প্রথম অনুচ্ছেদ - মিশকাতুল মাসাবিহ | হাদীস | কুরআন ও সুন্নাহ

মিশকাতুল মাসাবিহ > প্রথম অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৫

عن البراء بن عازب عن النبي ﷺ قال المسلم إذا سئل في القبر يشهد أن لا إله الا الله وأن محمدا رسول الله فذلك قولهٗ يثبت الله الذين امنوا بالقول الثابت في الحيوة الدنيا وفي الاۤخرة وفي رواية عن النبي ﷺ قال يثبت الله الذين امنوا بالقول الثابت نزلت في عذاب القبر يقال لهٗ من ربك؟ فيقول ربي الله ونبيي محمد ﷺ. متفق عليه

তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কোন মুসলিমকে যখন ক্ববরে জিজ্ঞেস করা হয় তখন সে সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ্‌ ছাড়া প্রকৃত কোন মা‘বূদ নেই এবং নিঃসন্দেহে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহ্‌র রসূল। “যারা ঈমান এনেছে আল্লাহ্‌ তা‘আলা তাদেরকে দুনিয়া ও আখিরাতের জীবনে অটল ও অবিচল রাখেন”-(সূরাহ্ ইবরাহীম ১৪:২৭)। আল্লাহ্‌র এ বাণীর অর্থ হল এটাই। অপর এক বর্ণনায় আছে, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ “ইউসাব্বিতুল্লা-হুল্লাযীনা আ-মানু বিল ক্বাওলিস্ সাবিতি”- এ আয়াত ক্ববরের আযাব সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে। ক্ববরে মৃতকে জিজ্ঞেস করা হয়, তোমার রব কে ? সে বলে, আমার রব মহান আল্লাহ্‌ তা‘আলা। আর আমার নাবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৬

وعن أنس قال قال رسول الله ﷺ إن العبد إذا وضع في قبره وتولى عنه أصحابه وإنه ليسمع قرع نعالهم أتاه ملكان فيقعدانه فيقولان ما كنت تقول في هذا الرجل؟ لمحمد فأما المؤمن فيقول أشهد أنه عبد الله ورسوله فيقال له انظر إلى مقعدك من النار قد أبدلك الله به مقعدا من الجنة فيراهما جميعا وأما المنافق والكافر فيقال له ما كنت تقول في هذا الرجل؟ فيقول لا أدري كنت أقول ما يقول الناس فيقال لا دريت ولا تليت ويضرب بمطارق من حديد ضربة فيصيح صيحة يسمعها من يليه غير الثقلين. متفق عليه ولفظه للبخارى

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ বান্দাকে যখন ক্ববরে রেখে তার সঙ্গীগণ (আত্নীয়-স্বজন, পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব) সেখান থেকে চলে আসে, আর তখনও সে তাদের জুতার শব্দ শুনতে পায়। তার নিকটে (ক্ববরে) দু’জন মালাক (ফেরেশতা) পৌছেন এবং তাকে বসিয়ে প্রশ্ন করেন, তুমি দুনিয়াতে এই ব্যক্তির [ মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ] ব্যাপারে কী জান? এ প্রশ্নের উত্তরে মু’মিন বান্দা বলে, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিঃসন্দেহে আল্লাহ্‌র বান্দা ও তাঁর রসূল। তখন তাকে বলা হয়, ঐ দেখে নাও, তোমার ঠিকানা জাহান্নাম কিরূপ (জঘন্য) ছিল। তারপর আল্লাহ্‌ তা‘আলা তোমার সে ঠিকানা (জাহান্নাম) জান্নাতের সাথে পরিবর্তন করে দিয়েছেন। তখন সে বান্দা দু’টি ঠিকানা (জান্নাত-জাহান্নাম) একই সঙ্গে থাকবে। কিন্তু মুনাফিক্ব ও কাফিরকে যখন জিজ্ঞেস করা হয়, দুনিয়াতে এ ব্যক্তি [মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)] সম্পর্কে তুমি কি ধারণা পোষণ করতে? তখন সে উত্তর দেয়, আমি বলতে পারি না (প্রকৃত সত্য কী ছিল)। মানুষ যা বলত আমিও তাই বলতাম। তখন তাঁকে বলা হয়, তুমি বিবেক বুদ্ধি দিয়েও বুঝতে চেষ্টা করনি এবং (আল্লাহ্‌র কুরআন) পড়েও জানতে চেষ্টা করনি। এ কথা বলে তাকে লোহার হাতুড়ি দিয়ে কঠিনভাবে মারতে থাকে, এতে সে তখন উচ্চস্বরে চিৎকার করতে থাকে। এ চীৎকারের শব্দ (পৃথিবীর) জিন আর মানুষ ছাড়া নিকটস্থ সকলেই শুনতে পায়। [১] (মুত্তাফাকুন ‘আলায়হিঃ বুখারী ১৩৭৪, মুসলিম ২৮৭০)


মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৭

وعن عبد الله بن عمر قال قال رسول الله ﷺ إن أحدكم إذا مات عرض عليه مقعده بالغداة والعشي إن كان من أهل الجنة فمن أهل الجنة وإن كان من أهل النار فمن أهل النار فيقال هذا مقعدك حتى يبعثك الله يوم القيامة. متفق عليه

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন মারা যায়, (ক্ববরে) তাকে সকাল-সন্ধ্যায় তার (ভবিষ্যৎ) অবস্থান দেখানো হয়। যদি সে জান্নাতী, তার অবস্থান জান্নাত আর যদি জাহান্নামী হয় তবে তার অবস্থান জাহান্নাম দেখানো হয়। আর তাকে বলা হয়, এটাই তোমার প্রকৃত অবস্থান। অতঃপর ক্বিয়ামাতের দিন আল্লাহ্ তা‘আলা তোমাকে উঠিয়ে সেখানে প্রেরন করবেন। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৮

وعن عائشة رضي الله عنها أن يهودية دخلت عليها فذكرت عذاب القبر فقالت لها أعاذك الله من عذاب القبر فسألت عائشة رسول الله ﷺ عن عذاب القبر فقال نعم عذاب القبر حق قالت عائشة فما رأيت رسول الله ﷺ بعد صلى صلاة الا تعوذ بالله من عذاب القبر. متفق عليه

তিনি বলেন, একদা এক ইয়াহূদী নারী তাঁর কাছে এলো। সে ক্ববরের ‘আযাব প্রসঙ্গ উঠাল এবং বলল, হে ‘আয়িশাহ্‌ (রাঃ)! আল্লাহ্ তা‘আলা তোমাকে ক্ববরের আযাব থেকে মুক্তি দিন। অতঃপর ‘আয়িশাহ্‌ (রাঃ) রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে কবরের ‘আযাবের সত্যতা প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করলেন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ হ্যাঁ, কবরের আযাব সত্য। ‘আয়িশাহ্‌ (রাঃ) বলেন, অতঃপর আমি কক্ষনো এমন দেখিনি যে, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সালাত আদায় করেছেন অথচ কবরের আযাব হতে আল্লাহ্‌র নিকট মুক্তির দু‘আ করেন নি। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৯

وعن زيد بن ثابت قال بينما رسول الله ﷺ في حائط لبني النجار على بغلة لهٗ ونحن معهٗ إذ حادت به فكادت تلقيه وإذا أقبر ستة أو خمسة فقال من يعرف أصحاب هذه الأقبر؟ قال رجل أنا قال فمتى ماتو قال في الشرك فقال إن هذه الأمة تبتلى في قبورها فلولا أن لا تدافنوا لدعوت الله أن يسمعكم من عذاب القبر الذي أسمع منه ثم أقبل علينا بوجهه فقال تعوذوا بالله من عذاب النار قالوا نعوذ بالله من عذاب النار قال تعوذوا بالله من عذاب القبر قالوا نعوذ بالله من عذاب القبر قال تعوذوا بالله من الفتن ما ظهر وما بطن قالوا نعوذ بالله من الفتن ما ظهر منها وما بطن قال تعوذوا بالله من فتنة الدجال قالوا نعوذ بالله من فتنة الدجال. رواه مسلم

তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বানী নাজ্জার গোত্রের একটি বাগানে তাঁর একটি খচ্চরের উপর আরোহী ছিলেন এবং আমরাও তাঁর সাথে ছিলাম। হঠাৎ খচ্চরটি লাফিয়ে উঠলো এবং রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে প্রায় মাটিতে ফেলে দেবার উপক্রম করলো। দেখা গেল, সামনে পাঁচ-ছয়টি ক্ববর রয়েছে। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, এ ক্ববরবাসীদের কে চিনে? এক ব্যাক্তি বলল, আমি। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জিজ্ঞেস করলেন, এরা কবে মারা গেছে? সে বলল শিরকের যুগে। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, এ উম্মাত তথা ক্ববরবাসীরা তাদের ক্ববরে পরীক্ষায় পড়েছে (শাস্তির কবলে পড়েছে)। তোমারা মানুষ কে ভয়ে ক্ববর দেয়া ছেড়ে দিবে (এ আশংকা না থাকলে) আমি আল্লাহ্‌র কাছে দু‘আ করতাম, তিনি যেন তোমাদের কেও ক্ববরের আযাব শুনান, যে ক্ববরের আযাব আমি শুনতে পাচ্ছি। অতঃপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে বললেন, তোমরা সকলে জাহান্নামের আযাব হতে আল্লাহ্‌র নিকট আশ্রয় চাও। সকলে একত্রে বলল, আমরা জাহান্নামের আযাব হতে আল্লাহ্‌র নিকট আশ্রয় চাচ্ছি। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তোমরা ক্ববরের আযাব হতে আল্লাহ্‌র নিকট আশ্রয় চাও। তারা সকলে একত্রে বললেন, আমরা ক্ববরের আযাব হতে আল্লাহ্‌র কাছে আশ্রয় চাই। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন তোমরা প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য ফিত্‌নাহ্‌ হতে আল্লাহ্‌র নিকট আশ্রয় চাও। তখন সকলে একত্রে বললেন, আমরা সকল প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য ফিত্‌নাহ্‌ হতে আল্লাহ্‌র কাছে আশ্রয় চাই। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তোমরা দাজ্জালের সকল ফিত্‌নাহ্‌ হতে আশ্রয় চাও। সকলে বললেন, আমরা দাজ্জালের ফিত্‌নাহ্‌ হতেও আল্লাহ্‌র নিকট আশ্রয় চাই। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ > দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ১৩০

عن أبي هريرة قال قال رسول الله ﷺ إذا اقبر الميت أتاه ملكان أسودان أزرقان يقال لأحدهما المنكر والاۤخر النكير فيقولان ما كنت تقول في هذا الرجل؟ فيقول هو عبد الله ورسولهٗ أشهد أن لا إله الا الله وأن محمدا عبدهٗ ورسولهٗ فيقولان قد كنا نعلم أنك تقول هذا ثم يفسح لهٗ في قبره سبعون ذراعا في سبعين ثم ينور لهٗ فيه ثم يقال لهٗ نم فيقول أرجع إلى أهلـي فأخبرهم فيقولان نم كنومة العروس الذي لا يوقظهٗ الا أحب أهله إليه حتى يبعثه الله من مضجعه ذلك وإن كان منافقا قال سمعت الناس يقولون قولا فقلت مثلهٗ لا أدري فيقولان قد كنا نعلم أنك تقول ذلك فيقال للأرض التئمي عليه فتلتئم عليه فتختلف أضلاعهٗ فلا يزال فيها معذبا حتى يبعثه الله من مضجعه ذلك. رواه الترمذي

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ মৃতকে যখন ক্ববরে শায়িত করা হয় তখন তার নিকট নীল চোখ বিশিষ্ট দু‘জন কালো মালাক (ফেরেশতা) এসে উপস্থিত হন। তাদের একজনকে মুনকার ও অপরজনকে নাকীর বলা হয়। তারা মৃতকে (রাসূলের প্রতি ইঙ্গিত করে) জিজ্ঞেস করে, এ ব্যাক্তির ব্যাপারে দুনিয়াতে তুমি কি ধারনা পোষণ করতে? সে বলবে, তিনি আল্লাহ্‌র বান্দা ও তাঁর রসূল। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ্ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন ইলাহ নেই, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহ্‌র বান্দা ও তাঁর রসূল। তখন মালাক (ফেরেশতা) দুজন বলবেন, আমরা আগেই জানতাম তুমি এ উত্তরই দিবে। অতঃপর তার ক্ববরকে দৈর্ঘ্যে-প্রস্থে সত্তর হাত প্রশস্ত করে দেওয়া হয় এবং সেখানে তার জন্য আলোর ব্যাবস্থা করে দেওয়া হয়। তারপর তাকে বলা হয়, ঘুমিয়ে থাক। তখন ক্ববরবাসী বলবে, (না) আমি আমার পরিবারের কাছে ফিরে যেতে চাই এবং তাদের এ সুসংবাদ দিতে চাই। মালায়িকাহ্‌ (ফেরেশতাগন) বলবেন, তুমি এখানে বাসর ঘরের বরের ন্যায় ঘুমাতে থাকো, যাকে তার পরিবারের সবচেয়ে প্রিয়জন ব্যতীত আর কেউ ঘুম ভাঙ্গাতে পারেনা। অতঃপর সে ক্বিয়ামাতের দিন না আসা পর্যন্ত এভাবে ঘুমিয়ে থাকে। যদি মৃত ব্যক্তি মুনাফিক্ব হয় তাহলে সে বলবে, লোকদেরকে তাঁর সম্পর্কে যা বলতে শুনতাম আমিও তাই বলতাম। কিন্তু আমি জানি না। তখন মালায়িকাহ্‌ বলেন, আমরা পূর্বেই জানতে পেরেছিলাম যে তুমি এ কথাই বলবে। অতঃপর জমিন কে বলা হবে তার উপর চেপে যাও। সুতরাং জমিন তার উপর এমন ভাবে চেপে যাবে, যাতে তার একদিকের হাড় অপরদিকে চলে যাবে। কবরে সে এভাবে আযাব ভোগ করতে থাকবে যে পর্যন্ত (ক্বিয়ামাত দিবসে) আল্লাহ্‌ তা‘আলা তাকে ক্ববর থেকে না উঠান। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৩১

وعن البراء بن عازب عن رسول الله ﷺ قال يأتيه ملكان فيجلسانه فيقولان لهٗ من ربك فيقول ربي الله فيقولان لهٗ ما دينك؟ فيقول ديني الإسلام فيقولان ما هذا الرجل الذي بعث فيكم فيقولان لهٗ: وما يدريك؟ قال فيقول هوو رسول الله فيقولان له : وما يدريك فيقول : قرأت كتاب الله فاۤمنت به وصدقت فذلك قولهٗ يثبت الله الذين اۤمنوا بالقول الثابت الاۤية قال فينادي مناد من السماء أن صدق عبدي فأفرشوه من الجنة وألبسوه من الجنة وافتحوا له بابا إلى الجنة فيفتح قال فيأتيه من روحها وطيبها ويفسح لهٗ فيها مد بصره وأما الكافر فذكر موتهٗ قال ويعاد روحهٗ في جسده ويأتيه ملكان فيجلسانه فيقولان من ربك؟ فيقول هاه هاه لا أدري فيقولان ما دينك؟ فيقول هاه هاه لا أدري فيقولان ما هذا الرجل الذي بعث فيكم؟ فيقول هاه هاه لا أدري فينادي مناد من السماء أن كذب فأفرشوه من النار وألبسوه من النار وافتحوا لهٗ بابا إلى النار قال فيأتيه من حرها وسمومها قال ويضيق عليه قبرهٗ حتى تختلف فيه أضلاعهٗ ثم يقيض لهٗ أعمى أصم معهٗ مرزبة من حديد لو ضرب بها جبل لصار ترابا فيضربهٗ بها ضربة يسمعها ما بين المشرق والمغرب الا الثقلين فيصير ترابا ثم يعاد فيه الروح. رواه أحمد وأبو داوٗد

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ক্ববরে মৃত ব্যাক্তির (মু’মিনের) নিকট দু‘জন মালাক আসেন। অতঃপর মালায়িকাহ্‌ তাকে বসিয়ে দিয়ে জিজ্ঞেস করেন, “তোমার রব কে?” সে উত্তরে বলে, “আমার রব হলেন আল্লাহ্‌।” তারপর মালায়িকাহ্‌ জিজ্ঞেস করেন, “তোমার দ্বীন কি?” সে ব্যক্তি উত্তর দেয়, “আমার দ্বীন হল ইসলাম।” আবার মালায়িকাহ্‌ জিজ্ঞেস করেন, “তোমাদের নিকট আল্লাহ্‌র পক্ষ হতে যে ব্যক্তি প্রেরিত হয়েছিল, তিনি কে?” সে বলে, “তিনি হলেন আল্লাহ্‌র রসূল [মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)]।” তারপর মালায়িকাহ্‌ তাকে জিজ্ঞেস করেন, “এ কথা তোমাকে কে বলেছে?” সে বলে, আমি আল্লাহ্‌র কিতাব পড়েছি এবং তাঁর উপর ঈমান এনেছি ও তাঁকে সমর্থন করেছি। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ এটাই হল আল্লাহ্‌ তা‘আলার এ বানীর ব্যাখ্যা: “আল্লাহ্‌ তা‘আলা সেসব লোকদেরকে (দ্বীনের উপর) প্রতিষ্ঠিত রাখেন যারা প্রতিষ্ঠিত কথার (কালিমায়ে শাহাদাতের) উপর ঈমান আনে…… আয়াতের শেষ পর্যন্ত- (সূরাহ্‌ ইবরাহীম ১৪: ২৭)। অতঃপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, আকাশমণ্ডলী থেকে একজন আহ্বানকারী ঘোষণা দিয়ে বলেন, আমার বান্দা সত্য বলেছে। সুতরাং তাঁর জন্য জান্নাতের বিছানা বিছিয়ে দাও, তাঁকে জান্নাতের পোশাক পরিয়ে দাও। আর তাঁর জন্য জান্নাতের দিকে একটি দরজা খুলে দাও। অতএব তাঁর জন্য জান্নাতের দিকে একটি দরজা খুলে দেয়া হবে। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ফলে তাঁর দিকে জান্নাতের বাতাস ও সুগন্ধি দোলা দিতে থাকবে এবং দৃষ্টির শেষ সীমা পর্যন্ত তাঁর ক্ববরকে প্রশস্ত করে দেয়া হবে। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কাফিরদের মৃত্যু প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, “তারপর তার রূহ্‌কে তার শরীরে ফিরিয়ে আনা হয় এবং দু‘জন মালাক এসে তাকে উঠিয়ে বসান এবং বসিয়ে জিজ্ঞেস করেন, “তোমার রব কে?। তখন সে উত্তরে বলে, “হায়! হায়!! আমি তো কিছুই জানি না।” তারপর তারা তাকে পুনরায় জিজ্ঞেস করেন, “তোমার দ্বীন কি?” সে বলে হায়! হায়!! তাও তো আমার জানা নেই। তারপর তারা জিজ্ঞেস করেন, “এ ব্যক্তি কে যাকে তোমাদের নিকট প্রেরণ করা হয়েছিল?” সে বলে হায়! হায়!! এটাও তো জানি না।” তারপর আকাশ থেকে একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা করে বলেন, এ ব্যক্তি মিথ্যা বলছে। সুতরাং তার জন্য আগুনের বিছানা বিছিয়ে দাও এবং তাকে আগুনের পোশাক প্রিয়ে দাও। আর জাহান্নামের দিকে তার জন্য একটি দরজা খুলে দাও। সে অনুযায়ী তার জন্য দরজা খুলে দেয়া হয়। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, তার ক্ববরকে তার জন্য সংকুচিত করে দেয়া হয়, যাতে তার একদিকের হাড় অপরদিকের হাড়ের মধ্যে প্রবেশ করে। এরপর একজন অন্ধ ও বধির মালাক নিযুক্ত করে দেয়া হয়, যার সাথে লোহার এক হাতুড়ি থাকে। সে হাতুড়ি দিয়ে যদি পাহাড়ের উপর আঘাত করা হয় তাহলে সে পাহাড় গুঁড়া গুঁড়া হয়ে মাটিতে মিশে যাবে। সে অন্ধ মালাক এ হাতুড়ি দিয়ে সজোরে তাকে আঘাত করতে থাকে। (তার বিকট চীৎকারের শব্দ) পূর্ব হতে পশ্চিম পর্যন্ত জিন্‌ ও মানুষ ছাড়া সকল মাখলুকই শুনতে পাবে। এর সাথে সাথে সে মাটিতে মিশে যাবে। অতঃপর পুনরায় তার মধ্যে রূহ্‌ ফেরত দেয়া হবে (এভাবে অনবরত চলতে থাকবে)। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৩২

وعن عثمان إنه كان إذا وقف على قبر بكى حتى يبل لحيته فقيل له تذكر الجنة والنار فلا تبكي وتبكي من هذا؟ فقال إن رسول الله ﷺ قال إن القبر أول منزل من منازل الاۤخرة فإن نجا منه فما بعده أيسر منه وإن لم ينج منه فما بعده أشد منه قال وقال رسول الله ﷺ ما رأيت منظرا قط الا القبر أفظع منه. رواه الترمذي وابن ماجة وقال الترمذي هذا حديث غريب

তিনি যখন কোন ক্ববরের নিকট দাঁড়াতেন, কেঁদে দিতেন, (আল্লাহ্‌র ভয়ে চোখের পানিতে) তাঁর দাড়ি ভিজে যেত। একদা তাকে জিজ্ঞেস করা হল, জান্নাত ও জাহান্নামের কথা স্মরন হলে, আপনি কাঁদেন না। আর আপনি এ জায়গায় (ক্ববরস্থানে) দাঁড়িয়ে কাঁদছেন? তিনি প্রত্যুত্তরে বললেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আখিরাতের মঞ্জীলসমূহের মধ্যে ক্ববর হল প্রথম মঞ্জীল। কেউ যদি এই মঞ্জীলে মুক্তি পেয়ে যায়, তাহলে পরের মঞ্জীলসমূহ অতিক্রম করা তার জন্য সহজসাধ্য হয়ে যায়। আর যে ব্যক্তি এ মঞ্জীলে মুক্তি লাভ করতে পারল না, তার জন্য পরবর্তী মঞ্জীলসমূহ আরও কঠিন হয়ে পড়ে। অতঃপর তিনি [‘উসমান (রাঃ)] বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এটাও বলেছেন, ক্ববর থেকে বেশি কঠিন কোন ভয়ঙ্কর জায়গা আমি কক্ষনো দেখিনি। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৩৩

وعنه قال كان النبي ﷺ إذا فرغ من دفن الميت وقف عليه فقال استغفروا لأخيكم سلوا له بالتثبيت فإنه الاۤن يسأل. رواه أبو داوٗد

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাইয়্যিতের দাফন সম্পন্ন করে অবসর গ্রহণকালে ক্ববরের নিকট দাঁড়িয়ে উপস্থিত সকলকে লক্ষ্য করে বলতেনঃ তোমাদের ভাইয়ের জন্য (আল্লাহ্‌ তা’আলার নিকট) ক্ষমা প্রার্থনা কর ও দু‘আ কর, যেন তাকে এখন (মালায়িকার প্রশ্নোত্তরে) ঈমানের উপর সুদৃঢ় থাকার শক্তি-সামর্থ্য দেন। কেননা এখনই তাকে প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হবে। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৩৪

وعن أبي سعيد قال قال رسول الله ﷺ ليسلط على الكافر في قبره تسعة وتسعون تنينا تنهشهٗ وتلدغهٗ حتى تقوم الساعة ولو أن تنينا منها نفخ في الأرض ما نبتت خضراء. رواه الدارمي وروى الترمذي نحوه وقال سبعون بدل تسعة وتسعون

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কাফিরদের জন্য তাদের ক্ববরে নিরানব্বইটি সাপ নির্ধারণ করা হয়। এ সাপগুলো তাকে ক্বিয়ামাত পর্যন্ত কামড়াতে ও দংশন করতে থাকবে। যদি তার কোন একটি সাপ জমিনে নিঃশ্বাস ফেলে, তবে এ জমিনে আর কোন ঘাস-তৃণলতা জন্মাবে না। তিরমিযীও এ ধরনের হাদীস বর্ণনা করেছেন, কিন্তু তিনি নিরানব্বইটির স্থানে সত্তরের উল্লেখ করেছেন। [১]


🔄 লোড হচ্ছে...
ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية