দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মিশকাতুল মাসাবিহ | হাদীস | কুরআন ও সুন্নাহ

মিশকাতুল মাসাবিহ > দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ১৬১

عن ربيعة الجرشي قال أتي نبى الله ﷺ فقيل له لتنم عينك ولتسمع أذنك وليعقل قلبك قال فنامت عيناي وسمعت أذناي وعقل قلبي قال فقيل لي سيد بنى دارا فصنع فيها مأدبة وأرسل داعيا فمن أجاب الداعي دخل الدار وأكل من المأدبة ورضي عنه السيد ومن لم يجب الداعي لم يدخل الدار ولم يأكل من المأدبة وسخط عليه السيد قال فالله السيد ومحمد الداعي والدار الإسلام والمأدبة الجنة. رواه الدارمي

তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে স্বপ্নে কতক মালাক দেখানো হল এবং মালাক তাঁকে (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আপনার চোখ ঘুমিয়ে থাকুক, কান শুনতে থাকুক এবং অন্তর বুঝতে থাকুক। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আমার চোখ দু’টি ঘুমাল, আমার কান দু’টি শুনল এবং আমার অন্তর বুঝল। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তখন আমাকে (অর্থাৎ দৃষ্টান্ত স্বরূপ) বলা হল, যেন একজন মহৎ ব্যক্তি একটি ঘর তৈরি করলেন এবং এতে দা’ওয়াতের ব্যবস্থা করলেন। অতঃপর (লোকেদের আহ্বানের জন্য) একজন আহ্বানকারীকে পাঠালেন। অতঃপর যে ব্যক্তি আহ্বানকারীর আহ্বানে সাড়া দিল, সে ঘরে প্রবেশ করতে পারল এবং খেতেও পারল। আর গৃহস্বামীও তার প্রতি সন্তুষ্ট হলেন। অপরদিকে যে ব্যক্তি আহ্বানকারীর আহ্বানে সাড়া দিল না, সে ঘরেও ঢুকল না, খেতেও পারল না এবং গৃহস্বামীও তার উপর অসন্তুষ্ট হলেন। অতঃপর মালায়িকাহ্‌ (এর ব্যাখ্যারূপে) বললেন, এ দৃষ্টান্তের গৃহস্বামী হলেন আল্লাহ্‌, আহ্বানকারী হলেন মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং ঘর হল ইসলাম এবং খাবারের স্থান হল জান্নাত। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৬২

وعن أبي رافع قال قال رسول الله ﷺ لا ألفين أحدكم متكئا على أريكته يأتيه الأمر من أمري مما أمرت به أو نهيت عنه فيقول لا ادري ما وجدنا في كتاب الله اتبعناه. رواه أحمد وأبو داوٗد والترمذي وابن ماجة والبيهقى فى دلائل النبوة

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: আমি তোমাদের কাউকেও যেন এরূপ অবস্থায় না দেখি যে, সে তার গদিতে হেলান দিয়ে বসে থাকবে। আর তার নিকট আমার নির্দেশাবলীর কোন একটি পৌঁছবে, যাতে আমি কোন বিষয় আদেশ করেছি অথবা কোন বিষয় নিষেধ করেছি। তখন সে বলবে, আমি এসব কিছু জানি না, যা কিছু আমি আল্লাহ্‌র কিতাবে পাব তার অনুসরণ করব। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৬৩

وعن المقدام بن معديكرب قال قال رسول الله ﷺ ألا إني أوتيت القراۤن ومثله معه ألا يوشك رجل شبعان على أريكته يقول عليكم بهذا القرآن فما وجدتم فيه من حلال فأحلوه وما وجدتم فيه من حرام فحرموه وان ما حرم رسول الله ﷺ كما حرم الله، ألا لا يحل لكم الحمار الأهلي ولا كل ذي ناب من السبع ولا لقطة معاهد الا أن يستغني عنها صاحبها ومن نزل بقوم فعليهم أن يقروه فإن لم يقروه فله أن يعقبهم بمثل قراه. رواه أبو داوٗد وروى الدارمي نحوه وكذا ابن ماجة الى قوله كما حرم الله

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: সাবধান! আমাকে কুরআন দেয়া হয়েছে এবং তার সাথে তার অনুরূপ জিনিসও। জেনে রেখ, শীঘ্রই এমন এক সময় এসে যাবে, যখন কোন উদরভর্তি বড় লোক তার গদিতে বসে বলবে, তোমরা কেবল এ কুরআনকেই গ্রহণ করবে। এতে যা হালাল পাবে তাকেই হালাল জানবে এবং যা এতে হারাম পাবে তাকেই হারাম মনে করবে। অথচ রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যা হারাম বলেছেন, তা আল্লাহ্‌ যা হারাম করেছেন তারই অনুরূপ। তাই জেনে রেখ! গৃহপালিত গাধা তোমাদের জন্য হালাল নয় এবং শিকারী দাঁতওয়ালা কোন হিংস্র পশুও হালাল নয়। এমতাবস্থায় মুসলিম রাষ্ট্রের অমুসলিম নাগরিকের কোন হারানো বস্তুও তোমাদের জন্য হালাল নয়, তবে সে যদি সেটির মুখাপেক্ষী না হয় সেক্ষেত্রে ভিন্ন কথা। যখন কোন লোক কোন সম্প্রদায়ের নিকট পৌঁছে, তাদের উচিত ঐ লোকের মেহমানদারি করা। যদি তারা তার মেহমানদারি না করে তবে সে জোরপূর্বক তাদের নিকট থেকে তার মেহমানদারির সম-পরিমাণ জিনিস আদায় করার অধিকার রাখবে। (অথচ কুরআনে এ সকল বিষয়ের উল্লেখ নেই)। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৬৪

وعن العرباض بن سارية قام رسول الله ﷺ فقال أيحسب أحدكم متكئا على أريكته يظن أن الله لم يحرم شيئا الا ما في هذا القرآن ألا وإني والله قد وعظت ونهيت عن أشياء إنها لمثل القرآن أو أكثر وإن الله لم يحل لكم أن تدخلوا بيوت أهل الكتاب الا بإذن ولا ضرب نسائهم ولا أكل ثمارهم إذا أعطوكم الذي عليهم. رواه أبو داوٗد وفى اسناده اشعث ابن شعبة المصيصى قد تكلم فيه

তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) খুত্‌বাহ্‌ দিতে উঠে বললেন, তোমাদের মধ্যে কেউ কি নিজের গদিতে ঠেস দিয়ে বসে এ কথা মনে করে যে, আল্লাহ্‌ তা‘আলা যা কিছু এ কুরআনে হারাম করেছেন তা ব্যতীত তিনি আর কিছুই হারাম করেননি? জেনে রেখ, আল্লাহ্‌র কসম! নিঃসন্দেহে আমি নির্দেশ করেছি, আমি উপদেশ দিয়েছি এবং অনেক বিষয় নিষেধও করেছি, আর এর পরিমাণ কুরআনের হুকুমের সমান, বরং এর চেয়ে অধিক হবে। তোমরা মনে রাখবে যে, অনুমতি ব্যতীত আহলে কিতাব যিম্মীদের বাসগৃহে প্রবেশ করা, তাদের নারীদের প্রহার করা এবং তাদের ফসল বা শস্য খাওয়াকেও আল্লাহ্‌ তা‘আলা তোমাদের জন্য হালাল করেননি, যদি তারা তাদের উপর ধার্যকৃত কর আদায় করে দেয় (এসব বিষয় কুরআনে নেই, আমার দ্বারাই আল্লাহ্‌ এসব হারাম করেছেন)। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৬৫

وعنه قال صلى بنا رسول الله ﷺ ذات يوم ثم أقبل علينا بوجهه فوعظنا موعظة بليغة ذرفت منها العيون ووجلت منها القلوب فقال رجل يا رسول الله كأن هذه موعظة مودع فاوصنا فقال أوصيكم بتقوى الله والسمع والطاعة وإن كان عبدا حبشيا فإنه من يعش منكم بعدي فسيرى اختلافا كثيرا فعليكم بسنتي وسنة الخلفاء الراشدين المهديين تمسكوا بها وعضوا عليها بالنواجذ وإياكم ومحدثات الأمور فإن كل محدثة بدعة وكل بدعة ضلالة. روه أحمد وأبو داوٗد والترمذي وابن ماجة الا انهما لم يذكرا الصلوة

তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের সলাত আদায় করালেন। অতঃপর আমাদের দিকে মুখ ঘুরিয়ে বসে গেলেন। আমাদের উদ্দেশ্যে এমন মর্মস্পর্শী নাসীহাত করলেন যাতে আমাদের চোখ গড়িয়ে পানি বইতে লাগল। অন্তরে ভয় সৃষ্টি হল মনে হচ্ছিল বুঝি উপদেশ দানকারীর যেন জীবনের এটাই শেষ উপদেশ। এক ব্যক্তি আবেদন করল, হে আল্লাহ্‌র রসূল! আমাদেরকে আরো কিছু উপদেশ দিন। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আমি তোমাদের আল্লাহ্‌ তা‘আলাকে ভয় করার, (ইমাম বা নেতার) আদেশ শোনার ও (তার) অনুগত থাকতে উপদেশ দিচ্ছি, যদিও সে (নেতা ইমাম) হাবশী গোলাম হয়। আমার পরে তোমাদের যে ব্যক্তি বেঁচে থাকবে সে অনেক মতভেদ দেখবে। এমতাবস্থায় তোমাদের কর্তব্য হবে আমার সুন্নাতকে ও হিদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশিদ্বীনের সুন্নাতকে আঁকড়িয়ে ধরা এবং এ পথ ও পন্থার উপর দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে থাকবে। সাবধান! দ্বীনের ভেতরে নতুন নতুন কথার (বিদ‘আত) উদ্ভব ঘটানো হতে বেঁচে থাকবে। কেননা প্রত্যেকটা নতুন কথাই [বা কাজ শারী‘আতে আবিষ্কার করা যা রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং সহাবীগণ করেননি তা] বিদ‘আত এবং প্রত্যেকটা বিদ‘আতই ভ্রষ্টতা। কিন্তু এ বর্ণনায় তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ সলাত আদায়ের কথা উল্লেখ করেননি। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৬৬

وعن عبد الله بن مسعود قال خط لنا رسول الله ﷺ خطا ثم قال هذا سبيل الله ثم خط خطوطا عن يمينه وعن شماله وقال هذه سبل على كل سبيل منها شيطان يدعو إليه وقرأ وإن هذا صراطي مستقيما فاتبعوه الاۤية. رواه أحمد والنسائي والدارمي

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (আমাদেরকে বুঝাবার উদ্দেশে) একটি (সরল) রেখা টানলেন এবং বললেন, এটা আল্লাহ্‌র পথ। এরপর তিনি এ রেখার ডানে ও বামে আরো কয়েকটি রেখা টানলেন এবং বললেন, এগুলোও পথ। এসব প্রত্যেক পথের উপর শয়তান দাঁড়িয়ে থাকে। এরা (মানুষকে) তাদের পথের দিকে আহ্বান করে। অতঃপর তিনি তাঁর কথার প্রমাণ স্বরূপ কুরআনের এ আয়াত পাঠ করলেন : “নিশ্চয়ই এটাই আমার সহজ সরল পথ। অতএব তোমরা এ পথের অনুসরণ করে চলো...” (সূরাহ্‌ আন’আম ৬:১৬৩) আয়াতের শেষ পর্যন্ত)। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৬৭

وعن عبد الله بن عمرو قال قال رسول الله ﷺ لا يؤمن أحدكم حتى يكون هواه تبعا لما جئت به. رواه فى شرح السنة وقال النووى فى اربعينه هذا حديث صحيح رويناه فى كتاب الحجة باسناد صحيح

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত মু’মিন হতে পারবে না যতক্ষণ না তার মনের প্রবৃত্তি আমার আনা দ্বীন ও শরী‘আতের অধীন না হবে-(শারহে সুন্নাহ)। ইমাম নাবাবী তার “আরবা‘ঈন” গ্রন্থে বলেছেন, এটা একটা সহীহ হাদীস। আমরা কিতাবুল হুজ্জাত-এ হাদীসটি সহীহ সানাদসহ বর্ণনা করিছে। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৬৮

وعن بلال بن الحارث المزني قال قال رسول الله ﷺ من أحيا سنة من سنتي قد أميتت بعدي فإن له من الأجر مثل اجور من عمل بها من غير أن ينقص من أجورهم شيئا ومن ابتدع بدعة ضلالة لا يرضاها الله ورسوله كان عليه من الاثم مثل اۤثام من عمل بها لا ينقص ذلك من أوزارهم شيئا. ورواه الترمذي

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: যে ব্যক্তি আমার কোন একটি সুন্নাতকে যিন্দা করেছে, যে সুন্নাত আমার পরে ছেড়ে দেয়া হয়ছিল, তার এত সাওয়াব হবে যত সাওয়াব এ সুন্নাত ‘আমালকারীদের হবে, কিন্তু সুন্নাতের উপর ‘আমালকারীদের সাওয়াবে কোন অংশ হ্রাস করা হবে না। আর যে ব্যক্তি গুমরাহীর নতুন (বিদ‘আত) পথ সৃষ্টি করবে, যাতে আল্লাহ্‌ ও তাঁর রসূল রাযী-খুশী নন, তার জন্য সে সকল লোকের গুনাহ চাপিয়ে দেয়া হবে, যারা তার সাথে ‘আমাল করবে, অথচ তাদের গুনাহের কোন অংশ হ্রাস করবে না। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৬৯

ورواه ابن ماجة عن كثير بن عبد الله بن عمرو عن أبيه عن جده

এ বর্ণনাটিকে ইবনু মাজাহ (রহঃ) কাসীর ইবনু ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আম্‌র থেকে, তিনি তার পিতা হতে এবং তিনি তার দাদা হতে বর্ণনা করেছেন।


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭০

وعن عمرو بن عوف قال قال رسول الله ﷺ إن الدين ليأرز إلى الحجاز كما تأرز الحية إلى جحرها وليعقلن الدين من الحجاز معقل الأروية من رأس الجبل إن الدين بدأ غريبا وسيعود كما بدأ فطوبى للغرباء وهم الذين يصلحون ما افسد الناس من بعدى من سنتى. رواه الترمذي

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: নিঃসন্দেহে দ্বীন (ইসলাম) হিজাযের দিকে এমনভাবে ফিরে আসবে যেভাবে সাপ (পরিশেষে) তার গর্তের দিকে ফিরে আসে এবং দ্বীন হিজাযেই আশ্রয় নিবে যেভাবে পার্বত্য মেঘ পর্বত-শিখরে আশ্রয় নিয়ে থাকে। দ্বীন নিঃসঙ্গ প্রবাসীর (গরীবীর) ন্যায় যাত্রা শুরু করেছে, আবার তা ফিরে আসবে যেভাবে যাত্রা শুরু করেছিল। অতএব অপিরিচিতের জন্য সুসংবাদ রয়েছে, তারা ঐসব লোক যারা আমার পর লোকদের দ্বারা নষ্ট করা সুন্নাতকে পূণঃ জারী করে। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭১

وعن عبد الله بن عمرو قال قال رسول الله ﷺ ليأتين على أمتي كما أتى على بني إسرائيل حذو النعل بالنعل حتى إن كان منهم من أتى أمه علانية لكان في أمتي من يصنع ذلك وإن بني إسرائيل تفرقت على ثنتين وسبعين ملة وتفترق أمتي على ثلاث وسبعين ملة كلهم في النار الا ملة واحدة قالوا من هي يا رسول الله قال ما أنا عليه وأصحابي. رواه الترمذي

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: নিঃসন্দেহে আমার উম্মাতের উপর এমন একটি সময় আসবে যেমন বানী ইসরাঈলের উপর এসেছিল। যেমন এক পায়ের জুতা অপর পায়ের জুতার ঠিক সমান হয়। এমনটি বানী ইসরাঈলের মধ্যে যদি কেউ তার মায়ের সাথে প্রকাশ্যে কুকর্ম করে থাকে, তাহলে আমার উম্মাতের মধ্যেও এমন লোক হবে যারা অনুরূপ কাজ করবে আর বানী ইসরাঈল ৭২ ফিরক্বায় (দলে) বিভক্ত হয়ে গিয়েছিল। আমার উম্মাত বিভক্ত হবে ৭৩ ফিরক্বায়। এদের মধ্যে একটি ব্যতীত সব দলই জাহান্নামে যাবে। সহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহ্‌র রসূল! জান্নাতী দল কারা? উত্তরে তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, যার উপর আমি ও আমার সাহাবীগণ প্রতিষ্ঠিত আছি, যারা তার উপর থাকবে। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭২

وفى رواية أحمد وابى داوٗد عن معاوية ثنتان وسبعون فى النار وواحدة فى الجنة وهى الجماعة وانه سيخرج فى امتى اقوام تتجارى بهم تلك الاهواء كما يتجارى الكلب بصاحبه لا يبقى منه عرق ولا مفصل الا دخله

আহ্‌মাদ ও আবূ দাঊদে মু’আবিয়াহ্‌ (রাঃ) হতে (কিছু পার্থক্যের সাথে) বর্ণনা করেন যে, ৭২ দল জাহান্নামে যাবে। আর একটি দল জান্নাতে যাবে। আর সে দলটি হচ্ছে জামা‘আত। আর আমার উম্মাতের মধ্যে কয়েকটি দলের উদ্ভব হবে যাদের শরীরে এমন কুপ্রবৃত্তি (বিদ‘আত) ছড়াবে যেমনভাবে জলাতংক রোগ রোগীর সমগ্র শরীরে সঞ্চারণ করে। তার কোন শিরা-উপশিরা বাকি থাকে না, যাতে তা সঞ্চার করে না। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭৩

وعن ابن عمر قال قال رسول الله ﷺ إن الله لا يجمع أمتي أو قال أمة محمد على ضلالة ويد الله على الجماعة ومن شذ شذ في النار. رواه الترمذي

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: আল্লাহ্‌ তা‘আলা আমার গোটা উম্মাতকে; অপর বর্ণনাতে তিনি বলেছেন, উম্মাতে মুহাম্মাদীকে কখনও পথভ্রষ্টতার উপর একত্রিত করবেন না। আল্লাহ্‌ তা‘আলার হাত (রহমাত ও সাহায্য) জামা‘আতের উপর রয়েছে। যে ব্যক্তি জামা‘আত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে, সে বিচ্ছিন্ন হয়ে (অবশেষে ) জাহান্নামে যাবে। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭৪

وعنه قال قال رسول الله ﷺ اتبعوا السواد الاعظم فانه من شذ شذ فى النار. رواه ابن ماجة من حديث انس

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: বৃহত্তম দলের অনুসরণ কর। কেননা, যে ব্যক্তি দল থেকে আলাদা হয়ে গেছে, সে বিচ্ছিন্ন হয়ে (পরিশেষে) জাহান্নামে যাবে। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭৫

وعن أنس قال قال لي رسول الله ﷺ يا بني إن قدرت أن تصبح وتمسي ليس في قلبك غش لأحد فافعل ثم قال يا بني وذلك من سنتي ومن أحب سنتي فقد أحبني ومن أحبني كان معي في الجنة. رواه الترمذي

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বলেছেন: হে বৎস! তুমি যদি সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তোমার অন্তরে কারো প্রতি হিংসা-বিদ্বেষ না রেখে কাটাতে পার তাহলে তাই কর। এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, হে বৎস! এটা আমার সুন্নাত। যে ব্যক্তি আমার সুন্নাতকে ভালবাসে সে আমাকেই ভালবাসে, আর যে আমাকে ভালবাসে সে আমার সাথে জান্নাতে থাকবে। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭৬

وعن أبي هريرة قال قال رسول الله ﷺ من تمسك بسنتي عند فساد أميى فله اجر مائة شهيد. رواه البيهقى

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: যে ব্যক্তি আমার উম্মাতের বিপর্যয়ের সময় আমার সুন্নাতকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরবে, তার জন্য একশত শাহীদের সাওয়াব রয়েছে। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭৭

وعن جابر عن النبي ﷺ حين اتاه عمر فقال انا نسمع احاديث من يهود تعجبنا افترى ان نكتب بعضها فقال أمتهوكون انتم كما تهوكت اليهود والنصارى لقد جئتكم بها بيضاء نقية ولو كان موسى حيا ما وسعه إلا اتباعي. رواه أحمد والبيهقى فى شعب الايمان

তিনি বলেন ‘উমার (রাঃ) নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে বললেন, আমরা ইয়াহূদীদের নিকট তাদের অনেক ধর্মীয় কথাবার্তা শুনে থাকি। এসব আমাদের কাছে অনেক ভালো মনে হয়। এসব কথার কিছু কি লিখে রাখার জন্য আমাদেরকে অনুমতি দিবেন? রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, ইয়াহূদী ও নাসারাগণ যেভাবে দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে, তোমরাও কি (তোমাদের দ্বীনের ব্যাপারে) এভাবে দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়েছ? আল্লাহ্‌র কসম! আমি তোমাদের কাছে একটি অতি উজ্জ্বল ও স্বচ্ছ দ্বীন নিয়ে এসেছি। মূসা (আঃ)-ও যদি আজ দুনিয়ায় বেঁচে থাকতেন, আমার অনুসরণ ব্যতীত তাঁর পক্ষেও অন্য কোন উপায় ছিল না। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭৮

وعن أبي سعيد الخدري قال قال رسول الله ﷺ من أكل طيبا وعمل في سنة وأمن الناس بوائقه دخل الجنة فقال رجل يا رسول الله إن هذا اليوم لكثير في الناس قال وسيكون في قرون بعدي. رواه الترمذي

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: যে ব্যক্তি হালাল (রিয্‌ক্ব) খাবে, সুন্নাতের উপর ‘আমাল করবে এবং যার অনিষ্ট থকে মানুষ নিরাপদ থাকবে, সে জান্নাতে যাবে। তখন এক ব্যক্তি বলে উঠল, হে আল্লাহ্‌র রসূল! এ ধরনের লোক তো আজকাল অগণিত। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, (ইনশা-আল্লাহ্‌) আমার পরবর্তী যুগেও এ ধরনের লোক থাকবে। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭৯

وعن أبي هريرة قال قال رسول الله ﷺ إنكم في زمان من ترك منكم عشر ما أمر به هلك ثم يأتي زمان من عمل منهم بعشر ما أمر به نجا. رواه الترمذي

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: তোমরা এমন যুগে আছ, যে যুগে তোমাদের কেউ তার উপর নির্দেশিত বিষয়ের এক-দশমাংশও ছেড়ে দিলে সে ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে। অতঃপর এমন এক যুগ আসবে, যখন কেউ যদি তার প্রতি নির্দেশিত বিষয়ের এক-দশমাংশের উপরও ‘আমাল করে সে পরিত্রাণ পাবে। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮০

وعن أبي أمامة قال قال رسول الله ﷺ ما ضل قوم بعد هدى كانوا عليه الا أوتوا الجدل ثم قرأ رسول الله ﷺ هذه الاۤية : ما ضربوه لك الا جدلا بل هم قوم خصمون. رواه أحمد والترمذي وابن ماجة

তিনি বলেছেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: হিদায়াত প্রাপ্তির এবং হিদায়াতের উপর ক্বায়িম থাকার পর কোন জাতির মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি হয় না, কিন্তু যখন তারা ধর্মীয় বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। অতঃপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পাঠ করলেন (অর্থ): “তারা বাক-বিতণ্ডা করার উদ্দেশ্য ছাড়া আপনার নিকট তা উত্থাপন করে না। প্রকৃতপক্ষে তারা হচ্ছে বাক-বিতণ্ডাকারী লোক”- (সূরাহ্‌ যুখরুফ ৪৩:৫৮)। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮১

وعن انس أن رسول الله ﷺ كان يقول لا تشددوا على أنفسكم فيشدد الله عليكم فإن قوما شددوا على أنفسهم فشدد الله عليهم فتلك بقاياهم في الصوامع والديار ورهبانية ابتدعوها ما كتبناها عليهم. رواه أبو داوٗد

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলতেন: তোমরা নিজেদের নাফ্‌সের (আত্মার) উপর ইচ্ছা করে কঠোরতা করো না। কেননা পরবর্তীতে আল্লাহ্‌ না আবার তোমাদের উপর কঠোরতা চাপিয়ে দেন। পূর্বেও একটি জাতি (বানী ইসরাঈল) নিজেদের উপর কঠোরতা অবলম্বন করেছিল। তাই আল্লাহ্‌ তা‘আলাও তাদের উপর কঠোর বিধান চাপিয়ে দিলেন। গির্জায় ও ধর্মশালায় যে লোকগুলো আছে, এরা তাদেই উত্তরাধিকারী। (কুরআনে উল্লেখ আছে) “তারা নিজেরাই নিজেদের জন্য ‘রাহ্‌বানিয়্যাত’ বা বৈরাগ্যবাদ-কে আবিষ্কার করেছিল। আমি তাদের উপর নির্ধারণ করিনি”- (সূরাহ আল হাদীদ ৫৭:২৭)। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮২

وعن أبي هريرة قال قال رسول الله ﷺ نزل القرآن على خمسة اوجه حلال وحرام ومحكم ومتشابه وامثال فاحلوا الحلال وحرموا الحرام واعملوا بالمحكم وامنوا بالمتشابه واعتبروا بالامثال. هذا لفظ المصابيح وروى البيهقى فى شعب الايمان ولفظه فاعملوا بالحلال واجتنبوا الحرام واتبعوا المحكم

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: কুরআন পাঁচটি বিষয়সহ নাযিল হয়েছে: (১) হালাল (২) হারাম (৩) মুহ্‌কাম (৪) মুতাশাবিহ ও (৫) আমসাল (উপদেশপূর্ণ ঘটনা)। সুতরাং তোমরা হালালকে হালাল জানবে, হারামকে হারাম মনে করবে। মুহকামের উপর ‘আমাল করবে, মুতাশাবিহের সাথে ঈমান পোষণ করবে। আর আমসাল (উপদেশপূর্ণ কাহিনী) থেকে শিক্ষা গ্রহণ করবে। এটা মাসাবীহের বাক্য বিন্যাস। কিন্তু বায়হাক্বী শু’আবুল ঈমানে এরূপ বর্ণনা করেছেন: তোমরা হালালের উপর ‘আমাল কর, হারাম থেকে বেঁচে থাক এবং মুহকামের অনুসরণ কর। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮৩

وعن ابن عباس قال قال رسول الله ﷺ الامر ثلاثة امر بين رشده فاتبعه وامر بين غيه فاجتنبه وامر اختلف فيه فكله الى الله عز وجل. رواه أحمد

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: শারী‘আতের বিষয় তিন প্রকার: (১) এমন বিষয়, যার হিদায়াত সম্পূর্ণ পরিষ্কার। তাই এ নির্দেশ মেনে চল। (২) সে বিষয়, যার ভ্রষ্টতাও স্পষ্ট, সুতরাং তা পরিহার কর এবং (৩) এ বিষয়, যা মতভেদপূর্ণ তা মহান আল্লাহ্‌র হাতে ছেড়ে দাও। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ > তৃতীয় অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮৪

عن معاذ بن جبل قال قال رسول الله ﷺ إن الشيطان ذئب الإنسان كذئب الغنم يأخذ الشاة والقاصية والناحية وإياكم والشعاب وعليكم بالجماعة والعامة. رواه أحمد

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: মেষপালের ক্ষেত্রে নেকড়ে বাঘের ন্যায় শয়তান মানুষের জন্য নেকড়ে বাঘ। পালের যে মেষটি দল হতে আলাদা হয়ে যায় অথবা যেটি খাবারের সন্ধানে দূরে সরে পড়ে অথবা যেটি অলসতাবশতঃ এক কিনারায় পড়ে থাকে, নেকড়ে সেটিকে শিকার করে নিয়ে যায়। সুতরাং সাবধান! তোমরা কক্ষণও (দল ছেড়ে) গিরিপথে চলে যাবে না, আর জামা‘আতবদ্ধ হয়ে (মুসলিম) জনগণের সাথে থাকবে। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮৫

وعن أبي ذر قال قال رسول الله ﷺ من فارق الجماعة شبرا فقد خلع ربقة الإسلام من عنقه. رواه أحمد وأبو داوٗد

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: যে ব্যক্তি জামা‘আত (দল) হতে এক বিঘত পরিমাণও দূরে সরে গেছে, সে ইসলামের রশি (বন্ধন) তার গলা হতে খুলে ফেলেছে। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮৬

وعن مالك بن انس مرسلا قال قال رسول الله ﷺ تركت فيكم أمرين لن تضلوا ما تمسكتم بهما كتاب الله وسنة رسوله. رواه فى الموطا

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: আমি তোমাদের মধ্যে দু’টি জিনিস রেখে যাচ্ছি। যতক্ষণ তোমরা সে দু’টি জিনিস আঁকড়ে ধরে থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত পথভ্রষ্ট হবে না- আল্লাহ্‌র কিতাব ও তাঁর রসূলের হাদীস। (ইমাম মালিক মুওয়াত্তায় বর্ণনা করেছেন)। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮৭

وعن غضيف بن الحارث الثمالى قال قال رسول الله ﷺ ما أحدث قوم بدعة الا رفع مثلها من السنة فتمسك بسنة خير من إحداث بدعة. رواه أحمد

তিনি বলেন,রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: যখনই কোন জাতি একটি বিদ‘আত সৃষ্টি করেছে, তখনই সমপরিমাণ সুন্নাত বিদায় নিয়েছে। সুতরাং একটি সুন্নাতের উপর ‘আমাল করা (সু্ন্নাত যত ক্ষুদ্রই হোক), একটি বিদ‘আত সৃষ্টি করা অপেক্ষা উত্তম। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮৮

وعن حسان قال ما ابتدع قوم بدعة في دينهم الا نزع الله من سنتهم مثلها ثم لا يعيدها إليهم إلى يوم القيامة. رواه الدارمي

তিন বলেন, কোন জাতি যখনই দ্বীনের মধ্যে কোন বিদ‘আত সৃষ্টি করে, তখনই আল্লাহ্‌ তা‘আলা তাদের থেকে সে পরিমাণ সুন্নাত উঠিয়ে নেন। ক্বিয়ামাত পর্যন্ত এ সুন্নাত আর তাদেরকে ফিরিয়ে দেয়া হয় না। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮৯

وعن ابراهيم بن ميسرة قال قال رسول الله ﷺ من وقر صاحب بدعة فقد اعان على هدم الاسلام. رواه البيهقي فى شعب الإيمان مرسلا

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: যে ব্যক্তি কোন বিদ‘আতীকে সম্মান দেখাল, সে নিশ্চয়ই ইসলামের ধ্বংস সাধনে সাহায্য করল। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯০

وعن ابن عباس قال من تعلم كتاب الله ثم اتبع ما فيه هداه الله من الضلالة في الدنيا ووقاه يوم القيامة سوء الحساب. وفي رواية قال من اقتدى بكتاب الله لا يضل في الدنيا ولا يشقى في الاۤخرة ثم تلا هذه الاۤية (فمن اتبع هداي فلا يضل ولا يشقى) رواه رزين

তিনি বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ্‌র কিতাবের শিক্ষা লাভ করল, অতঃপর এ কিতাবের মধ্যে যা আছে তা অনুসরণ করল, আল্লাহ্‌ তা‘আলা এ ব্যক্তিকে পৃথিবীতে পথভ্রষ্টতা হতে বাঁচিয়ে রাখবেন এবং ক্বিয়ামাত দিবসে তাকে নিকৃষ্ট হিসাবের কষ্ট হতে রক্ষা রকবেন। অন্য এক বর্ণনায় আছে- তিনি বলেছেন, যে আল্লাহ্‌ তা‘আলার কিতাবের অনুসরণ করবে, সে দুনিয়াতে পথভ্রষ্ট হবে না এবং আখিরাতেও হতভাগ্য হবে না। অতঃপর এ কথার প্রমাণ স্বরূপ তিনি তিলাওয়াত করলেন: (আরবী) অর্থাৎ “যে ব্যক্তি আমার হিদায়াত গ্রহণ করল, সে (দুনিয়াতে) পথভ্রষ্ট হবে না এবং (পরকালেও) ভাগ্যাহত হবে না”- (সূরাহ্ ত্ব-হা ২০ : ১২৩) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯১

وعن ابن مسعود أن رسول الله ﷺ قال ضرب الله مثلا صراطا مستقيما وعن جنبتي الصراط سوران فيها أبواب مفتحة وعلى الأبواب ستور مرخاة وعند رأس الصراط داع يقول استقيموا على الصراط ولا تعوجوا وفوق ذلك داع يدعو كلما هم عبد أن يفتح شيئا من تلك الأبواب قال ويحك لا تفتحه فإنك إن تفتحه تلجه. ثم فسره فأخبر أن الصراط هو الإسلام وأن الأبواب المفتحة محارم الله وأن الستور المرخاة حدود الله وأن الداعي على رأس الصراط هو القران وأن الداعي من فوقه هو واعظ الله في قلب كل مؤمن. رواه رزين ورواه أحمد

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আল্লাহ্‌ তা‘আলা একটি উদাহরণ পেশ করেছেন। তা হল একটি সরল সঠিক পথ আছে, এর দু’দিকে দু’টি দেয়াল। এসব দেয়ালে খোলা দরজা রয়েছে এবং সে সব দরজায় পর্দা ঝুলানো রয়েছে। আর রাস্তার মাথায় একজন আহ্বায়ক, যে (লোকদেরকে) আহ্বান করছে, এসো সোজা রাস্তা দিয়ে চলে যাও। ভুল ও বাঁকা পথে যাবে না। আর এ আহ্বানকারীর একটু আগে আছেন আর একজন আহ্বানকারী। যখনই কোন বান্দা সে দরজাগুলোর কোন একটি দরজা খুলতে চায়, তখনই সে তাকে ডেকে বলেন, সর্বনাশ! এ দরজা খুলো না। যদি তুমি এটা খুলো তাহলে ভিতরে ঢুকে যাবে (প্রবেশ করলেই পথভ্রষ্ট হবে)। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ব্যাখ্যা করলেনঃ সঠিক সরল পথের অর্থ হচ্ছে ‘ইসলাম’ (সে পথ জান্নাতে চলে যায়)। আর খোলা দরজার অর্থ হল, ঐ সব জিনিস আল্লাহ্‌ তা‘আলা যা হারাম করেছেন এবং দরজার মধ্যে ঝুলানো পর্দার অর্থ হল আল্লাহ্‌র নির্ধারিত সীমাসমূহ। রাস্তার মাথায় আহ্বায়ক হচ্ছে কুরআন। আর তার সামনের আহ্বায়ক হচ্ছে নাসীহাতকারী মালাক, যা প্রত্যেক মু‘মিনের অন্তরে আল্লাহ্‌র তরফ থেকে বিদ্যমান। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯২

والبيهقى في شعب الإيمان عن النواس بن سمعان وكذا الترمذي عنه الا أنه ذكر أخصر منه

ইমাম তিরমিযীও একই সহাবী থেকে এটি বর্ণনা করেছেন, তবে অপেক্ষাকৃত সংক্ষিপ্তাকারে।


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯৩

وعن ابن مسعود قال من كان مستنا فليستن بمن قد مات فإن الحي لا تؤمن عليه الفتنة. أولئك أصحاب محمد ﷺ كانوا أفضل هذه الأمة أبرها قلوبا وأعمقها علما وأقلها تكلفا اختارهم الله لصحبة نبيه ولإقامة دينه فاعرفوا لهم فضلهم واتبعوهم على آثرهم وتمسكوا بما استطعتم من أخلاقهم وسيرهم فإنهم كانوا على الهدى المستقيم. رواه رزين

তিনি বলেন, যে ব্যক্তি কারো কোন ত্বরীক্বাহ্‌ অনুসরণ করতে চায়, সে যেন তাদের পথ অনুসরণ করে যারা দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছে। কারণ জীবিত মানুষ (দ্বীনের ব্যাপারে) ফিত্নাহ হতে মুক্ত নয়। মৃত ব্যক্তিরা হলেন মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সহাবীগণ, যারা এ উম্মাতের সর্বোত্তম মানুষ। পরিচ্ছন্ন অন্তঃকরণ হিসেবে ও পরিপূর্ণ জ্ঞানের দিক দিয়ে এবং দূরে ছিলেন কৃত্রিমতার দিক দিয়ে। আল্লাহ্‌ তা‘আলা তাদেরকে তাঁর প্রিয় রসূলের সাথী ও দ্বীন ক্বায়িমের জন্য মনোনীত করেছিলেন। সুতরাং তোমরা তাদের ফাযীলাত ও মর্যাদা বুঝে নাও। তাদের পদাংক অনুসরণ কর এবং যথাসাধ্য তাদের আখলাক্ব ও জীবন পদ্ধতি মজবুত করে আকঁড়ে ধর। কারণ তাঁরাই (আল্লাহ্‌ ও তাঁর রসূলের নির্দেশিত) সহজ-সরল পথের পথিক ছিলেন। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯৪

وعن جابر أن عمر بن الخطاب أتى رسول الله ﷺ بنسخة من التوراة فقال يا رسول الله هذه نسخة من التوراة فسكت فجعل يقرأ ووجه رسول الله يتغير فقال أبو بكر ثكلتك الثواكل ما ترى ما بوجه رسول الله ﷺ فنظر عمر إلى وجه رسول الله ﷺ فقال أعوذ بالله من غضب الله وغضب رسوله رضينا بالله ربا وبالإسلام دينا وبمحمد نبيا فقال رسول الله ﷺ والذي نفس محمد بيده لو بدا لكم موسى فاتبعتموه وتركتموني لضللتم عن سواء السبيل ولو كان حيا وأدرك نبوتي لاتبعني. رواه الدارمي

তিনি বলেন, ‘উমার ইবনুল খাত্ত্বাব (রাঃ) রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে তাওরাত কিতাবের একটি পাণ্ডুলিপি এনে বললেন, হে আল্লাহ্‌র রসূল! এটা হল তাওরাতের একটি পাণ্ডুলিপি। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) চুপ থাকলেন। এরপর ‘উমার (রাঃ) তাওরাত পড়তে আরম্ভ করলেন। (এদিকে রাগে) রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর চেহারা বিবর্ণ হতে লাগল। আবূ বাক্র (রাঃ) বললেন, ‘উমার! তোমার সর্বনাশ হোক। তুমি কি রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বিবর্ণ চেহারা মুবারক দেখছো না? ‘উমার (রাঃ) রসূলের চেহারার দিকে তাকালেন এবং (চেহারায় ক্রোধান্বিত ভাব লক্ষ্য করে) বললেন, আমি আল্লাহ্‌র গযব ও তাঁর রসূলের ক্রোধ হতে পানাহ চাচ্ছি। আমি ‘রব’ হিসেবে আল্লাহ্‌ তা‘আলার উপর, দ্বীন হিসেবে ইসলামের উপর এবং নাবী হিসেবে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উপর সন্তুষ্ট আছি। অতঃপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, “আল্লাহ্‌র কসম, যাঁর হাতে আমার জীবন! যদি (তাওরাতের নাবী স্বয়ং) মূসা (আঃ) তোমাদের মধ্যে থাকতেন আর তোমরা তাঁর অনুসরণ করতে আর আমাকে ত্যাগ করতে, তাহলে তোমরা সঠিক সরল পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে পথভ্রষ্ট হয়ে যেতে। মূসা (আঃ) যদি এখন জীবিত থাকতেন এবং আমার নবূওয়াতের যুগ পেতেন, তাহলে তিনিও নিশ্চয়ই আমার অনুসরণ করতেন। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯৫

وعنه قال قال رسول الله ﷺ كلامى لا ينسخ كلام الله وكلام الله ينسخ كلامى وكلام الله ينسخ بعضه بعضا

তিনি বলেন, রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমার কথা আল্লাহ্‌র কথাকে রহিত করতে পারে না, কিন্তু আল্লাহ্‌র কথা আমার কথাকে রহিত করে। এছাড়া কুরআনের একঅংশ অপরাংশকে রহিত করে। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯৬

وعن ابن عمر قال قال رسول الله ﷺ ان احاديثنا ينسخ بعضها بعضا كنسخ القران

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমার কোন হাদীস অপর হাদীসকে রহিত করে; যেমন কুরআনের কোন অংশ অপর অংশকে রহিত করে। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯৭

وعن ابي ثعلبة الخشني قال قال رسول الله ﷺ ان الله فرض فرائض فلا تضيعوها وحرم حرمات فلا تنتهكوها وحد حدودا فلا تعتدوها وسكت عن اشياء من غير نسيان فلا تبحثوا عنها. روى الأحاديث الثلاثة الدارقطني

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আল্লাহ্‌ তা‘আলা কিছু জিনিসকে ফার্য হিসেবে নির্ধারিত করে দিয়েছেন, সেগুলো ছেড়ে দিবে না। তিনি কিছু জিনিসকে হারাম করে দিয়েছেন সে (হারাম) কাজগুলো করবে না। আর কতকগুলো (জিনিসের) সীমা নির্ধারন করে দিয়েছেন, সেগুলোর সীমালঙ্ঘন করবে না। আর কিছু বিষয়ে তিনি ইচ্ছাকৃতভাবেই নীরব রয়েছেন, সে সকল বিষয়ে বিতর্ক-বাহাসে লিপ্ত হবে না। উপরের তিনটি হাদীসই দারাকুত্বনী বর্ণনা করেছেন। [১]


ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية