আল্লাহর ভয়ে এবং তাঁর সাক্ষাতের আনন্দে কান্না করার মাহাত্ম্য - রিয়াদুস সলেহিন | হাদীস | কুরআন ও সুন্নাহ

রিয়াদুস সলেহিন > আল্লাহর ভয়ে এবং তাঁর সাক্ষাতের আনন্দে কান্না করার মাহাত্ম্য

রিয়াদুস সলেহিন ৪৫১

وعن أنس، رضي الله عنه ، قال‏:‏ قال رسول الله، صلى الله عليه وسلم، لأبي بن كعب، رضي الله عنه ‏:‏‏ ‏إن الله عز وجل أمرني أن أقرأ عليك‏:‏ لم يكن الذين كفرو‏" ‏ قال‏:‏ وسماني‏؟‏ قال‏:‏ “نعم” فبكى أبي‏‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏ ‏‏ ‏(‏‏(‏وفي رواية‏:‏ فجعل أبي يبكى‏)‏‏)‏‏‏

একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, ‘‘তুমি আমার সামনে কুরআন তিলাওয়াত কর।’’ উত্তরে আমি আরজ করলাম, ‘আমি আপনার সামনে তিলাওয়াত করব, অথচ তা আপনার উপর অবতীর্ণ করা হয়েছে?’ তিনি বললেন, ‘‘আমি অন্যের কাছ থেকে তা শুনতে ভালবাসি।’’ অতএব আমি সূরা ‘নিসা’ তিলাওয়াত করলাম। পরিশেষে যখন আমি এ আয়াতে এসে পৌঁছলাম; যার অর্থ, ‘‘তখন তাদের কী অবস্থা হবে, যখন প্রত্যেক সম্প্রদায় থেকে একজন সাক্ষী (নবী) উপস্থিত করব এবং তোমাকেও তাদের সাক্ষীরূপে উপস্থিত করব?’’ তখন তিনি আমাকে বললেন, ‘‘যথেষ্ট, এবার থাম।’’ আমি তাকিয়ে দেখলাম, তাঁর চক্ষু দু’টি থেকে অশ্রুধারা প্রবাহিত হচ্ছে। (বুখারী ও মুসলিম) [১]


রিয়াদুস সলেহিন ৪৫২

وعنه قال‏:‏ قال أبو بكر لعمر، رضي الله عنهما، بعد وفاة رسول الله، صلى الله عليه وسلم‏:‏ انطلق بنا إلى أم أيمن ، رضي الله عنها، نزورها كما كان يزورها ، فلما انتهينا إليها بكت، فقالا‏:‏ ما يبكيك‏؟‏ أما تعلمين أن ما عند الله تعالى خير لرسول الله، صلى الله عليه وسلم قالت‏:‏ إنى لا أبكي ، أني لا أعلم أن ما عند الله خير لرسول الله صلى الله عليه وسلم ، ولكنى أبكي أن الوحي قد انقطع من السماء، فهيجتهما على البكاء، فجعلا يبكيان معها‏.‏ ‏(‏‏(‏رواه مسلم وقد سبق في باب زيارة أهل الخير‏)‏‏)‏‏.‏

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা এমন ভাষণ দিলেন যে, ওর মত (ভাষণ) কখনোও শুনিনি। (তাতে) তিনি বললেন, ‘‘যা আমি জানি তা যদি তোমরা জানতে, তাহলে তোমরা কম হাসতে এবং অধিক কাঁদতে।’’ (এ কথা শুনে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীগণ তাঁদের চেহারা ঢেকে নিলেন এবং তাদের বিলাপের রোল আসতে লাগল। (বুখারী ও মুসলিম) [১]


রিয়াদুস সলেহিন ৪৫৩

وعن ابن عمر، رضي الله عنهما، قال‏:‏ لما اشتد برسول الله صلى الله عليه وسلم، وجعه، قيل له في الصلاة، فقال‏:‏ مروا أبا بكر فليصل بالناس‏‏ فقالت عائشة، رضي الله عنها ‏:‏ إن أبا بكر رجل رقيق، إذا قرأ القرآن غلبه البكاء، فقال ‏:‏ ‏"‏مروه فليصل‏"‏‏.‏ وفي رواية عن عائشة، رضي الله عنها، قالت‏:‏ قلت‏:‏ إن أبا بكر إذا قام مقامك لم يسمع الناس من البكاء‏.‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏ ‏.‏"

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘সে ব্যক্তি জাহান্নামে প্রবেশ করবে না, যে ব্যক্তি আল্লাহর ভয়ে ক্রন্দন করেছে, যতক্ষণ না (দোহনকৃত) দুধ বাঁটে ফিরে যাবে। (অর্থাৎ দু’টোই অসম্ভব)। আর আল্লাহর রাস্তার ধুলো ও জাহান্নামের ধোঁয়া একত্রিত হবে না।’’ (তিরমিযী, হাসান সহীহ) [১]


রিয়াদুস সলেহিন ৪৫৪

وعن إبراهيم بن عبد الرحمن بن عوف أن عبد الرحمن بن عوف، رضي الله عنه ، أتي بطعام وكان صائما، فقال‏:‏ قتل مصعب بن عمير رضي الله عنه، وهو خير مني، فلم يوجد له ما يكفن به إلا بردة إن غطى بها رأسه بدت رجلاه، وإن غطى بها رجلاه بدا رأسه، ثم بسط لنا من الدنيا ما بسط -أو قال‏:‏ أعطينا من الدنيا ما أعطينا -قد خشينا أن تكون حسناتنا عجلت لنا‏.‏ ثم جعل يبكي حتى ترك الطعام‏.‏ ‏(‏‏(‏رواه البخاري‏)‏‏)‏‏.‏

আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘আল্লাহ তা‘আলা সাত ব্যক্তিকে সেই দিনে তাঁর (আরশের) ছায়া দান করবেন যেদিন তাঁর ছায়া ব্যতীত আর কোন ছায়া থাকবে না; (তারা হল,) ন্যায় পরায়ণ বাদশাহ (রাষ্ট্রনেতা), সেই যুবক যার যৌবন আল্লাহ তা‘আলার ইবাদতে অতিবাহিত হয়, সেই ব্যক্তি যার অন্তর মসজিদসমূহের সাথে লটকে থাকে (মসজিদের প্রতি তার মন সদা আকৃষ্ট থাকে।) সেই দুই ব্যক্তি যারা আল্লাহর সন্তুষ্টিলাভের উদ্দেশ্যে বন্ধুত্ব ও ভালবাসা স্থাপন করে; যারা এই ভালবাসার উপর মিলিত হয় এবং এই ভালবাসার উপরেই চিরবিচ্ছিন্ন (তাদের মৃত্যু) হয়। সেই ব্যক্তি যাকে কোন কুলকামিনী সুন্দরী (ব্যভিচারের উদ্দেশ্যে) আহবান করে, কিন্তু সে বলে, ‘আমি আল্লাহকে ভয় করি।’ সেই ব্যক্তি যে দান করে গোপন করে; এমনকি তার ডান হাত যা প্রদান করে, তা তার বাম হাত পর্যন্তও জানতে পারে না। আর সেই ব্যক্তি যে নির্জনে আল্লাহকে স্মরণ করে; ফলে তার উভয় চোখে পানি বয়ে যায়।’’ (বুখারী-মুসলিম) [১]


রিয়াদুস সলেহিন ৪৫৫

وعن أبي أمامة صدي بن عجلان الباهلي، رضي الله عنه ، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال‏:‏ ‏ ‏ليس شئ أحب إلى الله تعالى من قطرتين وأثرين‏:‏ قطرة دموع من خشية الله، وقطرة دم تهراق في سبيل الله، وأما الأثران‏:‏ فأثر في سبيل الله تعالى، وأثر في فريضة من فرائض الله تعالى‏" ‏ ‏(‏‏(‏رواه الترمذي‏‏وقال حديث حسن‏)‏‏)‏‏‏ وفي الباب أحاديث كثيرة، منها‏‏‏‏

আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এলাম এমতাবস্থায় যে, তিনি নামায পড়ছিলেন এবং তাঁর বুক থেকে চুলার হাঁড়ির (ফুটন্ত পানির) মত কান্নার অস্ফুট রোল শোনা যাচ্ছিল।’ (আবূ দাউদ, বিশুদ্ধ সূত্রে, শামায়েলে তিরমিযী বিশুদ্ধ সূত্রে) [১]


রিয়াদুস সলেহিন ৪৫৬

حديث العرباض بن سارية، رضي الله عنه ، قال‏:‏ وعظنا رسول الله صلى الله عليه وسلم، موعظة وجلت منها القلوب، وذرفت منها العيون‏.‏

একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উবাই ইবনে কা‘ব (রাঃ)-কে বললেন, ‘‘আল্লাহ আমাকে আদেশ করলেন যে, আমি তোমাকে ‘সূরা লাম য়্যাকুনিল্লাযীনা কাফারু’ পড়ে শুনাই।’’ উবাই ইবন কা‘ব বললেন, ‘(আল্লাহ কি) আমার নাম নিয়েছেন?’ তিনি বললেন, ‘‘হ্যাঁ।’’ সুতরাং উবাই (খুশীতে) কেঁদে ফেললেন। অন্য এক বর্ণনায় আছে, উবাই কাঁদতে লাগলেন। (বুখারী ও মুসলিম) [১]


রিয়াদুস সলেহিন ৪৫৭

عن عمرو بن عوف الأنصاري، رضي الله عنه، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم، بعث أبا عبيدة بن الجراح، رضي الله عنه ، إلى البحرين يأتي بجزيتها، فقدم بمال من البحرين ، فسمعت الأنصار بقدوم أبو عبيدة، فوافوا صلاة الفجر مع رسول الله ، صلى الله عليه وسلم فلما صلى رسول الله صلى الله عليه وسلم، انصرف فتعرضوا له ، فتبسم رسول الله، صلى الله عليه وسلم حين رآهم، ثم قال‏:‏ “أظنكم سمعتم أن أبا عبيدة قدم بشئ من البحرين‏؟‏” فقالوا‏:‏ أجل يا رسول الله فقال‏:‏ “أبشروا وأملوا ما يسركم ، فوالله ما الفقر أخشى عليكم، ولكني أخشى أن تبسط الدنيا عليكم كما بسطت على من كان قبلكم، فتنافسوها كما تنافسوها ، فتهلككم كما أهلكتهم” ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏ ‏.‏

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবনাবসানের পর আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ) উমার (রাঃ)-কে বললেন, ‘চলুন, আমরা উম্মে আইমানের সাথে সাক্ষাৎ করতে যাই, যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতে যেতেন।’ সুতরাং যখন তাঁরা উম্মে আইমানের কাছে পৌঁছলেন, তখন তিনি কেঁদে ফেললেন। অতঃপর তাঁরা তাঁকে বললেন, ‘তুমি কাঁদছ কেন? তুমি কি জানো না যে, আল্লাহর কাছে যা রয়েছে, তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য (দুনিয়া থেকে) অধিক উত্তম?’ তিনি উত্তর দিলেন, ‘আমি এ জন্য কান্না করছি না যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য আল্লাহর নিকট যা রয়েছে তা অধিকতর উত্তম, সে কথা আমি জানি না। কিন্তু আমি এ জন্য কাঁদছি যে, আসমান হতে ওহী আসা বন্ধ হয়ে গেল।’ উম্মে আইমান (তাঁর এ দুঃখজনক কথা দ্বারা) ঐ দু’জনকে কাঁদতে বাধ্য করলেন। ফলে তাঁরাও তাঁর সাথে কাঁদতে লাগলেন। (মুসলিম) [১]


রিয়াদুস সলেহিন ৪৫৮

وعن أبي سعيد الخدري، رضي الله عنه ، قال ‏:‏ جلس رسول الله صلى الله عليه وسلم، على المنبر، وجلسنا حوله، فقال‏:‏ ‏‏إن مما أخاف عليكم من بعدي ما يفتح عليكم من زهرة الدنيا وزينتها” ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏ ‏.‏"

যখন (মরণ রোগে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কষ্ট বেড়ে গেল, তখন তাঁকে (জামা‘আত সহকারে) নামায পড়ার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হল। তিনি বললেন, ‘‘তোমরা আবূ বকরকে নামায পড়াতে বল।’’ আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বললেন, ‘আবূ বকর নরম মনের মানুষ, কুরআন পড়লেই তিনি কান্না সামলাতে পারেন না।’ কিন্তু পুনরায় তিনি বললেন, ‘‘তাকে নামায পড়াতে বল।’’ আয়েশা থেকে অন্য এক বর্ণনায় আছে, তিনি বলেন, আমি বললাম, ‘আবূ বকর যখন আপনার জায়গায় দাঁড়াবেন, তখন তিনি কান্নার কারণে লোকদেরকে (কুরআন) শুনাতে পারবেন না।’ (বুখারী ও মুসলিম) [১]


রিয়াদুস সলেহিন ৪৫৯

وعنه أن رسول الله، صلى الله عليه وسلم، قال‏:‏ ‏ ‏إن الدنيا حلوة خضرة وإن الله تعالى مستخلفكم فيها، فينظر كيف تعملون، فاتقوا الدنيا واتقوا النساء‏" ‏ ‏(‏‏(‏رواه مسلم‏)‏‏)‏‏‏

একদিন আব্দুর রহমান ইবনে আওফ রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু-এর কাছে খাবার আনা হল, তখন তাঁর রোযা ছিল। তিনি বললেন, ‘মুস‘আব ইবনে ‘উমাইর রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু শহীদ হলেন। আর তিনি ছিলেন আমার চেয়ে ভাল লোক। (অথচ) তাঁকে কাফন দেওয়ার মত এমন একটি চাদর ভিন্ন অন্য কিছু পাওয়া গেল না, যা দিয়ে তাঁর মাথা ঢাকলে পা দু’টি বের হয়ে যাচ্ছিল এবং পা দু’টি ঢাকলে মাথা বের হয়ে যাচ্ছিল! তারপর আমাদের জন্য পৃথিবীর যে প্রাচুর্য দেওয়া হল, তা হল।' অথবা তিনি বললেন, ‘আমাদেরকে পার্থিব সম্পদ যা দেওয়া হল, তা হল। আমাদের আশংকা হয় যে, আমাদের সৎকর্মের (বিনিময়) আমাদের জন্য ত্বরান্বিত করা হয়েছে। অতঃপর তিনি কাঁদতে লাগলেন, এমনকি খাবারও পরিহার করলেন।’


রিয়াদুস সলেহিন ৪৬০

وعن أنس ، رضي الله عنه، أن النبي، صلى الله عليه وسلم، قال‏:‏”اللهم لا عيش إلا عيش الآخرة‏‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏ ‏.‏"

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘আল্লাহর নিকট দু’টি বিন্দু এবং দু’টি চিহ্ন অপেক্ষা কোনো বস্তু প্রিয় নয়। (এক) ঐ অশ্রু বিন্দু যা আল্লাহর ভয়ে বের হয় (দুই) ঐ রক্ত বিন্দু যা আল্লাহর পথে বহিয়ে দেওয়া হয়।কিন্তু দু’টি চিহ্ন যা আল্লাহর ভয়ে বের হয় (দুই) ঐ রক্ত বিন্দু যা আল্লাহর পথে বহিয়ে দেওয়া হয়।কিন্তু দু’টি চিহ্ন হলঃ (এক) ঐ চিহ্ন যা আল্লাহর পথে (জিহাদ করে) হয় (দুই) আল্লাহর কোনো ফরয কাজ আদায় করে যে চিহ্ন (দাগ) পড়ে।’’ (তিরমিযী, হাসান) এ বিষয়ে আরো হাদীস রয়েছে। তার মধ্যে একটি ‘ইরবায ইবনে সারিয়াহ রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু-এর হাদীস, ‘একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে এমন মর্মস্পর্শী বক্তৃতা শুনালেন যে, তাতে অন্তর ভীত হল এবং চোখ দিয়ে অশ্রু বয়ে গেল।’ যা ১৬১ নম্বরে অতিবাহিত হয়েছে।


রিয়াদুস সলেহিন > দুনিয়াদারি ত্যাগ করার মাহাত্ম্য, দুনিয়া কামানো কম করার প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং দারিদ্রের ফযীলত

রিয়াদুস সলেহিন ৪৬১

وعنه عن رسول الله ، صلى الله عليه وسلم قال‏:‏ “يتبع الميت ثلاثة‏:‏ أهله وماله وعمله‏:‏ فيرجع اثنان ويبقى واحد‏:‏ يرجع أهله وماله ويبقى عمله‏‏‏.‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏ ‏‏‏.‏"

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার আবূ উবাইদাহ ইবনে জার্রাহকে জিযিয়া (ট্যাক্স) আদায় করার জন্য বাহরাইন পাঠালেন। অতঃপর তিনি বাহরাইন থেকে (প্রচুর) মাল নিয়ে এলেন। আনসারগণ তাঁর আগমনের সংবাদ শুনে ফজরের নামাযে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে শরীক হলেন। যখন তিনি নামায পড়ে (নিজ বাড়ি) ফিরে যেতে লাগলেন, তখন তারা তাঁর সামনে এলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে দেখে হেসে বললেন, ‘‘আমার মনে হয়, তোমরা আবূ উবাইদাহ বাহরাইন থেকে কিছু (মাল) নিয়ে এসেছে, তা শুনেছ।’’ তারা বলল, ‘জী হ্যাঁ।’ তিনি বললেন, ‘‘সুসংবাদ গ্রহণ কর এবং তোমরা সেই আশা রাখ, যা তোমাদেরকে আনন্দিত করবে। তবে আল্লাহর কসম! তোমাদের উপর দারিদ্র্য আসবে আমি এ আশংকা করছি না। বরং আশংকা করছি যে, তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতের ন্যায় তোমাদেরও পার্থিব জীবনে প্রশস্ততা আসবে। আর তাতে তোমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে, যেমন তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল। অতঃপর তা তোমাদেরকে ধ্বংস করে দেবে, যেমন তাদেরকে ধ্বংস করে দিয়েছিল।’’


রিয়াদুস সলেহিন ৪৬২

وعنه قال‏:‏ قال رسول الله، صلى الله عليه وسلم ‏:‏ “يؤتى بأنعم أهل الدنيا من أهل النار يوم القيامة، فيصبغ في النار صبغة، ثم يقال‏:‏ يا ابن آدم هل رأيت خيراً قط‏؟‏ هل مر بك نعيم قط‏؟‏ فيقول‏:‏ لا والله يا رب‏.‏ ويؤتى بأشد الناس بؤساً في الدنياً من أهل الجنة، فيصبغ صبغة في الجنة، فيقال له‏:‏ يا ابن آدم هل رأيت بؤساً قط‏؟‏ هل مربك شدة قط‏؟‏ فيقول‏:‏ لا، والله، ما مر بى بؤس قط، ولا رأيت شدة قط‏‏ ‏(‏‏(‏رواه مسلم‏)‏‏)‏‏.‏"

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বরে বসলেন এবং আমরা তাঁর আশেপাশে বসলাম। অতঃপর তিনি বললেন, ‘‘আমি তোমাদের উপর যার আশঙ্কা করছি তা হল এই যে, তোমাদের উপর দুনিয়ার শোভা ও সৌন্দর্য (এর দরজা) খুলে দেওয়া হবে।’’


রিয়াদুস সলেহিন ৪৬৩

وعن المستورد بن شداد رضي الله عنه ، قال‏:‏ قال رسول الله، صلى الله عليه وسلم‏:‏”ما الدنيا في الآخرة، إلا مثل ما يجعل أحدكم أصبعه في اليم، فلينظر بم يرجع‏؟‏‏‏ ‏(‏‏(‏رواه مسلم‏)‏‏)‏‏.‏"

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘দুনিয়া হচ্ছে সুমিষ্ট ও সবুজ শ্যামল এবং আল্লাহ তা‘আলা তোমাদেরকে তাতে প্রতিনিধি করেছেন। অতঃপর তিনি দেখবেন যে, তোমরা কিভাবে কাজ কর। অতএব তোমরা দুনিয়ার ব্যাপারে সাবধান হও এবং সাবধান হও নারীজাতির ব্যাপারে।’’


রিয়াদুস সলেহিন ৪৬৪

وعن جابر، رضي الله عنه أن رسول الله، صلى الله عليه وسلم، مر بالسوق والناس كنفتيه، فمر بجدى أسك ميت، فتناوله، فأخذ بأذنيه، ثم قال‏:‏ ‏‏أيكم يحب أن يكون هذا له بدرهم‏؟‏ ‏"‏ فقالوا‏:‏ ما نحب أنه لنا بشئ ومانصنع به‏؟‏ ثم قال‏:‏ “أتحبون أنه لكم‏؟‏ قالوا‏:‏ والله لو كان حياً كان عيباً؛ أنه أسك‏.‏ فكيف وهو ميت _‏!‏ فقال‏:‏ ‏"‏فوالله للدنيا أهون على الله من هذا عليكم‏"‏ ‏(‏‏(‏رواه مسلم‏)‏‏)‏‏.‏ (25)"

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘হে আল্লাহ! আখেরাতের জীবনই প্রকৃত জীবন।’’


রিয়াদুস সলেহিন ৪৬৫

وعن أبي ذر رضي الله عنه ، قال كنت أمشى مع النبي صلى الله عليه وسلم في حرة بالمدينة ، فاستقبلنا أحد فقال‏:‏ ‏‏يا أبا ذر‏"‏ قلت‏:‏ لبيك يا رسول الله‏.‏ فقال‏:‏ ‏"‏ما يسرني أن عندي مثل أحد هذا ذهبا تمضى علي ثلاثة أيام وعندي منه دينار، إلا شئ أرصده لدين، إلا أن أقول له به في عباد الله هكذا، وهكذا وهكذا‏"‏ عن يمينه وعن شماله ومن خلفه، ثم سار فقال‏:‏ ‏"‏إن الأكثرين هم الأقلون يوم القيامة إلا من قال بالمال هكذا وهكذا وهكذا‏"‏ عن يمينه وعن شماله ومن خلفه‏"‏ وقليل ما هم‏"‏ ثم قال لى ‏"‏مكانك لا تبرح حتى آتيك‏"‏ ثم انطلق في سواد الليل حتى توارى، فسمعت صوتا قد ارتفع ، فتخوفت أن يكون أحد عرض للنبى، صلى الله عليه وسلم، فأردت أن آتيه فذكرت قوله‏:‏ ‏"‏لا تبرح حتى آتيك‏"‏ فلم أبرح حتى أتانى، فقلت ‏:‏ لقد سمعت صوتاً تخوفت منه، فذكرت له، فقال‏:‏ ‏"‏وهل سمعته‏؟‏‏"‏ قلت‏:‏ نعم، قال‏:‏ ‏"‏ذاك جبريل أتانى فقال‏:‏ من مات من أمتك لا يشرك بالله شيئاً دخل الجنة، قلت‏:‏ وإن زنى وإن سرق‏؟‏ قال‏:‏ وإن زنى وإن سرق‏"‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه وهذا لفظ البخاري‏)‏‏)‏‏.‏"

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘তিনটি জিনিস মৃত ব্যক্তির অনুসরণ করে (সঙ্গে যায়)। দাফনের পর দু’টি ফিরে আসে, আর একটি তার সাথেই থেকে যায়। সে তিনটি হল তার পরিবারবর্গ, তার মাল ও তার আমল। দাফনের পর তার পরিবারবর্গ ও মাল ফিরে আসে। আর তার আমল তার সাথেই থেকে যায়।’’


রিয়াদুস সলেহিন ৪৬৬

وعن أبي هريرة رضي الله عنه، عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال‏:‏ ‏ ‏لو كان لي مثل أحد ذهباً، لسرنى أن لا تمر على ثلاث ليال وعندي منه شئ إلا شئ أرصده لدين‏" ‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘কিয়ামতের দিন জাহান্নামীদের মধ্য হতে এমন এক ব্যক্তিকে নিয়ে আসা হবে, যে দুনিয়ার সবচেয়ে সুখী ও বিলাসী ছিল। অতঃপর তাকে জাহান্নামে একবার (মাত্র) চুবানো হবে, তারপর তাকে বলা হবে, ‘হে আদম সন্তান! তুমি কি কখনো ভাল জিনিস দেখেছ? তোমার নিকটে কি কখনো সুখ-সামগ্রী এসেছে?’ সে বলবে, ‘না। আল্লাহর কসম! হে প্রভু!’। আর জান্নাতীদের মধ্য হতে এমন এক ব্যক্তিকে নিয়ে আসা হবে, যে দুনিয়ার সবচেয়ে দুখী ও অভাবী ছিল। তাকে জান্নাতে (মাত্র একবার) চুবানোর পর বলা হবে, ‘হে আদম সন্তান! তুমি কি (দুনিয়াতে) কখনো কষ্ট দেখছ? তোমার উপরে কি কখনো বিপদ গেছে?’ সে বলবে, ‘না। আল্লাহর কসম! আমার উপর কোনদিন কষ্ট আসেনি এবং আমি কখনো কোন বিপদও দেখিনি।’’


রিয়াদুস সলেহিন ৪৬৭

وعنه قال‏:‏ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم انظروا إلى من هو أسفل منكم ولا تنظروا إلى من هو فوقكم فهو أجدر أن لا تزدروا نعمة الله عليكم‏‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه وهذا لفظ مسلم‏)‏‏)‏‏.‏ وفي رواية البخاري‏:‏ ‏"‏إذا نظر أحدكم إلى من فضل عليه في المال والخلق، فلينظر إلى من هو أسفل منه‏"‏‏.‏ وفي رواية البخاري‏:‏ ‏"‏إذا نظر أحدكم إلى من فضل عليه في المال والخلق، فلينظر إلى من هو أسفل منه‏"‏‏.‏"

, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘আখেরাতের মুকাবেলায় দুনিয়ার দৃষ্টান্ত ঐরূপ, যেমন তোমাদের কেউ সমুদ্রে আঙ্গুল ডুবায় এবং (তা বের করে) দেখে যে, আঙ্গুলটি সমুদ্রের কতটুকু পানি নিয়ে ফিরছে।’’


রিয়াদুস সলেহিন ৪৬৮

وعنه عن النبي صلى الله عليه وسلم، قال‏:‏ “تعس عبد الدينار والدرهم والقطيفة والخميصة؛ إن أعطى رضي؛ وإن لم يعط لم يرض‏‏ ‏(‏‏(‏رواه البخاري‏)‏‏)‏‏.‏"

, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাজারের পাশ দিয়ে গেলেন। এমতাবস্থায় যে, তাঁর দুই পাশে লোকজন ছিল। অতঃপর তিনি ছোট কানবিশিষ্ট একটি মৃত ছাগল ছানার পাশ দিয়ে গেলেন। তিনি তার কান ধরে বললেন, ‘‘তোমাদের কেউ কি এক দিরহামের পরিবর্তে এটাকে নেওয়া পছন্দ করবে?’’ তাঁরা বললেন, ‘আমরা কোনো জিনিসের বিনিময়ে এটা নেওয়া পছন্দ করব না এবং আমরা এটা নিয়ে করবই বা কি?’ তিনি বললেন, ‘‘তোমরা কি পছন্দ কর যে, (বিনামূল্যে) এটা তোমাদের হোক?’’ তাঁরা বললেন, ‘আল্লাহর কসম! যদি এটা জীবিত থাকত তবুও সে ছোট কানের কারণে দোষযুক্ত ছিল। এখন তো সে মৃত (সেহেতু একে কে নেবে)?’ তিনি বললেন, ‘‘আল্লাহর কসম! তোমাদের নিকট এই মৃত ছাগল ছানাটা যতটা নিকৃষ্ট, দুনিয়া আল্লাহর নিকট তার চেয়ে বেশি নিকৃষ্ট।’’


রিয়াদুস সলেহিন ৪৬৯

وعنه، رضي الله عنه، قال‏:‏ لقد رأيت سبعين من أهل الصفة، ما منهم رجل عليه رداء، إما إزار وأما كساء، قد ربطوا في أعناقهم، فمنها ما يبلغ نصف الساقين، ومنها ما يبلغ الكعبين، فيجمعه بيده كراهية أن ترى عورته” ‏(‏‏(‏رواه البخاري‏)‏‏)‏‏.‏

তিনি বলেন, আমি (একবার) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে মদীনার কালো পাথুরে যমীনে হাঁটছিলাম। উহুদ পাহাড় আমাদের সামনে পড়ল। তিনি বললেন, ‘‘হে আবূ যার্র! এতে আমি খুশী নই যে, আমার নিকট এই উহুদ পাহাড় সমান স্বর্ণ থাকবে, এ অবস্থায় তিনদিন অতিবাহিত হবে অথচ তার মধ্য হতে একটি দীনারও আমার কাছে অবশিষ্ট থাকবে। অবশ্য তা থাকবে যা আমি ঋণ আদায়ের জন্য বাকী রাখব অথবা আল্লাহর বান্দাদের মাঝে এইভাবে এইভাবে এইভাবে ডানে, বামে ও পিছনে খরচ করব।’’ অতঃপর (কিছু আগে) চলে তিনি বললেন, ‘‘প্রাচুর্যের অধিকারীরাই কিয়ামতের দিন নিঃস্ব হবে। অবশ্য সে নয় যে সম্পদকে (ফোয়ারার মত) এইভাবে এইভাবে এইভাবে ডানে, বামে ও পিছনে ব্যয় করে। কিন্তু এ রকম লোকের সংখ্যা নেহাতই কম।’’ তারপর তিনি আমাকে বললেন, ‘‘তুমি এখানে বসে থাক, যতক্ষণ না আমি তোমার কাছে (ফিরে) এসেছি।’’ এরপর তিনি রাতের অন্ধকারে চলতে লাগলেন, এমনকি শেষ পর্যন্ত তিনি অদৃশ্য হয়ে গেলেন। হঠাৎ আমি এক জোর শব্দ শুনলাম। আমি ভয় পেলাম যে, কোনো শত্রু হয়তো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে পড়েছে। সুতরাং আমি তাঁর নিকট যাওয়ার ইচ্ছা করলাম, কিন্তু তাঁর কথা আমার স্মরণ হল, ‘‘তুমি এখানে বসে থাক, যতক্ষণ না আমি তোমার কাছে (ফিরে) এসেছি।’’ সুতরাং আমি তাঁর ফিরে না আসা পর্যন্ত বসে থাকলাম। (তিনি ফিরে এলে) আমি বললাম, ‘আমি এক জোর শব্দ শুনলাম, যাতে আমি ভয় পেলাম।’ সুতরাং যা শুনলাম আমি তা তাঁর কাছে উল্লেখ করলাম। তিনি বললেন, ‘‘তুমি শব্দ শুনেছিলে?’’ আমি বললাম, ‘জী হ্যাঁ!’ তিনি বললেন, ‘‘তিনি জিব্রাঈল ছিলেন। তিনি আমার কাছে এসে বললেন, ‘আপনার উম্মতের মধ্যে যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক না করে মরবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।’ আমি বললাম, ‘যদিও সে ব্যভিচার করে ও চুরি করে তবুও কি?’ তিনি বললেন, ‘যদিও সে ব্যভিচার করে ও চুরি করে।’’


রিয়াদুস সলেহিন ৪৭০

وعنه قال‏:‏ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏ ‏الدنيا سجن المؤمن وجنة الكافر‏" ‏ ‏(‏‏(‏رواه مسلم‏)‏‏)‏‏‏

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘যদি আমার নিকট উহুদ পাহাড় সমান সোনা থাকত, তাহলে আমি এতে আনন্দিত হতাম যে, ঋণ পরিশোধের পরিমাণ মত বাকী রেখে অবশিষ্ট সবটাই তিন দিন অতিবাহিত না হতেই আল্লাহর পথে খরচ করে ফেলি।’’


রিয়াদুস সলেহিন ৪৭১

وعن ابن عمر، رضي الله عنهما، قال‏:‏ أخذ رسول الله صلى الله عليه وسلم بمنكبي، فقال‏:‏ ‏ ‏كن في الدنيا كأنك غريب، أو عابر سبيل‏" ‏‏‏ وكان ابن عمر، رضي الله عنهما، يقول‏:‏ إذا أمسيت، فلا تنتظر الصباح، وإذا أصبحت لا تنتظر المساء، وخذ من صحتك لمرضك ومن حياتك لموتك‏‏ ‏(‏‏(‏رواه البخاري‏)‏‏)‏‏‏

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘(দুনিয়ার ধন-দৌলত ইত্যাদির দিক দিয়ে) তোমাদের মধ্যে যে নীচে তোমরা তার দিকে তাকাও এবং যে তোমাদের উপরে তার দিকে তাকায়ো না। যেহেতু সেটাই হবে উৎকৃষ্ট পন্থা যে, তোমাদের প্রতি যে আল্লাহর নিয়ামত রয়েছে তা তুচ্ছ মনে করবে না।’’


রিয়াদুস সলেহিন ৪৭২

وعن أبي العباس سهل بن سعد الساعدى، رضي الله عنه، قال‏:‏ جاء رجل إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقال‏:‏ يا رسول الله دلني على عمل إذا عملته أحبني الله، واحبني الناس، فقال‏:‏ “ازهد في الدنيا يحبك الله، وازهد فيما عند الناس يحبك الناس” ‏(‏‏(‏حديث حسن رواه ابن ماجه وغيره بأسانيد حسنة‏)‏‏)‏‏.‏

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘ধ্বংস হোক দীনারের গোলাম, দিরহামের গোলাম ও উত্তম পোশাক-আশাক ও উত্তম চাদরের গোলাম (দুনিয়াদার)! যদি তাকে দেওয়া হয়, তাহলে সে সন্তুষ্ট হয়। আর না দেওয়া হলে অসন্তুষ্ট হয়।’’


রিয়াদুস সলেহিন ৪৭৩

وعن النعمان بن بشير، رضي الله عنهما، قال‏:‏ ذكر عمر ابن الخطاب، رضي الله عنه، ما أصاب الناس من الدنيا، فقال‏:‏ لقد رأيت رسول الله، صلى الله عليه وسلم، يظل اليوم يتلوى ما يجد من الدقل ما يملأ به بطنه‏.‏ ‏(‏‏(‏رواه مسلم‏)‏‏)‏‏.‏ ‏الدقل‏ ‏ بفتح الدال المهملة والقاف‏:‏ ردئ التمر‏.‏

, তিনি বলেন, ‘আমি সত্তরজন (আহলে সুফ্‌ফাকে) এই অবস্থায় দেখেছি, তাদের কারো কাছে (গা ঢাকার) জন্য চাদর ছিল না, কারো কাছে লুঙ্গী ছিল এবং কারো কাছে চাদর, (এক সঙ্গে দু’টি বস্ত্রই কারো কাছে ছিল না) তারা তা গর্দানে বেঁধে নিতেন। অতঃপর সেই বস্ত্র কারো পায়ের অর্ধগোছা পর্যন্ত হত এবং কারো পায়ের গাঁট পর্যন্ত। সুতরাং তাঁরা তা হাত দিয়ে জমা করে ধরে রাখতেন, যেন লজ্জাস্থান দেখা না যায়!’


রিয়াদুস সলেহিন ৪৭৪

وعن عائشة، رضي الله عنها، قالت‏:‏ توفي رسول الله صلى الله عليه وسلم وما في بيتي من شئ يأكله ذو كبد إلا شطر شعير في رف لي، فاكلت منه حتى طال علي، فكلته ففنى، ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏‏ ‏شطر شعير شئ من شعير، كذا فسره الترمذي‏.‏"

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘দুনিয়া মু’মিনের জন্য জেলখানা এবং কাফেরের জন্য জান্নাত।’’


রিয়াদুস সলেহিন ৪৭৫

وعن عمرو بن الحارث أخي الجويرية بنت الحارث أم المؤمنين، رضي الله عنهما، قال‏:‏ ما ترك رسول الله، صلى الله عليه وسلم، عند موته ديناراً ولا درهماً، ولا عبداً، ولا امة، ولا شيئا إلا بغلته البيضاء التى كان يركبها، وسلاحه، وأرضا جعلها لابن السبيل صدقة‏‏ ‏(‏‏(‏رواه البخاري‏)‏‏)‏‏.‏"

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (একদা) আমার দুই কাঁধ ধরে বললেন, ‘‘তুমি এ দুনিয়াতে একজন মুসাফির অথবা পথচারীর মত থাক।’’ আর ইবনে উমার রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু বলতেন, ‘তুমি সন্ধ্যায় উপনীত হলে আর ভোরের অপেক্ষা করো না এবং ভোরে উপনীত হলে সন্ধ্যার অপেক্ষা করো না। তোমার সুস্থতার অবস্থায় তোমার পীড়িত অবস্থার জন্য কিছু সঞ্চয় কর এবং জীবিত অবস্থায় তোমার মৃত্যুর জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ কর।’


রিয়াদুস সলেহিন ৪৭৬

وعن خباب بن الأرت، رضي الله عنه، قال‏:‏ هاجرنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم نلتمس وجه الله تعالى؛ فوقع أجرنا على الله، فمنا من مات ولم يأكل من أجره شيئا، منهم مصعب بن عمير، رضي الله عنه، قتل يوم أحد، وترك نمرة، فكنا إذا غطينا بها رأسه، بدت رجلاه، وإذا غطينا به رجليه، بدا رأسه، فأمرنا رسول الله صلى الله عليه وسلم أن نغطى رأسه، ونجعل على رجليه شيئاً من الإذخر، ومنا من أينعت له ثمرته، فهو يهديها‏.‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏‏.‏ النمرة‏ ‏ ‏:‏ كساء ملون من صوف‏.‏ وقوله‏:‏ ‏ ‏أينعت‏ ‏ أي‏:‏ نضجت وأدركت‏.‏ وقوله ‏ ‏يهديها‏ ‏ وهو بفتح الياء وضم الدال وكسرها، لغتان؛ أي‏:‏ يقطفها ويجتنيها، وهذه استعارة لما فتح الله تعالى عليهم من الدنيا وتمكنوا فيها‏.‏

এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বলল, ‘হে আল্লাহর রসূল! আপনি আমাকে এমন কর্ম বলে দিন, আমি তা করলে যেন আল্লাহ আমাকে ভালবাসেন এবং লোকেরাও আমাকে ভালবাসে।’ তিনি বললেন, ‘‘দুনিয়ার প্রতি বিতৃষ্ণা আনো, তাহলে আল্লাহ তোমাকে ভালবাসবেন। আর লোকদের ধন-সম্পদের প্রতি বিতৃষ্ণা আনো, তাহলে লোকেরা তোমাকে ভালবাসবে।’’


রিয়াদুস সলেহিন ৪৭৭

وعن سهل بن سعد الساعدى، رضي الله عنه، قال‏:‏ قال رسول الله، صلى الله عليه وسلم ‏:‏ ‏ ‏ لو كانت الدنيا تعدل عند الله جناح بعوضة ما سقى كافرا منها شربة ماء‏" ‏‏(‏‏(‏رواه الترمذي ‏‏ وقال حديث حسن صحيح‏)‏‏)‏

, উমার ইবনুল খাত্ত্বাব রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু (পূর্বেকার তুলনায় বর্তমানে) লোকেরা যে দুনিয়ার (ধন-সম্পদ) অধিক জমা করে ফেলেছে সে কথা উল্লেখ করে বললেন, ‘আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি, তিনি সারা দিন ক্ষুধায় থাকার ফলে পেটের উপর ঝুঁকে থাকতেন (যেন ক্ষুধার জ্বালা কম অনুভব হয়)। তিনি পেট ভরার জন্য নিকৃষ্ট মানের খুরমাও পেতেন না।’


রিয়াদুস সলেহিন ৪৭৮

وعن أبي هُرَيْرَة رضي اللَّه عنه ، قال ‏:‏ سمعتُ رسولَ اللَّه صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وسَلَّم يقول ألا إن الدنيا ملعونة، ملعون ما فيها، إلا ذكر الله تعالى، وما والاه، وعالماً ومتعلماً‏‏‏.‏ ‏(‏‏(‏رواه الترمذي وقال‏:‏ حديث حسن‏)‏‏)‏‏.‏ ‏(‏‏(‏رواه الترمذي وقال‏:‏ حديث حسن‏)‏‏)‏‏.‏"

, ‘রাসূলল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলেন যে, তখন একটা প্রাণীর খেয়ে বাঁচার মত কিছু খাদ্য আমার ঘরে ছিল না। তবে আমার তাকের মধ্যে যৎসামান্য যব ছিল। এ থেকে বেশ কিছুদিন আমি খেলাম। কিন্তু যখন একদিন মেপে নিলাম, সেদিনই তা শেষ হয়ে গেল।’


রিয়াদুস সলেহিন ৪৭৯

وعن عَبْدِ اللَّه بنِ مسعودٍ ، رضي اللَّه عنه ، قال ‏:‏ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم‏ ‏ لا تتخذوا الضيعة فترغبوا في الدنيا‏" ‏‏‏ ‏(‏‏(‏رواه الترمذي وقال ‏:‏ حديثٌ حسنٌ ‏)‏‏)‏‏‏

‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মৃত্যুর সময় কোনো দীনার, দিরহাম, ক্রীতদাস, ক্রীতদাসী এবং কোনো জিনিসই ছেড়ে যাননি। তবে তিনি ঐ সাদা খচ্চরটি ছেড়ে গেছেন, যার উপর তিনি সওয়ার হতেন এবং তাঁর হাতিয়ার ও কিছু জমি; যা তিনি মুসাফিরদের জন্য সাদকাহ করে গেছেন।’


রিয়াদুস সলেহিন ৪৮০

وعن عبد الله بن عمرو بن العاص، رضي الله عنهما، قال‏:‏ مر علينا رسول الله، صلى الله عليه وسلم ، ونحن نعالج خصاً لنا فقال‏:‏ ‏‏ ما هذا‏؟‏‏"‏ فقلنا‏:‏ قد وهي، فنحن نصلحه، فقال‏:‏ ‏"‏ ما أرى الأمر إلا أعجل من ذلك‏"‏‏.‏ رواه أبو داود، والترمذي بإسناد البخاري ومسلم، وقال الترمذي‏:‏ ‏(‏‏(‏حديث حسن صحيح‏)‏‏)‏‏.‏"

, ‘আমরা আল্লাহর চেহারা (সন্তুষ্টি) লাভের উদ্দেশ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে (মদীনা) হিজরত করলাম। যার সওয়াব আল্লাহর নিকট আমাদের প্রাপ্য। এরপর আমাদের কেউ এ সওয়াব দুনিয়াতে ভোগ করার পূর্বেই বিদায় নিলেন। এর মধ্যে মুস‘আব ইবনে উমাইর রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু; তিনি উহুদ যুদ্ধে শহীদ হলেন এবং শুধুমাত্র একখানা পশমের রঙিন চাদর রেখে গেলেন। আমরা (কাফনের জন্য) তা দিয়ে তাঁর মাথা ঢাকলে তাঁর পা বেরিয়ে গেল। আর পা ঢাকলে তাঁর মাথা বেরিয়ে গেল। তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে নির্দেশ দিলেন যে, ‘‘তা দিয়ে ওর মাথাটা ঢেকে দাও এবং পায়ের উপর ‘ইযখির’ ঘাস বিছিয়ে দাও।’’ আর আমাদের মধ্যে এমনও লোক রয়েছেন, যাঁদের ফল পেকে গেছে। আর তাঁরা তা সংগ্রহ করছেন।’


রিয়াদুস সলেহিন ৪৮১

وعن كعب بن عياض، رضي الله عنه، وقال سمعت رسول الله، صلى الله عليه وسلم ، يقول‏:‏ ‏ ‏ إن لكل أمة فتنة، وفتنة أمتى المال‏" ‏ ‏(‏‏(‏رواه الترمذي وقال‏:‏ حديث حسن صحيح‏)‏‏)‏‏‏

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘যদি আল্লাহর নিকট মাছির ডানার সমান দুনিয়ার (মূল্য বা ওজন) থাকত, তাহলে তিনি কোন কাফেরকে তার (দুনিয়ার) এক ঢোক পানিও পান করাতেন না।’’


রিয়াদুস সলেহিন ৪৮২

وعن أبي عمرو، ويقال‏:‏ أبو عبد الله‏:‏ ويقال‏:‏ أبو ليلى، عثمان ابن عفان، رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم، قال‏:‏ ‏‏ ليس لابن آدم حق في سوى هذه الخصال‏:‏ بيت يسكنه، وثوب يواري عورته، وجلف الخبز، والماء‏"‏ ‏(‏‏(‏رواه الترمذي وقال‏:‏ حديث صحيح‏)‏‏)‏ ‏.‏ (30)"

, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, ‘‘শোনো! নিঃসন্দেহে দুনিয়া অভিশপ্ত। অভিশপ্ত তার মধ্যে যা কিছু আছে (সবই)। তবে আল্লাহর যিক্‌র এবং তার সাথে সম্পৃক্ত জিনিস, আলেম ও তালেবে-,ইল্‌ম নয়।’’


রিয়াদুস সলেহিন ৪৮৩

وعن عبد الله بن الشخير ‏‏ بسكر الشين والخاء المشددة المعجمتين‏"‏ رضي الله عنه، أنه قال‏:‏ أتيت النبي ، صلى الله عليه وسلم، وهو يقرأ‏:‏ ‏{‏ ألهاكم التكاثر‏}‏ قال‏:‏ ‏"‏ يقول ابن آدم‏:‏ مالي، وهل لك يا ابن آدم من مالك إلا ما أكلت فأفنيت، أو لبست فأبليت، أو تصدقت فأمضيت‏؟‏ ‏!‏‏"‏ ‏(‏‏(‏رواه مسلم‏)‏‏)‏‏.‏"

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘তোমরা জমি-জায়গা, বাড়ি-বাগান ও শিল্প-ব্যবসায়ে বিভোর হয়ে পড়ো না। কেননা, (তাহলে) তোমরা দুনিয়ার প্রতি আসক্ত হয়ে পড়বে।’’


রিয়াদুস সলেহিন ৪৮৪

وعن عبد الله بن مغفل، رضي الله عنه، قال‏:‏ قال رجل للنبي صلى الله عليه وسلم يارسول الله، والله إنى لأحبك، فقال‏:‏ ‏‏ انظر ماذ تقول‏؟‏‏"‏ قال‏:‏ والله إنى لأحبك، ثلاث مرات، فقال‏:‏ ‏"‏ إن كنت تحبنى فأعد للفقر تجفافاً، فإن الفقر أسرع إلى من يحبنى من السيل إلى منتهاه‏"‏ ‏(‏‏(‏رواه الترمذي وقال حديث حسن‏)‏‏)‏‏.‏ (31)"

একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন। এমতাবস্থায় যে, আমরা আমাদের একটি কুঁড়েঘর সংস্কার করছিলাম। তিনি বললেন, ‘‘এটা কী?’’ আমরা বললাম, ‘কুঁড়ে ঘরটি দুর্বল হয়ে ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হয়েছিল, তাই আমরা তা মেরামত করছি।’ তিনি বললেন, ‘‘আমি ব্যাপারটিকে (মৃত্যুকে) এর চাইতেও নিকটবর্তী ভাবছি।’’


রিয়াদুস সলেহিন ৪৮৫

وعن كعب بن مالك، رضي الله عنه قال‏:‏ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏:‏ ‏ ‏ ما ذئبان جائعان أرسلا في غنم بأفسد لها من حرص المرء على المال والشرف، لدينه‏" ‏ ‏(‏‏(‏رواه الترمذي وقال‏:‏ حديث حسن صحيح‏)‏‏)‏‏‏

আমি আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি; ‘‘প্রত্যেক উম্মতের জন্য ফিতনা রয়েছে এবং আমার উম্মতের ফিতনা হচ্ছে মাল।’’


রিয়াদুস সলেহিন ৪৮৬

وعن عبد الله بن مسعود، رضي الله عنه، قال‏:‏ نام رسول الله صلى الله عليه وسلم، على حصير، فقال وقد أثر في جنبه‏.‏ قلنا‏:‏ يا رسول الله لو اتخذنا لك وطاء‏!‏ فقال‏:‏ ‏‏ مالي وللدنيا‏؟‏ ما أنا في الدنيا إلا كراكب استظل تحت شجرة ثم راح وتركها”‏.‏ ‏(‏‏(‏رواه الترمذي وقال‏:‏ حديث حسن صحيح‏)‏‏)‏‏.‏"

নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আদম সন্তানের তিনটি বস্তু ব্যতীত কোন বস্তুর অধিকার নেই। তা হলো: তার বসবাস করার জন্য একটি বাড়ি, শরীর আবৃত করার জন্য কিছু কাপড় এবং কিছু রুটি ও পানি। হাদীসটি তিরমিযী বর্ণনা করে বলেন, এটি সহীহ হাদীস।


রিয়াদুস সলেহিন ৪৮৭

وعن أبي هريرة، رضي الله عنه، قال‏:‏ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم‏:‏ ‏ ‏ يدخل الفقراء الجنة قبل الأغنياء بخمسمائة عام‏" ‏ ‏(‏‏(‏رواه الترمذي وقال‏:‏ جديث حسن صحيح‏)‏‏)‏‏‏

আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এলাম, এমতাবস্থায় যে, তিনি ‘আলহাকুমুত তাকাসুর’ অর্থাৎ প্রাচুর্য্যের প্রতিযোগিতা তোমাদেরকে মোহাচ্ছন্ন করে রেখেছে। (সূরা তাকাসুর) পড়ছিলেন। তিনি বললেন, ‘‘আদম সন্তান বলে, ‘আমার মাল, আমার মাল।’ অথচ হে আদম সন্তান! তোমার কি এ ছাড়া কোন মাল আছে, যা তুমি খেয়ে শেষ করে দিয়েছ অথবা যা তুমি পরিধান করে পুরাতন করে দিয়েছ অথবা সাদকাহ করে (আখেরাতের জন্য) জমা রেখেছ।’’


রিয়াদুস সলেহিন ৪৮৮

وعن ابن عباس، وعمران بن الحصين، رضي الله عنهم، عن النبي ، صلى الله عليه وسلم ‏‏ قال ‏"‏ اطلعت في الجنة فرأيت أكثر أهلها الفقراء، واطلعت في النار فرأيت أكثر أهلها النساء‏"‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه من رواية ابن عباس‏)‏‏)‏‏.‏ ‏(‏‏(‏ورواه البخاري أيضاً من رواية عمران بن الحصين‏)‏‏)‏‏.‏"

একদা এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলল, ‘হে আল্লাহর রসূল! আল্লাহর কসম! আমি নিঃসন্দেহে আপনাকে ভালবাসি।’ তিনি বললেন, ‘‘তুমি যা বলছ, তা চিন্তা করে বল।’’ সে বলল, ‘আল্লাহর কসম! আমি নিঃসন্দেহে আপনাকে ভালবাসি।’ এরূপ সে তিনবার বলল। তিনি বললেন, ‘‘যদি তুমি আমাকে ভালবাসো, তাহলে দারিদ্রের জন্য বর্ম প্রস্তুত রাখো। কেননা, যে আমাকে ভালবাসবে স্রোত তার শেষ প্রান্তের দিকে যাওয়ার চাইতেও বেশি দ্রুতগতিতে দারিদ্র্য তার নিকট আগমন করবে।’’


রিয়াদুস সলেহিন ৪৮৯

وعن أسامة بن زيد، رضي الله عنهما، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال‏:‏ ‏‏قمت على باب الجنة، فكان عامة من دخلها المساكين‏.‏ وأصحاب الجد محبوسون، غير أن أصحاب النار قد أمر بهم إلى النار‏"‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏‏.‏ (32)"

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘ছাগলের পালে দু’টি ক্ষুধার্ত নেকড়ে বাঘকে ছেড়ে দিলে ছাগলের যতটা ক্ষতি করে, তার চেয়ে মানুষের সম্পদ ও সম্মানের প্রতি লোভ-লালসা তার দ্বীনের জন্য বেশী ক্ষতিকারক।’’


রিয়াদুস সলেহিন ৪৯০

وعن أبي هريرة، رضي الله عنه، عن النبي صلى الله عليه وسلم، قال‏:‏ ‏ ‏أصدق كلمة قالها شاعر كلمة لبيد‏:‏ ألا كل شئ ما خلا الله باطل‏" ‏‏‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏‏‏

, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা চাটাই-এর উপর শুলেন। অতঃপর তিনি এই অবস্থায় উঠলেন যে, তাঁর পার্শ্বদেশে তার দাগ পড়ে গিয়েছিল। আমরা বললাম, ‘হে আল্লাহর রসূল! যদি (আপনার অনুমতি হয়, তাহলে) আমরা আপনার জন্য নরম গদি বানিয়ে দিই।’ তিনি বললেন, ‘‘দুনিয়ার সাথে আমার কী সম্পর্ক? আমি তো (এ) জগতে ঐ সওয়ারের মত যে ক্লান্ত হয়ে একটু বিশ্রামের জন্য) গাছের ছায়ায় থামল। পুনরায় সে চলতে আরম্ভ করল এবং ঐ গাছটি ছেড়ে দিল।’’


রিয়াদুস সলেহিন ৪৯১

وعن عائشة، رضي الله عنها ، قالت‏:‏ ما شبع آل محمد، صلى الله عليه وسلم ، من خبز شعير يومين متتابعين حتى قبض‏.‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏‏.‏ وفي رواية‏:‏ ما شبع آل محمد، صلى الله عليه وسلم ، منذ قدم المدينة من طعام البر ثلاث ليال تباعاً حتى قبض‏.‏

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘গরীব মু’মিনরা ধনীদের পাঁচশত বছর পূর্বে জান্নাতে প্রবেশ করবে।’’


রিয়াদুস সলেহিন ৪৯২

وعن عروة عن عائشة، رضي الله عنها، أنها كانت تقول‏:‏ والله يا ابن اختي إن كنا لننظر إلى الهلال، ثم الهلال‏:‏ ثلاثة أهلة في شهرين، وما أوقد في أبيات رسول صلى الله عليه وسلم ، نار‏.‏ قلت‏:‏ يا خالة فما كان يعيشكم‏؟‏ قالت‏:‏ الأسودان‏:‏ التمر والماء، إلا أنه قد كان لرسول الله صلى الله عليه وسلم جيران من الأنصار، وكانت لهم منائح وكانوا يرسلون إلى رسول الله من ألبانها فيسقينا‏.‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏‏.‏

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘আমি বেহেশ্‌তের মধ্যে তাকিয়ে দেখলাম, তার অধিকাংশ অধিবাসীরাই গরীব লোক। আর দোযখের দিকে তাকিয়ে দেখলাম, তার অধিকাংশ অধিবাসীরাই মহিলা।’’


রিয়াদুস সলেহিন ৪৯৩

وعن أبي سعيد المقبري عن أبي هريرة رضي الله عنه، أنه مر بقوم بين أيديهم شاة مصلية، فدعوه فأبي أن يأكل، وقال‏:‏ خرج رسول الله صلى الله عليه وسلم من الدنيا ولم يشبع من خبز الشعير‏.‏ ‏(‏‏(‏رواه البخاري‏)‏‏)‏‏.‏ javascript:opencomment('‏‏ ‏مصلية‏ ‏ بفتح الميم‏:‏ أي‏:‏ مشوية‏.‏ ‏')">(33)" javascript:opencomment('‏‏ ‏مصلية‏ ‏ بفتح الميم‏:‏ أي‏:‏ مشوية‏.‏ ‏')" >(33)

উক্ত হাদীসকে ইমরান ইবনে হুসাইন রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকেও বর্ণনা করেছেন।


রিয়াদুস সলেহিন ৪৯৪

وعن أنس رضي الله عنه، قال‏:‏ لم يأكل النبي صلى الله عليه وسلم على خوان حتى مات، وما أكل خبزاً مرققاً حتى مات‏.‏ ‏(‏‏(‏رواه البخاري‏)‏‏)‏‏.‏ ‏(‏‏(‏ وفي روايه له‏:‏ ولا رأى شاة سميطاً بعينه قط‏)‏‏)‏‏.‏

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘আমি জান্নাতের দুয়ারে দাঁড়িয়ে দেখতে পেলাম, সেখানে অধিকাংশ নিঃস্ব লোক রয়েছে। আর ধনবানরা তখনো (হিসাবের জন্য) অবরুদ্ধ রয়েছে। অথচ দোযখীদেরকে দোযখের দিকে হাঁকিয়ে নিয়ে যাওয়ার আদেশ দেওয়া হয়ে গেছে।’’


রিয়াদুস সলেহিন ৪৯৫

وعن النعمان بن بشير رضي الله عنهما قال‏:‏ لقد رأيت نبيكم صلى الله عليه وسلم ، وما يجد من الدقل ما يملأ به بطنه، ‏(‏‏(‏رواه مسلم‏)‏‏)‏‏.‏ javascript:opencomment('‏‏(‏‏(‏الدقل‏:‏ تمر رديء‏)‏‏)‏‏.‏ ‏')">(34)" javascript:opencomment('‏‏(‏‏(‏الدقل‏:‏ تمر رديء‏)‏‏)‏‏.‏ ‏')" >(34)

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘সবচেয়ে সত্য কথা যা কোন কবি বলেছেন, তা হল লাবীদ (কবির) কথা, (তিনি বলেছেন,) ‘শোনো, আল্লাহ ছাড়া সব কিছুই বাতিল।’’


🔄 লোড হচ্ছে...
ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية