প্রথম অনুচ্ছেদ - মিশকাতুল মাসাবিহ | হাদীস | কুরআন ও সুন্নাহ

মিশকাতুল মাসাবিহ > প্রথম অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ৭৯

عن عبد الله بن عمرو قال قال رسول الله ﷺ : «كتب الله مقادير الخلائق قبل أن يخلق السماوات والأرض بخمسين ألف سنة» قال : وكان عرشهٗ على الماء. رواه مسلم

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : আল্লাহ তা’আলা আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টির পঞ্চাশ হাজার বছর পূর্বে মাখলূক্বের তাক্বদীর লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরো বলেছেন, (তখন আল্লাহ্‌র ‘আরশ (সিংহাসন) পানির উপর ছিল। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৮০

وعن ابن عمر قال قال رسول الله ﷺ : «كل شيء بقدر حتى العجز والكيس». رواه مسلم

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : প্রত্যেকটি জিনিসই আল্লাহর ক্বাদ্‌র (তাক্বদীর) অনুযায়ী রয়েছে, এমনকি নির্বুদ্ধিতা ও বিচক্ষণতাও। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৮১

وعن أبي هريرة قال قال رسول الله ﷺ : احتج اۤدم وموسى عند ربهما فحج اۤدم موسى قال أنت اۤدم الذي خلقك الله بيده ونفخ فيك من روحه وأسجد لك ملائكتهٗ وأسكنك في جنته ثم أهبطت الناس بخطيئتك إلى الأرض قال اۤدم أنت موسى الذي اصطفاك الله برسالته وبكلامه وأعطاك الألواح فيها تبيان كل شيء وقربك نجيا فبكم وجدت الله كتب التوراة قبل أن أخلق؟ قال موسى بأربعين عاما قال اۤدم فهل وجدت فيها ﴿وعصى ادم ربهٗ فغوى؟﴾ قال : نعم. قال أفتلومني على أن عملت عملا كتبه الله علـي أن أعملهٗ قبل أن يخلقني بأربعين سنة؟» قال رسول الله ﷺ : فحج اۤدم موسى. رواه مسلم

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : (আলমে আরওয়াহ্‌ বা রুহ জগতে) আদাম ও মূসা (আঃ) পরস্পর তর্ক-বিতর্কে লিপ্ত হলেন। এ তর্কে আদাম (আঃ) মূসার উপর জয়ী হলেন। মূসা (আঃ) বললেন, আপনি তো সে আদাম, যাঁকে আল্লাহ (বিনা পিতা-মাতায়) তাঁর নিজ হাতে সৃষ্টি করেছেন এবং আপনার মধ্যে তাঁর রূহ ফুঁকে দিয়েছেন। মালায়িকার দ্বারা আপনাকে সাজদাহ করিয়েছেন এবং আপনাকে তাঁর চিরস্থায়ী জান্নাতে স্থান করে দিয়েছিলেন। অতঃপর আপনি আপনার স্বীয় ত্রুটির কারণে মানবজাতিকে জমিনে নামিয়ে দিয়েছেন। আদাম (আঃ) (প্রত্যুত্তরে) বললেন, তুমি তো সে মূসা যাঁকে আল্লাহ তা’আলা নবূওয়াতের পদমর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছেন। তোমাকে তাওরাত দান করেছেন, যাতে সমস্ত বিষয়ের বর্ণনা রয়েছে। অধিকন্তু তিনি তোমাকে গোপন কথা দ্বারাও নৈকট্য দান করেছেন। আল্লাহ আমার সৃষ্টির কত বছর পূর্বে তাওরাত লিখে রেখেছিলেন তুমি কি জান? মূসা (আঃ) বললেন, চল্লিশ বছর পূর্বে। তখন আদাম (আঃ) বললেন, তুমি কি তাওরাতে (এ শব্দগুলো লিখিত) পাওনি যে, আদাম তাঁর প্রতিপালকের নাফরমানী করেছে এরং পথভ্রষ্ট হয়েছে? (সূরাহ্‌ ত্ব-হা ২০ : ১২১) মূসা (আঃ) (উত্তর) দিলেন, হাঁ, পেয়েছি। তখন আদাম (আঃ) বললেন, তারপর তুমি আমাকে আমার ‘আমালের জন্য তিরস্কার করছ কেন, যা আমার সৃষ্টিরও চল্লিশ বছর পূর্বে আল্লাহ আমার জন্য লিপিবদ্ধ করে রেখেছিলেন। রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, সুতরাং আদাম (আঃ) মূসা (আঃ)-এর উপর জয়ী হলেন। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৮২

وعن ابن مسعود قال حدثنا رسول الله ﷺ وهو الصادق المصدوق : «إن خلق أحدكم يجمع في بطن أمه أربعين يوما نطفة ثم يكون علقة مثل ذلك ثم يكون مضغة مثل ذلك ثم يبعث الله إليه ملكا بأربع كلمات فيكتب عملهٗ ورزقهٗ وشقي أو سعيد ثم ينفخ فيه الروح فوالذي لا إله غيرهٗ إن أحدكم ليعمل بعمل أهل الجنة حتى ما يكون بينهٗ وبينها الا ذراع فيسبق عليه الكتاب فيعمل بعمل أهل النار فيدخلها وإن أحدكم ليعمل بعمل أهل النار حتى ما يكون بينهٗ وبينها الا ذراع فيسبق عليه الكتاب فيعمل بعمل أهل الجنة فيدخلها». متفق عليه

তিনি বলেন, সত্যবাদী ও সত্যবাদী বলে স্বীকৃত আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: তোমাদের প্রত্যেকেরই জন্ম হয় এভাবে যে, তার মায়ের পেটে (প্রথমে তার মূল উপাদান) শুক্ররূপে চল্লিশ দিন পর্যন্ত থাকে। অতঃপর তা চল্লিশ দিন পর্যন্ত লাল জমাট রক্তপিণ্ডরূপ ধারণ করে। তারপর পরবর্তী চল্লিশ দিনে মাংসপিণ্ডের রূপ ধারণ করে। অতঃপর আল্লাহ তা’আলা একজন মালাককে চারটি বিষয় লিখে দেয়ার জন্য পাঠান। সে মালাক লিখেন তার- (১) ‘আমাল [সে কি কি ‘আমাল করবে], (২) তার মৃত্যু, (৩) তার রিয্‌ক ও (৪) তার নেককার বা দুর্ভাগা হওয়ার বিষয় আল্লাহ্‌র হুকুমে তার তাক্বদীরে লিখে দেন, তারপর তন্মধ্যে রূহ্‌ প্রবেশ করান। অতঃপর সে সত্তার কসম, যিনি ব্যতীত প্রকৃত আর কোন ইলাহ নেই! তোমাদের মধ্যে কেউ জান্নাতবাসীদের ‘আমাল করতে থাকে, এমনকি তার ও জান্নাতের মধ্যে মাত্র এক হাত দূরত্ব থাকে, এমন সময় তার প্রতি তাক্বদীরের লিখা তার সামনে আসে। আর তখন সে জাহান্নামীদের কাজ করতে থাকে এবং জাহান্নামে প্রবেশ করে। তোমাদের কোন ব্যক্তি জাহান্নামীদের মত ‘আমাল করতে শুরু করে, এমনকি তার ও জাহান্নামের মধ্যে এক হাত দূরত্ব অবশিষ্ট থাকে। এমন সময় তার প্রতি সে লেখা (তাক্বদীর) সামনে আসে, তখন সে জান্নাতীদের কাজ করতে শুরু করে, ফলে সে জান্নাতে প্রবেশ করে। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৮৩

وعن سهل بن سعد قال قال رسول الله ﷺ : «إن العبد ليعمل عمل أهل النار وإنهٗ من أهل الجنة ويعمل عمل أهل الجنة وإنهٗ من أهل النار وإنما الأعمال بالخواتيم». متفق عليه

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: কোন বান্দা জাহান্নামীদের ‘আমাল করতে থাকবে, অথচ সে জান্নাতী। এভাবে কোন জান্নাতীদের ‘আমাল করবে অথচ করবে অথচ সে জাহান্নামী। কেননা মানুষের ‘আমাল নির্ভর করে ‘খাওয়া-তীম’ বা সর্বশেষ আ’মালের উপর। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৮৪

وعن عائشة رضى الله عنها قالت دعي رسول الله ﷺ إلى جنازة صبي من الأنصار فقلت يا رسول الله طوبى لهذا عصفور من عصافير الجنة لم يعمل السوء ولم يدركه فقال : أو غير ذلك يا عائشة إن الله خلق للجنة أهلا خلقهم لها وهم في أصلاب اۤبائهم وخلق للنار أهلا خلقهم لها وهم في أصلاب اۤبائهم. رواه مسلم

তিনি বলেন, একদা একজন আনসারীর বাচ্চার জানাযার সলাত আদায়ের জন্য রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে ডাকা হল। আমি (‘আয়িশাহ্‌) বললাম, হে আল্লাহর রসূল! এ বাচ্চার কি সৌভাগ্য, সে তো জান্নাতের চড়ুই পাখিদের মধ্যে একটি চড়ুই। সে তো কোন গুনাহ করেনি বা গুনাহ করার বয়সও পায়নি। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, এছাড়া অন্য কিছু কি হতে পারে না হে ‘আয়িশাহ্‌! আল্লাহ তা’আলা একদল লোককে জান্নাতের জন্য সৃষ্টি করে রেখেছেন, যখন তারা তাদের পিতার মেরুদণ্ডে ছিল। এভাবে জাহান্নামের জন্যও একদল লোক সৃষ্টি করে রেখেছেন অথচ তখন তারা তাদের পিতার মেরুদণ্ডে ছিল। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৮৫

وعن على قال قال رسول الله ﷺ : «ما منكم من أحد الا وقد كتب مقعدهٗ من الجنة» ومقعدهٗ من النار قالوا يا رسول الله! أفلا نتكل على كتابنا وندع العمل؟ قال : اعملوا فكل ميسر لما خلق لهٗ أما من كان من أهل السعادة فييسر لعمل السعادة وأما من كان من أهل الشقاوة فييسرون لعمل الشقاء ثم قرأ : (فأما من أعطى واتقى - وصدق بالحسنى) الاۤية. متفق عليه

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যার অবস্থান জান্নাতে কিংবা জাহান্নামে লিখে রাখেননি। সহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রসূল! তাহলে আমরা কি আমাদের তাক্বদীরের লেখার উপর নির্ভর করে আমল ছেড়ে দিব না ? নাৰী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, (না, বরং) আমল করে যেতে থাক। কেননা প্রত্যেক ব্যক্তিকে যে জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে, সে কাজ তার জন্য সহজ করে দেয়া হবে। সুতরাং যে ব্যক্তি সৌভাগ্যবান তাকে আল্লাহ সৌভাগ্যের কাজ করার জন্য সহজ ব্যবস্থা করে দিবেন। আর সে ব্যক্তি দুর্ভাগা হবে যার জন্য দুর্ভাগ্যের কাজ সহজ করে দেয়া হবে। অতঃপর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (কুরআনের এ আয়াতটি) পাঠ করলেন: “যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে (সময় ও অর্থ) ব্যয় করেছে, আল্লাহকে ভয় করেছে, হাক্ব কথাকে (দ্বীনকে) সমর্থন জানিয়েছে"- সূরাহ্ আল লায়ল ৫-৬ নং আয়াতের শেষ পর্যন্ত। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৮৬

وعن أبي هريرة قال قال رسول الله ﷺ : إن الله كتب على ابن اۤدم حظهٗ من الزنا أدرك ذلك لا محالة فزنا العين النظر وزنا اللسان المنطق والنفس تمنى وتشتهي والفرج يصدق ذلك ويكذبهٗ. متفق عليه. وفي رواية لمسلم قال : كتب على ابن اۤدم نصيبهٗ من الزنا مدرك ذلك لا محالة العينان زناهما النظر والأذنان زناهما الاستماع واللسان زناه الكلام واليد زناها البطش والرجل زناها الخطا والقلب يهوى ويتمنى ويصدق ذلك الفرج ويكذبهٗ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: মহান আল্লাহ তা'আলা আদাম সন্তানের জন্য তার ব্যভিচারের অংশ লিখে রেখেছেন, সে তা নিশ্চয়ই করবে। চোখের ব্যভিচার হল দেখা, জিহবার ব্যভিচার কথা বলা (যৌন উদ্দীপ্ত কথা বলা)। আর মন চায় ও আকাঙ্ক্ষা করে এবং গুপ্তাঙ্গ তাকে সত্য বা মিথ্যায় প্রতিপন্ন করে। [১] কিন্তু সহীহ মুসলিমের অপর এক বর্ণনায় আছে, আদাম সস্তানের জন্য তাকদীরে যিনার অংশ যতটুকু নির্ধারণ করা হয়েছে, সে ততটুকু অবশ্যই পাবে। দুই চোখের যিনা তাকানো, কানের যিনা যৌন উদ্দীপ্ত কথা শোনা, মুখের যিনা আবেগ উদ্দীপ্ত কথা বলা, হাতের যিনা (বেগানা নারীকে খারাপ উদ্দেশ্যে) স্পর্শ করা আর পায়ের যিনা ব্যভিচারের উদ্দেশে অগ্রসর হওয়া এবং মনের যিনা হল চাওয়া ও প্রত্যাশা করা। আর গুপ্তাঙ্গ তা সত্য বা মিথ্যায় প্রতিপন্ন করে। [2]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৮৭

وعن عمران بن الحصين إن رجلين من مزينة قالا يا رسول الله أرأيت ما يعمل الناس اليوم ويكدحون فيه أشيء قضي عليهم ومضى فيهم من قدر قد سبق أو فيما يستقبلون به مما أتاهم به نبيهم وثبتت الحجة عليهم؟ فقال : لا، بل شيء قضي عليهم ومضى فيهم وتصديق ذلك في كتاب الله عز وجل : (ونفس وما سواها فألهمها فجورها وتقواها)

মুযায়নাহ গোত্রের দুই লোক রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দরবারে উপস্থিত হয়ে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আপনি কি মনে করেন, মানুষ এখন (দুনিয়াতে) যা ‘আমাল (ভাল-মন্দ) করছে এবং ‘আমাল করার চেষ্টায় রত আছে, তা আগেই তাদের জন্য তাকদীরে লিখে রাখা হয়েছিল ? নাকি পরে যখন তাদের নিকট তাদের নাবী শারী'আহ (দলীল-প্রমাণ) নিয়ে এসেছেন এবং তাদের নিকট তার দলীল-প্রমাণ প্রকটিত হয়েছে, তখন তারা তা করছে ? উত্তরে রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: না, বরং পূর্বেই তাদের জন্য তাক্বদীরে এসব নির্দিষ্ট করা হয়েছে ও ঠিক হয়ে রয়েছে। এ কথার সমর্থনে তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কুরআনের এ আয়াত পাঠ করলেন (অনুবাদ): “প্রাণের কসম (মানুষের)! এবং যিনি তাকে সুন্দরভাবে গঠন করেছেন এবং তাকে (পূর্বেই) ভাল ও মন্দের জ্ঞান দিয়েছেন"- (সূরাহ আল লায়ল ৯২ঃ ৭-৮)।” [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৮৮

وعن أبي هريرة قال قلت يا رسول الله إني رجل شاب وأنا أخاف على نفسي العنت ولا أجد ما أتزوج به النساء كأنهٗ يستأذنهٗ في الإختصاء قال فسكت عني ثم قلت مثل ذلك فسكت عني ثم قلت مثل ذلك فسكت عني ثم قلت مثل ذلك فقال النبي ﷺ يا أبا هريرة! جف القلم بما أنت لاق فاختص على ذلك أو ذر. رواه البخاري

তিনি বলেন, একদা আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমি একজন যুবক মানুষ। তাই আমি আমার সম্পর্কে ব্যভিচারের জড়িয়ে পড়ার আশংকা করছি। অথচ কোন নারীকে বিবাহ করার (আর্থিক) সঙ্গতিও আমার নেই। আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) যেন খাসী হবার অনুমতিই প্রার্থনা করছিলেন। আবূ হুরায়রাহ বলেন, এ কথা শুনে তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রত্যুত্তর না দিয়ে নীরব থাকলেন। আমি আবারও অনুরূপ প্রশ্ন করলাম। এবারও তিনি নীরব থাকলেন। সুতরাং আমি ঐরূপ প্রশ্ন করলাম, এবারও তিনি নীরব থাকলেন। আমি চতুর্থবার সেরূপ প্রশ্ন করলে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, হে আবূ হুরায়রাহ! তোমার জন্য যা ঘটবার আছে তা আগে থেকেই তোমার ভাগ্যে নির্ধারিত হওয়ার মাধ্যমে কলম শুকিয়ে গেছে। এখন তুমি এটা জেনে খাসীও হতে পার বা এমন ইচ্ছা পরিত্যাগও করতে পার। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৮৯

وعن عبد الله بن عمرو قال قال رسول الله ﷺ : إن قلوب بني اۤدم كـلها بين إصبعين من أصابع الرحمن كقلب واحد يصرفهٗ كيف يشاء ثم قال رسول الله ﷺ : اللهم مصرف القلوب صرف قلوبنا على طاعتك. رواه مسلم

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ সমস্ত অন্তর আল্লাহ্‌র আঙ্গুলসমূহের দুই আঙ্গুলের মধ্যে একটি অন্তরের ন্যায় অবস্থিত। তিনি নিজের আঙ্গুলগুলোর দ্বারা তা যেভাবে ইচ্ছা ঘুরিয়ে থাকেন। অতঃপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, “হে অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী আল্লাহ্‌! আমাদের অন্তরকে তোমার ‘ইবাদাত ও আনুগত্যের দিকে ঘুরিয়ে দাও।” [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৯০

وعن أبي هريرة قال قال رسول الله ﷺ : ما من مولود الا يولد على الفطرة فأبواه يهودانه وينصرانه أو يمجسانه كما تنتج البهيمة بهيمة جمعاء هل تحسون فيها من جدعاء ثم يقول : (فطرة الله التي فطر الناس عليها لا تبديل لخلق الله ذلك الدين القيم). متفق عليه

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ প্রত্যেক সন্তানই ইসলামী ফিতরাতের উপর জন্মগ্রহণ করে থাকে। অতঃপর তার মাতা-পিতা তাকে ইয়াহূদী, নাসারা অথবা অগ্নিপূজক বানিয়ে ফেলে। যেরূপে চতুষ্পদ জন্তু পূর্ণাঙ্গ জন্তুই জন্ম দিয়ে থাকে, এতে তোমরা কোন বাচ্চার কানকাটা দেখতে পাও কি? এরপর তিনি তিলাওয়াত করলেনঃ (আরবী) “আল্লাহ্‌র ফিতরাত, যার উপর তিনি মানবজাতিকে সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ্‌ তা‘আলার সৃষ্টি রহস্যে কোন পরিবর্তন নেই। এটাই সরল প্রতিষ্ঠিত দীন।” (সূরা আর রূম ৩০ : ৩০)। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৯১

وعن أبي موسى قال قام فينا رسول الله ﷺ بخمس كـلمات فقال : إن الله لا ينام ولا ينبغي لهٗ أن ينام يخفض القسط ويرفعهٗ يرفع إليه عمل الليل قبل عمل النهار وعمل النهار قبل عمل الليل حجابه النور لو كشفهٗ لاحرقت سبحات وجهه ما انتهى إليه بصرهٗ من خلقه. رواه مسلم

তিনি বলেন, একদা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পাঁচটি বিষয়সহ আমাদের মাঝে দাঁড়ালেন এবং তিনি বললেন, (১) আল্লাহ্‌ তা‘আলা কক্ষনো ঘুমান না। (২) ঘুমানো তাঁর পক্ষে সাজেও না। (৩) তিনি দাঁড়িপাল্লা উঁচু-নিচু করেন (সৃষ্টির রিয্‌ক ও ‘আমাল প্রভৃতি নির্ধারিত করে থাকেন)। (৪) রাতের ‘আমাল দিনের ‘আমালের পূর্বে, আর দিনের ‘আমাল রাতের ‘আমলের পূর্বেই তাঁর নিকটে পৌঁছানো হয় এবং (৫) তাঁর (এবং সৃষ্টিজগতের মধ্যে) পর্দা হচ্ছে নূর (জ্যোতি)। যদি তিনি এ পর্দা সরিয়ে দিতেন, তবে তাঁর চেহারার নূর সৃষ্টিজগতের দৃষ্টির শেষ সীমা পর্যন্ত সব কিছুকেই জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছারখার করে দিত। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৯২

وعن أبي هريرة قال قال رسول الله ﷺ : يد الله ملأى لا تغيضها نفقة سحاء الليل والنهار أرأيتم ما أنفق منذ خلق السماء والأرض فإنهٗ لم يغض ما في يده وكان عرشهٗ على الماء وبيده الميزان يخفض ويرفع. متفق عليه وفي رواية لمسلم: يمين الله ملأى وقال ابن نمير ملاۤن سحاء لا يغيضها شيء الليل والنهار

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আল্লাহ্‌ তা‘আলার হাত সদাসর্বদা পূর্ণ। অবিরাম মুষলধারে বর্ষণকারীর মতো দান কখনও তা কমাতে পারে না। তোমরা কি দেখছো না, তিনি যখন থেকে এ আসমান-জমিন সৃষ্টি করেছেন তখন থেকে কতই না দান করে আসছেন। অথচ তাঁর হাতে যা ছিল তার থেকে কিছুই কমায়নি। তাঁর ‘আর্‌শ (প্রথমে) পানির উপর ছিল। তাঁর হাতেই রয়েছে দাঁড়িপাল্লা। তিনি এ দাঁড়িপাল্লাকে উঁচু বা নিচু করে থাকেন। [১] সহীহ্‌ মুসলিমের অপর এক বর্ণনায় রয়েছে, আল্লাহ্‌ দক্ষিণ (ডান) হাত সদা পরিপূর্ণ। আর ইবনু নুমায়র (রহঃ)-এর বর্ণনায় আছে, আল্লাহ্‌র হাত পরিপূর্ণ, দিন-রাতের মধ্যে সর্বদা দানকারী কোন কিছুই এতে কমাতে পারে না।


মিশকাতুল মাসাবিহ ৯৩

وعنه قال سئل رسول الله ﷺ عن ذراري المشركين قال : الله أعلم بما كانوا عاملين. متفق عليه

তিনি বলেন, একদা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে কাফির-মুশরিকদের শিশু-সস্তানদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল (মৃত্যুর পর তাদের স্থান কোথায় জান্নাতে, না জাহান্নামে)? জবাবে রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আল্লাহ্‌ই সবচেয়ে ভাল জানেন, তারা (জীবিত থাকলে) কি আমাল করত। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ > দ্বিতীয় ‘অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ৯৪

عن عبادة بن الصامت قال قال رسول الله ﷺ : إن أول ما خلق الله القلم فقال اكتب؟ قال ما أكتب قال اكتب القدر فكتب ما كان وما هو كائن إلى الأبد. رواه الترمذي وقال هذا حديث غريب إسنادا

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আল্লাহ্‌ সর্বপ্রথম যে বস্তুটি সৃষ্টি করেছিলেন তা হচ্ছে কলম। অতঃপর তিনি কলমকে বললেন, লিখ। কলম বলল, কী লিখব? আল্লাহ্‌ বললেন, কদ্‌র (তাক্বদীর) সম্পর্কে লিখ । সুতরাং কলম- যা ছিল ও ভবিষ্যতে যা হবে, সবকিছুই লিখে ফেলল। তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, হাদীসটি সানাদ হিসেবে গারীব। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৯৫

وعن مسلم بن يسار قال سئل عمر بن الخطاب عن هذه الاۤية : ﴿وإذ أخذ ربك من بني اۤدم من ظهورهم ذريتهم﴾ الاۤية قال عمر سمعت رسول الله ﷺ يسأل عنها فقال : إن الله خلق اۤدم ثم مسح ظهره بيمينه فاستخرج منه ذرية فقال خلقت هؤلاء للجنة وبعمل أهل الجنة يعملون ثم مسح ظهرهٗ فاستخرج منه ذرية فقال خلقت هؤلاء للنار وبعمل أهل النار يعملون». فقال رجل ففيم العمل يا رسول الله؟ فقال رسول الله ﷺ : إن الله إذا خلق العبد للجنة استعمله بعمل أهل الجنة حتى يموت على عمل من أعمال أهل الجنة فيدخله به الجنة وإذا خلق العبد للنار استعمله بعمل أهل النار حتى يموت على عمل من أعمال أهل النار فيدخله به النار. رواه مالك والترمذي وأبو داوٗد

তিনি বলেন, ‘উমার ইবনুল খাত্ত্বাব (রাঃ)-কে কুরআনের এ আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলঃ “(হে মুহাম্মাদ!) আপনার রব যখন আদাম সস্তানদের পিঠ থেকে তাদের সব সস্তানদেরকে বের করলেন” (সূরাহ্‌ আল আ‘রাফ ৭: ১৭২) (...আয়াতের শেষ পর্যন্ত)। ‘উমার (রাঃ) বললেন, আমি শুনেছি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হয় এবং তিনি জবাবে বলেন, আল্লাহ্‌ তা‘আলা আদাম (আঃ) কে সৃষ্টি করলেন। অতঃপর আপন ডান হাত তাঁর পিঠ বুলালেন। আর সেখান থেকে তাঁর (ভবিষ্যতের) একদল সন্তান বের করলেন। অতঃপর বললেন, এসবকে আমি জান্নাতের জন্য সৃষ্টি করেছি, তারা জান্নাতীদের কাজই করবে। আবার আদামের পিঠে হাত বুললেন এবং সেখান থেকে (অপর) একদল সস্তান বের করলেন এবং বললেন, এদেরকে আমি জাহান্নামের জন্য সৃষ্টি করেছি এবং তারা জাহান্নামীদেরই ‘আমাল করবে। একজন সহাবী জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহ্‌র রসূল! তাহলে ‘আমালের আর আবশ্যকতা কি? উত্তরে রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, যখন আল্লাহ্‌ কোন বান্দাকে জান্নাতের জন্য সৃষ্টি করেন, তার দ্বারা জান্নাতীদের কাজই করিয়ে নেন। শেষ পর্যন্ত সে জান্নাতীদের কাজ করেই মৃত্যুবরণ করে এবং আল্লাহ্‌ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করান। এভাবে আল্লাহ্‌ তাঁর কোন বান্দাকে জাহান্নামের জন্য সৃষ্টি করেন, তার দ্বারা জাহান্নামীদের কাজই করিয়ে নেন। পরিশেষে সে জাহান্নামীদের কাজ করেই মৃত্যুবরণ করে, আর এ কারণে আল্লাহ্‌ তাকে জাহান্নামে দাখিল করেন। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৯৬

وعن عبد الله بن عمرو قال خرج رسول الله ﷺ وفي يده كتابان فقال أتدرون ما هذان الكتابان؟ قلنا لا يا رسول الله الا أن تخبرنا فقال للذي في يده اليمنى هذا كتاب من رب العالمين فيه أسماء أهل الجنة وأسماء آبائهم وقبائلهم ثم أجمل على آخرهم فلا يزاد فيهم ولا ينقص منهم أبدا ثم قال للذي في شماله هذا كتاب من رب العالمين فيه أسماء أهل النار وأسماء آبائهم وقبائلهم ثم أجمل على آخرهم فلا يزاد فيهم ولا ينقص منهم أبدا فقال أصحابه ففيم العمل يا رسول الله إن كان أمر قد فرغ منه فقال سددوا وقاربوا فإن صاحب الجنة يختم له بعمل أهل الجنة وإن عمل أي عمل وإن صاحب النار يختم له بعمل أهل النار وإن عمل أي عمل ثم قال رسول الله ﷺ بيديه فنبذهما ثم قال فرغ ربكم من العباد فريق في الجنة وفريق في السعير. رواه الترمذي

তিনি বলেন, একদা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দুই হাতে দু’টি কিতাব নিয়ে বের হলেন এবং (সাহাবীগণের উদ্দেশ্যে) বললেন, তোমরা কি জান এ কিতাব দু’টি কি? আমরা বললাম, না, হে আল্লাহ্‌র রসূল! কিন্তু আপনি যদি আমাদের অবহিত করতেন। তিনি তাঁর ডান হাতের কিতাবের প্রতি ইশারা করে বললেন, আমার ডান হাতে কিতাবটি হচ্ছে আল্লাহ্‌ রব্বুল ‘আলামীনের পক্ষ থেকে একটি কিতাব। এতে সকল জান্নাতীদের নাম, তাদের পিতাদের নাম ও বংশ-পরম্পরার নাম রয়েছে এবং এদের সর্বশেষ ব্যক্তির নামের পর সর্বমোট যোগ করা হয়েছে। অতঃপর এতে আর কক্ষনো (কোন নাম) বৃদ্ধিও হবে না কমতিও করা হবে না। তারপর তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বাম হাতের কিতাবের দিকে ইঙ্গিত করে বললেন, এটাও আল্লাহ্‌ রব্বুল ‘আলামীনের পক্ষ হতে একটি কিতাব। এ কিতাবে জাহান্নামীদের নাম আছে, তাদের বাপ-দাদাদের নাম আছে এবং তাদের বংশ-পরম্পরার নামও রয়েছে। অতঃপর তাদের সর্বশেষ ব্যক্তির নাম লিখে মোট যোগ করা হয়েছে। তাই এতে (আর কোন নাম কখনো) বৃদ্ধিও করা যাবে না কমানোও যাবে না। তাঁর এ বর্ণনা শুনার পর সহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহ্‌র রসূল! এসব ব্যপার যদি আগে থেকে চূড়ান্ত হয়েই থাকে (অর্থাৎ জান্নাত ও জাহান্নামের বিষয়টি তাকদীরের উপর নির্ভর করে লিপিবদ্ধ হয়েছে) তবে ‘আমাল করার প্রয়োজন কী? উত্তরে তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, হাক্ব পথে থেকে দৃঢ়ভাবে ‘আমাল করতে থাক এবং আল্লাহ্‌র নৈকট্যার্জনের চেষ্টা কর। কেননা জান্নাতবাসীদের শেষ ‘আমাল (জান্নাত প্রাপ্তির ন্যায়) জান্নাতীদেরই কাজ হবে। (পূর্বে) দুনিয়ার জীবনে সে যা-ই করুক। আর জাহান্নামবাসীদের পরিসমাপ্তি জাহান্নামে যাবার ন্যায় ‘আমালের দ্বারা শেষ হবে। তার (জীবনের) আমাল যাই হোক। অতঃপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর দুই হাতে ইশারা করে কিতাব দু‘টিকে পেছনের দিকে ফেলে দিয়ে বললেন, তোমাদের রব বান্দাদের ব্যাপারে পূর্ব থেকেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে রেখেছেন। একদল জান্নাতে যাবে আর অপর একদল জাহান্নামে যাবে- (সূরাহ্‌ আশ শুরা ৪২ : ৭)। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৯৭

وعن أبي خزامة عن أبيه قال قلت يارسول الله أرأيت رقى نسترقيها ودواء نتداوى به وتقاة نتقيها هل ترد من قدر الله شيئا قال هي من قدر الله. رواه أحمد والترمذي وابن ماجة

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহ্‌র রসূল! আমরা (রোগমুক্তির জন্য) যেসব তন্ত্রমন্ত্র পাঠ করি বা ঔষধ ব্যবহার করে থাকি কিংবা আমরা আত্নরক্ষা করতে যে কোন উপায়ে চেষ্টা করি- এ সকল কি তাক্বদীরকে কিছু পরিবর্তন করতে পারে? রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, এ সকল কাজও আল্লাহ্‌র (পূর্বে নির্ধারিত) তাক্বদীরের অন্তর্ভুক্ত। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৯৮

وعن أبي هريرة قال خرج علينا رسول الله ﷺ ونحن نتنازع في القدر فغضب حتى احمر وجهه حتى كأنما فقئ في وجنتيه الرمان فقال أبهذا أمرتم أم بهذا أرسلت إليكم إنما هلك من كان قبلكم حين تنازعوا في هذا الأمر عزمت عليكم الا تتنازعوا فيه. رواه الترمذي

তিনি বলেন, একদা আমরা তাক্বদীর সম্পর্কে বিতর্কে লিপ্ত ছিলাম। এমন সময় রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের নিকট এসে উপস্থিত হন। তিনি এটা দেখে এতো রাগ করলেন যে, রাগে তাঁর চেহারা মুবারক লাল হয়ে গেল, মনে হচ্ছিল যেন তাঁর চেহারা মুবারকে আনারের (ডালিমের) রস নিংড়িয়ে দেয়া হয়েছে। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তোমাদের কি (তর্কে লিপ্ত হওয়ার জন্য) নির্দেশ দেয়া হয়েছে অথবা এজন্য কি রসূল বানিয়ে তোমাদের নিকট আমাকে পাঠানো হয়েছে? (জেনে রাখ!) তোমাদের পূর্বে অনেক লোকেরা বিতর্কে লিপ্ত হয়ে তখনই ধ্বংস হয়েছে, যখনই তারা এ বিষয় নিয়ে বাক-বিতন্ডা করেছে। আমি তোমাদেরকে কসম করে বলছি, আবারও কসম করে বলছি- সাবধান! এ বিষয় নিয়ে তোমরা কক্ষনো তর্কে জড়িয়ে যেয়ো না। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ৯৯

ورواه ابن ماجة نحوه عن عمرو بن شعيب عن ابيه عن جده

ইবনু মাজাহ্ও এ অর্থের একটি হাদীস ‘আম্‌র ইবনু শু‘আয়ব হতে বর্ণনা করেছেন, যা তিনি তার পিতা, তার পিতা তার দাদার মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১০০

وعن أبي موسى قال سمعت رسول الله ﷺ يقول إن الله خلق اۤدم من قبضة قبضها من جميع الأرض فجاء بنو اۤدم على قدر الأرض منهم الأحمر والأبيض والأسود وبين ذلك والسهل والحزن والخبيث والطيب. رواه أحمد والترمذي وأبو داوٗد

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, “আল্লাহ্‌ তা‘আলা আদাম (আঃ)-কে এক মুঠো মাটি দিয়ে সৃষ্টি করেছেন, যা তিনি সমগ্র ভূপৃষ্ঠ হতে নিয়েছিলেন। তাই আদাম সন্তানগণ (বিভিন্ন মাটির রং অনুযায়ী বিভিন্ন আকৃতিতে) কেউ লাল বর্ণের, কেউ সাদা, কেউ কালো, কেউ মধ্যবর্তী বর্ণের হয়েছে। এরূপে কেউ কোমল মেজাজের, কেউ কঠোর হয়, কেউ সৎ ও কেউ অসৎ প্রকৃতির হয়ে থাকে। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১০১

وعن عبد الله بن عمرو قال سمعت رسول الله ﷺ يقول إن الله خلق خلقه في ظلمة فألقى عليهم من نوره فمن أصابه من ذلك النور اهتدى ومن أخطأه ضل فلذلك أقول جف القلم على علم الله. رواه أحمد والترمذي

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, আল্লাহ্‌ তা‘আলা তাঁর সৃষ্ট জীবকে অন্ধকারে সৃষ্টি করেন। তারপর তিনি তাদের প্রতি স্বীয় নূর (জ্যোতি) নিক্ষেপ করেন। সুতরাং যার কাছে তাঁর এ নূর পৌঁছেছে, সে সৎপথপ্রাপ্ত হয়েছে। আর যার কাছে তাঁর এ নূর পৌঁছেনি, সে বিভ্রান্তিতে পতিত হয়েছে। তাই আমি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলি: আল্লাহ্‌র জ্ঞান ও ইচ্ছা অনুযায়ী যা হওয়ার তা-ই হয়ে কলম শুকিয়ে গেছে। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১০২

وعن أنس قال كان رسول الله ﷺ يكثر أن يقول يا مقلب القلوب ثبت قلبي على دينك فقلت يا نبي الله اۤمنا بك وبما جئت به فهل تخاف علينا؟ قال نعم إن القلوب بين إصبعين من أصابع الله يقلبها كيف يشاء. رواه الترمذي وابن ماجة

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রায় সময়ই এ দু‘আ করতেন: “হে অন্তর পরিবর্তনকারী আল্লাহ্‌! আমার হৃদয়কে তোমার দ্বীনের উপর দৃঢ রাখ”। আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র নাবী! আমরা আপনার উপর এবং আপনি যে দ্বীন নিয়ে এসেছেন তার উপর ঈমান এনেছি। এরপরও কি আপনি আমাদের সম্পর্কে আশংকা করেন? জবাবে তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, কেননা ‘ক্বলব’ আল্লাহ্‌র দুই আঙ্গুলের মধ্যে রয়েছে (অর্থাৎ তাঁর নিয়ন্ত্রণ ও অধিকারে রয়েছে)। তিনি যেভাবে চান সেভাবে অন্তরকে (ঘুরিয়ে) থাকেন। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১০৩

وعن ابي موسى قال قال رسول الله ﷺ مثل القلب كريشة بارص فلاة يقلبها الرياح ظهرا لبطن. رواه أحمد

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: আল্লাহ্‌র হাতে (মানুষের) ‘ক্বলব’ বা মন, যেমন কোন তৃণশূণ্য মাঠে একটি পালক, যাকে বাতাসের গতি বুকে-পিঠে (এদিক-সেদিক) ঘুরিয়ে থাকে। [১] (আহমাদ ২৭৮৫৯)


মিশকাতুল মাসাবিহ ১০৪

وعن علي قال قال رسول الله ﷺ لا يؤمن عبد حتى يؤمن بأربع يشهد أن لا إله الا الله وأني رسول الله بعثني بالحق ويؤمن بالموت والبعث بعد الموت ويؤمن بالقدر. رواه الترمذي وابن ماجة

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: কোন বান্দা মু‘মিন হতে পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত এ চারটি বিষয়ের উপর ঈমান না আনে: (১) সে সাক্ষী দিবে আল্লাহ্‌ ছাড়া প্রকৃত কোন মা‘বুদ নেই, (২) নিঃসন্দেহে আমি আল্লাহ্‌র রসূল, আল্লাহ্‌ আমাকে দীনে হাক্ব সহকারে পাঠিয়েছেন, (৩) মৃত্যু ও মৃত্যুর পরে হাশরের মাঠে পুনরুত্থান দিবসে বিশ্বাস রাখবে এবং (৪) তাক্বদীরের উপর বিশ্বাস রাখবে। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১০৫

وعن ابن عباس قال قال رسول الله ﷺ صنفان من أمتي ليس لهما في الإسلام نصيب المرجئة والقدرية. رواه الترمذي وقال هذا حديث حسن غريب

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: আমার উম্মাতের মধ্যে দু’রকমের লোক রয়েছে, তাদের জন্য ইসলামে কোন অংশ নেই। তারা হলো: (১) মুর্জিয়াহ্ ও (২) ক্বদারিয়্যাহ্। তিরমিযী বলেছেন: হাদীসটি হাসান গরীব। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১০৬

وعن ابن عمر قال سمعت رسول الله ﷺ يقول يكون في أمتي خسف ومسخ وذلك في المكذبين بالقدر. رواه أبو داؤد وروى الترمذي نحوه

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, ‘আমার উম্মাতের মধ্যেও ‘খাস্‌ফ’ (জমিন ধ্বসিয়ে বা অদৃশ্য করে দেয়া) এবং ‘মাস্‌খ’ (চেহারা বা আকার পরিবর্তন করে দেয়ার) মত শাস্তি হবে। তবে এ শাস্তি তাক্বদীরের প্রতি অবিশ্বাসকারীদের মধ্যেই হবে। আবূ দাঊদ, ইমাম তিরমিযীও অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১০৭

وعنه قال قال رسول الله ﷺ القدرية مجوس هذه الأمة إن مرضوا فلا تعودوهم وإن ماتوا فلا تشهدوهم. رواه أحمد وأبو داوٗد

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ক্বদারিয়্যাগণ হচ্ছে এ উম্মাতের মাজুসী। অতঃপর তারা যদি অসুস্থ হয়, তাদেরকে দেখতে যাবে না, আর যদি মারা যায়, তবে তাদের জানাযায় উপস্থিত হয়ো না। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১০৮

وعن عمر قال قال رسول الله ﷺ لا تجالسوا أهل القدر ولا تفاتحوهم. رواه أبو داوٗد

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: তোমরা ক্বদারিয়্যাদের সাথে উঠা-বসা করো না এবং তাদেরকে হাকিম বা বিচারক নিযুক্ত করো না। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১০৯

وعن عائشة قالت قال رسول الله ﷺ ستة لعنتهم ولعنهم الله وكل نبي يجاب الزائد في كتاب الله والمكذب بقدر الله والمتسلط بالجبروت ليعز من أذل الله ويذل من أعز الله والمستحل لحرم الله والمستحل من عترتي ما حرم الله والتارك لسنتي. رواه البيهقى في المدخل ورزين فى كتابه

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: ছয় রকম মানুষের প্রতি আমি লা‘নাত (অভিশাপ) করি এবং আল্লাহ্‌ তা‘আলাও তাদের প্রতি অভিশপ্ত করেছেন। আর প্রত্যেক নাবীর দু‘আই কবুল হয়ে থাকে। (১) যারা আল্লাহ্‌র কিতাবের মধ্যে সংযোজন; (২) যে ব্যক্তি তাক্বদীরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে; (৩) যে ব্যক্তি এ উদ্দেশ্যে জোর-জবরে ক্ষমতা দখল করে, আল্লাহ্‌ যাদেরকে অপমানিত লাঞ্ছিত করেছেন (কাফির-মুশরিক-ফাসিক্ব) তাদের যেন সে মর্যাদা দান করতে পারে এবং আল্লাহ্‌ যাকে সম্মানিত করেছেন (মু‘মিন দীনদার) তাদের যেন অপমানিত ও লাঞ্ছিত করতে পারে; (৪) যে ব্যক্তি আল্লাহ্‌র হারামে (মাক্কায়) এমন সীমালঙ্ঘন করে, যা আল্লাহ্‌ নিষিদ্ধ করে দিয়েছেন; (৫) যে ব্যক্তি আমার আহলে বায়ত-এর (অসম্মান করা এবং তাদের কষ্ট দেয়া) আল্লাহ্‌ যা হারাম করেছেন তা হালাল মনে করে এবং (৬) যে ব্যক্তি আমার সুন্নাত (নিয়ম-কানুন) পরিত্যাগ করে। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১১০

وعن مطر بن عكامس قال قال رسول الله ﷺ إذا قضى الله لعبد أن يموت بأرض جعل له إليها حاجة. رواه أحمد والترمذي

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: আল্লাহ্‌ তা‘আলা যখন তাঁর কোন বান্দার নির্ধারিত কোন জায়গায় মৃত্যুর ফায়সালা করেন, তখন সে জায়গায় তার যাওয়ার জন্য একটি প্রয়োজনও তৈরি করে দেন। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১১১

وعن عائشة رضى الله عنها قالت قلت يا رسول الله ذراري المؤمنين؟ قال من اۤبائهم فقلت يا رسول الله بلا عمل؟ قال الله أعلم بما كانوا عاملين قلت فذراري المشركين؟ قال من اۤبائهم قلت بلا عمل قال الله أعلم بما كانوا عاملين. رواه أبو داوٗد

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহ্‌র রসূল! মু’মিনদের (নাবালেগ) বাচ্চাদের (জান্নাত-জাহান্নাম সংক্রান্ত ব্যাপারে) কী হুকুম? তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উত্তরে বললেন, তারা বাপ-দাদার অনুসারী হবে। আমি বললাম, কোন (নেক) আমাল ছাড়াই? তিনি বললেন, আল্লাহ্‌ অনেক ভাল জানেন, তারা জীবিত থাকলে কী ‘আমাল করত। আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম, আচ্ছা মুশরিকদের (নাবালেগ) বাচ্চাদের কী হুকুম? রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তারাও তাদের বাপদাদার অনুসারী হবে। (অবাক দৃষ্টিতে) আমি জিজ্ঞেস করলাম, কোন (বদ) ‘আমাল ছাড়াই? উত্তরে রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, সে বাচ্চাগুলো বেঁচে থাকলে কী ‘আমাল করত, আল্লাহ্‌ খুব ভাল জানেন। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১১২

وعن ابن مسعود قال قال رسول الله ﷺ الوائدة والموءودة في النار. رواه أبو داوٗد والترمذي

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: যে ব্যক্তি নিজের কন্যা সন্তানকে জীবন্ত ক্ববর দেয় এবং যে মেয়েকে ক্ববর দেয়া হয়, উভয়ই জাহান্নামী। [১]


🔄 লোড হচ্ছে...
ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية