উলামা, বয়স্ক ও সম্মানী ব্যক্তিদের শ্রদ্ধা করা, তাঁদেরকে অন্যান্যদের উপর প্রাধান্য দেওয়া, তাঁদের উচ্চ আসন দেওয়া এবং তাঁদের মর্যাদা প্রকাশ করার বিবরণ - রিয়াদুস সলেহিন | হাদীস | কুরআন ও সুন্নাহ

রিয়াদুস সলেহিন > উলামা, বয়স্ক ও সম্মানী ব্যক্তিদের শ্রদ্ধা করা, তাঁদেরকে অন্যান্যদের উপর প্রাধান্য দেওয়া, তাঁদের উচ্চ আসন দেওয়া এবং তাঁদের মর্যাদা প্রকাশ করার বিবরণ

রিয়াদুস সলেহিন ৩৫২

وعن جابر رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يجمع بين الرجلين من قتلى أحد يعني في القبر، ثم يقول‏:‏ أيهما أكثر أخذًا للقرآن‏؟‏‏‏ فإذا أشير له إلى أحدهما قدمه في اللحد‏.‏ ‏(‏‏(‏رواه البخاري‏)‏‏)‏‏.‏"

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘জামাআতের ইমামতি ঐ ব্যক্তি করবে, যে তাদের মধ্যে সবচেয়ে ভাল কুরআন পড়তে জানে। যদি তারা পড়াতে সমান হয়, তাহলে তাদের মধ্যে যে সুন্নাহ (হাদীস) বেশী জানে সে (ইমামতি করবে)। অতঃপর তারা যদি সুন্নাহতে সমান হয়, তাহলে তাদের মধ্যে সর্বাগ্রে হিজরতকারী। যদি হিজরতে সমান হয়, তাহলে তাদের মধ্যে বয়োজ্যেষ্ঠ (ইমামতি করবে)। আর কোনো ব্যক্তি যেন কোনো ব্যক্তির নেতৃত্বস্থলে ইমামতি না করে এবং গৃহে তার বিশেষ আসনে তার বিনা অনুমতিতে না বসে।’’ (মুসলিম) [১]


রিয়াদুস সলেহিন ৩৫৩

وعن ابن عمر رضي الله عنهما أن النبي صلى الله عليه وسلم قال‏:‏ ‏ ‏ أراني في المنام أتسوك بسواك، فجاءني رجلان، أحدهما أكبر من الآخر، فناولت السواك الأصغر، فقيل لي‏:‏ كبر، فدفعته إلى الأكبر منهما‏" ‏ ‏(‏‏(‏رواه مسلم والبخاري تعليقًا‏)‏‏)‏‏‏

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামায শুরু করার সময় আমাদের (বাজুর উপরি অংশে) কাঁধ ছুঁয়ে বলতেন, ‘‘তোমরা সোজা হয়ে দাঁড়াও এবং বিভিন্নরূপে দাঁড়ায়ো না, (নতুবা) তোমাদের অন্তরসমূহ বিভিন্ন হয়ে যাবে। আর তোমাদের মধ্যে যারা বয়ঃপ্রাপ্ত ও বুদ্ধিমান, তারাই যেন আমার নিকটে (প্রথম কাতারে আমার পশ্চাতে) থাকে। অতঃপর যারা বয়স ও বুদ্ধিতে তাদের নিকটবর্তী তারা। অতঃপর তাদের যারা নিকটবর্তী তারা।’’ (মুসলিম) [১]


রিয়াদুস সলেহিন ৩৫৪

وعن أبي موسى رضي الله عنه قال‏:‏ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم‏:‏ ‏ ‏إن من إجلال الله تعالى إكرام ذي الشيبة المسلم، وحامل القرآن غير الغالي فيه، والجافي عنه وإكرام ذي السلطان المقسط‏" ‏ ‏(‏‏(‏حديث حسن رواه أبو داود‏)‏‏)‏‏‏

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘তোমাদের মধ্যে যারা প্রাপ্তবয়স্ক ও বুদ্ধিমান তারা যেন আমার নিকটে দাঁড়ায়। অতঃপর যারা (উভয় ব্যাপারে) তাদের নিকটবর্তী।’’ এরূপ তিনি তিন বার বললেন। (অতঃপর তিনি বললেন,) ‘‘আর তোমরা (মসজিদে) বাজারের ন্যায় হৈচৈ করা হতে দূরে থাকো।’’ (মুসলিম) [১]


রিয়াদুস সলেহিন ৩৫৫

وعن عمرو بن شعيب، عن أبيه ، عن جده رضي الله عنهم قال‏:‏ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم‏:‏ ‏ ‏ليس منا من لم يرحم صغيرنا، ويعرف شرف كبيرنا‏" ‏ ‏(‏‏(‏حديث صحيح رواه أبو داود والترمذي، وقال الترمذي‏:‏ حديث حسن صحيح‏)‏‏)‏‏‏

তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনু সাহ্‌ল এবং মুহাইয়িস্বাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) খায়বার রওয়ানা হলেন। সে সময় (সেখানকার ইয়াহুদী এবং মুসলিমের মধ্যে) সন্ধি ছিল। (খায়বার পৌঁছে স্ব স্ব প্রয়োজনে) তাঁরা পরস্পর পৃথক হয়ে গেলেন। অতঃপর মুহাইয়িস্বাহ আব্দুল্লাহ ইবনু সাহলের নিকট এলেন, যখন তিনি আহত হয়ে রক্তাক্ত দেহে তড়পাচ্ছিলেন। সুতরাং মুহাইয়িস্বাহ তাঁকে (তাঁর মৃত্যুর পর) সেখানেই সমাধিস্থ করলেন। তারপর তিনি মদ্বীনা এলেন। (মৃত্যু সংবাদ পেয়ে মৃতের ভাই) আব্দুর রহমান ইবনু সাহ্‌ল এবং মাসউদের দুই ছেলে মুহাইয়িস্বাহ ও হুওয়াইয়িস্বাহ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গেলেন। আব্দুর রহমান কথা বলতে গেলেন। তা দেখে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘‘বয়োজ্যেষ্ঠকে কথা বলতে দাও, বয়োজ্যেষ্ঠকে কথা বলতে দাও।’’ আর ওদের মধ্যে আব্দুর রহমান বয়সে ছোট ছিলেন। ফলে তিনি চুপ হয়ে গেলেন এবং তাঁরা দু’জন কথা বললেন। (সব ঘটনা শোনার পর) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘‘তোমরা কি কসম খাচ্ছ এবং (নিজ ভাইয়ের) হত্যাকারী থেকে অধিকার চাচ্ছ?’’ অতঃপর তিনি সম্পূর্ণ হাদীস বর্ণনা করলেন। (বুখারী ও মুসলিম) [১]


রিয়াদুস সলেহিন ৩৫৬

وعن ميمون بن أبي شبيب رحمه الله أن عائشة رضي الله عنه الإمام مر بها سائل، فأعطته كسرة، ومر بها رجل عليه ثياب وهيئة، فأقعدته، فأكل فقيل لها في ذلك‏:‏ ‏؟‏ فقالت‏:‏ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم‏:‏ ‏ ‏أنزلوا الناس منازلهم‏" ‏ ‏(‏‏(‏رواه أبو داود‏)‏‏)‏‏‏ لكن قال ميمون لم يدرك عائشة‏‏

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উহুদের শহীদগণের দু’জনকে একটি কবরে একত্র করে জিজ্ঞেস করছিলেন, ‘‘এদের মধ্যে কুরআন হিফয কার বেশী আছে?’’ সুতরাং দু’জনের কোন একজনের দিকে ইশারা করা হলে প্রথমে তাঁকে বগলী কবরে রাখছিলেন। (বুখারী) [১]


রিয়াদুস সলেহিন ৩৫৭

وعن ابن عباس رضي الله عنهما قال‏:‏ قدم عيينة بن حصن، فنزل على ابن أخيه الحر بن قيس، وكان من النفر الذين يدنيهم عمر رضي الله عنه ، وكان القراء أصحاب مجلس عمر ومشاورته، كهولاً كانوا أو شبانًا ، فقال عيينة لابن أخيه‏:‏ يا ابن أخي لك وجه عند هذا الأمير، فاستأذن لي عليه، فاستأذن له، فأذن له عمر رضي الله عنه ، فلما دخل‏:‏ قال هي يا ابن الخطاب‏:‏ فوالله ما تعطينا الجزل، ولا تحكم فينا بالعدل، فغضب عمر رضي الله عنه حتى هم أن يوقع به، فقال له الحر‏:‏ يا أمير المؤمنين إن الله تعالى قال لنبيه صلى الله عليه وسلم ‏{‏خذ العفو وأمر بالعرف وأعرض عن الجاهلين‏}‏ وإن هذا من الجاهلين‏.‏ والله ما جاوزها عمر حين تلاها عليه، وكان وقافًا عند كتاب الله تعالى‏.‏ ‏(‏‏(‏رواه البخاري‏)‏‏)‏‏.‏

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘আমি নিজেকে স্বপ্নে দাঁতন করতে দেখলাম। অতঃপর দু’জন লোক এল, একজন অপরজনের চেয়ে বড় ছিল। আমি ছোটজনকে দাঁতনটি দিলাম, তারপর আমাকে বলা হল, ‘বড়জনকে দাও।’ সুতরাং আমি তাদের মধ্যে বয়োজ্যেষ্ঠ লোকটিকে (দাঁতন) দিলাম।’’ (মুসলিম, বুখারী ছিন্ন সনদে) [১]


রিয়াদুস সলেহিন ৩৫৮

وعن أبي سعيد سمرة بن جندب رضي الله عنه قال‏:‏ لقد كنت على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم غلامًا ، فكنت أحفظ عنه، فما يمنعني من القول إلا أن ههنا رجالاً أسن مني‏.‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏ ‏.‏

, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘পাকা চুলওয়ালা বয়স্ক মুসলিমের, কুরআন বাহক (হাফেয ও আলেম)-এর যে কুরআনের ব্যাপারে অতিরঞ্জন ও অবজ্ঞাকারী নয় এবং ন্যায়পরায়ণ বাদশাহর সম্মান করা এক প্রকার আল্লাহ তা‘আলাকে সম্মান করা।’’ (আবূ দাউদ) [১]


রিয়াদুস সলেহিন ৩৫৯

وعن أنس رضي الله عنه قال‏:‏ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏:‏‏ ‏ما أكرم شاب شيخًا لسنه إلى قيض الله له من يكرمه عند سنه‏" ‏ ‏(‏‏(‏رواه الترمذي وقال‏:‏ حديث غريب‏)‏‏)‏‏‏

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘সে আমার দলভুক্ত নয়, যে ব্যক্তি আমাদের ছোটদের প্রতি দয়া করে না এবং আমাদের বড়দের সম্মান জানে না।’’ (সহীহ হাদীস, আবূ দাঊদ, তিরমিযী, হাসান সহীহ) আবূ দাঊদের এক বর্ণনায় আছেঃ ‘‘আমাদের বড়দের অধিকার জানে না।’’ [১]


রিয়াদুস সলেহিন ৩৬০

وعن أنس رضي الله عنه قال‏:‏ قال أبو بكر لعمر رضي الله عنهما بعد وفاة رسول الله صلى الله عليه وسلم‏:‏ انطلق بنا إلى أم أيمن رضي الله عنها نزورها كما كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يزورهان فلما انتهيا إليها، بكت، فقالا لها، ما يبكيك أما تعلمين أن ما عند الله خير لرسول الله صلى الله عليه وسلم‏؟‏ فقالت‏:‏ إني لا أبكي إني لا أعلم أن ما عند الله تعالى خير لرسول الله صلى الله عليه وسلم ، ولكن أبكي أن الوحي قد انقطع من السماء، فهيجتهما على البكاء، فجعلا يبكيان معها‏.‏ ‏(‏‏(‏رواه مسلم‏)‏‏)‏‏.‏

‘আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা-এর সামনে দিয়ে একজন ভিক্ষুক যাচ্ছিল। তিনি তাকে এক টুকরা রুটি প্রদান করলেন। আবার তার সম্মুখ দিয়ে সজ্জিত পোশাকে এক ব্যক্তি যাচ্ছিল। তাকে তিনি বসালেন এবং খাবার খাওয়ালেন। এ ব্যাপারে তাকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি উত্তরে বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : “মানুষকে তার মর্যাদা অনুযায়ী স্থান দাও।” হাদীসটি ইমাম আবূ দাউদ উদ্ধৃত করেছেন। কিন্তু বলেছেন, আয়িশাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা-এর সঙ্গে মাইমুনের সাক্ষাৎ হয়নি। ইমাম মুসলিম তার সহীহ হাদীস গ্রন্থে এটাকে মু‘আল্লাক হাদীস হিসাবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘আয়িশাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘‘আমাদেরকে আদেশ করেছেন মানুষকে তার পদমর্যাদা অনুযায়ী স্থান দিতে’’। এ হাদীসটি ইমাম হাকিম আবূ ‘আবদুল্লাহ (রাহ:) তার ‘‘মারিফাতু উলুমিল হাদীস’’ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন এটি সহীহ হাদীস।[১]


রিয়াদুস সলেহিন ৩৬১

وعن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم ‏:‏ أن رجلاً زار أخا له في قرية أخرى، فأرصد الله تعالى على مدرجته ملكًا، فلما أتى عليه قال‏:‏ أين تريد‏؟‏ قال‏:‏ أريد أخًا لي في هذه القرية‏.‏ قال‏:‏ هل لك عليه من نعمة تربها عليه‏؟‏ قال‏:‏ لا غير أني أحببت في الله تعالى، قال‏:‏ فإنى رسول الله إليك بأن الله قد أحبك كما أحببته فيه‏‏ ‏(‏‏(‏رواه مسلم‏)‏‏)‏‏.‏"

উয়াইনাহ ইবনু হিস্বন এলেন এবং তাঁর ভাতিজা হুর্র ইবনু কাইসের কাছে অবস্থান করলেন। এই (হুর্র) উমার (রাঃ)-এর খেলাফত কালে ঐ লোকগুলির মধ্যে একজন ছিলেন যাদেরকে তিনি তাঁর নিকটে রাখতেন। আর কুরআন-বিশারদগণ বয়স্ক হন অথবা যুবক হন তাঁরা উমার (রাঃ)-এর সভাষদ ও পরামর্শদাতা ছিলেন। উয়াইনাহ তাঁর ভাতিজাকে বললেন, ‘হে আমার ভ্রাতুষ্পুত্র! এই খলীফার কাছে তোমার বিশেষ সম্মান রয়েছে। তাই তুমি আমার জন্যে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার অনুমতি চাও।’ ফলে তিনি অনুমতি চাইলেন। সুতরাং উমার তাকে অনুমতি দিলেন। অতঃপর যখন উয়াইনাহ ভিতরে প্রবেশ করলেন, তখন উমার ((রাঃ))কে বললেন, ‘হে ইবনু খাত্ত্বাব! আল্লাহর কসম! আপনি আমাদেরকে পর্যাপ্ত দান দেন না এবং আমাদের মধ্যে ন্যায় বিচার করেন না!’ (এ কথা শুনে) উমার (রাঃ) রেগে গেলেন। এমনকি তাকে মারতে উদ্যত হলেন। তখন হুর্র তাঁকে বললেন, ‘হে আমীরুল মু’মেনীন! আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নবীকে বলেন, ‘‘তুমি ক্ষমাশীলতার পথ অবলম্বন কর। ভাল কাজের আদেশ প্রদান কর এবং মূর্খদিগকে পরিহার করে চল।’’ (সূরা আল আ’রাফ ১৯৮ আয়াত) আর এ এক মূর্খ।’ আল্লাহর কসম! যখন তিনি (হুর্র) এই আয়াত পাঠ করলেন, তখন উমার (রাঃ) একটুকুও আগে বাড়লেন না। আর তিনি আল্লাহর কিতাবের কাছে (অর্থাৎ তাঁর নির্দেশ শুনে) থেমে যেতেন। (বুখারী) [১]


রিয়াদুস সলেহিন ৩৬২

وعنه قال‏:‏ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم‏:‏ ‏ ‏من عاد مريضًا أو زار أخًا له في الله، ناداه منادٍ، بأن طبت، وطاب ممشاك، وتبوأت من الجنة منزلاً‏" ‏ ‏(‏‏(‏رواه الترمذي وقال ‏:‏ حديث حسن ، وفي بعض النسخ غريب‏)‏‏)‏‏‏

তিনি বলেন, ‘আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে কিশোর ছিলাম। আমি তাঁর কথাগুলি মুখস্থ করে নিতাম। কিন্তু আমাকে বর্ণনা করতে একটাই জিনিস বাধা সৃষ্টি করত যে, সেখানে আমার চেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ মানুষ উপস্থিত থাকত।’ (বুখারী ও মুসলিম) [১]


রিয়াদুস সলেহিন ৩৬৩

وعن أبي موسى الأشعري رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال‏:‏ ‏ ‏إنما مثل الجليس الصالح وجليس السوء، كحامل المسك، ونافخ الكير، فحامل المسك، إما أن يحذيك، وإما أن تبتاع منه، وإما أن تجد منه ريحًا طيبة، ونافخ الكير، إما أن يحرق ثيابك ، وإما أن تجد منه ريحًا منتنة‏" ‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏ ‏‏

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যদি কোনো বৃদ্ধ লোককে কোনো যুবক তার বার্ধক্যের কারণে সম্মান দেখায়, তবে তার বৃদ্ধাবস্থায় আল্লাহ এমন লোককে নির্ধারণ করে দিবেন, যে তাকে সম্মান দেখাবে।” তিরমিযী হাদীসটিকে গরীব বলেছেন।[১]


রিয়াদুস সলেহিন > ভাল লোকদের সাথে সাক্ষাৎ করা, তাঁদের সাহচর্য গ্রহণ করা, তাঁদেরকে ভালবাসা, তাঁদেরকে বাড়িতে দাওয়াত দেওয়া, তাঁদের কাছে দো‘আ চাওয়া এবং বরকতময় স্থানসমূহের দর্শন

রিয়াদুস সলেহিন ৩৬৪

وعن أبي هريرة رضي الله عنه، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال‏:‏ ‏ ‏تنكح المرأة لأربع‏:‏ لمالها، ولحسبها، ولجمالها، ولدينها، فاظفر بذات الدين تربت يداك‏" ‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏‏‏

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবনাবসানের পর আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ) উমার (রাঃ)-কে বললেন, ‘চলুন, আমরা উম্মে আইমানের সাথে সাক্ষাৎ করতে যাই, যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতে যেতেন।’ সুতরাং যখন তাঁরা উম্মে আইমানের কাছে পৌঁছলেন, তখন তিনি কেঁদে ফেললেন। অতঃপর তাঁরা তাঁকে বললেন, ‘তুমি কাঁদছ কেন? তুমি কি জানো না যে, আল্লাহর কাছে যা রয়েছে, তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য (দুনিয়া থেকে) অধিক উত্তম? তিনি উত্তর দিলেন, ‘আমি এ জন্য কান্না করছি না যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য আল্লাহর নিকট যা রয়েছে, তা অধিকতর উত্তম সে কথা আমি জানি না। কিন্তু আমি এজন্য কাঁদছি যে, আসমান হতে ওহী আসা বন্ধ হয়ে গেল।’ উম্মে আইমান (তাঁর এ দুঃখজনক কথা দ্বারা) ঐ দু’জনকে কাঁদতে বাধ্য করলেন। ফলে তাঁরাও তাঁর সাথে কাঁদতে লাগলেন। (মুসলিম) [১]


রিয়াদুস সলেহিন ৩৬৫

وعن ابن عباس رضي الله عنهما قال‏:‏ قال النبي صلى الله عليه وسلم لجبريل‏:‏ ما يمنعك أن تزورنا أكثر مما تزورنا‏؟‏‏‏ فنزلت ‏:‏‏{‏وما نتنزل إلا بأمر ربك له ما بين أيدينا وما خلفنا وما بين ذلك‏}‏ ‏(‏‏(‏رواه البخاري‏)‏‏)‏‏.‏"

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘এক ব্যক্তি অন্য কোন গ্রামে তার ভাইয়ের সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য বের হল। আল্লাহ তা‘আলা তার রাস্তায় এক ফেরেশতাকে বসিয়ে দিলেন, তিনি তার অপেক্ষা করতে থাকলেন। যখন সে তাঁর কাছে পৌঁছল, তখন তিনি তাকে বললেন, ‘তুমি কোথায় যাচ্ছ?’ সে বলল, ‘এ লোকালয়ে আমার এক ভাই আছে, আমি তার কাছে যাচ্ছি।’ ফিরিশতা জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমার প্রতি কি তার কোন অনুগ্রহ রয়েছে, যার বিনিময় দেওয়ার জন্য তুমি যাচ্ছ?’ সে বলল, ‘না, আমি তার নিকট কেবলমাত্র এই জন্য যাচ্ছি যে, আমি তাকে আল্লাহর ওয়াস্তে ভালবাসি।’ ফেরেশতা বললেন, ‘(তাহলে শোনো) আমি তোমার নিকট আল্লাহর দূত হিসাবে (এ কথা জানাবার জন্য) এসেছি যে, আল্লাহ তা‘আলা তোমাকে ভালবাসেন; যেমন তুমি তাকে আল্লাহর জন্য ভালবাস।’’ (মুসলিম) [১]


রিয়াদুস সলেহিন ৩৬৬

وعن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه ، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال‏:‏ ‏ ‏ لا تصاحب إلا مؤمنا، ولا يأكل طعامك إلا تقي‏" ‏‏‏ ‏(‏‏(‏رواه أبو داود، والترمذي بإسناد لا بأس به‏)‏‏)‏‏‏

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘যে ব্যক্তি কোনো রোগীকে সাক্ষাৎ করে খোঁজখবর নেয় অথবা তার কোনো আল্লাহর ওয়াস্তে কৃত ভাই এর সাথে সাক্ষাৎ করে, সে ব্যক্তিকে এক (গায়বী) আহ্বানকারী আহ্বান করে বলে, ‘সুখী হও তুমি, সুখকর হোক তোমার ঐ যাত্রা (সাক্ষাতের জন্য যাওয়া)। আর তোমার স্থান হোক জান্নাতের প্রাসাদে।’’ (তিরমিযী, হাসান বা গরীব সূত্রে)[১]


রিয়াদুস সলেহিন ৩৬৭

وعن أبي هريرة رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال‏:‏ ‏ ‏ الرجل على دين خليله، فلينظر أحدكم من يخالل‏" ‏‏‏ ‏(‏‏(‏رواه أبو داود، والترمذي بإسناد صحيح، وقال الترمذي‏:‏ حديث حسن‏)‏‏)‏‏‏

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘সৎ সঙ্গী ও অসৎ সঙ্গীর উদাহরণ হল, কস্তুরী বহনকারী (আতরওয়ালা) ও হাপরে ফুৎকারকারী (কামারের) ন্যায়। কস্তুরী বহনকারী (আতরওয়ালা) হয়তো তোমাকে কিছু দান করবে অথবা তার কাছ থেকে তুমি কিছু খরিদ করবে অথবা তার কাছ থেকে সুবাস লাভ করবে। আর হাপরে ফুৎকারকারী (কামার) হয়ত তোমার কাপড় পুড়িয়ে দেবে অথবা তুমি তার কাছ থেকে দুর্গন্ধ পাবে।’’[১]


রিয়াদুস সলেহিন ৩৬৮

وعن أبي موسى الأشعري رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال‏:‏ ‏‏ المرء مع من أحب‏"‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏ ‏.‏ وفي رواية قال‏:‏ قيل للنبي صلى الله عليه وسلم ‏:‏ الرجل يحب القوم ولما يلحق بهم‏؟‏ قال‏:‏ ‏"‏المرء مع من أحب‏"‏‏.‏"

তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘চারটি গুণ দেখে মহিলাকে বিবাহ করা হয়; তার ধন-সম্পদ, তার বংশ মর্যাদা, তার রূপ-সৌন্দর্য এবং তার দ্বীন-ধর্ম দেখে। তুমি দ্বীনদার পাত্রী লাভ করে সফলকাম হও। (অন্যথায় তুমি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।)’’ (বুখারী)


রিয়াদুস সলেহিন ৩৬৯

وعن أنس رضي الله عنه أن أعرابيًا قال لرسول الله صلى الله عليه وسلم ‏:‏ متى الساعة‏؟‏ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم‏:‏ ما أعددت لها‏؟‏‏‏ قال‏:‏ حب الله ورسوله قال‏:‏ ‏"‏أنت مع من أحببت‏"‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏ وهذا لفظ مسلم‏.‏ وفي رواية لهما‏:‏ ما أعددت لها من كثير صوم، ولا صلاة، ولا صدقة ولكني أحب الله ورسوله‏.‏"

একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিব্রাঈলকে বললেন, ‘আপনি যতটা আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তার চেয়ে বেশী সাক্ষাৎ করতে আপনার বাধা কিসের?’ ফলে এ আয়াত অবতীর্ণ হল, ‘‘(জিবরীল বললেন,) আমরা তোমার প্রতিপালকের আদেশ ব্যাতিরেকে অবতরণ করি না। যা আমাদের সম্মুখে ও পশ্চাতে এবং উভয়ের মধ্যস্থলে রয়েছে সে সকলই তাঁর মালিকানাধীন।’’ (সূরা মারয়্যাম ৬৪ আয়াত, বুখারী) [১]


রিয়াদুস সলেহিন ৩৭০

وعن ابن مسعود رضي الله عنه قال‏:‏ جاء رجل إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال‏:‏ يا رسول الله كيف تقول في رجل أحب قومًا ولم يلحق بهم‏؟‏ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏:‏‏ ‏ المرء مع من أحب‏" ‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏ ‏‏

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘মু’মিন মানুষ ছাড়া অন্য কারো সঙ্গী হয়ো না এবং তোমার খাবার যেন পরহেযগার ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ না খায়।’’ (আবূ দাউদ, তিরমিযী) [১]


রিয়াদুস সলেহিন ৩৭১

وعن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال‏:‏ ‏‏الناس معادن كمعادن الذهب والفضة، خيارهم في الجاهلية خيارهم في الإسلام إذا فقهوا، والأرواح جنود مجندة، فما تعارف منها ائتلف، وما تناكر منها اختلف‏"‏ ‏(‏‏(‏رواه مسلم‏؟‏‎‏)‏‏)‏‏.‏ ‏(‏‏(‏وروى البخاري‏)‏‏)‏ قوله‏:‏ ‏"‏الأرواح‏"‏ من رواية عائشة رضي الله عنها‏"

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘মানুষ তার বন্ধুর দ্বীনের উপর হয়। অতএব তোমাদের প্রত্যেককে দেখা উচিত যে, সে কার সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন করছে।’’ (আবূ দাউদ, তিরিমিযী, বিশুদ্ধ সূত্রে) [১]


রিয়াদুস সলেহিন ৩৭২

وعن أُسَير بن عمرو ويقال‏‏‏:‏ ابن جابر وهو ‏"‏بضم الهمزة وفتح السين المهملة‏"‏ قال‏:‏ كان عمر بن الخطاب إذا أتى عليه أمداد أهل اليمن سألهم‏:‏ أفيكم أويس بن عامر‏؟‏ حتى أتى على أويس رضي الله عنه ، فقال له‏:‏ أنت أويس بن عامر‏؟‏ قال‏:‏ نعم، قال‏:‏ من مراد ثم من قرن‏؟‏ قال‏:‏ نعم قال‏:‏ فكان بك برص، فبرأت منه إلا موضع درهم‏؟‏ قال نعم قال‏:‏ لك والدة‏؟‏ قال ‏:‏ نعم، قال ‏:‏ سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول ‏"‏يأتي عليكم أويس بن عامر مع أمداد أهل اليمن من مراد، ثم من قرن كان به برص، فبرأ منه إلا موضع درهم، له والدة هو بها بر لو أقسم على الله لأبره، فإن استطعت أن يستغفر لك فافعل‏"‏ فاستغفر لي فاستغفر له، فقال له عمر‏:‏ أين تريد‏؟‏ قال‏:‏ الكوفة، قال‏:‏ ألا أكتب لك إلى عاملها‏؟‏ قال‏:‏ أكون في غبراء الناس أحب إلي، فلما كان من العام المقبل حج رجل من أشرافهم، فوافق عمر، فسأله عن أويس، فقال‏:‏ تركته رث البيت قليل المتاع، قال‏:‏ سمعت رسول الله يقول‏:‏ يأتي عليكم أويس بن عامر مع أمداد من أهل اليمن من مراد ، ثم من قرن، كان به برص فبرأ منه إلا موضع درهم، له والدة هو بها بر لو أقسم على الله لأبره، فإن استطعت أن يستغفر لك ‏:‏ فافعل، فأتى أويسًا، فقال استغفر لي قال‏:‏ أنت أحدث عهدًا بسفر صالح، فاستغفر لي‏.‏ قال‏:‏ لقيت عمر‏؟‏ قال‏:‏ نعم، فاستغفر له، ففطن له الناس، فانطلق على وجهه‏.‏ ‏(‏‏(‏رواه مسلم‏)‏‏)‏‏.‏ وفي رواية لمسلم أيضًا عن أُسِير بن جابر رضي الله عنه أن أهل الكوفة وفدوا على عمر رضي الله عنه ، وفيهم رجل ممن كان يسخر بأويس، فقال عمر‏:‏ هل هاهنا أحد من القرنين‏؟‏ فجاء ذلك الرجل، فقال عمر‏:‏ إن رسول الله صلى الله عليه وسلم قد قال‏:‏‏"‏إن رجلا يأتيكم من اليمن يقال له ‏:‏ أويس، لا يدع باليمن غير أم له، قد كان به بياض فدعا الله تعالى، فأذهبه إلا موضع الدينار أو الدرهم ، فمن لقيه منكم، فليستغفر لكم‏"‏‏.‏ وفي رواية له عن عمر رضي الله عنه قال‏:‏ ‏"‏إنى سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول‏:‏ ‏"‏إن خير التابعين رجل يقال له‏:‏ أويس‏:‏ وله والدة وكان به بياض، فمروه، فليستغفر لكم‏"‏‏.‏"

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘মানুষ (দুনিয়াতে) যাকে ভালবাসে (কিয়ামতে) সে তারই সাথী হবে।’’ অন্য এক বর্ণনায় আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করা হল, ‘‘কোনো ব্যক্তি কোনো সম্প্রদায়কে ভালবাসে, কিন্তু (আমলে) তাদের সমকক্ষ হতে পারেনি। তিনি বললেন, মানুষ যাকে ভালবাসে, সে তারই সাথী হবে।’’ (বুখারী ও মুসলিম)[১]


রিয়াদুস সলেহিন ৩৭৩

وعن عمر بن الخطاب رضي الله عنه قال‏:‏ استأذنت النبي صلى الله عليه وسلم في العمرة، فأذن لي، وقال‏:‏ ‏‏لا تنسنا يا أخي من دعائك‏"‏ فقال كلمة ما يسرني أن لي بها الدنيا‏.‏ وفي رواية قال‏:‏ ‏"‏أشركنا يا أخي في دعائك‏"‏‏.‏ حديث صحيح ‏(‏‏(‏رواه أبو داود، والترمذي وقال‏:‏ حديث حسن صحيح‏)‏‏)‏‏.‏"

এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করল, ‘হে আল্লাহর রাসূল! কিয়ামত কবে ঘটবে?’ তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘‘তুমি এর জন্য কি প্রস্তুতি নিয়েছ?’’ সে বলল, ‘আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ভালবাসা।’ তিনি বললেন, ‘‘তুমি যাকে ভালবাস, তারই সাথী হবে।’’ (বুখারী ও মুসলিম শব্দগুলি মুসলিমের) [১] উভয়ের অন্য এক বর্ণনায় আছে, ‘‘আমি বেশি নামায-রোযা ও সাদকাহর মাধ্যমে প্রস্তুতি নিতে পরিনি। কিন্তু আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালবাসি। (তিনি বললেন, তুমি যাকে ভালবাস, তারই সাথী হবে।)’’


রিয়াদুস সলেহিন ৩৭৪

وعن ابن عمر رضي الله عنهما قال‏:‏ كان النبي صلى الله عليه وسلم يزور قباء راكبًا وماشيًا، فيصلي فيه ركعتين، ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏ ‏.‏ وفي رواية‏:‏ كان النبي صلى الله عليه وسلم يأتي مسجد قباء كل سبت راكبًا وماشيًا وكان ابن عمر يفعله ‏.‏

এক ব্যক্তি এসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করল, ‘হে আল্লাহর রাসূল! কোনো ব্যক্তি কোনো সম্প্রদায়কে ভালবাসে, কিন্তু (আমলে) তাদের সমকক্ষ হতে পারেনি।’ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘‘মানুষ যাকে ভালবাসে, সে তারই সাথী হবে।’’ (বুখারী ও মুসলিম) [১]


রিয়াদুস সলেহিন ৩৭৫

وعن أنس رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال‏:‏ ‏ ‏ثلاث من كن فيه وجد بهن حلاوة الإيمان‏:‏ أن يكون الله ورسوله أحب إليه مما سواهما، وأن يحب المرء لا يحبه إلا لله، وأن يكره أن يعود في الكفر بعد أن أنقذه الله منه، كما يكره أن يقذف في النار‏" ‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏ ‏‏

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘সোনা-রূপার খনিরাজির মত মানব জাতিও নানা গোত্রের খনিরাজি। যারা জাহেলী যুগে উত্তম ছিল, তারা ইসলামী যুগেও উত্তম; যখন তারা দ্বীনের গভীর জ্ঞান লাভ করে। আর আত্মাসমূহ সমবেত সৈন্যদলের মত। সুতরাং আপোসে যে আত্মাদল পরিচিত ও অভিন্ন প্রকৃতির হয়, সে আত্মাদলের মাঝে মিলন ও বন্ধুত্ব স্থাপিত হয়ে থাকে এবং যে আত্মাদল আপোসে অপরিচিত ও ভিন্ন প্রকৃতির হয়, সে আত্মাদলের মাঝে বিচ্ছিন্নতা ও অনৈক্য প্রকট হয়ে ওঠে।’’ (মুসলিম) [১]


রিয়াদুস সলেহিন ৩৭৬

و عن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال‏:‏ ‏‏ سبعة يظلهم الله في ظله يوم لا ظل إلا ظله‏:‏ إما عادل، وشاب نشأ في عبادة الله عز وجل، ورجل قلبه معلق بالمساجد‏.‏ ورجلان تحابا في الله اجتمعا عليه ، وتفرقا عليه، ورجل دعته امرأة ذات حسن وجمال، فقال‏:‏ إني أخاف الله، ورجل تصدق بصدقة، فأخفاها حتى لا تعلم شماله ما تنفق يمينه، ورجل ذكر الله خاليًا ففاضت عيناه‏"‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏ ‏.‏ وعنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏"‏ إن الله تعالى يقول يوم القيامة أين المتحابون بجلالي‏؟‏ اليوم أظلهم في ظلي يوم لا ظل إلا ظلي‏"‏ ‏(‏‏(‏ رواه مسلم‏)‏‏)‏ ‏.‏ وعنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏:‏ والذي نفسي بيده لا تدخلوا الجنة حتى تؤمنوا ولا تؤمنوا حتى تحابوا أولا أدلكم على شيء إذا فعلتموه تحاببتم‏:‏ أفشوا السلام بينكم ‏(‏‏(‏ رواه مسلم‏)‏‏)‏ ‏.‏"

‘‘আত্মাসমূহ সমবেত সৈন্যদলের মত। সুতরাং আপোসে যে আত্মাদল পরিচিত ও অভিন্ন প্রকৃতির হয়, সে আত্মাদলের মাঝে মিলন ও বন্ধুত্ব স্থাপিত হয়ে থাকে এবং যে আত্মাদল আপোসে অপরিচিত ও ভিন্ন প্রকৃতির হয়, সে আত্মাদলের মাঝে বিচ্ছিন্নতা ও অনৈক্য প্রকট হয়ে ওঠে।’’ এ অংশটুকু আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণনা করেছেন।


রিয়াদুস সলেহিন ৩৭৭

وعنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏ ‏ إن الله تعالى يقول يوم القيامة أين المتحابون بجلالي‏؟‏ اليوم أظلهم في ظلي يوم لا ظل إلا ظلي‏" ‏ ‏(‏‏(‏ رواه مسلم‏)‏‏)‏ ‏‏

উমার (রাঃ)-এর নিকট যখনই ইয়ামান থেকে সহযোগী যোদ্ধারা আসতেন, তখনই তিনি তাঁদেরকে জিজ্ঞেস করতেন, ‘তোমাদের মধ্যে কি উয়াইস ইবনু ‘আমের আছে?’ শেষ পর্যন্ত (এক দলের সঙ্গে) উয়াইস (ক্বারনী) (রাঃ) (মদ্বীনা) এলেন। অতঃপর উমার (রাঃ) তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘তুমি কি উয়াইস ইবনু আমের?’ তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ।’ উমার (রাঃ) ললেন, ‘মুরাদ (পরিবারের) এবং ক্বার্ন্ (গোত্রের)?’ উয়াইস বললেন, ‘হ্যাঁ।’ তিনি (পুনরায়) জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমার শরীরে শ্বেত রোগ ছিল, তা এক দিরহাম সম জায়গা ব্যতীত (সবই) দূর হয়ে গেছে?’ উয়াইস বললেন, ‘হ্যাঁ।’ তিনি বললেন, ‘তোমার মা আছে?’ উয়াইস বললেন, ‘হ্যাঁ।’ তিনি বললেন, ‘আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, ‘‘মুরাদ (পরিবারের) এবং ক্বার্ন্ (গোত্রের) উয়াইস ইবনু আমের ইয়ামানের সহযোগী ফৌজের সঙ্গে তোমাদের কাছে আসবে। তার দেহে ধবল দাগ আছে, যা এক দিরহাম সম স্থান ছাড়া সবই ভাল হয়ে গেছে। সে তার মায়ের সাথে সদাচারী হবে। সে যদি আল্লাহর প্রতি কসম খায়, তবে আল্লাহ তা পূরণ করে দেবেন। সুতরাং (হে উমার!) তুমি যদি নিজের জন্য তাকে দিয়ে ক্ষমাপ্রার্থনার দো‘আ করাতে পার, তাহলে অবশ্যই করবে।’’ সুতরাং তুমি আমার জন্য (আল্লাহর কাছে) ক্ষমা প্রার্থনা কর।’ শোনামাত্র উয়াইস উমারের জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করলেন। অতঃপর উমার তাঁকে বললেন, ‘তুমি কোথায় যাবে?’ উয়াইস বললেন, ‘কূফা।’ তিনি বললেন, ‘আমি কি তোমার জন্য সেখানকার গর্ভনরকে পত্র লিখে দেব না?’ উয়াইস বললেন, ‘আমি সাধারণ গরীব-মিসকীনদের সাথে থাকতে ভালবাসি।’ অতঃপর যখন আগামী বছর এল তখন কূফার সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে একজন হজ্জে এল। সে উমার (রাঃ)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলে তিনি তাকে উয়াইস সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। সে বলল, ‘আমি তাঁকে এই অবস্থায় ছেড়ে এসেছি যে, তিনি একটি ভগ্ন কুটির ও স্বল্প সামগ্রীর মালিক ছিলেন।’ উমার (রাঃ) বললেন, ‘আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, ‘‘মুরাদ (পরিবারের) এবং ক্বার্ন্ (গোত্রের) উয়াইস ইবনু আমের ইয়ামানের সহযোগী ফৌজের সঙ্গে তোমাদের নিকট আসবে। তার দেহে ধবল রোগ আছে, যা এক দিরহামসম স্থান ছাড়া সবই ভালো হয়ে গেছে। সে তার মায়ের সাথে সদাচারী (মা-ভক্ত) হবে। সে যদি আল্লাহর উপর কসম খায়, তাহলে আল্লাহ তা পূর্ণ করে দেবেন। যদি তুমি তোমার জন্য তার দ্বারা ক্ষমাপ্রার্থনার দো‘আ করাতে পার, তাহলে অবশ্যই করবে।’’ অতঃপর সে (কূফার লোকটি হজ্জ সম্পাদনের পর) উয়াইস (ক্বারনীর) নিকট এল এবং বলল, ‘আপনি আমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন।’ উয়াইস বললেন, ‘তুমি এক শুভযাত্রা থেকে নব আগমন করেছ। অতএব তুমি আমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর।’ অতঃপর তিনি বললেন, ‘তুমি উমারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছ?’ সে বলল, ‘হ্যাঁ।’ সুতরাং উয়াইস তার জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করলেন। (এসব শুনে) লোকেরা (উয়াইসের) মর্যাদা জেনে নিল। সুতরাং তিনি তার সামনের দিকে (অন্যত্র) চলে গেলেন। (মুসলিম) মুসলিমের অন্য এক বর্ণনায় উসাইর ইবনু জাবের (রাঃ) থেকেই বর্ণিত, কুফার কিছু লোক উমার (রাঃ)-এর নিকট এল। তাদের মধ্যে একটি লোক ছিল, সে উয়াইসের সাথে উপহাস করত। উমার (রাঃ) জিজ্ঞেস করলেন, ‘এখানে ক্বার্ন গোত্রের কেউ আছে কি?’ অতঃপর ঐ ব্যক্তি এল। উমার (রাঃ) বললেন, ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘তোমাদের নিকট ইয়ামান থেকে উয়াইস নামক একটি লোক আসবে। সে ইয়ামানে কেবলমাত্র তার মা-কে রেখে আসবে। তার দেহে ধবল রোগ ছিল। সে আল্লাহর কাছে দো‘আ করলে আল্লাহ তা এক দ্বীনার অথবা এক দিরহাম সম স্থান ব্যতীত সবই দূর করে দিয়েছেন। সুতরাং তোমাদের কারো যদি তার সাথে সাক্ষাৎ হয়, তাহলে সে যেন তোমাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে।’’ অন্য এক বর্ণনায় আছে, উমার (রাঃ) বলেন, ‘আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট শুনেছি, তিনি বলেছেন, ‘‘সর্বশ্রেষ্ঠ তাবেঈন হল এক ব্যক্তি, যাকে উয়াইস বলা হয়। তার মা আছে। তার ধবল রোগ ছিল। তোমরা তাকে আদেশ করো, সে যেন তোমাদের জন্য (আল্লাহর নিকট) ক্ষমাপ্রার্থনা করে।’’ [১]


রিয়াদুস সলেহিন ৩৭৮

وعنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏:‏ والذي نفسي بيده لا تدخلوا الجنة حتى تؤمنوا ولا تؤمنوا حتى تحابوا أولا أدلكم على شيء إذا فعلتموه تحاببتم‏:‏ أفشوا السلام بينكم ‏(‏‏(‏ رواه مسلم‏)‏‏)‏ ‏.‏

আমি উমরাহ করার জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে অনুমতি চাইলাম। তিনি অনুমতি দিয়ে বললেন, “প্রিয় ভাই আমার, তোমার দু’আর সময় আমাদেরকে যেন ভুলো না।” (উমার বলেন) এমন বাক্য তিনি উচ্চারণ করলেন, যার বিনিময়ে গোটা পৃথিবীটা আমার হয়ে গেলেও তা আমার কাছে আনন্দদায়ক (বিবেচিত) নয়। অন্য এক বর্ণনায় বলা হয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “ভাইয়া! তোমার দু‘আয় তুমি আমাদেরকেও শরীক রেখো।” (আবূ দাউদ ও তিরমিযি) যঈফ। [১]


রিয়াদুস সলেহিন ৩৭৯

وعنه قال‏:‏ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏:‏‏‏أن رجلاً زار أخًا له في قريةٍ أخرى، فأرصد الله له على مدرجته ملكاً‏"‏ وذكر الحديث إلى قوله‏:‏ ‏"‏إن الله قد أحبك كما أحببته فيه‏"‏ ‏(‏‏(‏رواه مسلم‏)‏‏)‏ (13)‏.‏"

‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সওয়ার হয়ে ও পায়ে হেঁটে (মসজিদে) কুবার যিয়ারত করতেন। অতঃপর তাতে দু’ রাকআত নামায পড়তেন।’ (বুখারী ও মুসলিম) [১]


🔄 লোড হচ্ছে...
ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية