাপড় ধোয়া ফরয করা হয় একবার। [১]