মিশকাতুল মাসাবিহ > দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১২
وعن كثير بن قيس قال كنت جالسا مع ابي الدرداء في مسجد دمشق فجاءه رجل فقال يا ابا الدرداء اني جئتك من مدينة الرسول ﷺ لحديث بلغنى انك تحدثه عن رسول الله ﷺ ما جئت لحاجة قال فانى سمعت رسول الله ﷺ يقول من سلك طريقا يطلب فيه علما سلك الله به طريقا من طرق الجنة وان الملائكة لتضع اجنحتها رضا لطالب العلم وان العالم ليستغفر له من فى السموت ومن فى الارض والحيتان فى جوف الماء وان فضل العالم على العابد كفضل القمر ليلة البدر على سائر الكواكب وان العلماء ورثة الانبياء وان الانبياء لم يورثوا دينارا ولا درهما وانما ورثوا العلم فمن اخذه اخذ بحظ وافر. رواه أحمد والترمذي وأبو داوٗد وابن ماجة والدارمي وسماه الترمذي قيس بن كثير
তিনি বলেন, আমি দিমাশ্ক -এর মাসজিদে আবুদ দারদা (রাঃ)-এর সাথে বসা ছিলাম, এমন সময় তার নিকট একজন লোক এসে বলল, হে আবুদ্ দারদা! আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর শহর মাদীনাহ্ থেকে শুধু একটি হাদীস জানার জন্য আপনার কাছে এসেছি। আমি শুনেছি আপনি নাকি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। এছাড়া আর কোন উদ্দেশে আমি আপনার কাছে আসিনি। তার এ কথা শুনে আবুদ্ দারদা (রাঃ) বললেন, (হাঁ) রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে আমি এ কথা বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি (কুরআন ও হাদীসের) ‘ইলম সন্ধানের উদ্দেশ্যে কোন পথ অবলম্বন করে, আল্লাহ তা’আলা তাকে জান্নাতের পথসমূহের একটি পথে পৌঁছিয়ে দিবেন এবং মালায়িকাহ্ ‘ইল্ম অনুসন্ধানকারীর সন্তুষ্টি এবং পথে তার আরামের জন্য তাদের পালক বা ডানা বিছিয়ে দেন। অতঃপর ‘আলিমদের জন্য আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সকলেই আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা ও দু’আ করে থাকেন, এমনকি পানির মাছসমূহও (ক্ষমা প্রার্থনা করে থাকে)। ‘আলিমদের মর্যাদা মূর্খ ‘ইবাদাতকারীর চেয়ে অনেক বেশী। যেমন পূর্ণিমা চাঁদের মর্যাদা তারকারাজির উপর এবং ‘আলিমগণ হচ্ছে নাবীদের ওয়ারিস। নাবীগণ কোন দীনার বা দিরহাম (ধন-সম্পদ) মীরাস (উত্তরাধিকারী) হিসেবে রেখে যান না। তাঁরা মীরাস হিসেবে রেখে যান শুধু ‘ইল্ম। তাই যে ব্যক্তি ‘ইল্ম অর্জন করেছে সে পূর্ণ অংশ গ্রহণ করেছে।[২২৯] আর তিরমিযী হাদীস বর্ণনাকারীর নাম ক্বায়স বিন কাসীর বলে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু রাবীর নাম কাসীর ইবনু ক্বায়সই এটিই সঠিক (যা মিশকাতের সংকলকও নকল করেছেন)।[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৩
وعن أبي أمامة الباهلي قال ذكر لرسول الله ﷺ رجلان أحدهما عابد والاۤخر عالم فقال رسول الله ﷺ فضل العالم على العابد كفضلي على أدناكم ثم قال رسول الله ﷺ إن الله وملائكته وأهل السموت والأرض حتى النملة في جحرها وحتى الحوت ليصلون على معلم الناس الخير. رواه الترمذي
তিনি বলেন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট দুই ব্যক্তি সম্পর্কে আলোচনা করা হল। এদের একজন ছিলেন ‘আবিদ (‘ইবাদাতকারী), আর দ্বিতীয়জন ছিলেন ‘আলিম (জ্ঞান অনুসন্ধানকারী)। তিনি বললেন, ‘আবিদের উপর ‘আলিমের মর্যাদা হল যেমন আমার মর্যাদা তোমাদের একজন সাধারণ ব্যক্তির উপর। অতঃপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আল্লাহ তা’আলা, তাঁর মালায়িকাহ্ এবং আকাশমণ্ডলী ও জমিনের অধিবাসীরা, এমনকি পিঁপড়া তার গর্তে ও মাছ পর্যন্ত ‘ইল্ম শিক্ষাকারীর জন্য দু’আ করে। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৪
ورواه الدارمي عن مكحول مرسلا ولم يذكر رجلان وقال فضل العالم على العابد كفضلى على ادناكم ثم تلا هذه الاۤية (انما يخشى الله من عباده العلماء) وسرد الحديث الى اۤخره
দারিমী এ হাদীসে মাকহূল (রহঃ) থেকে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং দুই ব্যক্তির কথা উল্লেখ করেননি। আর তিনি বলেছেন, ‘আবিদের তুলনায় ‘আলিমের মর্যাদা এমন, যেমন তোমাদের একজন সাধারণ মানুষের উপর আমার মর্যাদা। এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ কথার প্রমাণে কুরআনের এ আয়াত তিলাওয়াত করলেনঃ (আরবী) “নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে ‘আলিমরাই তাঁকে ভয় করে”- (সূরাহ্ ফাত্বির/মালায়িকাহ্ ৩৫: ৮)। এছাড়া তার হাদীসের অবশিষ্টাংশ তিরমিযীর বর্ণনার অনুরূপ। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৫
وعن ابي سعيد الخدرى قال قال رسول الله ﷺ إن الناس لكم تبع وإن رجالا يأتونكم من أقطار الأرض يتفقهون في الدين فإذا أتوكم فاستوصوبهم خيرا. رواه الترمذي
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ একদা লোকেরা (আমার পরে) তোমাদের অনুসরণ করবে। আর তারা দূর-দূরান্ত হতে দ্বীনের জ্ঞানার্জনের উদ্দেশে তোমাদের কাছে আসবে। সুতরাং তারা তোমাদের নিকট এলে তোমরা তাদেরকে ভাল কাজের (দ্বীনের ‘ইল্মের) নাসীহাত করবে। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৬
وعن أبي هريرة قال قال رسول الله ﷺ الكلمة الحكمة ضالة المؤمن فحيث وجدها فهو أحق بها. رواه الترمذي وابن ماجة وقال الترمذي هذا حديث غريب وإبراهيم بن الفضل الراوي يضعف في الحديث
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ জ্ঞানের কথা মু’মিনের হারানো ধন। সুতরাং মু’মিন যেখানেই তা পাবে সে-ই হবে তার অধিকারী। [১] তিরমিযী বলেছেন, এ হাদীসটি গরীব। তাছাড়াও এর অপর বর্ণনাকারী ইব্রাহীম ইবনু ফায্লকে দুর্বল (য'ঈফ) বলা হয়েছে।
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৭
وعن ابن عباس قال قال رسول الله ﷺ فقيه واحد أشد على الشيطان من ألف عابد. رواه الترمذي وابن ماجة
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ একজন ফাক্বীহ (‘আলিমে দীন) শায়ত্বনের (শয়তানের) কাছে হাজার ‘আবিদ (‘ইবাদাতকারী) হতেও বেশী ভীতিকর। (তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ্)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৮
وعن أنس قال قال رسول الله ﷺ طلب العلم فريضة على كل مسلم وواضع العلم عند غير أهله كمقلد الخنازير الجوهر واللؤلؤ والذهب. رواه ابن ماجة ورواه البيهقى فى شعب الإيمان طلب العلم فريضة على كل مسلم وقال هذا حديث متنه مشهور واسناده ضعيف وقد روى من اوجه كلها ضعيف
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ‘ইলম বা জ্ঞানার্জন করা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য ফরয এবং অপাত্রে তথা অযোগ্য মানুষকে ‘ইলম শিক্ষা দেয়া শুকরের গলায় মণিমুক্তা বা স্বর্ণ পরানোর শামিল।[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১৯
وعن أبي هريرة قال قال رسول الله ﷺ خصلتان لا تجتمعان في منافق حسن سمت ولا فقه في الدين. رواه الترمذي
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুনাফিক্বের মধ্যে দু’টি অভ্যাস একত্র হতে পারে না- নেক চরিত্র ও দ্বীনের সুষ্ঠু জ্ঞান। (তিরমিযী)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২২০
وعن أنس قال قال رسول الله ﷺ من خرج في طلب العلم فهو في سبيل الله حتى يرجع. رواه الترمذي والدارمي
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি জ্ঞানার্জনের জন্য বের হয়েছে, সে ফিরে না আসা পর্যন্ত আল্লাহর পথেই রয়েছে। (তিরমিযী ও দারিমী)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২২১
وعن سخبرة الأزدى قال قال رسول الله ﷺ من طلب العلم كان كفارة لما مضى. رواه الترمذي والدارمي وقال الترمذي هذا حديث ضعيف الإسناد وأبو داوٗد الراوى يضعف
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি জ্ঞানানুসন্ধান করে, তা তার পূর্ববর্তী সময়ের গুনাহের কাফফারাহ্ হয়ে যাবে। (তিরমিযী ও দারিমী)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২২২
وعن أبي سعيدن الخدري قال قال رسول الله ﷺ لن يشبع المؤمن من خير يسمعه حتى يكون منتهاه الجنة. رواه الترمذي
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মু’মিন ব্যক্তি কল্যাণকর কাজে অর্থাৎ- জ্ঞানার্জনে পরিতৃপ্ত হতে পারে না, যে পর্যন্ত না পরিণামে সে জান্নাতে পৌঁছে যায়। (তিরমিযী)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২২৩
وعن أبي هريرة قال قال رسول الله ﷺ من سئل عن علم علمه ثم كتمه ألجم يوم القيامة بلجام من نار. رواه أحمد وأبو داوٗد والترمذي
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তিকে এমন কোন জিনিস সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয় যা সে জানে, অথচ গোপন রাখে (বলে না), ক্বিয়ামাতের (কিয়ামতের) দিন তার মুখে আগুনের লাগাম পরিয়ে দেয়া হবে। (আহমাদ, আবূ দাঊদ ও তিরমিযী)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২২৪
ورواه ابن ماجة عن أنس
এ হাদীসটিকে আনাস (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন।
মিশকাতুল মাসাবিহ ২২৫
وعن كعب بن مالك قال قال رسول الله ﷺ من طلب العلم ليجاري به العلماء أو ليماري به السفهاء أو يصرف به وجوه الناس إليه أدخله الله النار. رواه الترمذي
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি জ্ঞানার্জন করে ‘আলিমদের ওপর গৌরব করার জন্য অথবা জাহিল-মূর্খদের সাথে তর্ক-বিতর্ক করার জন্য অথবা মানুষকে নিজের প্রতি আকৃষ্ট করার জন্য, আল্লাহ তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন। (তিরমিযী)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২২৬
ورواه ابن ماجة عن ابن عمر
এ হাদীসটি ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন।[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২২৭
وعن أبي هريرة قال قال رسول الله ﷺ من تعلم علما مما يبتغى به وجه الله لا يتعلمه الا ليصيب به عرضا من الدنيا لم يجد عرف الجنة يوم القيامة يعني ريحها. رواه أحمد وأبو داوٗد وابن ماجة
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ‘ইল্ম বা জ্ঞান দ্বারা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা যায়, কেউ সে জ্ঞান পার্থিব স্বার্থোদ্ধারের অভিপ্রায়ে অর্জন করলে ক্বিয়ামাতের দিন জান্নাতের সুঘ্রাণও পাবে না। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২২৮
وعن ابن مسعود قال قال رسول الله ﷺ نضر الله امرأ سمع مقالتي فحفظها ووعاها وأداها فرب حامل فقه غير فقيه ورب حامل فقه إلى من هو أفقه منه ثلاث لا يغل عليهن قلب مسلم إخلاص العمل لله والنصيحة للمسلمين ولزوم جماعتهم فإن دعوتهم تحيط من ورائهم. رواه الشافعي والبيهقي في المدخل
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আল্লাহ সে ব্যক্তির মুখ উজ্জ্বল করুন যে আমার কোন কথা শুনেছে, অতঃপর এ কথাকে স্মরণ রেখেছে ও রক্ষা করেছে এবং যা শুনেছে হুবহু তা মানুষের নিকট পৌঁছিয়ে দিয়েছে। কারণ জ্ঞানের অনেক বাহক নিজে জ্ঞানী নয়। আবার কেউ কেউ এমন আছে যারা নিজেরা জ্ঞানী হলেও, নিজের তুলনায় বড় জ্ঞানীর নিকট জ্ঞান বহন করে নিয়ে যায়। তিনটি বিষয়ে মুসলিমের অন্তর বিশ্বাসঘাতকতা (অবহেলা) করতে পারে নাঃ (১) আল্লাহর উদ্দেশে নিষ্ঠার সাথে কাজ করা (২) মুসলিমদের কল্যাণ কামনা করা এবং (৩) মুসলিমের জামা’আতকে আঁকড়ে ধরা। কারণ মুসলিমদের দু’আ বা আহ্বান তাদের পরবর্তী (মুসলিমদেরও) শামিল করে রাখে। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২২৯
ورواه احمد والترمذي وأبو داوٗد وابن ماجة والدارمي عن زيد بن ثابت الا أن الترمذي وأبا داوٗد لم يذكرا ثلاث لا يغل عليهن إلى اخره
আহমাদ, তিরমিযী ও আবূ দাউদ হাদীসটি যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। তবে তিরমিযী ও আবূ দাউদ (আরবী) হতে শেষ পর্যন্ত বর্ণনা করেননি । [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩০
وعن ابن مسعود قال سمعت رسول الله ﷺ يقول نضر الله امرأ سمع منا شيئا فبلغهٗ كما سمعهٗ فرب مبلغ اوعى لهٗ من سامع. رواه الترمذي وابن ماجة
তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি। আল্লাহ তা’আলা সে ব্যক্তির মুখ উজ্জ্বল করুন যে আমার কথা শুনেছে এবং যেভাবে শুনেছে ঠিক সেভাবেই অন্যের কাছে তা পৌঁছে দিয়েছে। অনেক সময় যাকে পৌঁছানো হয় সে শ্রোতা থেকে অধিক স্মরণকারী হয়। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩১
ورواه الدارمى عن أبى الدرداء
এ হাদীসটি দারিমী আবুদ্ দারদা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন । [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩২
وعن ابن عباس قال قال رسول الله ﷺ اتقوا الحديث عني الا ما علمتم فمن كذب علي متعمدا فليتبوأ مقعده من النار. رواه الترمذي
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমার পক্ষ হতে হাদীস বর্ণনার ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করবে। যে পর্যন্ত আমার হাদীস বলে তোমরা নিশ্চিত না হবে, তা বর্ণনা করবে না। কেননা, যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার নামে মিথ্যারোপ করেছে (বর্ণনা করেছে), সে যেন তার ঠিকানা জাহান্নাম নির্ধারণ করে নিয়েছে। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৩
ورواه ابن ماجة عن ابن مسعود وجابر لم يذكر اتقوا الحديث عني الا ما علمتم
ইবনু মাজাহ্ এ হাদীসকে ইবনু মাস’উদ (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন এবং প্রথম অংশ ‘আমার পক্ষ হতে হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করবে’ অংশটুকু বর্ণনা করেননি। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৪
وعن ابن عباس قال قال رسول الله ﷺ من قال فى القراۤن برأيه فليتبوأ مقعدهٗ من النار- وفي رواية من قال فى القراۤن بغير علم فليتبوأ مقعدهٗ من النار. رواه الترمذي
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কুরআনের ব্যাপারে নিজের বুদ্ধি খাটিয়ে কোন মতামত দিয়েছে সে যেন তার বাসস্থান জাহান্নামে তৈরি করে নেয়। অপর এক বর্ণনায় রয়েছে (শব্দগুলো হল), যে লোক কুরআন সম্পর্কে নিশ্চিত ‘ইল্ম ছাড়া (মনগড়া) কোন কথা বলে, সে যেন তার স্থান জাহান্নামে নির্দিষ্ট করে নেয়।[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৫
وعن جندب قال قال رسول الله ﷺ من قال في القراۤن برأيه فأصاب فقد أخطأ. رواه الترمذي وأبو داوٗد
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কুরআন সম্পর্কে নিজের মনগড়া কোন কথা বলল এবং সে সত্যেও উপনীত হল, এরপরও (মনগড়া কথা বলে) সে ভুল করল (কেননা, সে ভুল পন্থা অবলম্বন করেছে)। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৬
وعن أبي هريرة قال قال رسول الله ﷺ المراء في القراۤن كفر. رواه أحمد وأبو داوٗد
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কুরআনের কোন বিষয় নিয়ে ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত হওয়া কুফরী। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৭
وعن عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده قال سمع النبي ﷺ قوما يتدارءون في القراۤن فقال إنما هلك من كان قبلكم بهذا ضربوا كتاب الله بعضه ببعض وإنما نزل كتاب الله يصدق بعضه بعضا فلا تكذبوا بعضه ببعض فما علمتم منه فقولوا وما جهلتم فكلوه إلى عالمه. رواه أحمد وابن ماجة
তাঁর পিতার মাধ্যমে তাঁর দাদা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একটি দল সম্পর্কে শুনলেন, তারা পরস্পর কুরআন নিয়ে বিতর্কে লিপ্ত হয়েছে, ঝগড়া করেছে। তখন তিনি বললেন, নিশ্চয়ই তোমাদের পূর্বেকার লোকেরা এ কারণেই ধ্বংস হয়ে গেছে। তারা আল্লাহর কিতাবের এক অংশকে অন্য অংশের দ্বারা বাতিল করার চেষ্টা করছিল। অথচ আল্লাহর কিতাব অবতীর্ণ হয়েছে তার এক অংশ অপর অংশের পরিপূরক হিসেবে ও সত্যতা প্রমাণ করার জন্য। তাই তোমরা এর এক অংশকে অপর অংশের দ্বারা মিথ্যা প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করো না, বরং তোমরা তার যতটুকু জান শুধু তা-ই বল, আর যা তোমরা জান না তা কুরআনের ‘আলিমের নিকট সোর্পদ কর। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৮
وعن ابن مسعود قال قال رسول الله ﷺ أنزل القراۤن على سبعة أحرف لكل اۤية منها ظهر وبطن ولكل حد مطلع. رواه فى شرح السنة
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কুরআন মাজীদ সাত হরফের সাথে অবতীর্ণ হয়েছে। এর মধ্যে প্রত্যেক আয়াতের প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য দিক রয়েছে। প্রত্যেকটি দিকের একটি ‘হাদ্’ (সীমা) রয়েছে। আর প্রত্যেকটি সীমার একটি অবগতির স্থান রয়েছে। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩৯
وعبد الله بن عمرو قال قال رسول الله ﷺ العلم ثلاثة اۤية محكمة أو سنة قائمة أو فريضة عادلة وما سوى ذلك فهو فضل. رواه أبو داؤد وابن ماجة
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ‘ইলম বা জ্ঞান তিন প্রকার- (১) আয়াতে মুহকামাতের জ্ঞান, (২) সুন্নাতে ক্বায়িমার জ্ঞান এবং (৩) ফারীযায়ে আদিলার জ্ঞান। এর বাইরে যা আছে তা অতিরিক্ত। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪০
وعن عوف بن مالك الأشجعي قال قال رسول الله ﷺ لا يقص الا أمير أو مأمور أو مختال. رواه أبو داؤد
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ [তিন ব্যাক্তি বাগাড়ম্বর করে] (১) শাসক (২) শাসকের পক্ষ হতে নির্দেশপ্রাপ্ত ব্যাক্তি (৩) অথবা কোন অহংকারী লোক। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪১
رواه الدارمى عن عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده وفى روايته او مراء بدل أو مختال
দারিমী এ হাদীসটি ‘আমর ইবনু শু’আয়ব থেকে তার পিতার মাধ্যমে তার দাদা হতে বর্ণনা করেছেন। হাদীসের এ বর্ণনায় শব্দ (আরবী) এর পরিবর্তে (আরবী) উল্লেখ রয়েছে। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪২
وعن أبي هريرة قال قال رسول الله ﷺ من أفتي بغير علم كان إثمه على من أفتاه ومن أشار على أخيه بأمر يعلم أن الرشد في غيره فقد خانه. رواه أبو داوٗد
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যাক্তিকে ভুল ফাতাওয়া দেয়া হয়েছে অর্থাৎ বিনা ‘ইল্মে (বিদ্যায়) ফাতাওয়া দেয়া হয়েছে এর গুনাহ তার উপর বর্তাবে যে তাকে ফাতাওয়া দিয়েছে। আর যে ব্যাক্তি তার কোন ভাইকে (অপরকে) এমন কোন কাজের পরামর্শ দিয়েছে, যা কল্যাণ হবে না বলে সে জানে, সে নিশ্চয়ই তার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪৩
وعن معاوية قال أن نبى ﷺ نهى عن الأغلوطات. رواه أبو داوٗد
তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারী কথাবার্তা বলতে নিষেধ করেছেন। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪৪
وعن أبي هريرة قال قال رسول الله ﷺ تعلموا القراۤن والفرائض وعلموا الناس فإني مقبوض. رواه الترمذي
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা (আমার নিকট হতে) ফারায়িয ও কুরআন শিখে নাও এবং লোকদেরকে তা শিখিয়ে দাও। কারণ আমাকে উঠিয়ে নেয়া হবে (আমার মৃত্যু হবে)। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪৫
وعن أبي الدرداء قال كنا مع رسول الله ﷺ فشخص ببصره إلى السماء ثم قال هذا أوان يختلس العلم من الناس حتى لا يقدروا منه على شيء. رواه الترمذي
তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর (ইন্তিকালের নিকটবর্তী সময়ে তাঁর) সাথে ছিলাম। তিনি আকাশের দিকে দৃষ্টি উঠালেন, অতঃপর বললেন, এটা এমন সময় যখন মানুষের নিকট হতে ‘ইলমকে (দ্বীনী বিদ্যাকে) ছিনিয়ে নেয়া হবে, এমনকি তারা ‘ইলম হতে কিছুই রাখতে পারবে না। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪৬
وعن أبي هريرة رواية يوشك أن يضرب الناس أكباد الإبل يطلبون العلم فلا يجدون أحدا أعلم من عالم المدينة. رواه الترمذي وفي جامعه قال ابن عيينة إنه مالك بن أنس ومثله عن عبد الرزاق قال إسحق بن موسى وسمعت ابن عيينة أنه قال هو العمري الزاهد واسمه عبد العزيز بن عبد الله
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ এমন সময় খুব বেশি দূরে নয় মানুষ যখন জ্ঞানের সন্ধানে উটের কলিজায় আঘাত করবে (অর্থাৎ উটে আরোহণ করে দুনিয়া ঘুরে বেড়াবে)। কিন্তু মদীনার ‘আলিমের চেয়ে বড় কোন ‘আলিম কোথাও খুঁজে পাবে না। [১] জামি’ আত্ তিরমিযীতে ইবনু ‘উআয়নাহ্ হতে বর্ণিত হয়েছে, মাদীনার সে ‘আলিম মালিক ইবনু আনাস। ‘আবদুর রাযযাকও একথা লিখেছেন। আর ইসহাক্ব ইবনু মুসার বর্ণনা হল, আমি ইবনু ‘উআয়নাহকে এ কথা বলতে শুনেছি, মাদীনার সে ‘আলিম হলো ‘উমারী জাহিদ। অর্থাৎ ‘উমার ফারূক (রাঃ)-এর খান্দানের লোক। তার নাম হল ‘আবদুল ‘আযীয ইবনু ‘আবদুল্লাহ।
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪৭
وعنه فيما أعلم عن رسول الله ﷺ قال إن الله عزوجل يبعث لهذه الأمة على رأس كل مائة سنة من يجدد لها دينها. رواه أبو داوٗد
তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে অবগত হয়েছি যে, তিনি বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলা এ উম্মাতের (কল্যাণের) জন্য প্রত্যেক শতাব্দীর শেষে এমন এক ব্যক্তিকে পাঠাবেন যিনি তাদের দীনকে সংস্কার করবেন। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪৮
وعن إبراهيم بن عبد الرحمن العذرى قال قال رسول الله ﷺ يحمل هذا العلم من كل خلف عدوله ينفون عنه تحريف الغالين وانتحال المبطلين وتأويل الجاهلين. رواه البيهقى في مدخله مرسلا وسنذكر حديث جابر : فانما شفاء العى السوال» فى باب التيمم ان شآء الله تعالى
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ প্রত্যেক আগত জামা’আতের মধ্যে নেক তাক্বওয়াসম্পন্ন এবং নির্ভরযোগ্য মানুষ (কিতাব ও সুন্নাহর) এ জ্ঞান গ্রহণ করবেন। আর তিনিই এ জ্ঞানের মাধ্যমে (কুরআন-সুন্নাহ্) সীমালংঘনকারীদের রদবদল, বাতিলপন্থীদের মিথ্যা অপবাদ এবং জাহিল অজ্ঞদের ভুল ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণকে বিদূরিত করবেন। [২৬৪] ইমাম বায়হাক্বী এ হাদীসটি ‘মাদখাল’ গ্রন্থে মুরসালরূপে বর্ণনা করেছেন। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ > তৃতীয় অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪৯
وعن الحسن مرسلا قال قال رسول الله ﷺ من جاءه الموت وهو يطلب العلم ليحيي به الإسلام فبينه وبين النبيين درجة واحدة في الجنة. رواه الدارمي
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ এমন ব্যক্তি যার মৃত্যু এসে পৌঁছেছে এমন অবস্থায়ও ইসলামকে জীবন্ত করার উদ্দেশে ‘ইলম বা জ্ঞানার্জনে মশগুল রয়েছে, জান্নাতে তার সাথে নাবীদের মাত্র একধাপ পার্থক্য থাকবে। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৫০
وعنه مرسلا قال سئل رسول الله ﷺ عن رجلين كانا في بني إسرائيل أحدهما كان عالما يصلي المكتوبة ثم يجلس فيعلم الناس الخير والاۤخر يصوم النهار ويقوم الليل أيهما أفضل قال رسول الله ﷺ فضل هذا العالم الذي يصلي المكتوبة ثم يجلس فيعلم الناس الخير على العابد الذي يصوم النهار ويقوم الليل كفضلي على أدناكم رجلا. رواه الدارمي
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে বানী ইসরাঈলের দু’জন লোক সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হল। তাদের একজন ছিলেল ‘আলিম, যিনি ওয়াক্তিয়া ফারয সালাত আদায় করার পর বসে মানুষকে তা’লীম দিতেন। আর দ্বিতীয়জন দিনে সিয়াম পালন করতেন, গোটা রাত ইবাদাত করতেন (রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞেস করা হল) এ দু’ব্যক্তির মধ্যে মর্যাদার দিক দিয়ে উত্তম কে? রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, ওয়াক্তিয়া ফারয সালাত আদায় করার পরপরই বসে বসে যে ব্যক্তি তা’লীম দেয়, সে ব্যক্তি যে দিনে সিয়াম পালন করে ও রাতে ‘ইবাদাত করে তার চেয়ে তেমন বেশী মর্যাদাবান। যেমন- তোমাদের একজন সাধারণ মানুষের ওপর আমার মর্যাদা। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৫১
وعن علي قال قال رسول الله ﷺ نعم الرجل الفقيه في الدين إن أحتيج إليه نفع وإن استغنى عنه أغنى نفسه. رواه رزين
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ উত্তম ব্যক্তি হল সে, যে দ্বীন ইসলামের জ্ঞান এ সমৃদ্ধ। যদি তার কাছে লোকজন মুখাপেক্ষী হয়ে আসে, তাহলে সে তাদের উপকার সাধন করে। আর যখন তার কাছে মানুষের প্রয়োজন থাকে না, তখন তাকে অন্যের মুখাপেক্ষী হতে হয় না। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৫২
وعن عكرمة عن ابن عباس قال حدث الناس كل جمعة مرة فإن أبيت فمرتين فإن أكثرت فثلاث مرات ولا تمل الناس هذا القراۤن ولا ألفينك تأتي القوم وهم في حديث من حديثهم فتقص عليهم فتقطع عليهم حديثهم فتملهم ولكن أنصت فإذا أمروك فحدثهم وهم يشتهونه وانظر السجع من الدعاء فاجتنبه فإني عهدت رسول الله ﷺ وأصحابه لا يفعلون ذلك. رواه البخاري
‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস(রাঃ) বলেছেনঃ হে ‘ইক্বরিমাহ। প্রত্যেক জুমু’আয় (সপ্তাহে) মাত্র একদিন মানুষকে ওয়ায-নাসীহাত শুনাবে। যদি একবার ওয়ায-নাসীহাত করা যথেষ্ট নয় মনে কর তাহলে সপ্তাহে দু’বার। এর চেয়েও যদি বেশী করতে চাও তাহলে সপ্তাহে তিনবার ওয়ায-নাসীহাত কর। তোমরা এ কুরআনকে মানুষের নিকট বিরক্তিকর করে তুলো না। কোন জাতি যখন তাদের কোন ব্যাপারে আলাপ-আলোচনায় ব্যস্ত থাকে তখন তোমরা সেখানে পৌঁছলে তাদের আলোচনা ভেঙ্গে দিয়ে তাদের কাছে ওয়ায-নাসীহাত করতে যেন আমি কখন তোমাদেরকে না দেখি। এ সময় তোমরা চুপ করে থাকবে। তবে তারা যদি তোমাদেরকে ওয়ায-নাসীহাত করার জন্য বলে তখন তাদের আগ্রহ পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাদেরকে হাদীস শুনাও। কবিতার ছন্দে দু’আ করা পরিত্যাগ করবে এবং এ বিষয়ে সতর্ক থাকবে। কেননা আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর সহাবীগণকে দেখেছি, তারা এরূপ করতেন না। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৫৩
وعن واثلة بن الأسقع قال قال رسول الله ﷺ من طلب العلم وأدركه كان له كفلان من الأجر فإن لم يدركه كان له كفل من الأجر. رواه الدارمي
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি জ্ঞান সন্ধান করেছে ও অর্জন করতে পেরেছে, তার সাওয়াব দুই গুন। আর যদি সে জ্ঞান অর্জন করতে না পেরেও থাকে, তাহলেও তার সাওয়াব (চেষ্টা করার জন্য) এক গুন। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৫৪
وعن أبي هريرة قال قال رسول الله ﷺ إن مما يلحق المؤمن من عمله وحسناته بعد موته علما علمه ونشره وولدا صالحا تركه أو مصحفا ورثه أو مسجدا بناه أو بيتا لابن السبيل بناه أو نهرا أجراه أو صدقة أخرجها من ماله في صحته وحياته تلحقه من بعد موته. رواه ابن ماجة والبيهقى في شعب الايمان
তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ মুমিনের ইন্তিকালের পরও তার যেসব নেক ‘আমল ও নেক কাজের সাওয়াব তার নিকট সবসময় পৌঁছতে থাকবে, তার মধ্যে- (১) ‘ইলম বা জ্ঞান-যা সে শিখেছে এবং প্রচার করেছে; (২) নেক সন্তান-যাকে সে দুনিয়ায় রেখে গেছে; (৩)কুরআন- যা সে উত্তরাধিকারীদের জন্য রেখে গেছে; (৪) মাসজিদ- যা সে নির্মাণ করে গেছে; (৫) মুসাফিরখানা- যা সে পথিক মুসাফিরদের জন্য নির্মাণ করে গেছে; (৬) কূপ বা ঝর্ণা- যা সে খনন করে গেছে মানুষের পানি ব্যবহার করার জন্য এবং (৭) দান-খয়রাত- যা সুস্থ ও জীবিতাবস্থায় তার ধন- সম্পদ থেকে দান করে গেছে। মৃত্যুর পর এসব নেক কাজের সাওয়াব তার তার নিকট পৌঁছতে থাকবে। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৫৫
وعن عائشة أنها قالت سمعت رسول الله ﷺ يقول إن الله عزوجل أوحى إلي أن من سلك مسلكا في طلب العلم سهلت له طريق الجنة ومن سلبت كريمتيه أثبته عليهما الجنة وفضل في علم خير من فضل في عبادة وملاك الدين الورع. رواه البيهقي في شعب الإيمان
তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছিঃ আল্লাহ তা’আলা আমার কাছে ওয়াহী পাঠিয়েছেন, যে ব্যক্তি ‘ইলম (বিদ্যা) হাসিল করার জন্য কন পথ ধরবে আমি তার জন্য জান্নাতের পথ সহজ করে দিব। আর যেই ব্যক্তির দুই চোখ আমি নিয়ে নিয়েছি, তার বিনিময়ে আমি তাকে জান্নাত দান করব। ‘ইবাদাতের পরিমাণ বেশি হবার চেয়ে ‘ইলমের পরিমাণ বেশি হওয়া উত্তম। দ্বীনের মূল হল তাক্বওয়া তথা হারাম ও দ্বিধা-সন্দেহের বিষয় হতে বেঁচে থাকা। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৫৬
وعن ابن عباس قال تدارس العلم ساعة من الليل خير من إحيائها. رواه الدارمي
তিনি বলেন, রাতে সামান্য কিছু সময় দ্বীনের জ্ঞান আলোচনা করা (‘ইবাদাতে রত থাকা) গোটা রাত জাগরণ অপেক্ষা উত্তম। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৫৭
وعن عبد الله بن عمرو أن رسول الله ﷺ مر بمجلسين في مسجده فقال كلاهما على خير وأحدهما أفضل من صاحبه أما هؤلاء فيدعون الله ويرغبون إليه فإن شاء أعطاهم وإن شاء منعهم وأما هؤلاء فيتعلمون الفقه أو العلم ويعلمون الجاهل فهم أفضل وإنما بعثت معلما ثم جلس فيهم. رواه الدارمي
তিনি বলেন, একদা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মসজিদে নবাবীতে অনুষ্ঠিত দুটি মজলিসের কাছ দিয়ে অতিক্রম করলেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, উভয় মজলিসই উত্তম কাজ করছে, কিন্তু এদের এক মাজলিস অন্য মাজলিস অপেক্ষা উত্তম। একটি দল ইবাদাতে লিপ্ত, তারা অবশ্য আল্লাহর নিকট দু'আ করছে এবং আল্লাহর প্রতি তাদের আগ্রহ প্রকাশ করছে। আল্লাহ যদি ইচ্ছা করেন তাদের আশা পূর্ণও করতে পারেন, আবার ইচ্ছা করলে নাও পারেন। আর দ্বিতীয় দলটি হল ফাকীহ ও আলিমদের। তারা ইলম অর্জন করেছে এবং মূর্খদের শিখাচ্ছে, তারাই উত্তম। আর আমাকে শিক্ষকরূপে পাঠানো হয়েছে। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ দলের সাথেই বসে গেলেন।” [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৫৮
وعن أبي الدرداء قال سئل رسول الله ﷺ فقيل يا رسول الله ما حد العلم الذى إذا بلغه الرجل كان فقيها فقال رسول الله ﷺ من حفظ على أمتي أربعين حديثا في أمر دينها بعثه الله فقيها وكنت له يوم القيامة شافعا وشهيدا
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞেস করা হল: হে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! সে ইলমের সীমা কী যাতে পৌছলে একজন লোক ফাকীহ বা আলিম বলে গণ্য হবে? উত্তরে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম): বললেন, যে ব্যক্তি আমার উম্মাতের জন্য দ্বীন সংক্রান্ত চল্লিশটি হাদীস মুখস্থ করেছে, আল্লাহ তা'আলা তাকে কিয়ামাতের দিন ফাকীহ হিসেবে (ক্ববর হতে) উঠাবেন। আর আমি তার জন্য কিয়ামাতের দিন শাফা’আত করব ও তার আনুগত্যের সাক্ষ্য দিব।" [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৫৯
وعن انس بن مالك قال قال رسول الله ﷺ هل تدرون من أجود جودا؟ قالوا الله ورسوله أعلم. قال الله أجود جودا ثم أنا أجود بني اۤدم وأجودهم من بعدي رجل علم علما فنشره يأتي يوم القيامة أميرا وحده أو قال أمة واحده. رواه البيهقى
তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের জিজ্ঞেস করলেন: তোমরা বলতে পার, সর্বাপেক্ষা বড় দানশীল কে? সহাবীগণ উত্তরে বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রসূল সবচেয়ে বেশী জানেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, দান-খয়রাতের ব্যাপারে সবচেয়ে বড় দাতা হলেন আল্লাহ তা'আলা। আর বানী আদামের মধ্যে আমিই সর্বাপেক্ষা বড় দাতা। আর আমার পর বড় দাতা হচ্ছে সে ব্যক্তি, যে ইলম শিক্ষা করবে এবং তা বিস্তার করতে থাকবে। কিয়ামাতের দিন সে একাই একজন “আমীর' অথবা বলেছেন, একটি উম্মাত হয়ে উঠবে।" [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৬০
وعنه أن النبي ﷺ قال منهومان لا يشبعان منهوم في العلم لا يشبع منه ومنهوم في الدنيا لا يشبع منها. رواه البيهقي في شعب الإيمان وقال : قال الإمام أحمد هذا متن مشهور فيما بين الناس وليس له إسناد صحيح
নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: দুজন লোভী ব্যক্তির পেট কখনো পরিতৃপ্তি লাভ করে না। একজন জ্ঞানপিপাসু লোক- ইলম দ্বারা তার পেট কখনো ভরে না। দ্বিতীয়জন হল দুনিয়া পিপাসু- দুনিয়ার ব্যাপারে সেও কখনো পরিতৃপ্ত হয় না।" [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৬১
وعن عون قال قال عبد الله بن مسعود منهومان لا يشبعان صاحب العلم وصاحب الدنيا ولا يستويان أما صاحب العلم فيزداد رضا للرحمن وأما صاحب الدنيا فيتمادى في الطغيان ثم قرأ عبد الله (كلا إن الإنسان ليطغى أن راۤه استغنى) قال وقال الاۤخر (إنما يخشى الله من عباده العلماء). رواه الدارمي
তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) বলেছেন: দুই পিপাসু ব্যক্তি কক্ষনো পরিতৃপ্ত হয় না। তার একজন হলেন ‘আলিম আর অপরজন দুনিয়াদার। কিন্তু এ দু'জনের মর্যাদা সমান নয়। কেননা ‘আলিম ব্যক্তি, তার প্রতি তো আল্লাহর সস্তুষ্টি বৃদ্ধি পেতে থাকে। আর দুনিয়াদার তো (ধীরে ধীরে) আল্লাহর অবাধ্যতার পথে অগ্রসর হতে থাকে। অতঃপর আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) দুনিয়াদার ব্যক্তি সম্পর্কে কুরআনের আয়াত তিলাওয়াত করেন: - (আরবী) "কক্ষনো নয়, নিশ্চয় মানুষ নিজকে (ধনে জনে সম্মানে) স্বয়ংসম্পূর্ণ ভেবে আল্লাহর অবাধ্যতা করতে থাকে।" (সূরাহ আল ‘আলাকু ৯৬:৬-৭) বর্ণনাকারী বলেন, অপর ব্যক্তি ‘আলিম সম্পর্কে তিনি এ আয়াত তিলাওয়াত করলেন: (আরবী) "আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে নিশ্চয় ‘আলিমরাই তাকে ভয় করে" (সূরাহ ফাত্বির ৩৫:২৮) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৬২
وعن ابن عباس قال قال رسول الله ﷺ إن أناسا من أمتي سيتفقهون في الدين ويقرءون القراۤن ويقولون نأتي الأمراء فنصيب من دنياهم ونعتزلهم بديننا ولا يكون ذلك كما لا يجتنى من القتاد الا الشوك كذلك لا يجتنى من قربهم الا قال محمد بن الصباح كأنه يعني الخطايا. رواه ابن ماجة
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) : বলেছেন : সেদিন বেশি দূরে নয় যখন আমার উম্মাতের কতক লোক দ্বীনের ইলম অর্জনে তৎপর হবে ও কুরআন অধ্যয়ন করবে। তারা বলবে, আমরা আমীর-উমরাদের কাছে যাবো এবং তাদের পার্থিব স্বার্থে কিছু ভাগ বসিয়ে আমাদের দ্বীন নিয়ে আমরা সরে পড়ব। কিন্তু তা কখনো হবার নয়। যেমন কাটাঁর গাছ থেকে শুধু কাটাঁই পাওয়া যায়, কোন ফল লাভ করা যায় না। ঠিক এভাবে আমীর-উমরাদের নৈকট্য দ্বারা। মুহাম্মাদ ইবনু সাব্বাহ (রহঃ) বলেন, গুনাহ ছাড়া কিছু অর্জিত হয় না।" [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৬৩
وعن عبد الله بن مسعود قال لو أن أهل العلم صانوا العلم ووضعوه عند أهله لسادوا به أهل زمانهم ولكنهم بذلوه لأهل الدنيا لينالوا به من دنياهم فهانوا عليهم سمعت نبيكم ﷺ من جعل الهموم هما واحدا هم آخرته كفاه الله هم دنياه ومن تشعبت به الهموم في أحوال الدنيا لم يبال الله في أي أوديتها هلك. رواه ابن ماجة
তিনি বলেন, ‘আলিমগণ যদি ইলমের হিফাযাত ও মর্যাদা রক্ষা করতেন, উপযুক্ত ও যোগ্য লোকেদের কাছে ইলম সোপর্দ করতেন, তাহলে নিশ্চয়ই তারা তাদের ‘ইলমের কারণে নিজেদের যুগের লোকেদের নেতৃত্ব করতে পারতেন। কিন্তু তারা তা দুনিয়াদারদের কাছে বিলিয়ে দিয়েছেন, যাতে তারা তাদের কাছ থেকে দুনিয়ার কিছু স্বার্থ লাভ করতে পারেন। তাই তারা দুনিয়াদারদের কাছে মর্যাদাহীন হয়ে পড়েছেন। আমি তোমাদের নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে এ কথা বলতে শুনেছি : যে ব্যক্তি নিজের সমস্ত চিন্তাকে এক মাকসুদ, অর্থাৎ শুধুমাত্র আখিরাতের চিন্তায় নিবদ্ধ করে নিবে- আল্লাহ তার দুনিয়ার যাবতীয় মাকসুদ পূরণ করে দিবেন। অপরদিকে যাকে দুনিয়ার নানা দিক ব্যতিব্যস্ত করে রাখবে, তার জন্য আল্লাহর কোন পরওয়াই নেই, চাই সে কোন জঙ্গলে (দুনিয়ায় যে কোন অবস্থায়) ধ্বংস হোক না কেন।” [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৬৪
ورواه البيهقي فى شعب الإيمان عن ابن عمر من قوله : من جعل الهموم إلى اۤخره
বায়হাক্বী এ হাদীসকে শু'আবুল ঈমানে ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে তার বক্তব্য হিসেবে শেষ পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন।” [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৬৫
وعن الأعمش قال قال رسول الله ﷺ اۤفة العلم النسيان وإضاعته أن تحدث به غير أهله. رواه الدارمي مرسلا
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: ইলমের জন্য বিপদ হল (ইলম শিখে) তা ভুলে যাওয়া। অযোগ্য লোক ও অপাত্রে ইলমের কথা বলা বা জ্ঞান দেয়া ইলমকে ধ্বংস করার সমতুল্য। দারিমী মুরসালরূপে বর্ণনা করেছেন।” [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৬৬
وعن سفيان أن عمر بن الخطاب رضى الله عنه قال لكعب من أرباب العلم قال الذين يعملون بما يعلمون قال فما أخرج العلم من قلوب العلماء قال الطمع. رواه الدارمي
উমর ইবনুল খাত্ত্বাব (রাঃ) কা‘ব (রহঃ)-কে জিজ্ঞেস করলেন, প্রকৃত ‘আলিম কারা? কাব (রহঃ) বললেন, যারা অর্জিত ‘ইলম অনুযায়ী আমাল করে। উমার (রাঃ) পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, ‘আলিমের অন্তর থেকে ইলমকে বের করে দেয় কোন্ জিনিস? কা'ব (রহঃ) বললেন, (সম্মান ও সম্পদের) লোভ-লালসা" [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৬৭
وعن الأحوص بن حكيم عن أبيه قال سأل رجل النبي ﷺ عن الشر فقال لا تسألوني عن الشر واسألوني عن الخير يقولها ثلاثا ثم قال ألا إن شر الشر شرار العلماء وإن خير الخير خيار العلماء. رواه الدارمي
তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে মন্দ (লোক) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল। তিনি বললেন, আমাকে মন্দ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করো না, বরং ভাল সম্পর্কে জিজ্ঞেস কর। এ কথাটি তিনি তিনবার বললেন। অতঃপর তিনি বললেন, সাবধান! খারাপ মানুষের মধ্যে নিকৃষ্ট হচ্ছে মন্দ ‘আলিম। আর ভাল মানুষের মধ্যে সবচেয়ে ভাল হল ভাল ‘আলিমরা। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৬৮
وعن أبي الدرداء قال إن من أشر الناس عند الله منزلة يوم القيامة عالما لا ينتفع بعلمه. رواه الدارمي
তিনি বলেন, ক্বিয়ামাতের দিন আল্লাহর নিকট মর্যাদার দিক দিয়ে সর্বাধিক মন্দ সে ব্যক্তি হবে, যে তার ‘ইলমের দ্বারা উপকৃত হতে পারেনি। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৬৯
وعن زياد بن حدير قال قال لي عمر هل تعرف ما يهدم الإسلام؟ قلت لا قال يهدمه زلة العالم وجدال المنافق بالكتاب وحكم الأئمة المضلين. رواه الدارمي
তিনি বলেন, একদা ‘উমার (রাঃ) আমাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ তুমি কি বলতে পারো ইসলাম ধ্বংস করবে কোন জিনিসে? আমি বললাম, আমি বলতে পারি না। তখন তিনি [‘উমার (রাঃ)] বললেন, আলিমদের পদঙ্খলন, আর আল্লাহর কিতাব কুরআন নিয়ে মুনাফিক্বদের ঝগড়া-বিবাদ বা তর্ক-বিতর্কে লিপ্ত হওয়া এবং পথভ্রষ্ট শাসকদের শাসনই ইসলামকে ধ্বংস করবে। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৭০
وعن الحسن قال العلم علمان فعلم في القلب فذلك العلم النافع وعلم على اللسان فذلك حجة الله عزوجل على ابن اۤدم. رواه الدارمي
তিনি বলেন, ‘ইলম দুই প্রকার। এক প্রকার ইলম হল অন্তরে যা উপকারি ‘ইলম। আর অপর প্রকার ‘ইলম হল মুখে মুখে, আর এটা হল আল্লাহর পক্ষে বানী আদামের বিরুদ্ধে দলীল। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৭১
وعن أبي هريرة قال حفظت من رسول الله ﷺ وعاءين فأما أحدهما فبثثته فيكم وأما الآخر فلو بثثته قطع هذا البلعوم يعنى مجرى الطعام. رواه البخاري
তিনি বলেন, আমি রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে দুই পাত্র (দুই প্রকারের ’ইলম) শিখেছি। এর মধ্যে এক পাত্র আমি তোমাদের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়েছি, কিন্তু অপর পাত্রের ‘ইলম- তা যদি আমি তোমাদেরকে বলে দেই তাহলে আমার এ গলা কাটা যাবে। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৭২
وعن عبد الله يا أيها الناس من علم شيئا فليقل به ومن لم يعلم فليقل الله أعلم فإن من العلم أن يقول لما لا يعلم الله أعلم قال الله تعالى لنبيه قل ما أسألكم عليه من أجر وما أنا من المتكلفين. متفق عليه
তিনি বলেন, হে লোক সকল! যে যা জানে সে যেন তা-ই যেন বলে। আর যে জানেনা সে যেন বলে আল্লাহই সবচেয়ে ভাল জানেন। কারন যে ব্যাপারে তোমার কিছু জানা নেই সে ব্যাপারে “আল্লাহই অধিকতর জ্ঞাত আছেন” এ কথা ঘোষনাই তোমার জ্ঞান। (কুরআনে) আল্লাহ তা’আলা তার নাবীকে বলেছেনঃ “আপনি বলুন আমি (দীন প্রচারের বিনিময়ে) তোমাদের কাছে কোন পারিশ্রমিক চাই না। আর যারা মিথ্যা দাবী করে আমি তাদের অন্তর্ভুক্ত নই”-(সুরাহ সোয়াদ ৮৮: ৮৬)। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৭৩
وعن ابن سيرين قال إن هذا العلم دين فانظروا عمن تأخذون دينكم. رواه مسلم
তিনি বলেন, নিশ্চয়ই এ (সানাদের) ‘ইলম হচ্ছে দীন। অতএব তোমরা লক্ষ্য রাখবে যে, তোমাদের দ্বীন কার নিকট থেকে গ্রহন করছো? [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৭৪
وعن حذيفة قال يا معشر القراء استقيموا فقد سبقتم سبقا بعيدا فإن أخذتم يمينا وشمالا لقد ضللتم ضلالا بعيدا. رواه البخاري
তিনি (তাবি’ঈদের উদ্দেশ্যে) বলেন, হে কুরআন-ধারী (‘আলিম) গন! সোজা সরল পথে চল। কেননা (প্রথমে দ্বীন গ্রহন করার দরুন পরবর্তীদের তুলনায়) তোমরা অনেক অগ্রসর হয়েছে। অপরপক্ষে তোমরা যদি (সরল পথ বাদ দিয়ে) ডান ও বামের পথ অবলম্বন কর, তাহলে পথভ্রষ্ট হয়ে সুদুর বিভ্রান্তিতে পতিত হবে। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৭৫
وعن أبي هريرة قال قال رسول الله ﷺ تعوذوا بالله من جب الحزن؟ قالوا يا رسول الله وما جب الحزن قال واد في جهنم يتعوذ منه جهنم كل يوم اربع مائة مرة قيل يا رسول الله ومن يدخلها قال القراء المراؤن باعمالهم. رواه الترمذي وكذا ابن ماجة وزاد فيه وان من ابغض القراء الى الله تعالى الذين يزورون الامراء قال المحاربى يعنى الجورة
তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, তোমরা ‘জুব্বুল হুযুন’ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাও। সহাবীগন জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রসুল! ‘জুব্বুল হুযুন’ কি? তিনি বললেন, এটা হল জাহান্নামের মধ্যে একটি গর্ত। এ গর্ত হতে বাচার জন্য জাহান্নামও দৈনিক চারশ বার আল্লাহর কাছে আশ্রয় চায়। সহাবীগন জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রসুল! এতে (এ গর্তে) কারা যাবে? তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, যারা দেখানোর উদ্দেশ্যে ‘আমাল ও কুরআন অধ্যয়ন করে থাকে। তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ মুকাদ্দামাহ, ইবনু মাজার অপর এক বর্ননায় আছেঃ রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ কথাও বলেছেন, কুরআন অধ্যনকারী (‘আলিম)-গনের মধ্যে তারাই আল্লহর নিকট সর্বাপেক্ষা ঘৃনিত, যারা আমীর-ওমরাহদের সাথে বেশী বেশী সাক্ষাত বা মেলামেশা করে। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৭৬
وعن علي قال قال رسول الله ﷺ يوشك ان ياتى على الناس زمان لا يبقى من الإسلام الا اسمه ولا يبقى من القراۤن الا رسمه مساجدهم عامرة وهى خراب من الهدى علماءهم شر من تحت اديم السماء من عندهم تخرج الفتنة وفيهم تعود. رواه البيهقى في شعب الايمان
তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ শীঘ্রই মানুষের উপর এমন এক যুগ আসবে, যখন শুধু নাম ব্যাতীত ইসলামের আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। সেদিন কুরআনের অক্ষরই শুধু অবশিষ্ট থাকবে। তাদের মাসজিদ্ গুলোতো বাহ্যিকভাবে আবাদ হতে থাকবে, কিন্তু হিদায়াতশুন্য থাকবে। তাদের ‘আলিমগন হবে আকাশের নিচে সর্বাপেক্ষা নিকৃষ্ট লোক, তাদের নিকট থেকেই (দ্বীনের) ফিতনাহ-ফাসাদ সৃষ্টি হবে। অতঃপর এ ফিতনাহ তাদের দিকেই ফিরে আসবে। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৭৭
وعن زياد بن لبيد قال ذكر النبي ﷺ شيئا فقال ذاك عند أوان ذهاب العلم قلت يا رسول الله وكيف يذهب العلم ونحن نقرأ القراۤن ونقرئه أبناءنا ويقرئه أبناؤنا أبناءهم إلى يوم القيامة فقال ثكلتك أمك زياد إن كنت لاراك من أفقه رجل بالمدينة أوليس هذه اليهود والنصارى يقرءون التوراة والإنجيل لا يعملون بشيء مما فيهما. رواه أحمد وابن ماجة وروى الترمذي عنه نحوه
তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একটি বিষয় বর্ণনা করলেন। অতঃপর তিনি বললেন, সেটা ‘ইলম উঠে যাওয়ার সময় সংঘটিত হবে। তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! কিরুপে ‘ইলম উঠে যাবে? অথচ আমরা তো কুরআন শিক্ষা করছি, আমাদের সন্তানদেরকেও কুরআন শিক্ষা দিচ্ছি। আমাদের সন্তানগণ ক্বিয়ামাত আবধি তাদের সন্তান-সন্ততিদেরকে কুরআন শিক্ষা দিতে থাকবে। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, যিয়াদ! তোমার মা তোমাকে হারিয়ে ফেলুক। আমি তো তোমাকে মদীনার একজন বিজ্ঞ ও জ্ঞানী ব্যাক্তি বলেই মনে করতাম। এসব ইয়াহুদী ও নাসারাগণ কি তাওরাত ও ইঞ্জিল পড়ছে না কিন্তু তারা তদানুযায়ী কাজ করছে না এমন নয় কি? আহমাদ, ইবনু মাজাহ; ইমাম তিরমিযীও অনুরুপ যিয়াদ (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন । [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৭৮
وكذا الدارمي عن أبي أمامة
ইয়াম দারিমীহ ও আবূ উমামাহ্ (রাঃ) থেকে অনুরুপ বর্ণনা করেছেন।
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৭৯
وعن ابن مسعود قال قال لي رسول الله ﷺ تعلموا العلم وعلموه الناس تعلموا الفرائض وعلموها الناس تعلموا القراۤن وعلموه الناس فإني امرؤ مقبوض والعلم سيقبض وتظهر الفتن حتى يختلف اثنان في فريضة لا يجدان أحدا يفصل بينهما. رواه الدارمي والدارقطنى
তিনি বলেন, একদা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বললেনঃ তোমরা ইলম শিক্ষা কর, লোকদের তা শিক্ষা দিতে থাক। তোমরা অবশ্য পালনীয় বিষয়গুলো (বা ফারায়িয) শিখবে, অন্যকেও শিখাবে। এভাবে কুরআন শিখ, লোকদের শিখাও। নিশ্চয়ই আমি একজন মানুষ, আমাকে উঠিয়ে নেয়া হবে এবং ফিতনাহ্-ফাসাদ ও হাঙ্গামা সৃষ্টি হবে। এমন কি দুই ব্যাক্তি অবশ্য পালনীয় বিষয়ে মতভেদ করবে, অথচ ঐ দুই ব্যাক্তি এমন কাউকে পাবে না, যে এ দু’জনের মীমংসা করে দিতে পারে। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৮০
وعن أبي هريرة قال قال رسول الله ﷺ مثل علم لا ينتفع به كمثل كنز لا ينفق منه في سبيل الله. رواه أحمد والدارمي¬
তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ‘ইলম বা জ্ঞান দ্বারা কারো কোন উপকার হয় না, তা এমন এক ধনভান্ডারের ন্যায় যা থেকে আল্লাহর পথে খরচ করা হয় না। [১]