মিশকাতুল মাসাবিহ > প্রথম অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৪০
عن عائشة رضي الله عنها قالت قال رسول الله ﷺ من أحدث في أمرنا هذا ما ليس فيه فهو رد. متفق عليه
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আমাদের এ দীনে নতুন কিছু উদ্ভাবন করেছে যা এতে নেই, তা প্রত্যাখ্যাত। (বুখারী ও মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৪১
وعن جابر قال قال رسول الله ﷺ أما بعد فإن خير الحديث كتاب الله وخير الهدى هدى محمد وشر الأمور محدثاتها وكل بدعة ضلالة. رواه مسلم
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ অতঃপর নিশ্চয়ই সর্বোত্তম বাণী হচ্ছে আল্লাহ্ তা‘আলার কিতাব এবং সর্বোত্তম পথ হচ্ছে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পথ। আর সবচেয়ে নিকৃষ্ট বিষয় হল দীনে (মনগড়াভাবে) নতুন জিনিস সৃষ্টি করা এবং (এ রকম) সব নতুন সৃষ্টিই গুমরাহী (পথভ্রষ্ট)। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৪২
وعن ابن عباس قال قال رسول الله ﷺ أبغض الناس إلى الله ثلاثة ملحد في الحرم ومبتغ في الإسلام سنة الجاهلية ومطلب دم امرئ بغير حق ليهريق دمه. رواه البخاري
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তিন ব্যক্তি আল্লাহ্ তা‘আলার কাছে সবচেয়ে বেশী ঘৃণিত। (১) যে ব্যক্তি মাক্কার হারাম এলাকার মধ্যে নিষিদ্ধ ও গুনাহের কাজ করে। (২) যে ব্যক্তি ইসলামে থেকে (ইসলাম-পূর্ব) জাহিলী যুগের নিয়ম-নীতি অনুকরণ করে। (৩) যে ব্যক্তি বিনা অপরাধে শুধু অন্যায়ভাবে (রক্তপাতের উদ্দেশ্যে) কোন লোকের রক্তপাত ঘটায়। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৪৩
وعن أبي هريرة قال قال رسول الله ﷺ كل أمتي يدخلون الجنة الا من أبى قيل ومن أبى قال من أطاعني دخل الجنة ومن عصاني فقد أبى. رواه البخاري
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ‘আমার সকল উম্মত জান্নাতে যাবে, যে অস্বীকার করবে সে ব্যতীত। জিজ্ঞেস করা হল, কে অস্বীকার করবে? তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, যারা আমার আনুগত্য স্বীকার করেছে তারা জান্নাতে যাবে। আর যে ব্যক্তি আমার অবাধ্য হলো সে-ই (জান্নাতে যেতে) অস্বীকার করেল (অতএব সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে)। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৪৪
وعن جابر قال جاءت ملائكة إلى النبي ﷺ وهو نائم فقالوا إن لصاحبكم هذا مثلا فاضربوا له مثلا قال بعضهم إنه نائم وقال بعضهم إن العين نائمة والقلب يقظان فقالوا مثله كمثل رجل بنى دارا وجعل فيها مأدبة وبعث داعيا فمن أجاب الداعي دخل الدار وأكل من المأدبة ومن لم يجب الداعي لم يدخل الدار ولم يأكل من المأدبة فقالوا أولوها له يفقهها قال بعضهم إنه نائم وقال بعضهم إن العين نائمة والقلب يقظان فقالوا الدار الجنة والداعي محمد فمن أطاع محمدا فقد أطاع الله ومن عصى محمدا فقد عصى الله ومحمد فرق بين الناس. رواه البخاري
তিনি বলেন, একদা একদল মালাক (ফেরেশতা) নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে আসলেন। এ সময় তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শুয়েছিলেন। মালয়িকাহ্ (ফেরেশতাগণ) পরস্পরে বলাবলি করলেন, তোমাদের সাথী [মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)] সম্পর্কে একটি উদাহরণ রয়েছে। তাঁর সামনেই উদাহরণটি বলো। তখন একজন বললেন, তিনি তো ঘুমিয়ে আছেন। আবার একজন বললেন, তাঁর চোখ ঘুমালেও তাঁর মন সর্বদা জাগ্রত। তাঁর উদাহরণ হলে সে ব্যক্তির ন্যায়, যিনি একটি ঘর বানিয়েছেন। অতঃপর মানুষকে আহার করানোর জন্য দস্তরখান বিছালেন, তারপর মানুষকে ডাকবার জন্য আহ্বায়ক পাঠালেন। যারা আহ্বানকারীর আহ্বানে সাড়া দিল তারা ঘরে প্রবেশ করল এবং খাবারও খেল। আর যারা আহ্বানকারীর আহ্বানে সাড়া দিল না, তারা না ঘরে প্রবেশ করতে পারল আর না খাবারও পেল। এসব কথা শুনে তারা (মালায়িকাহ্) পরস্পর বললেন, এ কথাটার তাৎপর্য বর্ণনা কর যাতে তিনি কথাটা বুঝতে পারেন। এবারও কেউ বললেন, তিনি তো ঘুমিয়ে। আর কেউ বললেন, তাঁর চোখ ঘুমিয়ে থাকলেও অন্তর জেগে আছে। তারা বললেন, ‘ঘরটি’ হল জান্নাত আর আহ্বায়ক হলেন মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (ঘর ও মেহমানদারী প্রস্তুতকারী হলেন আল্লাহ্ তা‘আলা)। সুতরাং যে ব্যক্তি মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর অবাধ্য হল সে আল্লাহ্র অবাধ্য হল। মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হলেন মানুষের মধ্যে (মুসলিম ও কাফিরের) পার্থক্য নিধারণকারী মানদণ্ড। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৪৫
وعن انس قال جاء ثلثة رهط إلى أزواج النبي ﷺ يسئلون عن عبادة النبي ﷺ فلما أخبروا بها كأنهم تقالوها فقالوا أين نحن من النبي ﷺ وقد غفر له ما تقدم من ذنبه وما تأخر فقال أحدهم أما أنا فاصلى الليل أبدا وقال الاۤخر أنا أصوم النهار ابدا ولا أفطر وقال الاۤخر أنا أعتزل النساء فلا أتزوج أبدا فجاء النبي ﷺ إليهم فقال أنتم الذين قلتم كذا وكذا أما والله إني لاخشاكم لله وأتقاكم له لكني أصوم وأفطر وأصلي وأرقد وأتزوج النساء فمن رغب عن سنتي فليس مني. متفق عليه
তিনি বলেন, একদা তিন ব্যক্তি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ‘ইবাদাতের অবস্থা জানার জন্য তাঁর স্ত্রীগণের নিকট এলে। নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ‘ইবাদাতের খবর শুনে তারা যেন তাঁর ইবাদাতকে কম মনে করলেন এবং পরস্পর আলাপ করলেন: নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে আমাদের তুলনা কোথায়, আল্লাহ্ তা‘আলা তাঁর আগের-পরের (গোটা জীবনের) সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন। অতঃপর তাদের একজন বললেন, আমি কিন্তু সারা রাত সলাত আদায় করবো। দ্বিতীয়জন বললেন, আমি দিনে সিয়াম পালন করবো, আর কখনো তা ত্যাগ করব না। তৃতীয়জন বললেন, আমি নারী থেকে দূরে থাকব, কখনো বিয়ে করবো না। তাদের পারস্পরিক আলাপ-আলোচনার সময় নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এসে পড়লেন এবং বললেন, তোমরা কী ধরনের কথাবর্তা বলছিলে? আল্লাহ্র কসম! আমি আল্লাহ্কে তোমাদের চেয়ে বেশী ভয় করি, তোমাদের চেয়ে বেশী পরহেয করি। কিন্তু এরপরও আমি কোন দিন সিয়াম পালন করি আবার কোন দিন সিয়াম পালন করা ছেড়ে দেই। রাতে সলাত আদায় করি আবার ঘুমিয়েও থাকে। আমি বিয়েও করি। সুতরাং এটাই আমার সুন্নাত (পথ), যে ব্যক্তি আমার পথ থেকে বিমূখ হবে সে আমার (উম্মাতের) মধ্যে গণ হবে না। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৪৬
وعن عائشة قالت صنع رسول الله ﷺ شيئا فرخص فيه فتنزه عنه قوم فبلغ ذلك رسول الله ﷺ فخطب فحمد الله ثم قال ما بال أقوام يتنزهون عن الشيء أصنعه فوالله إني لأعلمهم بالله وأشدهم له خشية. متفق عليه
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একটি কাজ করলেন (অর্থাৎ সফরে সিয়াম ভঙ্গ করলেন), অন্যদেরকেও তা করার জন্য অনুমতি দিলেন। কিন্তু কতক লোক তা থেকে বিরত থাকল (অর্থাৎ সিয়াম ভাঙ্গল না)। এ সংবাদ শুনে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) খুত্বাহ্ দিলেন, হাম্দ-সানা পড়ার পর বললেন, লোকদের কী হল? তারা এমন কাজ হতে বিরত থাকছে যা আমি করছি। আল্লাহ্র কসম! আমি তাঁকে (আল্লাহ্কে) তাদের চেয়ে অধিক জানি ও তাদের চেয়ে বেশী ভয় করি। (সুতরাং আমি যে কাজ করতে দ্বিধাবোধ করি না, তারা তা করতে ইতঃস্তত করবে কেন?)। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৪৭
وعن رافع بن خديج قال قدم نبي الله ﷺ المدينة وهم يأبرون النخل فقال ما تصنعون قالوا كنا نصنعه قال لعلكم لو لم تفعلوا كان خيرا فتركوه فنقصت قال فذكروا ذلك له فقال إنما أنا بشر إذا أمرتكم بشيء من امر دينكم فخذوا به وإذا أمرتكم بشيء من رأيي فإنما أنا بشر. رواه مسلم
তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যে সময় মাদীনায় (হিজরত করে) আসলেন, সে সময় মাদীনার লোকেরা খেজুর গাছে তা‘বীর করতেন। নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা এরূপ করছ কেন? মাদীনাবাসী উত্তর দিল, আমরা বরাবরই এমনি করে আসছি। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, মনে হয় তোমরা এমন না করলেই ভাল হত। তাই মাদীনাবাসীরা এ কাজ করা পরিত্যাগ করল। কিন্তু ফসল (এ বছর) কম হল। বর্ণনাকারী বলেন, এ কথা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কানে গেলে তিনি বললেন, ‘নিশ্চয়ই আমি একজন মানুষ। তাই আমি যখন তোমাদেরকে দ্বীন সম্পর্কে কোন বিষয়ে নির্দেশ দেই, তখন তোমরা অবশ্যই আমার কথা শুনবে। আর আমি যখন নিজের মতানুসারে দুনিয়ার বিষয় সম্পর্কে তোমাদেরকে কিছু বলব তখন মনে করবে, আমি একজন মানুষ (তাই দুনিয়ার ব্যাপারে আমারও ভুল হতে পারে)। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৪৮
وعن ابى موسى قال قال رسول الله ﷺ إنما مثلي ومثل ما بعثني الله به كمثل رجل أتى قوما فقال يا قوم إني رأيت الجيش بعيني وإني أنا النذير العريان فالنجاء النجاء فأطاعه طائفة من قومه فأدلجوا فانطلقوا على مهلهم فنجوا وكذبت طائفة منهم فأصبحوا مكانهم فصبحهم الجيش فأهلكهم واجتاحهم فذلك مثل من أطاعني فاتبع ما جئت به ومثل من عصاني وكذب ما جئت به من الحق. متفق عليه
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: আমার এবং যে ব্যাপারটি দিয়ে আল্লাহ্ আমাকে পাঠিয়েছেন তার উদাহরণ হল, যেমন- এক ব্যক্তি তার জাতির নিকট এসে বলল, হে আমার জাতি! আমি আমার এ দুই চোখে শত্রু বাহিনী দেখে এসেছি। আমি হচ্ছি তোমাদের একজন নাঙ্গা (নিঃস্বার্থ) সাবধানকারী। অতএব তোমরা শীঘ্রই তোমাদের মুক্তির পথ খোঁজ কর (তাহলে মুক্তি পাবে)। একথা শুনে জাতির একদল লোক তার কথা (বিশ্বাস করে) মেনে নিল। রাতেই তারা (শত্রুর হাত থেকে রক্ষা পাবার জন্য) ধীরে-সুস্থে চলে গেল এবং তারা মুক্তি পেল। জাতির অপর একদল তাঁকে মিথ্যুক মনে করল (তাই ভোর পর্যন্ত নিজেদের স্থানেই রয়ে গেল)। ভোরে অতর্কিতে শত্রু সৈন্য এসে তাদের উপর আপতিত হল এবং তাদেরকে সমূলে ধ্বংস ও বিনষ্ট করে দিল। এই হল সে ব্যক্তির উদাহরণ- যে আমার কথা স্বীকার করেছে, আমি যা এনেছি তার অনুসরণ করেছে। আর সে ব্যক্তির উদাহরণ- যে আমার কথা মানেনি ও আমি যে সত্য নিয়ে (দীন ও শারী‘আত) তাদের নিকট এসেছি, তাকে তারা মিথ্যা মনে করেছে। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৪৯
وعن أبي هريرة قال قال رسول الله ﷺ مثلي كمثل رجل استوقد نارا فلما أضاءت ما حولها جعل الفراش وهذه الدواب التي تقع في النار يقعن فيها وجعل يحجزهن ويغلبنه فيتقحمن فيها فانا اۤخذ بحجزكم عن النار وانتم تقحمون فيها- هذه رواية البخاري ولمسلم نحوها وقال فى اۤخرها قال فذلك مثلي ومثلكم أنا اۤخذ بحجزكم عن النار هلم عن النار هلم عن النار فتغلبوني تقحمون فيها. متفق عليه
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: আমার উদাহরণ হল সে ব্যক্তির ন্যয় যে আগুন জ্বালাল এবং আগুন যখন তার চারদিক আলোকিত করল, তখন পতঙ্গসমূহ ও পোকা-মাকড় দলে দলে প্রজ্জ্বলিত আগুনে এসে ঝাঁপ দিয়ে পড়তে লাগল, আর আগুন প্রজ্জ্বলনকারী সেগুলোকে বাধা দিতে লাগল। কিন্তু তারা বাধা উপেক্ষা করে ঝাঁপিয়ে পড়তেই থাকল। ঠিক তদ্রূপ আমিও (হে মানবজাতি!) তোমাদেরকে পেছন থেকে তোমাদের কোমর ধরে আগুন হতে (বাঁচাবার জন্য) টানছি। আর তোমরা সে আগুনে ঝাঁপিয়ে পড়ছ। ইমাম বুখারী এরূপ বর্ণনা করেছেন। ইমাম মুসলিমও সামান্য শাব্দিক পরিবর্তনের সাথে এ পর্যন্ত একই রূপ বর্ণনা করেছেন। তবে শেষের দিকে কিছু বাড়িয়ে এরূপ বলেছেন, অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, এটাই হল আমার ও তোমাদের উদাহরণ। আমি কোমর ধরে তোমাদেরকে আগুন থেকে (বাঁচানোর জন্য) টানছি ও বলছি, এসো আমার দিকে, আগুন থেকে দূরে থাক; এসো আমার দিকে, আগুন থেকে দূরে থাক। কিন্তু তোমরা আমাকে পরাস্ত করে আগুনে ঝাঁপিয়ে পড়ছ। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৫০
وعن ابي موسى قال قال رسول الله ﷺ مثل ما بعثني الله به من الهدى والعلم كمثل الغيث الكثير أصاب أرضا فكانت منها طائفة طيبة قبلت الماء فأنبتت الكلأ والعشب الكثير وكانت منها أجادب أمسكت الماء فنفع الله بها الناس فشربوا وسقوا وزرعوا وأصاب منها طائفة أخرى إنما هي قيعان لا تمسك ماء ولا تنبت كلأ فذلك مثل من فقه في دين الله ونفعه بما بعثني الله به فعلم وعلم ومثل من لم يرفع بذلك رأسا ولم يقبل هدى الله الذي أرسلت به. متفق عليه
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: আল্লাহ্ তা‘আলা আমাকে যে হিদায়াত ও ‘ইল্ম দিয়ে পাঠিয়েছেন তার দৃষ্টান্ত হল জমিনে মুষলধারে বৃষ্টি, যা কোন ভূখণ্ডে পড়েছে। সে ভূখণ্ডের একাংশ উৎকৃষ্ট, যা বৃষ্টিকে চুষে নিয়েছে এবং প্রচুর উদ্ভিদ, গাছ-গাছালি ও ঘাস জন্ম দিয়েছে। আর অপর অংশ ছিল কঠিন ও গভীর, যা পানি (শোষণ না করে) আটকিয়ে রেখেছে। যার দ্বারা মানুষের উপকার সাধন করেছে। লোকেরা তা পান করেছে, অন্যকে পান করিয়েছে এবং তার দ্বারা ক্ষেত-খামারে কৃষি কাজ করেছে। আর কিছু বৃষ্টি ভূমির সমতল ও কঠিন জায়গায় পড়েছে, যা পানি আটকিয়ে রাখেনি বা শোষণ করেনি অথবা গাছপালা জন্মায়নি। এটা হল সে ব্যক্তির উদাহরণ যে আল্লাহ্র দ্বীন সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করেছে ও (মানুষকে) শিক্ষা দিয়েছে। আর সে ব্যক্তির উদাহরণ, যে এর দিকে মাথা তুলেও তাকায়নি এবং আল্লাহ্র যে হিদায়াত দিয়ে আমাকে পাঠানো হয়েছে তা কবূলও করেনি। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৫১
وعن عائشة قالت تلا رسول الله ﷺ (هو الذىۤ أنزل عليك الكتب منه ايت محكمت) وقرأ إلى (وما يذكر الاۤ أولو الألباب) قالت قال رسول الله ﷺ فاذا رأيتم الذين يتبعون ما تشابه منه فأولئك الذين سماهم الله فاحذروهم. متفق عليه
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কুরআনের এ আয়াত পাঠ করলেন- “তিনি তোমার উপর এ কিতাব নাযিল করেছেন, যার কতক আয়াত মুহকাম” হতে “আর বোধশক্তি সম্পন্নরা ছাড়া অপর কেউ শিক্ষা লাভ করে না” পর্যন্ত- (সূরাহ্ আ-লি ‘ইমরাম ৩:৭)। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, অতঃপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: যে সময় তুমি দেখবে, মুসলিমের বর্ণনায় আছে, ‘যখন তোমরা দেখ যে, লোকেরা কুরআনের ‘মুতাশাবিহ’ আয়াতের অনুসরণ করছে (তখন মনে করবে), এরাই সে সকল লোক আল্লাহ্ তা’আলা (বাঁকা হৃদয়ের লোক বলে) যাদের উল্লেখ করেছেন। সুতরাং তাদের থেকে সতর্ক থাকবে। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৫২
وعن عبد الله بن عمرو قال هجرت إلى رسول الله ﷺ يوما قال فسمع أصوات رجلين اختلفا في اۤية فخرج علينا رسول الله ﷺ يعرف في وجهه الغضب فقال إنما هلك من كان قبلكم باختلافهم في الكتاب. رواه مسلم
তিনি বলেন, একদিন দুপুর বেলায় আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর দরবারে পৌঁছলাম। (‘আবদুল্লাহ বলেন,) তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তখন দু’জন লোকের স্বর শুনলেন। তারা একটি (মুতাশাবিহ) আয়াতের ব্যাপারে তর্কবিতর্ক করছিল (অর্থাৎ আয়াতের অর্থ নিয়ে ঝগড়ায় লিপ্ত ছিল)। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের নিকট বের হয়ে এলেন, তখন তাঁর চেহারায় রাগের ভাব প্রকাশ পাচ্ছিল। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তোমাদের আগের লোকেরা আল্লাহ্র কিতাব নিয়ে মতভেদ করার দরুনই ধ্বংস হয়েছে। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৫৩
وعن سعد بن ابى وقاص قال قال رسول الله ﷺ إن أعظم المسلمين في المسلمين جرما من سأل عن شيء لم يحرم على الناس فحرم من أجل مسألته. متفق عليه
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: মুসলিমদের মধ্যে সে-ই সর্বাপেক্ষা বড় অপরাধী, যে ব্যক্তি এমন কোন বিষয়ে (নাবীকে) প্রশ্ন করেছে, যা মানুষের জন্য পূর্বে হারাম ছিল না, কিন্তু তার প্রশ্ন করার দরুন হারাম হয়ে গছে। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৫৪
وعن أبي هريرة قال قال رسول الله ﷺ يكون في آخر الزمان دجالون كذابون يأتونكم من الأحاديث بما لم تسمعوه أنتم ولا اباؤكم فإياكم وإياهم لا يضلونكم ولا يفتنونكم. رواه مسلم
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: শেষ যামানায় এমন মিথ্যুক দাজ্জাল লোক হবে, যারা তোমাদের কাছে এমন সব (মনগড়া) হাদীস নিয়ে উপস্থিত হবে যা তোমরা শুনোনি, তোমাদের বাপ-দাদারাও শুনেননি। অতএব সাবধান! তাদের থেকে দূরে থাকবে, যাতে তারা তোমাদেরকে গুমরাহ করতে বা বিপদে ফেলতে না পারে। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৫৫
وعنه قال كان أهل الكتاب يقرءون التوراة بالعبرانية ويفسرونها بالعربي لأهل الإسلام فقال رسول الله ﷺ لا تصدقوا أهل الكتاب ولا تكذبوهم و﴿قولوا آمنا بالله وما أنزل إلينا﴾ الآية. رواه البخاري
তিনি বলেন, আহলে কিতাবগণ তাওরাত কিতাব হিব্রু ভাষায় পাঠ করত (এটা ইয়াহূদীদের ভাষা ছিল)। আর মুসলিমদেরকে তা আরবী ভাসায় বুঝাত। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (তাদের ব্যাপারে সহাবীগণকে) বললেন, তোমরা আহলে কিতাবদেরকে সমর্থনও করো না, আবার মিথ্যা প্রতিপন্নও করো না। সুতরাং তোমরা তাদের বলবে, “আমরা আল্লাহ্র ওপর ঈমান এনেছি, আর যা আমাদের ওপর নাযিল করা হয়েছে”- (সূরাহ্ আল বাক্বারাহ্ ২: ১৩৬) আয়াতের শেষ পর্যন্ত। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৫৬
وعنه قال قال رسول الله ﷺ كفى بالمرء كذبا أن يحدث بكل ما سمع. رواه مسلم
তিনি বলেন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: কোন লোকের মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে যা শুনে (সত্যতা যাচাই না করে) তা-ই বলে বেড়ায়। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৫৭
وعن ابن مسعود قال قال رسول الله ﷺ ما من نبي بعثه الله في أمته قبلي الا كان له في أمته حواريون وأصحاب يأخذون بسنته ويقتدون بأمره ثم إنها تخلف من بعدهم خلوف يقولون ما لا يفعلون ويفعلون ما لا يؤمرون فمن جاهدهم بيده فهو مؤمن ومن جاهدهم بلسانه فهو مؤمن ومن جاهدهم بقلبه فهو مؤمن وليس وراء ذلك من الإيمان حبة خردل. رواه مسلم
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: আমার পূর্বে আল্লাহ্ তা‘আলা এমন কোন নাবীকে তাঁর উম্মাতের মধ্যে পাঠাননি, যাঁর উম্মাতের মধ্যে কোন সাহায্যকারী বা সহাবীর দল ওই উম্মাতে ছিল না। এ তারা সুন্নাতের পথ অনুসরণ করেছে, তার হুকুম-আহকাম মেনে চলেছে। তারপর এমন লোক তাদের স্থলাভিষিক্ত হল, যারা অন্যদেরকে যা বলত নিজেরা তা করত না। আর তারা সে সব কাজ করত যার আদেশ (শারী‘আতে) তাদেরকে দেয়া হয়নি। (আমার উম্মাতের মধ্যেও এমন কতিপয় লোক থাকতে পারে)। তাই যে নিজের হাত দ্বারা তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করবে সে (পূর্ণ) মু’মিন। আর যে মুখের দ্বারা তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করবে সেও মু’মিন। আর যে অন্তর দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করবে সেও মু’মিন। আর এরপর সরিষার দানা পরিমাণও ঈমান নেই। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৫৮
وعن أبي هريرة قال قال رسول الله ﷺ من دعا إلى هدى كان له من الأجر مثل أجور من تبعه لا ينقص ذلك من أجورهم شيئا ومن دعا إلى ضلالة كان عليه من الإثم مثل اۤثام من تبعه لا ينقص ذلك من اۤثامهم شيئا. رواه مسلم
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন লোককে সৎ কাজের দিকে আহ্বান করবে, তার জন্যও সে পরিমাণ সাওয়াব রয়েছে যা তার অনুসারীদের জন্য রয়েছে, অথচ তাদের সাওয়াবের কোন অংশ একটুও কমবে না। অনুরূপ যে ব্যক্তি কাউকে গোমরাহীর দিকে আহ্বান করে তারও সে পরিমাণ গুনাহ হবে, যতটুকু গুনাহ তার অনুসারীদের জন্য হবে। অথচ এটা অনুসারীদের গুনাহ্কে একটুও কমাবে না। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৫৯
وعنه قال قال رسول الله ﷺ بدأ الإسلام غريبا وسيعود كما بدأ فطوبى للغرباء. رواه مسلم
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ইসলাম আগন্তুকের (অপরিচিতের) ন্যায় (স্বল্প সংখ্যক লোকের মাধ্যমে অপরিচিত ও নিঃসঙ্গ অবস্থায়) শুরু হয়েছে এবং তা পরিশেষে ঐ অবস্থায় প্রত্যাবর্তন করবে, যেভাবে শুরু হয়েছে। তাই আগন্তুকের (ঈমানদার লোকদের) জন্য সুসংবাদ। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৬০
وعنه قال قال رسول الله ﷺ إن الإيمان ليأرز إلى المدينة كما تأرز الحية إلى جحرها. متفق عليه وسنذكر حديث أبي هريرة ذروني ما تركتكم فى كتاب المناسك وحديثى معاوية وجابر لا يزال من امتى ولا يزال طائفة من امتى فى باب ثواب هذه الامة ان شاء الله تعالى
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: ইসলাম মাদীনার দিকে এভাবে ফিরে আসবে যেভাবে সাপ (পরিশেষে) তার গর্তে ফিরে আসে- (বুখারী ও মুসলিম)। [১] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) এর হাদীস “যারূনী মা-ত্বরাক্তুকুম” কিতাবুল মানাসিকে এবং মু’আবিয়াহ্ এবং জাবির (রাঃ) এর হাদীস দু’টি “লা- ইয়াযা-লু মিন উম্মাতী” এবং “লা- ইয়াযা-লু ত্ব-য়িফাতুম্ মিন উম্মাতী”। আমরা শীঘ্রই “সাওয়া-বি হা-যিহিল উম্মাতি” অধ্যায়ে বর্ণনা করব ইনশা-আল্লাহ্।
মিশকাতুল মাসাবিহ > দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৬১
عن ربيعة الجرشي قال أتي نبى الله ﷺ فقيل له لتنم عينك ولتسمع أذنك وليعقل قلبك قال فنامت عيناي وسمعت أذناي وعقل قلبي قال فقيل لي سيد بنى دارا فصنع فيها مأدبة وأرسل داعيا فمن أجاب الداعي دخل الدار وأكل من المأدبة ورضي عنه السيد ومن لم يجب الداعي لم يدخل الدار ولم يأكل من المأدبة وسخط عليه السيد قال فالله السيد ومحمد الداعي والدار الإسلام والمأدبة الجنة. رواه الدارمي
তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে স্বপ্নে কতক মালাক দেখানো হল এবং মালাক তাঁকে (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আপনার চোখ ঘুমিয়ে থাকুক, কান শুনতে থাকুক এবং অন্তর বুঝতে থাকুক। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আমার চোখ দু’টি ঘুমাল, আমার কান দু’টি শুনল এবং আমার অন্তর বুঝল। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তখন আমাকে (অর্থাৎ দৃষ্টান্ত স্বরূপ) বলা হল, যেন একজন মহৎ ব্যক্তি একটি ঘর তৈরি করলেন এবং এতে দা’ওয়াতের ব্যবস্থা করলেন। অতঃপর (লোকেদের আহ্বানের জন্য) একজন আহ্বানকারীকে পাঠালেন। অতঃপর যে ব্যক্তি আহ্বানকারীর আহ্বানে সাড়া দিল, সে ঘরে প্রবেশ করতে পারল এবং খেতেও পারল। আর গৃহস্বামীও তার প্রতি সন্তুষ্ট হলেন। অপরদিকে যে ব্যক্তি আহ্বানকারীর আহ্বানে সাড়া দিল না, সে ঘরেও ঢুকল না, খেতেও পারল না এবং গৃহস্বামীও তার উপর অসন্তুষ্ট হলেন। অতঃপর মালায়িকাহ্ (এর ব্যাখ্যারূপে) বললেন, এ দৃষ্টান্তের গৃহস্বামী হলেন আল্লাহ্, আহ্বানকারী হলেন মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং ঘর হল ইসলাম এবং খাবারের স্থান হল জান্নাত। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৬২
وعن أبي رافع قال قال رسول الله ﷺ لا ألفين أحدكم متكئا على أريكته يأتيه الأمر من أمري مما أمرت به أو نهيت عنه فيقول لا ادري ما وجدنا في كتاب الله اتبعناه. رواه أحمد وأبو داوٗد والترمذي وابن ماجة والبيهقى فى دلائل النبوة
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: আমি তোমাদের কাউকেও যেন এরূপ অবস্থায় না দেখি যে, সে তার গদিতে হেলান দিয়ে বসে থাকবে। আর তার নিকট আমার নির্দেশাবলীর কোন একটি পৌঁছবে, যাতে আমি কোন বিষয় আদেশ করেছি অথবা কোন বিষয় নিষেধ করেছি। তখন সে বলবে, আমি এসব কিছু জানি না, যা কিছু আমি আল্লাহ্র কিতাবে পাব তার অনুসরণ করব। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৬৩
وعن المقدام بن معديكرب قال قال رسول الله ﷺ ألا إني أوتيت القراۤن ومثله معه ألا يوشك رجل شبعان على أريكته يقول عليكم بهذا القرآن فما وجدتم فيه من حلال فأحلوه وما وجدتم فيه من حرام فحرموه وان ما حرم رسول الله ﷺ كما حرم الله، ألا لا يحل لكم الحمار الأهلي ولا كل ذي ناب من السبع ولا لقطة معاهد الا أن يستغني عنها صاحبها ومن نزل بقوم فعليهم أن يقروه فإن لم يقروه فله أن يعقبهم بمثل قراه. رواه أبو داوٗد وروى الدارمي نحوه وكذا ابن ماجة الى قوله كما حرم الله
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: সাবধান! আমাকে কুরআন দেয়া হয়েছে এবং তার সাথে তার অনুরূপ জিনিসও। জেনে রেখ, শীঘ্রই এমন এক সময় এসে যাবে, যখন কোন উদরভর্তি বড় লোক তার গদিতে বসে বলবে, তোমরা কেবল এ কুরআনকেই গ্রহণ করবে। এতে যা হালাল পাবে তাকেই হালাল জানবে এবং যা এতে হারাম পাবে তাকেই হারাম মনে করবে। অথচ রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যা হারাম বলেছেন, তা আল্লাহ্ যা হারাম করেছেন তারই অনুরূপ। তাই জেনে রেখ! গৃহপালিত গাধা তোমাদের জন্য হালাল নয় এবং শিকারী দাঁতওয়ালা কোন হিংস্র পশুও হালাল নয়। এমতাবস্থায় মুসলিম রাষ্ট্রের অমুসলিম নাগরিকের কোন হারানো বস্তুও তোমাদের জন্য হালাল নয়, তবে সে যদি সেটির মুখাপেক্ষী না হয় সেক্ষেত্রে ভিন্ন কথা। যখন কোন লোক কোন সম্প্রদায়ের নিকট পৌঁছে, তাদের উচিত ঐ লোকের মেহমানদারি করা। যদি তারা তার মেহমানদারি না করে তবে সে জোরপূর্বক তাদের নিকট থেকে তার মেহমানদারির সম-পরিমাণ জিনিস আদায় করার অধিকার রাখবে। (অথচ কুরআনে এ সকল বিষয়ের উল্লেখ নেই)। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৬৪
وعن العرباض بن سارية قام رسول الله ﷺ فقال أيحسب أحدكم متكئا على أريكته يظن أن الله لم يحرم شيئا الا ما في هذا القرآن ألا وإني والله قد وعظت ونهيت عن أشياء إنها لمثل القرآن أو أكثر وإن الله لم يحل لكم أن تدخلوا بيوت أهل الكتاب الا بإذن ولا ضرب نسائهم ولا أكل ثمارهم إذا أعطوكم الذي عليهم. رواه أبو داوٗد وفى اسناده اشعث ابن شعبة المصيصى قد تكلم فيه
তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) খুত্বাহ্ দিতে উঠে বললেন, তোমাদের মধ্যে কেউ কি নিজের গদিতে ঠেস দিয়ে বসে এ কথা মনে করে যে, আল্লাহ্ তা‘আলা যা কিছু এ কুরআনে হারাম করেছেন তা ব্যতীত তিনি আর কিছুই হারাম করেননি? জেনে রেখ, আল্লাহ্র কসম! নিঃসন্দেহে আমি নির্দেশ করেছি, আমি উপদেশ দিয়েছি এবং অনেক বিষয় নিষেধও করেছি, আর এর পরিমাণ কুরআনের হুকুমের সমান, বরং এর চেয়ে অধিক হবে। তোমরা মনে রাখবে যে, অনুমতি ব্যতীত আহলে কিতাব যিম্মীদের বাসগৃহে প্রবেশ করা, তাদের নারীদের প্রহার করা এবং তাদের ফসল বা শস্য খাওয়াকেও আল্লাহ্ তা‘আলা তোমাদের জন্য হালাল করেননি, যদি তারা তাদের উপর ধার্যকৃত কর আদায় করে দেয় (এসব বিষয় কুরআনে নেই, আমার দ্বারাই আল্লাহ্ এসব হারাম করেছেন)। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৬৫
وعنه قال صلى بنا رسول الله ﷺ ذات يوم ثم أقبل علينا بوجهه فوعظنا موعظة بليغة ذرفت منها العيون ووجلت منها القلوب فقال رجل يا رسول الله كأن هذه موعظة مودع فاوصنا فقال أوصيكم بتقوى الله والسمع والطاعة وإن كان عبدا حبشيا فإنه من يعش منكم بعدي فسيرى اختلافا كثيرا فعليكم بسنتي وسنة الخلفاء الراشدين المهديين تمسكوا بها وعضوا عليها بالنواجذ وإياكم ومحدثات الأمور فإن كل محدثة بدعة وكل بدعة ضلالة. روه أحمد وأبو داوٗد والترمذي وابن ماجة الا انهما لم يذكرا الصلوة
তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের সলাত আদায় করালেন। অতঃপর আমাদের দিকে মুখ ঘুরিয়ে বসে গেলেন। আমাদের উদ্দেশ্যে এমন মর্মস্পর্শী নাসীহাত করলেন যাতে আমাদের চোখ গড়িয়ে পানি বইতে লাগল। অন্তরে ভয় সৃষ্টি হল মনে হচ্ছিল বুঝি উপদেশ দানকারীর যেন জীবনের এটাই শেষ উপদেশ। এক ব্যক্তি আবেদন করল, হে আল্লাহ্র রসূল! আমাদেরকে আরো কিছু উপদেশ দিন। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আমি তোমাদের আল্লাহ্ তা‘আলাকে ভয় করার, (ইমাম বা নেতার) আদেশ শোনার ও (তার) অনুগত থাকতে উপদেশ দিচ্ছি, যদিও সে (নেতা ইমাম) হাবশী গোলাম হয়। আমার পরে তোমাদের যে ব্যক্তি বেঁচে থাকবে সে অনেক মতভেদ দেখবে। এমতাবস্থায় তোমাদের কর্তব্য হবে আমার সুন্নাতকে ও হিদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশিদ্বীনের সুন্নাতকে আঁকড়িয়ে ধরা এবং এ পথ ও পন্থার উপর দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে থাকবে। সাবধান! দ্বীনের ভেতরে নতুন নতুন কথার (বিদ‘আত) উদ্ভব ঘটানো হতে বেঁচে থাকবে। কেননা প্রত্যেকটা নতুন কথাই [বা কাজ শারী‘আতে আবিষ্কার করা যা রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং সহাবীগণ করেননি তা] বিদ‘আত এবং প্রত্যেকটা বিদ‘আতই ভ্রষ্টতা। কিন্তু এ বর্ণনায় তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ সলাত আদায়ের কথা উল্লেখ করেননি। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৬৬
وعن عبد الله بن مسعود قال خط لنا رسول الله ﷺ خطا ثم قال هذا سبيل الله ثم خط خطوطا عن يمينه وعن شماله وقال هذه سبل على كل سبيل منها شيطان يدعو إليه وقرأ وإن هذا صراطي مستقيما فاتبعوه الاۤية. رواه أحمد والنسائي والدارمي
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (আমাদেরকে বুঝাবার উদ্দেশে) একটি (সরল) রেখা টানলেন এবং বললেন, এটা আল্লাহ্র পথ। এরপর তিনি এ রেখার ডানে ও বামে আরো কয়েকটি রেখা টানলেন এবং বললেন, এগুলোও পথ। এসব প্রত্যেক পথের উপর শয়তান দাঁড়িয়ে থাকে। এরা (মানুষকে) তাদের পথের দিকে আহ্বান করে। অতঃপর তিনি তাঁর কথার প্রমাণ স্বরূপ কুরআনের এ আয়াত পাঠ করলেন : “নিশ্চয়ই এটাই আমার সহজ সরল পথ। অতএব তোমরা এ পথের অনুসরণ করে চলো...” (সূরাহ্ আন’আম ৬:১৬৩) আয়াতের শেষ পর্যন্ত)। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৬৭
وعن عبد الله بن عمرو قال قال رسول الله ﷺ لا يؤمن أحدكم حتى يكون هواه تبعا لما جئت به. رواه فى شرح السنة وقال النووى فى اربعينه هذا حديث صحيح رويناه فى كتاب الحجة باسناد صحيح
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত মু’মিন হতে পারবে না যতক্ষণ না তার মনের প্রবৃত্তি আমার আনা দ্বীন ও শরী‘আতের অধীন না হবে-(শারহে সুন্নাহ)। ইমাম নাবাবী তার “আরবা‘ঈন” গ্রন্থে বলেছেন, এটা একটা সহীহ হাদীস। আমরা কিতাবুল হুজ্জাত-এ হাদীসটি সহীহ সানাদসহ বর্ণনা করিছে। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৬৮
وعن بلال بن الحارث المزني قال قال رسول الله ﷺ من أحيا سنة من سنتي قد أميتت بعدي فإن له من الأجر مثل اجور من عمل بها من غير أن ينقص من أجورهم شيئا ومن ابتدع بدعة ضلالة لا يرضاها الله ورسوله كان عليه من الاثم مثل اۤثام من عمل بها لا ينقص ذلك من أوزارهم شيئا. ورواه الترمذي
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: যে ব্যক্তি আমার কোন একটি সুন্নাতকে যিন্দা করেছে, যে সুন্নাত আমার পরে ছেড়ে দেয়া হয়ছিল, তার এত সাওয়াব হবে যত সাওয়াব এ সুন্নাত ‘আমালকারীদের হবে, কিন্তু সুন্নাতের উপর ‘আমালকারীদের সাওয়াবে কোন অংশ হ্রাস করা হবে না। আর যে ব্যক্তি গুমরাহীর নতুন (বিদ‘আত) পথ সৃষ্টি করবে, যাতে আল্লাহ্ ও তাঁর রসূল রাযী-খুশী নন, তার জন্য সে সকল লোকের গুনাহ চাপিয়ে দেয়া হবে, যারা তার সাথে ‘আমাল করবে, অথচ তাদের গুনাহের কোন অংশ হ্রাস করবে না। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৬৯
ورواه ابن ماجة عن كثير بن عبد الله بن عمرو عن أبيه عن جده
এ বর্ণনাটিকে ইবনু মাজাহ (রহঃ) কাসীর ইবনু ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আম্র থেকে, তিনি তার পিতা হতে এবং তিনি তার দাদা হতে বর্ণনা করেছেন।
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭০
وعن عمرو بن عوف قال قال رسول الله ﷺ إن الدين ليأرز إلى الحجاز كما تأرز الحية إلى جحرها وليعقلن الدين من الحجاز معقل الأروية من رأس الجبل إن الدين بدأ غريبا وسيعود كما بدأ فطوبى للغرباء وهم الذين يصلحون ما افسد الناس من بعدى من سنتى. رواه الترمذي
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: নিঃসন্দেহে দ্বীন (ইসলাম) হিজাযের দিকে এমনভাবে ফিরে আসবে যেভাবে সাপ (পরিশেষে) তার গর্তের দিকে ফিরে আসে এবং দ্বীন হিজাযেই আশ্রয় নিবে যেভাবে পার্বত্য মেঘ পর্বত-শিখরে আশ্রয় নিয়ে থাকে। দ্বীন নিঃসঙ্গ প্রবাসীর (গরীবীর) ন্যায় যাত্রা শুরু করেছে, আবার তা ফিরে আসবে যেভাবে যাত্রা শুরু করেছিল। অতএব অপিরিচিতের জন্য সুসংবাদ রয়েছে, তারা ঐসব লোক যারা আমার পর লোকদের দ্বারা নষ্ট করা সুন্নাতকে পূণঃ জারী করে। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭১
وعن عبد الله بن عمرو قال قال رسول الله ﷺ ليأتين على أمتي كما أتى على بني إسرائيل حذو النعل بالنعل حتى إن كان منهم من أتى أمه علانية لكان في أمتي من يصنع ذلك وإن بني إسرائيل تفرقت على ثنتين وسبعين ملة وتفترق أمتي على ثلاث وسبعين ملة كلهم في النار الا ملة واحدة قالوا من هي يا رسول الله قال ما أنا عليه وأصحابي. رواه الترمذي
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: নিঃসন্দেহে আমার উম্মাতের উপর এমন একটি সময় আসবে যেমন বানী ইসরাঈলের উপর এসেছিল। যেমন এক পায়ের জুতা অপর পায়ের জুতার ঠিক সমান হয়। এমনটি বানী ইসরাঈলের মধ্যে যদি কেউ তার মায়ের সাথে প্রকাশ্যে কুকর্ম করে থাকে, তাহলে আমার উম্মাতের মধ্যেও এমন লোক হবে যারা অনুরূপ কাজ করবে আর বানী ইসরাঈল ৭২ ফিরক্বায় (দলে) বিভক্ত হয়ে গিয়েছিল। আমার উম্মাত বিভক্ত হবে ৭৩ ফিরক্বায়। এদের মধ্যে একটি ব্যতীত সব দলই জাহান্নামে যাবে। সহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহ্র রসূল! জান্নাতী দল কারা? উত্তরে তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, যার উপর আমি ও আমার সাহাবীগণ প্রতিষ্ঠিত আছি, যারা তার উপর থাকবে। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭২
وفى رواية أحمد وابى داوٗد عن معاوية ثنتان وسبعون فى النار وواحدة فى الجنة وهى الجماعة وانه سيخرج فى امتى اقوام تتجارى بهم تلك الاهواء كما يتجارى الكلب بصاحبه لا يبقى منه عرق ولا مفصل الا دخله
আহ্মাদ ও আবূ দাঊদে মু’আবিয়াহ্ (রাঃ) হতে (কিছু পার্থক্যের সাথে) বর্ণনা করেন যে, ৭২ দল জাহান্নামে যাবে। আর একটি দল জান্নাতে যাবে। আর সে দলটি হচ্ছে জামা‘আত। আর আমার উম্মাতের মধ্যে কয়েকটি দলের উদ্ভব হবে যাদের শরীরে এমন কুপ্রবৃত্তি (বিদ‘আত) ছড়াবে যেমনভাবে জলাতংক রোগ রোগীর সমগ্র শরীরে সঞ্চারণ করে। তার কোন শিরা-উপশিরা বাকি থাকে না, যাতে তা সঞ্চার করে না। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭৩
وعن ابن عمر قال قال رسول الله ﷺ إن الله لا يجمع أمتي أو قال أمة محمد على ضلالة ويد الله على الجماعة ومن شذ شذ في النار. رواه الترمذي
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: আল্লাহ্ তা‘আলা আমার গোটা উম্মাতকে; অপর বর্ণনাতে তিনি বলেছেন, উম্মাতে মুহাম্মাদীকে কখনও পথভ্রষ্টতার উপর একত্রিত করবেন না। আল্লাহ্ তা‘আলার হাত (রহমাত ও সাহায্য) জামা‘আতের উপর রয়েছে। যে ব্যক্তি জামা‘আত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে, সে বিচ্ছিন্ন হয়ে (অবশেষে ) জাহান্নামে যাবে। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭৪
وعنه قال قال رسول الله ﷺ اتبعوا السواد الاعظم فانه من شذ شذ فى النار. رواه ابن ماجة من حديث انس
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: বৃহত্তম দলের অনুসরণ কর। কেননা, যে ব্যক্তি দল থেকে আলাদা হয়ে গেছে, সে বিচ্ছিন্ন হয়ে (পরিশেষে) জাহান্নামে যাবে। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭৫
وعن أنس قال قال لي رسول الله ﷺ يا بني إن قدرت أن تصبح وتمسي ليس في قلبك غش لأحد فافعل ثم قال يا بني وذلك من سنتي ومن أحب سنتي فقد أحبني ومن أحبني كان معي في الجنة. رواه الترمذي
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বলেছেন: হে বৎস! তুমি যদি সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তোমার অন্তরে কারো প্রতি হিংসা-বিদ্বেষ না রেখে কাটাতে পার তাহলে তাই কর। এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, হে বৎস! এটা আমার সুন্নাত। যে ব্যক্তি আমার সুন্নাতকে ভালবাসে সে আমাকেই ভালবাসে, আর যে আমাকে ভালবাসে সে আমার সাথে জান্নাতে থাকবে। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭৬
وعن أبي هريرة قال قال رسول الله ﷺ من تمسك بسنتي عند فساد أميى فله اجر مائة شهيد. رواه البيهقى
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: যে ব্যক্তি আমার উম্মাতের বিপর্যয়ের সময় আমার সুন্নাতকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরবে, তার জন্য একশত শাহীদের সাওয়াব রয়েছে। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭৭
وعن جابر عن النبي ﷺ حين اتاه عمر فقال انا نسمع احاديث من يهود تعجبنا افترى ان نكتب بعضها فقال أمتهوكون انتم كما تهوكت اليهود والنصارى لقد جئتكم بها بيضاء نقية ولو كان موسى حيا ما وسعه إلا اتباعي. رواه أحمد والبيهقى فى شعب الايمان
তিনি বলেন ‘উমার (রাঃ) নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে বললেন, আমরা ইয়াহূদীদের নিকট তাদের অনেক ধর্মীয় কথাবার্তা শুনে থাকি। এসব আমাদের কাছে অনেক ভালো মনে হয়। এসব কথার কিছু কি লিখে রাখার জন্য আমাদেরকে অনুমতি দিবেন? রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, ইয়াহূদী ও নাসারাগণ যেভাবে দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে, তোমরাও কি (তোমাদের দ্বীনের ব্যাপারে) এভাবে দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়েছ? আল্লাহ্র কসম! আমি তোমাদের কাছে একটি অতি উজ্জ্বল ও স্বচ্ছ দ্বীন নিয়ে এসেছি। মূসা (আঃ)-ও যদি আজ দুনিয়ায় বেঁচে থাকতেন, আমার অনুসরণ ব্যতীত তাঁর পক্ষেও অন্য কোন উপায় ছিল না। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭৮
وعن أبي سعيد الخدري قال قال رسول الله ﷺ من أكل طيبا وعمل في سنة وأمن الناس بوائقه دخل الجنة فقال رجل يا رسول الله إن هذا اليوم لكثير في الناس قال وسيكون في قرون بعدي. رواه الترمذي
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: যে ব্যক্তি হালাল (রিয্ক্ব) খাবে, সুন্নাতের উপর ‘আমাল করবে এবং যার অনিষ্ট থকে মানুষ নিরাপদ থাকবে, সে জান্নাতে যাবে। তখন এক ব্যক্তি বলে উঠল, হে আল্লাহ্র রসূল! এ ধরনের লোক তো আজকাল অগণিত। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, (ইনশা-আল্লাহ্) আমার পরবর্তী যুগেও এ ধরনের লোক থাকবে। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭৯
وعن أبي هريرة قال قال رسول الله ﷺ إنكم في زمان من ترك منكم عشر ما أمر به هلك ثم يأتي زمان من عمل منهم بعشر ما أمر به نجا. رواه الترمذي
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: তোমরা এমন যুগে আছ, যে যুগে তোমাদের কেউ তার উপর নির্দেশিত বিষয়ের এক-দশমাংশও ছেড়ে দিলে সে ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে। অতঃপর এমন এক যুগ আসবে, যখন কেউ যদি তার প্রতি নির্দেশিত বিষয়ের এক-দশমাংশের উপরও ‘আমাল করে সে পরিত্রাণ পাবে। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮০
وعن أبي أمامة قال قال رسول الله ﷺ ما ضل قوم بعد هدى كانوا عليه الا أوتوا الجدل ثم قرأ رسول الله ﷺ هذه الاۤية : ما ضربوه لك الا جدلا بل هم قوم خصمون. رواه أحمد والترمذي وابن ماجة
তিনি বলেছেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: হিদায়াত প্রাপ্তির এবং হিদায়াতের উপর ক্বায়িম থাকার পর কোন জাতির মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি হয় না, কিন্তু যখন তারা ধর্মীয় বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। অতঃপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পাঠ করলেন (অর্থ): “তারা বাক-বিতণ্ডা করার উদ্দেশ্য ছাড়া আপনার নিকট তা উত্থাপন করে না। প্রকৃতপক্ষে তারা হচ্ছে বাক-বিতণ্ডাকারী লোক”- (সূরাহ্ যুখরুফ ৪৩:৫৮)। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮১
وعن انس أن رسول الله ﷺ كان يقول لا تشددوا على أنفسكم فيشدد الله عليكم فإن قوما شددوا على أنفسهم فشدد الله عليهم فتلك بقاياهم في الصوامع والديار ورهبانية ابتدعوها ما كتبناها عليهم. رواه أبو داوٗد
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলতেন: তোমরা নিজেদের নাফ্সের (আত্মার) উপর ইচ্ছা করে কঠোরতা করো না। কেননা পরবর্তীতে আল্লাহ্ না আবার তোমাদের উপর কঠোরতা চাপিয়ে দেন। পূর্বেও একটি জাতি (বানী ইসরাঈল) নিজেদের উপর কঠোরতা অবলম্বন করেছিল। তাই আল্লাহ্ তা‘আলাও তাদের উপর কঠোর বিধান চাপিয়ে দিলেন। গির্জায় ও ধর্মশালায় যে লোকগুলো আছে, এরা তাদেই উত্তরাধিকারী। (কুরআনে উল্লেখ আছে) “তারা নিজেরাই নিজেদের জন্য ‘রাহ্বানিয়্যাত’ বা বৈরাগ্যবাদ-কে আবিষ্কার করেছিল। আমি তাদের উপর নির্ধারণ করিনি”- (সূরাহ আল হাদীদ ৫৭:২৭)। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮২
وعن أبي هريرة قال قال رسول الله ﷺ نزل القرآن على خمسة اوجه حلال وحرام ومحكم ومتشابه وامثال فاحلوا الحلال وحرموا الحرام واعملوا بالمحكم وامنوا بالمتشابه واعتبروا بالامثال. هذا لفظ المصابيح وروى البيهقى فى شعب الايمان ولفظه فاعملوا بالحلال واجتنبوا الحرام واتبعوا المحكم
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: কুরআন পাঁচটি বিষয়সহ নাযিল হয়েছে: (১) হালাল (২) হারাম (৩) মুহ্কাম (৪) মুতাশাবিহ ও (৫) আমসাল (উপদেশপূর্ণ ঘটনা)। সুতরাং তোমরা হালালকে হালাল জানবে, হারামকে হারাম মনে করবে। মুহকামের উপর ‘আমাল করবে, মুতাশাবিহের সাথে ঈমান পোষণ করবে। আর আমসাল (উপদেশপূর্ণ কাহিনী) থেকে শিক্ষা গ্রহণ করবে। এটা মাসাবীহের বাক্য বিন্যাস। কিন্তু বায়হাক্বী শু’আবুল ঈমানে এরূপ বর্ণনা করেছেন: তোমরা হালালের উপর ‘আমাল কর, হারাম থেকে বেঁচে থাক এবং মুহকামের অনুসরণ কর। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮৩
وعن ابن عباس قال قال رسول الله ﷺ الامر ثلاثة امر بين رشده فاتبعه وامر بين غيه فاجتنبه وامر اختلف فيه فكله الى الله عز وجل. رواه أحمد
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: শারী‘আতের বিষয় তিন প্রকার: (১) এমন বিষয়, যার হিদায়াত সম্পূর্ণ পরিষ্কার। তাই এ নির্দেশ মেনে চল। (২) সে বিষয়, যার ভ্রষ্টতাও স্পষ্ট, সুতরাং তা পরিহার কর এবং (৩) এ বিষয়, যা মতভেদপূর্ণ তা মহান আল্লাহ্র হাতে ছেড়ে দাও। [১]