মিশকাতুল মাসাবিহ > তৃতীয় অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ৩৬
عن عبادة بن الصامت قال سمعت رسول الله ﷺ يقول : من شهد أن لا إله الا الله وأن محمدا رسول الله حرم الله عليه النار. رواه مسلم
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি এ সাক্ষ্য দিয়েছে যে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন মা’বূদ নেই এবং মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর রসূল, আল্লাহ (তাঁর অনুগ্রহে) তার উপর জাহান্নামের আগুন হারাম করে দিয়েছেন। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৩৭
وعن عثمان قال قال رسول الله ﷺ : من مات وهو يعلم أنهٗ لا إله الا الله دخل الجنة. رواه مسلم
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : যে ব্যক্তি (খাঁটি মনে) এ বিশ্বাস নিয়ে মারা যাবে যে, “আল্লাহ্ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ নেই” সে অবশ্যই জান্নাতে যাবে। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৩৮
وعن جابر قال : قال رسول الله ﷺ : ثنتان موجبتان قال رجل يا رسول الله ما الموجبتان؟ قال : من مات يشرك بالله شيئا دخل النار ومن مات لا يشرك بالله شيئا دخل الجنة. رواه مسلم
রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: দু’টি বিষয় দু‘টি জিনিসকে (জান্নাত ও জাহান্নামকে) অনিবার্য করে দেয়। এক সহাবী জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রসূল! এ দু‘টি বিষয় কি? তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, যে আল্লাহর সাথে কাউকে শারীক করে মৃত্যুবরণ করেছে সে অবশ্যই জাহান্নামে প্রবেশ করবে। আর যে আল্লাহর সাথে কাউকে শারীক না করে মৃত্যুবরণ করেছে সে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৩৯
وعن أبي هريرة قال كنا قعودا حول رسول الله ﷺ معنا أبو بكر وعمر رضي الله عنهما في نفر فقام رسول الله ﷺ من بين أظهرنا فأبطأ علينا وخشينا أن يقتطع دوننا وفزعنا فقمنا فكنت أول من فزع فخرجت أبتغي رسول الله ﷺ حتى أتيت حائطا للأنصار لبني النجار فساورت به هل أجد له بابا؟ فلم أجد فإذا ربيع يدخل في جوف حائط من بئر خارجة والربيع الجدول قال فاحتفزت فدخلت على رسول الله ﷺ فقال : أبو هريرة؟ فقلت نعم يا رسول الله! قال ما شأنك؟ قلت كنت بين أظهرنا فقمت فأبطأت علينا فخشينا أن تقتطع دوننا ففزعنا فكنت أول من فزع فأتيت هذا الحائط فاحتفزت كما يحتفز الثعلب وهؤلاء الناس ورائـي. فقال : يا أبا هريرة! وأعطاني نعليه فقال : اذهب بنعلي هاتين فمن لقيت من وراء هذا الحائط يشهد أن لا إله الا الله مستيقنا بها قلبه فبشره بالجنة» فكان أول من لقيت عمر فقال ما هاتان النعلان يا أبا هريرة؟ فقلت هاتان نعلا رسول الله ﷺ بعثني بهما من لقيت يشهد أن لا إله الا الله مستيقنا بها قلبه بشرته بالجنة فضرب عمر بين ثديي فخررت لاستي فقال ارجع يا أبا هريرة فرجعت إلى رسول الله ﷺ فأجهشت بكاء وركبني عمر وإذا هو على أثري فقال رسول الله ﷺ : «ما لك يا أبا هريرة؟» قلت لقيت عمر فأخبرته بالذي بعثتني به فضرب بين ثديي ضربة خررت لاستي فقال ارجع فقال رسول الله ﷺ : «يا عمر! ما حملك على ما فعلت؟» قال يا رسول الله بأبي أنت وأمي أبعثت أبا هريرة بنعليك من لقي يشهد أن لا إله الا الله مستيقنا بها قلبه بشره بالجنة؟ قال : «نعم». قال فلا تفعل فإني أخشى أن يتكل الناس عليها فخلهم يعملون قال رسول الله ﷺ : فخلهم. رواه مسلم
তিনি বলেন, একদা আমরা কয়েকজন রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে ঘিরে বসা ছিলাম। আমাদের সাথে আবূ বাকর ও ‘উমার (রাঃ) ও ছিলেন। হঠাৎ রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের মধ্য হতে উঠে চলে গেলেন এবং এত বিলম্ব করলেন যাতে আমরা শঙ্কাগ্রস্ত হয়ে পড়লাম। না জানি আমাদের হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে আবার কোন বিপদে পড়লেন কিনা। এতে আমরা ঘাবড়িয়ে গেলাম এবং উঠে বের হয়ে পড়লাম। অবশ্য সকলের মধ্যে আমিই প্রথম ভীত হয়ে পড়েছিলাম। তাই রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সন্ধানে আমি সকলের আগে বের হলাম। এমনকি খুঁজতে খুঁজতে আমি বানী নাজ্জার গোত্রের জনৈক আনসারীর প্রাচীরবেষ্টিত বাগানের নিকট পৌছলাম। ভিতরে প্রবেশ করার জন্য তার চারদিকে দরজা খুঁজতে লাগলাম। হঠাৎ দেখি, বাইরের একটি কূপ হতে একটি ছোট নালা এসে বাগানের মধ্যে প্রবেশ করেছে। তিনি বলেন, আমি জড়োসড়ো হয়ে তাতে প্রবেশ করলাম এবং ধীরে ধীরে রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট যেয়ে পৌছলাম। তিনি (আমাকে তাঁর সামনে দেখে বিস্ময় প্রকাশ করে) বললেন, আবূ হুরায়রাহ্ নাকি! আমি বললাম, হাঁ, হে আল্লাহর রসূল! তিনি বললেন, কি ব্যাপার? (তুমি এখানে?) আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনি আমাদের মধ্যে বসা ছিলেন, হঠাৎ উঠে চলে আসলেন। অনেকক্ষন অপেক্ষা করে আপনাকে ফিরে আসতে না দেখে আমরা ভয় পেয়ে গেলাম। (আল্লাহ্ না করুন) আমাদের হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে আপনি কোনরূপ বিপদের সম্মুখীন হলেন কিনা। এজন্য আমরা সকলেই ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়ি এবং সকলের মধ্যে আমিই প্রথম ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ি। অতঃপর (আপনাকে খোঁজ করতে করতে) এ বাগানের দিকে আসি এবং শিয়ালের ন্যায় খুব সরু হয়ে বাগানে প্রবেশ করি। আর অন্যান্যরাও (আপনার জন্য) আমার পেছনে আসছে। রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর জুতাদ্বয় আমার হাতে তুলে দিয়ে বললেন, হে আবূ হুরায়রাহ্! আমার জুতা দু‘টি সাথে নিয়ে যাও! (তুমি আমার কাছে এসেছিলে লোকেরা যেন বুঝতে পারে তার নিদর্শনস্বরূপ) আর বাগানের বাইরে যাদের সাথে তোমার সাক্ষাৎ হবে তাদের মধ্যে যারা সত্য দৃঢ় মনে ‘আক্বীদার সাথে এ ঘোষণা দিবে, ‘আল্লাহ্ ব্যতীত প্রকৃত কোন ইলাহ্ নেই”, তাদেরকে তুমি জান্নাতের সুসংবাদ দিয়ে দাও। আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) বলেন, (রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিদর্শন নিয়ে বাইরে আসলে) প্রথমেই ‘উমার-এর সাথে আমার সাক্ষাৎ হল। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, আবূ হুরায়রাহ্! এ জুতা দুটি কার ? আমি বললাম, এ জুতা দুটি রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ জুতা দুটি আমার কাছে দিয়ে বলেছেন, যে ব্যক্তি সত্য দৃঢ় মনে ‘আক্বীদার সাথে এ সাক্ষ্য দিবে যে, “আল্লাহ্ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ্ নেই”, আমি যেন তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দেই। এ কথা শুনা মাত্রই ‘উমার আমার বুকের উপর এমন ঘুষি মারলেন যে, আমি চিৎ হয়ে পড়ে গেলাম। অতঃপর ‘উমার আমাকে বললেন, ফিরে যাও, হে আবূ হুরায়রাহ্! তাই আমি কাঁদতে কাঁদতে রসুলের কাছে ফিরে এলাম। (আমার মনে ‘উমারের ভয় ছিল) পিছন ফিরে দেখি ‘উমার আমার সাথে এসে পৌছেছেন। রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (কাঁদতে দেখে) জিজ্ঞেস করলেন, হে ‘উমার! এমন করলে কেন? ‘উমার (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনার জন্য আমার পিতা-মাতা কুরবান হোক। আপনি আপনার জুতা দু’টি দিয়ে আবূ হুরায়রাহ কে পাঠিয়েছেন এ বলে, যে ব্যক্তি অন্তরের স্থির বিশ্বাসের সাথে এ সাক্ষ্য দিবে, আল্লাহ্ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ্ নেই, তাকে যেন সে জান্নাতের সুসংবাদ দেয়? রসুলূল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, হাঁ। ‘উমার বললেন, (হে আল্লাহর রসূল! অনুগ্রহ করে) এরূপ বলবেন না। আমার আশঙ্কা হয় (এ কথা শুনে) পরবর্তী লোকেরা এর উপর নির্ভর করে বসবে (‘আমাল’ করা ছেড়ে দিবে)। সুতরাং তাদেরকে যথাযথভাবে ‘আমাল করতে দিন। এ কথা শুনে রসুলূল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, ঠিক আছে! তাদেরকে ‘আমাল করতে দাও। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৪০
وعن معاذ بن جبل قال قال لي رسول الله ﷺ : مفاتيح الجنة شهادة أن لا إله الا الله. رواه أحمد
তিনি বলেন, রসূলূল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : জান্নাতের চাবি হচ্ছে “আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ্ নেই” বলে (অন্তরের সাথে) সাক্ষ্য দেয়া। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৪১
وعن عثمان قال إن رجالا من أصحاب النبي ﷺ حين توفي حزنوا عليه حتى كاد بعضهم يوسوس قال عثمان وكنت منهم فبينا أنا جالس مر علي عمر وسلم فلم أشعر به فأشتكى عمر إلى أبي بكر رضى الله عنهما ثم أقبلا حتى سلما علي جميعا فقال أبو بكر ما حملك على أن لا ترد على أخيك عمر سلامه قلت ما فعلت فقال عمر بلى والله لقد فعلت قال قلت والله ما شعرت أنك مررت ولا سلمت قال أبو بكر صدق عثمان وقد شغلك عن ذلك أمر فقلت أجل قال ما هو؟ قلت توفى الله تعالى نبيه ﷺ قبل أن نسأله عن نجاة هذا الأمر قال أبو بكر قد سألته عن ذلك فقمت إليه وقلت له بأبي أنت وأمي أنت أحق بها قال أبو بكر قلت يا رسول الله ما نجاة هذا الأمر؟ فقال رسول الله ﷺ : من قبل مني الكلمة التي عرضت على عمي فردها علي فهي له نجاة. رواه أحمد
তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন ইন্তিকাল হলো, (তাঁর ইন্তিকালে শোকাহত হয়ে) তাঁর সহাবীগণের মধ্যে কতক লোক অত্যন্ত চিন্তিত হয়ে পড়লেন। এমনকি সহাবীগণের কারো কারো মনে নানারূপ সন্দেহ-সংশয় দেখা দেয়। (তাঁর ইন্তিকালের পর এ দ্বীন টিকে থাকবে কি?) ‘উসমান (রাঃ) বলেন, আমিও তাদের অন্যতম ছিলাম। এমতাবস্থায় আমি বসেছিলাম আর ‘উমার আমার পাশ দিয়ে চলে গেলেন এবং আমাকে সালামও দিলেন, অথচ আমি তা টেরও পেলাম না। ‘উমার গিয়ে আমার বিরুদ্ধে আবূ বাকরের কাছে অভিযোগ পেশ করলেন। অতঃপর তাঁরা দু‘জন আমার নিকট আসলেন এবং উভয়ে আমাকে সালাম করলেন। অতঃপর আবূ বাকর (রাঃ) বললেন, তোমার ভাই ‘উমারের সালামের জবাব কেন দিলে না? আমি বললাম, আমি তো এরূপ করিনি। (‘উমার আমার কাছে এসেছেন ও সালাম দিয়েছেন আর আমি উত্তর দেইনি, এমন তো হতে পারে না)। ‘উমার (রাঃ) বললেন, আল্লাহর কসম! নিশ্চয় তুমি এরূপ করেছো। ‘উসমান বললেন, আমি বললাম, আল্লাহর কসম, আমি মোটেই বুঝতে পারিনি আপনি কখন এখান দিয়ে গেছেন ও আমাকে সালাম করেছেন। (কথোপকথন শুনে) আবূ বাকর (রাঃ) বললেন, ‘উসমান সত্যই বলেছেন। নিশ্চয়ই আপনাকে কোন দুশ্চিন্তাই হয়তো বিরত রেখেছিল। তখন আমি বললাম, জি, হতে পারে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, সে (ব্যাপারটা) কি? আমি বললাম, আল্লাহ্ তা‘আলা তাঁর রসূলকে উঠিয়ে নিয়ে গেলেন অথচ আমরা তাঁকে একটি বিষয় (মনের অযথা খটকা) হতে বাঁচার উপায় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে পারিনি। আবূ বাকর (রাঃ) বললেন, (চিন্তার কোন বিষয় নয়) আমি রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করেছি। (এটা শুনে) আমি আবূ বাকরের দিকে এগিয়ে গিয়ে বললাম, আমার মাতা-পিতা আপনার জন্য কুরবান হোক। আপনিই এ রকম কাজের যোগ্য ব্যক্তি। তারপর আবূ বাকর (রাঃ) বললেন, আমি রসূলকে জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রসূল! এ বিষয়টি হতে মুক্তির উপায় কি? রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জবাবে বললেন, যে লোক সে কালিমা গ্রহণ করল, যা আমি আমার চাচা (আবূ তালিব)-কে বলেছিলাম এবং তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন, তার জন্য এটাই হল মুক্তির মাধ্যম। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৪২
وعن المقداد أنه سمع رسول الله ﷺ يقول : لا يبقى على ظهر الأرض بيت مدر ولا وبر الا أدخله الله كلمة الإسلام بعز عزيز أو ذل ذليل إما يعزهم الله فيجعلهم من أهلها أو يذلهم فيدينون لها قلت فيكون الدين كله لله. رواه أحمد
তিনি রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছেন, এ জমিনের উপর এমন কোন মাটির অথবা পশমের ঘর (তাঁবু) বাকী থাকবে না, যে ঘরে আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন ইসলামের বাণী পৌছিয়ে দিবেন না। সম্মানীর ঘরে সম্মানের সাথে আর লাঞ্ছিতের ঘরে লাঞ্ছনার সাথে তা পৌছাবেন। আল্লাহ্ তাআলা যাদেরকে সম্মানিত করবেন তাদেরকে স্বেচ্ছায় ইসলাম কবূলের উপযুক্ত করে মর্যাদাবান ও গৌরবময় করে দিবেন। পক্ষান্তরে যারা ইসলাম গ্রহণ করবে না, তাদের আল্লাহ্ তাআলা লাঞ্ছিত করবেন এবং তারা এ কালিমার প্রতি অনুগত হবার জন্য বাধ্য হবে। (মিক্বদাদ বলেন, এটা শুনে) আমি বললাম, তখন তো সমগ্র বিশ্বে আল্লাহরই দ্বীন (প্রতিষ্ঠিত) হয়ে যাবে। (অর্থাৎ সকল দ্বীনের উপরই ইসলাম বিজয়ী হবে)। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৪৩
وعن وهب بن منبه قيل له أليس لا إله الا الله مفتاح الجنة؟ قال بلى ولكن ليس مفتاح الا وله اسنان فإن جئت بمفتاح له أسنان فتح لك و الا لم يفتح لك. رواه البخاري فى ترجمة الباب
তাকে জিজ্ঞেস করা হল, “লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ” (আল্লাহ্ ছাড়া প্রকৃত কোন মা‘বূদ নেই)-এ বাক্য কি জান্নাতের চাবি নয়? ওয়াহব বললেন, নিশ্চয় (এটা চাবি)। কিন্তু প্রত্যেক চাবির মধ্যেই দাঁত থাকে। তুমি যদি দাঁতওয়ালা চাবি নিয়ে যাও তবেই তো তোমার জন্য (জান্নাতের দরজা) খুলে দেয়া হবে, অন্যথায় তা তোমার জন্য খোলা হবে না। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৪৪
وعن أبي هريرة قال قال رسول الله ﷺ : إذا أحسن أحدكم إسلامهٗ فكل حسنة يعملها تكتب لهٗ بعشر أمثالها إلى سبع مائة ضعف وكل سيئة يعملها تكتب له بمثلها حتى لقي الله. متفق عليه
তিনি বলেন, রসুলূল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : যখন তোমাদের কেউ উত্তমভাবে (সত্য ও খালিস মনে) মুসলিম হয়, তখন তার জন্য প্রত্যেক সৎ কাজের সাওয়াব দশ গুণ থেকে সাতশত গুণ পর্যন্ত লেখা হয়। আর তার অসৎ কাজ-যা সে করে থাকে, তার অনুরূপই (মাত্র এক গুণই গুনাহ) ‘আমালনামায় লেখা হয়, যে পর্যন্ত না সে আল্লাহর দরবারে পৌঁছায়। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৪৫
وعن أبي أمامة أن رجلا سأل رسول الله ﷺ ما الإيمان؟ قال : إذا سرتك حسنتك وساءتك سيئتك فأنت مؤمن. قال يا رسول الله فما الإثم؟ قال : إذا حاك في نفسك شيء فدعه. رواه أحمد
তিনি বলেন, জনৈক লোক রসূলূল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রসূল! ঈমান কী? তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, যখন তোমাকে নেক (সৎ) কাজ আনন্দ দিবে ও খারাপ (অসৎ) কাজ পীড়া দিবে, তখন তুমি মু’মিন। আবার সে লোকটি জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রসূল! খারাপ (অসৎ) কাজ কি? উত্তরে তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, যখন কোন কাজ করতে তোমার মনে দ্বিধা ও সন্দেহের উদ্রেক করে (তখন মনে করবে এটা গুনাহের কাজ), তখন তা ছেড়ে দিবে। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৪৬
وعن عمرو بن عبسة قال أتيت رسول الله ﷺ فقلت يا رسول الله من معك؟ هذا الأمر قال حر وعبد قلت ما الإسلام؟ قال : طيب الكلام وإطعام الطعام. قلت ما الإيمان؟ قال : الصبر والسماحة. قال قلت أي الإسلام أفضل؟ قال : من سلم المسلمون من لسانه ويده» قال قلت أي الإيمان أفضل؟ قال : «خلق حسن». قال قلت أي الصلاة أفضل؟ قال : طول القنوت. قال قلت أي الهجرة أفضل؟ قال : أن تهجر ما كره ربك». قال قلت فأي الجهاد أفضل؟ قال : «من عقر جوادهٗ وأهريق دمهٗ». قال قلت أي الساعات أفضل؟ قال : جوف الليل الاۤخر. رواه أحمد
তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর খিদমাতে উপস্থিত হয়ে জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রসূল! এ দীনে (ইসলামের দা’ওয়াতের ব্যাপারে একেবারে প্রথমদিকে) আপনার সাথে আর কারা ছিলেন? রসূলূল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আযাদ ব্যক্তি (আবূ বাকর) ও একজন গোলাম (বিলাল)। আমি পুনরায় জিজ্ঞেস করলাম, ইসলাম (তার নিদর্শন) কী? তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, মার্জিত কথাবার্তা বলা ও (অভুক্তকে) আহার করানো। অতঃপর আমি জিজ্ঞেস করলাম, ঈমান (তার পরিচয়) কী? তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, (গুনাহের কাজ হতে) ধৈর্য ধরা ও দান করা। তিনি (আমর) বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, কোন ইসলাম উত্তম? তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, যার হাত ও জিহ্বার অনিষ্ট হতে অন্য মুসলিম নিরাপদ থাকে। (আমর বলেন) আমি পুনরায় জিজ্ঞেস করলাম, কোন ঈমান (ঈমানের কোন শাখা) উত্তম? রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, সৎস্বভাব। আমর বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, সলাতে কোন্ জিনিস উত্তম? তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, দীর্ঘ সময় নিয়ে ক্বিয়াম করা। আমি জিজ্ঞেস করলাম, কোন হিজরত উত্তম। উত্তরে তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, মহান আল্লাহ্ যা অপছন্দ করে তুমি এমন কাজ ছেড়ে দিবে। আমি বললাম, কোন জিহাদ উত্তম ? তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, যার ঘোড়ার হাত-পা কর্তিত এবং নিজের রক্ত নির্গত হয়েছে (অর্থাৎ সে ব্যক্তি সর্বোত্তম যার ঘোড়া যুদ্ধে মারা যায় এবং সেও শাহীদ হয়)। আমি বললাম, সর্বোত্তম কোন্ সময়? তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উত্তরে বললেন, শেষ রাতের মধ্যভাগ। (আহমাদ ১৮৯৪২)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৪৭
وعن معاذ بن جبل قال سمعت رسول الله ﷺ يقول : من لقي الله لا يشرك به شيئا يصلي الخمس ويصوم رمضان غفر له. قلت أفلا أبشرهم يا رسول الله قال : دعهم يعملوا. رواه أحمد
তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কাউকে শারীক না করে, (দৈনিক) পাঁচ ওয়াক্ত সলাত আদায় করে এবং রমাযানের সিয়াম পালন করে তাঁর কাছে পৌঁছাবে, তাকে মাফ করে দেয়া হবে। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমি কি এ সুসংবাদ তাদেরকে জানিয়ে দিব না? তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, (না) তাদেরকে ‘আমাল করতে দাও। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৪৮
وعنه أنه سأل النبي ﷺ عن أفضل الإيمان قال : «أن تحب لله وتبغض لله وتعمل لسانك في ذكر الله». قال وماذا يا رسول الله؟ قال : وأن تحب للناس ما تحب لنفسك وتكره لهم ما تكره لنفسك. رواه أحمد
একদা তিনি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞেস করলেন, উত্তম ঈমান সম্পর্কে? তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, কাউকে তুমি ভালবাসলে আল্লাহর ওয়াস্তেই ভালবাসবে। অপরদিকে শত্রুতা করলে তাও আল্লাহর ওয়াস্তেই করবে এবং নিজের জিহ্বাকে (খালিস মনে) আল্লাহর যিক্রে মশগুল রাখবে। তিনি (মু’আয) জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রসূল! এছাড়া আমি আর কি করব? তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, অপরের জন্য সে-ই জিনিস পছন্দ কর যা নিজের জন্য পছন্দ কর। আর অপরের জন্যও তা অপছন্দ করবে যা নিজের জন্য অপছন্দ করে থাকো (অর্থাৎ সকলেরই কল্যাণ কামনা করবে)। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ > প্রথম অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ৪৯
عن عبد الله بن مسعود قال قال رجل يا رسول الله أي الذنب أكبر عند الله؟ قال : أن تدعو لله ندا وهو خلقك. قال ثم أي؟ قال : «أن تقتل ولدك خشية أن يطعم معك». قال ثم أي؟ قال : «أن تزاني حليلة جارك». فأنزل الله تصديقها : (والذين لا يدعون مع الله إلها اۤخر ولا يقتلون النفس التي حرم الله الا بالحق ولا يزنون ۚ ومن يفعل ذلك يلق أثاما) الاۤية. متفق عليه
তিনি বলেন, এক লোক রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞেস করলও, হে আল্লাহর রসূল! আল্লাহ্র কাছে সর্বাধিক বড় গুনাহ কোন্টা? রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তোমাকে যিনি সৃষ্টি করেছেন, সেই আল্লাহর সাথে কাউকে শারীক করা। অতঃপর পুনরায় সে জিজ্ঞেস করলো, তারপর কোন্টা? তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তোমার সন্তান তোমার সাথে খাবে- এ ভয়ে তাকে হত্যা করা। পুনরায় প্রশ্ন করলো, তারপর কোন্টা? তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তোমার প্রতিবেশীর স্ত্রীর সাথে ব্যভিচার করা। তিনি [ইব্নু মাসঊদ(রাঃ)] বলেছেন, এর সমর্থনে আল্লাহ তা’আলা (কুরআনে) অবতীর্ণ করলেন: “তারাই আল্লাহর প্রকৃত বান্দা, যারা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে মা’বূদ হিসেবে গণ্য করে না,আল্লাহ যাদের হত্যা করা হারাম করে দিয়েছেন, আইনের বিধান ছাড়া তাদের (অন্যায়ভাবে) হত্যা করে না এবং ব্যভিচার করে না। আর যে এগুলো করে সে শাস্তির সাক্ষাৎ লাভ করবে”।– (সূরাহ আল ফুরকান ২৫ : ৬৮)। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৫০
وعن عبد الله بن عمرو قال قال رسول الله ﷺ : «الكبائر الإشراك بالله وعقوق الوالدين وقتل النفس واليمين الغموس». رواه البخاري
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: কাউকে আল্লাহর সঙ্গে শারীক করা, পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া, কাউকে হত্যা করা, মিথ্যা শপথ করা বড় গুনাহ। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৫১
وفى رواية أنس : «وشهادة الزور» بدل : «اليمين الغموس». متفق عليه
-এর বর্ণনায় ‘মিথ্যা শপথ’-এর পরিবর্তে “মিথ্যা সাক্ষ্য” দেয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৫২
وعن أبي هريرة قال قال رسول الله ﷺ : اجتنبوا السبع الموبقات قالوا يا رسول الله وما هن؟ قال الشرك بالله والسحر وقتل النفس التي حرم الله الا بالحق وأكل الربا وأكل مال اليتيم والتولي يوم الزحف وقذف المحصنات المؤمنات الغافلات. متفق عليه
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন : (হে লোক সকল!) সাতটি ধ্বংসাত্মক বিষয় হতে তোমরা দূরে থাকবে। সহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রসূল! এ সাতটি বিষয় কী? জবাবে তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, (১) আল্লাহর সাথে কাউকে শারীক করা। (২) যাদু করা। (৩) শারী’আতের অনুমতি ব্যতীত কাউকে (অন্যায়ভাবে) হত্যা করা। (৪) সূদ খাওয়া। (৫) (অন্যায়ভাবে) ইয়াতীমের মাল খাওয়া। (৬) জিহাদের মাঠ থেকে পালিয়ে আসা। (৭) নির্দোষ ও সতী-সাধ্বী মুসলিম মহিলার বিরুদ্ধে ব্যভিচারের অপবাদ দেয়া। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৫৩
وعنه قال قال رسول الله ﷺ : لا يزني الزاني حين يزني وهو مؤمن ولا يسرق السارق حين يسرق وهو مؤمن ولا يشرب الخمر حين يشربها وهو مؤمن ولا ينتهب نهبة يرفع الناس إليه فيها أبصارهم حين ينتهبها وهو مؤمن ولا يغل أحدكم حين يغل وهو مؤمن فإياكم إياكم. متفق عليه
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : যিনাকারী যখন যিনা করে তখন আর সে ঈমানদার থাকে না। চোর যখন চুরি করে তখন সে ঈমানদার থাকে না। মদ্যপ যখন মদ পান করে তখন তার আর ঈমান থাক না। যখন ডাকাত এভাবে ডাকাতি করে যে, যখন চোখ তুলে তাকিয়ে থাকে তখন তার ঈমান থাকে না। এভাবে কেউ যখন গনীমাতের মালে খিয়ানাত করে, তখন তার ঈমান থাক না। অতএব সাবধান! (এসব গুনাহ হতে দূরে থাকবে)। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৫৪
وفى رواية ابن عباس : «ولا يقتل حين يقتل وهو مؤمن» قال عكرمة قلت لابن عباس كيف ينزع الإيمان منه؟ قال هكذا وشبك بين أصابعه ثم أخرجها فإن تاب عاد إليه هكذا وشبك بين أصابعه وقال أبو عبد الله لا يكون هذا مؤمنا تاما ولا يكون له نور الإيمان. هذا لفظ البخاري
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) এর বর্ণনায় এটাও আছে, হত্যাকারী যখন অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করে, সে সময়ও তার ঈমান থাকে না। ‘ইকরিমাহ্ (রহঃ) বলেন, আমি ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, কিরূপ ঈমান তার থেকে বের করে নেয়া হবে? তিনি বললেন, এভাবে (এ কথা বলে) তিনি তার হাতের অঙ্গুলিসমূহ পরস্পরের ফাঁকের মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়ে, পরে তা পৃথক করে নিলেন। অতঃপর সে যদি তাওবাহ্ করে, তাহলে পুনরায় ঈমান তার মধ্যে এভাবে ফিরে আসবে- এ কথা বলে পুনরায় তিনি দুই হাতের আঙ্গুলসমূহ পরস্পরের ফাঁকের মধ্যে ঢুকিয়ে দিলেন। আর আবূ ‘আবদুল্লাহ ইমাম বুখারী (রহঃ) বলেছেন, সে মু’মিন থাকে না। অর্থাৎ সে প্রকৃত বা পূর্ণ মু’মিন থাকে না কিংবা তার ঈমানের নূর থাকে না। এটা বুখারীর বর্ণনার হুবহু শব্দাবলী। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৫৫
وعن أبي هريرة قال قال رسول الله ﷺ : «اۤية المنافق ثلاث» زاد مسلم : «وإن صام وصلى وزعم أنه مسلم» ثم اتفقا : «إذا حدث كذب وإذا وعد اخلف وإذا اؤتمن خان
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: মুনাফিক্বের নিদর্শন তিনটি- (১) যখন কথা বলে, মিথ্যা বলে; (২) যখন ওয়া’দা করে, তা ভঙ্গ করে এবং (৩) যখন তার নিকট কোন আমানাত রাখা হয়, তার খিয়ানাত (বিশ্বাসঘাতকতা) করে। ইমাম মুসলিমের বর্ণনায় আরো আছে, চাই সে সলাত আদায় করুক ও সিয়াম পালন করুক এবং দাবী করে সে মুসলিম। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৫৬
وعن عبد الله ابن عمرو قال قال رسول الله ﷺ : أربع من كن فيه كان منافقا خالصا ومن كانت فيه خصلة منهن كانت فيه خصلة من النفاق حتى يدعها إذا اؤتمن خان وإذا حدث كذب وإذا عاهد غدر وإذا خاصم فجر. متفق عليه
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : চারটি স্বভাব যার মধ্যে পাওয়া যাবে, সে খাঁটি মুনাফিক্ব এবং যার মধ্যে তার একটি দেখা যাবে তার মধ্যে মুনাফিক্বের একটি স্বভাব থাকবে, যে পর্যন্ত না সে তা পরিহার করবে- (১) যখন তার নিকট কোন আমানাত রাখা হয় সে তা খিয়ানাত করে, (২) যখন কথা বলে, মিথ্যা বলে, (৩) যখন ওয়া’দা করে, ভঙ্গ করে এবং (৪) যখন কারো সাথে ঝগড়া-বিবাদ করে, তখন সে অশ্লীলভাষী হয়। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৫৭
وعن ابن عمر قال قال رسول الله ﷺ : مثل المنافق كمثل الشاة العائرة بين الغنمين تعير إلى هذه مرة وإلى هذه مرة. رواه مسلم
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : মুনাফিক্বের দৃষ্টান্ত সে বকরীর ন্যায়, যে দুই ছাগপালের মধ্যে থেকে (নরের খোঁজে) একবার এ পালে ঝুঁকে আর একবার ঐ পালের দিকে দৌড়ায়। [১]