মিশকাতুল মাসাবিহ > দ্বিতীয় ‘অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ৯৪
عن عبادة بن الصامت قال قال رسول الله ﷺ : إن أول ما خلق الله القلم فقال اكتب؟ قال ما أكتب قال اكتب القدر فكتب ما كان وما هو كائن إلى الأبد. رواه الترمذي وقال هذا حديث غريب إسنادا
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আল্লাহ্ সর্বপ্রথম যে বস্তুটি সৃষ্টি করেছিলেন তা হচ্ছে কলম। অতঃপর তিনি কলমকে বললেন, লিখ। কলম বলল, কী লিখব? আল্লাহ্ বললেন, কদ্র (তাক্বদীর) সম্পর্কে লিখ । সুতরাং কলম- যা ছিল ও ভবিষ্যতে যা হবে, সবকিছুই লিখে ফেলল। তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, হাদীসটি সানাদ হিসেবে গারীব। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৯৫
وعن مسلم بن يسار قال سئل عمر بن الخطاب عن هذه الاۤية : ﴿وإذ أخذ ربك من بني اۤدم من ظهورهم ذريتهم﴾ الاۤية قال عمر سمعت رسول الله ﷺ يسأل عنها فقال : إن الله خلق اۤدم ثم مسح ظهره بيمينه فاستخرج منه ذرية فقال خلقت هؤلاء للجنة وبعمل أهل الجنة يعملون ثم مسح ظهرهٗ فاستخرج منه ذرية فقال خلقت هؤلاء للنار وبعمل أهل النار يعملون». فقال رجل ففيم العمل يا رسول الله؟ فقال رسول الله ﷺ : إن الله إذا خلق العبد للجنة استعمله بعمل أهل الجنة حتى يموت على عمل من أعمال أهل الجنة فيدخله به الجنة وإذا خلق العبد للنار استعمله بعمل أهل النار حتى يموت على عمل من أعمال أهل النار فيدخله به النار. رواه مالك والترمذي وأبو داوٗد
তিনি বলেন, ‘উমার ইবনুল খাত্ত্বাব (রাঃ)-কে কুরআনের এ আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলঃ “(হে মুহাম্মাদ!) আপনার রব যখন আদাম সস্তানদের পিঠ থেকে তাদের সব সস্তানদেরকে বের করলেন” (সূরাহ্ আল আ‘রাফ ৭: ১৭২) (...আয়াতের শেষ পর্যন্ত)। ‘উমার (রাঃ) বললেন, আমি শুনেছি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হয় এবং তিনি জবাবে বলেন, আল্লাহ্ তা‘আলা আদাম (আঃ) কে সৃষ্টি করলেন। অতঃপর আপন ডান হাত তাঁর পিঠ বুলালেন। আর সেখান থেকে তাঁর (ভবিষ্যতের) একদল সন্তান বের করলেন। অতঃপর বললেন, এসবকে আমি জান্নাতের জন্য সৃষ্টি করেছি, তারা জান্নাতীদের কাজই করবে। আবার আদামের পিঠে হাত বুললেন এবং সেখান থেকে (অপর) একদল সস্তান বের করলেন এবং বললেন, এদেরকে আমি জাহান্নামের জন্য সৃষ্টি করেছি এবং তারা জাহান্নামীদেরই ‘আমাল করবে। একজন সহাবী জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহ্র রসূল! তাহলে ‘আমালের আর আবশ্যকতা কি? উত্তরে রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, যখন আল্লাহ্ কোন বান্দাকে জান্নাতের জন্য সৃষ্টি করেন, তার দ্বারা জান্নাতীদের কাজই করিয়ে নেন। শেষ পর্যন্ত সে জান্নাতীদের কাজ করেই মৃত্যুবরণ করে এবং আল্লাহ্ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করান। এভাবে আল্লাহ্ তাঁর কোন বান্দাকে জাহান্নামের জন্য সৃষ্টি করেন, তার দ্বারা জাহান্নামীদের কাজই করিয়ে নেন। পরিশেষে সে জাহান্নামীদের কাজ করেই মৃত্যুবরণ করে, আর এ কারণে আল্লাহ্ তাকে জাহান্নামে দাখিল করেন। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৯৬
وعن عبد الله بن عمرو قال خرج رسول الله ﷺ وفي يده كتابان فقال أتدرون ما هذان الكتابان؟ قلنا لا يا رسول الله الا أن تخبرنا فقال للذي في يده اليمنى هذا كتاب من رب العالمين فيه أسماء أهل الجنة وأسماء آبائهم وقبائلهم ثم أجمل على آخرهم فلا يزاد فيهم ولا ينقص منهم أبدا ثم قال للذي في شماله هذا كتاب من رب العالمين فيه أسماء أهل النار وأسماء آبائهم وقبائلهم ثم أجمل على آخرهم فلا يزاد فيهم ولا ينقص منهم أبدا فقال أصحابه ففيم العمل يا رسول الله إن كان أمر قد فرغ منه فقال سددوا وقاربوا فإن صاحب الجنة يختم له بعمل أهل الجنة وإن عمل أي عمل وإن صاحب النار يختم له بعمل أهل النار وإن عمل أي عمل ثم قال رسول الله ﷺ بيديه فنبذهما ثم قال فرغ ربكم من العباد فريق في الجنة وفريق في السعير. رواه الترمذي
তিনি বলেন, একদা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দুই হাতে দু’টি কিতাব নিয়ে বের হলেন এবং (সাহাবীগণের উদ্দেশ্যে) বললেন, তোমরা কি জান এ কিতাব দু’টি কি? আমরা বললাম, না, হে আল্লাহ্র রসূল! কিন্তু আপনি যদি আমাদের অবহিত করতেন। তিনি তাঁর ডান হাতের কিতাবের প্রতি ইশারা করে বললেন, আমার ডান হাতে কিতাবটি হচ্ছে আল্লাহ্ রব্বুল ‘আলামীনের পক্ষ থেকে একটি কিতাব। এতে সকল জান্নাতীদের নাম, তাদের পিতাদের নাম ও বংশ-পরম্পরার নাম রয়েছে এবং এদের সর্বশেষ ব্যক্তির নামের পর সর্বমোট যোগ করা হয়েছে। অতঃপর এতে আর কক্ষনো (কোন নাম) বৃদ্ধিও হবে না কমতিও করা হবে না। তারপর তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বাম হাতের কিতাবের দিকে ইঙ্গিত করে বললেন, এটাও আল্লাহ্ রব্বুল ‘আলামীনের পক্ষ হতে একটি কিতাব। এ কিতাবে জাহান্নামীদের নাম আছে, তাদের বাপ-দাদাদের নাম আছে এবং তাদের বংশ-পরম্পরার নামও রয়েছে। অতঃপর তাদের সর্বশেষ ব্যক্তির নাম লিখে মোট যোগ করা হয়েছে। তাই এতে (আর কোন নাম কখনো) বৃদ্ধিও করা যাবে না কমানোও যাবে না। তাঁর এ বর্ণনা শুনার পর সহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহ্র রসূল! এসব ব্যপার যদি আগে থেকে চূড়ান্ত হয়েই থাকে (অর্থাৎ জান্নাত ও জাহান্নামের বিষয়টি তাকদীরের উপর নির্ভর করে লিপিবদ্ধ হয়েছে) তবে ‘আমাল করার প্রয়োজন কী? উত্তরে তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, হাক্ব পথে থেকে দৃঢ়ভাবে ‘আমাল করতে থাক এবং আল্লাহ্র নৈকট্যার্জনের চেষ্টা কর। কেননা জান্নাতবাসীদের শেষ ‘আমাল (জান্নাত প্রাপ্তির ন্যায়) জান্নাতীদেরই কাজ হবে। (পূর্বে) দুনিয়ার জীবনে সে যা-ই করুক। আর জাহান্নামবাসীদের পরিসমাপ্তি জাহান্নামে যাবার ন্যায় ‘আমালের দ্বারা শেষ হবে। তার (জীবনের) আমাল যাই হোক। অতঃপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর দুই হাতে ইশারা করে কিতাব দু‘টিকে পেছনের দিকে ফেলে দিয়ে বললেন, তোমাদের রব বান্দাদের ব্যাপারে পূর্ব থেকেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে রেখেছেন। একদল জান্নাতে যাবে আর অপর একদল জাহান্নামে যাবে- (সূরাহ্ আশ শুরা ৪২ : ৭)। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৯৭
وعن أبي خزامة عن أبيه قال قلت يارسول الله أرأيت رقى نسترقيها ودواء نتداوى به وتقاة نتقيها هل ترد من قدر الله شيئا قال هي من قدر الله. رواه أحمد والترمذي وابن ماجة
তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহ্র রসূল! আমরা (রোগমুক্তির জন্য) যেসব তন্ত্রমন্ত্র পাঠ করি বা ঔষধ ব্যবহার করে থাকি কিংবা আমরা আত্নরক্ষা করতে যে কোন উপায়ে চেষ্টা করি- এ সকল কি তাক্বদীরকে কিছু পরিবর্তন করতে পারে? রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, এ সকল কাজও আল্লাহ্র (পূর্বে নির্ধারিত) তাক্বদীরের অন্তর্ভুক্ত। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৯৮
وعن أبي هريرة قال خرج علينا رسول الله ﷺ ونحن نتنازع في القدر فغضب حتى احمر وجهه حتى كأنما فقئ في وجنتيه الرمان فقال أبهذا أمرتم أم بهذا أرسلت إليكم إنما هلك من كان قبلكم حين تنازعوا في هذا الأمر عزمت عليكم الا تتنازعوا فيه. رواه الترمذي
তিনি বলেন, একদা আমরা তাক্বদীর সম্পর্কে বিতর্কে লিপ্ত ছিলাম। এমন সময় রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের নিকট এসে উপস্থিত হন। তিনি এটা দেখে এতো রাগ করলেন যে, রাগে তাঁর চেহারা মুবারক লাল হয়ে গেল, মনে হচ্ছিল যেন তাঁর চেহারা মুবারকে আনারের (ডালিমের) রস নিংড়িয়ে দেয়া হয়েছে। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তোমাদের কি (তর্কে লিপ্ত হওয়ার জন্য) নির্দেশ দেয়া হয়েছে অথবা এজন্য কি রসূল বানিয়ে তোমাদের নিকট আমাকে পাঠানো হয়েছে? (জেনে রাখ!) তোমাদের পূর্বে অনেক লোকেরা বিতর্কে লিপ্ত হয়ে তখনই ধ্বংস হয়েছে, যখনই তারা এ বিষয় নিয়ে বাক-বিতন্ডা করেছে। আমি তোমাদেরকে কসম করে বলছি, আবারও কসম করে বলছি- সাবধান! এ বিষয় নিয়ে তোমরা কক্ষনো তর্কে জড়িয়ে যেয়ো না। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৯৯
ورواه ابن ماجة نحوه عن عمرو بن شعيب عن ابيه عن جده
ইবনু মাজাহ্ও এ অর্থের একটি হাদীস ‘আম্র ইবনু শু‘আয়ব হতে বর্ণনা করেছেন, যা তিনি তার পিতা, তার পিতা তার দাদার মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১০০
وعن أبي موسى قال سمعت رسول الله ﷺ يقول إن الله خلق اۤدم من قبضة قبضها من جميع الأرض فجاء بنو اۤدم على قدر الأرض منهم الأحمر والأبيض والأسود وبين ذلك والسهل والحزن والخبيث والطيب. رواه أحمد والترمذي وأبو داوٗد
তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, “আল্লাহ্ তা‘আলা আদাম (আঃ)-কে এক মুঠো মাটি দিয়ে সৃষ্টি করেছেন, যা তিনি সমগ্র ভূপৃষ্ঠ হতে নিয়েছিলেন। তাই আদাম সন্তানগণ (বিভিন্ন মাটির রং অনুযায়ী বিভিন্ন আকৃতিতে) কেউ লাল বর্ণের, কেউ সাদা, কেউ কালো, কেউ মধ্যবর্তী বর্ণের হয়েছে। এরূপে কেউ কোমল মেজাজের, কেউ কঠোর হয়, কেউ সৎ ও কেউ অসৎ প্রকৃতির হয়ে থাকে। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১০১
وعن عبد الله بن عمرو قال سمعت رسول الله ﷺ يقول إن الله خلق خلقه في ظلمة فألقى عليهم من نوره فمن أصابه من ذلك النور اهتدى ومن أخطأه ضل فلذلك أقول جف القلم على علم الله. رواه أحمد والترمذي
তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, আল্লাহ্ তা‘আলা তাঁর সৃষ্ট জীবকে অন্ধকারে সৃষ্টি করেন। তারপর তিনি তাদের প্রতি স্বীয় নূর (জ্যোতি) নিক্ষেপ করেন। সুতরাং যার কাছে তাঁর এ নূর পৌঁছেছে, সে সৎপথপ্রাপ্ত হয়েছে। আর যার কাছে তাঁর এ নূর পৌঁছেনি, সে বিভ্রান্তিতে পতিত হয়েছে। তাই আমি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলি: আল্লাহ্র জ্ঞান ও ইচ্ছা অনুযায়ী যা হওয়ার তা-ই হয়ে কলম শুকিয়ে গেছে। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১০২
وعن أنس قال كان رسول الله ﷺ يكثر أن يقول يا مقلب القلوب ثبت قلبي على دينك فقلت يا نبي الله اۤمنا بك وبما جئت به فهل تخاف علينا؟ قال نعم إن القلوب بين إصبعين من أصابع الله يقلبها كيف يشاء. رواه الترمذي وابن ماجة
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রায় সময়ই এ দু‘আ করতেন: “হে অন্তর পরিবর্তনকারী আল্লাহ্! আমার হৃদয়কে তোমার দ্বীনের উপর দৃঢ রাখ”। আমি বললাম, হে আল্লাহ্র নাবী! আমরা আপনার উপর এবং আপনি যে দ্বীন নিয়ে এসেছেন তার উপর ঈমান এনেছি। এরপরও কি আপনি আমাদের সম্পর্কে আশংকা করেন? জবাবে তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, কেননা ‘ক্বলব’ আল্লাহ্র দুই আঙ্গুলের মধ্যে রয়েছে (অর্থাৎ তাঁর নিয়ন্ত্রণ ও অধিকারে রয়েছে)। তিনি যেভাবে চান সেভাবে অন্তরকে (ঘুরিয়ে) থাকেন। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১০৩
وعن ابي موسى قال قال رسول الله ﷺ مثل القلب كريشة بارص فلاة يقلبها الرياح ظهرا لبطن. رواه أحمد
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: আল্লাহ্র হাতে (মানুষের) ‘ক্বলব’ বা মন, যেমন কোন তৃণশূণ্য মাঠে একটি পালক, যাকে বাতাসের গতি বুকে-পিঠে (এদিক-সেদিক) ঘুরিয়ে থাকে। [১] (আহমাদ ২৭৮৫৯)
মিশকাতুল মাসাবিহ ১০৪
وعن علي قال قال رسول الله ﷺ لا يؤمن عبد حتى يؤمن بأربع يشهد أن لا إله الا الله وأني رسول الله بعثني بالحق ويؤمن بالموت والبعث بعد الموت ويؤمن بالقدر. رواه الترمذي وابن ماجة
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: কোন বান্দা মু‘মিন হতে পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত এ চারটি বিষয়ের উপর ঈমান না আনে: (১) সে সাক্ষী দিবে আল্লাহ্ ছাড়া প্রকৃত কোন মা‘বুদ নেই, (২) নিঃসন্দেহে আমি আল্লাহ্র রসূল, আল্লাহ্ আমাকে দীনে হাক্ব সহকারে পাঠিয়েছেন, (৩) মৃত্যু ও মৃত্যুর পরে হাশরের মাঠে পুনরুত্থান দিবসে বিশ্বাস রাখবে এবং (৪) তাক্বদীরের উপর বিশ্বাস রাখবে। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১০৫
وعن ابن عباس قال قال رسول الله ﷺ صنفان من أمتي ليس لهما في الإسلام نصيب المرجئة والقدرية. رواه الترمذي وقال هذا حديث حسن غريب
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: আমার উম্মাতের মধ্যে দু’রকমের লোক রয়েছে, তাদের জন্য ইসলামে কোন অংশ নেই। তারা হলো: (১) মুর্জিয়াহ্ ও (২) ক্বদারিয়্যাহ্। তিরমিযী বলেছেন: হাদীসটি হাসান গরীব। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১০৬
وعن ابن عمر قال سمعت رسول الله ﷺ يقول يكون في أمتي خسف ومسخ وذلك في المكذبين بالقدر. رواه أبو داؤد وروى الترمذي نحوه
তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, ‘আমার উম্মাতের মধ্যেও ‘খাস্ফ’ (জমিন ধ্বসিয়ে বা অদৃশ্য করে দেয়া) এবং ‘মাস্খ’ (চেহারা বা আকার পরিবর্তন করে দেয়ার) মত শাস্তি হবে। তবে এ শাস্তি তাক্বদীরের প্রতি অবিশ্বাসকারীদের মধ্যেই হবে। আবূ দাঊদ, ইমাম তিরমিযীও অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১০৭
وعنه قال قال رسول الله ﷺ القدرية مجوس هذه الأمة إن مرضوا فلا تعودوهم وإن ماتوا فلا تشهدوهم. رواه أحمد وأبو داوٗد
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ক্বদারিয়্যাগণ হচ্ছে এ উম্মাতের মাজুসী। অতঃপর তারা যদি অসুস্থ হয়, তাদেরকে দেখতে যাবে না, আর যদি মারা যায়, তবে তাদের জানাযায় উপস্থিত হয়ো না। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১০৮
وعن عمر قال قال رسول الله ﷺ لا تجالسوا أهل القدر ولا تفاتحوهم. رواه أبو داوٗد
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: তোমরা ক্বদারিয়্যাদের সাথে উঠা-বসা করো না এবং তাদেরকে হাকিম বা বিচারক নিযুক্ত করো না। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১০৯
وعن عائشة قالت قال رسول الله ﷺ ستة لعنتهم ولعنهم الله وكل نبي يجاب الزائد في كتاب الله والمكذب بقدر الله والمتسلط بالجبروت ليعز من أذل الله ويذل من أعز الله والمستحل لحرم الله والمستحل من عترتي ما حرم الله والتارك لسنتي. رواه البيهقى في المدخل ورزين فى كتابه
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: ছয় রকম মানুষের প্রতি আমি লা‘নাত (অভিশাপ) করি এবং আল্লাহ্ তা‘আলাও তাদের প্রতি অভিশপ্ত করেছেন। আর প্রত্যেক নাবীর দু‘আই কবুল হয়ে থাকে। (১) যারা আল্লাহ্র কিতাবের মধ্যে সংযোজন; (২) যে ব্যক্তি তাক্বদীরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে; (৩) যে ব্যক্তি এ উদ্দেশ্যে জোর-জবরে ক্ষমতা দখল করে, আল্লাহ্ যাদেরকে অপমানিত লাঞ্ছিত করেছেন (কাফির-মুশরিক-ফাসিক্ব) তাদের যেন সে মর্যাদা দান করতে পারে এবং আল্লাহ্ যাকে সম্মানিত করেছেন (মু‘মিন দীনদার) তাদের যেন অপমানিত ও লাঞ্ছিত করতে পারে; (৪) যে ব্যক্তি আল্লাহ্র হারামে (মাক্কায়) এমন সীমালঙ্ঘন করে, যা আল্লাহ্ নিষিদ্ধ করে দিয়েছেন; (৫) যে ব্যক্তি আমার আহলে বায়ত-এর (অসম্মান করা এবং তাদের কষ্ট দেয়া) আল্লাহ্ যা হারাম করেছেন তা হালাল মনে করে এবং (৬) যে ব্যক্তি আমার সুন্নাত (নিয়ম-কানুন) পরিত্যাগ করে। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১১০
وعن مطر بن عكامس قال قال رسول الله ﷺ إذا قضى الله لعبد أن يموت بأرض جعل له إليها حاجة. رواه أحمد والترمذي
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: আল্লাহ্ তা‘আলা যখন তাঁর কোন বান্দার নির্ধারিত কোন জায়গায় মৃত্যুর ফায়সালা করেন, তখন সে জায়গায় তার যাওয়ার জন্য একটি প্রয়োজনও তৈরি করে দেন। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১১১
وعن عائشة رضى الله عنها قالت قلت يا رسول الله ذراري المؤمنين؟ قال من اۤبائهم فقلت يا رسول الله بلا عمل؟ قال الله أعلم بما كانوا عاملين قلت فذراري المشركين؟ قال من اۤبائهم قلت بلا عمل قال الله أعلم بما كانوا عاملين. رواه أبو داوٗد
তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহ্র রসূল! মু’মিনদের (নাবালেগ) বাচ্চাদের (জান্নাত-জাহান্নাম সংক্রান্ত ব্যাপারে) কী হুকুম? তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উত্তরে বললেন, তারা বাপ-দাদার অনুসারী হবে। আমি বললাম, কোন (নেক) আমাল ছাড়াই? তিনি বললেন, আল্লাহ্ অনেক ভাল জানেন, তারা জীবিত থাকলে কী ‘আমাল করত। আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম, আচ্ছা মুশরিকদের (নাবালেগ) বাচ্চাদের কী হুকুম? রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তারাও তাদের বাপদাদার অনুসারী হবে। (অবাক দৃষ্টিতে) আমি জিজ্ঞেস করলাম, কোন (বদ) ‘আমাল ছাড়াই? উত্তরে রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, সে বাচ্চাগুলো বেঁচে থাকলে কী ‘আমাল করত, আল্লাহ্ খুব ভাল জানেন। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১১২
وعن ابن مسعود قال قال رسول الله ﷺ الوائدة والموءودة في النار. رواه أبو داوٗد والترمذي
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: যে ব্যক্তি নিজের কন্যা সন্তানকে জীবন্ত ক্ববর দেয় এবং যে মেয়েকে ক্ববর দেয়া হয়, উভয়ই জাহান্নামী। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ > তৃতীয় ‘অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ১১৩
عن أبي الدرداء قال قال رسول الله ﷺ إن الله عز وجل فرغ إلى كل عبد من خلقه من خمس من أجله وعمله ومضجعه وأثره ورزقه. رواه أحمد
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: আল্লাহ্ তা'আলা পাঁচটি বিষয়ে তাঁর সৃষ্টজীবের জন্য চূড়ান্তভাবে (তাক্বদীরে) লিখে দিয়ে নির্ধারিত করে রেখেছেন: (১) তার আয়ুষ্কাল (জীবনকাল), (২) তার ‘আমাল (কর্ম), (৩) তার অবস্থান বা মৃত্যুস্থান, (৪) তার চলাফেরা (গতিবিধি) এবং (৫) এবং তার রিয্ক্ব (জীবিকা)। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১১৪
وعن عائشة قالت سمعت رسول الله ﷺ يقول من تكـلم في شيء من القدر سئل عنه يوم القيامة ومن لم يتكـلم فيه لم يسأل عنه. رواه ابن ماجة
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: যে ব্যক্তি তাক্বদীর বিষয়ে আলোচনা করবে, ক্বিয়ামাতের দিন তাকে সে সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে। অপরদিকে যে ব্যক্তি এ ব্যাপারে কোন আলোচনা করবে না, তাকে সে বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হবে না। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১১৫
وعن ابن الديلمي قال أتيت أبي بن كعب فقلت له وقع في نفسي شيء من القدر فحدثني لعل الله أن يذهبه من قلبي فقال لو أن الله عز وجل عذب أهل سماواته وأهل أرضه عذبهم وهو غير ظالم لهم ولو رحمهم كانت رحمته خيرا لهم من أعمالهم ولو أنفقت مثل أحد ذهبا في سبيل الله ما قبله الله منك حتى تؤمن بالقدر وتعلم أن ما أصابك لم يكن ليخطئك وأن ما أخطأك لم يكن ليصيبك ولو مت على غير هذا لدخلت النار قال ثم أتيت عبد الله بن مسعود فقال مثل ذلك قال ثم أتيت حذيفة بن اليمان فقال مثل ذلك قال ثم أتيت زيد بن ثابت فحدثني عن النبي ﷺ مثل ذلك. رواه أحمد وأبو داوٗد وابن ماجة
তিনি বলেন, সহাবী উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ)-এর নিকট পৌছে আমি তাকে বললাম, তাক্বদীর সম্পর্কে আমার মনে একটি সন্দেহ তৈরি হচ্ছে। তাই আপনি আমাকে কিছু হাদীস শুনান যাতে আল্লাহ্র মেহেরবানীতে আমার মন থেকে (তাক্বদীর সম্পর্কে) এসব সন্দেহ-সংশয় দূরিভূত হয়। তিনি বললেন, আল্লাহ্ তা‘আলা যদি সমস্ত আকাশবাসী ও দুনিয়াবাসীকে শাস্তি দিতে ইচ্ছা করেন, তবে তা দিতে পারেন। এতে আল্লাহ্ যালিম বলে সাব্যস্ত হবেন না। পক্ষান্তরে তিনি যদি তাঁর সৃষ্টজীবের সকলের প্রতিই রহমাত করেন, তবে তাঁর এ রাহমাত তাদের জন্য সকল ‘আমাল হতে উত্তম হবে। সুতরাং তুমি যদি উহুদ পাহাড়সম স্বর্ণও আল্লাহ্র পথে দান কর, তোমার থেকে তিনি তা গ্রহণ করবেন না, যে পর্যন্ত তুমি তাক্বদীরে বিশ্বাস না করবে এবং যা তোমার ভাগ্যে ঘটেছে তা তোমার কাছ থেকে কক্ষনো দূরে চলে যাবে না- এ কথাও তুমি বিশ্বাস না করবে, আর যা এড়িয়ে গেছে তা কক্ষনো তোমার নিকট আর আসবে না- এ বিশ্বাস স্থাপন করা ব্যতীত যদি তোমার মৃত্যু হয় তবে অবশ্যই তুমি জাহান্নামে প্রবেশ করবে। ইবনু আদ্ দায়লামী বলেন, উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ)-এর এ বর্ণনা শুনে আমি সহাবী ‘আবদুল্লাহ ইবন মাস‘উদ (রাঃ)-এর নিকট গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম। তিনিও আমাকে এ কথাই প্রত্যুত্তর করলেন। তারপর সহাবী হুযায়ফাহ ইবনু ইয়ামান (রাঃ)-এর নিকট যেয়েও জিজ্ঞেস করলাম। তিনিও আমাকে একই প্রত্যুত্তর করলেন। এরপর যায়দ ইবনু সবিত (রাঃ)-এর কাছে আসলাম। তিনি স্বয়ং নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নাম করেই আমাকে একই ধরনের কথা বললেন। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১১৬
وعن نافع أن رجلا أتى ابن عمر فقال إن فلانا يقرأ عليك السلام فقال إنهٗ بلغني أنهٗ قد أحدث فإن كان قد أحدث فلا تقرئه مني السلام فإني سمعت رسول الله ﷺ يقول يكون في أمتي أو في هذه الأمة خسف أو مسخ أو قذف في أهل القدر. رواه الترمذي وأبو داوٗد وابن ماجة وقال الترمذي هذا حديث حسن صحيح غريب
তিনি বলেন, এক লোক সহাবী ইবনু উমার (রাঃ)-এর নিকট এসে বলল, অমুক লোক আপনাকে সালাম দিয়েছে। উত্তরে ইবনু উমার বললেন, আমি শুনেছি, সে নাকি দ্বীনের মধ্যে নতুন মত তৈরি করেছে (অর্থাৎ তাক্বদীরের প্রতি অবিশ্বাস করছে)। যদি প্রকৃতপক্ষে সে দ্বীনের মধ্যে নতুন কিছু তৈরি করে থাকে, তাহলে আমার পক্ষ হতে তাকে কোন সালাম পৌছাবে না। কেননা আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, আমার উম্মাতের অথবা এ উম্মাতের মধ্যে জমিনে ধ্বসে যাওয়া, চেহারা বিকৃত রূপ ধারণ করা, শিলা পাথর বর্ষণের মতো আল্লাহ্র কঠিন আযাব পতিত হবে, তাদের উপর যারা তাক্বদীরের প্রতি অস্বীকারকারী হবে। ইমাম তিরমিযী বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ ও গরীব। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১১৭
وعن علي قال سألت خديجة النبي ﷺ عن ولدين ماتا لها في الجاهلية فقال رسول الله ﷺ هما في النار قال فلما رأى الكراهية في وجهها قال لو رأيت مكانهما لابغضتهما قالت يا رسول الله فولدي منك قال في الجنة ثم قال رسول الله ﷺ إن المؤمنين وأولادهم في الجنة وإن المشركين وأولادهم في النار ثم قرأ رسول الله ﷺ والذين امنوا واتبعتهم ذريتهم. رواه أحمد
তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট খাদীজাহ্ (রাঃ) তাঁর (পূর্ব স্বামীর) দু’টি সন্তান সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন, যারা জাহিলিয়্যাতের যুগে মারা গেছে (তারা কোথায় জান্নাতী, না জাহান্নামী)। উত্তরে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তারা উভয়ে জাহান্নামী। আলী (রাঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (যখন সন্তানদের জাহান্নামী হওয়ার ব্যাপারে বর্ণনা দেন তখন) খাদীজাহ্ (রাঃ)-এর চেহারায় বিষন্ন ও অসন্তোষের ভাব লক্ষ্য করে বললেন, তুমি যদি তাদের অবস্থান বা অবস্থা দেখতে, তবে তুমি নিশ্চয়ই তাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করতে। অতঃপর খাদীজাহ্ (রাঃ) জিজ্ঞেস করলেন, তাহলে আপনার ঔরসে আমার যেসব সন্তান জন্মগ্রহণ করে মারা গেছে (কাসিম ও ‘আবদুল্লাহ, তাদের কী হবে)? রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তারা জান্নাতে অবস্থান করছে। অতঃপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, মু’মিনগণ ও তাদের সন্তান-সন্ততিরা জান্নাতে এবং মুশরিক ও তাদের সন্তানাদিরা জাহান্নামে যাবে। তারপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কুরআনের আয়াত পাঠ করলেন (অনুবাদ): “যারা ঈমান এনেছে আর তাদের সন্তানরা যারা তাদের অনুসরণ করেছে, [ আমি তাদের সন্তানদেরকে (জান্নাতে) ওদের সাথে রাখবো ]”- (সূরাহ্ আত্ তূর ৫২: ২১)। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১১৮
وعن أبي هريرة قال قال رسول الله ﷺ لما خلق الله اۤدم مسح ظهره فسقط من ظهره كل نسمة هو خالقها من ذريته إلى يوم القيامة وجعل بين عيني كل إنسان منهم وبيصا من نور ثم عرضهم على اۤدم فقال أي رب من هؤلاء قال ذريتك فرأى رجلا منهم فأعجبه وبيص ما بين عينيه قال أي رب من هذا قال داود فقال أي رب كم جعلت عمره قال ستين سنة قال رب زده من عمري أربعين سنة قال رسول الله ﷺ فلما أنقضى عمر اۤدم الا أربعين جاءه ملك الموت فقال اۤدم أولم يبق من عمري أربعون سنة؟ قال أولم تعطها ابنك داوٗد؟ فجحد اۤدم فجحدت ذريته ونسي اۤدم فأكل من الشجرة فنسيت ذريته وخطئ اۤدم فخطئت ذريته. رواه الترمذي
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আল্লাহ্ তা’আলা যখন আদাম (আঃ) –কে সৃষ্টি করলেন, তখন তাঁর পিঠের উপর হাত বুলালেন। এতে তাঁর পিঠ হতে তাঁর সমস্ত সন্তান জীবন্ত বেড়িয়ে পড়ল যা ক্বিয়ামাত অবধি তিনি সৃষ্টি করবেন। তন্মধ্যে প্রত্যেকের দুই চোখের মধ্যস্থলে নূরের চমক ছিল। অতঃপর সকলকে আদাম (আঃ)-এর সামনে পেশ করলেন। (এদেরকে দেখে) আদাম (আঃ) জিজ্ঞেস করলেন, হে রব! এরা কারা ? (প্রত্যুত্তরে) রব বললেন, এরা সব তোমার সন্তান। এমন সময় আদাম (আঃ) তাঁদের একজনকে দেখলেন, তাকে তার খুব ভাল লাগল। তাঁর দুই চোখের মধ্যস্থলে নূরের চমক ছিল। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, হে রব! এ ব্যক্তি কে? তিনি বলেন, (তোমার সন্তান) দাঊদ (আঃ)। তিনি (আদাম) বললেন, হে প্রভু! তার বয়স কত নির্ধারণ করেছেন? তিনি বললেন, ষাট বছর। তিনি (আদাম) বলেন, হে প্রভু! (অনুগ্রহ করে) আমার বয়স থেকে তাঁকে আরো চল্লিশ বছর দান করুন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, আদাম (আঃ)-এর বয়স ফুরিয়ে গেলে এবং ঐ চল্লিশ বছর বাকী থাকতে মালাকুল মাওত এসে তাঁর কাছে উপস্থিত হলেন। আদাম (আঃ) তাঁকে বললেন, এখনো তো আমার বয়স চল্লিশ বছর বাকী আছে। মালাকুল মাওত বললেন, আপনি কি আপনার বয়সের চল্লিশ বছর আপনার সন্তান দাঊদ (আঃ)-কে দান করেননি? আদাম (আঃ) তা অস্বীকার করেন। তাই তাঁর সন্তানরাও অস্বীকার করেন। অতঃপর আদাম (আঃ) (তার ওয়াদা) ভুলে গিয়েছিলেন। তিনি (নিষিদ্ধ) গাছের ফল খেয়ে ফেললেন। তাই তাঁর সন্তানরাও ভুলে যায়। আদাম (আঃ)-এর ত্রুটি-বিচ্যুতি হয়েছিল, আর এ কারণেই এই ত্রুটি-বিচ্যুতি সন্তানদের দ্বারাও হয়ে থাকে। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১১৯
وعن أبي الدرداء عن النبي ﷺ قال خلق الله اۤدم حين خلقهٗ فضرب كتفه اليمنى فأخرج ذرية بيضاء كأنهم الذر وضرب كتفه اليسرى فأخرج ذرية سوداء كأنهم الحمم فقال للذي في يمينه إلى الجنة ولا أبالي وقال للذي في كتفه اليسرى إلى النار ولا أبالي. رواه أحمد
নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ সৃষ্টির প্রাক্কালে আল্লাহ্ তা’আলা যখন আদাম (আঃ)-কে সৃষ্টি করলেন তখন তাঁর কাঁধের উপর তাঁর হাত মারলেন। এতে ক্ষুদ্র পিঁপড়ার দলের ন্যায় সুন্দর ঝকঝকে একদল আদাম সন্তান বেরিয়ে আসল। তিনি আবার তাঁর বাম কাঁধের উপর হাত মারলেন এবং কয়লার ন্যায় কালো অপর একদল আদাম সন্তান বেরিয়ে আসল। তারপর আল্লাহ্ তা’আলা আদাম (আঃ)-এর ডান দিকের সন্তানদের ইঙ্গিত করে বললেন, এ দল জান্নাতী। এতে আমি কারো পরোয়া করি না। অতঃপর আবার তিনি বাম দিকের আদাম সন্তানদের দিকে ইঙ্গিত করে বললেন, এ দল জাহান্নামী। এ সম্পর্কেও আমি কারো পরোয়া করি না। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১২০
وعن أبي نضرة أن رجلا من أصحاب النبي ﷺ يقال له أبو عبد الله دخل عليه أصحابه يعودونه وهو يبكي فقالوا له ما يبكيك؟ ألم يقل لك رسول الله ﷺ خذ من شاربك ثم أقره حتى تلقاني قال بلى ولكني سمعت رسول الله ﷺ يقول إن الله عز وجل قبض بيمينه قبضة وأخرى باليد الأخرى وقال هذه لهذه وهذه لهذه ولا أبالي فلا أدري في أي القبضتين أنا. رواه أحمد
তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সহাবীগণের মধ্যে আবূ ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)-কে তাঁর সঙ্গী-সাথীগণ (মৃত্যুশয্যায়) দেখতে আসলেন। তিনি তখন ক্রন্দনরত অবস্থায় ছিলেন। তাঁরা তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কান্নাকাটি করছেন কেন? আপনাকে কি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ কথা বলেননি যে, তোমার গোঁফ খাটো করবে। আর সব সময় এভাবে গোঁফকে খাটো রাখবে, যে পর্যন্ত আমার সাথে (জান্নাতে) দেখা না হবে। তিনি বললেন, হ্যাঁ। তবে আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে এ কথাও বলতে শুনেছি, মহান আল্লাহ্ তা’আলা স্বীয় ডান হাতে এক মুঠি (লোক) নিয়ে বলেছেন, এরা এর (জান্নাতের) জন্য এবং অপর (এক বাম) হাতের তালুতে এক মুঠি (লোক) নিয়ে বলেছেন, এরা এর (জাহান্নামের) জন্য। আর এ ব্যাপারে আমি কারো পরোয়া করি না। এ কথা বলে তিনি [‘আবদুল্লাহ (রাঃ)] বললেন, আমি জানি না, কোন হাতের মুঠির মধ্যে আমি আছি। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১২১
وعن ابن عباس عن النبي ﷺ قال أخذ الله الميثاق من ظهر اۤدم بنعمان يعني عرفة فأخرج من صلبه كل ذرية ذرأها فنثرهم بين يديه كالذر ثم كلمهم قبلا قال ألست بربكم؟ قالوا بلى شهدنا أن تقولوا يوم القيامة إنا كنا عن هذا غافلين أو تقولوا إنما أشرك اۤباؤنا من قبل وكنا ذرية من بعدهم أفتهلكنا بما فعل المبطلون. رواه أحمد
তিনি বলেছেনঃ আল্লাহ্ তা‘আলা ‘আরাফার মাঠের সন্নিকটে না‘মান নামে এক জায়গায় আদাম (আঃ)-এর মেরুদণ্ড হতে তাঁর সন্তানদের বের করে শপথ করিয়ে ছিলেন। তিনি আদাম (আঃ)-এর মেরুদন্ড হতে তাঁর প্রত্যেক সন্তানকে বের করেছিলেন। এ সকলকে পিঁপড়ার মত আদাম (আঃ)-এর সামনে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছিল। অতঃপর আল্লাহ্ তাদের সম্মুখপানে কথা বলেছিলেন, “আমি কি তোমাদের ‘প্রভু’ নই? আদাম সন্তানরা উত্তর দিয়েছিল, হ্যাঁ, অবশ্যই আপনি আমাদের ‘প্রতিপালক’। এতে আমি সাক্ষী থাকলাম যাতে তোমরা কিয়ামাতের দিন এ কথা বলতে না পার, আমরা জানতাম না কিংবা তোমরা এ কথাও বলতে না পার, আমাদের পিতৃ-পুরুষগণ আমাদের পূর্বে মুশরিক হয়ে গিয়েছিল। আর আমরা তাদের পরবর্তী বংশধর। তুমি কি বাতিলধর্মী (পিতৃ-পুরুষ)-গণ যা করেছে সে ‘আমালের কারণে আমাদেরকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে দিবে”- (সূরাহ্ আরাফ ১৭২-১৭৩)। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১২২
وعن أبي بن كعب في قول الله عز وجل ﴿وإذ أخذ ربك من بني ادم من ظهورهم ذريتهم وأشهدهم على أنفسهم﴾ قال : جمعهم فجعلهم أزواجا ثم صورهم فاستنطقهم فتكـلموا ثم أخذ عليهم العهد والميثاق﴿ألست بربكم﴾ قالو بلى قال فإني أشهد عليكم السموت السبع والأرضين السبع وأشهد عليكم أباكم اۤدم أن تقولوا يوم القيامة لم نعلم بهذا اعلموا أنهٗ لا إله غيري ولا رب غيري ولا تشركوا بي شيئا إني سأرسل إليكم رسلـي يذكرونكم عهدي وميثاقي وأنزل عليكم كتبي قالوا شهدنا بأنك ربنا وإلهنا لا رب لنا غيرك ولا إله لنا غيرك فأقروا بذلك ورفع عليهم اۤدم عليه السلام ينظر إليهم فرأى الغني والفقير وحسن الصورة ودون ذلك فقال رب لولا سويت بين عبادك؟ قال إني أحببت أن أشكر ورأى الأنبياء فيهم مثل السرج عليهم النور خصوا بميثاق اۤخر في الرسالة والنبوة وهو قولهٗ تبارك وتعالى وإذ أخذنا من النبيين ميثاقهم إلى قوله عيسى ابن مريم كان في تلك الأرواح فأرسلهٗ إلى مريم عليها السلام فحدث عن أبي أنهٗ دخل من فيها. رواه أحمد
তিনি এ আয়াতের “তোমাদের রব যখন বাণী আদামের মেরুদণ্ড থেকে তাদের সন্তানদের বের করলেন”- (সুরাহ্ আ’রাফ ৭: ১৭২-১৭৩) এর তাফসীরে বলেন, আল্লাহ্ তা‘আলা আদাম সন্তানদের একত্রিত করলেন। তাদেরকে বিভিন্ন রকম করে গড়ার মনস্থ করলেন,এরপর তাদের আকার-আকৃতি দান করলেন। তারপর কথা বলার শক্তি দিলেন। এবার তারা কথা বলতে লাগল। অতঃপর তাদের কাছ থেকে ওয়া‘দা-অঙ্গীকার গ্রহণ করলেন এবং তাদের নিজের সাক্ষ্য গ্রহণ করলেন, ‘আমি কি তোমাদের রব নই’ ? আদাম সন্তানগণ বলল, হ্যাঁ, (নিশ্চয়ই আপনি আমাদের রব)। তারপর আল্লাহ্ তা‘আলা বললেন, আমি তোমাদের এ কথার উপর সাত আসমান ও সাত জমিনকে তোমাদের সম্মুখে সাক্ষী করছি এবং তোমাদের পিতা আদামকেও সাক্ষী বানাচ্ছি। তোমরা যেন ক্বিয়ামাতের দিন এ কথা বলার সুযোগ না পাও যে, আমরা তো এ ব্যাপারে কিছুই জানি না। তাই এখন তোমরা ভাল করে জেনে নাও, আমি ছাড়া তোমাদের কোন মা‘বূদ নেই এবং আমি ছাড়া তোমাদের কোন প্রতিপালকও নেই। সুতরাং (সাবধান) আমার সাথে কাউকে শরীক করো না। আমি শীঘ্রই তোমাদের কাছে আমার রসূলগণকে প্রেরণ করব, যারা তোমাদেরকে আমার ওয়া‘দা-অঙ্গীকার স্মরণ করিয়ে দিবেন। অতঃপর তোমাদের উপর আমি আমার কিতাবসমূহ নাযিল করব। তখন এ কথা শুনে আদাম সন্তান বলল, আমরা এ কথার সাক্ষ্য দিচ্ছি, নিশ্চয়ই তুমি আমাদের রব ও আমাদের ইলাহ। তুমি ছাড়া আমাদের কোন রব নেই এবং তুমি ছাড়া আমাদের কোন ইলাহ নেই। বস্তুত আদাম সন্তানদের সকলে এ কথা স্বীকার করে নিল। আদাম (আঃ)-কে তাদের উপর উঠিয়ে ধরা হল। তিনি সকলকে প্রত্যক্ষ করলেন। তিনি দেখলেন, তাঁর সন্তানদের মধ্যে ধনী-দরিদ্রও আছে, সুন্দর-অসুন্দরও আছে, (এটা দেখে) তিনি বললেন, হে রব! তুমি তোমার বান্দাদের সকলকে যদি এক সমান করে বানাতে? আল্লাহ্ তা‘আলা বললেন, আমি চাই আমার বান্দারা আমার প্রতি কৃতজ্ঞতার মধ্যে থাকুক। এরপর আদাম (আঃ) নাবীদেরকে দেখলেন, তারা সকলেই যেন চেরাগের ন্যায়-তাদের উপর আলো ঝলমল করছিল। তাদের কাছ থেকে বিশেষ করে নাবূওয়াতের ও রিসালাতের দায়িত্ব পালনের বিশেষ শপথও নেয়া হয়েছে। আল্লাহ্ তা‘আলা বলছেন (অনুবাদ): “আমি নাবীদের নিকট হতে যখন তাদের ওয়া‘দা অঙ্গীকার গ্রহণ করলাম এবং আপনি মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম), নূহ (আঃ), ইবরাহীম (আঃ), মূসা (আঃ), ঈসা ইবনু মারইয়াম (আঃ) হতেও (অঙ্গীকার ও ওয়া‘দা) নেয়া হয়েছে”- (সূরাহ্ আহযাব ৩৩: ৭)। তিনি [উবাই (রাঃ)] বলেন, এ রূহ্দের মধ্যে ‘ঈসা ইবনু মারইয়াম-এর রূহ্ (আত্না)-ও ছিল। অতঃপর আল্লাহ্ তা‘আলা এ রূহ্কেই মারইয়াম (আঃ)-এর প্রতি প্রেরণ করেছেন। উবাই বলেছেন, এ রূহ্ মারইয়াম (আঃ)-এর মুখ দিয়ে (তাঁর পেটে) প্রবেশ করেছে। [১] (আহ্মাদ)
মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৩
وعن أبي الدرداء قال بينما نحن عند رسول الله ﷺ نتذاكر ما يكون إذ قال رسول الله ﷺ إذا سمعتم بجبل زال عن مكانه فصدقوا وإذا سمعتم برجل تغير عن خلقه فلا تصدقوا به فإنهٗ يصير إلى ما جبل عليه. رواه أحمد
তিনি বলেন, আমরা একদা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট বসেছিলাম এবং দুনিয়াতে যা কিছু সংঘটিত হচ্ছে এ ব্যাপারে আলাপ-আলোচনা করতেছিলাম। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তোমরা যখন শুনবে যে, কোন পাহাড় তার নিজের জায়গা থেকে সরে গেছে তাতে তোমরা বিশ্বাস করতে পার। কিন্তু যখন শুনবে যে, কোন মানুষের (সৃষ্টিগত) স্বভাব-চরিত্রের পরিবর্তন ঘটেছে তাতে বিশ্বাস স্থাপন করবে না। কেননা মানুষ সেদিকে প্রত্যাবর্তন করবে যার উপর তার সৃষ্টি হয়েছে। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৪
وعن أم سلمة قالت يا رسول الله لا يزال يصيبك في كل عام وجع من الشاة المسمومة التي أكـلت قال ما أصابني شيء منها الا وهو مكتوب علـي وادم في طينته. رواه ابن ماجة
তিনি বলেন, একদা আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বললাম হে, আল্লাহ্র রসূল! আপনি যে বিষ মিশানো ছাগলের গোশ্ত খেয়েছিলেন, তার বিষক্রিয়ার কারণে প্রতি বছরই আপনি এত কষ্ট অনুভব করছেন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, প্রতি বছরই আমার যে যন্ত্রনা বা অসুখ হয়, এটা আমার (নির্ধারিত) তাক্বদীরে লিপিবদ্ধ হয়েছিল, অথচ তখন আদাম (আঃ) ভূগর্ভেই ছিলেন। [১]